আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

সারের বস্তায় ওজনে কম, ঠকছেন চাষিরা

  • সারে ওজনে কম এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে ১৪ আগস্ট বিসিআইসির চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে ডিলারদের সংগঠন বিএফএর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা
  • ■ খোলাবাজারে এক কেজি ইউরিয়া সারের দাম ১৬ টাকা। এক বস্তা ৮০০ টাকা

সরকারি কারখানার সার কিনে ঠকছেন কৃষকেরা। দেশের একজন গরিব চাষি ৫০ কেজির এক বস্তা দানাদার ইউরিয়া সার কিনলে ওজনে এক থেকে আড়াই কেজি কম পাচ্ছেন। খোলাবাজারে এক কেজি ইউরিয়া সারের দাম ১৬ টাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও জামালপুরের যমুনা সার কারখানার বিরুদ্ধে সারের বস্তায় ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মূলত সার কারখানা দুটির পরিবেশক বা ডিলাররা ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ করে আসছিলেন। সম্প্রতি দুটি কারখানা থেকে বের হওয়া সারের ট্রাক থেকে বস্তা নামিয়ে এবং পরিবেশক ও খুচরা দোকানে বস্তার ওজন মেপে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। সার মাপার ভিডিও রয়েছে প্রথম আলোর কাছে।

আশুগঞ্জ সার কারখানা (আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড) নিজের উৎপাদিত ইউরিয়া সারেই ওজনে কম দিচ্ছে। অন্যদিকে যমুনার (যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড) নিজের উৎপাদিত সার নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। তবে তারা আমদানি করা যে সার পরিবেশকদের দেয়, সেখানে ওজনে কম পাওয়া গেছে।

শুধু ওজনে কম নয়, কারখানা দুটিতে সার নিতে গিয়ে ঘাটে ঘাটে চাঁদা দিতে হচ্ছে পরিবেশকদের। অভিযোগ আছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হয়।

আশুগঞ্জ ও যমুনা সার কারখানা শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মালিকানাধীন। সংস্থাটির অধীনে মোট চারটি ইউরিয়া সার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটিতে চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি বন্ধ রয়েছে। অন্যটি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড। এটি অবশ্য চালু রয়েছে।

ওজনে কম দেওয়া এবং চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে গত ১৪ আগস্ট বিসিআইসির চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছিল ডিলারদের সংগঠন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা।

এ বিষয়ে বিসিআইসি বলছে, অতীতে সারে কম দেওয়ার অভিযোগ তারা পেত। সাম্প্রতিককালে পায়নি। এ বিষয়ে তারা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সংস্থাটির পরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. আমিন উল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে ৫০০ গ্রাম সারও কম দেওয়া যাবে না। এ অভিযোগ আমরা খতিয়ে দেখব।’

জমির উর্বরতা শক্তি বাড়াতে কৃষকেরা ইউরিয়া সার ব্যবহার করেন। ধান, গমসহ প্রায় সব ধরনের ফসল চাষে দেশে এই সার ব্যবহার করেন কৃষকেরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহাজাদাপুর ইউনিয়নের কৃষক রাহুল ভৌমিক প্রথম আলোকে বলেন, জমি চাষের জন্য প্রতি বছর ৫০ বস্তার মতো ইউরিয়া সার কিনতে হয় তাঁকে। অনেক দিন ধরেই তাঁর সন্দেহ হচ্ছিল বস্তায় এক থেকে দেড় কেজি সার কম থাকতে পারে। একবার বস্তার ওজনও করেছিলেন। প্রায় দুই কেজি সার কম থাকার কথা দোকানিকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। পরে তাঁর পরিচিত এক ডিলারকেও বস্তায় সার কম থাকার কথা বলেছিলেন।

ওজনে কতটুকু কম

আশুগঞ্জ সার কারখানা থেকে সরবরাহ করা প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় এক থেকে আড়াই কেজি সার কম দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন পরিবেশকেরা। এই কারখানা থেকে সারের বস্তা প্রথমে ট্রাকে করে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের নতুন ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ে যান পরিবেশকেরা। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সেখানে কথা হয় একাধিক পরিবেশকের সঙ্গে। তাঁদের অভিযোগের পর সত্যতা যাচাইয়ে ট্রাক থেকে নামিয়ে দুটি বস্তা মাপা হয়। দেখা যায়, বিসিআইসি লেখা ও আশুগঞ্জ সার কারখানার লোগোযুক্ত ৫০ কেজির একটি বস্তায় ৪৬ কেজি ৯৫০ গ্রাম এবং আরেকটিতে ৪৭ কেজি ৩৪০ গ্রাম দানাদার ইউরিয়া সার রয়েছে।

