আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

২০০১ সালে বাবার মৃত্যুর পর দিশেহারা হয়ে পড়েন নিয়ামুল হক স্বপন। মাত্র দেড়শ টাকা দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। এখন তিনি কোটি টাকার মালিক। অহনা অন্তর বহুমুখী কৃষি খামারের মালিক নিয়ামুল হক স্বপনের মাসে আয় প্রায় দুই লাখ টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে খামার থেকে আয় হয় প্রায় ১২ লাখ টাকা। খামারের পুকুর পাড়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। সেখানে বিভিন্ন ধরনের ফলজ ও বনজ গাছও রয়েছে। খামার পরিচর্যাকারীদের জন্য রয়েছে থাকার ব্যবস্থা এবং মৎস্য চাষিদের জন্য রয়েছে প্রশিক্ষণের স্থান।

নিয়ামুল হক স্বপন রাজবাড়ী পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের মৃত কোমর উদ্দিনের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে স্বপন সবার বড়। এখন তার পরিবারে রয়েছে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে। এছাড়াও তার ভাই পুলিশের এসআই হিসেবে কর্মরত।

জানা গেছে, বাবার মৃত্যুর পর কোনো দিশা না পেয়ে ২০০১ সালে পকেটে থাকা মাত্র দেড়শ টাকা নিয়ে জীবন যুদ্ধ শুরু করেন স্বপন। ছোটবেলা থেকেই মাছ চাষে বেশ আগ্রহ ছিল তার। সেই আলোকেই তিনি তার বাড়ি থেকে এক প্রায় কিলোমিটার দূরে দাদশী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুরের খোলা বিলে বর্ষার সময় নিজের ৩০ শতক জমি ঘিরে দেশীয় প্রজাতির মাছ আটকে রাখেন এবং চাষের উদ্দেশ্যে কিছু কার্প জাতীয় মাছ ছাড়েন। এভাবে কয়েক বছর মাছ চাষ করে বেশ সফলতা পান। পরবর্তীতে তার ওই জমির ওপর পুকুর কাটেন এবং একইভাবে মাছ চাষ করতে থাকেন। এতে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন খামার থেকে বছরে সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় তার।

 দেড়শ টাকায় মাছ চাষ শুরু করে স্বপন এখন কোটিপতি
দেড়শ টাকায় মাছ চাষ শুরু করে স্বপন এখন কোটিপতি

একে একে প্রায় ১২ বিঘা কৃষি জমি কিনেছেন। সেখানে শুকনো মৌসুমে ধান চাষ এবং বর্ষা মৌসুমে মাছ চাষ করেন। এছাড়াও পুকুর পাড়ে তিনি নানা ধরনের বিষমুক্ত সবজি চাষ করেন। সেখানে রয়েছে বনজ-ফলজ গাছ, খামার পরিচর্যাকারীদের থাকার স্থান ও মৎস্য চাষিদের প্রশিক্ষণের স্থান।

চারটি পুকুরের আলাদা করে রেনু পোনা রক্ষণাবেক্ষণসহ কার্প জাতীয় মাছ চাষ করেন স্বপন। পাশাপাশি পুকুরের এক পাশে দুটি মুরগির শেড করেছেন। যাতে প্রায় চার হাজার মুরগি পালন করা হয়। স্বপনের সঙ্গে ছেলে অন্তর ও দুইজন পরিচর্যাকারী খামার দেখাশুনা করেন। এছাড়া তার ভাইও সহযোগিতা করেন।

প্রতিবেশীরা বলেন, প্রায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে স্বপন মাছ চাষ করছেন। প্রথমে বিলের মধ্যে মাছ চাষ শুরু করেন। এখন অনেকগুলো পুকুর করেছেন। বিলেও অনেক জমি আছে তার। স্বপনের দেখাদেখি এলাকায় অনেকে মাছ চাষ করে সফল হয়েছেন।

দেড়শ টাকায় মাছ চাষ শুরু করে স্বপন এখন কোটিপতি
দেড়শ টাকায় মাছ চাষ শুরু করে স্বপন এখন কোটিপতি

সফল মাছচাষি নিয়ামুল হক স্বপন জানান, তার বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় সব কিছুর চাপ এসে পড়ে তার ওপর। কী করে সংসার চালাবেন বুঝতে পারছিলেন না। এমন সময় মনে পড়ে মাছ চাষের কথা। কিন্তু পকেটে ছিল মাত্র দেড়শ টাকা আর বিলে ৩০ শতক জমি। সেই জমি ঘিরে দেড়শ টাকা দিয়েই তিনি মাছ চাষ শুরু করেন। আস্তে আস্তে তার সঙ্গে ছেলে ও ছোট ভাই যুক্ত হন। মাছ চাষের আয় দিয়ে আরও জমি কেনেন। এখন তার চারটি পুকুর ও ১২ বিঘা জমি আছে। সেখানে অফিস রুম, কর্মচারী থাকার স্থান, মুরগির শেডসহ গাছ লাগিয়েছেন। খামার থেকে এখন বছরে প্রায় ২৪ লাখ টাকার মাছসহ আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র বিক্রি করেন। এর মধ্যে অর্ধেক টাকা অর্থাৎ ১২ লাখ টাকা আয় হয়। এ টাকা দিয়ে অন্যান্য সম্পদ করেছেন।

