আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

স্থূলতা: পনের মাসে ১৫ কেজি ওজন কমানোর ওষুধ, ‘নতুন যুগ’এর শুরু

নতুন একটি ওষুধ ক্ষুধা দমন করে ব্যাপকভাবে স্থূলতা কমানোয় সফল বলে বিজ্ঞানীরা বলছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড়ধরনের এক ট্রায়াল চালিয়ে তারা দেখেছেন পরীক্ষায় অংশ নেয়া বেশ অনেকেই তাদের ওজন ১৫ মাসে গড়ে ১৫ কেজি কমিয়ে ফেলতে সফল হয়েছেন।

প্রায় ২০০০ মানুষের ওপর এই ট্রায়াল চালানো হয়, যাদের প্রতি সপ্তাহে একবার সেমাগ্লুটাইড নামে এই ওষুধ ইনঞ্জেকশন হিসাবে দেয়া হয় এবং পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস ও শরীর সুস্থ রাখার বিষয়ে তাদের নানা পরামর্শও দেয়া হয়।

পনের মাসের ট্রায়ালে তাদের গড়ে ১৫ কেজি করে ওজন কমেছে এবং বিজ্ঞানীরা বলছেন এই ট্রায়ালের ফলাফল থেকে তারা মনে করছেন, স্থূলতার চিকিৎসায় এই ওষুধ একটা ‘নতুন যুগের’ সূচনা করবে।

ট্রায়ালে অংশ নেয়া ব্রিটেনের কেন্ট অঞ্চলের জ্যান এই পরীক্ষায় ২৮ কেজি ওজন কমিয়েছেন যা তার শরীরের ওজনের পাঁচ ভাগের এক ভাগ।

“এই ওষুধ আমার জীবন বদলে দিয়েছে এবং খাবারের প্রতি আমার দৃষ্টিভঙ্গিও পুরো বদলে গেছে,” তিনি বলছেন।

তিনি বলেন, আগে তিনি ডায়েট করে অর্থাৎ খাওয়া কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছিলেন, যা ছিল “খুবই কষ্টকর”, কিন্তু এই ওষুধ নেয়ার অভিজ্ঞতা একদম আলাদা, কারণ এই ওষুধ নেবার পর তার ক্ষুধা পেত কম।

‘কষ্টকর ছিল না’

ট্রায়াল শেষ হবার পর জ্যানের আগের মত আবার খিদে বেড়ে গেছে এবং আবার তার ওজন বাড়ছে।

ট্রায়ালে অংশ নেয়া জ্যান
ছবির ক্যাপশান,বিমানবন্দরে বিমান চালিয়ে নামার পর জ্যান বলেন ওজন কমানোর আগে এই বিমান চালানো তার জন্য অসম্ভব ছিল

তিনি বলছেন: “ট্রায়ালের সময় ওজন কমানোর ব্যাপারটা মোটেও কষ্টকর ছিল না, এখন আবার ক্ষুধার সাথে সর্বক্ষণ লড়াই করতে হচ্ছে।”

যারা টাইপ-টু ডায়বেটিসের জন্য চিকিৎসা নেন তাদের অনেকের কাছেই সেমাগ্লুটাইড একটি পরিচিত নাম। কিন্তু ওজন কমানোর এই ট্রায়ালে এই ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে আরও বেশি ডোজে।

এই ওষুধ কাজ করে শরীরে ক্ষুধার প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে। পেট ভরে খাবার পর শরীরের ভেতর জিএলপি১ নামে যে হরমোন নিঃসরণ হয়, এই ওষুধ ঠিক সেই হরমোনের অনুভূতি শরীরে তৈরি করে। ফলে সবসময়ই মনে হয় পেট ভরা আছে।

ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে এই ওষুধ দেয়া হয় এবং কয়েকজনকে ওষুধ নেই এমন তরল পদার্থের ইঞ্জেকশান দেয়া হয়। এদের সবাইকেই খাবার ও জীবনযাপন বদলানোর ব্যাপারে একই পরামর্শ দেয়া হয়।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন নামে এক সাময়িকীতে ট্রায়ালের ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যাতে দেখা যায় সেমাগ্লুটাইড ওষুধ নেয়া ব্যক্তিদের ওজন কমেছে গড়ে ১৫ কেজি। আর যাদের ওষুধ দেয়া হয়নি, তাদের ওজন কমেছে গড়ে ২.৬ কেজি।

ওষুধ যাদের দেয়া হয়েছে তাদের ৩২% পাঁচ ভাগের এক ভাগ ওজন ঝরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু ভুয়া ওষুধ যাদের দেয়া হয়েছে তাদের ২ শতাংশেরও কম ব্যক্তির ওজনে কোনই হেরফের হয়নি।

‘নতুন যুগ’

গবেষক দলের একজন সদস্য, ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি কলেজের অধ্যাপক রেচেল ব্যাটারহাম বিবিসি নিউজ ওয়েবসাইটকে বলেছেন: “এই ওষুধ যে পরিমাণ ওজন সফলভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে, তাতে এটা স্থূলতার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা করবে।

“স্থূলতার সমস্যা নিয়ে আমি গত ২০ বছর ধরে গবেষণা করছি। এ যাবত একমাত্র পরিপাকতন্ত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে স্থূলতা কমাতে কোন চিকিৎসাই কার্যকর হয়নি।”

তিনি বলছেন, ওজন কমালে হৃদযন্ত্রের অসুখ, ডায়বেটিস এবং এমনকি কোভিড-১৯ এর জটিলতার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

সেমাগ্লুটাইড ওষুধটি এখন ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হচ্ছে।

অধ্যাপক ব্যাটারহাম বলছেন, এই ওষুধ প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু স্থূলতার চিকিৎসা বিষয়ক বিশেষ ক্লিনিকগুলোতে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন করা হবে। ঢালাওভাবে ব্যবহারের জন্য তা বাজারে ছাড়া হবে না।

