আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

সামুদ্রিক মাছ রক্ষায় পদক্ষেপ না নেয়া হলে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হতে পারে, আশঙ্কা গবেষকদের

নির্বিচারে সামুদ্রিক মাছ শিকার এবং অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ মাছ ধরা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগর মৎসশূণ্য হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন
নির্বিচারে সামুদ্রিক মাছ শিকার এবং অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ মাছ ধরা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগর মৎসশূণ্য হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন

মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে এবং ইলিশ রক্ষায় সফলতা থাকলেও বঙ্গোপসাগরে মাছের পরিমাণ কমছে এবং কিছু কিছু সামুদ্রিক মাছের প্রজাতি অনেকটা নিঃশেষ হতে চলেছে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা।

নির্বিচারে সামুদ্রিক মাছ শিকার এবং অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ মাছ ধরা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগর মৎস্যশূন্য হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা ও জরিপের মাধ্যমে এ মূল্যায়ন করছেন গবেষকরা।

বাংলাদেশের সাগরে মাছের মজুদের কোনো সঠিক হিসেব নেই আর কী পরিমান মাছ ধরা যাবে তারও সীমা পরিসীমা নির্ধারিত নেই। কারণ সাগরে মৎস্য সম্পদের জরিপ গবেষণা বন্ধ ছিল প্রায় দুই দশক।

২০১৬ সালে নতুন জাহাজ আর. ভি মীন সন্ধানী কেনার পর জরিপ শুরু হয়েছে।

সাগরে ১০-২০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত মহীসোপান এলাকায় এই জরিপ কার্যক্রম চালানো হয়।

গত তিন বছরের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সামুদ্রিক মাছ নিয়ে একটি প্রতিবেদন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের মেরিন ফিশারিজ সার্ভে ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, “২০০০ সালের পর থেকে আমাদের ভেসেল বেইজড যে গবেষণা সেটা পুরাপুরি বন্ধ ছিল। বাংলাদেশ মেরিন ফিসারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্পের মাধ্যমে এটা আবার শুরু করা হয়েছে।”

“মূলত ২০১৬ সাল থেকে এটা আমরা শুরু করেছি। তিন বছরের প্রাথমিক তথ্যে আমরা দেখছি যে আমাদের সমুদ্রের সার্বিক মজুদ ঠিক থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু মাছের মনে হচ্ছে অতিরিক্ত আহরণ হয়েছে।”

সমুদ্র বিজ্ঞানীরা বলছেন কয়েক প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির মুখে পড়তে পারে
সমুদ্র বিজ্ঞানীরা বলছেন কয়েক প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির মুখে পড়তে পারে

সামুদ্রিক মৎস সম্পদের অবস্থা নিয়ে গবেষণায় যুক্ত সমুদ্র বিজ্ঞানী সাইদুর রহমান চৌধুরী – যিনি মৎস্য সম্পদ জরিপ জাহাজ আর ভি মীন সন্ধানীর তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণের সঙ্গেও যুক্ত আছেন – বলেন, “এটা আমাদের সায়েন্টিফিক কমিউনিটির জন্য খুবই উদ্বেগের। মাছের বংশ বিস্তারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ রেখে দেয়া যেটা দরকার সেটা যদি আমরা না রাখি তাহলে পরবর্তী সিজনে বংশবৃদ্ধি হবে না।”

“পৃথিবীর অন্যান্য সমুদ্রের যেমন গালফ অফ থাইল্যান্ড অনেকটা মৎসশূন্য হয়ে গেছে। আমরা চাইনা আমাদের বে অফ বেঙ্গল সেরকম মৎসশূণ্য হয়ে যাক।”

মাছের যেসব প্রজাতি হুমকিতে:

সামুদ্রিক মাছের মধ্যে লাক্ষা, সার্ডিন, পোয়া, লটিয়া, ফলি চান্দা, হরিণা চিংড়ি ও কাটা প্রজাতির মাছের মজুদ এবং পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে।

