আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

অস্ত্র ব্যবসা: ব্রিটেন সৌদি আরবের কাছে কী পরিমাণ অস্ত্র বিক্রি করে? কেন এই ব্যবসা নিয়ে বিতর্ক?

ব্রিটেনের যুক্তি ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নয়
ব্রিটেনের যুক্তি ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নয়

ইয়েমেনে লড়াই চলছে পাঁচ বছর ধরে। এই যুদ্ধে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু বেড়ে চলার পটভূমিতে সৌদি আরবে অস্ত্র রপ্তানিতে ব্রিটেনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে।

কেন সৌদিদের অস্ত্র জোগাতে এত আগ্রহী ব্রিটেন?

এ নিয়েই সাতটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর।

এই তিনটি দেশের যোগাযোগের সূত্রগুলো কোথায়?

তেল সমৃদ্ধ সৌদি আরব বিশ্বে অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশ। আরব দুনিয়ার সবচেয়ে দরিদ্র দেশ প্রতিবেশী ইয়েমেনে বিদ্রোহীদের দমনে বিমান হামলায় নেতৃত্ব দিচ্ছে সৌদি আরব।

গত বছর এক রিপোর্টে ব্রিটেন নিজেকে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ অস্ত্র বিক্রেতা বলে বর্ণনা করেছে। ব্রিটেন যত অস্ত্র রপ্তানি করে, তার ৪০ শতাংশই বিক্রি করে শুধু একটি দেশের কাছে – সেটি হল সৌদি আরব।

ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদিদের পাশে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০১৯ সালে প্রকাশিত ব্রিটিশ সরকারের প্রতিবেদন অনুযায়ী তারাও ব্রিটেনের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার তালিকায় উপরের দিকেই রয়েছে।

অস্ত্র ব্যবসার হিসাবে ব্রিটেনের তুলনায় এগিয়ে আছে একমাত্র আমেরিকা।

ইয়েমেনের অবস্থান কী?

ব্রিটেনের এই কোটি কোটি পাউন্ড মুনাফার অস্ত্র ব্যবসা ইয়েমেনে সাধারণ মানুষের জীবন কীভাবে বিপন্ন করে তুলেছে এবং কী ধরনের ভয়ানক প্রভাব ফেলছে, ব্রিটেনের বিরোধী রাজনীতিক ও অস্ত্র ব্যবসার বিরোধীরা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

জাতিসংঘ বলছে, ইয়েমেনে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ একটা মানবিক সঙ্কট তৈরি হচ্ছে।

জাতিসংঘ ইয়েমেনের পরিস্থিতিকে বিশ্বের ভয়াবহতম মানবিক সঙ্কট বলে ব্যাখ্যা করেছে
জাতিসংঘ ইয়েমেনের পরিস্থিতিকে বিশ্বের ভয়াবহতম মানবিক সঙ্কট বলে ব্যাখ্যা করেছে

জাতিসংঘ তাদের রিপোর্টে যাচাই করা তথ্য তুলে ধরে বলছে, ২০২০-র মার্চ পর্যন্ত ইয়েমেনে মূলত সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষ মারা গেছে অন্তত ৭,৭০০ জন।

অন্যান্য পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী অবশ্য বলছে যে সেখানে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক একটি সংস্থা এসিএলইডি-র (আমর্ড কনফ্লিক্ট লোকেশান অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট) নথিভুক্ত করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা এক লাখ, যার মধ্যে সরাসরি হামলায় নিহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা ১২ হাজার।

ইয়েমেনের জনসংখ্যা দুই কোটি ৪০ লাখ। এর মধ্যে ৮০ শতাংশের মানবিক সহায়তা এবং সুরক্ষার প্রয়োজন।

আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী দেশটিতে বিশ লাখ শিশু গুরুতর অপুষ্টির শিকার, যাদের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার শিশুর বয়স পাঁচের নিচে।

ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য কী?

