আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

সোনালি আঁশের সোনালি দিন

নাজমুল হুদা

দেশের সোনালি আঁশখ্যাত পাট-শিল্পের সঙ্গে দীর্ঘ ১০ বছর খাতা-কলমে সম্পর্ক ছিল। এ ১০ বছর হলো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে লেখাপড়ার সময়। এ সময়ে ধাপে ধাপে পাটের রচনা মুখস্থ করেছি। পাটের গুরুত্ব সম্পর্কে জেনেছি। পাটকে যে বাংলাদেশের অর্থকরী ফসল বলা হয় সেটাও জেনেছি।

আমরা জানি, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। অর্থাৎ এ দেশে হয়তো অন্য দেশের মতো খুব বেশি খনিজ সম্পদ নেই। আমাদের সম্ভাবনার জায়গা আছে। সেই সম্ভাবনা আমার দেশের মাটি। আমরা এ মাটিকেই সোনার চেয়ে খাটি বলে আখ্যায়িত করি। কারণ এ মাটিতেই তো সোনা ফলে। কৃষিপ্রধান দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক সম্পদ এ মাটি।

কাজেই দেশের সম্ভাবনাময় কৃষিখাত অন্য দেশের জন্য রোল মডেল হওয়া প্রয়োজন। আমি যেহেতু অর্থকরী ফসল পাট দিয়েই শুরু করেছি; সেহেতু একটু পাট নিয়েই বিস্তারিত বলতে চাই। বাংলাদেশের পাটের বাজার মূলত দেশের বাইরে। কাজেই পাট রফতানি করে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করায় রফতানিতেই জোর সবচেয়ে বেশি দেওয়া হয়। বর্তমানে দেশের বাজারেও পাটের চাহিদা আছে।

এ বছর করোনা মহামারিসহ নানা সংকটের মধ্যে পার হচ্ছে দেশের কৃষিখাত। বিভিন্ন জেলায় বন্যা, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, অতি বর্ষণ এবং শিলাবৃষ্টির কারণে ব্যাহত হয়েছে কৃষি উৎপাদন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশের সোনালি আঁশ খ্যাত পাটশিল্প ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করে রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। চলতি অর্থবছর রফতানিতে দ্বিতীয় অবস্থানেও রয়েছে পাট।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, করোনা মহামারির মধ্যেও পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৯.২৬ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসে ৩০ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৯.২৬ শতাংশ বেশি। এ শিল্পে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১১.৮৫ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ ৮৮ কোটি ২৩ লাখ ডলার আয় করে, যা ছিল ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ৮.১০ শতাংশ বেশি।

ইপিবির তথ্যে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের তিন মাসে ২১ কোটি ৮ লাখ ২ হাজার ডলারের পাটসুতা রফতানি হয়েছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৩ শতাংশ। কাঁচাপাট রফতানি হয়েছে ৪ কোটি ১১ লাখ ৫ হাজার ডলার, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩.৬১ শতাংশ। পাটের তৈরি বস্তা, চট ও থলে রফতানি হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৯ হাজার ডলার। আয় বেড়েছে ৩৮.৩৩ শতাংশ। পাট ও পাটসুতা দিয়ে হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে আয় হয়েছে ৩ কোটি ২৯ লাখ ২ হাজার ডলার, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮.৬৩ শতাংশ।

এ ছাড়া ২ কোটি ৩ লাখ ৯ হাজার ডলার পাটের তৈরি অন্যান্য পণ্য রফতানি হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করে মোট ৮৮ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। ওই অঙ্ক ছিল আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ৮.১০ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেশি এসেছিল ৭ শতাংশ। গত অর্থবছরে পাটসুতা রফতানি থেকে ৫৬ কোটি ৪৬ লাখ ডলার আয় হয়েছিল। অর্থাৎ মোট রফতানি ৬৪ শতাংশই এসেছিল পাটসুতা রফতানি থেকে। কাঁচাপাট রফতানি থেকে আয় হয়েছিল ১৩ কোটি ডলার। পাটের তৈরি বস্তা, চট ও থলে রফতানি হয়েছিল ১০ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। পাটের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পণ্য রফতানি হয়েছিল ১৯ কোটি ডলার।