গবেষকরা বলছেন এসব সামুদ্রিক মাছ অতিরিক্ত আহরণ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের মতে অতিরিক্ত আহরণের কারণে যে কোনো মাছ বাণিজ্যিকভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে এবং সুরক্ষার ব্যবস্থা করা না হলে সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবার আশঙ্কা থেকে যায়।

সমুদ্র বিজ্ঞানী সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, “লাক্ষ্যা, তাইল্যা, রুপচান্দা টাইপের বেশকিছু মাছ বস্তাপোয়া টাইপের বিশেষ করে দামি এবং বড় আকৃতির মাছ এখন খুবই কম পাওয়া যাচ্ছে।”

“বাজার পর্যবেক্ষণ থেকেই আমরা স্পষ্ট দেখতে পাই যে বেশকিছু মাছের ধারাবাহিক আমরা বছরের পর বছর ঘাটতি দেখতে পাচ্ছি। এটা নির্দেশ করে যে সমুদ্রে তাদের পরিমাণ কমে গিয়েছে বলেই বাজারে তাদের জোগান কমে গিয়েছে।”

ছোট ট্রলারের জেলেদের অভিযোগ বড় ট্রলার বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছের পরিমাণও কমে গেছে
ছোট ট্রলারের জেলেদের অভিযোগ বড় ট্রলার বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছের পরিমাণও কমে গেছে

জেলেদের অভিজ্ঞতা:

সামুদ্রিক মৎস আহরণে বাংলাদেশে কাঠের তৈরি ট্রলার, মাঝারি ট্রলার এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলার ব্যবহৃত হয়।

নৌ বাণিজ্য দপ্তরের হিসেবে নিবন্ধিত কাঠের নৌযানের সংখ্যা ১১,৭১৫টি। তবে ধারণা করা হয় অগভীর সাগরে মাছ ধরায় যুক্ত আছে ৬০-৬৫ হাজার নৌযান।

এছাড়া রয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলার যেগুলো সাগরে ৪০ মিটার গভীরতার পরে মাছ শিকার করে।

নৌ বাণিজ্য দপ্তরের হিসেবে ২৫১টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল নৌযান সমুদ্রে মাছ আহরণ করছে।

চট্টগ্রামের ফিশারিঘাটে মাছ নিয়ে আসা বেশ কয়েকজন জেলে এবং মাঝির বক্তব্যেও সামুদ্রিক মাছের সংকটের কথা শোনা গেল।

৩৫ বছর ধরে সমুদ্রে মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত জসীম মাঝির পরিস্কার জবাব, এখন আর আগের মতো মাছ নেই। আগে যেখানে দুই তিন ঘণ্টা নৌকা চালিয়ে গিয়ে মাছ ধরতে পারতেন এখন সেই মাছ ধরতে ১৮-২০ ঘণ্টা চালিয়ে সাগরের গভীরে যেতে হয়।

“মাছের যত জাত আছে, আইল্যা মাছ টাছ সব মাছ কইম্যা গেছে। আগে পাইতাম এহন পাওয়া যায় না। এখন ইলিশ ছাড়া আর কোনো মাছ সেরকম পাওয়া যায় না।”

ছোট ট্রলারের জেলেদের অভিযোগ বড় ট্রলার বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছের পরিমাণও কমে গেছে।

নির্ধারিত নিয়ম না মেনে মাছ ধরার কারণে মাছ কমে যাচ্ছে বলে মনে করেন জেলেরা
নির্ধারিত নিয়ম না মেনে মাছ ধরার কারণে মাছ কমে যাচ্ছে বলে মনে করেন জেলেরা

এক্ষেত্রে মাছ ধরার পদ্ধতি নিয়েও উদ্বেগ জানান তারা।

জেলেদের অভিযোগ, বড় নৌযানগুলোর জালে ছোট বড় নির্বিশেষে সব মাছই আটকা পড়ে অনেক মাছের অকাল মৃত্যু ঘটে।