গত গ্রীষ্মে মানবাধিকার আন্দোলনকারীরা ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের একটা বিজয় পেয়েছিল। তারা বিষয়টি আদালতে নিয়ে যায়, এবং আদালতের নির্দেশে ব্রিটিশ সরকার সৌদি আরবে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়।

আদালত সরকারের এই অস্ত্র বিক্রির নীতি ইয়েমেনে আন্তর্জাতিক আইনের “গুরুতর লঙ্ঘন” কি-না, তা বিবেচনা করে দেখার নির্দেশ দেয়।

ব্রিটেন সৌদি আরবকে অস্ত্র বিক্রি করার পাশাপাশি দেশটিকে সামরিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণও দেয়
ব্রিটেন সৌদি আরবকে অস্ত্র বিক্রি করার পাশাপাশি দেশটিকে সামরিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণও দেয়

প্রায় এক বছর পর সরকার তার মূল্যায়ন শেষে ঘোষণা করে যে তারা অস্ত্র বিক্রি আবার শুরু করবে।

“সৌদি আরবের অভিপ্রায় সঠিক এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার ক্ষমতা দেশটি রাখে,” জানান ব্রিটেনের বাণিজ্য বিষয়কমন্ত্রী লিজ ট্রাস। তিনি সরকারি বক্তব্য তুলে ধরে বলেন যে সেখানে আইন লঙ্ঘনের “বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা” ঘটেছে মাত্র।

এমপিদের কাছে এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি জানান, “যেসব ঘটনা আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘন বলে সরকারকে বিবেচনা করে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, তা ঘটেছে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এবং বিভিন্ন কারণে।”

সমালোচনা কেন?

ব্রিটেনের লেবার পার্টির এমিলি থর্নবেরি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ে বিরোধী দলের মুখপাত্র। তিনি মনে করেন যে সরকার তার এই সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে “নৈতিক যুক্তি” দিতে পারবে না, এবং তিনি বলেছেন এর মাধ্যমে ব্রিটেনের “মানবাধিকারের পক্ষের ভাবমূর্তি” ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

গত বছর ব্রিটিশ সরকারকে আদালতে নিয়ে গিয়েছিল যে অস্ত্র ব্যবসা-বিরোধী সংগঠন, সেই ‘দ্যা ক্যাম্পেইন এগেনস্ট আমর্স ট্রেড বা ক্যাট’ বলছে এটি “নৈতিকভাবে দেউলিয়া” একটা সিদ্ধান্ত।

ধারণা করা হয়, ইয়েমেনে বিশ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে
ধারণা করা হয়, ইয়েমেনে বিশ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে

মধ্যপ্রাচ্যে বিমান হামলায় হতাহাতের বিষয়টি নজরদারি করে এমন একটি ব্রিটিশ-ভিত্তিক সংস্থা ‘এয়ারওয়ারস্’ বলছে, সৌদি আরবকে অস্ত্র সরবরাহ করার জন্য ব্রিটিশ সরকারের সবুজ সঙ্কেত দেওয়ার প্রক্রিয়া সন্দেহজনক এবং অনির্ভরযোগ্য।

এই সংগঠনটির দাবি, মিত্র দেশ সৌদিদের কথা যদি ছেড়েও দেয়া হয়, তারপরেও ব্রিটেন নিজেই যে সংখ্যায় বিমান ইয়েমেনে হামলা চালিয়েছে, তার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

“ব্রিটেন তদন্তের ক্ষেত্রে যেসব মাপকাঠি নির্ধারণ করেছে, তাতে বেসামরিক মানুষের ক্ষতির বিষয়টা স্বীকার করে নেয়ার পথ অসম্ভব করে দেয়া হয়েছে,” বলছে এয়ারওয়ারস্।

সংগঠনটি তাদের যুক্তির সমর্থনে ইসলামিক স্টেট-এর বিরুদ্ধে ব্রিটেনের পাঁচ বছর ব্যাপী লড়াইকে দৃষ্টান্ত হিসাবে তুলে ধরেছে।

ব্রিটিশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসাবে সিরিয়া ও ইরাকে ব্রিটেন “আইসিস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ৪,৪০০ অস্ত্র” দিয়েছে।

কিন্তু ব্রিটেনের হিসাব বলে, এর মধ্যে ব্রিটিশ বিমান বাহিনী রয়াল এয়ার ফোর্সের হামলায় মারা গেছে মাত্র একজন বেসামরিক মানুষ।

এয়ারওয়ারস্-এর হিসাবে নিহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা ছিল ৮,০০০ থেকে ১৩,০০০ এবং বেসামরিক মৃত্যু নথিভুক্ত করার ব্রিটিশ পদ্ধতি তাদের মতে “অবাস্তব, অযৌক্তিক”।

কী পরিমাণ অর্থ জড়িত?