তিনি বলছেন, এর কারণ এর কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা আছে, যেমন বমিভাব, ডায়রিয়া, বমি হওয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য। এছাড়াও তারা পাঁচ বছর ব্যাপী একটি গবেষণা চালাবেন দেখার জন্য যে এই ওষুধ ব্যবহার করে ওজন কমানোর ব্যাপারটা দীর্ঘ মেয়াদে স্থায়ী হবে কিনা।

কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিজ্ঞানী অধ্যাপক সার স্টিফেন ও’রাহিলি বলছেন: “এই ওষুধ ব্যবহার করে যে পরিমাণ ওজন কমানো সম্ভব হয়েছে, তা স্থূলতা কমানোর জন্য লাইসেন্স প্রাপ্ত বর্তমান যে কোন ওষুধের থেকে বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

স্থূলতার চিকিৎসার জন্য ভবিষ্যতে ওষুধ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে সেমাগ্লুটাইড একটা নতুন দিগন্ত খুলে দিতে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এখন ওজন কমাতে একইধরনের এমন ওষুধ আবিষ্কারে উদ্যোগী হতে পারবন যা সমানভাবে কাজ করবে, কিন্তু যাতে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকবে না।”

তবে পুষ্টিবিদ ড. ডুয়ান মেলর বলছেন, বিশাল ওজন যাদের জন্য বড় সমস্যা তাদের চিকিৎসার জন্য কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ অবশ্যই সুখবর।

“কিন্তু পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে যে, আমাদের জীবনযাপনের ধারা এবং খাদ্যাভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ওষুধ এবং জীবনযাপনের ধারা বদলানোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং ঝুঁকিও যে থাকে সেটাও মাথায় রাখা দরকার। আর তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে ওজন কমানোর চিকিৎসা শুরু করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।”

দৈনন্দিন

পোকামাকড় দিয়ে তৈরি খাবার জনপ্রিয় যে দেশে

হোটেল-রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে পোকামাকড় পাওয়া গেলে তা নিয়ে অনেক বিপত্তি দেখা দেয়। এ অভিযোগে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধও করে দেয়া হয় রেস্তোরাঁ। কিন্তু ব্যাংককের রেস্তোরাঁয় পোকা পাওয়া ও পোকা খাওয়া মামুলি ব্যাপার।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, থাইল্যান্ডের হোটেল-রেস্তোরাঁয় পোকামাকড়ের মজাদার খাবার বিক্রি হয়। আপনার জন্য কী চাই? সাপ, ব্যাঙ, টিকটিকি, পিঁপড়া, উইপোকা, শুঁয়োপোকা, শামুক সবই রয়েছে। ফুটপাতের টং দোকানেও পাওয়া যায় তেলে ভাজা ঝিঁঝিঁ পোকা।

jagonews24

ঘেন্না পাচ্ছে? এটাই সত্যি। বলা হয়ে থাকে, তুমি যদি এক হাজার পিঁপড়া খাও তবে একটা হাতির শক্তি লাভ করবে (তামিল প্রবাদ)। পিঁপড়া খেলে সাঁতার শেখা যায়- (বাংলা প্রবাদ)। এসব প্রচলিত প্রবাদ থাইবাসীর জানা থাকুক বা না থাকুক, পিঁপড়া খেতে খুব পছন্দ করে থাইবাসীরা। তারা পিঁপড়াকে খুব পুষ্টিকর খাবার মনে করে।

স্যুরিনের রেস্তোরাঁগুলোতে ঢুকে ওয়েটারকে শুধু একবার মুখে ‘মাতাওয়ান’ শব্দটা উচ্চারণ করলেই হয়েছে। ওয়েটার সঙ্গে সঙ্গে আপনার সামনে হাজির করবে এক বাটি পিঁপড়ার স্যুপ। পয়সা বেশি থাকলে খেতে পারেন পিঁপড়ার ডিমের তরকারি। প্রতি প্লেট মাত্র তিন ডলার। সাপের স্যুপের দামটা একটু বেশি! প্রতি বাটি আট ডলার মাত্র।

jagonews24

আরশোলা বা তেলাপোকার নাম শুনলেই ঘেন্নায় রিরি করে উঠে গা। কিন্তু ওর চাটনি থাইল্যান্ডের সুখুমবিট জেলাবাসীর অত্যন্ত প্রিয় খাবার। ওখানে গুবরে পোকার তরকারি ছাড়া অতিথি আপ্যায়ন হয় না। বড় সাইজের গুবরে পোকার ডিম বেনল্যান্ড শহরের কাঁচা বাজারে বিক্রি হয়।

থাইবাসী ছোট চিকন জালের ফাঁদ লাগানো এক ধরনের কাঠি দিয়ে জঙ্গল থেকে ধরে আনে লাখ লাখ কিলবিলে কীটপতঙ্গ। তারপর ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে, বস্তা ভর্তি করে বিক্রির জন্য পাঠানো হয় বাজারে। গ্রামবাসী শুকনো অবস্থায় খায় এগুলো। শুকনো কীটপতঙ্গ দিয়ে ওরা মজার মজার পিঠাও তৈরি করে।

jagonews24

ব্যাংককের অদূরে স্যামুট প্রকার্ন এলাকায় গুসানেস ডি মেগুয়ে নামের এক ধরনের পোকার শূককীট দিয়ে মেহমানদের আপ্যায়নের জন্য তৈরি করা হয় স্বাদের কাবাব। এই দিয়ে আপ্যায়ন করা সেখানে আভিজাত্যের প্রতীক। তাজা অবস্থায় এই পোকা বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। এছাড়াও কারিকমা কেমোরেটা নামের পোকার ডিম শুকরের চর্বিতে ভেজে তৈরি করা হয় দারুণ সব সুস্বাদু খাবার।

