আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

দিনাজপুরে বিশালকৃতির সামুদ্রিক মাছ দেখতে মানুষের ভীড়

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বিশালকৃতির রকেট মাছ দেখতে ভীড় করতে দেখা গেছে মানুষজনকে। রবিবার সকালে উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নের ভবের বাজার এলাকার মাছ বাজারে লম্বা বিশাল আকারের রকেট মাছটি দেখা যায়। খুলনা থেকে আনা একই রকমের তিনটি রকেট মাছ আসে পার্বতীপুর মাছের আড়তে। এর মধ্যে একটি নতুন বাজার অন্যটি হাবড়া ইউনিয়নের চৌপথি বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মন্মথপুর ইউনিয়নের হয়বৎপুর গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, ভবের বাজার মাছ হাটিতে বিক্রির জন্য এই প্রথম ৪শ’ ৫ কেজি ওজনের সামুদ্রিক রকেট মাছ নিয়ে এসেছি। ২শ’ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয় মাছটি। এ সময় মাছটি এক নজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে নারী পুরুষ ভবের বাজারে ভীড় করতে থাকে।

রকেট মাছের ক্রেতা মনমথপুর গ্রামের সুমন ইসলাম জানান, লোক মুখে শুনে বিশালকৃতির রকেট মাছটিকে একনজর দেখতে আসি। মাছটি দেখেই পছন্দ হয়ে যায়। এ সময় ১ কেজি মাছ কিনে নেই ২শ’ ৫০ টাকা দরে। রহিমা বানু নামে এক গৃহবধু বলেন, আগে কখনো এত বড় মাছ দেখিনি। তাই দেখতে আসছিলাম।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

জলবায়ু পরিবর্তন: বিশ্বে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের দিন বেড়েছে দ্বিগুণ

প্রতি বছরে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠে এমন দিনের সংখ্যা ১৯৮০’র দশকের তুলনায় এখন দ্বিগুণ বেড়েছে – বলা হচ্ছে বিবিসি’র এক বিশ্লেষণে।

আগের তুলনায় বিশ্বের আরো বেশি অঞ্চলে এ ঘটনা ঘটছে – যা মানুষের স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার ওপর অভূতপূর্ব প্রভাব ফেলছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়, ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রা ওঠে এমন দিনের সংখ্যা ১৯৮০’র পর থেকে প্রতি দশকেই বৃদ্ধি পেয়েছে। গড়ে ১৯৮০ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বছরে ১৪ দিন তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে।

২০১০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত প্রতি বছরে এ সংখ্যা ছিল বছরে ২৬ দিন।

একই সময়ের মধ্যে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি বা তার চেয়ে বেশি উঠেছিল এমন দিনের সংখ্যা প্রতি বছর গড়ে অন্তত দু’সপ্তাহ করে বেড়েছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল চেইঞ্জ ইন্সটিটিউটের সহযোগী পরিচালক ডক্টর ফ্রিডরিক অটো মন্তব্য করেন, “(তাপমাত্রা) বৃদ্ধির এই প্রবণতার কারণ হিসেবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিকে ১০০% দায়ী করা যায়।”

উচ্চ তাপমাত্রা মানুষ এবং পরিবেশ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর
ছবির ক্যাপশান,উচ্চ তাপমাত্রা মানুষ এবং পরিবেশ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর

সারা বিশ্ব যখন উষ্ণতর হচ্ছে, তাপমাত্রা অত্যন্ত উচ্চ হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উচ্চ তাপমাত্রা মানুষ এবং পরিবেশ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। এছাড়া উচ্চ তাপমাত্রা দালানকোঠা, রাস্তাঘাট এবং পাওয়ার সিস্টেমেরও ক্ষতিসাধন করতে সম্ভব।

সাধারণত মধ্য প্রাচ্য এবং উপসাগরীয় অঞ্চলেই তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে থাকে।

প্রতি দশকে যেভাবে বাড়ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা
ছবির ক্যাপশান,প্রতি দশকে যেভাবে বাড়ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা

এই গ্রীষ্মে ইতালি (৪৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ও ক্যানাডায় (৪৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রেকর্ড তাপমাত্রা পরিলক্ষিত হওয়ার পর বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার না কমালে বিশ্বের অন্যান্য জায়গাতেও ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর তাপমাত্রা অনুভূত হতে পারে।

“আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। যত দ্রুত আমরা (ক্ষতিকর গ্যাস) নির্গমন কমাতে পারবো, ততই আমাদের জন্য ভালো”, বলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের জলবায়ু বিষয়ক গবেষক ডক্টর সিহান লি।

ডক্টর লি সতর্ক করেন, “নির্গমন অব্যাহত থাকলে ও তা কমানোর লক্ষ্যে পদক্ষেপ না নেয়া হলে যে এই উচ্চ তাপমাত্রার ঘটনা শুধু বাড়তেই থাকবে, তা-ই নয়, জরুরি পদক্ষেপ এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমও ক্রমশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে।”

বিবিসি’র বিশ্লেষণে জানা গেছে যে, সাম্প্রতিক দশকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৯৮০ থেকে ২০০৯ এর তুলনায় ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে তাপমাত্রার এই বৃদ্ধি বিশ্বের সব অঞ্চল থেকে যে একই রকম ভাবে অনুভূত হবে, তা নয়।

পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকার দক্ষিণাংশ এবং ব্রাজিলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার বৃদ্ধি হয়েছে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি, আর উত্তর মেরুর কিছু অঞ্চলে এবং মধ্য প্রাচ্যে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধি হয়েছে।

নভেম্বরে গ্লাসগোতে জাতিসংঘ সম্মেলনে বিশ্ব নেতাদের প্রতি বিজ্ঞানীরা আহ্বান জানাবেন – যেন ক্ষতিকর নির্গমন কমানোর ক্ষেত্রে তারা নতুনভাবে চিন্তা করেন।

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীতে এখন নানা জায়গায় দাবানল হচ্ছে
ছবির ক্যাপশান,তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীতে এখন নানা জায়গায় দাবানল হচ্ছে

তীব্র তাপমাত্রার প্রভাব

বিবিসি’র এই বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে একটি ডকুমেন্টারি সিরিজ আরম্ভ হয়েছে, যার নাম ‘লাইফ অ্যাট ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস’ বা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জীবন। এই সিরিজের মাধ্যমে যাচাই করার চেষ্টা করা হয়েছে যে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানুষের জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করছে।

৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ওপরেই নয়, এর নিচের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাও মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বর্তমান হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়তে থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর ১২০ কোটি মানুষ তাপমাত্রা জনিত চাপের ফলে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে – যেই সংখ্যাটি বর্তমানের তুলনায় অন্তত চার গুণ – বলে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায়, যেটি গত বছর প্রকাশিত হয়েছে।

অতি উচ্চ তাপমাত্রার কারণে খরা এবং দাবানলের সম্ভাবনা বাড়তে থাকায় মানুষের পারিপার্শ্বিক পরিবেশও পরিবর্তন হচ্ছে এবং জীবনযাপন কঠিন করে তুলেছে।

এই ধরণের ঘটনার পেছনে অন্যান্য কারণের ভূমিকা থাকলেও মরুকরণের অন্যতম প্রধান কারণ জলবায়ু পরিবর্তন।

অতিরিক্ত তাপমাত্রায় যেভাবে শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
ছবির ক্যাপশান,অতিরিক্ত তাপমাত্রায় যেভাবে শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে

গবেষণা পদ্ধতি

কেউ প্রশ্ন করতে পারেন যে তার এলাকায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা থাকলেও তা কেন খবরে প্রকাশিত হল না?