তিনি জানান, এসব দেখে প্রতিবেশী অনেক বেকার যুবক তার কাছে বিভিন্ন সহযোগিতা নিয়ে এখন তারাও বড় বড় পুকুরের মালিক। এলাকায় এ রকম ৮ থেকে ১০ জন খামারি আছেন।

নিয়ামুল হক স্বপন বলেন, খামারের জন্য রেনু পোনা রাজবাড়ী ও কুমারখালীর মৎস্য খামার থেকে সংগ্রহ করি। পুকুরে অদল-বদল করতে করতে বিক্রির যোগ্য হয়ে যায়। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী মৎস্য হলদারদের সহযোগিতায় পুকুর থেকে মাছ ধরে রাজবাড়ীর আড়তে বিক্রি করি। যখন টাকা প্রয়োজন তখন পুকুর থেকে মাছ ধরে বিক্রি করি। তাই মাছ চাষ দুঃসময়ের বন্ধু বলেও তিনি মনে করেন তিনি।

দেড়শ টাকায় মাছ চাষ শুরু করে স্বপন এখন কোটিপতি
দেড়শ টাকায় মাছ চাষ শুরু করে স্বপন এখন কোটিপতি

মাছ চাষ করতে গিয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাছ চাষের শুরুর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বাঁধার সম্মুখিন হইনি। বরং এলাকাবাসীসহ মৎস্য অফিসের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা পেয়েছি। যে কারণে আমার পুকুরে কখনও মাছের রোগবালাই হয়নি।

নিয়ামুল হক স্বপন বলেন, মাছ চাষ এমন একটি ব্যবসা যদি প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হয় তাহলে লোকসান নেই। যারা বেকার ও অর্থ কম, তারা ছোট একটি পুকুর লিজ নিয়ে ছোট পরিসরে মন দিয়ে মাছ চাষ শুরু করলে সফলতা পাবে। বর্তমানে সরকার থেকেও মৎস্য চাষিদের অনেক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল বলেন, স্বপন একজন প্রকৃত মৎস্য চাষি। করোনাকালে প্রান্তিক পর্যায়ে তিনি মাছের উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। তিনি নিজ উদ্যোগে মাছ চাষ শুরু করে সফল মৎস্য চাষি হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মৎস্য অধিদফতর থেকে বিভিন্ন সময় তাকে মাছ চাষের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তার দক্ষতার কারণে তিনি আজকের এই অবস্থানে এসেছেন। স্বপনের খামার দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক উৎসাহিত হয়ে এখন মাছ চাষ করছেন। তারা সফলও হয়েছেন।

  • দেড়শ টাকায় মাছ চাষ শুরু করে স্বপন এখন কোটিপতি

    দেড়শ টাকায় মাছ চাষ শুরু করে স্বপন এখন কোটিপতি

  • দেড়শ টাকায় মাছ চাষ শুরু করে স্বপন এখন কোটিপতি

    দেড়শ টাকায় মাছ চাষ শুরু করে স্বপন এখন কোটিপতি

  • দেড়শ টাকায় মাছ চাষ শুরু করে স্বপন এখন কোটিপতি

    দেড়শ টাকায় মাছ চাষ শুরু করে স্বপন এখন কোটিপতি

  • দেড়শ টাকায় মাছ চাষ শুরু করে স্বপন এখন কোটিপতি

    দেড়শ টাকায় মাছ চাষ শুরু করে স্বপন এখন কোটিপতি

  • দেড়শ টাকায় মাছ চাষ শুরু করে স্বপন এখন কোটিপতি
  • দেড়শ টাকায় মাছ চাষ শুরু করে স্বপন এখন কোটিপতি
  • দেড়শ টাকায় মাছ চাষ শুরু করে স্বপন এখন কোটিপতি
  • দেড়শ টাকায় মাছ চাষ শুরু করে স্বপন এখন কোটিপতি

মৎস্য

পানি–মাটি পরীক্ষায় জানা যাবে মাছের প্রজাতি

পানি–মাটি পরীক্ষায় জানা যাবে মাছের প্রজাতি
পানি–মাটি পরীক্ষায় জানা যাবে মাছের প্রজাতি

দেশে প্রথমবারের মতো ২৪৩ প্রজাতির স্বাদু পানির মাছের জিনের তথ্যভান্ডার তৈরি হয়েছে। এর ফলে দেশের স্বাদু পানির মাছগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা যাবে। একই সঙ্গে কোন নদীতে কত প্রজাতির মাছ আছে, বাড়ল না কমল, তা আর গতানুগতিক উপায়ে গুনে গুনে জানতে হবে না। মাছের টিস্যু বা নদীর পানি বা মাটিতে থাকা মাছের ডিএনএ পরীক্ষা করেই তা জানা সম্ভব হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ এবং সুইডিশ ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের চারজন বিজ্ঞানী যৌথভাবে ওই তথ্যভান্ডার তৈরি করেছেন। বিশ্বের প্রভাবশালী বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার-প্রকাশনা গ্রুপের সায়েন্টিফিক রিপোর্ট সাময়িকীতে গত জুনে তাঁদের গবেষণা নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে।