দেশের পাট-শিল্পের এমন ঘুরে দাঁড়ানোর সাফল্য বলে দিচ্ছে, মানুষ এখন পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে। কয়েক বছর ধরে এ বাজারের চাহিদাও বাড়ছে। আমাদের কাঁচা পাটও রফতানি বাড়ছে। পাশাপাশি পাটের তৈরি ব্যাগ, চট, থলেসহ পাট ও পাটসুতা দিয়ে হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্য রফতানিও বাড়ছে। আমাদের এখন সুযোগটি কাজে লাগাতে হবে। শুধু পাট-শিল্পই নয়, দেশের কৃষিখাতের আরও সম্প্রসারণ করা খুব জরুরি। আমাদের যা নেই তা নিয়ে আলোচনা করে লাভ নেই, যা আছে তার পরিচর্যা করা উচিত। তার শতভাগ ব্যবহার করা উচিত।

আমরা যদি নীতিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি, কৃষকদের প্রয়োজন মতো সুযোগ-সুবিধা দিতে পারি তাহলে আমাদের কৃষি শিল্পের সম্প্রসারণ করতে পারব। কৃষিখাত সম্প্রসারণ হলে আমাদের অভ্যন্তরীণ কৃষিপণ্য চাহিদার ব্যাপারে অন্য দেশ থেকে আমদানির কথা ভাবতে হবে না। কৃষিপণ্যে কারও ওপর নির্ভর করে চলতে হবে না। আমরা এ শিল্পকে বৈদেশিক বাজারেও সম্প্রসারণ করতে পারব। দেশের মাটি যে সোনার চেয়েও খাটি, তা একটু একটু করে বিশ্বে দেখাতে পারব।

ফসল

ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের পাদদেশে চা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ

ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের পাদদেশে চা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ টিম সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

চা বোর্ডের আওতাধীন বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলীসহ পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ টিম শনি ও রোববার বৃহত্তর ময়মনসিংহের শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী, ঝিনাইগাতি, নকলা ও নালিতাবাড়ি এবং ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায় সৃজিত ক্ষুদ্রায়তন চা বাগানসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ও চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে বিশেষজ্ঞরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সহজ উপায়ে কীভাবে লাভজনকভাবে চা আবাদ করা যায়, জমিতে চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, গাছের পরিচর্যা, পাতা চয়ন, পোকামাকড়-রোগবালাই দমন ও কাঁচা চা পাতা দিয়ে হাতে চা তৈরি (হ্যান্ড মেড টি) ইত্যাদি বিষয়ে চাষিদের পরামর্শ প্রদান করেন। এছাড়া এ অঞ্চলে ভবিষ্যতে চা চাষ বৃদ্ধির বিষয়ে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও আগ্রহীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

ইতোমধ্যে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় চা চাষে বিপ্লব সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে ৮৬৮০ একর জমিতে বছরে ৯.৬ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের চা চাষ জাতীয় উৎপাদনে অবদান রাখার পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। সিলেট, চট্টগ্রাম ও পঞ্চগড়ের পর চায়ের চতুর্থ অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে যাচ্ছে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল। দুটি পাতা একটি কুঁড়ির তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে এ অঞ্চল।

চা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সনে প্রণীত চা নীতিতে দেশের উত্তরাঞ্চলে ও ময়মনসিংহের পাহাড়ি এলাকাসমূহে প্রথম চা আবাদের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ চা বোর্ড কর্তৃক সমগ্র বাংলাদেশে চা আবাদির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে ১৭টি জেলা বিশেষ করে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইলের মধুপুর, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলায় মোট ১ লাখ ১ হাজার ৭২ হেক্টর চা চাষযোগ্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে।