আশুগঞ্জ সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন ওজনে কম থাকার একটি ব্যাখ্যা দেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বস্তায় সার ৫০ কেজির বেশি থাকে। দু-একটা বস্তায় হয়তো কম থাকে। পরিবেশকদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কারখানায় সার মাপার যন্ত্রটি পুরোনো। মেরামত করে কাজ করতে হয়। তাই মাঝেমধ্যে কোনো বস্তায় বেশি, কোনোটায় কম যায়। তবে কমের পরিমাণ এক কেজির বেশি হয় না।

শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি। মাপার যন্ত্র মেরামত করতে বলেছি।’

অবশ্য পরিবেশকদের অভিযোগ, সব বস্তায়ই সার কম দেওয়া হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে কম পাওয়া যায়। শাহাদাত হোসেনের দাবির সত্যতা যাচাইয়ে গত শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের জগতবাজার এলাকার পুষ্প ট্রেডার্স, বাদল ট্রেডার্স, দাতা এন্টারপ্রাইজ ও রুহুল আমিন এন্টারপ্রাইজে গিয়ে সার মেপে এক থেকে দুই কেজি করে কম পাওয়া যায়। তবে কোথাও ৫০ কেজির বেশি পাওয়া যায়নি।

রুহুল আমিন এন্টারপ্রাইজের মালিক জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চলছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগ জানানো হয়েছে। সমাধান হয়নি।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা বলছে, আশুগঞ্জ সার কারখানা থেকে বছরে গড়ে প্রায় দেড় লাখ টন দানাদার ইউরিয়া সার সাত জেলায় সরবরাহ করা হয়। হিসাব করে দেখা গেছে, গড়ে দেড় কেজি করে কম দেওয়া হলে মোট কম পাওয়া যায় সাড়ে চার হাজার টন। যার দাম প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

বিএফএর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার সভাপতি জালাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিন-চার বছর ধরেই ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে। কতবার যে লিখিত অভিযোগ করেছি। কোনো লাভ হয়নি।’

আশুগঞ্জ সার কারখানা থেকে উৎপাদিত ইউরিয়া সার চাঁদপুর, কুমিল্লা, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরবরাহ করা হয়। কিছু যায় সিলেট ও হবিগঞ্জে। ওই সব এলাকার কৃষকেরা ওজনে কম পেয়ে ঠকছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কৃষকেরা বস্তা দরে সার কিনে থাকেন। তাঁরা কখনো বস্তায় কতটুকু ওজন, তা মাপেন না। বিএফএর জেলা শাখার সভাপতি জালাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বস্তায় কম থাকায় কৃষকেরা কম পান। যেসব দোকানি বস্তা খুলে খুচরা সার বিক্রি করেন, তাঁরাও ঠকেন।

কারখানায় বস্তা ভরার পর গুদামে ও দোকানে দীর্ঘ সময় রাখার কারণে সারের ওজন কমে কি না, তা জানতে যোগাযোগ করা হয়েছিল সরকারি আরেকটি সার কারখানার একজন কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি বলেন, রেখে দেওয়ার কারণে ওজন কমে না।

ঘাটতি যমুনায়ও

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার যমুনা সার কারখানা থেকে উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলাসহ মোট ১৯ জেলায় সার সরবরাহ করা হয়। ওই কারখানা থেকে পরিবেশকদের দুই ধরনের ইউরিয়া সার দেওয়া হয়। একটি যমুনার নিজস্ব উৎপাদিত সার, যা নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই, ওজনও ঠিক থাকে। তবে আমদানি করা সারে ওজনে কম এবং নিম্নমানের সার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কারখানা সূত্র জানায়, খোলা আকাশের নিচে সার রাখার কারণে বৃষ্টিতে জমাট বেঁধে যায়। পরে ওই সার গুঁড়া করে পুনরায় বাজারজাত করা হয়। গত আগস্ট পর্যন্ত প্রতি ৯ টন যমুনার সারের সঙ্গে ৩ টন আমদানি করা যার নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। গত ২২ আগস্ট নষ্ট সার দেওয়ার অভিযোগে পরিবেশক সমিতি সার উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর দুই টন করে আমদানি করা সার দেওয়ার নিয়ম করা হয়। অবশ্য বিসিআইসি বলছে, জমাট বাঁধলেও সারের গুণগত মান খারাপ হয় না। রং যদি পরিবর্তন হয়, তাহলে গুণগত মান খারাপ হয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

পরিবেশকদের সমস্যা হলো কৃষকেরা আমদানি করা সার নিতে চান না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবেশক প্রথম আলোকে বলেন, আমদানি করা সার নিম্নমানের। আবার আমদানি করা সারের প্রতি বস্তায় ওজন ৪ থেকে ৫ কেজি কম থাকে।