সুইডিশ রিসার্চ কাউন্সিলের আর্থিক অনুদানে গবেষণা প্রকল্পটি তত্ত্বাবধান করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক আবদুর রব মোল্লা এবং সুইডিশ ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের কিউরেটর মাইকেল নরেন ও অধ্যাপক এসভেন কুলান্ডার। ২০১৩ সাল থেকে শুরু করা ওই গবেষণা চলতি বছর শেষ হয়েছে। তাঁরা দেশের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে প্রায় তিন হাজার মাছের নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাটি করেছেন।

গবেষণা প্রকল্পটির প্রধান সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে তো বটেই, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি দেশের সব মাছের বিশেষ জিন সিকোয়েন্স ও সমন্বিত ডিএনএ তথ্যভান্ডার তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণসহ মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে দেশি প্রজাতির মাছ আজ হুমকির মুখে আছে। এ অবস্থায় দেশের স্বাদু পানির মৎস্য সম্পদের সংখ্যা ও বিস্তৃতি নির্ণয়ের জন্য জেনেটিক উপাত্ত সমৃদ্ধ একটি তথ্যভান্ডারের প্রয়োজন ছিল। এখন জিনের তথ্যভান্ডার বৈচিত্র্যময় স্বাদু পানির মাছ শনাক্তকরণ, পর্যবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুর রব মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশের জলসীমায় নতুন কোনো মাছ এল কি না বা কোনো মাছ বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেল কি না, তা আমরা এই তথ্যভান্ডারকে কাজে লাগিয়ে জানতে পারব। একই সঙ্গে সামগ্রিকভাবে দেশের মৎস্য সম্পদের সুরক্ষায় তা ব্যবহার করা যাবে।’

জিনোম হলো জীবের জিনগত বৈশিষ্ট্যের বিন্যাস বা নকশা। বংশগতির সব বৈশিষ্ট্যই এক বা একাধিক জিনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। এসব বৈশিষ্ট্যের তথ্য জানার প্রাথমিক পদক্ষেপ হলো জিন নকশা উন্মোচন। গবেষণাটি সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাণিদেহের বিশেষ বিশেষ জিনের নিউক্লিওটাইড প্রজাতি ভেদে ভিন্ন ভিন্নভাবে বিন্যস্ত থাকে। জিনের এ ধরনের স্বতন্ত্র বিন্যাস রূপকে বারকোড হিসেবে ব্যবহার করে প্রজাতি বা সংখ্যা শনাক্ত করা যায়।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশের মিঠাপানির মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে ও টেকসই ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে এই গবেষণা আমাদের কাজে লাগবে। একই সঙ্গে দেশের মাছের বৈচিত্র্য ও আবাসস্থলের অবস্থা জানতে এবং তা সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও ওই তথ্যভান্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

এসব বারকোড সিকোয়েন্স, ডিএনএ-সংক্রান্ত তথ্য ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন পরিচালিত জিন ব্যাংকে এবং সর্ববৃহৎ ডিএনএ বারকোড ডেটাবেইস বারকোড অব লাইফ ডেটাবেইসে জমা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে ডিএনএভিত্তিক এ তথ্যভান্ডার দেশে নিবন্ধিত ও নতুন প্রজাতির মাছের বর্ণনা, বিপন্ন প্রজাতির অবস্থা ও বিস্তৃতি এবং বিদেশি ও আগ্রাসী প্রজাতি নির্ণয়ে ব্যবহার করা যাবে।

এ ব্যাপারে ওয়ার্ল্ড ফিশ বাংলাদেশ ও মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইকো ফিশ প্রকল্পের প্রধান অধ্যাপক আবদুল ওয়াহাব প্রথম আলোকে বলেন, পুষ্টিগুণের ভিত্তিতে মাছের বিভিন্ন গ্রুপ নিয়ে এবং মৎস্যজাত খাদ্যের উপাদান ও গুণাগুণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এই তথ্যভান্ডার কাজে লাগানো যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে গবেষণার মাছ দিয়ে শিক্ষক পরিষদের ভোজ

মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাস ও গবেষণার জন্য কলেজের পুকুরে চাষ করা মাছ ধরা হচ্ছে। গতকাল রাত আটটার দিকে। প্রথম আলো
মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাস ও গবেষণার জন্য কলেজের পুকুরে চাষ করা মাছ ধরা হচ্ছে। গতকাল রাত আটটার দিকে। প্রথম আলো

মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাস ও গবেষণার জন্য কলেজের একটি পুকুরে মাছ চাষ করা হচ্ছে। আজ সোমবার শিক্ষক পরিষদের এক অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। শিক্ষক নেতাদের এই অনুষ্ঠানে ভোজনের জন্য গতকাল রোববার রাতে সেই মাছ ধরা হয়েছে।

কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কলেজের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে বিশাল দুটি পুকুর রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পুকুর দুটি ইজারা দেওয়া হতো। তবে ইজারাদার (মাছচাষি) মাছের খাবার হিসেবে পুকুরে গরু ও মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করতেন। এতে দুর্গন্ধে কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে অনেক সমস্যা হতো। পরে ২০১৭ সালে কলেজের পূর্ব পাশের পুকুরটিতে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য মাছ ছাড়া হয়। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের এই ব্যবহারিক ক্লাস হয়ে থাকে। তবে গতকাল সন্ধ্যার পর জাল দিয়ে ওই পুকুর থেকে বেশ কিছু মাছ ধরা হয়। এই মাছ কলেজের শিক্ষক পরিষদের এক অনুষ্ঠানে ভোজনের জন্য ধরা হয়।

কলেজের শিক্ষক পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে শিক্ষক পরিষদের সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ শাখা কমিটি গঠন করা হয়। এই উপলক্ষে আজ সোমবার কলেজের মাঠে ঈদ পুনর্মিলনী ও শিক্ষক পরিষদের সদস্য পরিচিতমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাত সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির সভাপতি (পদাধিকারবলে) হলেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. নূরুল আমিন। এ অনুষ্ঠানে অতিথি ও আয়োজকদের ভোজনের জন্য ওই পুকুর থেকে রুই, কাতলাসহ কার্পজাতীয় মাছ ধরা হয়।

গতকাল রাত আটটার দিকে দেখা যায়, পাঁচজন জেলে টানা জাল দিয়ে মাছ ধরছেন। পরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে বলেন, দুই টানে (দুই দফায়) কমপক্ষে ১ মণ মাছ ধরা হয়েছে।

মাছ ধরার বিষয়ে কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান ইয়াসমিন বানু বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ব্যবহারিক ক্লাস ও গবেষণার জন্য ওই পুকুরে মাছ চাষ করা হয়ে থাকে। এই মাছ ধরা ও শিক্ষক পরিষদের অনুষ্ঠানে খাবারে ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি একটি বিভাগের প্রধান। তবে কলেজের প্রধান প্রিন্সিপাল (অধ্যক্ষ) স্যার। এ বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলাই ভালো।’

কলেজের অধ্যক্ষ মো. নূরুল আমিন বলেন, ‘মাঝেমধ্যে অনুমতি নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারাও বড়শি দিয়ে এই পুকুরের মাছ শিকার করেন। কাজেই শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি অনুষ্ঠানে খাবারের জন্য এই মাছ ধরা অনৈতিক কেন হবে?’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

ইলিশের গড় ওজন ৩৫০ গ্রাম বেড়েছে

বাজারে বিক্রির জন্য বড় ইলিশ সাজিয়ে রাখা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মাছের আড়তে। ছবি: প্রথম আলো
বাজারে বিক্রির জন্য বড় ইলিশ সাজিয়ে রাখা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মাছের আড়তে। ছবি: প্রথম আলো

দুই বছর ধরে দেশে বড় ইলিশের পরিমাণ দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। আগে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ বাজারে খুব কমই দেখা যেত। দামও মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে ছিল না। এখন বাজারে প্রচুর পরিমাণে বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দেশে ইলিশের ওজন ও আকার বাড়ছে।

সাগর ও নদ-নদীতে ধরা পড়া ইলিশের গড় ওজন গত তিন বছরে ৩৫০ গ্রাম বেড়েছে। গত তিন মাসে সাগর ও নদীতে ধরা পড়া ইলিশের গড় ওজন পাওয়া যাচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯০০ গ্রাম। বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও মাছবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

শুধু আকার ও ওজন নয়, এবার ইলিশের মোট উৎপাদনও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে বলে আশা করছে মৎস্য অধিদপ্তর। সংস্থাটির হিসাবে, গত বছর দেশের ইলিশ এর আগেরবারের সব রেকর্ড ভেঙে ৫ লাখ ১৭ হাজার টনে দাঁড়িয়েছিল। এবার তা আরও বেড়ে সাড়ে পাঁচ লাখ টনে পৌঁছাবে বলে ধারণা করছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা, যা বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৫ শতাংশ। বাংলাদেশের পরেই ভারতের অবস্থান। তারা বিশ্বের মোট ইলিশের ১০ শতাংশ আহরণ করে থাকে। বাকি ইলিশ আসে মিয়ানমারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে।

২০১৬ সালে মোট ইলিশের ৩ শতাংশের ওজন ছিল এক কেজির ওপর। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয় ৫ শতাংশে। আর চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত যত ইলিশ ধরা পড়েছে, তার ১০ শতাংশের ওজন এক কেজির ওপরে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা এফএওর দ্য স্টেট অব ফিশ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার, ২০১৮–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাকৃতিক উৎস থেকে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। দুই বছর আগে প্রাকৃতিক উৎসের মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল পঞ্চম। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে মূল অবদান ইলিশের।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু সাইদ মো. রাশেদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, এত দিন দেশে ইলিশের প্রজননের জন্য চারটি অভয়াশ্রম ছিল। চলতি বছরের মার্চ থেকে এ সংখ্যা বেড়ে পাঁচটি হয়েছে। বরিশালের হিজলা থেকে মেহেন্দিগঞ্জ পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৩১৮ কিলোমিটার এলাকাকে সরকার গত মার্চ থেকে অভয়াশ্রম হিসেবে কার্যকর করে। এ ছাড়া চলতি বছর বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ করায় ইলিশ বড় হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ফলে এ বছর দেশে বড় ইলিশের সংখ্যাও বেড়েছে।

