আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

কৃষকের পরিত্রাণের জন্য প্রয়োজন স্থায়ী কৃষি মূল্য কমিশন

কৃষকের পরিত্রাণের জন্য প্রয়োজন স্থায়ী কৃষি মূল্য কমিশন
কৃষকের পরিত্রাণের জন্য প্রয়োজন স্থায়ী কৃষি মূল্য কমিশন

করোনাকালে কৃষি খাতের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তার ওপর কিছু ধারণা পাওয়া গেছে ব্র্যাকের একটি সমীক্ষা থেকে। সম্প্রতি প্রকাশিত ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে জানা যায়, করোনাকালের দেড় মাসে কৃষি খাতের ক্ষতি হয়েছে ৫৬ হাজার কোটি টাকা। তাতে দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। উল্লিখিত সময়ে শস্য খাতের ক্ষতি হয়েছে ১৫ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। মৎস্য খাতের ৩৮ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা, পোলট্রি খাতের এক হাজার ৭৬৯ কোটি এবং প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষতি হয়েছে ৫৮৫ কোটি টাকা। এই দেড় মাসে প্রতিটি কৃষক পরিবার গড়ে প্রায় ৩৪ হাজার টাকা গচ্চা দিয়েছে। এ পরিমাণ ক্ষতির হিসাব উঠে এসেছে মার্চের শেষ সপ্তাহ  থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। এরপরও প্রায় এক মাস এ ক্ষতি অব্যাহত ছিল। ফলে ক্ষতির মোট পরিমাণ আরও বেশি হবে বলে ধারণা করা যায়। এ ক্ষেত্রে করোনার সঙ্গে আম্পান ও সাম্প্রতিক বন্যার অভিঘাতও বিবেচনায় থাকা উচিত।

করোনা, আম্পান ও বন্যার অভিঘাতে এবার দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষক। তাদের নগদ অর্থপ্রাপ্তি হ্রাস পেয়েছে। তাতে তারা সামর্থ্য ও উৎসাহ হারিয়েছেন পরবর্তী উৎপাদনের জন্য। এ সমস্যা সমাধানের সহজ উপায় হচ্ছে নগদ সহায়তা প্রদান। কিন্তু এর রেওয়াজ আমাদের দেশে খুবই কম।

দেশের অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে, ব্যক্তি উদ্যোক্তা আছে; যারা প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করে থাকে। প্রদত্ত সাহায্যের মধ্যে থাকে চাল, ডাল, শুকনো খাবার, পানি ইত্যাদি। নগদ সহায়তার কথা অনেকেরই বিবেচনায় থাকে না। ফলে গরিব ও অসহায় মানুষকে চড়া সুদে মহাজনের ঋণ নেওয়া এবং জমি কিংবা ভিটেমাটি বন্ধক দেওয়া ছাড়া কোনো গত্যন্তর থাকে না। এরা যাতে এরূপ ঋণের জালে জড়িয়ে না পড়ে এবং দ্রুত পুনর্বাসন কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে, তার জন্য নগদ সহায়তা খুবই প্রয়োজন। এ নাগাদ কৃষকদের জন্য আলাদাভাবে কোনো নগদ সহায়তার ঘোষণা দেওয়া না হলেও উদার কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এবার প্রণোদনা হিসেবে কৃষককে ঋণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। ছোট ও প্রান্তিক কৃষকের জন্য ক্ষুদ্রঋণ দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে তিন হাজার কোটি টাকা। তা ছাড়া নিয়মিত কৃষিঋণের আওতায় আছে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। এর পরও কৃষকদের অর্থায়নের সমস্যা আছে, থাকবে। কারণ, কৃষকদের জন্য কৃষিঋণের শিকে ছিঁড়ে না। এ ঋণ কেউ পায়, কেউ পায় না। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের জন্য বড় উপকার হতে পারে নগদ সহায়তা। এর পরিমাণ যদি প্রতি কৃষক দুই হাজার টাকা হয়, তাতে মোট টাকা লাগে প্রায় তিন হাজার ৩০০ কোটি। যদি চার হাজার টাকা হয়, তাহলে ছয় হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রয়োজন পড়ে। এ টাকার পরিমাণ আমাদের মোট বাজেটের তুলনায় খুবই সামান্য। মাত্র ১ দশমিক ১৬ শতাংশ।