রেকর্ড তাপমাত্রার রিপোর্ট সাধারণত একটি আবহাওয়া কেন্দ্র থেকে পাওয়া উপাত্ত থেকে পাওয়া যায়। তবে আমরা যেই তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেছি তা অপেক্ষাকৃত বড় জায়গা জুড়ে নেয়া হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক বিশ্বের উষ্ণতম স্থানগুলোর একটি। গ্রীষ্মে পার্কটির বিশেষ বিশেষ জায়গার তাপমাত্রা নিয়মিতভাবে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে।

কিন্তু এই পার্কের আশেপাশের এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এলাকার গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যখন মাপা হয়, তখন গড় তাপমাত্রার মান ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকে।

জাপান
ছবির ক্যাপশান,জাপানে প্রচণ্ড গরম থেকে রেহাই পেতে অনেকে স্প্রে ব্যবহার করছেন

তথ্যের উৎস কী?

এই গবেষণাটি করতে ইউরোপের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেইঞ্জ সার্ভিসের তৈরি বৈশ্বিক ইআরএ৫ ডাটাসেট থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রার তথ্য নেয়া হয়েছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ধারা যাচাই করতে মাঝে মধ্যে এই তথ্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ইআরএ৫ আবহাওয়া কেন্দ্র ও স্যাটেলাইটের মত বিভিন্ন সূত্র থেকে আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ করার পাশাপাশি আধুনিক আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেলেরও সাহায্য নিয়ে থাকে।

আমরা কী বিশ্লেষণ করেছি?

১৯৮০ থেকে ২০২০ পর্যন্ত প্রতিদিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার তথ্য নিয়ে আমরা শনাক্ত করেছি যে তাপমাত্রা কতটা ঘনঘন ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি অনুভূত হয়।

বছরে কতদিন এবং কত জায়গায় তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি বা তার বেশি অনুভূত হয়, আমরা তা গণনা করি যেন সময়ের সাথে সাথে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ধারা যাচাই করতে পারি।

সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পরিবর্তনও আমরা পর্যবেক্ষণ করি। সাম্প্রতিক দশকে (২০১০-২০১৯) ভূ-পৃষ্ঠ ও সমুদ্র পৃষ্ঠের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পরিবর্তনের সাথে তার আগের ৩০ বছরের (১৯৮০-২০০৯) গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পরিবর্তন যাচাইয়ের মাধ্যমে এই পর্যবেক্ষণটি করি আমরা।

বন্যা বিধ্বস্ত জার্মানির শুল্ড
ছবির ক্যাপশান,ইউরোপে সম্প্রতি প্রবল বৃষ্টিপাতে জার্মানি সহ নানা দেশে নজিরবিহীন বন্যা হয়

‘অঞ্চল’ বলতে আমরা কী বুঝিয়েছি?

প্রত্যেকটি অঞ্চলকে ধরে নেয়া হয়েছে ২৫ বর্গ কিলোমিটার, অথবা বিষুবরেখায় ২৭-২৮ বর্গ কিলোমিটার। এই গ্রিডগুলো বিস্তৃত এলাকাজুড়ে থাকতে পারে এবং ভিন্ন ধরণের ভৌগলিক এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হতে পারে।

এই গ্রিডগুলো .২৫ ডিগ্রি অক্ষাংশ ও .২৫ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশের বর্গাকার অঞ্চল হিসেবে ধরে নেয়া হয়েছে।

এশিয়াসহ বিভিন্ন মহাদেশে এখন নিয়মিত গুরুতর বন্যা হচ্ছে
ছবির ক্যাপশান,এশিয়াসহ বিভিন্ন মহাদেশে এখন নিয়মিত গুরুতর বন্যা হচ্ছে

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ডক্টর সিহান লি ও বার্কলি আর্থ অ্যান্ড কার্বন ব্রিফের ডক্টর যিক হাউসফাদারের সহায়তায় এ গবেষণা পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে।

এটি পর্যালোচনা করেছেন ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদারের সংস্থা কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের ড. ফ্রেয়া ভ্যামবর্গ, ড. জুলিয়েন নিকোলাস ও ড. সামান্থা বার্জেস।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ফাঁদ পেতে অবাধে বক শিকার