পরিবেশকদের দাবির সত্যতা যাচাইয়ে গত শুক্রবার দুপুরে জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা বাজারের তিনটি দোকানে আমদানি করা সার মেপে দেখা যায়, একটি দোকানে (মুসলিম উদ্দিনের দোকান) সারের বস্তায় সাড়ে তিন কেজি কম পাওয়া যায়।

মুসলিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন,‘আমদানি করা সার বিক্রি করে আমাদের তেমন একটা লাভ হয় না। এসব সার নিম্নমানের। কৃষক নিতে চায় না। আবার আমদানি করা সারের প্রতিটি বস্তায় ওজনে কম থাকে।’

পরিবেশকেরা গত ২২ আগস্ট সার উত্তোলন বন্ধ করে যে আন্দোলন করেছিলেন, তাতে কিছুদিন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

অবশ্য যমুনা সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুদীপ মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারখানায় আমি নতুন যোগদান করেছি। এখনো অনেক বিষয়ে আমি অবগত নই।’ তবে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।

আশুগঞ্জে সারের ট্রাকে চাঁদা

কারখানার ৩ নম্বর ফটক থেকে সারের বস্তা মাথায় করে নৌকায় ওঠাতে (হেডলোড) বস্তাপ্রতি সাড়ে সাত থেকে আট টাকা নেন ঠিকাদার ও কারখানার শ্রমিকেরা। এ ছাড়া কারখানার আরেকটি ফটক দিয়ে সারের বস্তা ট্রাকে ওঠাতে প্রতি বস্তার জন্য এক টাকা দিতে হয় ঠিকাদারের শ্রমিকদের। যদিও বস্তা ওঠাতে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের ৬০ পয়সা করে দেয়। ট্রাকের সিরিয়াল পেতে দিতে হয় ৫০ টাকা। বস্তা ট্রাকে ওঠাতে ঠিকাদার নিয়োগ দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মিন্টু মিয়া বলেন, শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য ট্রাকের সিরিয়াল বাবদ ৫০ টাকা করে রাখা হয়। আবার সেখান থেকে ৫০ শতাংশ টাকা ট্রাক মালিক সমিতিকে দেওয়া হয়।

অবশ্য বড় সমস্যা হলো ট্রাক ভাড়া বেশি, যা নির্ধারিত হয় ট্রাকমালিক ও শ্রমিকদের ইচ্ছায়। আশুগঞ্জ সার কারখানা থেকে নতুন ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা পরিবহনে ট্রাক মালিক সমিতিকে ট্রাকপ্রতি ১ হাজার ৯০০ টাকা করে দিতে হয়। পরিবেশকেরা বলছেন, এ ভাড়া ১ হাজার ২০০ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়।

ট্রাক মালিক সমিতির আহ্বায়ক বাদল সরকার বলেন, সার পরিবহনে ট্রাকপ্রতি ১ হাজার ৯০০ টাকার মধ্যে ৪০০ টাকা ‘লোডিং’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিতে হয়। কারণ জানতে চাইলে লোডিং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এন রহমানের স্বত্বাধিকারী তারেকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিবেশকেরা খুশি হয়ে শ্রমিকদের বকশিশ দেন। এতে আমার কিছু করার নেই। আমাকে তাঁরা জানানও না। বাকি অভিযোগ সত্য নয়।’

যমুনায় ঘাটে ঘাটে চাঁদা

কৃষকেরা যেহেতু আমদানি করা সার কিনতে আগ্রহী নন, সেহেতু পরিবেশকেরাও যেকোনো উপায়ে এই সার নেওয়া এড়াতে চান। যমুনার সারের সঙ্গে আমদানি করা সার নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু আমদানি করা সার না নিয়ে (প্রতি ৯ টন যমুনার সারের সঙ্গে ২ টন আমদানি করা সার নিতে হয়) যমুনার শুধু নিজস্ব সার নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় কারখানাকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট। এ জন্য দিতে হয় ট্রাকপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা।

গত ২৪ আগস্ট কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিবেশকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন করা হচ্ছে। আমদানি করা সারের বদলে শুধু যমুনার সার ট্রাকে তোলার বিষয়ে কারখানার উপসহকারী কারিগরি কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, তারাকান্দি ট্রাক-ট্যাংক লরি ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি স্লিপ দেয়। পরে কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলেই শুধু এ কারখানায় উৎপাদিত সার দেওয়া হয়।

ট্রাক-ট্যাংক লরি ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির নেতা আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমাদের স্লিপ দেখালেই কর্তৃপক্ষ শুধু কারখানায় উৎপাদিত সার দেবে কেন?’