ব্যাংককের পূর্বাঞ্চলীয় শ্রী রাঁচা শহরবাসী, বাড়িতে অতিথি এলে তাদের সামনে এনে দেয় প্লেট ভর্তি ঝিঁঝিঁ পোকার মোরব্বা। এই খাবার পেলে অতিথিরা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করেন। গ্রামবাসী প্রগোটিস ইনকিউমা নামের মথ থলেতে সংগ্রহ করে কয়লার আগুনে ঝলসে এক ধরনের খাবার তৈরি করে। এই মথে রয়েছে প্রচুর চর্বি। স্বাদ হয় একেবারে বাদামের মতো।

jagonews24

থাইবাসীর খুব প্রিয় ও মুখরোচক একটা খাবার হলো পঙ্গপালের আচার। পঙ্গপাল ধরে ওরা আচার তৈরি করে কৌটায় ভরে সারাবছর সংরক্ষণ করে রাখে। উৎসবের ভোজে গরম গরম খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করেন।

গান্ধি পোকার নাম শুনলে ভ্রু, নাক, কপাল কুঁচকে ওঠাটাই স্বাভাবিক। এর ভয়ানক দুগর্ন্ধের কথা মনে পড়লে অনেকেরই দম বন্ধ হয়ে আসে। শত্রু দেখলে বা পরিবেশটা প্রতিকূল মনে হলে নিশ্চিন্তে দুর্গন্ধ ছড়ায় এই গান্ধি পোকা। আর সেই গন্ধে শত্রুরা ঝেড়ে দেয় পিঠটান। কিন্তু থাইল্যান্ডের মানুষরা গান্ধি পোকার দুর্গন্ধের কোন তোয়াক্কা করে না।

বরং রকমারি মুখরোচক খাবারে রসনা বিলাস করে থাকে এই গান্ধি পোকা দিয়ে। থাইবাসীরা গান্ধি পোকা তরকারীতে ব্যবহার করে খাবারে রুচি-স্বাদ বাড়ানোর জন্যে বাড়তি এসেন্স হিসেবে। উৎসব পার্বণ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভোজে এই গান্ধি পোকা ছাড়া তাদের চলেই না।

jagonews24

শুধু কি তাই? শুঁয়োপোকা রান্না করে তরকারি হিসেবে খাবারের চেয়ে কাঁচা খেতেই বেশি পছন্দ তারা। থাই গ্রামবাসীরা বিভিন্ন গাছের পাতা থেকে শুঁয়োপোকা সংগ্রহ করে প্রতিদিন সকালে সেগুলো বিক্রি করে মাছের মতো। উচ্চ দামে খরিদ্দাররা তরকারি ও কাঁচা খেতে কিনে নেয় এই শুঁয়োপোকা।

পিঁপড়া, উইপোকা, শুঁয়োপোকার শূককীট ও ফড়িং মাখনে ভেজে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে প্রীতিভোজের আয়োজন করে খায় থাইবাসী। স্যুরিনের রাস্তাঘাটের রেস্তোরাঁ ও টং দোকানে বিশেষ রুটি বিক্রি হয়। পতঙ্গ রোদে শুকিয়ে লোহার কড়াইতে গুঁড়ো করে বানানো হয় পাউডার। তা-ই দিয়ে বানানো হয় এই রুটি।

jagonews24

এছাড়াও সেখানকার হোটেল রেস্তোরাঁর মেন্যুতে পাওয়া যায় মৌমাছির শূককীট, মথ, মাছ আর কাঠ ছিদ্রকারী ঘুনপোকার স্যুপ। রেস্তোরাঁয় স্যুপ হিসেবে বিক্রি হলেও গ্রামবাসী এসব পোকামাকড় কাঁচা খেতেই বেশি পছন্দ করে থাকে। কারও অবশ্য পছন্দ রোদে শুকিয়ে কিংবা আগুনের তাপে ঝলসে নিয়ে মচমচ করে খেতে।

এখানকার বুড়ো মানুষ আর বাড়ন্ত শিশুদের পুষ্টিকর স্বাস্থ্য টনিক হচ্ছে ‘এসপনগোপাস’ নামের বড় বড় গান্ধি পোকা। মোটামুটি ব্যাংককের সব হোটেলে সব সময় পাওয়া যায় সাপ আর শামুকের নানাবিধ তরকারি। ভাতের সঙ্গে সাপের রোস্টের স্বাদই আলাদা। অনেকটা মুরগির মাংসের মতো। ওখানকার ক্যাব ড্রাইভার থেকে পর্যটক পর্যন্ত প্রত্যেকের কাছে উপাদেয় এই খাবারের দাম প্রতি প্লেট চার থেকে আট ডলার মাত্র।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

অতিরিক্ত আম খেয়ে বিপদ ডেকে আনছেন না তো?

এখন আমের মৌসুম। সবার ঘরই এখন আমের গন্ধে ম ম করছে! ফলের রাজা আম খেতে ছোট-বড় সবাই পছন্দ করে। আমে আছে বিভিন্ন পুষ্টিগুণ, যা শরীরের জন্য উপকারী। তবে জানেন কি, অতিরিক্ত আম খাওয়ার ফল কী হতে পারে? বা প্রতিদিন কতটুকু আম খাওয়া নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত আম খাওয়ার ফলে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এর মধ্যে ডায়াবেটিসসহ ওজন বেড়ে যাওয়া বদহজম, পেটে ব্যথা ইত্যাদি সমস্যার সৃষ্টি হয়। আমের কিছু পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া আছে, জেনে নিন সেগুলো-

>> যেহেতু আমে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ বেশি; তাই এটি ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। আপনি যদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন, তবে আপনাকে অবশ্যই আম খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

jagonews24

>> স্বাদের কারণে অনেকেই একের পর এক আম খাওয়া শুরু করেন। তবে জানেন কি, অতিরিক্ত আম খাওয়া ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে। আম প্রচুর পরিমাণে আঁশসমৃদ্ধ, যা অতিরিক্ত খেলে ডায়রিয়ার সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