আরেকজন মাঝি বলছিলেন, “যেসব মাছ বাজারে বেঁচা যাইবো না বা আনা সম্ভব হইবো না সেগুলা আনে না। বড়গুলা আনে আর সব সাগরে ফালায় দেয়”।

মাঝারি আকারের ইন্ডাস্ট্রিয়াল নৌযানে মৎস্য শিকারের সঙ্গে যুক্তরা আবার অত্যাধুনিক মাছধরা জাহাজের শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।

ছোনার প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছের সুনির্দিষ্ট অবস্থান জেনে নির্বিচারে মাছ শিকার করা হয় বলেই তাদের অভিযোগ।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল নৌযানে মাছ শিকারের যে জাল সেটিরও নির্ধারিত মাপ আছে কিন্তু সেটি কতটা মানা হচ্ছে সে প্রশ্নও তোলেন অনেকে।

সামুদ্রিক সাদা বা বড় মাছ এবং চিংড়ি মাছ ধরার জন্য জালের ম্যাশ সাইজ যথাক্রমে ৬০ মিলিমিটার ও ৪৫ মিলিমিটার নির্ধারিত থাকলেও অনেকেই এটি মেনে চলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশে ইন্ডাস্ট্রিয়াল মাছ ধরা নৌযানের নিবন্ধিত সংখ্যা ২৫১টি। গত ৫ বছরে ৩৯টি নতুন মাছ ধরা আধুনিক নৌযান মাছ শিকারে যুক্ত হয়েছে।

নৌ বাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন মো. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন, সাগরে মাছের মজুদ সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নৌযানের সংখ্যা বাড়ানো বিপক্ষে তারা।

“যতদিন পর্যন্ত মাছের মজুদ এবং পরিমাণ সম্পর্কে রিপোর্ট না পাচ্ছি আমাদেরকে নৌযানের এ সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিৎ। তা নাহলে আমাদের এই ফিশিং সেক্টর এবং আমাদের যে চারটা ফিশিং গ্রাউন্ড আছে সেগুলো মাছশূণ্য হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে।”

জব্দ করা বিদেশি মাছধরা নৌকা
জব্দ করা বিদেশি মাছধরা নৌকা

প্রতিবেশি দেশের নৌযানের অনুপ্রবেশ:

বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় মৎস্য আহরণে প্রতিবেশি দুটি দেশের নৌযানের অবৈধ অনুপ্রবেশ একটা নিয়মিত সমস্যা বলে জানান স্থানীয় জেলেরা।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং নৌ বাহিনীর প্রতিবেশি দেশের মাছধরা নৌযান আটকের বহু নজির রয়েছে।

গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা বলেন, বাংলাদেশি সমুদ্রসীমায় প্রায়ই ভারত ও মিয়ানমারের মাছ ধরা ট্রলার ঢুকে পড়ছে। এমনকি বাংলাদেশের সীমানায় মাছধরা নিষিদ্ধ থাকাকালীন সময়েও তাদের উপস্থিতি বেড়ে যায় বলেই অনেকে বলেছেন।

বাংলাদেশি নৌযানের মৎসজীবীদের অভিযোগ, যে হারে বিদেশি নৌযান বাংলাদেশের সীমানায় অবৈধ মাছ শিকার করে সে তুলনায় বিদেশি জাহাজ আটক হয় খুবই কম।

সাগরে ৩০ বছর মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত হুমায়ুন কবীর বলেন, দক্ষিণ দিকে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ অংশে মিয়ানমার এবং পশ্চিমে চালনার দিকে ভারতীয় জাহাজ প্রায়ই অবৈধ মাছ শিকার করে।

অনেক সময় একাধিক জাহাজ নিয়ে মিয়ানমার ও ভারতীয় জাহাজ সাগরে মাছ ধরতে আসে বলেও তাদের নজরে পড়ে।