সাগরে এখন ধরা পড়ছে বড় আকারের ইলিশ। জালে এসব ইলিশ ধরা পড়ায় খুশি জেলেরা। ৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ফিশারিঘাটে। ছবি: সৌরভ দাশ
সাগরে এখন ধরা পড়ছে বড় আকারের ইলিশ। জালে এসব ইলিশ ধরা পড়ায় খুশি জেলেরা। ৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ফিশারিঘাটে। ছবি: সৌরভ দাশ

ইলিশ বিশেষজ্ঞ ও গবেষকেরা বলছেন, দেশের মৎস্য খাতের অন্যতম সাফল্য হচ্ছে ইলিশের উৎপাদন বেড়ে যাওয়া। ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে জাটকা ধরা বন্ধ করা এবং নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ ধরা বন্ধ করার কারণে ধারাবাহিকভাবে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে। একটি জাটকা অর্থাৎ ৩০০ গ্রাম থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ একবার সাগরে গিয়ে ফিরে আসার জন্য ছয় মাস সময় নেয়। এই সময়ের মধ্যে ইলিশের ওজন ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম বেড়ে যায়।

গত তিন মাসে চাঁদপুরে মেঘনা নদী থেকে ধরা পড়া ইলিশের আকৃতি এবং ওজন নিয়ে সম্প্রতি একটি সমীক্ষা করেছে ওয়ার্ল্ড ফিশ, বাংলাদেশ। তাতে দেখা গেছে, মোট ধরা পড়া ইলিশের মধ্যে ১৬ শতাংশের ওজন এক কেজির ওপরে। আর ৭০ শতাংশ ইলিশের ওজন ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজি। আর জাটকা ধরা পড়ছে মাত্র ১৪ শতাংশ। আজ থেকে পাঁচ বছর আগে ওই এলাকায় ধরা পড়া ইলিশের অর্ধেকই ছিল জাটকা।

ওয়ার্ল্ড ফিশের সমীক্ষায় এবারের ইলিশের দামের একটি চিত্রও উঠে এসেছে। এতে দেখা গেছে, বর্তমানে ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ গড়ে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেড় কেজি ওজনের ইলিশ দুই হাজার টাকা। তিন থেকে চার বছর আগে এক কেজি ওজনের একেকটি ইলিশ দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হতো। এখন পর্যন্ত মোট ধরা পড়া ইলিশের প্রায় অর্ধেকই সাগরের ইলিশ।

ওয়ার্ল্ড ফিশ, বাংলাদেশের ইকো ফিশ প্রকল্পের প্রধান আবদুল ওয়াহাব বলেন, দেশে ইলিশের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সাগর ও নদীতে অন্য মাছের পরিমাণও বাড়ছে। কারণ, সাগর ও উপকূলীয় নদীর মাছের সবচেয়ে প্রিয় খাবার জাটকা। এবারের ইলিশে আগের চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল রং পাওয়া যাচ্ছে। এর অর্থ এই ইলিশের স্বাদ ও পুষ্টিমান বেশি। ইলিশের শরীরে থাকা তেল উচ্চ রক্তচাপ ও বাতের ব্যথা কমাতে সহায়তা করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

বাংলাদেশের পুকুরে ‘নীল বিপ্লব’

ধানের চেয়ে লাভ ও উৎপাদন বেশি হওয়ায় কৃষকেরা পুকুরে মাছ চাষে ঝুঁকছেন। গতকাল বিকেলে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার রশিদপুর গ্রামে। ছবি: প্রথম আলো
ধানের চেয়ে লাভ ও উৎপাদন বেশি হওয়ায় কৃষকেরা পুকুরে মাছ চাষে ঝুঁকছেন। গতকাল বিকেলে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার রশিদপুর গ্রামে। ছবি: প্রথম আলো

গোসল করা, কাপড় ধোয়া, বাসন পরিষ্কার—মূলত এসব কাজেই গ্রামের পুকুরগুলো ব্যবহৃত হতো। কিছু পরিবার ঘরের চাহিদা মেটাতে নিজেদের পুকুরে মাছের চাষ করত। অনেকে খাওয়ার পানির চাহিদা মেটাত পুকুর থেকে। তিন দশক আগের এই চিত্র এখন আমূল পাল্টে গেছে। দেশে উৎপাদিত মাছের বেশির ভাগই এখন আসে পুকুর থেকে। খাদ্যনীতিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ইফপ্রি) বলছে, পুকুরে মাছ চাষে অনন্য দৃষ্টান্ত সারা বিশ্বে স্থাপন করেছে বাংলাদেশ।