>> আমের মধ্যে ইউরিশিয়াল নামক একটি রাসায়নিক থাকে। এই রাসায়নিক অনেকের শরীরেই অ্যালার্জির সমস্যা সৃষ্টি করে। এর ফলে চর্মরোগ দেখা দেয়। এই রাসায়নিকের ফলে ত্বকের সমস্যা যেমন- ত্বক ফুলে ওঠা, ফোস্কা এবং চুলকানি হতে পারে।

jagonews24

>> আম অনেকের জন্য অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। এর ফলে চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়া, শ্বাসকষ্ট, হাঁচি, পেটে ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। আম খাওয়ার পরে এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

>> অতিরিক্ত আম খেলে বদহজম হতে পারে। বিশেষ করে কাঁচা আম বদহজমের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে।

jagonews24

>> ফলের রাজা আমে ক্যালোরির পরিমাণও বেশি। যা দ্রুত ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে। একটি মাঝারি আকারের আমের মধ্যে থাকে ১৫০ ক্যালোরি। সুতরাং আপনি যদি ওজন কমাতে চান; তাহলে আম খাওয়া থেকে দূরে থাকুন।

>> আমে থাকা ছত্রাক কারও কারও শরীরে প্রবেশ করলে জ্বরে কারণ হতে পারে। আমবাত বা ছত্রাকজনিত একটি ত্বকের রোগ, যা ত্বকের ফুসকুড়ি, চুলকানি এবং ত্বকের লালচেভাব সৃষ্টি করে। এই সমস্যাটি নির্দিষ্ট খাবার, স্ট্রেস বা ওষুধের কারণে হয়ে থাকে।

jagonews24

>> একাধিক গবেষণা অনুসারে, আম শরীরের উত্তাপ অনেক বাড়িয়ে তোলে। তাই গরমে অত্যাধিক আম খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

>> আয়ুর্বেদের মতে, আম কখনই দুধের সঙ্গে খাওয়া উচিত নয়। এটি বদহজম, ডায়রিয়াসহ পেটের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।

jagonews24

>> বাতজনিত মস্যায় যারা ভুগছেন; সেসব রোগীরা খুব অল্প পরিমাণে আম খেতে পারবেন। অতিরিক্ত খেলে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

>> আম খাওয়ার পর অনেকেই ‘ম্যাংগো মাউথ’ সমস্যার সম্মুখীন হন। এর ফলে মুখের মধ্যে চুলকানি, ফোলাভাব এবং মুখের চারপাশে ফোসকা, ঠোঁট এবং জিহ্বায় জ্বালা-পোড়াভাব হতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

বর্ষায় সর্দি-কাশি থেকে বাঁচাবে পেঁয়াজ!

আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বর্ষায় বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি দেখা দেয়। হঠাৎ বৃষ্টি ও ঠান্ডা আবহাওয়া আবার গরম লাগার কারণে এ মৌসুমে জ্বর-সর্দি-কাশির সমস্যা বাড়তেই থাকে। কারণ এ সময় আবহাওয়ার আর্দ্রতা ও স্যাঁতসেঁতে ভাবের কারণে অ্যালার্জিরা সক্রিয় হয়ে ওঠে।

তাই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমলেই ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া চড়াও হয়ে ওঠে। তাই বর্ষার মৌসুমে সর্দি-কাশির প্রকোপ থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে সচেতন থাকা জরুরি। পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া দাওয়াইয়ের উপর ভরসা রাখুন এ সময়।

প্রাকৃতিক অনেক ভেষজ আছে; যেগুলো ফ্লু’র থেকে বাঁচায়। তেমনই এক উপাদান হলো পেঁয়াজ। সবার রান্নাঘরেই এ উপাদানটি থাকে। শুধু নানা পদের স্বাদ বৃদ্ধিতেই নয়; বরং সুস্বাস্থ্যের পক্ষেও উপযোগী পেঁয়াজ। এমনকি নানা ধরণের অসুস্থতার সঙ্গে লড়তে পেঁয়াজ সাহায্য করে থাকে।

এর জন্য বেশি কিছু করতে হবে না। শুধু ঘুমানোর সময় বা বসে থাকলে মোজার মধ্যে পেঁয়াজের স্লাইস রেখে দিন। এর মাধ্যমেই আপনার শরীর নানা উপকার পাবে। লস এঞ্জেলেসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক লরেন ফেডারও মোজার মধ্যে পেঁয়াজ রেখে ঘুমানোর বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে জানিয়েছেন।

jagonews24

তার মতে, মোজার মধ্যে পেঁয়াজ রেখে রাতে ঘুমালে সর্দি, ব্লাডারে সংক্রমণ, কানে ব্যথা, দাঁতে ব্যথা ইত্যাদি কমানো যেতে পারে। চিনে পেঁয়াজকে দীর্ঘ দিন ধরে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। তাই একবার চেষ্টা করে দেখা যেতেই পারে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে মোজার মধ্যে আধা টুকরো পেঁয়াজ রেখে ঘুমান। এর ফলে আপনার পা-ও স্ক্রাব হবে।

ন্যাশনাল অনিয়ন অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৫০০ সালের শুরুর দিকে পেঁয়াজ নিয়ে বিভিন্ন ধারণার উদ্ভব ঘটে। তখন বিশ্বাস করা হত, বাড়ির চারপাশে কাঁচা পেঁয়াজ কেটে রেখে দিলে বুবোনিক প্লেগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ধারণা করা হত, বাড়ির চারপাশে পেঁয়াজ কেটে রাখলে বিষাক্ত বাতাস থেকে রক্ষা মিলবে।

jagonews24

মোজার মধ্যে পেঁয়াজ রাখার বিষয়টি চীনে প্রথম প্রচলন শুরু হয়। চীনা রিফ্লেক্সোলজির প্রাচীন ওষুধি অনুশীলনে এমনটিই করা হয়। পায়ের স্নায়ুগুলো সচল রাখার মাধ্যমে শারীরিক আরোগ্য লাভ করার চর্চা হাজার হাজার বছর পুরোনো।