“লাক্ষা মাছ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ও মূল্যবান মাছ এবং এই মাছটি মারাত্মকভাবে আহরিত হয়ে প্রায় নিঃশেষ হয়ে গেছে। এছাড়া চিংড়ি মাছের বহু প্রজাতিও হুমকির মুখে। আমরা গবেষণা করছি কিন্তু আরো বিস্তারিত গবেষণা ছাড়া চূড়ান্ত মূল্যায়ণ সম্ভব নয়। তাই পূর্ণাঙ্গ গবেষণা এবং মজুদ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করার জন্য মাছ ধরা ট্রলার ও নৌযান সীমিত করা এবং ক্যাচ কন্ট্রোল পদ্ধতি প্রয়োগ করা জরুরী।”

দেশের মৎস্য বিভাগ দীর্ঘমেয়াদে সাগরে মাছের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংরক্ষণ কার্যক্রম নিয়েছে। সাগরে মাছ ধরা বন্ধ মৌসুম, মেরিন রিজার্ভ এলাকা ও সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে।

গবেষকরা বলেন, ইলিশকে টার্গেট করে যেভাবে সাফল্য এসেছে সামুদ্রিক অন্যান্য মূল্যবান অর্থকরী মাছের ক্ষেত্রেও আলাদা করে সুনির্দিষ্ট কৌশল পরিকল্পনা করা দরকার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

পরিবেশ

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় প্রাকৃতিক শৈবালের বিশাল ঐশ্বর্য

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় প্রাকৃতিক শৈবালের বিশাল ঐশ্বর্য

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় বিশাল এক ঐশ্বর্য রয়েছে প্রাকৃতিক শৈবালের। খাদ্য উপযোগী বিভিন্ন জাতের শৈবালের পরিকল্পিত চাষের দারুণ সম্ভাবনার কথা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতোমধ্যে গবেষণাও এগিয়েছে বেশ দূর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এদিকে দৃষ্টি দেয়া হলে সূচিত হবে ব্লু ইকোনমির এক নতুন দিগন্ত।

কুল কিনারাহীন বিস্তীর্ণ এই জলরাশি শুধু গর্জন আর ঢেউয়েই সীমিত নয়, এটি অফুরন্ত সম্পদের এক ভাণ্ডার। সাগরতীরের নোনা পানির এই ঘোলা অংশ পেরিয়ে গেলে স্বচ্ছ পানির গভীরতায় রয়েছে বৈচিত্রময় এক সম্পদ ‘শৈবাল’।

পৃথিবীর অনেক দেশেই শৈবাল এক অনন্য অর্থকরী সবজি। বাংলাদেশে ক্ষুদ্রনৃতাত্ত্বিক সমাজে উপাদেয় সবজি হিসেবে সমুদ্র শৈবাল খাওয়ার চল রয়েছে।

একই সঙ্গে শুরু হয়েছে পরিকল্পিতও চাষও। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধানে চলছে শৈবাল নিয়ে নানামুখি গবেষণার কাজ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গবেষণার শুরুটা ২০১৬ সালে। এখন দিনে দিনে উন্মোচন হচ্ছে সামুদ্রিক শৈবালের নানামুখি ব্যবহার ও উপকারিতা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফলের ব্যাগিং কারখানা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফলের ব্যাগিং কারখানা

আম, পেয়ারা বা মাল্টার মতো ফলকে পোকামুক্ত রাখতে যখন কীটনাশক স্প্রেই ছিল একমাত্র ভরসা তখন কয়েক বছর আগে চালু হওয়া ব্যাগিং পদ্ধতির কল্যাণে পাল্টে গেছে চিত্র। বাণিজ্যিকভিত্তিতে মানসম্পন্ন ফল উৎপাদনে ব্যাগিং হয়ে উঠছে অপরিহার্য। আর ব্যাগের চাহিদা পূরণে আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে প্রথমবারের মতো কারখানা স্থাপিত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