ক্যাট বলছে, ২০১৫ সালে ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রিটেন লাইসেন্স-এর অধীনে সৌদি আরবে ৫৩০ কোটি পাউন্ড অর্থমূল্যের অস্ত্র বিক্রি করেছে।

সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটেনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র
সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটেনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র

সংগঠনটি বলছে, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবের মিত্র অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে আরও একশো’ কোটি পাউন্ডের অস্ত্র বিক্রির লাইসেন্স ব্রিটেন পেয়েছে।

তবে ক্যাটের হিসাবে এর বাইরে আরও রয়েছে লাইসেন্স মুক্ত অস্ত্রের বিক্রি – এবং সামরিক সরঞ্জামের দেখভাল, কারিগরি ও সরবরাহ বাবদ অস্ত্র বিক্রি সংক্রান্ত আরও নানা চুক্তি থেকে অর্জিত মুনাফা।

তাদের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্য দেশগুলোর কাছে ব্রিটেনের বিক্রি করা অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের মূল্য “অন্তত ১৬ বিলিয়ন পাউন্ড” (দু’হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বেশি)।

যেসব অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ব্রিটেন বিক্রি করেছে, তার মধ্যে রয়েছে টাইফুন এবং টর্নেডো জঙ্গী বিমান, এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের বোমা।

সামরিক সরঞ্জাম ছাড়াও ব্রিটেন সৌদি জোট বাহিনীকে সামরিক পরামর্শ দিয়েছে, যার মধ্যে আছে লক্ষ্যবস্তুর ওপর বোমাবর্ষণ এবং কৌশল সংক্রান্ত পরামর্শ, এবং সৌদি সেনাদের ব্রিটেনে প্রশিক্ষণ দান।

বিষয়টা কি শুধুই ব্রিটেনের অস্ত্র বিক্রি?

সৌদি আরব ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত যে পরিমাণ অস্ত্র আমদানি করেছে তার মধ্যে ৭৩ শতাংশ অস্ত্র্র এসেছে আমেরিকা থেকে – জানাচ্ছে স্টকহোম ইন্টারন্যাশানাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্রিটেন – তারা বিক্রি করেছে সৌদিতে মোট আমদানি করা অস্ত্রের ১৩ শতাংশ এবং তৃতীয় স্থানে থাকা ফ্রান্স বিক্রি করেছে ৪.৩ শতাংশ।

সেই হিসাবে দেখলে, আমেরিকার তুলনায় ব্রিটিশ অস্ত্র চুক্তির পরিমাণ অনেকই কম।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট যে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়ছে, তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নেয়নি
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট যে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়ছে, তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নেয়নি

সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন একজন গবেষক পিয়েটার ডি ওয়েজম্যান বলছেন, আমেরিকা গত পাঁচ বছরে যত অস্ত্র বিক্রি করেছে, তার অর্ধেক বিক্রি করা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিক্রি করা অস্ত্রের অর্ধেকই কিনেছে সৌদি আরব।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরব ও তার শরীক সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বর্ণনা করেছেন “এলাকায় ইরান এবং তার দোসরদের দুষ্কর্মের বিরুদ্ধে একটা সুরক্ষা দেয়াল” হিসাবে।

ইরান ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের সমর্থন জোগাচ্ছে বলে ধারণা করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে লড়ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী। তবে হুতিদের সমর্থন জোগানোর অভিযোগ তেহরান অস্বীকার করে।

ভবিষ্যতে কী হতে পারে?

ব্রিটেনের সংবাদপত্র ফাইনানশিয়াল টাইমস-এ ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব এক নিবন্ধে লিখেছেন যে ব্রিটেন ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং মানবিক ত্রাণ ব্যবস্থায় অংশ নিচ্ছে।

ইয়েমেনে দেশ জুড়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, দেশটিতে জাতিসংঘের কর্মকাণ্ডে সাহায্য করার জন্য ব্রিটেন, জার্মানি এবং সুইডেন যৌথভাবে অতিরিক্ত ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ইয়েমেনে এ যাবত কালের মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক কলেরার প্রাদুর্ভাব ছাড়াও, দেশটি কোভিড-১৯এর প্রকোপ মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। দেশটির চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থার মাত্র অর্ধেক এ পর্যন্ত কাজ করছে।

জাতিসংঘ আশংকা করছে ইয়েমেনে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচ বছরের যুদ্ধে দেশটিতে যে প্রাণহানি হয়েছে তাকে ব্যাপকমাত্রায় ছাড়িয়ে যাবে
জাতিসংঘ আশংকা করছে ইয়েমেনে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচ বছরের যুদ্ধে দেশটিতে যে প্রাণহানি হয়েছে তাকে ব্যাপকমাত্রায় ছাড়িয়ে যাবে

