আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

সারাদেশে কৃষি কার্যক্রম তদারকিতে ৭ কর্মকর্তা

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে আউশ-আমন মৌসুমে ধান উৎপাদন ও প্রণোদনা বিতরণসহ কৃষি কার্যক্রম তদারকিতে মন্ত্রণালয়ের সাত অতিরিক্ত সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার সারাদেশের ১৪টি কৃষি অঞ্চলের দায়িত্ব প্রত্যেককে দুটি করে দিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়। বুধবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের নির্দেশে কৃষি উৎপাদন আরও বেগবান করতে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম সব অঞ্চলের সার্বিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবেন। সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) হাসানুজ্জামান কল্লোল।

পরিকল্পনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রৌফ চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি, গবেষণা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কমলা রঞ্জন দাস রাজশাহী ও বগুড়া, সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুল ইসলাম দিনাজপুর ও রংপুর, সম্প্রসারণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল সিলেট ও কুমিল্লা, বীজ বিভাগের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বলাই কৃষ্ণ হাজরা যশোর ও খুলনা, পিপিসি (নীতি, পরিকল্পনা ও সমন্বয়) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব রুহুল আমিন তালুকদার ফরিদপুর ও বরিশাল এবং প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তার ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের দায়িত্ব পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

সুন্দরবনে বেড়েছে বাঘের বিচরণ

২০১৫ ও ২০১৮ সালে বাঘ জরিপে পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাঘের সংখ্যা কম ছিল। গত দুই-এক বছরে বনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইদানীং ওই এলাকায় বাঘের অবস্থান দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সময় পুরো সুন্দরবন পানিতে ডুবে

 যায়। তখন বনের অভ্যন্তরে বনবিভাগের পুকুরপাড়ে বাঘের অবস্থান দেখা গেছে। এ ছাড়া কাছাকাছি সময়ে বাঘের আক্রমণে পশ্চিম সুন্দরবনের কয়েকটি স্থানে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এতে বাঘের সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করেন সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন।তিনি বলেন, ২০১৫ সালে ‘ক্যামেরা ট্র্যাপিং’ পদ্ধতিতে বনবিভাগের জরিপে সুন্দরবনে ১০৬টি বাঘ দেখা যায়। এরপর ২০১৮ সালে ইউএসএইড বাঘ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের জরিপে বনে ১১৪টি বাঘ দেখা যায়। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, ২০১৫ সালের জরিপকে বেজলাইন (ভিত্তি) ধরে গবেষণায় ৪২ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। চলতি বছর তৃতীয় পর্যায়ে জরিপ হওয়ার কথা রয়েছে। ওই জরিপে বনে বাঘের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে। নতুন গবেষণায় বাঘ জরিপ ছাড়াও বাঘের শিকার হরিণ ও শূকর কি পরিমাণ আছে তা দেখা হবে। বাঘের আবাসস্থল নিয়েও গভীর পর্যবেক্ষণ থাকবে।

যেখানে সুন্দরি গাছ বেশি আছে, সেখানে বাঘ থাকতে পছন্দ করে নাকি কেওড়া গাছ বেশি সেখানে থাকে। ট্র্যাপিংয়ের জন্য কিছু ক্যামেরাও কিনতে হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বাঘের বর্ধিত সংখ্যাটা ধরে রাখা, ন্যূনতম বাঘ যেন না কমে। বন কর্মকর্তারা বলছেন, সুন্দরবনের করমজল ও কলাগাছিয়ায় যেভাবে হরিণ, কুমির, কচ্ছপের ব্রিডিং গ্রাউন্ড হয়েছে একইভাবে বনে একটি বড় এলাকাকে বাঘের অভয়ারণ্য করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বনের কটকা ও নীলকমল অংশকে বাঘের ব্রিডিং গ্রাউন্ড বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে এটি এখনো প্রস্তাবনা আকারে নেওয়া হয়নি। জানা যায়, ২০১৫ সালে জরিপে দেখা গেছে, একটি বাঘ সুন্দরবনে ১৫-১৭ স্কয়ার কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত ঘোরে। ফলে ব্রিডিং গ্রাউন্ডের জন্য নদী ও খাল থাকায় বিশাল এলাকাকে কীভাবে আটকানো যায় বা ‘ন্যাচারাল ব্রিডিং’-এর জন্য কীভাবে বাঘ-বাঘিনীকে একই জায়গায় রাখা যায় সে নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।  জানা যায়, এ বছর ১৬ মার্চ পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের পায়রাটুনি এলাকায় বাঘের আক্রমণে আবুল কালাম নামে এক বাওয়ালি নিহত হয়েছেন। পায়রাটুনি এলাকায় গোলপাতা কাটার সময় রয়েল বেঙ্গল টাইগার আক্রমণ করে তাকে। এরপর ১৪ এপ্রিল বনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের হোগলদড়া খাল এলাকায় মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে হাবিবুর রহমান নামে এক মৌয়াল নিহত ও হলদিবুনিয়ার আমড়াতলি এলাকায় আরেকটি বাঘের আক্রমণে রবিউল ইসলাম শেখ আহত হন।