গাছে থাকা আমের পোকা নিধনে বাধ্য হয়েই ১৫ থেকে ৬২ বার পর্যন্ত কীটনাশক স্প্রে করেন বাগান মালিক ও কৃষক। একইভাবে উচ্চমূল্যের ফল পেয়ারা আর দেশের বাগানের নতুন ফল মাল্টার পোকা দমনেও দিশেহারা হয়ে ওঠেন চাষী। এসব সমস্যার বিজ্ঞানসম্মত সমাধান হিসেবেই আসে ব্যাগিং পদ্ধতি। অনেকেই ব্যবহার শুরু করেন ফ্রুট ব্যাগিং।

কিন্তু প্রশ্ন ওঠে বিশেষ ধরনের কাগজে তৈরি ব্যাগ এর যোগান নিয়ে। চীন তাইওয়ান থেকে আমদানি করা ব্যাগের মূল্য যখন দাঁড়ায় নতুন চিন্তার কারণ হয়ে তখন দেশে প্রথমবারের মতো ফ্রুট ব্যাগ এর কারখানা গড়ে তোলেন জেসমিন আক্তার।

এই উদ্যোগের সঙ্গে কৃষকের অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি রয়েছে পরিবেশ সুরক্ষার ভাবনাও।

ব্যাগিং পদ্ধতিটি কৃষক ও বাগান মালিকদের চিনিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্যানতত্ত্ববিদ ড. শরফউদ্দিন। তিনি বলছেন, ফ্রুট ব্যাগের রয়েছে বিপুল চাহিদা।

দেশের বিভিন্ন এলাকার বাণিজ্যিক আমবাগানগুলোতে এখন চলছে ব্যাগিং-এর কাজ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পরিবেশ সুরক্ষায় আব্দুল ওয়াহেদের বৃক্ষপ্রেম অনন্য দৃষ্টান্ত

পরিবেশ সুরক্ষায় আব্দুল ওয়াহেদের বৃক্ষপ্রেম অনন্য দৃষ্টান্ত

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষার তাগিদে সাত বছর ধরে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় গাছ রোপণ করে চলেছেন আব্দুল ওয়াহেদ নামের এক বৃক্ষপ্রেমিক। বজ্রপাতে মৃত্যুঝুঁকির এই সময়ে তার উদ্যোগকে অনন্য দৃষ্টান্ত বলছেন অনেকেই। ইতিমধ্যে তার রোপিত গাছের সংখ্যা ছাড়িয়েছে লাখের অংক।

কোনো বাণিজ্যিক বা নিজে ভোগ করার চিন্তা থেকে নয়, বরং দুই কোটি মানুষের এই শহরের পরিবেশ সুরক্ষায় নিরবেই এক বৃক্ষ বিপ্লব ঘটিয়েছেন আব্দুল ওয়াহেদ। রাজধানীর কুড়িল বিশ্ব রোড থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার মহাসড়কের আইল্যান্ড ও আশপাশ এলাকায় তিনি লাগিয়েছেন অগণিত তাল গাছ। উদ্দেশ্য, সব ধরণের দুর্যোগ বিশেষ করে বজ্রপাতের হাত থেকে জানমাল রক্ষা।

বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় তালগাছ অন্যতম এক ভরসা, জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরাও।

আব্দুল ওয়াহেদের বৃক্ষ রোপণের শুরু ২০১২ সালে। তালগাছ ছাড়াও তিনি এ পর্যন্ত রোপণ করেছেন কয়েক হাজার খেজুর, কাঁঠাল, নিম ও নারকেল গাছ।

বৃক্ষের জন্য অর্থ, সময় ও নিষ্ঠা নিয়ে নিযুক্ত এই মানুষটি অনেকের কাছেই এক ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত। এই শহরের প্রতিটি জায়গায় এভাবেই বৃক্ষ রোপণ অব্যাহত রাখতে চান আব্দুল ওয়াহেদ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