এপ্রিল মাসে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সৌদি আরব একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে।

কিন্তু হুতিরা এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখান করে। তারা দাবি করে রাজধানী সানা এবং বন্দরনগরী হুদাইদা থেকে আকাশপথে ও সমুদ্রপথে দেয়া সব রকম অবরোধ তুলে নিতে হবে।

ফলে অচলাবস্থার নিরসন এখনও হয়নি। জাতিসংঘ হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে যুদ্ধে এ পর্যন্ত দেশটিতে যে ধ্বংসলীলা হয়েছে, তাকে হয়তো বহু গুণে ছাপিয়ে যাবে আগামীতে ধ্বংসের যে চিত্র আশংকা করা হচ্ছে, তা।

জাতিসংঘ বলেছে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ইয়েমেনে মৃত্যুর সংখ্যা হয়ত “গত পাঁচ বছরে দেশটিতে যুদ্ধ, রোগব্যাধি ও অনাহারে মৃত্যুর মোট সংখ্যাকে অনেকাংশে ছাড়িয়ে যাবে”।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

কতোটা জনপ্রিয় হল কুরবানির পশুর অনলাইন হাট?

কতোটা জনপ্রিয় হল কুরবানির পশুর অনলাইন হাট?

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নেচার পার্কে ছেড়ে দেয়া হলো সেই অজগরটি

খাবারের খোঁজে লোকালয়ে এসে আটকা পড়া বিপন্ন অজগরটি অবশেষে মুক্তি পেয়েছে। রোববার বিকেলে অজগরটি টেকনাফের মোচনী নেচার পার্কে অবমুক্ত করা হয়েছে।

কক্সবাজার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আলী কবীরের নির্দশনায় টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন এটিকে অবমুক্ত বরেন। এর আগে শনিবার রাতে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং-বালুখানি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে প্রায় ১২ ফুট (৩ দশমিক ৬ মিটার) লম্বা অজগরটি ধরা পড়ে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বড় কুতুপালং-বালুখানি ক্যাম্পের এক রোহিঙ্গা লোকালয়ে আসা অজগরটি আটক করে। খবর পেয়ে অজগরটি উদ্ধারে সহায়তা করে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি)। এরপর ‘ইআরটি ইউএনএইচসিআর’র সহযোগী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দি কনজারভেশন অব নেচারকে (আইইউসিএন) খবর দিলে ইআরটির স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় অজগরটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বন বিভাগের হাতে হস্তান্তর করা হয়।

টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, ১০ মিটার পর্যন্ত বড় হতে সক্ষম এ প্রজাতির অজগরই বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকৃতির সাপ যেটা পরিবেশগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নির্দয়ভাবে পাহাড়ের পর পাহাড় ধ্বংসের ফলে উখিয়া-টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় থাকা এসব বন্যপ্রাণী নিজের বাসস্থান হারাচ্ছে। খাবারের খোঁজে সাপটি হয়তো লোকালয়ে এসেছিল।

তিনি বলেন, সাপটির গায়ে একদম শক্তি নেই। মনে হয় খাবার পায়নি অনেক দিন। প্রায় ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের সাপ হিসেবে এর ওজন ৩০ কেজি পার হওয়ার কথা থাকলেও এটির ওজন মাত্র ১৮-২০ কেজি। সাপটি বন বিভাগের আওতায় আসার পর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আলী কবীরের নির্দেশনা অনুযায়ী মোচনী নেচার পার্কে অবমুক্ত করা হয়।

তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় দিতে গিয়ে অমানবিক ভাবে অনেক গভীর বনও উজাড় হয়ে গেছে। ফলে আবাসস্থল হারিয়ে হাতিরপাল প্রায় সময় লোকালয়ে হানা দেয়। এখন বৃষ্টি শুরু হওয়ায় হাতির পালের দৌরাত্ম আবার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ব্লু ওয়াইল্ড বিস্টের ঘরে নতুন ৩ অতিথি

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রথমবারের মতো তিনটি ব্লু ওয়াইল্ড বিস্ট শাবকের জন্ম হয়েছে। এ নিয়ে পার্কে এই পরিবারের অতিথির সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩টিতে। ইতিপূর্বে ৪টি পুরুষ ও ৬টি মাদি ব্লু ওয়াইল্ড বিস্ট ছিল পার্কে।