অনেক বছর ধরেই শেরপুরসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহে চা চাষের উপযুক্ততা নিয়ে কথা বলে আসছিলেন চা বিশেষজ্ঞারা। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহত্তর ময়মনসিংহের জেলাসমূহে চা চাষের সম্ভাবনা সরেজমিনে জরিপ করার জন্য বাংলাদেশ চা বোর্ড কর্তৃক একটি টিম সরেজমিনে পরিদর্শন ও মাটির নমুনা সংগ্রহ করে ২০০৪ সালের ১০ জানুয়ারি একটি সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন জমা দেন।

ওই জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, পাহাড়ি এ জনপদের মাটির গুণাগুণ ও আবহাওয়া চা চাষাবাদের অত্যন্ত উপযোগী। ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট (১১২০ একর); শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী (১১৫০ একর), ঝিনাইগাতি (১৮৫৫ একর) ও নালিতাবাড়ি (২৫০০ একর); জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ (৬০০ একর) ও নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপূর (১৭৭০ একর) ও কলমাকান্দা (১০৫০ একর) উপজেলায় মোট ১০ হাজার ৪৫ একর জমিতে চা আবাদ সম্ভব।

পরবর্তীতে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় চা আবাদ সম্প্রসারণের জন্য প্রকল্প গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ চা বোর্ড কর্তৃক গঠিত একটি টিম সরেজমিনে তথ্য উপাত্ত যাচাই করে ২০১৯ সালে ৩০ সেপ্টেম্বর একটি প্রতিবেদন জমা দেন। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ময়মসিংহের মুক্তাগাছা (৩০০ একর), ফুলবাড়িয়া (৫০০ একর), ভালুকা (৪০০ একর) ও টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর (৬০০ একর), ঘাটাইল (৫০০ একর), সখিপুর (৫০০) অর্থাৎ উক্ত উপজেলাসমূহে আরও ২৮০০ একর ভূমিতে ক্ষুদ্রায়তন চা আবাদের সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থাৎ বৃহত্তর ময়মনসিংহের পাঁচটি জেলার ১৫টি উপজেলায় মোট ১৩ হাজার ৬৪৫ একর জমিতে চা আবাদ সম্ভব। উক্ত জমি চা আবাদের আওতায় আনা হলে বছরে এ অঞ্চল থেকে ১৬.৩৭ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হবে।

এ অঞ্চলের চা আবাদের সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে বেশ কয়েকজন স্থানীয় উদ্যোক্তা এগিয়ে এসেছেন। শেরপুর জেলায় চা চাষের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার চেষ্টা করছেন বেসরকারি উদ্যোক্তা আমজাদ হোসেন ফনিক্সের ‘গারো হিলস টি কোম্পানি’। তারা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর লোকজনকে এর মধ্যেই চা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন।

বাণিজ্যিকভাবে চা চাষের লক্ষ্যে এরই মধ্যে স্থানীয় ২৭ জন কৃষকের মাঝে ২৭ হাজার উন্নত জাতের চা চারা বিতরণ করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে চায়ের চারার রোপণ। ইতোমধ্যে শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলায় ছয়জন, নালিতাবাড়ি উপজেলায় তিনজন, ঝিনাইগাতি উপজেলায় ১৩ জন, নকলা উপজেলায় চারজন, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় একজন কৃষক অর্থাৎ মোট ২৭ জন কৃষক ৫.৩১ একর জমিতে চা চাষ শুরু করেছেন।

চা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ চা বোর্ড কর্তৃক বৃহত্তর ময়মনসিংহের গারো হিলের পাদদেশে চা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ চা বোর্ড কর্তৃক ৭৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২৩৫ একর জমিতে চা চাষ সম্প্রসারণের জন্য ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় ক্ষুদ্রায়তন চা চাষ সম্প্রসারণ’ শিরোনামে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