নীলফামারীতে বক শিকার থেমে নেই। স্থানীয় শিকারীদের ফাঁদে প্রতিদিন শত শত বক মারা পড়ছে। এতে ছানা বকগুলো অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পাখি শিকার নিষিদ্ধ হলেও তা মানছে না শিকারীরা।

বুধবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে নীলফামারী জেলা শহরের নিউবাপু পাড়ার মিলন পল্লী মহল্লায় দেখা যায়, কয়েকজন মিলে ধানের ক্ষেতে ফাঁদ পেতে বক শিকার করছে। 

ভাদ্র, আশ্বিন ও কার্তিক মাসে আমন ধানে জমে থাকা পানিতে ছোট মাছসহ পোকাগমাকড় খেতে আসে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী ও দেশি পাখি। এসব পাখি শিকারে মেতে উঠেছে স্থানীয় শিকারীরা। তারা ফাঁদ পেতে পাখি ধরছে। বিশেষ করে বকের প্রজননকাল হওয়ায় ধরা পড়ছে ছানা বকগুলো। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সঠিক নজরদারি ও জনসচেতনতার অভাবে পাখি শিকার বেড়েছে।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, বর্ষার পর নদী-নালা ও খাল-বিলের পানি কমতে থাকে। এ সময় আমন ধানের জমিতে ছোট মাছ ও পোকা-মাকড় খেতে আসে বিভিন্ন প্রজাতির বক। এই সুযোগে শিকারীরা বক শিকার করে স্থানীয় হাটবাজারে ও পাড়া মহল্লায় বিক্রি করছে।

স্থানীয় শিকারী সুজন মিয়া জানান, ‘দেশীয় ফাঁদে বক ধরে বিক্রি করি। এবার করোনা মহামারি ও ভাদ্র-আশ্বিন মাসে হাতে কাজ না থাকায় বক ধরে বিক্রি করছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে আরিফ নামে এক শিকারী বলেন, ‘বাড়িতে বসে না থেকে ভাইয়ার সঙ্গে বক ধরতে এসেছি। দুই ভাই পাখি শিকার করে সংসার চালাই।’

নীলফামারী বন বিভাগ কর্মকর্তা মাহবুবর রহমান জানান, এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। মানুষ সচেতন হলে এ ধরনের পাখি শিকার বাড়তো না। সব সময় আইন দিয়ে সবকিছু করা যায় না।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন নাহার জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, পাখি শিকার ও নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। সচেতনতার অভাবে খাল-বিলে ছুটে আসা নানা প্রজাতির বক ধরা পড়ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। আমরা দ্রুত মাইকিংসহ হাট-বাজারে অভিযানে নামবো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কৃষকের ধান খেয়ে যায় প্রভাবশালীদের মহিষ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চর আতাউরে ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ একর জমির ধান মহিষ দিয়ে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণ ও অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরান হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা গেছে, হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রায় ৩৫ বছর আগে জেগে ওঠা চরআতাউর ভূমিহীনদের মাঝে ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ সালে বন্দোবস্ত দেয় সরকার। ২০২০ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনপ্রতি ১.৫০ একর জমি বুঝিয়ে দেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের চাষাবাদ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। ২০২১ সালের জুনে জমি প্রস্তুত করে চাষাবাদ শুরু করেন কৃষকরা।

কৃষক মো. রফিকউদ্দিন (৭৫) বলেন, আমাদের কোনও জমি নেই। তাই আমাদের চাষের জমি বন্দোবস্ত করে দিয়েছে সরকার। চাষাবাদের পর থেকে গরু-মহিষে ফসল নষ্ট করতে থাকে। বিষয়টি তমরদ্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফররুখ আহমেদকে জানিয়েছি। তিনি গরু ও মহিষ মালিক সবাইকে সতর্ক করলেও কেউ তা কানে তোলেননি। গত শনিবার রাতে দুই শতাধিক মহিষ দিয়ে তারা আমাদের জমির সব ধান নষ্ট করে দিয়েছে। এর প্রতিবাদ করলে আমাদেরকে হুমকিও দিয়েছে তারা।

কৃষক নবীর উদ্দিন (৪৬) বলেন, সরকার আমাকে কিছু জমি দিয়েছে। অনেক কষ্ট করে দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থা থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পাশের উপজেলা মরপুরা থেকে ট্রাকটার ও বিজ এনে চাষাবাদ করি। কিন্ত আমাদের কিছু ক্ষমতাশালী লোক তাদের মহিষ দিয়ে আমার ও আরও কয়েকজন কৃষকের কষ্টের ফসল শেষ করে দিয়েছে। আমরা এখন খাবো কী? আর এই ঋণের টাকা পরিশোধ করবো কীভাবে?