পার্কের ওয়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার মো. সরোয়ার হোসেন খান জানান, গতকাল রোববার জন্মের পর থেকে মা ও বাচ্চারা সুস্থ রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পার্কে পূর্ণবয়স্ক ১১টি ব্লু ওয়াইল্ড বিস্ট আনা হয়। তাদের মধ্যে একটি বিস্ট রোগে ভুগে মারা যায়। এ প্রাণিগুলো আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দেশগুলোতে প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণ করতে দেখা যায়। এরা তৃণভূমিতে একসঙ্গে পালে চলাফেরা করে।

প্রতি বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে (বর্ষা মৌসুমের শেষদিকে) তারা প্রজনন করে এবং সাড়ে ৮ মাস পর তারা বাচ্চা প্রসব করে। প্রতিটি বাচ্চার ওজন হয় সাধারণত ১৯ কেজির মতো।

প্রথমে বাচ্চাদের গায়ের রঙ ধূসর (টনি ব্রাউন) এবং পূর্ণবয়স্ক হলে তার বর্ণ হয় নীলাভ ধূসর। প্রতিবার এরা সাধারণত একটি করে বাচ্চা প্রসব করে থাকে। আট মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত এরা মায়ের সঙ্গে থাকে ও দুধ পান করে। এক সপ্তাহ পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘাস খেতে চেষ্টা করে। পরে তারা স্বাধীনভাবে বিচরণ করে থাকে। এরা ছোট ঘাস খেতে বেশি পছন্দ করে। পুরুষ বাচ্চারা দুই বছর এবং মাদি বাচ্চারা ১৬ মাসে প্রজননক্ষম হয়। প্রকৃতিক পরিবেশে ব্লু বিস্ট ২০ বছর এবং আবদ্ধ পরিবেশে ২৪ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।

তিনি আরও বলেন, প্রসবের কয়েক মিনিট পর বাচ্চা ওঠে দাঁড়ায় এবং দৌড়াতে শুরু করে। বাচ্চারা এখন আফ্রিকান সাফারিতে মায়েদের সঙ্গে সঙ্গে খেলা করে বেড়াচ্ছে, দৌড়াচ্ছে। বাচ্চা তিনটি মাদি না পুরুষ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। মানুষ দেখলে তারা নিরাপদ দূরত্বে সরে যাচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কাউকে তাদের কাছে যেতেও দেয়া হচ্ছে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ভারতের গুটি স্বর্ণার দাপট

ধানবীজ
ধানবীজ

গুটি স্বর্ণা জাতের ধান বীজের উদ্ভাবন ভারতে। বাংলাদেশে এই জাতের বীজ আমদানি নিষিদ্ধ। চোরাই পথে আসা এমন বীজ দেদার ব্যবহার করছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ছয়টি জেলার কৃষকেরা। অথচ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) গুটি স্বর্ণার বিকল্প হিসেবে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ব্রি-৭৫, ৫৯ ও বিনা-৭ জাত উদ্ভাবন করেছে। কিন্তু এসব ধান চাষে কৃষকের আগ্রহ কম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৩২৭ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। চাষিরা এ বছর উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয় জাতসহ ৯০টি জাতের ধান রোপণ করেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৮২ হেক্টর জমিতে গুটি স্বর্ণা জাতের ধানের আবাদ হয়েছে।

কৃষকেরা বলছেন, গুটি স্বর্ণা নিচু জমিতে, কাদায় বেশি দিন টিকতে পারে। মূলত এ কারণেই তাঁরা এমন জাতের ধানে আগ্রহী হচ্ছেন। কিন্তু গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা বলে, জমিতে তাঁদের ফলন কম হচ্ছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গুটি স্বর্ণা ধানের বিপরীতে উফশী জাতের ব্রি-৭৫, ৫৯ ও বিনা-৭ জাত উদ্ভাবন করেছে। কিন্তু এসব ধানবীজ গুটি স্বর্ণার জায়গা নিতে পারেনি এখনো।

মাহিদিয়া গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, ‘১২ বিঘায় স্বর্ণা ও ৪ বিঘায় রণজিত জাতের ধান চাষ করেছি। ১২ বছর ধরে আমি এই দুই জাতের ধানের চাষ করছি। বীজ আমি নিজেই তৈরি করি। একই বীজ থেকে অন্তত ১২ বার বীজ তৈরি করা হয়েছে। বিঘায় ১৫ থেকে ১৬ মণের বেশি ধান পাওয়া যায় না। এই গ্রামের আমন আবাদের মাঠে ৮০ ভাগই স্বর্ণা ধান রয়েছে। আমার জমি একটু নিচু। পানি জমে থাকে। এ জন্য ব্রি উদ্ভাবিত ধান লাগানো হয় না।’