এদিকে সুন্দরবনে বাঘ টিকিয়ে রাখতে নানারকমের চ্যালেঞ্জের কথা বলছেন বাঘ গবেষকরা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত জানান, সুন্দরবনের ভিতরে ভেসাল চলাচল ও মুভমেন্ট বন্ধ করতে হবে। বাঘ নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করে। পিকনিক পার্টি বনের মধ্যে উচ্চশব্দে মাইক বাজাতে থাকে- এসব নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রথমত. বন থেকে চোরা শিকারি তাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত. পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষা করতে হবে। ইকো সিস্টেমে কোনো একটা অংশে ব্যাঘাত হলে তার প্রভাব বাঘের ওপর পড়ে। এ ছাড়া বনে মিষ্টি পানির প্রবাহ রাখতে হবে। মিষ্টি পানির অভাবে লবণাক্ততা বাড়লে গরান বনের আধিক্য বাড়বে, পরিবেশ পরিবর্তন হবে। ফলে বাঘের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হবে। জানা যায়, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতি বছরের মতো আগামীকাল বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বাড়ছে কফি-কাজুবাদামের চাহিদা, পাহাড়ে ব্যাপক সম্ভাবনা

বাড়ছে কফি-কাজুবাদামের চাহিদা, পাহাড়ে ব্যাপক সম্ভাবনা

দেশে কফি কতটা জনপ্রিয়, সেটা এখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কফির পাশাপাশি বাড়ছে কাজুবাদামেরও চাহিদা। মাত্র চার বছরের ব্যবধানে দেশে কাজুবাদাম আমদানি বেড়েছে ৩২ গুণ। কফি ও কাজুবাদাম দুটি-ই আমদানির মাধ্যমে দেশের চাহিদা পূরণ হয়। সম্প্রতি পাহাড়ে এ দুই ফসল চাষে দারুণ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সরকারও পাবর্ত্য এলাকায় কফি ও কাজুবাদাম চাষের জন্য বিস্তর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। নেয়া হয়েছে ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমীক্ষা বলছে, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান— এই তিন পার্বত্য জেলায় অন্তত পাঁচ লাখ হেক্টর জমি অনাবাদি পড়ে আছে, যেগুলো কফি ও কাজুবাদাম চাষের জন্য উপযুক্ত। এর মধ্যে ন্যূনতম দুই লাখ হেক্টর জমিতে কাজুবাদাম আবাদ করা গেলে বছরে একশ কোটি ডলারের বেশি আয় করা যাবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়াবে প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা। বাকি জমির মধ্যে এক লাখ হেক্টরেও কফি আবাদ করা গেলে তা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা যাবে। এক লাখ হেক্টরে দুই লাখ টন কফি উৎপাদন সম্ভব, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা।

কফি-কাজুবাদাম উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক জাগো নিউজকে বলেন, ‘শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও কফি-কাজুবাদামের বিশাল চাহিদা রয়েছে। আমরা যেসব পণ্য রফতানি করি, সেগুলো থেকে এ দুই পণ্যের দামও বেশি। সেজন্য এসব ফসলের চাষাবাদ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বাড়াতে হবে। সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পাহাড়ে কাজুবাদাম ও কফির উন্নত জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং এসব ফসলের চাষ আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছি। এটি করতে পারলে ওই এলাকার অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটবে। মানুষের জীবনযাত্রার মানের দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কাজুবাদাম ও কফির মতো অর্থকরী ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রক্রিয়াজাতকরণে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। আমরা বিনামূল্যে উন্নত জাতের চারা, প্রযুক্তি ও পরামর্শসেবা দিচ্ছি। গত বছর কাজুবাদামের এক লাখ ৫৬ হাজার চারা বিনামূল্যে কৃষকদের দেয়া হয়েছে; এ বছর তিন লাখ চারা দেয়া হবে।’