অভূতপূর্ব এ ঘটনাকে ইফপ্রি ‘নীল বিপ্লব’ বলে উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশের মাছ চাষ নিয়ে চার বছরে সাতটি গবেষণা করেছে ইফপ্রি। চার গবেষণার ফলাফল এ মাসের শেষ দিকে ঢাকা ও ওয়াশিংটনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে তারা। ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উৎপাদিত মাছের ৫৬ শতাংশ এখন আসছে পুকুর থেকে। পুকুরে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষের ফলে দেশে মাছের মোট উৎপাদন গত ৩৪ বছরে ছয় গুণ বেড়েছে। আর শুধু পুকুরে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ১২ গুণের বেশি। দেশের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ এখন মাছ চাষ এবং এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। দেশের দারিদ্র্যবিমোচনের ক্ষেত্রে এই খাতের অবদান শীর্ষ তিনের মধ্যে রয়েছে। আর কর্মক্ষম মানুষের ২৩ শতাংশ এখন কোনো না কোনোভাবে মৎস্য খাতের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু মাছ খাওয়ার পরিমাণ ১৯৯০ সালে ছিল বছরে সাড়ে ৭ কেজি, এখন তা ৩০ কেজি।তিন দশক আগে পুকুরে মাছের উৎপাদন হতো ১ লাখ ৭৮ হাজার টন
এখন তা ১২ গুণের বেশি বেড়েছে
ধানের চেয়েও মাছ চাষ বেশি লাভজনক
প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ লোক মাছ চাষ এবং এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত

ইফপ্রির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক শহীদুর রশীদের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, চীন, ইথিওপিয়া, গুয়াতেমালা ও বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা ওই গবেষণা করেন। এ ধরনের সমন্বিত গবেষণা বিশ্বে এটিই প্রথম।

২০১৪ সাল থেকে শুরু করে ওই গবেষণা ২০১৮ সাল পর্যন্ত চলে। শহীদুর রশীদ ভারতের দিল্লি থেকে মুঠোফোনে গতকাল সোমবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের মৎস্য খাতের এই বিপ্লব বিশ্বের উন্নয়ন অধ্যয়ন নিয়ে কাজ করা গবেষক ও অর্থনীতিবিদদের ধারণা বদলে দিয়েছে। বড় উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং অবকাঠামো নির্মাণ ছাড়াও যে দারিদ্র্যবিমোচন ও গ্রামীণ উন্নয়ন হতে পারে, বাংলাদেশের মৎস্য খাত তার প্রমাণ। গ্রামে গ্রামে ক্ষুদ্র চাষিদের সৃজনশীল উদ্যোগ, সরকারের নীতি সহায়তা ও বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন—সব মিলিয়ে এই সফলতা এসেছে। তিনি বলেন, মাছের উৎপাদন বাড়ায় দেশের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। ধানের চেয়েও মাছ চাষ বেশি লাভজনক। এক একর জমিতে ধান হয় দুই থেকে তিন টন। আর এক একর আয়তনের পুকুরে মাছ হয় ৪০ টন।

মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে, বাংলাদেশে ২০১৭-১৮ সালে মোট মাছের উৎপাদন হয় ৪২ লাখ ৭৬ হাজার ৬৪১ মেট্রিক টন। এর মধ্যে পুকুরে উৎপাদিত হয় ২৪ লাখ ৫ হাজার ৪১৫ টন। অথচ ১৯৮৩-৮৪ সালে পুকুরে মাছের উৎপাদন ছিল মাত্র ১ লাখ ৭৮ হাজার টন। মূলত দেশের ২৪টি জেলায় পুকুরে মাছের চাষ দ্রুত বেড়েছে। এর মধ্যে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও নেত্রকোনায় পুকুরের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এসব জেলায় পুকুরে মাছ চাষ বছরে ১০ শতাংশ হারে বেড়েছে। অন্যদিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘেরে মাছ চাষ গত দুই যুগে ২৪ শতাংশ কমেছে। সেখানেও পুকুরে মাছ চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান প্রথম আলোকে বলেন, শুধু পুকুরে মাছ চাষের জন্য বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন। মৎস্য অধিদপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ে চাষিদের কাছে সরকার প্রযুক্তি ও সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। একই সঙ্গে উন্মুক্ত জলাশয়ে প্রতিবছর সরকারি উদ্যোগে মাছের পোনা ছাড়া হচ্ছে, যা মাছের সামগ্রিক উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করছে।

গবেষকেরা বলছেন, দুই যুগ আগে দেশে রুইজাতীয় মাছ সবচেয়ে বেশি চাষ হতো। এর পাশাপাশি তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছের চাষ অনেক বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উন্নত জাতের কই মাছের চাষও বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশ মৎস্য ইনস্টিটিউট থেকে ইতিমধ্যে মৎস্য চাষ ও ব্যবস্থাপনাবিষয়ক ৬০টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির ১৮টি মাছের পোনা উৎপাদন করেছেন বিজ্ঞানীরা।