যমুনা সার কারখানা ঘিরে পরিবেশকদের কাছ থেকে চারটি ক্ষেত্রে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ট্রাক বের করার সময় বস্তাপ্রতি দেড় টাকা করে নেয় তারাকান্দি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতি। ট্রাক ভাড়ার ১০ শতাংশ নেয় তারাকান্দি ট্রাক-ট্যাংক লরি ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি। তবে স্থানীয় ট্রাকের জন্য ছাড় আছে। কারখানায় ঢোকানোর জন্য ট্রাকপ্রতি ১২০ টাকা নেয় তারাকান্দি ট্রাক-ট্যাংক লরি ও কাভার্ড ভ্যান চালক শ্রমিক ইউনিয়ন এবং কারখানায় সার ট্রাকে ওঠাতে ট্রাকপ্রতি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা নেন কারখানা নিয়োজিত ঠিকাদারের শ্রমিকেরা। যদিও শ্রমিক নিয়োগ করা ঠিকাদারকে কারখানা কর্তৃপক্ষই মজুরি বাবদ টাকা দেয়।

পরিবেশকদের অভিযোগ, যমুনা সার কারখানাকে ঘিরে গড়ে ওঠা সংগঠনের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী তারাকান্দি ট্রাক-ট্যাংক লরি ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি। এ সমিতির নেতৃত্বেই গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন ওই সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম ওরফে মানিক। অন্য যেসব সংগঠন রয়েছে, সেগুলোও নিয়ন্ত্রণ করেন আশরাফুল ও তাঁর ঘনিষ্ঠ লোকজন। চাঁদা নেওয়াসহ সবকিছু তাঁরা করেন প্রকাশ্যে। সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের দু-তিনজন নেতা মিলে এসব টাকা খরচ করেন। প্রভাবশালীদের ভাগও দেন।

চাঁদা তোলার বিষয়টি অস্বীকার করেননি আশরাফুল আলমও। তবে তাঁর দাবি, এ টাকা তাঁর নেতৃত্বাধীন সমিতি নেয় না। এর ওপর তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণও নেই। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখানে তারাকান্দি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি নামে একটি সমিতি আছে। তারাই সারের বস্তাপ্রতি এক থেকে দেড় টাকা চাঁদা নেয়। এজেন্সির নেতারা সেই টাকা শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করেন।’

মালিক সমিতির নামে প্রতিটি ট্রাক থেকে ১০ শতাংশ হারে চাঁদা নেওয়ার বিষয়ে আশরাফুল বলেন, এ টাকা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করে সমিতি। সার কারখানায় ২৮ বছর ধরে এ নিয়ম চলছে।

আর ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই।’

নাম না প্রকাশের শর্তে যমুনা সার কারখানার একজন কর্মকর্তা বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ ওই সিন্ডিকেটের কাছে আসলেই অসহায়। কিছু বলতে গেলে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।

সারে ওজন কম দেওয়া এবং কারখানা থেকে সারের বস্তা ট্রাকে ওঠাতে ঘাটে ঘাটে চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, যাদের হাতেই ক্ষমতা আছে, তারাই মানুষকে হয়রানি করে। সারের বস্তায় ওজনে কম দেওয়া উদ্বেগজনক। কারণ, দেশের কৃষকেরা এমনিতেই তাঁদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না। আবার সারে ওজনে কম পেয়েও ঠকেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেয়ার নির্দেশ

দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়িয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য গবেষক, বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কেন্দ্রীয় গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘পেঁয়াজে আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। দেশে পেঁয়াজ নিয়ে সংকট চলছে। এ সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং কতদিনের মধ্যে উৎপাদন বাড়িয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া যাবে, সে বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে বসে শিগগিরই কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে আমাদের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন করতে হবে। সরকার পক্ষ থেকে পেঁয়াজ চাষিদের বীজ, উপকরণ, প্রযুক্তিসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। এ বিষয়ে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আগামী গ্রীষ্মকালে দেশের কোন উপজেলায় কতজন চাষি পেঁয়াজ আবাদ করবে, তার তালিকা প্রণয়ন করতে হবে।’

আগামী ১- ২ মাসের মধ্যে কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন, পেঁয়াজ বীজের চাহিদা নিরূপণ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন আব্দুর রাজ্জাক।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় বর্তমান সরকার সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ বিতরণে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। কৃষি উপকরণ নিয়ে দেশে এখন কোনো হাহাকার নেই, সংকট নেই। কৃষকেরা সার, বীজসহ এসব উপকরণ সময়মতো, অত্যন্ত সহজে ও কোনো ঝামেলা ছাড়াই পেয়ে যাচ্ছেন।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক মো. নাজিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিজ্ঞানী কাজী এম বদরুদ্দোজা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আবদুল মুঈদ, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সায়েদুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মো. বখতিয়ার, বারির পরিচালক মো. মিয়ারুদ্দীন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

