আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

সূর্যমুখীর হাসিতে হাসছেন সৈয়দ জামাল

সূর্যমুখীর হাসিতে হাসছেন সৈয়দ জামাল
সূর্যমুখীর হাসিতে হাসছেন সৈয়দ জামাল: নিজ ক্ষেতে সৈয়দ জামাল হোসেন।

একরের হিসেবে খরচ বাদ দিয়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ হয়। যা অন্য কোনো ফসলের চেয়ে কম পরিশ্রমে ভালো আয়

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষক সৈয়দ জামাল হোসেন। চলতি মৌসুমে তিনি এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। ইতোমধ্যেই গাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জামাল হোসেনের জমিতে এক একটি ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে। চারিদিকে হলুদ ফুল আর সবুজ গাছের অপরূপ দৃশ্য। এ সৈন্দর্য দেখতে আশপাশের এলাকা থেকেও তার জমিতে ভিড় জমাচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার ফুলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবিও তুলছেন।

কমলগঞ্জ পৌর এলাকার কামারগাও গ্রামে বাড়ি সৈয়দ জামাল হোসেনের (৩৮)। সামাজ সেবামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি কৃষিকাজও করেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়ে চলতি বছর পানিশালা গ্রামে এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন তিনি।

সূর্যমুখীর হাসিতে হাসছেন সৈয়দ জামাল
সূর্যমুখীর হাসিতে হাসছেন সৈয়দ জামাল: এক বিঘা জমিতে ৬ থেকে ৭ মণ ফসল পাওয়ার আশা করছেন জামাল হোসেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, অল্প সময়ে কম পরিশ্রমে ফসল উৎপাদন ও ভালো দাম পাওয়া যায় বলে কৃষকরা এখন সূর্যমুখী চাষ করছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ১ কেজি বীজ দিতে হয়। দেড় ফুট অন্তর অন্তর একটি করে বীজ বপণ করতে হয়। একটি সারি থেকে আরেকটি সারির দূরত্ব রাখতে হয় দেড় ফুট। মাত্র ৮৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে বীজ বপণ থেকে শুরু করে বীজ উৎপাদন করা সম্ভব। সূর্যমুখীর বিঘাপ্রতি ফলন ৬ থেকে ৭ মণ। একরের হিসেবে খরচ বাদ দিয়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ হয়। যা অন্য কোনো ফসলের চেয়ে কম পরিশ্রমে ভালো আয়।

জামাল হোসেন বলেন, “উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে ১ বিঘা জমি লিজ নিয়ে সূর্যমুখীর চাষ শুরু করেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আশা করছেন ভালো আয় হবে।”

কমলগঞ্জ পৌরসভা দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কনক লাল সিংহ বলেন, “সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ সূর্যমুখী ফুলের বীজ পাওয়া যাবে। কৃষকদের স্বাবলম্বী করতেই সূর্যমুখী ফুল চাষে উৎসাহিত করা হয়েছে। যদি সফল হওয়া যায় আগামীতে সূর্যমুখীর চাষ অনেক বাড়বে।”

এগ্রোবিজ

কৃষক থেকে সফল উদ্যোক্তা খুলনার মঞ্জুর

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে ফল খুব একটা ভালো হয়নি। তবু উচ্চশিক্ষার জন্য স্নাতকে ভর্তি হন। কিন্তু লেখাপড়ার এ ফল নিয়ে খুব বেশি দূর যে এগোনো যাবে না, নিজের মধ্যেই এমন ধারণা তৈরি হয় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা গ্রামের তরুণ শেখ মঞ্জুর রহমানের। তাই লেখাপড়ার আনুষ্ঠানিক পাট চুকিয়ে মনোনিবেশ করেন কৃষিকাজে। সেখানে পেলেন সফলতা। প্রথমে শুরু করেন মাছ ও ধান চাষ। এরপর শুরু করেন বীজ উৎপাদন ও বিপণন।

এখন মঞ্জুর বোরো ধান, আমন, সরিষা, তিল, মাষকলাইসহ নানা ধরনের সবজির বীজ উৎপাদন ও প্যাকেটজাত করে তা বাজারজাত করছেন। তাঁর উৎপাদিত এ বীজ ডুমুরিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে পাশের জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এখন প্রতিবছর শুধু ১২ মেট্রিক টন বোরো বীজই উৎপাদন ও বাজারজাত করছেন মঞ্জুর। তাতে সব মিলিয়ে খরচ বাদে তাঁর বার্ষিক মুনাফা ৬ লাখ টাকার ওপরে।