ড. আব্দুর রাজ্জাক জানান, দেশে যেন কাজুবাদামের প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে সেজন্য কাঁচা কাজুবাদাম আমদানির ওপর শুল্কহার প্রায় ৯০ শতাংশ থেকে নামিয়ে মাত্র ৫ শতাংশে নিয়ে আসা হয়েছে।

হিসাব মতে, দেশের আয়তনের এক-দশমাংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল। এর তিনটি জেলার মোট আয়তন ১৩ হাজার ২৯৫ বর্গকিলোমিটার। কিন্তু আবাদযোগ্য ফসলি জমি মোট ভূমির মাত্র ৫ শতাংশ। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৯২ শতাংশ উঁচুভূমি, ২ শতাংশ মধ্যম উঁচুভূমি এবং ১ শতাংশ নিচুভূমি আছে। সমতল জমির অভাবে এখানে ফসলের আবাদ সম্প্রসারণের সুযোগ খুবই সীমিত।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বর্তমানে পার্বত্য এলাকার মোট ভূমির প্রায় ২২ শতাংশ আবাদের আওতায় আনার সম্ভাবনা আছে। এ এলাকার ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান ও আবহাওয়া বিবেচনায় কফি ও কাজুবাদাম এবং মসলাজাতীয় ফসল আবাদের অনেক সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলসহ অন্যান্য অঞ্চলের পার্বত্য বৈশিষ্ট্য অনুরূপ জমিও কাজুবাদাম ও কফি চাষের উপযোগী।

কাজুবাদামের বাজার
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যে, দেশে কাজুবাদামের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এ চাহিদার জোগানে দ্রুত বাড়ছে আমদানির পরিমাণ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৮ হাজার কেজি কাজুবাদাম আমদানি হয়েছিল। শেষ তথ্য পর্যন্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কাজুবাদাম আমদানি হয়েছে পাঁচ লাখ ৮০ হাজার কেজি। অর্থাৎ চার বছরে পণ্যটির আমদানি বেড়েছে প্রায় ৩২ গুণ।

এদিকে আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থার তথ্য বলছে, বর্তমানে বিশ্বে প্রতি বছর ৩৫ লাখ টন কাজুবাদাম উৎপাদন হয়। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে পার্শ্ববর্তী ভারতে, সাত লাখ ৪৬ হাজার টন। এছাড়া ভিয়েতনামে চার লাখ ও আফ্রিকার দেশগুলোতে ১২ লাখ টন কাজুবাদাম উৎপাদিত হয়। গত বছর পর্যন্ত বাংলাদেশে কাজুবাদাম উৎপাদন হয়েছে মাত্র দেড় হাজার টন।

‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের প্রস্তাবনা সূত্রমতে, বিশ্বে কাজুবাদামের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সারাবিশ্বে কাজুবাদামের বাজার রয়েছে ৯.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের। এর মধ্যে ভিয়েতনাম একাই প্রায় ৩.৩৪ বিলিয়ন ডলার রফতানি করে। বাকি দেশগুলোর মধ্যে ভারত সর্বোচ্চ ৬৭৪ মিলিয়ন ডলার কাজুবাদাম রফতানি করে। ভারতে উৎপাদন বেশি হলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে রফতানি কম হয়।

কফির উৎপাদন ও বাজার
ক্যাফেইনসমৃদ্ধ কফি বিশ্বে অন্যান্য পানীয়ের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সমাদৃত। কফি পৃথিবীর প্রায় ৭০টি দেশে উৎপাদন হয়।