একজন কৃষকের কোনো উৎপাদন মৌসুমে সার্বিক ক্ষতির কথা বিবেচনা করে তার কিয়দাংশ নগদ সহায়তা হিসেবে কৃষকদের দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। এ ধরনের কোনো ঘোষণার পক্ষে যথেষ্ট যৌক্তিকতা আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে। মহামারি ও দুর্যোগকালে কৃষি ভর্তুকি কৃষি উৎপাদনের জন্য খুবই সহায়ক। এবারের বাজেটে এ খাতে রাখা হয়েছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ টাকা খরচ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা সন্তোষজনক নয়। গত সাত বছরের কোনো বছরই কৃষি ভর্তুকির টাকা পুরোটা ব্যবহার করা হয়নি। কোনো বছর তিন হাজার, কোনো বছর দুই হাজার, আবার কোনো বছর এক হাজার কোটি টাকা কম খরচ হয়েছে কৃষি ভর্তুকি। উদাহরণস্বরূপ, সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত মোট ৯ হাজার কোটি টাকা কৃষি ভর্তুকির মধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে খরচ করা হয়েছে সাত হাজার কোটি, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছয় হাজার কোটি এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে আট হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। এটা দেশের কৃষকদের বড় ক্ষতি। এর প্রতিকার দরকার। এর জন্য বছরের শুরুতেই কৃষি ভর্তুকি পুরোটা ব্যবহারের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।

করোনা ও বন্যায় মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের জন্য কর্মসংস্থান করতে হবে গ্রামীণ এলাকায়। এ লক্ষ্যে বেশি করে ‘রুরাল ওয়ার্কস প্রোগ্রাম’ চালু করতে হবে। বন্যায় ভেসে যাওয়া রাস্তাঘাট, বাঁধ পুনর্নির্মাণ করতে হবে। পুকুর, খাল-বিল ও নদী পুনর্খনন করতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে এদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। তা ছাড়া ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসার ঘটাতে হবে গ্রামীণ এলাকায়। ছোট ব্যবসা, দোকানদারি, গ্রামীণ যানবাহন পরিচালনা এবং কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবসায়িক ব্যবহার উৎসাহিত করতে হবে। গ্রামীণ যন্ত্রপাতি মেরামত ও পরিচালনায় প্রশিক্ষণ দিতে হবে বেকার যুবকদের। তাতে গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।

বন্যা-উত্তর কৃষি পুনর্বাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুর্গত এলাকায় বীজ-সার অতিদ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। উপকরণ ভর্তুকি বাড়াতে হবে। দেশের অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় বীজতলা তৈরি করে দুর্গত এলাকায় তা পাঠাতে হবে। মূল জমি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের সংস্থান করতে হবে। শীতকালীন সবজি চাষ ও আগামী বোরো চাষের জন্য এখনই উৎপাদন পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে বিভিন্ন কৃষি অঞ্চলের জন্য। সম্প্রতি অনুমোদিত তিন হাজার ১৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারের কৃষি যন্ত্রায়ন প্রকল্পের অধীনে ভর্তুকি মূল্যে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয়ের সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। যাতে যিনি কৃষক, তিনি প্রয়োজনবোধে যন্ত্র কিনে নিতে পারেন এবং যিনি ব্যবসায়িক ভিত্তিতে কৃষিযন্ত্র পরিচালনা করবেন, তিনিও যন্ত্র কিনে নিতে পারেন। তাতে কৃষিযন্ত্রের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে গ্রামীণ অঞ্চলে। জমি চাষ কিংবা ফসল কাটার জন্য যন্ত্রের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতে হবে না কৃষককে।