অভিযুক্ত তমরদ্দি ইউপি সমদস্য রাশেদ উদ্দিন বলেন, রাতের বেলা মহিষগুলো জমিতে ঢুকে ধান খেয়ে ফেলেছে। আমরা বসে কৃষকদের ধানের ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেবো।

এ বিষয়ে ইউএনও ইমরান হোসেন বলেন, আমার কাছে কৃষকরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আমি তমরদ্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। মহিষ মালিকরা তাদের দোষ স্বীকার করেছেন। কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ধামইরহাটে শত্রুতার বলি হলো আড়াই বিঘা জমির ধান

নওগাঁর ধামইরহাটে প্রতিপক্ষের শত্রুতার বলি হলো কৃষকের আড়াই বিঘা জমির ধান। গামর অবস্থায় থাকা কৃষকের এতগুলো ধান নস্ট হওয়ায় হতাশায় দিনযাপন করছে। ভুক্তভোগী সুবিচারের প্রার্থনায় আইনি সহায়তা চেয়েছেন।


ধামইরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের বড়মোল্লা পাড়া (বীরগ্রাম) এলাকার মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে আনিছার রহমান অভিযোগ করেন, বীরগ্রাম মৌজায় তার পৈতৃকভাবে পাওয়া ক্রয়সূত্রে খরিদ করা ১.২৫ একর জমিতে অনেকদিন যাবৎ চাষাবাদ করে আসছিলেন। এমতাবস্থায় প্রতিপক্ষের লোকজন  চলতি মাসের ৯ সেপ্টেম্বর তার জমিতে রাসায়নিক স্প্রে করে সমস্ত ধান বিনস্ত করার অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী আনিছার রহমান বলেন, ‘আমার জমিতে আমার নিজ ছোট ভাই  মো. আমিনুল ইসলাম অন্যান্য প্রতিপক্ষ আনোয়ার হোসেন, নাসির উদ্দিন সহ ৪/৫ জন দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা করে আসছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয় জিয়াউর রহমান জমিতে রাসায়নিক স্প্রে করার নিজ এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আসতে দেখে আমাকে জানায়, এতে আমার প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি এ বিষয়ে ধামইরহাট থানায় ও মাননীয় সাংসদসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি।’ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানকেও আমিনুল ইসলামকেই দোষী মনে করেন বলে প্রতিবেদককে জানা।


অভিযুক্ত প্রতিপক্ষ আমিনুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জমিটি আমারই, সেখানে আমিই ধান লোকজন দিয়ে লাগিয়েছেন, আমার প্রতিপক্ষ জোর করে জমিতে ধান খোসা দিয়ে জবর দখলের চেষ্টা করেছিল, আমরা ২ ভাই ৭ বোন, বোনদের অংশ অভিযোগকারী আত্নসাৎ করেছে, আমি কারও ধানে স্প্রে করিনি, বরং সেই আমার ধানে স্প্রে করেছে।’
ধামইরহাট থানার ওসি আবদুল মমিন জানান, আনিছার রহমান ধান স্প্রে করার অভিযোগ করলেও অপর পক্ষ আমিনুল ইসলাম থানায় এজাহার দাখিল করেছেন, প্রকৃত ঘটনা  তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

সীতাকুণ্ড থেকে হালিশহর সাগরপাড়ে গড়ে উঠছে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল

সীতাকুণ্ডের সলিমপুর থেকে চট্টগ্রাম আউটার রিং রোডের পশ্চিম পাশে হালিশহর পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় বন বিভাগ হাতে নিয়েছে নতুন বনায়ন প্রকল্প। যদিও অনেক আগেই জলোচ্ছ্বাস থেকে চট্টগ্রামবাসীকে রক্ষা করতে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছিল । আর সে সময় লাগানো হয়েছিল গেওয়া, গোয়া, বাইন ইত্যাদি গাছ। এবার নতুনভাবে রোপণ করা হচ্ছে বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী প্রায় ২০ প্রজাতির গাছের চারা।  

আউটার রিংরোড ঘিরে শুরু হয়েছে বনবিভাগের দৃষ্টিনন্দন এ বনায়ন। এক শ্রেণির ভূমিদস্যু বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকার সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তুলেছিল ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। সম্প্রতি বেশকিছু স্থাপনা উচ্ছেদের পর উদ্ধারকৃত এসব জমিতে উপকূলীয় বন বিভাগ নতুনভাবে কাজ শুরু করেছে। 

উপকূলীয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে বিশাল জায়গাজুড়ে ছোট ছোট মাটির টিলায় বেড়ে উঠছে নতুন চারাগুলো। সীতাকুণ্ডের সলিমপুর থেকে হালিশহর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ জমিতে রোপণ করা হয়েছে অসংখ্য গাছ। সলিমপুর উপকূলের বেড়িবাঁধ এলাকায় দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছিলেন আহমদ নবী। তিনি বলেন, নতুন চারাগুলো বেড়ে না উঠা পর্যন্ত বাগানে গরু-ছাগল বা অন্যকোন প্রাণী থেকে গাছকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এছাড়া উচ্ছেদকৃত ভূমির অবৈধ দখলদাররা যাতে বনায়নের ক্ষতি করতে না পারে সেটাও দেখছি । 

চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম গোলাম মাওলা বলেন, আউটার রিং রোডের উচ্ছেদকৃত এবং খালি জায়গায় নতুনভাবে বনায়ন শুরু হয়েছে। নতুন এ বনায়নে অশোক, রেইনট্রি, শিরীষ, দেবদারু, ইউক্যালিপ্টাসসহ প্রায় ২০ প্রকারের বনজ, ঔষধিগাছ লাগানো হয়েছে। নতুনভাবে রোপণ করা এসব চারা যাতে সযত্নে বড় হতে পারে এজন্য অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে স্থানীয়দেরকে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এরমধ্যে স্থানীয়দের উদ্বুদ্ধ করতে বন বিভাগের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বাবলম্বী সমাজ উন্নয়ন সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকরা উপকূলীয় এলাকার স্থানীয় লোকদের উদ্বুদ্ধসহ নতুন বনায়ন রক্ষায় কাজ করবে।

তিনি বলেন, এখনো বনবিভাগের বেশকিছু জায়গা অবৈধ দখলদারদের হাতে রয়ে গেছে। যারমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিও রয়ে গেছেন। তবে এসব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান। বলেন, অবৈধ দখলদাররা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, বন বিভাগের জমি থেকে অবশ্যই তাদের বিতাড়িত করা হবে। পর্যায়ক্রমে এসব জমিতেও নতুনভাবে বনায়ন করা হবে। বনবিভাগের এ উদ্যোগ সফল হলে সত্যিই পাল্টে যাবে নগরীর উপকূলীয় এলাকা। স্থানীয় এলাকাবাসীরও আশা আবারো প্রকৃতির নৈসর্গিক পরিবেশ ফিরে পাবে চট্টগ্রাম উপকূল।

উপকূলীয় বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে কি পরিমাণ ভূমিতে বনায়ন করতে হবে সেটা পরিমাপের পর গাছের সংখ্যা নির্ধারণ করতে হয়। এরপর সারিবদ্ধভাবে নির্দিষ্ট দূরত্বে টিলা তৈরি করে চারা রোপণ করতে হয়। উপকূলীয় বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা শামসুল হকের তত্ত্ববধানে ও বনরক্ষী জুলফিকার আলীর প্রচেষ্টায় এরমধ্যে চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com