ওই প্রকল্পের প্রস্তাবনা সূত্রের তথ্যানুসারে, বিশ্বে কফির আন্তর্জাতিক বাজার প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের। কফির বিশ্ব বাণিজ্যে ব্রাজিল প্রথম স্থান দখল করে আছে, যার অংক ৪.৭ বিলিয়ন ডলার। ২০২০ সালে বিশ্বে মোট কফি উৎপাদন হয়েছে ৯০ লাখ টন। সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিলে ৩৫.৫৮ লাখ টন এবং ভিয়েতনামে ১৮.৩০ লাখ টন উৎপাদন হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলা, বান্দরবান জেলার রুমা, নীলফামারী, মৌলভীবাজারসহ অন্যান্য জেলায়ও প্রচুর কফি চাষ হচ্ছে। এই চাষাবাদকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্য নিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের উদ্যোগ
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাহাড়ি অঞ্চলসহ সারাদেশের যেসব অঞ্চলে কাজুবাদাম এবং কফির চাষাবাদের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে; তা চাষের আওতায় আনতে ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক ২১১ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ২০২১-২৫ মেয়াদের এ প্রকল্প বাস্তবায়নে রয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে কাজুবাদাম এবং কফি ফসলের উচ্চফলনশীল ও উন্নত জাত উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। শিগগিরই দক্ষতা উন্নয়নে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে—কাজুবাদামের ওপর দুই হাজার ২৫০টি প্রদর্শনী, কফির ওপর পাঁচ হাজার ২৫০টি প্রদর্শনী এবং ৪৯ হাজার ৫০০ কৃষককে প্রশিক্ষণ। এছাড়া কাজুবাদামের উচ্চফলনশীল নতুন দুটি জাত উদ্ভাবন এবং ২৫ হাজার জার্মপ্লাজম সংগ্রহসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে প্রকল্পের আওতায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু আগামীকাল

লেখক

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারি বিপনন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবি) আগামীকাল থেকে ভোক্তা সাধারণের নিকট ভর্তুকি মূল্যে সয়াবিন তেল, মশুর ডাল ও চিনি বিক্রি করবে। মাসব্যাপী নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের বিক্রয় কার্যক্রম চলবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কঠোর লকডাউন পরিস্থিতিতে নিন্ম আয়ের মানুষের নিকট ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেয়া এবারের বিক্রয় কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য। টিসিবি নিয়োজিত ডিলাররা ভ্রাম্যমান ট্রাকে দেশব্যাপী এসব পন্য বিক্রি করবে। সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, মশুর ডাল প্রতি কেজি ৫৫ টাকা ও চিনি কেজি প্রতি ৫৫ টাকা দরে বিক্রি করা হবে। 
আগামীকাল থেকে ২৬ আগষ্ট পর্যন্ত মাসব্যাপী এসব পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কুষ্টিয়ায় চামড়ার সরবরাহ কমায় দাম বেড়েছে, বঞ্চিত মৌসুমি ব্যাবসায়ীরা

আব্দুম মুনিব:[২] গত বছরের তুলনায় কুষ্টিয়ায় কমেছে কোরবানির পশুর চামড়া। কারণ এবার ঈদ উল আযহায় জেলাতে কোরবানী কম হয়েছে। চামড়া ব্যবসায়ীদের হিসেবে, এ বছর জেলার চামড়া পট্টি মোকামে ঈদে লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ লাখ পশু কোরাবানীর চামড়া। এরমধ্যে গরু ১ লাখ ৫০ হাজার। খাসী ও অন্যান্য পশু ৩ লাখ ৫০ হাজার। কিন্তু কোরবানি কম হওয়ায় এবার সেটি কমে দাঁড়িয়েছে।

[৩] ঈদের দ্বিতীয়দিন অর্থ্যাত শুক্রবার পর্যন্ত এই মোকামে ৩০ হাজার গরু ও ১ লাখ খাসির চামড়া আমদানি হয়েছে। এদিকে যে সমস্ত ফড়িয়ারা চামড়া ব্যাবসার সাথে জড়িত তারা দাম বৃদ্ধির আশায় চামড়া বিক্রি না লবণজাত করে রেখে দিয়েছে। কুষ্টিয়ার মোকামে আশেপাশের কয়েকটি জেলার চামড়া আমদানি হয়। এখানকার চামড়া ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় কোরবানীর সংখ্যা কমায়, কমেছে পশুর চামড়ার সরবরাহ। এ কারনে দরও কিছুটা বেড়েছে।

