আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

সারা বছর মিলবে সুস্বাদু কাঁঠাল

সারা বছর মিলবে সুস্বাদু কাঁঠাল
সারা বছর মিলবে সুস্বাদু কাঁঠাল

বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। এটি মৌসুমি ফল। তাই সব মৌসুমে ফলটির স্বাদ পাওয়া যায় না। এ ছাড়া মৌসুমে এর সংরক্ষণব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। তাই ফলটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব কমে গেছে। তবে দেশীয় কৃষিবিজ্ঞানীরা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা রোধ করে কাঁঠালের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতে কাজ করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় বারোমাসি কাঁঠালের তিনটি জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিজ্ঞানীরা।

ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এ ধরনের কাঁঠাল চাষ সম্প্রসারণের কার্যক্রম। এতে নতুন সম্ভাবনা জেগেছে কাঁঠাল চাষ ঘিরে। বারির বিজ্ঞানীরা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে উচ্চফলনশীল বারোমাসি জাতের কাঁঠাল চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধীন ও সাডা নামক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় খাগড়াছড়ির রামগড়, নরসিংদী, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় মাঠপর্যায়ে চলছে এ ধরনের কাঁঠাল চাষ সম্প্রসারণের কাজ। প্রতিটি জেলায় ২৫ জন চাষি ও ৫টি নার্সারির মধ্যে বারি উদ্ভাবিত চারা বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ধরনের কাঁঠাল চাষে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফল বিভাগ ও উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্যমতে, দেশের সব এলাকাতেই মূলত কাঁঠালের চাষ হয়। তবে ঢাকার উঁচু অঞ্চল, ময়মনসিংহের ভালুকা, ভাওয়াল ও মধুপুরের গড়, সিলেটের পাহাড়ি এলাকা, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে সর্বাধিক পরিমাণে কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। তবে কাঁঠাল মৌসুমি ফল হওয়ায় সাধারণত বছরে তিন মাসের বেশি কাঁঠাল পাওয়া যায় না। কাঁঠালের অর্থনৈতিক ও পুষ্টিগুণের কথা বিবেচনা করে দেশীয় কৃষিবিজ্ঞানীরা সারা বছর কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যে তিনটি কাঁঠালের জাত উদ্ভাবন করে অবমুক্ত করেছেন। এর মধ্যে বারি-১ জাতের উচ্চফলনশীল কাঁঠাল পাওয়া যাবে বছরের মে-জুন, উচ্চফলনশীল অমৌসুমি জাত বারি-২ কাঁঠাল পাওয়া যাবে জানুয়ারি-এপ্রিল এবং নিয়মিত ফল দানকারী উচ্চফলনশীল বারোমাসি বারি-৩ পাওয়া যাবে সেপ্টেম্বর-জুন মাস পর্যন্ত।

উদ্ভাবিত এ তিনটি জাত সারা দেশেই আবাদযোগ্য। বারি-৩–এর উৎপাদন হেক্টরপ্রতি ১৩৩ মেট্রিক টন, বারি-১–এর উৎপাদন হেক্টরপ্রতি ১১৮ মেট্রিক টন ও বারি-২–এর উৎপাদন হেক্টরপ্রতি ৫৮ মেট্রিক টন।

দীর্ঘদিন ধরে কাঁঠাল নিয়ে গবেষণা করছেন গাজীপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফল বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান। তিনি জানান, উদ্ভাবিত তিনটি জাতের মাধ্যমে সারা বছর ধরেই কাঁঠাল পাওয়া যাবে। মৌসুমের বাইরেও অন্যান্য সময় ধরে উৎপাদিত কাঁঠালও হবে খুব সুস্বাদু। এতে যেমন দেশের লোকজন সারা বছর ধরে কাঁঠালের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন, তেমনি অধিক মূল্যে কাঁঠাল বিক্রি করতে পারবেন। দেশের মানুষের পুষ্টি ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়াবে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত কাঁঠালের এই তিন জাত। তিনি আরও জানান, দেশে কাঁঠালের অসংখ্য জাত রয়েছে, কিন্তু এর নির্দিষ্ট কোনো নাম নেই। এর মধ্যে সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য বারোমাসি জাতের কাঁঠাল। এসব কাঁঠালের জাত ধরে রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