সম্প্রতি শেখ মঞ্জুর রহমানের সঙ্গে কথা হয় । তিনি জানান, ২০০৬ সালে এইচএসসি পাসের পর স্নাতকে ভর্তি হন। তখনই মনস্থির করেন কৃষিকাজকে পেশা হিসেবে নেওয়ার। প্রথমে বাবার কিছু জমি নিয়ে শুরু করেন মাছের ঘের। এরপর তরুণ মঞ্জুরের মাথায় আসে মাছের ঘেরে ধান চাষের। যেই চিন্তা, সেই কাজ। শুরু করেন ধান চাষ। প্রথমবারই ভালো ধান হয়। তবে বাজারে ধানের দাম কম থাকায় সেবার লোকসান হয় তাঁর। তা সত্ত্বেও পরেরবার আবারও ধান চাষের উদ্যোগ নেন। এবার সংকট দেখা দেয় ভালো বীজের। বাজারে ভালো বীজের সংকট দেখে মঞ্জুরের মাথায় প্রশ্ন জাগে, সরকার ও বিভিন্ন কোম্পানি যে বীজ বিক্রি করে, তা কোথা থেকে আসে।

এ প্রশ্নের উত্তর জানতে শরণাপন্ন হন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে পড়ুয়া তাঁর বড় ভাইয়ের কাছে। জানতে পারেন কীভাবে মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন করা যায়, কীভাবে বীজ উৎপাদনের লাইসেন্স পাওয়া যায়, সেসব বিষয়। এরপর নিজের অভিজ্ঞতা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে শুরু করেন বীজ উৎপাদন।

তরুণ মঞ্জুর বলেন, ‘বীজ উৎপাদনের পর তা আমার নিজের দোকানে রেখে বেচতে শুরু করি। কৃষকও তাঁর বীজ ব্যবহার করে ভালো ফলন পেতে শুরু করেন। এর মধ্যে ২০১৩ সালে জাতীয় বীজ বোর্ডের বীজ উইং থেকে উৎপাদনের নিবন্ধন নিই।’

বর্তমানে শেখ এগ্রো নামে প্যাকেটজাত বীজ বিক্রি করেন মঞ্জুর। পাশাপাশি নিজেই গড়ে তুলেছেন বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। তাই এখন আর তাঁর উৎপাদিত বীজ অন্য কোনো প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে নিতে হচ্ছে না। চলতি মৌসুমে ব্রি ২৮, ৫৮, ৬৭ জাতের ১০ টন ভিত্তি বীজ এবং আমন ব্রি ৮৭, ৪৯, ৭৫ জাতের ২ টন মানঘোষিত বীজ তিনি বিপণন করেছেন। এ ছাড়া তাঁর কাছে এখন ৫০০ কেজি সরিষা, ২০০ কেজি তিলবীজ বিক্রির জন্য প্রস্তুত আছে। আর মাঠে বীজের জন্য লাগানো মাষকলাইয়ে ফুল এসেছে।

মঞ্জুরের গ্রামের আবদুর রশিদ গাজী বলেন, ‘তার কাছ থেকে বীজ নিয়ে কখনো ঠকিনি। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা তাকে সব সময় কাছে পাই। বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সে আমাদের সহায়তা করে। কিছু বাকিতেও বীজ-কীটনাশক কেনা যায়।’

ডুমুরিয়ার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, বর্তমানে মঞ্জুর একজন সফল কৃষকের পাশাপাশি সফল ব্যবসায়ীও। ব্যক্তি উদ্যোগে কৃষক পর্যায়ে উন্নত মানের বীজ উৎপাদনের তেমন নজির এখানে নেই। অথচ মঞ্জুর বীজ উৎপাদনের পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রও তৈরি করেছেন। কৃষক থেকে ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার এ নজির সত্যিই অনন্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা

‘সময়মতো পানি দাও, সার দাও আরও কত ঝামেলা, তাই দুই বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ না করে সবজি চাষ করছি। এতে ঝামেলা কম, লাভও বেশি।’ কথাগুলো বলছিলেন নওগাঁর সদর উপজেলার শালেবাজ গ্রামের চাষি আবদুল মজিদ।