চিনির চেয়ে ৩০০ গুণ মিষ্টি স্টেভিয়া চাষ করবেন যেভাবে

মনিরুজ্জামান কবির

স্টেভিয়া এক জাদুকরি ভেষজ উদ্ভিদ। সম্প্রতিকালে ডায়াবেটিক রোগীদের কাছে এই গাছটি নিয়ে আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। আগ্রহ সৃষ্টির মূলে রয়েছে এর মিষ্টতা। এ গাছের পাতার মিষ্টি উপাদান ঝঃবারড়ংরফব এ চিনির চেয়ে ২৫০-৩০০ গুণ বেশি মিষ্টি স্টেভিয়া গাছের পাতার শুকনো সবুজ পাউডার যা চিনির চেয়ে ২৫-৩০ গুণ বেশি মিষ্টি। স্টেভিওসাইড গ্লাইকোসাইডে ক্যালরি না থাকার কারণে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে এটি কার্যকরী।

স্টেভিয়াতে থাকা প্রচুর ফাইটো নিউট্রিয়েন্ট। এ গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Stevia rebaundiana এবং এটি Astevceae পরিবারভুক্ত বহুবর্ষজীবী। গাছটি ৬০-৭০ মিটার লম্বা হয়। গাছটির আদি নিবাস প্যারাগুয়ে ও দক্ষিণ আমেরিকা। স্টেভিয়া নামটির নামকরণ করেন স্প্যানিশ বোটানিস্ট ড. পিটার জেমস ইস্টিভ। প্যারাগুয়ের রসায়নবিদ ড. রিবাউডি সর্বপ্রথম এ গাছের পাতা ও কাণ্ড থেকে মিষ্টতার যৌগ Stevioside পৃথক করেন। প্যারাগুয়ের স্থানীয় জনগণ এ গাছটিকে কা হি হি অর্থাৎ মধু গাছ হিসেবে ডাকে।

৭০ দশকের পর থেকে স্টেভিয়া প্রাকৃতিক ক্যালরিবিহীন মিষ্টি এবং ভেষজ গুণাগুণসম্পন্ন উদ্ভিদ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে। এরপর থেকে সারা বিশ্বে বিশেষত আমেরিকা, কানাডা, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান, কোরিয়া, মেক্সিকো, থাইল্যান্ড এটি ফসল হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হয়েছে। সম্প্রতিকালে আমাদের দেশেও এ গাছ ব্যাপকভাবে চাষাবাদ হচ্ছে এবং এ গাছের পাউডার বাজারজাত করা হচ্ছে।

রোপণ পদ্ধতি: টিস্যু কালচারের মাধ্যমে উৎপাদিত স্টেভিয়ার ছোট চারা নিষ্কাশনযুক্ত দোঁআশ মাটিতে অথবা দোঁআশ ও জৈব সার মিশ্রিত ৮-১০ ইঞ্চি মাটি টবে সারা বছর রোপণ করা যায়। এ গাছের টব রৌদ্রযুক্ত বারান্দায় বা ছাদে রাখতে হবে এবং প্রতিদিন একবার পানি দিতে হবে। গাছের চারা রোপণের ২৫-৩০ দিন পর থেকে পাতা সংগ্রহ করা যায়। গাছে ফুল আসার ২৫-৩০ দিন পর থেকে উপরের অংশ ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায় এবং পরে গাছের গোড়া থেকে একসঙ্গে অনেক চারা বের হয়, যত্ন করলে ওই চারাগুলো বড় হতে থাকে এবং ২০-২৫ দিন পর থেকে পুনরায় পাতা সংগ্রহ করা যায়।

ব্যবহার পদ্ধতি: স্টেভিয়ার সবুজ ও শুকনা পাতা সরাসরি চিবিয়ে এবং চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে বোতলে সংরক্ষণ করা যায়। পাতার গুঁড়ো দিয়ে মিষ্টান্ন তৈরি করেও ডায়াবেটিস রোগীরা খেতে পারেন। এছাড়াও পানের সঙ্গে শুকনা পাতার গুঁড়ো খেতে পারেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ গ্রহণ মাত্রা দুবারে ১০-১২টি পাতা অথবা শুকনা পাতার গুঁড়ো আধা চা চামচ।