আলু-পেঁয়াজের বাজারে অভিযান, সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা

আলু, চাল, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং নকল ও ভেজাল প্রতিরোধে সারাদেশে খুচরা ও পাইকারি বাজা‌রে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

অভিযানে ১১৮টি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হয়ে‌ছে। ‌বুধবার (১৪ অ‌ক্টোবর) রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সার্বিক নির্দেশনায় ও বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের পরামর্শ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ঢাকা মহানগরীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর শাহ আলী বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, হাতিরপুল এলাকায় অভিযান করা হয়।

অভিযান প‌রিচালনা ক‌রেন অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাস, সহকারী পরিচালক প্রণব কুমার প্রামানিক, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাগফুর রহমান ও মাহমুদা আক্তার।

এছাড়াও ঢাকার বাইরে বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে বিভিন্ন বাজারে তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তদারকিকালে আলু, চাল, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, আদাসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যৌক্তিক মূল্যে বিক্রয় হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করা হয়।

এছাড়া পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, মূল্যতালিকার সঙ্গে বিক্রয় রশিদের গরমিল, পণ্যের ক্রয়রসিদ সংরক্ষণ না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও পণ্য, নকল পণ্য, ওজনে কারচুপিসহ ভোক্তাস্বার্থবিরোধী বিভিন্ন অপরাধে সারাদেশে ১১৮টি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তদারকিকালে চাল, আলু ও পেঁয়াজের মূল্য নিয়ে কারসাজি না করা এবং বাধ্যতামূলকভাবে পণ্যের ক্রয়রসিদ সংরক্ষণের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।

এ প্রসঙ্গে অধিদফতরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ভোক্তাস্বার্থ সুরক্ষায় নিয়মতান্ত্রিক ও নৈতিকতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনাকে অধিদফতর সবসময়ই স্বাগত জানায়। কিন্তু অসাধু ও অনৈতিক যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করবে।

ভোক্তাস্বার্থ সংরক্ষণে দেশব্যাপী অধিদফতরের অভিযান চলছে এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

একটি মানুষও না খেয়ে কষ্ট পাবে না : প্রধানমন্ত্রী

একটি মানুষও না খেয়ে কষ্ট পাবে না, একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রত্যেকটা মানুষ চিকিৎসা সেবা পাবে, কোনো মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগবে না, আমাদের বিশাল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা সহযোগিতা করছি। খাদ্যের সাথে সাথে পুষ্টির নিশ্চয়তা হয়, মানুষজন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়- সেটাই আমাদের লক্ষ্য। জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ আমরা কায়েম করব।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২০ উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা যাতে নিশ্চিত থাকে সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। প্রতিটি মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র যারা আমরা তাদের মাঝে বিনা পয়সায় খাবার বিতরণ করে যাচ্ছি, এটা আমরা অব্যাহত রাখবো। বাংলাদেশ সম্পর্কে আমাদের একটাই চিন্তা- জাতির পিতা চেয়েছেন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে, আমরা সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আমরা তা অর্জন করতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সাহসী, তারা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করার ক্ষমতা রাখে। আমরা করোনার সাথে সাথে ঝড়-বন্যা সবই মোকাবিলা করে যাচ্ছি। এভাবেই আমাদের বাঁচতে হবে। এক ইঞ্চি জমিও কেউ ফেলে রাখবেন না, গাছ লাগান, ফল লাগান, তরিতরকারি লাগান যে যা পারেন কিছু লাগিয়ে নিজের উৎপাদন বাড়ান।

নি বলেন, আজকে আপনারা জানেন করোনাভাইরাস সারা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। যখনই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে তখনই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি খাদ্য উৎপাদনে। আমাদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে, খাদ্যের নিশ্চয়তাটা থাকতে হবে। কারণ, করোনা ভাইরাসের কারণে সমগ্র বিশ্বে স্থবির একটা দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশে যেন তার প্রভাব না হয়, আমাদের দেশের মানুষ যেন কোনোরকম কষ্ট ভোগ না করে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছি। কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের মহাব্যবস্থাপক কিউ ইউ ডনিউ ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেন।

গণভবন প্রান্তে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

খাদ্যদ্রব্যের অবৈধ মজুত প্রতিরোধে আসছে কঠোর আইন

খাদ্যদ্রব্যের অবৈধ মজুত প্রতিরোধে কঠোর আইন করতে যাচ্ছে সরকার। এ জন্য ‘খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২০’ এর খসড়া করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

একইসঙ্গে ১৯৫৬ সালের দ্য ফুড (স্পেশাল কোর্ট) অ্যাক্টও পরিবর্তন করতে যাচ্ছে সরকার। খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন সংক্রান্ত অপরাধের বিচার হবে স্পেশাল কোর্ট আইনের আওতায়।