শুধু মজিদই নন, গত কয়েক মৌসুমে ধান চাষ করে লোকসান গোনার পর অনেক চাষিই এখন ধান চাষ না করে সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। নওগাঁ সদর, বদলগাছী, মান্দা, ধামইরহাট ও মহাদেবপুর উপজেলায় এ বছর ব্যাপক হারে সবজি চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ভালো পাওয়ায় খুশি চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ৮ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ হয়েছে। গত বছর জেলায় সবজি আবাদ হয়েছিল ৭ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে। এ বছর নওগাঁয় সবজির আবাদ বেড়েছে ৮৪৫ হেক্টর জমিতে। জেলায় এ বছর আমন ধান আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে, যেখানে গত বছর আবাদ হয়েছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নওগাঁর সদর উপজেলার বক্তারপুর, কীর্ত্তিপুর, তিলকপুর, বর্ষাইল ইউনিয়ন, বদলগাছীর বালুভরা, পাহাড়পুর, মিঠাপুর, বিলাশবাড়ি, কোলা, আধাইপুর ইউনিয়ন, মহাদেবপুরের সদর ইউনিয়ন, চেরাগপুর, রাইগা, চান্দাশ, উত্তরগ্রাম এলাকায় ধানের পাশাপাশি বিস্তীর্ণ জমিতে ব্যাপক হারে সবজির চাষ হয়েছে। এসব জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, করলা, মরিচ, বেগুন, টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হয়েছে। অথচ দুই-তিন বছর আগেও এসব জমিতে সবজির চাষ এত হতো না।

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৭ সালের পর থেকে বোরো ও আমন ধান আবাদ করে ন্যায্যমূল্যে না পাওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক লোকসান গুনতে হয়েছে। ধান আবাদ করে লাভের মুখ দেখতে গিয়ে উল্টো অনেক কৃষক ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকেরা ধান চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। এই লোকসান থেকে বাঁচতে অনেক কৃষক আস্তে আস্তে সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের কৃষক যাঁরা সাধারণত নিজেরা শ্রম দিতে পারেন, এমন কৃষকেরা ধান চাষ ছেড়ে দিয়ে সবজি চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

বক্তারপুর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁর চার বিঘা আবাদি জমে রয়েছে। সবজি চাষের জন্য এবার দেড় বিঘা জমিতে ধান চাষ করেননি। ওই দেড় বিঘা জমিতে তিনি শীতের আগাম শিম ও ফুলকপি চাষ করেছেন। অথচ বিগত বছরগুলোতে শহিদুল তাঁর চার বিঘা জমিতে ধান আবাদ করতেন।

শহিদুল বলেন, বাজারে এখন নতুন ধানের দাম মণপ্রতি সর্বোচ্চ ৭১০ টাকা। আড়াই বিঘা জমিতে খুব বেশি হলে ৫০ মণ ধান পাওয়া যাবে। ৫০ ধান বিক্রি করে আসবে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ দেড় বিঘা জমিতে লাগানো শিম ও ফুল কপি বিক্রি করে তাঁর ৪০ হাজার টাকা এসেছে। আরও দুই-তিন মাস তিনি এই সবজি বিক্রি করতে পারবেন।

সদর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের মিলটন সরদার বলেন, ধান চাষের চেয়ে সবজি চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। ধানের দাম না পাওয়ায় এলাকার অনেক কৃষক ধান আবাদ ছেড়ে দিয়ে সবজি চাষে ঝুঁকছেন। ন্যায্যমূল্য না পেলে ধীরে ধীরে ধানের আবাদ আরও কমবে।

পাহাড়পুর গ্রামের খবির উদ্দিন নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এ বছর আমি বেশি জমিতে সবজি আবাদ করেছি। ইতিমধ্যে আমার খেতের ফুলকপি, বাঁধাকপি ও পালংশাক ওঠা শুরু করেছে। বাজারে দামও ভালো।’

সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম মফিদুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার মাটি সবজি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। বিশেষ করে বর্ষাইল, বক্তবার, তিলকপুর ও কীর্ত্তিপুর এলাকায় ব্যাপক হারে সবজি চাষ হচ্ছে এবং বছর বছর সবজি চাষ বাড়ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নওগাঁর উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সবজির আবাদ বাড়ার বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। গত কয়েক মৌসুম ধরে ধানের দামটা অস্বাভাবিক কম ছিল। এ জন্য কৃষকেরা সবজির দিকে বেশি ঝুঁকছেন। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের কম খরচে অধিক লাভ হয় এমন ফসল আবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

রুপালি ফসলে সোনালি দিন

বাংলাদেশের রুপালি ফসল মাছ। বাঙালির অতি প্রিয় খাবার। এই উপমহাদেশে ৩৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে মাছের চাষ হয় বলে জানা যায়। ১৯৬৭ সালে কার্পজাতীয় মাছের কৃত্রিম প্রজনন শুরুর পর এ দেশে মৎস্য চাষ ও উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি পায়। একসময় কার্পজাতীয় মাছ চাষ করাই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু বর্তমানে পাঙাশ, তেলাপিয়া, থাই কই, পাবদা, গুলশা, শিং, মাগুরসহ হরেক রকমের মাছ চাষ হচ্ছে। প্রাকৃতিক উৎসের মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়।

মাছ চাষের পাশাপাশি আরেক সফলতার চাবিকাঠি হলো মাছ আহরণ। এ বছর প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ আহরিত হচ্ছে। ইলিশ (জাটকা) রক্ষায় বছরে প্রায় ৩৯ হাজার ৭৮৭ মেট্রিক টন খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭০৯টি পরিবারকে ৭ হাজার ৯১৪ দশমিক ১৮ মেট্রিক টন খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের ইলিশ ২০১৭ সালে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

বাংলাদেশ চিংড়ি রপ্তানি করে ২০১৬–১৭ অর্থবছরে আয় করে ৩ হাজার ৬৮২ দশমিক ২৬ কোটি টাকা। ২০১৫ সাল থেকে বিনা সার্টিফিকেটে বিশ্বে চিংড়ি ও মৎস্যপণ্য রপ্তানি করতে পারে বাংলাদেশ, যা এশিয়া মহাদেশে বিরল দৃষ্টান্ত।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাছ চাষে ট্যাক্স হলিডে প্রবর্তন, মৎস্যখাদ্য কাঁচামালের শুল্ক মওকুফ, জেলেদের জন্য আইডি কার্ড চালু, জাটকা রক্ষায় জেলে পরিবারকে ৪০ কোটি করে খাদ্যসাহায্য প্রদান, মা ইলিশ রক্ষা অভিযান, মাছ আহরণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা, মাছের অভয়াশ্রম স্থাপনসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। চাষিদের শ্রম ও ঘাম এবং জেলেদের ত্যাগ স্বীকারের মধ্য দিয়েই এই সাফল্য এসেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার দেওয়া হিসাবমতে, স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। মাছ চাষে পঞ্চম এবং সামুদ্রিক মাছ উৎপাদনে আমরা ১১তম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে

 হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে
হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে

বোয়াল মাছ এখন বিপন্ন প্রায়। তবে বেশি বেশি চাষ করেই এর বংশ রক্ষা করা সম্ভব। কেননা প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম নষ্ট হওয়ায় মাছটি আগের মত পাওয়া যায় না। তবে বোয়াল একটি রাক্ষুসে স্বভাবের মাছ। কাজেই এ মাছকে প্রজননের আওতায় এনে উৎপাদন করতে কয়েকটি বিশেষ দিকে খেয়াল রাখতে হয়।

বোয়াল মাছ মধ্য এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ডিম দেয়। প্রজননের সময় খুব সহজেই পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে শনাক্ত করা যায়। প্রজনন মৌসুমে স্ত্রী মাছের পেটভর্তি ডিম থাকে আর পুরুষ মাছের পেট সাধারণ মাছের মত থাকে। তাছাড়া পুরুষ মাছের পেটে চাপ দিলে সাদা মিল্ট বের হয়। এভাবেই বোয়ালের পুরুষ-স্ত্রী শনাক্ত করা যায়।

বোয়াল মাছকে পিজি হরমোন দিয়ে ইঞ্জেকশন করলেই ডিম দিয়ে থাকে। প্রথম ডোজের সময় শুধু স্ত্রী মাছকে ইঞ্জেকশন দিতে হয়। ডোজের মাত্রা ২ মিগ্রা বা কেজি। ৬ ঘণ্টা পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয় ৪ মিগ্রা বা কেজি।