দর্শনার্থীশূন্য চিড়িয়াখানায় শান্তিতে আছে প্রাণীকুল

রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ থাকায় শান্তিতে দিন পার করছে প্রাণীকুল। সুনসান চিড়িয়াখানায় পশুপাখিরা খাঁচার মধ্যে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছে, কেউ তাদের বিরক্ত করছে না। পেট ভরে খেয়ে নিজেদের মতো সময় পার করতে দেখা গেছে তাদের।

চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকলেও প্রাণীকুলকে সময়মতো খাবার দেয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ এই গরমে পরিচর্যা বাড়ানো হয়েছে বলে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রোববার জাতীয় চিড়িয়াখানায় সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।

 দর্শনার্থীশূন্য চিড়িয়াখানায় শান্তিতে আছে প্রাণীকুল
দর্শনার্থীশূন্য চিড়িয়াখানায় শান্তিতে আছে প্রাণীকুল

সরেজমিনে দেখা গেছে, দর্শনার্থীদের বিচরণ না থাকায় চিড়িয়াখানায় এক নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রাণীদের দেখভাল করতে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পশুচিকিৎসকরা তাদের নিজ নিজ দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। সময়মতো সব প্রাণীকে খাবার দেয়া হচ্ছে। সেসব খাবার দলবেঁধে খেয়ে কেউ বিশ্রাম নিচ্ছে, কেউ খেলাধুলা করছে, কেউ আবার নিজের বাচ্চা নিয়ে ব্যস্ত। যেন প্রাণীরা তাদের নিজ আস্তানায় নিজেদের মতো থাকার সুযোগ পেয়েছে।

চিড়িয়াখানার খাবার দেয়ার কাজে নিয়োজিত কর্মচারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করলেও চিড়িয়াখানায় এমন পরিস্থিতি কখনো সৃষ্টি হতে দেখিনি। কখনো এত দীর্ঘ সময় চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকে না বরং বন্ধের দিনগুলোতে আরও বেশি দর্শনার্থী হয়।

তারা বলেন, চিড়িয়াখানায় জনমানুষের প্রবেশ না থাকায় প্রাণীরা অনেক শান্তিতে রয়েছে। পেট ভরে খাবার খাচ্ছে নিজেদের ইচ্ছামতো সময় পার করতে পারছে। কেউ তাদের ও তাদের সন্তানদের বিরক্ত করছে না বলে তারা অনেক অনন্দিত। যেন বন্যপ্রাণীকুল বনের মধ্যে রয়েছে বলে জানান তারা।

 দর্শনার্থীশূন্য চিড়িয়াখানায় শান্তিতে আছে প্রাণীকুল
দর্শনার্থীশূন্য চিড়িয়াখানায় শান্তিতে আছে প্রাণীকুল

কথা হলে জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. নূরুল ইসলাম টানা বন্ধ থাকায় চিড়িয়াখানার প্রাণীগুলো বেশ উৎফুল্ল রয়েছে বলে জানান।

তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত বেশি মানুষ দেখতে পেয়ে প্রাণীরা চুপ করে খাঁচার এককোনে বসে থাকে। চলাফেরাও কম করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকায় প্রাণীরা খাঁচার সামনে আসছে। সকাল না হতেই ডাকাডাকি করছে। খাওয়াদাওয়াও আগের চেয়ে বেশি করছে। প্রাণীরা আগের মতো আর খাবার নষ্ট করছে না। বন্ধ থাকলেও বন্যপ্রাণীদের পরিচর্যাও করে যেতে হবে। বর্তমানে গরমে বাঘ, সিংহ, ভাল্লুকসহ বড় প্রাণীদের খাঁচার ভেতরে-বাহিরে পানি দেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে এসব প্রাণীকে স্যালাইন ও ভিটামিন পানির সঙ্গে খাওয়ানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