তবে এই সফলতার সঙ্গে সঙ্গে মাছ চাষে ঝুঁকিও বাড়ছে বলে ইফপ্রির গবেষণায় বলা হয়েছে। পুকুর পরিষ্কার করতে ব্যবহার করা চুন এবং অন্যান্য ওষুধ ও রাসায়নিকের ব্যবহার বাড়ছে। আবার কারখানায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত খাদ্য মাছকে খাওয়ানো হচ্ছে। এসবের মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। পুকুর পরিষ্কার ও খাবারের সঙ্গে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক মাছের শরীরে কতটুকু রয়ে যাচ্ছে, তার কোনো মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ হচ্ছে না। বিশেষ করে মাছ রপ্তানি করতে গেলে মাছের গুণগত মান নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।

শুধু ইফপ্রি একা নয়, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) থেকেও বাংলাদেশের মৎস্য খাতের এই পরিবর্তনকে বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে। গত জুনে এফএও প্রকাশিত বৈশ্বিক মৎস্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাষের মাছ উৎপাদনে বিশ্বে পঞ্চম বাংলাদেশ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

প্রায় বিলুপ্ত মাগুর, ফলি, মহাশোল-সহ ২৩ প্রজাতির মাছ যেভাবে ফিরিয়ে আনা হলো

বাঘাইর মাছ
বাঘাইর মাছ

বাংলাদেশে গত এক দশকে ‘প্রায় বিলুপ্তি’র মুখ থেকে ফিরে এসেছে এমন দেশি মাছের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। প্রাকৃতিক ও বাণিজ্যিক চাষ উভয়ভাবেই বাড়ছে মাছের উৎপাদন।

যদিও গত কয়েক দশকে ১০০’র বেশি দেশি প্রজাতির মাছ বাজার থেকে ‘প্রায় নেই’ হয়ে গেছে।

কিন্তু বাংলাদেশে গত এক দশকে মাছের উৎপাদন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও’র ২০২০ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এই মূহুর্তে মিঠা পানির মাছের উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

সরকারি হিসাবে দেখা গেছে বাংলাদেশে এখন প্রতি বছর প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিক টনের বেশি মাছ উৎপন্ন হচ্ছে।

তবে এর বড় অংশটি ইলিশ।

ফিরে আসা মাছেরা

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার ২০২০’ নামে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাদু পানির মাছের উৎপাদন বাড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

প্রায় বিলুপ্ত অবস্থা থেকে আবার বাঙালীর পাতে ফেরত এসেছে আইড় মাছ
প্রায় বিলুপ্ত অবস্থা থেকে আবার বাঙালীর পাতে ফেরত এসেছে আইড় মাছ

বছরে ৯ শতাংশ হারে বাড়ছে বাংলাদেশের মিঠা পানির মাছের উৎপাদন।

এ হারে প্রথম স্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ায় ১২ শতাংশ হারে উৎপাদন বাড়ছে মিঠা পানির মাছের।

গবেষকেরা বলছেন, ‘প্রায় বিলুপ্ত’ অবস্থা থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে মাছের ফিরে আসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে হাওড় এলাকা এবং মেঘনা নদীর অববাহিকায়।

এর বাইরে গবেষণার মাধ্যমে ফেরানো হয়েছে কিছু প্রজাতির মাছ, যেগুলো এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ বিবিসিকে বলেছেন, মোট ২৩টি প্রজাতির মাছ পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে, এগুলো হচ্ছে—

১. পাবদা

২. গুলশা

৩. টেংরা

৪. শিং

৫. মাগুর

৬. গুজি আইড়

৭. চিতল

৮. ফলি

৯. মহাশোল

১০. বৈরালী

১১. রাজপুঁটি

১২. মেনি

১৩. বালাচাটা

১৪. গুতুম

১৫. কুঁচিয়া

১৬. ভাগনা

১৭. খলিশা

১৮. বাটা

১৯. দেশি সরপুঁটি

২০. কালিবাউশ

২১. কই

২২. গজার

২৩. গনিয়া

এর বাইরে প্রাকৃতিক উপায়েও মাছের উৎপাদন বেড়েছে, মূলত হাওড় অঞ্চল এবং মেঘনা নদীর অববাহিকায়।

চিতল মাছ
চিতল মাছ

ওইসব এলাকায় রিটা, আইড়, বাগাইড়, নদীর পাঙ্গাস, শিলন, চিতল এবং দেশি সরপুঁটি মাছের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বলছে বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিস।

কিভাবে ঘটেছে এই প্রত্যাবর্তন

মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেছেন, প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই ২৩টি প্রজাতির মাছকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এখন আরো ৭টি প্রজাতি নিয়ে গবেষণা চলছে।

তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এই মূহুর্তে ৮০০ হ্যাচারিতে মাছের পোনা চাষ করা হয়, ২০০৮ সালে দেশে হ্যাচারির সংখ্যা ছিল ২৫ টির মত।

“বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে হাওড়-বাঁওড়, খাল, বিল, পুকুরসহ জলাশয়ের সংখ্যা বহুলাংশে সংকুচিত হয়ে গেছে।

ফলে হারিয়ে যাচ্ছিল মিঠা পানির মাছের বহু প্রজাতি। ফলে গবেষণার মাধ্যমে সেগুলো আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা শুরু হয়, যার ফল এখন বাজারে গেলে টের পাওয়া যায়।”