দুটি পদ্ধতিতে বোয়ালের ডিম সংগ্রহ করা যায়। বোয়াল মাছকে পিজি হরমোন ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে আলাদা আলাদা হাউসে রাখতে হয়। দ্বিতীয় ডোজের ৬ ঘণ্টা পর সাধারণত বোয়াল মাছ ডিম দিয়ে থাকে। খেয়াল রাখতে হবে, যখনই ২-১টি ডিম বের হবে; তখনই মাছগুলোকে একে একে হাউস থেকে তুলে আনতে হবে।

এবার স্ত্রী মাছের পেটে আস্তে করে চাপ দিলেই ডিম বের হবে। স্ত্রী মাছের ডিম বের করার পর তাৎক্ষণিকভাবে পুরুষ মাছের পেটে চাপ দিয়ে মিল্ট বের করে ডিমের উপর পাখির পালক দিয়ে ভালোভাবে মেশাতে হবে।

এরপর ডিমগুলোকে ২-৩ বার বিশুদ্ধ পানিতে পরিষ্কার করে ৩-৪ ইঞ্চি উচ্চতার পানির হাউসে রাখতে হবে। চিকন প্লাস্টিক পাইপকে ছিদ্র করে ঝর্ণার ব্যবস্থা করতে হবে। এভাবে ২০-২২ ঘণ্টার মধ্যেই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হবে।

 হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে
হারিয়ে যাচ্ছে বোয়াল, চাষ করবেন যেভাবে

অন্যভাবে, পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে হরমোন ইঞ্জেকশন দিয়ে একসাথে একটি বড় হাউসে ছেড়ে দিতে হবে। তাতে দ্বিতীয় ডোজের ৬ ঘণ্টার মধ্যেই প্রাকৃতিকভাবে এরা ডিম পারবে। ডিম পারা শেষ হলে ব্রুডমাছগুলোকে সর্তকতার সাথে সরিয়ে নিতে হবে। তারপর হাউসের পানি কমিয়ে ৩-৪ ইঞ্চি রেখে ছিদ্রযুক্ত পাইপ দিয়ে পানির ঝরনা দিতে হবে। এখানেও ২০-২২ ঘণ্টার মধ্যে ডিম থেকে বাচ্চা বের হবে।

তবে বোয়াল মাছের পোনা খুবই রাক্ষুসে। ডিম থেকে ফোটার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই একটি আরেকটিকে খেতে শুরু করে। অন্য মাছের রেণু পোনা ডিমের কুসুম বা ক্ষুদ্র আকৃতির প্ল্যাংকটন খেলেও বোয়ালের পোনা ডিমের কুসুম বা কোনো ধরনের প্ল্যাংকটন খায় না। সে ক্ষেত্রে তাদের জীবিত অবস্থায় মাছের রেণু বা পোনাকে খেতে দিতে হয়। এভাবে ৮-১০ দিনেই ২ ইঞ্চি সাইজের পোনায় পরিণত হয়।

বোয়াল মাছ এককভাবে চাষ করা যায় না। একটি আরেকটিকে খেতে খেতে শেষ পর্যন্ত আর বাকি থাকে না। তা ছাড়া কৃত্রিম খাবার না খাওয়ায় মাছগুলো খুব একটা বড়ও হয় না। তাই এদের বিভিন্ন মাছের সাথে চাষ করে ভালো ফল পাওয়া যায়। মজুদ ঘনত্ব মিশ্রচাষে প্রতি ৫ শতাংশে ১টি মাছ।

মাছ ছাড়ার সময় একটি দিকে খেয়াল রাখতে হবে, বোয়ালের পোনা যেন কোনো অবস্থায়ই পুকুরের অন্যান্য মাছের আকারের সমান না হয়। সে ক্ষেত্রে অন্যান্য মাছের ওজন যখন ১৫০-২০০ গ্রাম ওজন হবে; সেখানে ২ ইঞ্চি সাইজের বোয়ালের পোনা ছাড়তে হবে। আর তা না হলে বোয়াল দ্রুত বড় হয়ে অন্যান্য মাছ খেয়ে ফেলতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বাংলাদেশে জিঙ্ক রাইস আপডেট

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com