জানা যায়, মোজা পরে তার মধ্যে পেঁয়াজ রাখলে শরীরের খারাপ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়। পায়ে ৭০০০ স্নায়ু আছে। যা পুরো শরীরের সঙ্গে যুক্ত। তাই মোজার মধ্যে একটি পেঁয়াজ রেখে দিলেই শারীরিক নানা সমস্যার সমাধান মিলবে।

jagonews24

মোজা পরে তাতে পেঁয়াজ রেখে দিন, এটি পুরো শরীরকে পরিষ্কার করবে। শরীরের নানান ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু শোষণ করবে এই পেঁয়াজ। এ প্রক্রিয়ায় পেঁয়াজের সাহায্যে রক্তও পরিষ্কার করা সম্ভব হবে।

jagonews24

গরেবষণায় দেখা গেছে, রাতে ঘুমানোর সময় মোজায় পেঁয়াজ ঢুকিয়ে ঘুমালে সর্দির হাত থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। পেঁয়াজে উপস্থিত নানা উপাদান সর্দি থেকে স্বস্তি দেয়।

jagonews24

পেঁয়াজ গন্ধ শুষে নিতে এবং বায়ুর গুণমান বৃদ্ধিতে সহায়ক। তবে কীটনাশক ও কেমিকেলের দিয়ে উৎপন্ন পেঁয়াজের পরিবর্তে অর্গ্যানিক পেঁয়াজ ব্যবহার করা উচিত।

jagonews24

এজন্য বায়োলজিক্যাল ও আনস্প্রেইড পেঁয়াজ ব্যবহার করা উচিত। তা না-করলে পেঁয়াজে থাকা রাসায়নিক উপাদানসমূহ পায়ের মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করে যাবে। ফলে হীতে বিপরীত হতে পারে।

jagonews24

গবেষকদের মতে, শরীরের ইমিউন সিস্টেমটি উন্নত করতে পেঁয়াজ অনেক কার্যকরী। এজন্য প্রতিদিদের খাদ্যতালিকায় পেঁয়াজ রাখা জরুরি। পেঁয়াজের ফ্ল্যাভোনয়েড ক্যান্সার এবং প্রদাহজনিত রোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।

এ ছাড়াও পেঁয়াজে থাকে ভিটামিন সি। যা ইমিউন ফাংশন উন্নত করে। ২০১০ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, পেঁয়াজ এবং রসুনে পাওয়া অর্গানসালফার যৌগগুলো নিয়মিত সেবনও হৃদরোগ সংক্রান্ত রোগের বিকাশকে প্রতিরোধ করতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

বাদাম-বিলাস

সিজ়লিং ওয়ালনাট ব্রাউনি

উপকরণ: আখরোট কুচি ১ কাপ, চিনি দেড় কাপ, কোকো পাউডার ৩/৪ কাপ, ময়দা আধ কাপ, ডিম ২টি, আনসল্টেড মাখন ১০ টেবিল চামচ, নুন অল্প, বেকিং পাউডার ১ চা চামচ, ভ্যানিলা এসেন্স ১ চা চামচ, এসপ্রেসো পাউডার ১ চা চামচ। চকলেট সসের জন্য: চকলেট চিপস ১ কাপ, জল আধ কাপ, চিনি আধ চা চামচ।

প্রণালী: একটি পাত্রে মাখন গলিয়ে নিন। নীচের দিকটা হালকা বাদামি রং হয়ে এলে আঁচ থেকে নামিয়ে তা থেকে ২ টেবিল চামচ মাখন তুলে রাখুন। কোকো পাউডার মিশিয়ে নাড়াতে থাকুন। মিশে গেলে চিনি দিন। এর পর এসপ্রেসো পাউডার, জল, ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে মেশাতে হবে। একে একে দু’টি ডিম (চিলড) মেশান। এ বার ময়দা, নুন ও বেকিং পাউডার মিশিয়ে ছেঁকে নিন, যাতে দানা না থাকে। রোস্টেড আখরোট তুলে রাখা ব্রাউন বাটারের সঙ্গে মেশান।AdvertisementAdvertisement

কেক তৈরির প্যান মাখন দিয়ে গ্রিজ় করে ব্রাউনির ব্যাটার ঢেলে উপর থেকে আখরোট ছড়িয়ে দিন। প্রি-হিটেড আভেনে ১৬২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ২৫ মিনিট বেক করুন। ব্রাউনি তৈরি। চকলেট সস তৈরি করতে ডাবল বয়লারে চকলেট চিপস গলিয়ে তার মধ্যে ১ চা চামচ মাখন ও অল্প নুন দিয়ে মেশান। উপর থেকে জল ও অল্প চিনি দিয়ে মেশাতে থাকুন, সসের ঘনত্ব আসা পর্যন্ত। সিজ়লার হিসেবে পরিবেশন করতে উচ্চ তাপমাত্রায় স্কিলেট গরম করে তার উপরে ব্রাউনি কেটে রাখুন। চকলেট সস ছড়িয়ে দিন। ভ্যানিলা আইসক্রিম দিয়ে পরিবেশন করুন।সিজ়লিং ওয়ালনাট ব্রাউনি

সিজ়লিং ওয়ালনাট ব্রাউনি


আমন্ড কেক

উপকরণ: ডিম ৪টি, চিনি আধ কাপ, ভ্যানিলা এসেন্স ১ চা চামচ, আমন্ড ফ্লাওয়ার দেড় কাপ, নুন স্বাদ মতো, কোকোনাট ফ্লাওয়ার ১ টেবিল চামচ, বেকিং সোডা ১ চা চামচ, মাখন আধ টেবিল চামচ, গুঁড়ো করা চিনি ১ চা চামচ, বেরি আধ কাপ।

