আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফুল

সহজ উপায়ে জুঁই ফুলের চাষ পদ্ধতি

খুব সহজেই স্বল্প পরিশ্রমে সুগন্ধি জুঁই ফুলের চাষ সম্ভব | জুঁই একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ফুল | এই ফুলের অনেকগুলো প্রজাতি পাওয়া যায় ইউরোপ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে | এই গাছগুলির উচ্চতা ১০-১৫ ফুট পর্যন্ত হয় | এর পাতা চিরসবুজ যা কিনা আড়াই ইঞ্চি লম্বা, সবুজ ও সরু কান্ডযুক্ত এবং এটি সাদা বর্ণের ফুল ধারণ করে। ফুলগুলি মূলত মার্চ থেকে জুন মাসে ফোটে। এটি মূলত মালা তৈরির জন্য, ফুল সজ্জায় এবং উপাসনার ডালা সাজানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এর দৃঢ় এবং সুগন্ধযুক্ত সুবাসের কারণে এটি আতর তৈরিতে এবং সাবান, ক্রিম, তেল, শ্যাম্পু এবং ওয়াশিং ডিটারজেন্টগুলিতে সুগন্ধ যোগ করতে ব্যবহৃত হয়। সারাবছর এই ফুলের চাহিদা থাকায় এই ফুল বেচে প্রচুর লক্ষ্মীলাভও হয় কৃষকদের৷

জমি তৈরী:

ভাল চাষ উপযোগী করার জন্য প্রথমে চারা রোপণের জমিটিকে আগাছামুক্ত করতে হবে। ক্ষেতের আগাছা মুক্ত করার জন্য এক-দু’টি প্রাথমিক চাষ প্রয়োজন। লাঙল করার পরে গর্তগুলি রোপণের এক মাস আগে ৩০ ঘনসেমি আকারে প্রস্তুত করা হয় এবং সূর্যের আলোর নিচে রেখে দিতে হবে। জমি তৈরির সময় ১০ কেজি গোবর সার মাটির সাথে মিশ্রিত করতে হয়।

বপণের সময়(Time of planting):

সাধারণত, জুন থেকে নভেম্বর মাসে বপণ করা হয় | বিভিন্ন ব্যবধানে বিভিন্ন জাতের গাছ লাগানো হয়। সাধারণত গড়ে ১.৮*১.৮ মিটার ব্যবধান প্রয়োজন।

সার প্রয়োগ:

জমি তৈরির সময়, নাইট্রোজেন ৬০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদ, পটাশিয়াম ১২০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদ এবং ফসফরাস ১২০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদ আকারে সারের মিশ্রণ প্রয়োগ করতে হবে । এই স্যারের মিশ্রণটি সাধারণত দুটি ভাগে ভাগ করতে হবে | প্রথম ভাগটি জানুয়ারী মাসে দিতে হবে এবং দ্বিতীয় ভাগটি জুলাই মাসে দিতে হবে। অতিরিক্ত জৈব সার হিসাবে, নিমের খোল, সরিষার খোল  ইত্যাদি দেওয়া খুবই ভাল। এদেরকে ১০০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদে দেওয়া হয়। ফুলের ফলন বাড়াতে জিঙ্ক ০.২৫% এবং ম্যাগনেসিয়াম ০.৫% হরে স্প্রে করতে হবে । লৌহের  ঘাটতি থেকে রক্ষা পেতে, মাসিক বিরতিতে ফেরাস সালফেটের বড়ি ৫ গ্রাম প্রতি লিটারে স্প্রে করতে হবে |

আগাছা দমন:

ফসলের ভাল বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য আগাছা দমন অতি প্রয়োজনীয়।  রোপণের ৩-৪ সপ্তাহ পরে প্রথম আগাছা তোলা উচিত এবং তারপরে প্রতি ২-৩ মাসে একবার করে আগাছা পরিষ্কার করা উচিত।

সেচ:

ফুলের যথাযথ বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য সময়ের ব্যবধানে সেচ দেওয়া প্রয়োজন। গ্রীষ্ম কালে সেচ সপ্তাহে একবার করা হয়। ফুল আসার পরে, পরবর্তী সার দেওয়া এবং ছাঁটাই পর্যন্ত কোনও সেচের প্রয়োজন হয় না।

রোগবালাই ও দমন:

শিকড় পচা রোগ:

এই রোগের লক্ষণগুলি হল বাদামি বর্ণের ফুসকুড়ি পাতার নিচের পৃষ্ঠে দেখা যায় এবং কখনও কখনও কান্ড এবং ফুলেও দেখা যেতে পারে।

প্রতিকার:

শিকড়ের পচা রোগ থেকে নিরাময় পেতে কপার oxychloride ২.৫ গ্রাম প্রতি লিটারে মিশিয়ে মাটিতে  প্রয়োগ করতে হয় |