দৈনন্দিন

অ্যাপেল সিডার ভিনেগার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় যেভাবে

লেখক

 অ্যাপেল সিডার ভিনেগার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় যেভাবে
অ্যাপেল সিডার ভিনেগার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় যেভাবে

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনেকেরই নানা ধরনের চেষ্টা থাকে। এক্ষেত্রে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এ উপাদানটি রাখা জরুরি।

আপেলের রসের সঙ্গে ইস্ট ফারমেন্টেড হয়ে আপেলের রসকে অ্যালকোহলে পরিণত করে এবং পরের ধাপে অ্যাসিটিক অ্যাসিড দিয়ে পুনরায় ফারমেন্টেড করা হয়। অবশেষে সেটা ভিনেগারে পরিণত হয়। অ্যাপেল সিডার ভিনেগারে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ফাইবার থাকায় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে। সেই সঙ্গে ঠান্ড লাগা থেকে স্বস্তি দেয়।

বিভিন্ন উপায়ে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। এতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল বৈশিষ্ট্য শরীরের নানা রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। যেমন-

১. অ্যাপেল সিডার ভিনেগার দেহের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে। এ কারণে রোজ সকালে এটি পান করলে দেহের অনেক উপকার হয়।ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।

২. মধুর সাথে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার মেশালে এটি ঠান্ড লাগা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। ঠান্ডা-সর্দি সারাতে হালকা গরম পানিতে দু’চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার এবং মধু মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

৩. অ্যাপেল সিডার ভিনেগারের স্বাদ পছন্দ না হলে এর ট্যাবলেট খেতে পারেন। যদিও ট্যাবলেটে একই পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে না, তবে কিছুটা হলেও উপকার পাওয়া যায়। এই ভিনেগার যখনই খাবেন তাতে অবশ্যই পানির সঙ্গে মিশিয়ে পাতলা করে পান করবেন। তা না হলে শরীরে সমস্যা তৈরি হতে পারে। সূত্র : বোল্ড স্কাই

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে লেখাপড়া করে সফল তরমুজ চাষি

তাসনিম আলম তুহিন ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েক বছর আগে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে লেখাপড়া শেষ করে চাকরির চেষ্টা করেন। কিন্তু চাকরি পাননি। এরমধ্যে চলতি বছরে করোনা পরিস্থিতি সৃষ্টির পর বাড়িতে চলে আসেন তিনি। এরপর কী করবেন কিছুই ভেবে পাচ্ছিলেন না।

এমন সময় স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা ও অন্যান্যদের সহযোগিতায় দুই বিঘা জমিতে অসময়ের তরমুজ ‘গোল্ডেন ক্রাউন’ চাষ শুরু করেন। এর মধ্যে এক বিঘাতে ‘গোল্ডেন ক্রাউন’ (উজ্জল হলুদ রঙের)’ এবং এক বিঘাতে ‘ব্লাক বেরি’ (কালো রঙের)’ জাতের তরমুজ রয়েছে। অসময়ের এ তরমুজ ‘গোল্ডেন ক্রাউন’ চাষে সফলতাও পেয়েছেন তিনি।

জেলায় প্রথম চাষ হাওয়া নতুন এ তরমুজটি দেখতে উজ্জল সোনালী হলুদ রঙের। তরমুজটি অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এবং বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়ক। কৃষক তুহিন প্রথম ধাপেই প্রায় এক লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। যাতে উঠে এসেছে উৎপাদন খরচ। খেতের বাকি তরমুজ বিক্রি করে আসবে লভ্যাংশ।