গুণাগুণ: ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে। উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করে। যকৃৎ, অগ্ন্যাশয় ও প্লীহায় পুষ্টি সরবরাহ করে। স্টেভিওসাইড অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণে সহায়তা করে। ত্বকের ক্ষত নিরাময় এবং দাঁতের ক্ষয় রোধ করে। খাদ্য হজমে সহায়তা করে। মিষ্টি জাতীয় খাবারে চিনির বিকল্প হিসেবে সবাই খেতে পারেন।

লেখক: ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা,বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক কার্যালয়, বরিশাল।
mkabir1986@gmail.com

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বোরো মৌসুমে ধানবীজে কেজিপ্রতি ১০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আগামী বোরো মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বোরো ধানবীজে কেজিপ্রতি ১০ টাকা হারে ভর্তুকি প্রদান করা হবে। মন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২০’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। এ সময় কৃষিসচিব মো. নাসিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক দফা বন্যায় রোপা আমন বীজতলা, চারা ও মাঠে দণ্ডায়মান ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি পোষাতে বিনা মূল্যে চারা বিতরণ, ভর্তুকি সহায়তা ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে রোপা আমন ধানের আবাদে সহায়তা দেয়া হয়েছে। আগামী বোরো মৌসুমেও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বোরো ধানবীজে কেজিপ্রতি ১০ টাকা হারে ভর্তুকি দেওয়া হবে।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্ভাব্য খাদ্যসংকট মোকাবিলায় কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে, সে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এসব উদ্যোগের ফলে সব আশঙ্কাকে পেছনে ফেলে করোনা মহামারির চরম বিরূপ পরিস্থিতি এবং ঘূর্ণিঝড়, বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রেখেছে। এ অর্থবছরে চালের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩ কোটি ৮৭ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে।

মো. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, করোনাকালে ও করোনা পরবর্তীকালীন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে। আউশ ও আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে আউশের আবাদ হয়েছে ১৩ দশমিক ২৯৬ লাখ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৩৪ দশমিক ৫১৭ লাখ টন। ফলে আউশের আবাদ গত বছরের তুলনায় প্রায় দুই লাখ হেক্টর এবং উৎপাদন চার লাখ টন বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া এ বছর আমন ধান (রোপা ও বোনা আমন) আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৯ লাখ হেক্টর।

কয়েক দফার বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে প্রায় ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকার সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ, পুর্নবাসন কর্মসূচি হিসেবে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৩১ জন ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আরও প্রায় ৭৫ কোটি টাকা দিয়ে ৯ লাখ ২৯ হাজার ১৯৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে গম, শর্ষে, চিনাবাদাম, সূর্যমুখী, খেসারি, পেঁয়াজ, মরিচ, টমেটো ইত্যাদি ফসল আবাদের জন্য বিনা মূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহের কাজ চলছে।

আগামীকাল ১৬ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার কৃষি মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)–এর যৌথ উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হবে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২০’। এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘সবাইকে নিয়ে একসাথে বিকশিত হোন, শরীরের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন। আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যত।’
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২০’ উদযাপন উপলক্ষে আগামীকাল সকাল ১০টায় সোনারগাঁও হোটেলে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। আন্তর্জাতিক সেমিনারের পর বেলা আড়াইটায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে একটি কারিগরি সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ব খাদ্য দিবসে মুঠোফোনে সচেতনতামূলক খুদে বার্তা পাঠানো, জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় (বাংলা ও ইংরেজি) বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ও তাৎপর্য–সংবলিত

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

৩৫ বছর ধরে চাষ হচ্ছে অপ্রচলিত ‘গোটা ইরি’

জাতটি জোয়ারের লবণপানিসহ পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে টিকে থাকে। বৃষ্টি হলেও পাকা ধানের গাছ নুয়ে পড়ে না। ফলনও ভালো।

বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলায় প্রায় ৩৫ বছর ধরে আউশ মৌসুমে স্থানীয় একটি জাতের ধানের আবাদ হচ্ছে। এটি ‘গোটা ইরি’ নামে পরিচিত। তবে এখনো পর্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে সংরক্ষণ ও গবেষণা না হওয়ায় ক্রমেই এটির আবাদ কমে যাচ্ছে।

কৃষকেরা বলছেন, ধানের এই জাতটি জোয়ারের লবণপানিসহ পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে টিকে থাকে। বৃষ্টি হলেও পাকা ধানের গাছ নুয়ে পড়ে না। এটির উৎপাদন ব্যয় কম। ফলনও বেশ ভালো।

কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, মূলত কৃষকেরাই জাতটি উদ্ভাবন ও টিকিয়ে রেখেছেন। জাতটি সংরক্ষণ ও উন্নত করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে কৃষিক্ষেত্রে বড় সুফল আসতে পারে।

সম্প্রতি আমতলীর চলাভাঙা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক মিলন মৃধা গোটা ইরি খেতের পরিচর্যা করছেন। মিলন বলেন, তিনি দেড় একর জমিতে গোটা ইরি আবাদ করেছেন। অপেক্ষাকৃত খাটো গোছের এই ধানের চাল কিছুটা মোটা হওয়ায় এলাকায় চাহিদা বেশি। খেতেও সুস্বাদু। পোকার আক্রমণও কম। দামও অন্য ধানের চেয়ে বেশি। ঝড়-বৃষ্টিতে এই ধান নুয়ে পড়ে না। বাবার আমল থেকে এই ধান আবাদ হচ্ছে। তবে কীভাবে এই জাত এসেছে, তিনি জানেন না।

তালতলীর গাবতলা গ্রামের কার্তিক চন্দ্র শীল এবার দুই একরে গোটা ইরির আবাদ করেছেন। তিনি বললেন, ‘২৫ বছর আগে আমাদের এলাকার একজন কৃষক প্রথম এই ধানের আবাদ করেন। ফলন ভালো হওয়ায় পরের বছর তাঁর কাছ থেকে বীজ নিয়ে আমিও আবাদ করি। এরপর একে একে গ্রামে এই ধানের আবাদ ছড়িয়ে যায়।’

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) গবেষকেরা বলছেন, তাঁরা খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, এই ধানের সবচেয়ে বড় গুণ হলো পাকলে তিন-চার দিন বৃষ্টি হলেও ধানের গাছ নুয়ে পড়ে না। আবার খেতে পাকা ধান থাকা অবস্থায় কয়েক দিন বৃষ্টি হলে অন্যান্য জাতের ধানে অঙ্কুরোদগম হলেও এই ধানে তা হয় না। পোকামাকড়ের আক্রমণও কম। অন্য জাতের চেয়ে অপেক্ষাকৃত শক্তপোক্ত এই ধানের গাছ জোয়ারের পানিতেও টিকে থাকতে সক্ষম।

এই জাতটি যাতে বিলুপ্ত না হয়, সে জন্য আমরা সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি।

মো. আলমগীর হোসেন বলেন, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ব্রির বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়

আমতলী ও তালতলী উপজেলার কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও কৃষকেরা বলছেন, আগে আউশ মৌসুমে পুরোটাই গোটা ইরি ধানের আবাদ হতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে এর আবাদ কমছে। ব্রি-৪৮ এই স্থান দখল করে নিচ্ছে। এবার তা আরও কমেছে। সরকার আউশের উৎপাদন বাড়াতে এবার কৃষকদের ব্রি-৪৮ বীজ সহায়তা দেওয়ায় স্থানীয় জাতের এই ধানের আবাদ আরও কমেছে।