৪] চামড়া ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলছিলেন, গত ঈদে যে পরিমান কিনেছিলেন এবার কোরবানী কম হওয়ায় এবার গত বছরের তুলনায় তার ৬০-৭০% কিনতে পেরেছেন। একারণেই এবার কিছুটা দাম পেয়েছে বিক্রেতারা। গরুর চামড়ার দাম পিস প্রতি বেড়েছে ১’শ থেকে ২’শ টাকা। শুক্রবার দুপুরে চামড়া পট্টি এলাকায় বড় আকারের গরুর চামড়ার দাম ছিল ৮’শ টাকা। মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর চামড়ার দাম বিক্রি হয়েছে ৫শ থেকে ৭শ টাকা। চামড়ার দাম কিছুটা বাড়লেও গত তিন বছর ক্ষতি হওয়ায় এবার মৌসুমি চামড়া ক্রেতা ছিল খুবই কম। সেভাবে দেখা যায়নি অলিতে গলিতে চামড়া কেনাকাটা।

[৫] দাম না পাওয়ার অভিজ্ঞতায় কোরবানীদাতারা মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বেশী পরিমান দান করেছে। তবে একাধীক মাদ্রাসার অভিযোগ ঈদের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত অসাধু সিন্ডিকেটে গত তিন বছরের মত এবারো কম মূল্যে চামরা বিক্রি করতে হয়েছে তাদের চামড়া এই বাড়তি দাম শুরু হয়েছে সন্ধ্যার পর থেকে। সকাল থেকে গেল বছরের দরে চামড়া বিক্রি হয়েছে। এই যে দামের হেরফের, এতে লাভবান হয়েছে অসাধু সিন্ডিকেটের আড়তদাররা।

৬] মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ বলছেন, গত তিন বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বঞ্চিত তারা। বাড়তি দাম পেয়েছে যারা চামড়া ধরে রাখতে পেরেছিল। কুষ্টিয়ার মাদ্রাসার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানান, যেসব মাদ্রাসা বা এতিখানা চামড়া সহায়তা হিসেবে নেন তারা তো সংরক্ষন করতে পারবে না। এটা জেনেশুনেই সকাল থেকে পানির দর। যখন এসব প্রতিষ্ঠানের চামড়া বিক্রি শেষ তখন বেড়ে গেল দাম।

[৭] এটা মুলত অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করে। শহরের ঐতিহ্যবাহী মোমতাজুল উলুম মাদ্রাসার প্রধান মুফতি আরিফুজ্জামান জানান, গত বছর গরুর চামড়া বিক্রি করেছি ৫শ থেকে ৬শ টাকায়, এবছর ঈদের দিন রাত ১০টায় গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ৭৫০ টাকায়। শহরের মদিনাতুল উলুম মাদ্রসার প্রধান মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, তারা গরুর চামড়া গড়ে বিক্রি করেছেন ৮৫০ টাকায়।

[৮] কুষ্টিয়া চামড়া ব্যবসায়ী সমিতর সাধারণ সম্পাদক আনিস কেরাইশি জানান, এ বছর কোরবানির প্রতি বর্গফুট গরুর কাচা চামড়ার মূল্য সরকারিভাবে ঢাকার বাইলে নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা। তিনি বলেন, গতবছর এই চামড়া ২৫ টাকা বর্গফুট কিনলেও এবার ৩৭ টাকা করে কিনছেন।

[৯] অন্যদিকে খাসির চামড়া এবছর তারা কিনেছেন ১শ টাকার উপরে। কবে তার অভিযোগ, বিগত বছরগুলোর মতো ট্যানারী মালিকরা ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের মূলধন বকেয়া আটকে আছে, আর এ কারনে নগত টাকা দিয়ে চামড়া ক্রয় করতে তাদের সমস্যার সম্মুক্ষিন হতে হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

য‌শো‌রের রাজারহা‌টে চার কো‌টি টাকার চামড়া বিক্রি

র‌হিদুল খান: [২] কোরবানি ঈদের পর যশোরের রাজারহাটে প্রথম চামড়ার বাজার বসে শনিবার। এদিন আনুমানিক চার কোটি টাকার চামড়া কেনাবেচা হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা বলছেন। তবে, জেলা বাজার কর্মকর্তার তথ্য, ৭০ লাখ টাকার মতো চামড়া বিক্রি হয়েছে রাজারহাটে।