তুহিন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের সন্তান। তিনি জানান, বিভিন্ন সময় ইউটিউবে কৃষি কাজ সংক্রান্ত অনেক ভিডিও দেখতাম। এরপর করোনা এলে ভাবলাম চাকরির জন্য চেষ্টা না করে গ্রামে গিয়ে কৃষি কাজ শুরু করব। করোনার মধ্যে ঢাকায় বসে না থেকে গ্রামে চলে আসি।

এরপর স্থানীয় ব্লক সুপারভাইজার মিলন কুমার ঘোষের সহযোগিতায় চুয়াডাঙ্গা জেলার জাফরপুর বাজার থেকে ৫ হাজার ৩শ টাকা দিয়ে বীজ কিনে খেতে বপন করি। পরিচর্যা শেষে ৫৮ দিনের মাথায় ফল সংগ্রহ করেছি।

তিনি আরও জানান, গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ বিক্রি করেছি ৪৫ মণ। আরও ২০ মণ বিক্রি করতে পারব। এছাড়া আগামী সপ্তাহে ব্লাক বেরি জাতের প্রায় ৮০ মণ তরমুজ বিক্রি করতে পারব। এখন পর্যন্ত দুই বিঘা জমিতে মোট খরচ হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বিক্রি শেষ আমার লাভ থাকবে দুই লাখ টাকার মতো।

স্থানীয় সাধুহাটি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিলন কুমার ঘোষ জানান, অসময়ের এই তরমুজের বীজ সাধারণত এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত খেতে বপন করা যায়। এরপর ৫০ দিন পর থেকেই ফল বিক্রির উপযোগী হয়। আমরা উপজেলা কৃষিকর্মকর্তার সহযোগিতায় বেড তৈরি, পোকামাকড় দমন, ফলের মান ভালো রাখার নানা কৌশল সম্পর্কে তাকে নিয়মিত পরামর্শ দিয়েছি যার ফলে তুহিন ভালো মানের ফল পেয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, পানি নিষ্কাশন ও বেলে দো-আঁশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য বেশি উপযোগী যা ঝিনাইদহে বিদ্যমান। আর মান ভালো হওয়ায় ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এ জেলার তরমুজের চাহিদা রয়েছে অনেক। তাই এই চাষ সম্প্রসারণে চাষিদের ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

এছাড়া তরমুজের পুষ্টিগুণও অনেক। এই ফলে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-এ এবং আইরন। পাশাপাশি পানির পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরে পানির ঘাটতিও পূরণ করে। এছাড়া ফলটিতে রয়েছে প্রচুর এন্টিঅক্সিডেন্ট যা বার্ধক্য প্রতিরোধে অনেক সহায়ক বলেও জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

নারায়ণগঞ্জে বাড়ির ছাদে ফলদ বাগান

গাছের প্রতি ভালোবাসা ও পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এই ফলদ বাগান গড়ে তোলেন গৃহিণী নয়ন রহমান।

প্লাস্টিকের বড় ড্রাম কেটে দুই ভাগ করে পাঁচতলা বাড়ির ছাদে সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছ। সেই গাছে ধরেছে কমলা, আঙুর, পেয়ারা, মাল্টা, কমলা, বরইসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফল। এ ছাড়া রয়েছে সবজি ও ফুলের গাছও।