কয়েকজন কৃষক বলেন, জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণ করে দেওয়ার পর ঝড়, জলোচ্ছ্বাসেও কৃষকদের এই ধান নিয়ে দুশ্চিন্তা হয় না। ধানটি বৈরী পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে টিকে থাকতে সক্ষম। ধানটির উৎপাদন হেক্টরপ্রতি চার থেকে পাঁচ মেট্রিক টন। ব্রি-৪৮–এর উৎপাদনও একই রকম।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর আমতলীতে আউশ আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর। এর মধ্যে আড়াই হাজার হেক্টর ‘গোটা ইরি’। তালতলীতে এবার আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে গোটা ইরি মাত্র ৫০ হেক্টর।

কৃষকেরা বলছেন, সংরক্ষণ ও গবেষণা না হলে স্থানীয় এ জাতটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আমতলী কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘সম্ভবত জাতটি ১৯৮০ সালে ফিলিপাইন থেকে এ দেশে এসেছিল। সেটা ছিল এইচ আর-৮ জাতের ধান। স্থানীয় কৃষকেরা সেই জাতটিকে টিকিয়ে রেখেছেন বলে আমার ধারণা। তবে এই জাতের ব্যাপারে আমাদের কোনো পর্যবেক্ষণ নেই, গবেষণাও নেই।’

তবে ব্রির বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের একজন বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এইচআর-৮ ধানটি উদ্ভাবন হয় ১৯৬৬ সালে। সেটি ১৯৭০-এর দশকে বার্ডের প্রতিষ্ঠাতা আকতার হামিদ এ দেশে আনেন। সেটি ছিল বোরো মৌসুমের ধান। ‘গোটা ইরি’ এইচ আর-৮ ধানের বংশ নয়। এটা ওই এলাকার কৃষকেরাই উদ্ভাবন ও সংরক্ষণ করে চলেছেন বলে তিনি মনে করেন।

ব্রির বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এই জাতটি যাতে বিলুপ্ত না হয়, সে জন্য আমরা সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। একই সঙ্গে এর উন্নতকরণের জন্য কাজ করব। তবে জাতটি সবদিক থেকে ভালো গুণাগুণ থাকলেও আমাদের অন্য প্রজাতির আউশ ধানের জীবনকাল যেখানে ১১০ থেকে ১১৫ দিন, সেখানে এ প্রজাতিটির জীবনকাল ১৩০ থেকে ১৩৫ দিন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

বন্যায় কৃষকের ক্ষতি এড়াবে ভাসমান বীজতলা

চলতি বছরের বীজতলার ক্ষতি পোষাতে নীলফামারী জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ১০০টি ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। কলাগাছের ভেলা বানিয়ে এই বীজতলা তৈরি সম্ভব। বীজতলা যদি ভাসমান করা যায়, তাহলে বন্যার পানি উঠলেও ক্ষতি হবে না।

জলাশয়ে তৈরি ভাসমান বীজতলায় পানি ছিটাচ্ছেন এক কৃষক। সম্প্রতি নীলফামারী উপজেলার পলাশবাড়ি ইউনিয়নের অচিনতলা এলাকায় 

চলতি বছরের কয়েক দফার বন্যায় নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ৬০৭ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়। তবে বন্যার স্থায়িত্ব কম হওয়ায় বীজতলার তেমন ক্ষতি না হলেও ২ উপজেলার প্রায় ১৬ দশমিক ৫ হেক্টর আমন খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ক্ষতি পোষাতে জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ভাসমান বীজতলা পদ্ধতি শুরু করেছে কৃষি বিভাগ। প্রাথমিকভাবে ৩ একর কমিউনিটি বীজতলা এবং ১০০টি ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগের এমন উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাঁরা বলছেন, গ্রামে অনেক পুকুর ও ডোবা থাকে। বন্যা এলে এগুলোতেও পানি ওঠে। কিন্তু বীজতলা যদি ভাসমান করা যায়, তাহলে পানি উঠলেও ক্ষতি হবে না। কিন্তু জমিতে বীজতলা করলে বন্যার পানি উঠলে প্রতিবছরই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