করোনাকালীন লোকসান পুষিয়ে দেওয়ার আরেকটি পন্থা হলো কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। এর জন্য সরকার গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যের সমর্থন মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। ভারতে বর্তমানে ২৩টি কৃষিপণ্যের সমর্থন মূল্য নির্ধারণ করা হয়। বাজারদর যাতে নির্ধারিত মূল্যের নিচে নেমে না যায়, সে জন্য কৃষকদের কাছ থেকে উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ক্রয় করে নেয় সরকার। এ ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচের ওপর শতকরা ৫০ শতাংশ মুনাফা হিসাব করে কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণের দৃষ্টান্ত আছে। ভারতে মোট উৎপাদিত পণ্যের শতকরা ১৫ শতাংশ ক্রয় করা হয় এরূপ পূর্বনির্ধারিত মূল্যে। বাংলাদেশে বিভিন্ন কৃষিপণ্যের নূ্যনতম সমর্থন মূল্য নির্ধারণের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে প্রচলন আছে ধান-চাল ও গমের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণের। এটা সাধারণত উৎপাদন খরচের ওপর ৬ থেকে ১০ শতাংশ মুনাফা দেখিয়ে নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে প্রতিনিয়তই কৃষক বঞ্চিত হন। এ বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়, প্রতিবাদ হয়; কিন্তু এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। বর্তমান কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এ বিষয়ে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল আছেন। তিনি একজন অভিজ্ঞ কৃষিবিদ। তারও বোধকরি অনেক চিন্তাভাবনা আছে কৃষিপণ্যের ন্যায়সংগত মূল্য নিশ্চিত করার জন্য। এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার হলো একটি ইতিবাচক কৃষি মূল্যনীতি প্রণয়ন করা। এ লক্ষ্যে গঠন করা দরকার একটি স্থায়ী কৃষি মূল্য কমিশন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে এটি আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় কৃষি মূল্য কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও কার্যাবলি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। বাংলাদেশে এরূপ একটি মূল্য কমিশন গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। আমাদের জাতীয় কৃষিনীতিতেও একটি মূল্য কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে; কিন্তু তার বাস্তবায়ন হয়নি। এ বিষয়ে এখন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

করোনা থেকে বাঁচতে ৬ ফুট দূরত্ব যথেষ্ট নয়

করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির আশেপাশে থাকা অন্যান্যরা বাতাসের মাধ্যমেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনাভাইরাস।

মার্কিন বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, কয়েক ঘন্টা ধরে বাতাসে ভেসে থাকতে পারে এই ভাইরাস। সোমবার সিডিসির সর্বশেষ নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে যে, কম বায়ু চলাচল করতে পারে এমন ঘরে কোনও করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির উপস্থিতি ৬ ফুট দূরের অন্য ব্যক্তিদেরকেও সংক্রমিত করতে পারে। তাই এক্ষেত্রে ৬ ফুট দূরত্বে থেকেও করোনা থেকে বাঁচা সম্ভব নয়।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ঘনিষ্ঠ পরিসরে বায়ুর মাধ্যমেই মূলত করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাদের দাবি, ভাইরাসের অতি সূক্ষ কণা কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বাতাসে ভেসে থাকতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে অনেক দেশেই লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। যদিও লোকজনকে মাস্ক পরিধান এবং ৬ ফুট সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে বলা হয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ এই সতর্কতা মানুষের মধ্যে নতুন করে আরও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

বিশেষ করে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, স্কুল, শপিংমল খোলার যে তোড়জোড় চলছে তা কতটা নিরাপদ হবে তা নিয়েও শঙ্কা কাটছে না। সিডিসি সোমবার তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য হালনাগাদ করেছে।

সেখানে বাতাসের মাধ্যমে করোনা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় ৬ ফুট সামাজিক দূরত্বের কথা মেনে চলতে বলা হলেও সিডিসি বলছে এই দূরত্বেও সমস্যা থেকে যাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। করোনায় মৃত্যুতেও যুক্তরাষ্ট্রের ধারেকাছে নেই কোনো দেশ। সম্প্রতি দেশটির ৩৪টি অঙ্গরাজ্যে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরই নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে সিডিসি।