ওই ছাদবাগানে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক জৈব সার ও জৈব পদ্ধতিতে তৈরি কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। গাছের প্রতি ভালোবাসা ও পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এই ফলদ বাগান গড়ে তোলেন গৃহিণী নয়ন রহমান। গত ছয় বছরে তাঁর ছাদবাগান এখন সবুজে সবুজে ছেয়ে গেছে।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জ ওয়াপদারপুল এলাকায় সরদার বাড়ির গৃহিণী নয়ন রহমানের সঙ্গে ছাদে কথা হয় প্রথম আলোর এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক পাসের পর তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে ছোট পরিসরে গাছ লাগান। ২০১৩ সালের দিকে তিনি বাড়ির দোতলার ছাদে অর্ধশতাধিক ফলদ, সবজি ও ফুলের গাছ লাগান। একপর্যায়ে তিনি ১ হাজার ৮০০ বর্গফুটের পাঁচতলার ছাদে প্রায় ১ হাজার বর্গফুটের ছাদে ফলদ বাগান গড়ে তোলেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে বেলে দোআঁশ মাটি ও গোবর পচিয়ে জৈব সার তৈরি করে এসব গাছ তিনি লাগাতে থাকেন। সেখানে শতাধিক প্রজাতির ফলদ গাছ ছাড়াও সবজি ও ফুল গাছ আছে।

মানুষকে ছাদবাগানে আগ্রহী করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্কুলে বাগান করতে আমরা উৎসাহ দিচ্ছি।

নাহিদা বারিক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নারায়ণগঞ্জ সদর

গৃহিণী নয়ন রহমান বলেন, ‘বাজারে ফল ও সবজিতে রাসায়নিক কেমিক্যাল ও ফরমালিন থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পরিবারের সবার স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করেই ফলদ গাছ লাগানোর ব্যাপারে আমি উদ্যোগ নিই।’

সরেজমিনে দেখা যায়, গাছে ১০–১৫টি কমলা পেকে আছে। ধরতেই পাকা কমলা খসে পড়ল। পাকিস্তানি ও দেশি আনার ঝুলে আছে। আরও ঝুলে আছে কামরাঙা, মাল্টা, আখ, অড়বরই, সফেদা, আমড়া, আতা, কতবেল, লেবুসহ কয়েক প্রজাতির পেয়ারা ও জাম্বুরা। ফল গাছের মধ্যে আরও রয়েছে লটকন, লেবু, কাগজি লেবু, বাংলালিংক লেবু, চায়নিজ তরমুজ, আম্রপালিসহ শতাধিক প্রজাতির ফলদ গাছ। এ ছাড়া ফুলের মধ্যে রয়েছে গোলাপ, গন্ধরাজ, নয়নতারাসহ বিভিন্ন ফুল। ছাদে চৌবাচ্চা তৈরি করে লাল শাপলাও লাগানো হয়েছে। সবজির মধ্যে লাউ, পুঁইশাক, চালকুমড়া, কাঁচা মরিচ দেখা গেল।

এদিকে এই ছাদবাগান দেখতে অনেকেই ছুটে আসেন। তাঁদের ছাদবাগান করার পরামর্শও দেন নয়ন রহমান। তিনি বলেন, বাগান করতে বড় সমস্যা মাটি ও জৈব সার। তবে ইচ্ছে থাকলে যে কেউ ছাদে বাগান তৈরি করতে পারেন। এতে সহজে

নয়ন আরও বলেন, নিয়মিত গাছে পানি দেওয়া এবং প্রতিবছর দুবার ড্রামের মাটি পাল্টে ও প্রাকৃতিক জৈব সার মিশিয়ে মাটি দেওয়া হয়। গাছে পোকা দেখা দিলে নিমপাতাবাটা মিশ্রণের পানি ছিটিয়ে দেন। প্রয়োজনে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন তিনি।

নয়নের স্বামী ওয়াহিদুর রহমান ডিপিডিসিতে চাকরি করেন। তাঁদের সংসারে দুই সন্তান। পরিবারকে সময় দেওয়ার পর বাকি সময়টা গাছের পরিচর্যা করতে সময় কেটে যায় তাঁর।

ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘আমি নিজেও গাছের পরিচর্যা করি। বিভিন্ন নার্সারি থেকে গাছের চারা সংগ্রহ করা হয়।’

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বলেন, গাছ লাগানো ও পরিচর্যার বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানুষকে ছাদবাগানে আগ্রহী করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্কুলে বাগান করতে আমরা উৎসাহ দিচ্ছি। সদর উপজেলার আওতাধীন সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা মূল্যে গাছ বিতরণ করা হয়।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

