আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষার লক্ষ্যে ১৪ অক্টোবর থেকে টানা ২২ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছে সরকার। এ সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলে-পরিবারের সহায়তায় ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু চট্টগ্রাম উপকূলের অধিকাংশ জেলেই সে চাল এখনও পাননি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, গতকাল (বুধবার) থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও চট্টগ্রাম উপকূলে মাছ ধরেন এমন অধিকাংশ জেলে এখনও কর্ণফুলী নদীতে ট্রলারেই অবস্থান করছেন।

জেলেরা জানান, আজ-কালের মধ্যেই তারা বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু এসব জেলেদের পরিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী, নোয়াখালীর হাতিয়া, ভোলার মনপুরা, লক্ষ্মীপুরের আলেকজেন্ডার, চাঁদপুরের মেঘনা তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করেন। চট্টগ্রামে থাকা জেলেরা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনেছেন- অধিকাংশই এখনও কোনো সরকারি সহায়তা পাননি।
স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যানরা তাদের পরিচিতদের এসব চাল দিয়ে দিচ্ছেন; যারা কোনোভাবেই প্রকৃত জেলে নন। এ অবস্থায় আগামী একমাস কীভাবে দিন পার করবেন এ নিয়েই অনিশ্চয়তায় রয়েছেন জেলেরা।

ভোলা মনপুরার বাসিন্দা তমিজউদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘চারমাস আগে বাড়ি থেকে আসছি। এবার তেমন মাছ নেই, তাই আয় উপার্জনও ছিল না। কক্সবাজারে থাকতে কিছু টাকা বাড়িতে পাঠিয়েছিলাম, এখন হাত পুরোই খালি। মহাজন বেতন দেবে আরও কিছু দিন পরে, এর মধ্যে দাদনের টাকাও আছে। ট্রলারে থাকলে তো খাইতে পাই, এখন সেটাও বন্ধ। সবমিলিয়ে, আগামী একমাস কীভাবে চলব? বাড়ি গিয়েই বা কী খাব তা বুঝতে পারছি না।’

সরকারি সহায়তার চাল পেয়েছেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, আমি কেন? এখানে অনেক জেলের পরিবারই কোনো চাল পায়নি। গুটি কয়েকজন জেলের কার্ড আছে, ওরাও সবাই চাল পায়নি। আসলে সরকারেতো দেয়, চেয়ারম্যান-মেম্বাররা খেয়ে ফেলেন।’

এ সময় পাশ থেকে মহেশখালীর এক জেলে বলে উঠেন, ‘আপনাদের মতো যারা প্যান্ট পরে এলাকায় নেতার পেছনে ঘোরেন, চাল তারাই নিয়ে যান। জেলেদের কপালে ওই চাল নেই। ১০ বছর সাগরে মাছ ধরে এখনও জেলে হতে পারিনি; কার্ড নেই। আর যারা নেতার পেছন পেছন ঘোরে ওরা বড় জাইল্লা।’

লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেকজেন্ডারের জেলে হান্নান জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত বৈশাখে সাগরে আসছি। ৭ মাস পর বাড়ি যামু। এ কয়দিনে যা আয় হইছে, তা আগামী একমাসে খাওয়া হয়ে যাবে। এলাকায় দেনাপাওনা আছে ওসবও মেটাতে হবে। সরকারে নাকি চাল দেবে, কিন্তু আমরা কোনো কার্ড পাইনি। আমরা যারা ফিশিং বোটে থাকি, চট্টগ্রাম এলাকায় মাছ ধরি তাদের মধ্যে শতকরা ৫ জনও চাল পায়নি। ভালো ভালো লোকেরা পাইছে, আমরা পাইনি।’

এ সময় লক্ষ্মীপুরের আরেক জেলে হাছি মিয়া বলেন, ‘কার্ডতো মেম্বার-চেয়ারম্যানরা বাইরে বিক্রি করে ফেলেন।’

হান্নান বলেন, ‘শতকরা ৫ জন হয়তো কার্ড পেয়েছে, এর বাইরের কেউ পায়নি। মেম্বার-চেয়ারম্যান ও মৎস্য অফিসার টাকা চাইয়া চাইয়া কয়েকজনরে কার্ড করায় দিছে। আমরাতো সারা বছর সাগরে থাকি, ওসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় কই?’