গত এক মাসের তুলনায় গত এক সপ্তাহে করোনা সংক্রমণ অনেক বেড়ে গেছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প ছাড়াও হোয়াইট হাউসের ডজন খানেক কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্কুল চালু হয়ে গেছে। এদিকে, ফ্লোরিডায় রেস্টুরেন্ট এবং অন্যান্য ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

গাছের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল বিশাল অজগর

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গাছ থেকে ১১ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার গালা ইউনিয়নের বিনুটিয়া বাঁধের পাশের বাড়ির গাছ থেকে অজগরটি উদ্ধার করা হয়। পরে অজগরটি দ্য বার্ড সেফটি হাউজ নামে একটি সংগঠনের সদস্যরা তাদের হেফাজতে নিয়েছেন।

এলাকাবাসী জানায়, গাছের সঙ্গে বিশাল অজগর সাপ জড়িয়ে থাকতে দেখে তারা শাহজাদপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদিকে ফোন করে বিষয়টি জানান। এসআই মেহেদি দ্য বার্ড সেফটি হাউজের চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাসকে জানালে তিনি এসে সাপটি উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে দ্য বার্ড সেফটি হাউজের চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়েই আমি ও ইমন অজগর সাপটি উদ্ধার করার জন্য রওনা হই। রাজশাহী বিভাগীয় বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির ও বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিকের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত তথ্য জানাই। পরে দুপুরের দিকে আমরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সাপটিকে গাছ থেকে উদ্ধার করি। পরে সিরাজগঞ্জের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হৃষীকেস চন্দ্র রায়ের কাছে অজগর সাপটি হস্তান্তর করা হয়।

হৃষীকেস চন্দ্র রায় জানান, সিরাজগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ইর্কো পার্কে অজগর সাপটি ছেড়ে দেয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পুকুর থেকে উদ্ধার হলো অজগর সাপ

বাগেরহাটের শরণখোলায় পুকুর থেকে একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। আট ফুট লম্বা অজগরটির ওজন ৯ কেজি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার উওর রাজাপুর গ্রামের ভোলার-পার এলাকার ইদ্রিস হাওলাদারের বাড়ির পুকুর থেকে সিপিপি টিম লিডার লুৎফর হাওলাদারের নেতৃত্বে সাপটি উদ্ধার করা হয়।

পরে অজগরটি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর ফরেস্ট স্টেশনের পাশে বনের মধ্যে অবমুক্ত করা হয়।

এ সময় সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন, চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এনামুল হকসহ বনরক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন।

ধানসাগর ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সিপিপির সদস্যরা অজগরটিকে উদ্ধার করে আমাদের খবর দেয়। পরে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সাপটি বনের মধ্যে অবমুক্ত করেছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

সাইপ্রাসে বিশ্বসংস্কৃতির শান্তির নীড়

ভূমধ্যসাগরের দ্বীপ সাইপ্রাসে এক শিল্পী অভিনব প্রকল্প গড়ে তুলেছেন। আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা প্রাকৃতিক উপকরণের দৌলতে সেই জগত ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে। নির্মাণ শৈলির প্রেরণাও সেই প্রকৃতিই।

সাইপ্রাস দ্বীপে গাছপালার মাঝে যেন রঙিন এক মরুদ্যান। সঙ্গে শিল্পের সমারোহ। জায়গাটিকে যে আসলে জঞ্জালের স্তূপ হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল, তা বোঝা কঠিন। তার বদলে শিল্পী ও ইন্টিরিয়র ডিজাইনার হিসেবে আন্টস মিরিয়ান্টুস পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ দিয়ে সেখানে অভিনব এক স্থাপত্য সৃষ্টি করেছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রথমে শুধু সৃষ্টির তাড়না ও নিজের মনোরঞ্জনের জন্য এটা করেছিলাম। তারপর মানুষের চাহিদা মেনে সবার জন্য খুলে দিলাম।’

কারণ আচমকা কৌতূহলী মানুষের ভিড় বাড়তে লাগলো। এমনকি অনেকে প্রাচীর টপকে ব্যক্তিগত এই স্বপ্নের জগত দেখার চেষ্টা করছিল। তাই এখন আগে থেকে অনুরোধ করলে ‘ইউফোরিয়া আর্ট ল্যান্ড’ প্রকল্প ঘুরে দেখা সম্ভব। গোটা বিশ্ব ঘুরে আন্টস সেই কাজের প্রেরণা পেয়েছেন।