সম্প্রতি চাল, পেঁয়াজ, তেলসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্যের অবৈধ মজুতের মাধ্যমে ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে ক্রেতাদের ভোগান্তিতে ফেলছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। বিব্রত হচ্ছে সরকার। এই প্রেক্ষাপটে কঠোর আইন করার উদ্যোগ নিল খাদ্য মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের ‘দ্য ফুড গ্রেইনস সাপ্লাই (প্রিভেনশন অব প্রিজুডিশিয়াল অ্যাক্টিভিটি) অর্ডিন্যান্স ১৯৭৯’ রয়েছে। আইনটি অনেক পুরোনো। এটি হালনাগাদ করে নতুন আইন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘নতুন আইন অনুযায়ী খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণনের ক্ষেত্রে অপরাধের শাস্তি কঠোর হবে। দুষ্ট লোকদের অপরাধের ধরন পাল্টেছে, আমাদের সেটা শক্তভাবেই ডিল করতে হবে। আমাদের কাজের পরিধি বেড়েছে, নানা ধরনের প্রেক্ষাপট আমাদের সামনে আসছে। সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন আইন করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই শাস্তি বাড়বে। বিশেষ খাদ্য আদালতের আওতায় এসব অপরাধের বিচার হবে।’

‘১৯৭৯ সালের আইন অনুযায়ী কেউ এই ধরনের অপরাধ করলে তিন মাসের আটকাদেশ দেয়া যেত। সেভাবে কোনো শাস্তির কথা ছিল না। ১৯৫৬ সালের ফুড স্পেশাল কোর্ট অ্যাক্টও আমরা নতুন করে করছি, এটি যুগোপযোগী করা হবে। খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইনে উল্লেখ করা অপরাধগুলোর বিচার হবে স্পেশাল কোর্ট অ্যাক্টের আওতায়।’

খাদ্য সচিব আরও বলেন, ‘আমরা এখন খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইনের খসড়ার বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিচ্ছি।’

খসড়া আইনে খাদ্যদ্রব্যের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, যেকোনো প্রকার দানাদার খাদ্যশস্য যেমন- চাল, ধান, গম ইত্যাদি; ভোজ্যতেল যেমন- সয়াবিন, পামওয়েল, সরিষা, সানফ্লাওয়ার ওয়েল, অলিভ অয়েল, সরিষার তেল এবং অন্যান্য সকল প্রকার ভোজ্যতেল, খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতের কাঁচামাল, পেঁয়াজ, লবণ, চিনি, ডাল, প্রক্রিয়াজাত যেকোনো খাদ্যদ্রব্য এবং অন্যান্য প্রচলিত আইনে সংজ্ঞায়িত খাদ্য।

আইনের খসড়ায় খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ, বিপণন এবং এ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রে নানা কার্যক্রমকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

মজুত সংক্রান্ত অপরাধ

ব্যক্তিগত ভোগের উদ্দেশ্য ছাড়া পরিবহন যান বা গুদামে বা যেকোনো স্থানে সরকার ঘোষিত পরিমাণের বেশি খাদ্যশস্য মজুত রাখা বা মজুত করা খাদ্যশস্যের হিসাব যথাযথ কর্তৃপক্ষকে দেখাতে ব্যর্থ বলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

মজুত করা খাদ্যশস্যের উৎস সম্পর্কে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করা বা গোপন করা। মজুত খাদ্যশস্যের মান বজায় রাখার উদ্দেশ্য প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত না করায় খাদ্যশস্যের গুণগতমান কমে যাওয়া। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও মজুত রাখাও হবে অপরাধ।

আরও যেসব কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে তা হলো- ‘এসেনশিয়াল কমোডিটি অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ এবং প্রচলিত অন্যান্য আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ না করা। পুরোনো চাল বা অন্যান্য খাদ্যশস্য অবৈধভাবে গুদামে মজুত রেখে অসৎ উদ্দেশ্যে পলিশিং বা অন্যান্য রূপে মিশ্রণ করে অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের আওতায় সরকারি গুদামে সরবরাহ করা। অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের সময় গুদামে আমদানি করা চাল বা গম সরকারি গুদামে সরবরাহ করা।

স্থানান্তর সংক্রান্ত অপরাধ

খাদ্যশস্য স্থানান্তরকালে খাদ্যশস্যের মান বজায় রাখার জন্য প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে খাদ্যশস্যের গুণগতমান কমে যাওয়া। পরিবহন করা খাদ্যশস্যের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মানুষের ভোগের অনুপযুক্ত খাদ্যশস্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা। জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপায়ে ভোগের অনুপযুক্ত খাদ্যদ্রব্য বিনষ্ট বা নিষ্পত্তি করা। ইনভয়েস বা চালানে উল্লেখ করা কেন্দ্রে খাদ্যশস্য খালাস না করে অন্যভাবে মজুত স্থানান্তর দেখানো। পরিবহনকালে ইনভয়েস বা চালানের সঙ্গে দেয়া নমুনা মোতাবেক খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্য গুদামে হস্তান্তর করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