‘কলা হামার কপাল খুলি দিছে’

নিজের কলাখেত পরিচর্যায় ব্যস্ত গৃহবধূ শাহিনা বেগম। আজ বুধবার রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বুড়িরহাট গ্রামে

‘ধান আবাদ করি পোষায় না। আলু আবাদ করতে খুব খাটুনি। অনেক টাকার দরকার হয়। এই জন্য ছয় বছর থাকি মুই কলার চাষ করোছুং। এতে খরচ কম, ঝামেলা নাই। লাভও বেশি।’ এই কথা রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বুড়িরহাট গ্রামের যাদু মিয়ার। কলার চাষ করে তিনি লাভের মুখও দেখছেন। বললেন, ‘এবার ২০ হাজার টাকা খরচ করি ২৫ শতক জমিত কলা নাগাছনু। খরচ বাদে লাভ হইছে ৫০ হাজার টাকা।’

ওই গ্রামের হামিদুর রহমান বলেন, ‘কলা হামার কপাল খুলি দিছে। কলা চাষ করি হামার সংসারের অভাবকোনা ঘোচছে। আগোত একবেলা খাবার জোগাড় করায় কষ্ট আছল। আল্লায় দেলে অ্যালা খাওয়া-পরা বাদেও ছোট ছাওয়াগুলা লেখাপড়া করোছে।’

শুধু যাদু-হামিদুরই নন, বুড়িরহাট গ্রামের অনেক কৃষকই ধান ও আলুর চাষ ছেড়ে কলা চাষে ঝুঁকেছেন। আজ বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, গ্রামটির চারদিকেই শুধু কলার বাগান। যেন কলাপাতায় সবুজ হয়ে রয়েছে গ্রামটি। তারাগঞ্জ সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে বুড়িরহাট গ্রাম। এ গ্রামের এখন ৫০ ভাগ লোক সারা বছর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কলার চাষ করছেন। ফলনও ভালো। এখানকার কলা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে।

গ্রামটিতে অসংখ্য কলার খেত নজর কাড়ে। অনেকেই ব্যস্ত সেই খেত পরিচর্যায়। কেউ গাছ থেকে কলার কাঁদি কাটছেন, কেউ তা রিকশা-ভ্যানে তুলছেন। বেশির ভাগ বাড়িতে চকচক করছে টিনের চালা। আধা পাকা বাড়িও আছে বেশ কয়েকটি।

গ্রামটিতে ঢোকার মুখে রাজা মিয়ার বাড়ি। একসময় তিনি দিনমজুরি করতেন। এখন কলা বিক্রির টাকায় তিনি ৩৬ শতক জমি কিনেছেন। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পড়াচ্ছেন। তিনি জানান, ৫ বছর ধরে ৩০ শতক জমিতে কলা আর নানা ধরনের সবজি আবাদ করছেন তিনি। এ বছর ৬০ শতক জমিতে কলার চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে ৪৫ শতক জমির লাগানো মালভোগ কলা বিক্রি করে ৯২ হাজার টাকা আয় করেছেন।

২৫ শতক জমিতে বছরে দুইবার আমন ও বোরো ধান চাষ করতে ব্যয় হয় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। উৎপাদিত ধান বিক্রি হয় ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা। এতে লাভ হয় মোটামুটি ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। কিন্তু ২৫ শতক জমিতে কলা চাষে ব্যয় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। সেই কলা বিক্রি হয় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা। লাভ আসে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা।