  • সাগরে মাছ ধরা বন্ধ : চট্টগ্রামের ৫ শতাংশ জেলেও পাননি চাল

    সাগরে মাছ ধরা বন্ধ : চট্টগ্রামের ৫ শতাংশ জেলেও পাননি চাল

  • সাগরে মাছ ধরা বন্ধ : চট্টগ্রামের ৫ শতাংশ জেলেও পাননি চাল

    সাগরে মাছ ধরা বন্ধ : চট্টগ্রামের ৫ শতাংশ জেলেও পাননি চাল

  • সাগরে মাছ ধরা বন্ধ : চট্টগ্রামের ৫ শতাংশ জেলেও পাননি চাল

    সাগরে মাছ ধরা বন্ধ : চট্টগ্রামের ৫ শতাংশ জেলেও পাননি চাল

  • সাগরে মাছ ধরা বন্ধ : চট্টগ্রামের ৫ শতাংশ জেলেও পাননি চাল

    সাগরে মাছ ধরা বন্ধ : চট্টগ্রামের ৫ শতাংশ জেলেও পাননি চাল

  • সাগরে মাছ ধরা বন্ধ : চট্টগ্রামের ৫ শতাংশ জেলেও পাননি চাল
  • সাগরে মাছ ধরা বন্ধ : চট্টগ্রামের ৫ শতাংশ জেলেও পাননি চাল
  • সাগরে মাছ ধরা বন্ধ : চট্টগ্রামের ৫ শতাংশ জেলেও পাননি চাল
  • সাগরে মাছ ধরা বন্ধ : চট্টগ্রামের ৫ শতাংশ জেলেও পাননি চাল

ফসল

ধান কাটা উৎসব

অগ্রহায়ণ মাস। দেশজুড়ে চলছে নবান্ন উৎসব। ধান কেটে বাড়ি নিতে কৃষিশ্রমিকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাড়ির উঠানে চলছে মাড়াইয়ের কাজ। করোনার এই মহামারিতে আশানুরূপ ধান পেয়ে কৃষকেরা দারুণ খুশি। ঘরে ঘরে এখন নবান্নের আনন্দ। সাজ সাজ রব পাড়াগাঁয়ে। সারা দেশ থেকে ফটোসাংবাদিকদের ক্যামেরায় তারই চিত্র।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

হাওরে পানি কমছে ধীরে, বীজতলা তৈরি নিয়ে শঙ্কা

ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে পানি। সম্প্রতি খালিয়াজুরি উপজেলার গোবিন্দডুবি হাওরে
ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে পানি। সম্প্রতি খালিয়াজুরি উপজেলার গোবিন্দডুবি হাওরে

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে ধীরগতিতে পানি কমার কারণে বীজতলা তৈরি করতে পারছেন না কৃষকেরা। এতে বোরো আবাদের চাষ দেরিতে শুরু হতে পারে। এ কারণে ফলন কমে যাবে। আবার আগাম বন্যায় ফসলহানিও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

কৃষকেরা জানান, হাওরপারের মানুষের একমাত্র ফসল বোরো। এর ওপর কৃষকদের সারা বছরের সংসার খরচ, চিকিৎসা, আচার-অনুষ্ঠান ও সন্তানদের পড়ালেখা নির্ভর করে। কিন্তু এবার পানি নিষ্কাশনের ধীরগতির কারণে এখনো বীজতলা তৈরি করা যাচ্ছে না। অন্য বছর নভেম্বরের শেষ দিকে বীজতলা তৈরি করে বপন করা হয়। ডিসেম্বরের শেষের দিকে খেতে চারা রোপণ শুরু হয়। কিন্তু এ বছর দেরি হতে পারে। সঠিক সময়ে বীজ বপন ও চারা রোপণ করতে না পারলে আগাম বন্যায় ফসলহানির আশঙ্কা থাকে।বিজ্ঞাপন

খালিয়াজুরীর বোয়ালি গ্রামের বিধান সরকার বলেন, দেরিতে বীজ বপন করলে জমিতে চারা লাগাতেও সময় লাগবে। এ সময় শীত চলে আসবে। ভালো চারা না হলে ভালো ফসলও হয় না। আবার ফসল পাকতে দেরি হওয়ায় আগাম বন্যায় ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাওরে ২৭১ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরীতে রয়েছে ১৮১ কিলোমিটার। এসব বাঁধের ওপরও কৃষকদের প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নির্ভর করে। এই ফসল রক্ষা বাঁধগুলো উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মেরামত করে থাকে। এবার পানি না কমায় বাঁধের জরিপকাজ শুরুতে দেরি হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কুড়িগ্রামে কৃষকের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভাসমান বীজতলা

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে তিন দফা বন্যায় আমন বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন উদ্যোমে মাঠে নেমেছে বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকরা। পানি নামার পর জমি চাষ, বীজ সংগ্রহ ও বপনে বাড়তি অর্থ যোগানে কৃষক যখন দিশেহারা, তখন পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার।

সরকারি উদ্যোগ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় বন্যাপ্লাবিত এলাকাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি বীজতলা, ভাসমান বীজতলা ও বাড়ির ভিতর প্লেট পদ্ধতিতে বিকল্প আমন বীজতলা কৃষকদের ক্ষতি পোষাতে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।  