প্রণালী: মাখন দিয়ে প্যান গ্রিজ় করে চিনির গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। অন্য পাত্রে ময়দা, নুন ও বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। ডিমের সাদা ও কুসুম আলাদা করুন। ডিমের কুসুম, ভ্যানিলা ও এক চতুর্থাংশ চিনি ভাল করে মেশান। অন্য পাত্রে ডিমের সাদা অংশ বাকি চিনি দিয়ে ফেটিয়ে নিন। ময়দার মিশ্রণ ডিমের কুসুমের মিশ্রণে ঢেলে মণ্ড তৈরি করুন। এর মধ্যে আধ কাপ মাখন মেশান। ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে তার মধ্যে মাখন দিন। মিশ্রণ স্মুদ হয়ে এলে বেকিং প্যানে ঢেলে দিন। ১৭৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় আধ ঘণ্টা বেক করুন। বেরি দিয়ে সাজিয়ে নিন।

বাকলাভা

উপকরণ: ফাইলো ডো ৪৫৪ গ্রাম, দারচিনি গুঁড়ো ১ চা চামচ, জয়িত্রী গুঁড়ো আধ চা চামচ, গোলাপজল আধ চা চামচ, আমন্ড ও পেস্তা কুচি ৪৫৪ গ্রাম, জল ৪ টেবিল চামচ, আনসল্টেড বাটার ১২ টেবিল চামচ। মিষ্টি সিরাপ তৈরি করার জন্য: পাতিলেবুর রস ২ টেবিল চামচ, মধু ৪-৬ টেবিল চামচ, এলাচ ৪-৫টি, লবঙ্গ ৪টি, মৌরি আধ কাপ, দারচিনি আধ ইঞ্চি, গোলমরিচ ৪টি, শুকনো গোলাপের পাপড়ি আধ চা চামচ, তেজপাতা ১টি, অরেঞ্জ জ়েস্ট ২-৩ চা চামচ, চিনি ৩/৪ কাপ, জল ৩/৪ কাপ।প্রণালী: মাঝারি আঁচে চিনি, জল, মধু, মশলা একসঙ্গে মেশাতে হবে। চিনি গুলে যাওয়া পর্যন্ত ফোটান। মাঝারি আঁচে ৫ মিনিট রান্না করে পাতিলেবুর রস দিন। বাদাম কুচি করে রাখুন। জয়িত্রী ও দারচিনি গুঁড়ো মেশান। ফাইলো শিট চৌকো আকারে কেটে ভেজা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে রাখুন। বেকিং প্যানে ও ফাইলো শিটেও মাখন লাগান। একটা শিটের উপরে বাদামের একটা স্তর তৈরি করুন। এর উপরে মিষ্টি সিরাপ ছড়িয়ে দিন। পাঁচটি ফাইলো শিট রাখুন। আবার বাদামের স্তর তৈরি করুন। এ ভাবে পুরো বাকলাভার স্তর তৈরি হলে সিরাপ ছড়িয়ে বরফির মতো কেটে নিন। প্রি-হিটেড আভেনে ১৭৬ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ৩৫-৪০ মিনিট বেক করুন। সোনালি রং ধরলে বার করে ঠান্ডা হতে দিন। বাদাম ছড়িয়ে সার্ভ করুন।
বাকলাভা

বাকলাভা


পেস্তা-বেরি কেক
উপকরণ: ডিম ৫টি, চিনি ৬০ গ্রাম, ভেজিটেবল অয়েল ৮০ গ্রাম, দুধ ১ কাপ, ভ্যানিলা এসেন্স ১ চা চামচ, ময়দা ১ কাপ, পেস্তা কুচি আধ কাপ, মাচা পাউডার আধ চা চামচ। ফ্রস্টিংয়ের জন্য: ক্রিম চিজ় ৮০ গ্রাম, ভ্যানিলা এসেন্স ১/৪ চা চামচ, পেস্তা কুচি ২-৩ টেবিল চামচ, শুকনো গোলাপের পাপড়ি ১ চা চামচ, অ্যাপ্রিকট ও রাস্পবেরি পরিমাণ মতো, গোলাপজল ১ চা চামচ, চিনি গুঁড়ো ১/৪ কাপ, হুইপড ক্রিম ১ কাপ, ব্ল্যাকবেরি দেড় কাপ।প্রণালী: পেস্তা ভাল করে গুঁড়িয়ে নিন। ডিমের সাদা ও কুসুম ভাগ করে রাখুন। কুসুম ও চিনি ভাল করে ফেটিয়ে তেল, দুধ ও ভ্যানিলা এসেন্স মেশান। ময়দা, নুন ও পেস্তা দিয়ে সার্কুলার মোশনে মেশাতে থাকুন। অল্প অল্প করে চিনি দিন। খেয়াল রাখবেন মিশ্রণের মধ্যে যেন বুদ্বুদ তৈরি না হয়। প্যান গ্রিজ় করে প্রিহিটেড আভেনে ১৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় আধ ঘণ্টা বেক করুন। তাপমাত্রা কমিয়ে ১৪০ করে আরও আধ ঘণ্টা বেক করতে হবে। এ বার ঠান্ডা পাত্রে ক্রিম চিজ়, চিনির গুঁড়ো ও হুইপিং ক্রিম মেশান। কেকের চারপাশে লাগিয়ে ফ্রিজে রাখুন। কেকের উপরে ফ্রস্টিংয়ের দ্বিতীয় স্তর ছড়িয়ে দিন। রাস্পবেরি পেস্টের সঙ্গে ফ্রস্টিং মিশিয়ে কেকের উপরে ছড়িয়ে দিন। উপরে ব্ল্যাকবেরি, পেস্তা কুচি, গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সাজান।
পেস্তা-বেরি কেক