ওই গ্রামের শাহিনা বেগমের স্বামী বাক্‌প্রতিবন্ধী। বুড়িরহাট বাজারে চায়ের দোকানে দৈনিক ১০০ টাকা মজুরিতে কাজ করতেন শাহিনা। এতে একবেলার খাবার জুটলেও আরেক বেলা জুটত না। তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে প্রায়ই না খেয়ে থাকতে হতো। চায়ের দোকানে কাজের পাশাপাশি ৫ বছর আগে বসতভিটার ৭ শতক জমিতে কলার চাষ শুরু করেন। এক বছরের মাথায় কলা বিক্রি করে আয় আসে ১৫ হাজার টাকা। পরের বছর সয়ার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আজমের ২৫ শতক জমি বর্গা নিয়ে কলার চাষ করেন। এবারে লাগানো ৩৭ শতক জমির কলা বিক্রি করে ৭৫ হাজার টাকা আয় করেছেন। এভাবে ফি বছর কলা বিক্রির টাকায় দিয়ে শাহিনা বন্ধক নিয়েছেন ৪০ শতক জমি, কিনেছেন দুটি গাভি ও ২টি ছাগল। এখন আর চায়ের দোকানে কাজ করতে হয় না। তিন সন্তানকে নিয়ে বেশ সুখেই আছেন জানালেন শাহিনা।

প্রতিবছরের মতো এবারও কলার চাষ করেছেন ওই গ্রামের মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, ধানের চেয়ে কলা চাষে লাভ দ্বিগুণ। ২৫ শতক জমিতে বছরে দুইবার আমন ও বোরো ধান চাষ করতে ব্যয় হয় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। উৎপাদিত ধান বিক্রি হয় ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা। এতে লাভ হয় মোটামুটি ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। কিন্তু ২৫ শতক জমিতে কলা চাষে ব্যয় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। সেই কলা বিক্রি হয় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা। লাভ আসে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা।

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঊর্মি তাবাসসুম বলেন, অন্য ফসলের তুলনায় কলা চাষে লাভ বেশি। বিষয়টি বুঝতে পেরে বুড়িরহাট গ্রামের ধনী-গরিব সবাই কলা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। এখানকার কলা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের আধুনিক পদ্ধতিতে কলার চাষাবাদ ও রোগবালাই দূর করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

রোগ প্রতিরোধ করবে বেল

লেখক

বেল
বেল

ফলের মধ্যে বেল একটি উল্লেখযোগ্য ফল। এটি ছোট-বড় সবার কাছে অতি পরিচিত। গরমে বা ঠান্ডায় এক গ্লাস বেলের শরবত হলে নিমেষেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। নানান গুণের জন্য আমরা বেল খেয়ে থাকি। কারণ, বেলে আছে নানান ঔষধি গুণ, যা আমাদের দেহের অনেক উপকার করে থাকে।

বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, এ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাসিয়াম। বেলে প্রচুর পমিাণ ভিটামিন সি থাকে, যা স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা আমাদের দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সর্দি-কাশি ও ছোঁয়াচে রোগ থেকে বাঁচিয়ে রাখে। ভিটামিন এ আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে, রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। ডায়রিয়া ও আমাশয় রোগ সারিয়ে তোলে। অন্ত্রের কৃমিসহ নানা রোগজীবাণু ধ্বংস করে।

নিয়মিত বেল খেলে এর ল্যাকটিভ কোষ্ঠকাঠিন্য এবং মুখের ব্রণ দূর করে। এতে ত্বক ভালো থাকে। বেল পাকস্থলীর আলসারসহ নানা সমস্যা দূর করে। বেলের উপাদান মিউকাস মেমব্রেনের গঠনে সহায়তা করে এবং চামড়ার সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে।

বেলের ভিটামিন বি১ ও বি২ হৃৎপিণ্ড ও লিভার ভালো রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত বেল খেলে কোলন ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। বেলে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ, যা মুখের ব্রণ সারাতে সাহায্য করে।

যাদের পাইলস আছে, তাদের জন্য নিয়মিত বেল খাওয়া উপকারী। বেলের পুষ্টি উপাদান চোখের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলগুলোর পুষ্টি জোগায়। ফলে চোখ যাবতীয় রোগ থেকে রক্ষা করে। বেলের শাঁস ত্বককে সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে এবং ত্বকের স্বাভাবিক রং বজায় রাখে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com