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় কুড়িগ্রামে ১৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষক। সরকারিভাবে কৃষিতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি টাকা। এরমধ্যে ২৫ হাজার ৮১০ জন কৃষকের আমন বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৪০৯ হেক্টর জমির।  

আমন বীজতলার ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারিভাবে ১০৫টি কমিউনিটি বীজতলা, ১১২টি ট্রে বীজতলা এবং শতাধিক ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ২১ হাজার কৃষক বিনামূল্যে ২০ হাজার ৯২২ বিঘা জমিতে আমন চাষ করার সুযোগ পাচ্ছে।  

এদিকে জেলায় এবার আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ৯৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর। আমন বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ৩ হেক্টর হলেও বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে আমন বীজতলা তৈরি করায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৭ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে।  

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের লালদীঘির পাড়ের কৃষক মতিয়ার রহমান বাংলানিউজকে জানান, বাড়ির পাশের বীজতলা বন্যার পানিতে ডুবে যায়। সেসময় কৃষি বিভাগের পরামর্শে তাদের কাছ থেকে ৬ কেজি বিআর-২২ নাভিজাত বীজ ও ৫২টি ট্রে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তখন চারদিকে থৈ থৈ পানি, বীজ বপনের কোনো জায়গা নেই। বাড়ির ভিতরের উঠোনে ট্রে-তে বীজতলা স্থাপন করেন। ১৫ দিন বয়সী চারা দুই বিঘা জমিতে বপন করেন। কৃষি বিভাগ থেকে রাইচ ট্রান্সপ্ল্যান্টার মেশিন দিয়ে শতকে ১০ টাকা হারে ২ বিঘা জমিতে মাত্র ৩৩০ টাকা খরচেই রোপণ শেষ।

শুধু মতিয়ারই নন, বন্যাকবলিত এলাকার অনেক কৃষকই এখন কমিউনিটি বীজতলা, ভাসমান বীজতলা ও বাড়ির ভিতর প্লেট পদ্ধতিতে বিকল্প আমন বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে রাইচ ট্রান্সপ্ল্যান্টার মেশিনের মাধ্যমে রোপণ করে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান বাংলানিউজকে বলেন, আমন আবাদ যাতে বিঘ্নিত না হয় এজন্য বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর জেলায় আমন চারার ঘাটতি মোকাবিলায় ১০৫টি কমিউনিটি বীজতলা, ১১২টি ট্রে বীজতলা এবং শতাধিক ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যা বিনামূল্যে কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। ফলে বীজতলার ঘাটতি পূরণ করতে পারবে কৃষক।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

করোনায় কপাল খুলেছে নওগাঁর লেবু চাষিদের

নওগাঁ: এখনও পর্যন্ত করোনার কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। ভিটামিন সি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আর সে কারণে লেবু খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বলছেন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি খেতে হবে। আর তাই করোনা সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে লেবুর চাহিদা।

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে ভিটামিন সি যুক্ত লেবুর চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে অনেকগুন।  

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ৭ বিঘা জমিতে ১২ মাস জাতের লেবু চাষ করেছি।

করোনাকালের পরিস্থিততে গেলো দুই মাসেই বাগান থেকে লেবু বিক্রি করেছি প্রায় ১৪ লাখ টাকার।  

তিনি বলেন, লেবু চাষে তুলনামূলক পানি সেচ তেমন একটা লাগে না। সারসহ পরিচর্যা আর শ্রমিক খরচ খুবই কম। তাই বরেন্দ্র ভূমিতে ক্রমেই বাড়ছে লেবুর বাগান। এ বছর লেবু বিক্রিতে চাষিদের কোনো সমস্যা হয়নি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জমিতে এসেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন লেবু। এখন প্রতিটি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে সর্বচ্চ ৭ টাকা পিস পর্যন্ত।  

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এ মৌসুমে সবচেয়ে ভালো ফলন ও দাম পাচ্ছেন নওগাঁর লেবু চাষিরা। জেলাজুড়ে এ বছর ৩ জাতের লেবু চাষ হয়েছে। প্রায় দেড়শ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে লেবু। লেবুর আবাদ বাড়াতে এ বছর থেকে আলাদা প্রকল্প হাতে নিয়েছে জেলা কৃষিবিভাগ। দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ ও অর্থিক সহযোগিতা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

চীনে রপ্তানি বন্ধ, লোকসানের মুখে কাঁকড়া চাষিরা

পাথরঘাটা (বরগুনা): চীনে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতির কারণে আমদানি বন্ধ থাকায় রপ্তানির অভাবে শুধু বরগুনার পাথরঘাটাতেই ২০ কোটি টাকা ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে কাঁকড়া চাষিদের। এলাকার বেশিরভাগ চাষি ঋণ নিয়ে এ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাই লাভের অঙ্কের চেয়ে এখন ব্যাংক আর এনজিওর সুদ নিয়েই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কয়েকশত চাষি।