সেই উদ্যোগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ কীভাবে নিজেদের বাসায় থাকে, তাদের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি নিয়ে আমার আগ্রহ ছিল। যখনই কোথাও গেছি সঙ্গে নানা স্যুভেনির নিয়ে গেছি। এত কিছু সংগ্রহ করি বলে সব মনে নেই। জানতাম না একদিন সেগুলি ব্যবহার করব। হ্যাঁ, আমি প্রায় সবকিছুই ব্যবহার করেছি।’

এখন পর্যন্ত তিনি তিনটি ভিন্ন ভবনের সমষ্টির খসড়া তৈরি করেছেন। প্রত্যেকটির নিজস্ব চরিত্র রয়েছে। কিন্তু দেখলে মনে হবে স্পেনের বিশ্ববিখ্যাত স্থপতি আন্টোনি গাউডির স্থাপত্যের স্থানীয় সংস্করণ।

আন্টস মিরিয়ান্টুস বলেন, ‘আমি তার দর্শন অনুসরণ করি। মানে আরও অরগ্যানিক আকার আনতে চাই। অর্থাৎ প্রকৃতির মাঝে অস্তিত্ব রয়েছে, এমন কিছু। সেখানে কখনো সরল রেখা বা নিখুঁত গোল আকার দেখা যায় না।’

২০১২ সালে আন্টস নির্মাণের কিছু উপকরণ উপহার হিসেবে পান। সে সময়ে রাষ্ট্র হিসেবে সাইপ্রাসের দেউলিয়া হবার উপক্রম দেখা দিয়েছিল। ফলে অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

সেরামিক টাইলসের মতো উপকরণ ফেলে দেবার বদলে কিছু কোম্পানি আন্টসকে সেগুলি উপহার হিসেবে দিয়ে দেয়। প্রকল্পের শুরুতে অনেক স্বেচ্ছাসেবীও সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিলেন।

‘ইউফোরিয়া আর্ট ল্যান্ড’-এ এলে গোটা বিশ্বের নানা প্রান্তের চিহ্ন চোখে পড়বে।

আন্টস জানালেন, ‘আফ্রিকা, বিশেষ করে ইথিওপিয়া থেকে প্রেরণা পেয়েছি, কারণ সেখানকার মানুষ পাথর, ঝিনুকসহ প্রকৃতির নানা সূত্র থেকে রং কাজে লাগায়। যেমন এটা ইউক্যালিপটাস গাছের কাঠ। গাছটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। আমরা আশপাশের পরিবেশ কাজে লাগিয়ে থিমের সঙ্গে মানানসই উপকরণ ব্যবহারের চেষ্টা করি।

তিনি জানান, এটা আমার দাদির ছিল। সেখানে একই রকম কিছু দেখে এটাকে ম্যাচিং মনে হলো। গোটা মেঝেই প্রাকৃতিক পাথরের টুকরো ও আফ্রিকার সব মোটিফ দিয়ে তৈরি।’

সূর্য ডুবে গেলে ইউফোরিয়া আর্ট ল্যান্ডে ভিন্ন ধরনের এক জাদুময় পরিবেশ নেমে আসে।

আন্টস বলেন, ‘এই প্রকল্পের মধ্যে এই মুহূর্তে মাত্র তিনটি ছোট বাড়ি রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে আমরা বিভিন্ন সংস্কৃতির আরও বাড়ি তৈরি করতে চাই।’ ডয়েচে ভেলে

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ৫.২৫ মিনিটে দৌড়ালেন ১.৬ কিলোমিটার

তিনি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। প্রেগন্যান্সির এই সময় নারীরা উদ্বিগ্ন থাকেন তাদের সন্তান ডেলিভারি নিয়ে। এই সময় নারীদের থাকতে হয় সম্পূর্ণ বিশ্রামে।

অথচ অ্যাথলিট মাকেন্না মিলার এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। বিশ্রামে থাকা তো দূরের কথা, দেড় কিলোমিটারের বেশি দৌড়িয়েছেন তিনি। তা-ও আবার ৫ মিনিট ২৫ সেকেন্ডে!