সদরের তফসিডাঙ্গা গ্রামের কৃষক হ‌ুমায়ূন কবীর বলেন, ‘এক হেক্টর জমিতে এ বছর আমন ধানের চাষ করেছি। নিচু জমিতে স্বর্ণা ও উঁচু জমিতে ব্রি-৭৫ ধান লাগানো হয়েছে। স্বর্ণা ধান বিঘায় এখন ১৬ থেকে ১৭ মণের বেশি ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। দুই বছর আগে চোরাই পথে ভারত থেকে ১০ কেজি স্বর্ণা ধানের “ভিত্তি বীজ” এনে রোপণ করেছিলাম। তখন বিঘায় ২৭-২৮ মণ করে ধান পেয়েছি। পরে তা থেকে আবার বীজ তৈরি করে চাষাবাদ করেছি। তবে ধানের আবাদ কমেছে।’ তিনি বলেন, তিনি নিজে ধানের বীজ তৈরি করে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করেন। এখন যে স্বর্ণা বীজ রোপণ করেন, তা ভিত্তি বীজ থেকে ১২ থেকে ১৫ বার তৈরি করা হয়েছে। যে কারণে এ বীজে ফলন এখন অনেক কম হয়। রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও কমে গেছে। যে কারণে উৎপাদন কম হচ্ছে।

কয়েকজন কৃষক বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি চীন থেকে হাইব্রিড জাতের ধানের বীজ আমদানি করে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করছে। এ বছরও কয়েকটি জাতের ধানবীজ চীন থেকে আমদানি করে রোপণ করা হয়েছে। ভারত থেকে স্বর্ণা ধানের বীজ আমদানি মানা। তবে চোরাই পথে এসব নিয়মিতই আসে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, এক বীজ থেকে বারবার বীজ করলে ফলন কমে যান। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। গুটি স্বর্ণা বীজের বেলায়ও একই ফল হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক সুধেন্দু শেখর মালাকার বলেন, মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, দক্ষিণ-পশ্চিমের ছয় জেলায় এখনো গুটি স্বর্ণা জাতের আবাদ সবচেয়ে বেশি। বারবার চাষের কারণে ফলন কমছে। কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে চেষ্টা চলছে। কয়েক বছরের মধ্যে ব্রি উদ্ভাবিত গুটি স্বর্ণার বিকল্প জাতের ধানে কৃষকেরা আগ্রহী হবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আমন মৌসুমে যশোর ও আশপাশের জেলায় ৯০টি জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি উদ্ভাবিত ৩৬টি, চীন থেকে আমদানি করা ২২টি, উফশী ১২টি ও স্থানীয় (অপ্রচলিত) ২০টি জাতের ধান রোপণ করা হয়েছে।

ব্রি উদ্ভাবিত ধানবীজ ভারতীয় স্বর্ণা ধানের জায়গা নিতে পারছে না কেন—এ প্রশ্নের উত্তরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মোহম্মদ আলী বলেন, কৃষকের মধ্যে সম্প্রসারণ হতে আরও দু-এক বছর লাগবে। চীন থেকে হাইব্রিড ধানবীজ আমদানি করা হলেও ভারত থেকে স্বর্ণা ধানের বীজ আমদানি করা হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের নীতি হচ্ছে, মুক্ত পরাগায়ন (ওপি) জাতের ধানবীজ আমদানি করা যাবে না। স্বর্ণা হচ্ছে মুক্ত পরাগায়ন জাতের ধান, যে কারণে এ ধানের বীজ আমদানি নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

৯৫ শতাংশ কৃষকই কোনো সাহায্য পায়নি : ব্র্যাক

৯৫ শতাংশ কৃষকই কোনো সাহায্য পায়নি : ব্র্যাক
৯৫ শতাংশ কৃষকই কোনো সাহায্য পায়নি : ব্র্যাক

মহামারি করোনায় লকডাউনের দেড় মাসে আয় কমায় ৫৬ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি হয়েছে কৃষকের। এ সময়ে ৯৫ শতাংশ কৃষকই সরকারি অথবা বেসরকারিভাবে কোনো ধরনের সহায়তা পাননি।

সরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাজার ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের সমস্যা হয়েছে এবং কৃষকের অবস্থা কী তা জানার জন্য দুটি পৃথক গবেষণা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে ব্র্যাক।