শিলন মাছ
শিলন মাছ

তিনি জানিয়েছেন, একেকটি মাছের প্রজাতি নিয়ে গবেষণায় সাফল্য পেতে অন্তত আড়াই থেকে তিন বছর সময় লেগেছে।

মি. মাহমুদ বলছেন, পুনরায় ফিরিয়ে আনা মাছগুলো বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হচ্ছে।

বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হওয়া মাছের মধ্যে পুকুর ও ডোবার মত বদ্ধ জলাশয়ে ৫৭ শতাংশ মাছ উৎপাদন হচ্ছে।

দেশে ৮ লাখ হেক্টর বদ্ধ জলাশয়ে মাছ চাষ হয়।

প্রাকৃতিক প্রত্যাবর্তন

বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিসের কর্মকর্তা বলরাম মহালদার বিবিসিকে বলেছেন, দেশের হাওড় এবং উজানে প্রাকৃতিকভাবে গত এক দশকে মাছের উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, হাওড় এলাকায় জলাশয় ইজারা দেবার সরকারি পদ্ধতি বাতিল হবার কারণে এ অগ্রগতি হয়েছে।

“ইজারা পদ্ধতি চালু থাকাকালে জলাশয়ের ব্যবহারকারীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন কিছু আচরণ যেমন মৌসুম শেষে জলাশয়টি পুরোপুরি সেচে ফেলা, রাসায়নিক ব্যবহার এসব কারণে মাছের প্রাকৃতিক আবাস ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হত।”

দেশি সরপুঁটি
দেশি সরপুঁটি

তিনি জানিয়েছেন, এখন নতুন নিয়মে কোন নির্দিষ্ট কম্যুনিটি একটি জলাশয়ের দায়িত্ব পায়, সেখানে মাছের আবাস ও উৎপাদন স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকারের দেয়া নিয়মাবলী মানা হচ্ছে কিনা তা মনিটর করা হয়।

“এর ফলেই মাছের আবাসস্থল বা হ্যাবিটাট অটুট থাকছে, ফলে মাছের প্রজনন নির্বিঘ্নে হতে পারছে।”

মি. মহালদার জানিয়েছেন এর বাইরে মাছের জন্য অভয়াশ্রম করা হয়েছে অনেক এলাকায়, হাওড় এলাকায় পুনরায় খনন করে মাছের আবাসস্থল ফেরানো হয়েছে কোন কোন এলাকায়।

“এছাড়া ইলিশ সংরক্ষণের জন্য বছরে কয়েকটি সময় যে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়, তার ফলে কেবল ইলিশই বাঁচে না।

ওই একই আবাসস্থলে থাকা রিটা এবং আইড়ের মত মাছও সুরক্ষা পাচ্ছে। যেমন একটি নির্দিষ্ট সময় ইলিশ ডিম ছাড়ছে এবং বাচ্চা ফুটছে মানে প্রচুর জাটকা হচ্ছে, এই জাটকা আবার রিটা এবং আইড়ের প্রধান খাবার।”

কিন্তু ইলিশের উৎপাদন ব্যাপক হারে হচ্ছে বলে, রিটা এবং আইড় মাছের পেটে অনেক জাটকা চলে যাবার পরেও সব কটি মাছের উৎপাদন বাড়ছে।

বিলুপ্ত-প্রায় অবস্থা থেকে ফেরা কি স্থিতিশীল?

বাংলাদেশে দেশীয় মাছের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৩০০।

রিটা মাছ
রিটা মাছ

এর মধ্যে প্রায় বিলুপ্তির পথে ১০০র বেশি দেশীয় মাছ থাকলেও সেগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়নি।

প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন’এর এ সংক্রান্ত নিয়ম হচ্ছে, সর্বশেষ কোন একটি প্রজাতির মাছের দেখা পাবার পরবর্তী ২৫ বছরে যদি সেই প্রজাতির অস্তিত্বের কোন প্রমাণ না পাওয়া যায়, তাহলে সেটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

যে কারণে বিলুপ্ত ঘোষণা না হলেও বহু দেশিয় মাছই এখন আর দেখা যায় না।

তবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কানিজ ফাতেমা বলছেন, বর্তমানে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে দেশীয় প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করছে।

তিনি বিবিসিকে বলেছেন, “এই মূহুর্তে বাজারে যেসব মাছ পাওয়া যায় তার ৫৬ শতাংশই চাষের মাছ।

চাষের টেংরা মাছ চাহিদা আছে বাজারে
চাষের টেংরা মাছ চাহিদা আছে বাজারে

ব্যাপক হারে চাষাবাদ হবার কারণে এসব মাছের দামও এখন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে, ফলে একদিকে দেশিয় উদ্যোক্তাদের যেমন কর্মসংস্থান হচেছ, তেমনি অর্থনীতির উন্নয়নও তো হচ্ছে।”

এখন এই দেশিয় প্রজাতির মাছের প্রত্যাবর্তন টিকিয়ে রাখা এবং আরো নতুন নতুন প্রজাতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

আর সেজন্য গবেষণা আরো বাড়াতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com