মাত্র ৫ মিনিট ২৫ সেকেন্ড ১.৬ কিলোমিটার দৌড়ে নেট দুনিয়ায় তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের উতাহ অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা অ্যাথলিট মাকেন্না মিলার।

সাধারণত একজন স্বাস্থ্যবান মানুষের যদি নিয়মিত দৌড়ানোর অভ্যাস থাকে, তাহলে তিনি ওই রাস্তা দৌড়াতে পারবেন ৯-১০ মিনিটে। কিন্তু ভারী শরীর নিয়ে মাকেন্না মিলার তা পার করেছেন তার অর্ধেক সময়ে

সংবাদমাধ্যমকে মিলার বলেছেন, আমারও কোনো ধারণা ছিল না যে, এই অবস্থায় ওই সময়ের মধ্যে এতটা দৌড়াতে পারব।

গত কয়েক মাস ধরে এজন্য প্রস্ততি নিয়েছিলেন মিলার। প্রেগন্যান্সি ও করোনার কারণে ট্রেনিং যেন বন্ধ না থাকে সেজন্য আগে থেকেই চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়েছিলেন।

অ্যাথলিট মিলার বলেন, প্রেগন্যান্সির কারণে ট্রেনিংয়ের ধরনই বদলে গিয়েছিল। সপ্তাহে তিনবার কড়া ওয়ার্কআউট করতাম।

গর্ভাবস্থায় ট্রেনিং অব্যাহত রাখলেও সন্তানদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করেছেন ২৮ বছর বয়সী এই দৌড়বিদ। তিনি জানান, ট্রেনিংয়ের কারণে সন্তানের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য চিকিৎসকদের নজরদারিতেই ছিলাম। তাদের অনুমতি মেলার পরই দৌড়ে নামি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রোহিঙ্গা সংকট: রাতের আঁধারে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কারা?

রোহিঙ্গা সংকট: রাতের আঁধারে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কারা?

উত্তর কোরিয়া নতুন ‘বিশাল আকৃতির‘ ক্ষেপণাস্ত্রের কতটা জানা যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া নতুন ‘বিশাল আকৃতির‘ ক্ষেপণাস্ত্রের কতটা জানা যাচ্ছে

উত্তর কোরিয়া নতুন ‘বিশাল আকৃতির‘ ক্ষেপণাস্ত্রের কতটা জানা যাচ্ছে

নাগোর্নো-কারাবাখ যুদ্ধ: আজারবাইজানের সাথে যুদ্ধে আর্মেনিয়ার 'ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি' হয়েছে, বলছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী

নাগোর্নো-কারাবাখ যুদ্ধ: আজারবাইজানের সাথে যুদ্ধে আর্মেনিয়ার ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে, বলছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী

নাগোর্নো-কারাবাখ: নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক মিনিটের মাথায় ভঙ্গ, পরস্পরকে দোষারোপ করছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া

নাগোর্নো-কারাবাখ: নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক মিনিটের মাথায় ভঙ্গ, পরস্পরকে দোষারোপ করছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া

মা হওয়ার পরে যে কাজগুলো করবেন

মা হওয়ার পরে যে কাজগুলো করবেন

শিশু কথা শোনে না? জেনে নিন করণীয়

শিশু কথা শোনে না? জেনে নিন করণীয়

সরিষার তেলের ৫টি অবিশ্বাস্য উপকারিতা

সরিষার তেলের ৫টি অবিশ্বাস্য উপকারিতা

খাওয়ার পরে টক দই খেলে কী হয়

খাওয়ার পরে টক দই খেলে কী হয়

শেভিং ক্রিমের কিছু অজানা ব্যবহার

শেভিং ক্রিমের কিছু অজানা ব্যবহার

মিষ্টি কুমড়ার খোসা ভর্তার সহজ রেসিপি

মিষ্টি কুমড়ার খোসা ভর্তার সহজ রেসিপি

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com