পরিবহন সংক্রান্ত অপরাধ

যথাযথ চালান বা ডকুমেন্ট ছাড়া সরকারি-বেসরকারি খাদ্যশস্য একস্থান থেকে অন্যস্থানে পরিবহন এবং পরিবহনকালে খাদ্যশস্য আত্মসাৎ বা বিনষ্ট করলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

সরবরাহ সংক্রান্ত অপরাধ

কর্মসূচির নামাঙ্কিত বিতরণকৃত সিল ছাড়া সরকারি গুদাম থেকে খাদ্যশস্যভর্তি বস্তা গ্রহণ, স্থানান্তর, মজুত, হাতবদল বা পুনরায় বিক্রি। বিতরণ করা সিলযুক্ত খাদ্যদ্রব্য ব্যবসার উদ্দেশ্যে ক্রয়-বিক্রয়কালে এই সম্পর্কিত লেনদেনের উপযুক্ত দলিল দেখাতে ব্যর্থ হলে। পুরোনো বা বিতরণ করা সিলযুক্ত বস্তা সরকারি গুদামে সরবরাহ করা- এক্ষেত্রে অপরাধ বলে গণ্য হবে।

বিতরণ সংক্রান্ত অপরাধ

সরকারের কোনো কর্মসূচির আওতায় বিধি অনুযায়ী নিযুক্ত ব্যবসায়ীরা ডিলার বা প্রকল্প চেয়ারম্যান বা অন্যকোনো ব্যক্তির মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্য বিতরণকালে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম বিতরণ করা। ভোক্তা বা উপকারভোগীর কার্ড ডিলার বা অন্যকোনো ব্যক্তির আটক রাখা হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বিপণন সংক্রান্ত অপরাধ

খসড়া আইন অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে, যদি খাদ্যসামগ্রী বিক্রি বা বিতরণের জন্য বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মানের বাটখারা বা পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহার এবং সঠিক ওজনে ভোক্তার নিকট খাদ্যসামগ্রী বিক্রয় বা বিতরণ না করা হয়।

খাদ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত লেনদেনের হিসাব ও এ-সংক্রান্ত প্রমাণ সংরক্ষণ না করা। এ আইনের অধীন শ্রমিক, কর্মচারী, ঠিকাদার, মিলার, ডিলার বা অন্যকোনোভাবে নিযুক্ত ব্যক্তিদের খাদ্যদ্রব্য মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ, বিপণন বা এ-সংক্রান্ত কোনো কর্মসম্পাদনে বিরত থাকা। বা সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে তার কর্তব্য পালনে বিরত থাকতে বাধ্য করা বা বিরত থাকতে প্ররোচিত করা। বা তাদের মধ্যে অসন্তোষ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বা দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা অপরাধ হবে।

এছাড়া খসড়া আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন সম্পর্কিত কোনো মিথ্যা তথ্য বা বিবৃতি তৈরি মুদ্রণ, প্রকাশ, প্রচার বা বিতরণ বা খাদ্যদ্রব্যের পর্যাপ্ততা সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করাও হবে অপরাধ।

কী পরিমাণ খাদ্যপণ্য কতদিন মজুত করা যায়

কী পরিমাণ খাদ্যপণ্য বা খাদ্যসামগ্রী (চাল, ধান, গম, চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল) কতদিন মজুত করা যাবে তা নির্ধারণ করে ১৯৫৬ সালের কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটির অ্যাক্টের অধীনে ২০১১ সালের ৪ মে একটি আদেশ জারি করে সরকার।

সেখানে চালের বিষয়ে বলা হয়েছে, সরকারের দেয়া লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যবসায়ী এক টনের বেশি চাল বা খাদ্যশস্য তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে না।

লাইসেন্সধারী আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী ও চালকল মালিক বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন পরিমাণ চাল মজুত রাখতে পারবেন। পাইকারি পর্যায়ে একজন ব্যবসায়ী ৩০০ মেট্রিকটন ধান ও চাল ৩০ দিন পর্যন্ত মজুত রাখতে পারবেন।

ধান ও চালের ক্ষেত্রে খুচরা পর্যায়ে ১৫ টন ১৫ দিন মজুত রাখা যাবে। আমদানিকারক আমদানি করা ধান-চাল শতভাগ ৩০ দিন পর্যন্ত মজুত করতে পারবেন।