গত বছর এমন সময়ে যে কাঁকড়া চীন, থাইল্যান্ড, তিউনিশিয়ায় রপ্তানি হয়েছে এবার সে কাঁকড়া পানি থেকে এখনো আলোর মুখ দেখেনি। চাষিরা বলছেন, রপ্তানির আশায় কাঁকড়া চাষ করে চাহিদা না থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।

জানা যায়, গত বছর স্ত্রী কাঁকড়া দুই হাজার ৯৫০ টাকা ও পুরুষ কাঁকড়া এক হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। সেই কাঁকড়া বর্তমানে স্থানীয় বাজারে ৩০০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকেও ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা কেজিও বিক্রি করা হয়েছে।

পাথরঘাটার সবচেয়ে বড় কাঁকড়ার আড়তদার সমির চন্দ্র ব্যাপারি বাংলানিউজকে বলেন, গত বছর চাষিদের কাছে ২৫০০ টাকা কেজিতে কিনেছি। সেই কাঁকড়া এখন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় পাইকাররা বলছে। বর্তমানে চীনে রপ্তানি না থাকায় চাষিদের লোকসান গুণতে হচ্ছে।

স্থানীয় এক কাঁকড়া আড়তদার বলেন, ঢাকার পাইকাররা আমাদের জানিয়েছে, চীনে কাঁকড়া যায় না, তাই তারাও কিনছে না। এজন্য আমরাও চাষিদের থেকে কাঁকড়া কিনছি না। পেইচ প্রকল্পের সহকারী ভ্যালুচেইন ফ্যাসিলিটেটর গোলাম মোর্শেদ রাহাত বলেন, ‘পিকেএসএফ’র সহযোগিতায় স্থানীয় এনজিও সংগ্রামের মাধ্যমে পাথরঘাটা উপজেলার ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক উদ্যোক্তাদের কাঁকড়া চাষে উদ্বুদ্ধ করি। এতে তারা গত কয়েক বছরে অনেক লাভবান হয়েছে। তবে এ বছর কাঁকড়া বিক্রি করতে না পারায় তাদের প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুণতে হবে।

পাথরঘাটা উপজেলা কাকড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি ও কাঁকড়া চাষি উত্তম মজুমদার এক একর জমিতে নির্মিত ঘেরে আড়াই হাজার টাকা কেজিতে কাঁকড়া চাষ করছেন। তিনি সেখানে প্রতি মাসে চার লাখ টাকার খাবার দিয়ে তিন মাস ধরে পরিচর্যা করে আসছেন।

উত্তম মজুমদার বলেন, সুন্দরবন এলাকা থেকে ২০ লাখ টাকার কাঁকড়া সংগ্রহ করে তিন মাস পরিচর্যা করে খরচ হয়েছে ৩২ লাখ টাকা। অথচ এখন ৩০০ টাকা দরে মূল্য দাঁড়ায় শুন্যের কোটায়। তিনি বলেন, বর্তমানে কাঁকড়ার পেটে ডিম চলে এসেছে তাই বিক্রি না করলে সেগুলো মরে যাচ্ছে।

পাথরঘাটা কাঁকড়া চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনোজ বেপারী বলেন, যেখানে কেজি বিক্রি করেছি ২৫০০ টাকা সেখানে এ বছর মাত্র ৩০০-৪০০ টাকা কেজি বলছে পাইকাররা। এতে আমরা প্রচুর  লোকসানে পড়তে যাচ্ছি। সঠিক সময় সঠিক মূল্যে বিক্রি করতে না পারলে এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবোনা।

একই এলাকার নারী উদ্যোক্তা পুতুল রানী ৩৩ শতাংশ জমিতে সাড়ে ৭০০ কেজি কাঁকড়ার চাষ করে লোকসানের মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে উপজেলার মনোজ ব্যাপারি, তপু, কিশোর, মহিন্দ্র, জোৎস্না রানী ও শিল্পী রানীসহ শতাধিক উদ্যোক্তা গোনট পূর্ণাঙ্গ কাঁকড়া বিক্রি করতে না পারায় হতাশ হয়ে পড়েছেন।

তবে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু চাষিদের একটু ধৈর্য ধরে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে এবং বাড়তি পরিচর্যা করতে পরামর্শ দিয়েছেন।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, করোনা ভাইরাসের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে বাজার খারাপ হওয়ার কারণে এর প্রভাব আমাদের দেশে পড়ছে। অতি শিগগিরই একটি সমাধান আসবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com