প্রতিবেদন তৈরির জন্য লকডাউনের শুরু থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৬৪ জেলার ১৫৮১ কৃষকের সঙ্গে কথা বলেছেন ব্র্যাকের প্রতিনিধিরা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ব্র্যাক আয়োজিত ‘ইমপ্যাক্ট অব কোভিড-১৯ প্যান্ডেমিক অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড ইমপ্লিকেশন্স ফর ফুড সিকিউরিটি’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় এ প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।

ব্র্যাকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক কে এ এম মোরশেদের সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এমএ সাত্তার মণ্ডল, প্রাণ গ্রুপ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইলিয়াস মৃধা, এসিআই এগ্রো বিজনেসের সিইও এফ এইচ আনসারি, ব্র্যাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড এন্টারপ্রাইজেসের পরিচালক মোহাম্মদ আনসুর রহমান প্রমুখ।

বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ১১ কৃষকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বাজারের অবস্থা বোঝার জন্য হোলসেলার, রিটেইলারদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। দামের বিষয় নেয়া হয়েছে কৃষি বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে।

প্রতিবেদন তুলে ধরে গবেষক নাহারিন সারওয়ার বলেন, প্রতি তিনজন কৃষকের একজন বলেছেন আয় কমেছে। পোল্ট্রি খামারিদের তিনজনের দুজনই জানিয়েছেন আয় কমেছে। অর্থের পরিমাণে সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে মাছ চাষিদের। কৃষি ও খামারিদের গড়ে আয় কমেছে দুই লাখ সাত হাজার ৯৭৬ টাকা। দেশের সব কৃষক ও খামারকে বিবেচনায় আনলে পুরো দেশে দেড় মাসে কৃষকের আয় কমেছে ৫৬ হাজার ৫৩৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

‘ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে ৪২ শতাংশ কৃষক জানিয়েছেন তারা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি। ২২ শতাংশ সঞ্চয় ও সম্পদ থেকে খরচ করেছেন এবং তাদের উৎপাদন চালিয়ে গেছেন। ১১ শতাংশ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। বিক্রি করতে না পারায় ২ ভাগ সম্পূর্ণ বন্ধ কর দিয়েছেন।’

৯৫ শতাংশ কৃষকই কোনো সাহায্য পায়নি : ব্র্যাক
৯৫ শতাংশ কৃষকই কোনো সাহায্য পায়নি : ব্র্যাক

নাহারিন সারওয়ার বলেন, ৯৫ শতাংশ কৃষক এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সাহায্য-সহযোগিতার আওতায় আসেনি। সরকারি-বেসরকারি কোনো পর্যায় থেকে তারা সাহায্য পাননি। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

‘৮২ শতাংশ কৃষক মনে করেন এ সমস্যা খুব দ্রুত সমাধান হবে না। সমস্যা দীর্ঘ হলে পরবর্তী বছরের উৎপাদনের জন্য ৪১ ভাগ কৃষক ঋণ নেবেন। ১৮ শতাংশ কৃষক সঞ্চয় ও সম্পদ ভেঙে জীবন ধারণ করবেন। ১৮ শতাংশ জানেন না তারা কী করবেন। ১৪ শতাংশ কৃষকের অন্য ব্যবসা বা আয়ের পথ রয়েছে।’

করোনার শুরুর দিকে রিটেইলারা ভালো বিক্রি করতে পারলেও কৃষকদের কাছে সুফল যায়নি বলে জানিয়েছে ব্র্যাক। ৮৮ শতাংশ কৃষক জানিয়েছেন এ সময়ে তারা বিক্রি, বিপণনে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। মাছ চাষিদের ১০০ ভাগই জানিয়েছেন তারা কোনো না কোনো সমস্যায় পড়েছেন।

তিনি বলেন, যখন সাধারণ ছুটি শুরু হলো, তখন হঠাৎ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চাল, ডাল, তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যায়। এ সময় সেল প্রায় ৩০০ ভাগ পর্যন্ত বাড়ে।

‘কিন্তু এপ্রিলের শেষ দিকে মানুষের কাছে অতিরিক্ত মজুত হয়ে যায়, তখন বাজারটা আবার পড়তে শুরু করে। মোটা চাল, ডাল এবং তেলের দাম ও চাহিদা দুই-ই নিচের দিকে চলে আসে। এ সময় হোলসেলার ও রিটেইলারদের লসে পণ্য ছেড়ে দিতে হয়েছে। কারণ বাড়তি সময় তারা স্টক ধরে রাখতে পারছিলেন না। এ সময় বাজারে বিক্রি মোটামুটি শূন্যের কোঠায় চলে আসে।’