 দর্শনার্থীশূন্য চিড়িয়াখানায় শান্তিতে আছে প্রাণীকুল
দর্শনার্থীশূন্য চিড়িয়াখানায় শান্তিতে আছে প্রাণীকুল

জানা গেছে, দেশের সবচেয়ে বড় এ চিড়িয়াখানা ১৮৬ একর জায়গা নিয়ে গঠিত। ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসেন হাজারো দর্শনার্থী। চিড়িয়াখানায় রয়েছে মাংসাশী আট প্রজাতির ৩৮টি প্রাণী, ১৯ প্রজাতির বৃহৎপ্রাণী ২৭১টি, ১৮ প্রজাতির ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী ১৯৮টি। এছাড়া রয়েছে ১০ প্রজাতির সরীসৃপ ৭২টি, ৫৬ প্রজাতির ১১৬২টি পাখি, অ্যাকুরিয়ামে রক্ষিত মৎস্য প্রজাতিসহ ১৩৬ প্রজাতির ২৬২৭টি প্রাণী। সব মিলিয়ে রয়েছে ১৩৭টি পশুপাখির খাঁচা।

সম্প্রতি চিড়িয়াখানায় অনেক প্রাণী প্রজনন করেছে। গত কয়েক মাস আগে জেব্রা, জিরাফ, ইমপালা, ৪০টি ইমু পাখির বাচ্চা, গয়াল, মায়া হরিণ, চিত্রা হরিণ, ময়ূর, লাভ বার্ড বাচ্চা দিয়েছে। কয়েকটি প্রাণীর বাচ্চা বড় হওয়ায় নতুন শেড তৈরি করে আলাদা করে ছাড়া হয়েছে। নতুন করে আনা হয়েছে উট, সিংহ, ভাল্লুক, রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বেশ কয়েকটি প্রাণী।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনাভাইরাস লকডাউন: এত মানুষ ঘরে যে পৃথিবী এখন কাঁপছে কম

 ফ্রান্সের রাজধানীতে ভূকম্পন 'নাটকীয় মাত্রায়' কমে গেছে।
ফ্রান্সের রাজধানীতে ভূকম্পন ‘নাটকীয় মাত্রায়’ কমে গেছে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে শত শত কোটি মানুষ এখন কাজকর্ম ছেড়ে ঘরে বসে আছে। এর ফলে এই পৃথিবীর গতিবিধিও বদলে গেছে।

কারণ, মানুষ বাইরে যাচ্ছেনা বলে গাড়ি-ট্রেন চলছে খুবই কম, লাখ লাখ ভারি শিল্প-কারখানা এখন বন্ধ।

আর এর ফলে, ভূ-পৃষ্টের ওপর চাপ কমে গেছে অনেক। ফলে পৃথিবী কাঁপছে কম।

পৃথিবীর ওজন ছয় বিলিয়ন ট্রিলিয়ন টন। সেই বিবেচনায় এই পরিবর্তন বিস্ময়কর।

নাটকীয় পরিবর্তন

পৃথিবীর কাঁপুনি যে কমে গেছে তা প্রথম লক্ষ্য করেন বেলজিয়ামের রয়্যাল অবজারভেটরির বিজ্ঞানীরা। তারা বলেন – “লকডাউনের আগের তুলনায় ১-২০ হার্টস ফ্রিকোয়েন্সিতে (বড় একটি অর্গানের আওয়াজের যে ফ্রিকোয়েন্সি) ভূ-পৃষ্ঠের দুলুনি এখন অনেক কম।”

শুধু বেলজিয়াম নয়, পৃথিবী পৃষ্ঠের ই পরিবর্তন সারা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ভূকম্পন কমার বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নেপালের ভূকম্প-বিদরা একই প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন। প্যারিস ইন্সটিটিউট অব আর্থ ফিজিক্সের একজন গবেষক বলেছেন, ফ্রান্সের রাজধানীতে ভূকম্পন ‘নাটকীয় মাত্রায়’ কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস শহরে কাঁপুনি কমে যাওয়ার মাত্রা দেখে বিস্মিত হয়েছেন ক্যাল টেক ইউনিভার্সিটির গবেষকরা।