এবারের বন্যায় ডিমলা ও জলঢাকায় ১৫ হেক্টর করে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরীক্ষামূলক ভাসমান বীজতলার বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া যেভাবে পরিবর্তন হচ্ছে, সে অনুযায়ী কৃষকদের প্রশিক্ষিত করার জন্য প্রদর্শনী আকারে ১০০টি ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি তিন একর জমিতে কমিউনিটি বীজতলায় আমন চারা তৈরি করা হয়।

বন্যায় আমন আবাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আপত্কালীন এসব বীজতলার চারা কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনা মূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে কৃষকেরা প্রশিক্ষিত হলে আপত্কালীন সময়ে নিজেরাই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারবেন।

কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে, ভাসমান বীজতলার দৈর্ঘ্য ১০ মিটার এবং প্রস্থ ১ দশমিক ২৫ মিটার। প্রতিটি বেড তৈরিতে কৃষি বিভাগের খরচ হয়েছে ১ হাজার ৩৬৫ টাকা। জেলা সদরের পলাশবাড়ি ইউনিয়নের তরুণীবাড়ি অচিনতলা গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলমের (৩০) বাড়ির পাশের পতিত ডোবায় চারটি ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। তিনিও এই পদ্ধতিতে প্রাথমিকভাবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই বীজতলা তৈরিতে প্রয়োজন হয়েছে একটি কলা গাছের ভেলা। এর ওপর পলিথিন বিছিয়ে পুকুরের পলিমাটি তুলে দেওয়া হয়। পলিমাটির সঙ্গে প্রতিটি বেডে আড়াই কেজি পরিমাণ জৈব সার মিশিয়ে এক কেজি ধানের বীজ ছিটানো হয়েছে। যা একজন শ্রমিক দিয়ে এক দিনেই তৈরি করা সম্ভব। জমিতে বীজতলা তৈরিতে চাষ এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করতে বেশ সময় লাগে। কিন্তু ভাসমান বীজতলায় সময় লাগে কম।

জেলায় এবার ১ লাখ ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বীজতলা তৈরি করা হয় ৬ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে। এসব বীজতলার মধ্যে জেলা সদরে ১ হাজার ৫৮০ হেক্টর, জলঢাকায় ১ হাজার ৩০৮ হেক্টর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বীজতলার পরিমাণ ৮৬০ হেক্টর।

সদর উপজেলা কৃষি বিভাগের পলাশবাড়ি ইউনিয়নের তরুণীবাড়ি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম রায় বলেন, ভাসমান বীজতলার প্রদর্শনী দেখে কৃষকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কলাগাছ থাকে। কলাগাছ ব্যবহার করে ভেলা তৈরিসহ বীজতলার বেড তৈরির উপকরণ সংগ্রহ করা একজন কৃষকের জন্য কঠিন কিছু না। এ ছাড়া আমন চারা তুলে এসব বেডে বিভিন্ন শাকসবজির চাষ করাও সম্ভব। এই পদ্ধতির ব্যাপকতা বাড়লে মাছের ক্ষতি না করে জলাশয় ও পুকুরেও বীজতলা তৈরি সম্ভব।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ১টি পুকুরের ১০ ভাগের এক ভাগ ব্যবহার করে ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হলে মাছ চাষের কোনো ক্ষতি হবে না। বরং সেটি মাছের শেল্টার হিসেবে কাজ করবে। তবে পুরো পুকুরে ভাসমান বীজতলা করা হলে সূর্যকিরণ বাধাগ্রস্ত হয়ে মাছের ক্ষতি করবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এবার ১ লাখ ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বীজতলা তৈরি করা হয় ৬ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে। এসব বীজতলার মধ্যে জেলা সদরে ১ হাজার ৫৮০ হেক্টর, সৈয়দপুরে ৪৬০ হেক্টর, ডোমারে ১ হাজার ৭৫ হেক্টর, ডিমলায় ১ হাজার ৬২ হেক্টর, জলঢাকায় ১ হাজার ৩০৮ হেক্টর এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বীজতলার পরিমাণ ৮৬০ হেক্টর।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com