চালকল মালিক পর্যায়ে অটোমেটিক, মেজর ও হাসকিং চালকলের ক্ষেত্রে পাক্ষিক (১৫ দিনে) ছাঁটাই ক্ষমতার পাঁচগুণ ধান ৩০ দিন পর্যন্ত মজুত করা যাবে।

তবে চালের ক্ষেত্রে অটোমেটিক ও মেজর মিলের ক্ষেত্রে অনুমোদিত মজুতের পরিমাণ পাক্ষিক ছাঁটাই ক্ষমতার দ্বিগুণ। এ পরিমাণ চাল ১৫ দিন মজুত রাখা যাবে।

আদেশে বলা হয়েছে, আমদানিকারক বা পাইকারি বিক্রেতা অনুমোদিত মেয়াদের মধ্যে অনুমোদিত মজুত তার নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে বিক্রি করতে না পারলে অনুমোদিত মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন দিনের মধ্যে নির্ধারিত ছক ও পদ্ধতিতে সরকারের নির্ধারিত কর্মকর্তাকে জানাবে।

অনুমোদিত প্রত্যেক লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীকে খাদ্যসামগ্রী আমদানি, ক্রয়, মজুত ও বিক্রয়ের হিসাব লাইসেন্স দেয়া কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ধারিত ছকে পাক্ষিক ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

অপরদিকে সরকারের মনোনীত কর্মকর্তা ও লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে প্রাপ্ত তথ্যাদি প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

আলু-পেঁয়াজের বাজা‌রে অভিযান, ৩০ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

আলু, চাল, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাইকারি ও খুচরা বাজা‌রের ৩০ প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ৮৫ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হয়ে‌ছে।

শ‌নিবার ( ১৭ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে এসব জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সার্বিক নির্দেশনায় ও বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের পরামর্শ এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ঢাকা মহানগরের শ্যামবাজার, নয়াবাজার ও বাবু বাজারে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন- অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মাসুম আরেফিন, বিকাশ চন্দ্র দাস ও ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল জব্বার মন্ডল।

এছাড়াও ঢাকার বাইরে বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে বিভিন্ন বাজারে তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

তদারকিকালে আলু, চাল, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, আদাসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যৌক্তিক মূল্যে বিক্রয় হচ্ছে কি না তা মনিটরিং করা হয়। এছাড়া পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, মূল্য তালিকার সঙ্গে বিক্রয় রসিদের গরমিল, পণ্যের ক্রয় রসিদ সংরক্ষণ না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও পণ্য, নকল পণ্য, ওজনে কারচুপিসহ ভোক্তাস্বার্থ বিরোধী বিভিন্ন অপরাধে সারাদেশ ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রোহিঙ্গা সংকট: রাতের আঁধারে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কারা?

রোহিঙ্গা সংকট: রাতের আঁধারে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কারা?

উত্তর কোরিয়া নতুন ‘বিশাল আকৃতির‘ ক্ষেপণাস্ত্রের কতটা জানা যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া নতুন ‘বিশাল আকৃতির‘ ক্ষেপণাস্ত্রের কতটা জানা যাচ্ছে

উত্তর কোরিয়া নতুন ‘বিশাল আকৃতির‘ ক্ষেপণাস্ত্রের কতটা জানা যাচ্ছে

নাগোর্নো-কারাবাখ যুদ্ধ: আজারবাইজানের সাথে যুদ্ধে আর্মেনিয়ার 'ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি' হয়েছে, বলছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী

নাগোর্নো-কারাবাখ যুদ্ধ: আজারবাইজানের সাথে যুদ্ধে আর্মেনিয়ার ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে, বলছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী

নাগোর্নো-কারাবাখ: নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক মিনিটের মাথায় ভঙ্গ, পরস্পরকে দোষারোপ করছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া

নাগোর্নো-কারাবাখ: নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক মিনিটের মাথায় ভঙ্গ, পরস্পরকে দোষারোপ করছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া

মা হওয়ার পরে যে কাজগুলো করবেন

মা হওয়ার পরে যে কাজগুলো করবেন

শিশু কথা শোনে না? জেনে নিন করণীয়

শিশু কথা শোনে না? জেনে নিন করণীয়

সরিষার তেলের ৫টি অবিশ্বাস্য উপকারিতা

সরিষার তেলের ৫টি অবিশ্বাস্য উপকারিতা

খাওয়ার পরে টক দই খেলে কী হয়

খাওয়ার পরে টক দই খেলে কী হয়

শেভিং ক্রিমের কিছু অজানা ব্যবহার

শেভিং ক্রিমের কিছু অজানা ব্যবহার

মিষ্টি কুমড়ার খোসা ভর্তার সহজ রেসিপি

মিষ্টি কুমড়ার খোসা ভর্তার সহজ রেসিপি

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com