পেস্তা-বেরি কেক


আমন্ড চিকেন কারি
উপকরণ: মুরগির মাংস ৫০০ গ্রাম, বেরেস্তা ৩ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, কাজু ৭-৮টি, গ্রিক ইয়োগার্ট ৩/৪ কাপ, এলাচ ৪-৫টি, লবঙ্গ ৪টি, দারচিনি ১টি, গোলমরিচ ৮-৯টি, স্টার অ্যানিস ১টি, তেজপাতা ২টি, আমন্ড মিল্ক ১৮০ মিলিলিটার, চিকেন স্টক ৫-৬ টেবিল চামচ, গরম মশলা গুঁড়ো ৩/৪ চা চামচ, জায়ফল-জয়িত্রী গুঁড়ো আধ চা চামচ, ধনে গুঁড়ো ২ টেবিল চামচ, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো ২ চা চামচ, হলুদ আধ চা চামচ, জিরে গুঁড়ো আধ চা চামচ, গোলাপ জল আধ চা চামচ, কেওড়া জল ১ চা চামচ, রসুন বাটা ২ চা চামচ, আদাকুচি ১ চা চামচ, হোয়াইট ভিনিগার ১ টেবিল চামচ, জল ৪ কাপ, নুন ও চিনি স্বাদ মতো।

প্রণালী: ভিনিগার ও নুন, চিনির মিশ্রণে চিকেন ডুবিয়ে ফ্রিজে রাখুন। শুকনো মশলা রোস্ট করে নিন। একটি পাত্রে বেরেস্তা, দই, রোস্টেড মশলা, কাজু বাটা মিশিয়ে তার মধ্যে মাংস দিয়ে পারলে সারা রাত ম্যারিনেট করুন। প্যানে মাখন ও অলিভ অয়েল গরম করে ম্যারিনেড দিয়ে দিন।
মাংস তুলে রাখুন। তিন-চার মিনিট রান্না করে আদা ও রসুন দিন। ২-৩ মিনিট পরে মাংসের টুকরো, নুন ও গরম মশলা দিয়ে ঢাকা দিন। ১০ মিনিট পরে খুলে আমন্ড মিল্ক
দিয়ে আবার ঢাকা দিন। মাংস
সিদ্ধ হলে জায়ফল-জয়িত্রী গুঁড়ো ছড়িয়ে আরও ১০ মিনিট কম আঁচে রান্না করে নামিয়ে নিন। নানের সঙ্গে ভাল লাগবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

সুস্বাদু সুজি

মোদক

উপকরণ: সুজি ১/২ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, দুধ ১ কাপ, জাফরান অল্প কয়েকটি, কনডেন্সড মিল্ক ১/২ কাপ, আমন্ড ১০টি, পেস্তা ১০-১৫টি, এলাচ গুঁড়ো ১ চা চামচ, পাউডার সুগার ১ টেবিল চামচ।

প্রণালী: একটি কড়াইয়ে ১ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে তাতে ১/২ কাপ সুজি দিয়ে দিন। সুজিটা হালকা লাল করে ভেজে নিন এ বার। সুজির মধ্যে দুধ দিয়ে ভাল করে নাড়তে থাকুন। একটা ছোট বাটিতে এক চিমটি জাফরান ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং সুজি রান্নার সময়ে দিয়ে দিতে হবে। এতে সুজিতে সুন্দর জাফরানি রং ধরবে। এ বার কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে দিন। ভাল করে কড়াইয়ে নাড়তে থাকুন, যতক্ষণ না সুজির মণ্ড ঘন হয়ে আসছে আর সুজি যতক্ষণ না কড়াই থেকে ছেড়ে যাচ্ছে। এ বার একটা প্লেটে সুজির মণ্ড ঠান্ডা হতে দিন। পুর তৈরি করার জন্য আর একটা কড়াইয়ে ১ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে তার মধ্যে আমন্ড কুচি, পেস্তা কুচি ভাল করে রোস্ট করে নিতে হবে। এর মধ্যে এলাচ গুঁড়ো ও পাউডার সুগার দিয়ে দিন। ৩০ সেকেন্ড মতো রোস্ট করে নিতে হবে। এর মধ্যে অল্প সুজি দিয়ে পাক দিন। একটা বাঁধুনি আসবে। পুর তৈরি। সুজি থেকে অল্প ডো নিয়ে হাতের সাহায্যে ভিতরে পুর ভরে মোদক তৈরি করুন বা মোল্ডের সাহায্যেও করতে পারেন।

সুজি বিস্কিট

উপকরণ: সুজি ১ কাপ, ডিম ১টি, চিনি ১/৪ কাপ, নুন স্বাদ মতো, গুঁড়ো দুধ ১ টেবিল চামচ, সাদা তেল ভাজার জন্য, সাজানোর জন্য: কাজু, আমন্ড, চেরি।

প্রণালী: একটা বাটির মধ্যে ডিম, নুন, চিনি ভাল করে ফেটিয়ে নিতে হবে, যতক্ষণ না মিশ্রণটি ফুলে উঠছে। এর মধ্যে ১ কাপ সুজি দিয়ে দিতে হবে। তার মধ্যে ২ টেবিল চামচ গুঁড়ো দুধ দিয়ে দিন। এ বার মিশ্রণটিকে হাত দিয়ে ভাল করে মাখতে হবে। মাখা হয়ে গেলে ঢাকা দিয়ে রেখে দিন। মিনিট দশেক পরে হাতে ভাল করে তেল মাখিয়ে বিস্কিটের আকার দিয়ে নিন। এ বার কাজু, চেরি, আমন্ড দিয়ে সাজিয়ে তেলে হালকা বাদামি রং আসা পর্যন্ত ভেজে নিতে হবে। এয়ারটাইট কনটেনারে রাখলে এই বিস্কিট অনেক দিন পর্যন্ত ভাল থাকে।