[৩] শনিবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকেই চামড়া আসতে শুরু করে। বেচাকেনা শুরু হয় আটটা বাজার সাথে সাথে। তবে, বৃষ্টি এবং লকডাউন চামড়ার হাটে প্রভাব ফেলে। লকডাউনের কারণে ঢাকার বড় বড় আড়ৎদাররা আসেননি। আর বৃষ্টির কারণে রাজারহাটে চামড়া আনতে পারেননি অনেক খুচরা বিক্রেতা। তারপরও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অন্যান্য বছরের মতো হতাশ না।

[৪] এ বছর কোরবানির ঈদ হয়েছে বুধবার। ঈদের পর শনিবার ছিল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার রাজারহাটে প্রথমদিনের বেচাকেনা। এদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষুদ্র এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া আনেন বিক্রির উদ্দেশ্যে।

[৫] বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল জানান, শনিবারের হাটে গরুর ৩০ হাজার এবং ছাগলের ৩৫ হাজার চামড়া আসে। যা নগদ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আনুমানিক চার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করেন মুকুল।

৬] তবে, জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান জানান, ১২ হাজারের মতো গরু ও একই পরিমাণ ছাগলের চামড়া ওঠে রাজারহাটে। গরুর প্রতি পিছ ছোট এবং কাটাছেঁড়া চামড়া ২’শ ৫০ থেকে ৩’শ, মাঝারি চামড়া ৪’শ থেকে ৪’শ ৫০ এবং বড় চামড়া ৮’শ থেকে ৯’শ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একইভাবে ছাগলের প্রতি পিছ চামড়া ২০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। সেই হিসেবে ২৪ হাজার চামড়া কেনাবেচায় আনুমানিক ৭০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

 তবে, কোনো কোনো বিক্রেতা বলেন, ছাগলের চামড়া সর্বনিম্ন পাঁচ টাকা এবং গরুর চামড়া ১শ’-১শ’২০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে।

[৮] চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতা আলাউদ্দিন মুকুল দেন ভিন্ন তথ্য। তিনি বলেন, রাজারহাটে প্রথমদিনের বাজারে গরু-ছাগল মিলে ৬৫ হাজার চামড়া বিক্রি হয়েছে। যাতে লেনদেন হয়েছে আনুমানিক চার কোটি টাকা। এসব চামড়া সম্পূর্ণ নগদ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

[৯] তিনি জানান, চামড়ার বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কারণে। তার দাবি, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া চিনেন না। একইসাথে তারা চামড়া সংরক্ষণ করতে পারেন না। সময়মতো লবণ দেন না। ফলে, তাদের কেনা চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে তারা ঠিকমতো দাম পান না। তিনি মৌসুমি ব্যবসায়ীদের চামড়ার ব্যবসা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।

[১০] কথা হয় রাজারহাটে চামড়া নিয়ে আসা উজ্জ্বল নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সাথে। তিনি বলেন, ‘বাজার একেবারে খারাপ না।’ রফিউদ্দিন নামে আরেক ব্যবসায়ীর বক্তব্য, ‘লকডাউনের কারণে চামড়ার দাম কম ছিল। লকডাউন না থাকলে আরও বেশি দামে চামড়া বিক্রি হতো।’

[১১] খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, এ বছর কোরবানির পরপরই প্রশাসন ব্যাপকভাবে তৎপর ছিল। যাতে কোনোভাবেই রাজারহাট থেকে চামড়া পাচার না হয় সেদিকে নজর ছিল জেলা প্রশাসনের।

[১২] জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান নিজেই বিষয়টি মনিটরিং করেন বলে জানান জেলা বাজার কর্মকর্তা। তিনি বলেন, লবণের যাতে কোনো সংকট না হয়। ব্যবসায়ীরা যাতে সময়মতো লবণ পান সেদিকে কড়া দৃষ্টি ছিল প্রশাসনের। পুলিশও ছিল ব্যাপক তৎপর। ফলে, চামড়া নিয়ে কোনো রকম সমস্যার সম্মুখিন হননি ব্যবসায়ী কিংবা আড়ৎদাররা। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com