এ গবেষক বলেন, এপ্রিলের শুরু থেকে মে’র শুরু পর্যান্ত মুরগি, দুধের চাহিদা প্রায় ছিল না। যে কারণ এসব পণ্যের দাম বেশ কমে যায়। আমরা দেখেছি খুচরা পর্যায়ে পোল্ট্রির দাম ১০-১২ শতাংশ পর্যান্ত কমেছে। এ কারণে অনেক খামারি নতুন করে উৎপাদনে অনাগ্রহী হয়েছেন। ফলে উৎপাদন অনেকাংশ কমেছে।

‘১৭ ভাগ পোল্ট্রি খামারি দাম না পাওয়ায় উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন এবং ২ শতাংশ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন।’

পণ্যের উৎপাদন কম হওয়ায় মে’র শুরু থেকে বাজারে প্রভাব পড়া শুরু করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে মে’র শুরুতে পোল্ট্রির দাম ২৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

নাহারিন সারওয়ার বলেন, কৃষকরা এ সময় দ্বিমুখী চাপের সম্মুখীন হয়েছেন। একদিকে তাদের কাছে থাকা পণ্যের দাম কমেছে। পোল্ট্রির দাম কমেছে প্রায় ৪৪ শতাংশ, দুধের দাম কমেছে ২২ শতাংশ। সবজির ৩৮-৯০ শতাংশ দাম কমেছে। অন্যদিকে বীজ, সার এবং পোল্ট্রির খাদ্যের দাম বেড়েছে। লোকাল ভুসির দাম বেড়েছে ১৯ শতাংশ, খোলের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ এবং পোল্ট্রির ওষুধের দাম বেড়েছে ৫-৭ শতাংশ।

৯৫ শতাংশ কৃষকই কোনো সাহায্য পায়নি : ব্র্যাক
৯৫ শতাংশ কৃষকই কোনো সাহায্য পায়নি : ব্র্যাক

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৬ শতাংশ কৃষক জানিয়েছেন তাদের কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, বাজার বন্ধ থাকায় আড়তদার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি। ৫২ শতাংশ কৃষক জানিয়েছেন পণ্য বিক্রির জন্য মার্কেটে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে তারা যতটুকু দাম পেয়েছেন, সেই দামে পণ্য ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

সমস্যা সমাধানে ৬৮ শতাংশ কৃষক সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা চেয়েছেন। ৫৬ শতাংশ তাদের পণ্যের যে মূল্য কমেছে, সেই মূল্য ফেরত চান। ৪৮ শতাংশ ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক এবং ফিড পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সরকারের প্রণোদনা সঠিক মানুষের হাত পর্যন্ত পৌঁছানো কতোটুকু সম্ভব? সে বিষয়ে ব্র্যাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৪ শতাংশ কৃষক জানেন সরকার তাদের জন্য প্রণোদনা দিয়েছেন। কিন্তু এ ৬৪ শতাংশের ৭৯ শতাংশই জানেন না প্যাকেজ কীভাবে গ্রহণ করতে হবে। তাদের মধ্যে কেউ মনে করেন কৃষি অফিস থেকে, আবার কেউ মনে করেন ঢাকা থেকে সুবিধা গ্রহণ করতে হবে।

মোট চাষির ৩৯ শতাংশ এবং ভূমিহীন ও বর্গা চাষিদের ৭১ শতাংশের কোনো ব্যাংক হিসাব নেই। সুতরাং তারা কীভাবে সাহায্য গ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে সমস্যা রয়েই যাচ্ছে। ২০ শতংশ কৃষকের পূর্বে ব্যাংক ঋণ নেয়ার অভিজ্ঞতা আছে।

সমস্যা সমাধানে ৪ সুপারিশ
>> কৃষকের প্রণোদনা কৃষকবান্ধব হতে হবে। এ জন্য কৃষকের হাতে সহজে টাকা পৌঁছাতে এনজিওর সাহায্য নেয়া যেতে পারে।

>> কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কিনতে হবে। কৃষকের কাছ থেকে কেনা সবজি, দুধ ওএমএস ও রিলিফের কাজে ব্যবহার করা যায়।

>> কৃষিতে জড়িত অন্যান্য খাতে (যেমন- বীজ, সার, খাদ্য, পরিবহন) সহায়তা দেয়া উচিত। পোল্ট্রি ও মাছের সাবসিডিয়ারি ভালো হওয়া দরকার।

>> মানসম্পন্ন বীজ কৃষক পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com