সুজির কেক

উপকরণ: সুজি দেড় কাপ, দুধ ১ কাপ, ময়দা ১/২ কাপ, বেকিং পাউডার ১ চা চামচ, খাবার সোডা ১/২ চা চামচ, নুন স্বাদ মতো, সাদা তেল ১/২ কাপ, চিনি ১ কাপ।

প্রণালী: প্রথমে একটা বাটির মধ্যে ১ কাপ দুধ দিয়ে দিন। তার মধ্যে সুজি দিয়ে চামচের সাহায্যে ভাল করে মিশিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। বাটিতে ১/২ কাপ তেল ও ১ কাপ চিনি চামচের সাহায্যে ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। মেশানো হয়ে গেলে ১০ মিনিট রেখে দিতে হবে যাতে চিনি ও তেল ভাল করে মিশে যায়। এ বার দুধ, সুজি, ময়দা, বেকিং পাউডার, খাবার সোডা, চিনি ও তেল সব ভাল করে মিশিয়ে নিন। একটা কেক তৈরি করার পাত্র নিয়ে তার মধ্যে ঘি লাগিয়ে নিতে হবে ভাল করে। কেকের পাত্রের নীচে গোল করে বাটার পেপার বিছিয়ে দিন, যাতে কেকটা লেগে না যায়। এ বার মিশ্রণটি ঢেলে দিন। একটা কড়াইয়ে নুন দিয়ে তার উপরে স্ট্যান্ড বসিয়ে ১০ মিনিট প্রি-হিট করে নিতে হবে। ১০ মিনিট পরে কেকের পাত্র বসিয়ে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ৪০ মিনিট পরে একটা টুথপিক দিয়ে ফুটিয়ে দেখুন কেকটা তৈরি হয়েছে কি না! যদি টুথপিকে কেকের অংশ লেগে না থাকে, তা হলে বুঝতে হবে কেকটা হয়ে গিয়েছে। পুরো ঠান্ডা হলে কেক কেটে পরিবেশন করুন।

সুজি বিস্কিট, সুজির কেক এবং চিজ় বল (বাঁ-দিক থেকে)।

চিজ় বল

উপকরণ: সুজি ১ কাপ, চিজ় ৩-৪ কিউব, আলু সিদ্ধ (বড় আকারের) ১টি, ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, গোলমরিচ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, জল ২ কাপ, নুন স্বাদ মতো, চিলি ফ্লেক্স ১ চা চামচ, সাদা তেল ভাজার জন্য, গার্নিশ করার জন্য: মেয়োনিজ়, অরিগ্যানো, চিলি ফ্লেকস।

প্রণালী: প্রথমে একটা কড়াইয়ে দু’কাপ জল দিয়ে আঁচে বসান। এর মধ্যে পরিমাণ মতো নুন, চিলি ফ্লেক্স, গোলমরিচ গুঁড়ো ও চিনি মিশিয়ে জল ফুটতে দিন। জল ফুটে উঠলে সুজি দিয়ে দিতে হবে এবং সুজিটাকে রান্না করে নিতে হবে। এর পর সুজি ফুটে মাখামাখা হয়ে আসবে। সুজি একটু জমাট বেঁধে গেলে তার মধ্যে আলু সিদ্ধ এবং ধনেপাতা কুচি দিয়ে ভাল করে মেখে নিতে হবে। চিজ় পাতলা করে এবং ছোট টুকরো করে আলাদা কেটে রাখুন। হাতে তেল মাখিয়ে সুজির বল তৈরি করে তার ভিতরে চিজ় পুর হিসেবে ভরে দিতে হবে। এই ভাবে সুজির চিজ় বল তৈরি করা হয়ে গেলে কড়াইয়ে সাদা তেল গরম করে বলগুলো বাদামি করে ভেজে নিন। শেষে মেয়োনিজ়ে অল্প অরিগ্যানো ও চিলিফ্লেকস মিশিয়ে তার সঙ্গে পরিবেশন করুন।

ডোনাট

উপকরণ: সুজি দেড় কাপ, টক দই ১/২ কাপ, বেকিং সোডা ১/৪ চা চামচ, নুন একচিমটি, সাদা তেল ভাজার জন্য ১ কাপ, চিনি ৫ টেবিল চামচ।

প্রণালী: একটি মিক্সিং বোলে সুজি নিয়ে টক দই দিয়ে দিতে হবে। টক দইয়ের বদলে ইস্টও দেওয়া যেতে পারে। সুজি মাখার সময়ে চিনি, নুন ও সামান্য জল দিয়ে ভাল করে মেখে নিতে হবে এবং ২০ মিনিট রেখে দিতে হবে। ২০ মিনিট পরে হাতে একটু তেল মাখিয়ে ডোনাটের আকার দিতে হবে। ডোনাট কাটারের সাহায্যেও ডোনাট তৈরি করা যায়। এ বার কড়াইয়ে সাদা তেল গরম করে ডোনাটগুলো খয়েরি করে ভেজে নিন। মিষ্টি সুজির ডোনাটের উপরে ডার্ক চকলেট ও হোয়াইট চকলেটের কোট দিয়ে রঙিন স্প্রিঙ্কলার ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। একই কায়দা সুজির ঝাল ডোনাট বা সম্বর বড়াও তৈরি করা যায়। তার জন্য একটা পাত্রে টক দই, পেঁয়াজ কুচি, আদা-রসুন বাটা, লঙ্কা কুচি, কারি পাতা ও পরিমাণ মতো নুন দিয়ে সুজি মেখে মিনিট কুড়ি রেখে দিন। মিশ্রণটা খািনকক্ষণ বাদে ফুলে উঠবে। তখন হাতে চাপে ডোনাটের শেপ দিয়ে সাদা তেলে ভেজে নিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com