পরিষ্কার বাতাস, শান্ত সমুদ্র

লকডাউনে যে ভূকম্পন কমেছে তাই নয়, প্রকৃতিও বদলে গেছে।

স্যাটেলাইটের চিত্রে দেখা গেছে, পরিবেশ দূষণের পেছনে যার বড় ভূমিকা রয়েছে সেই নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড গ্যাস এখন বাতাসে অনেক কম। কারণ বাস-ট্রাক-গাড়ি, কারখানার ধোঁয়া এখন অনেক কম।

 জাহাজ চলাচল কমে গেছে অনেক। ফলে, সাগর-মহাসাগরে এখন শব্দ অনেক কম।
জাহাজ চলাচল কমে গেছে অনেক। ফলে, সাগর-মহাসাগরে এখন শব্দ অনেক কম।

পৃথিবীতে শব্দও এখন অনেক কম।

যে বিজ্ঞানীরা শব্দদূষণ মাপেন বা মহাসাগরের শব্দ নিয়ে গবেষণা করেন, তারা একবাক্যে বলছেন পৃথিবীতে আওয়াজ এখন অনেক কম।

পরিষ্কার সিগন্যাল

পৃথিবীর কম্পন কমলেও একদম যে স্থির হয়ে গেছে তা বলা যাবেনা। তবে গতিবিধির এই পরিবর্তনে উৎসাহিত হয়ে পড়েছেন বিজ্ঞানীরা।

মানুষের নানা গতিবিধির কারণে এত শব্দ তৈরি হয় যে পৃথিবী ও প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ তাদের জন্য কষ্টকর।

 ভূপৃষ্ঠ ৭০কিমি পুরু। তারপরও মানুষের গতিবিধিতে এটি কাঁপে।
ভূপৃষ্ঠ ৭০কিমি পুরু। তারপরও মানুষের গতিবিধিতে এটি কাঁপে।

“এখন আপনি এমন সিগন্যাল পাচ্ছেন যাতে কোলাহল অনেক কম। ফলে ঐ সব সিগন্যালের ডেটা বিশ্লেষণ এখন সহজতর হচ্ছে,” বলছিলেন ওয়াশিংটনে ইনকর্পোরেটেড রিসার্চ ইন্সটিটিউট ফর সিসমোলজির বিশেষজ্ঞ অ্যান্ডি ফ্রাসেটো।

কিছু বিজ্ঞানী সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পেয়েছেন যে কেন একটি এলাকায় ভূকম্পন কমেছে।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের স্টিভেন হিক্স বলছেন লন্ডন এবং ওয়েলসের মধ্যে যোগাযোগের প্রধান মহাসড়ক এম-ফোরের ওপর গাড়ি চলাচল কমে যাওয়ায় ঐ মহাসড়কের দুই ধারের এলাকাগুলোতে ভূকম্পন অনেক কমে গেছে।

মৌসুমি পরিবর্তন

তবে শব্দ এবং ভূকম্পনের ওঠা-নামা একদম নতুন কিছু নয়।

বছরের একেক সময়, দিনের একেক সময় মানুষের গতিবিধি বাড়ে-কমে। উৎসব চলাকালীন বা ছুটি চলাকালীন শব্দ বা ভূ-পৃষ্ঠের দুলুনি কমে যায়। তেমনি দিনের চেয়ে রাতের বেলা এগুলো কমে যায়।

তবে এখন যেটা হচ্ছে তা হলো সারা পৃথিবীব্যাপী কয়েক সপ্তাহ বা কোথাও কোথাও মাস জুড়ে মানুষের গতিবিধি অনেকটা কম। আর তাতে পৃথিবীর ওপর যে চাপ কমেছে তার নজির বিরল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com