ফুল

সহজ উপায়ে যেভাবে বেলি ফুল চাষ করবেন

সুবাসের জন্য বেলি ফুলের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ উৎসব অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত ফুলের তোড়া, ফুলের মালায় সুগন্ধী ফুল হিসেবে বেলির বেশ কদর রয়েছে। শুধু সৌন্দর্য বর্ধনই নয়, এটি বর্তমানে একটি অর্থকরী ফুল হিসেবে বিবেচিত। এটি এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন নার্সারিতে।

আমাদের দেশে তিন জাতের বেলি ফুল দেখা যায়। এগুলো হচ্ছে সিঙ্গেল ও অধিক গন্ধযুক্ত, মাঝারি আকার ও ডবল এবং বৃহদাকার ডবল ধরনের।

বেলি ফুল গুটি কলম, দাবা কলম ও ডাল কলম পদ্ধতির মাধ্যমে বংশবিস্তার করা হয়। জমি চাষ ও সার প্রয়োগ বেলে মাটি ও ভারী এঁটেল মাটি ছাড়া সব ধরনের মাটিতে বেলি ফুল চাষ করা যায়। জমিতে পানি সেচ ও পানি নিকাশের ব্যবস্থা থাকা ভালো।

জমি চার-পাঁচবার চাষ ও মই দিয়ে ঝুরঝুরা সমান করতে হবে। জমি তৈরির সময় জৈব সার, ইউরিয়া, ফসফেট এবং এমপি প্রয়োগ করতে হবে। প্রায় ১ মিটার অন্তর চারা রোপণ করতে হবে। চারা লাগানোর পর ইউরিয়া প্রয়োগ করে পানি সেচ দিতে হবে।

গ্রীষ্মের শেষ হতে বর্ষার শেষ পর্যন্ত বেলি ফুলের কলম বা চারা তৈরি করা যায়। চারা থেকে চারা ও সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫০ সেন্টিমিটার হতে হবে। চারা লাগানোর জন্য গর্ত খুঁড়ে গর্তের মাটির রোদ খাইয়ে, জৈব সার ও কাঠের ছাই গর্তের মাটির সাথে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। এরপর প্রতি গর্তে বেলির কলম বসাতে হবে। বর্ষায় বা বর্ষার শেষ দিকে কলম বসানোই ভালো। তবে সেচের ব্যবস্থা ভালো হলে বসন্তকালেও কলম তৈরি করা যায়।

জৈব পদার্থযুক্ত দো-আঁশ মাটিতে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপি সার পরিমাণ মতো মিশিয়ে টবে বেলি ফুলের চাষ করা যায়। টব ঘরের বারান্দা বা ঘরের ছাদে রেখে দেওয়া যায়।

যেভাবে বেলি ফুলের গাছের পরিচর্যা করবেন
বেলি ফুলের চাষে জমিতে সব সময় রস থাকা দরকার। গ্রীষ্মকালে ১০-১২ দিন পরপর শীতকালে ১৫-২০ দিন পর পর ও বর্ষাকালে বৃষ্টি সময়মতো না হলে জমির অবস্থা বুঝে দু-একটি সেচ দেওয়া দরকার।

বেলি ফুলের বাগানে আগাছা দমনের দিকেও নজর দিতে হবে। জমি বা টব থেকে নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। খড় কেটে কুচি করে জমিতে বিছিয়ে রাখলে সেচের প্রয়োজন কম হয় এবং আগাছাও বেশি জন্মাতে পারে না।

অন্যদিকে প্রতি বছরই বেলি ফুলের গাছের ডালপালা ছাঁটাই করা দরকার। শীতের মাঝামাঝি ডাল ছাঁটাই করতে হবে। মাটির উপরের স্তর থেকে ৩০ সেন্টিমিটার উপরে বেলি ফুলের গাছ ছাঁটাই করতে হবে। অঙ্গ ছাঁটাইয়ের কয়েক দিন পর জমিতে বা টবে সার প্রয়োগ করতে হবে।

রোগবালাই দূর করবেন যেভাবে

বেলি ফুল গাছে ক্ষতিকারক কীট-পতঙ্গ তেমন দেখা যায় না। মাকড়ের আক্রমণ হতে পারে। এদের আক্রমণে পাতায় সাদা আস্তরণ পড়ে, আক্রান্ত পাতাগুলো কুঁকড়ে যায় ও গোল হয়ে পাঁকিয়ে যায়।

গন্ধক গুঁড়া বা গন্ধকঘটিত মাকড়নাশক ওষুধ যেমন- সালট্যাফ, কেলথেন পাতায় ছিটিয়ে মাকড় দমন করা যায়। বেলি ফুলের পাতায় হলদে বর্ণের ছিটে ছিটে দাগযুক্ত এক প্রকার ছত্রাক রোগ দেখা যায়। এগ্রোসান বা ট্রেসেল-২ প্রয়োগ করে এ রোগ দমন করা যায়।

ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত গাছে ফুল ফোটে। সাধারণত ৫-৬ বছর পর গাছ কেটে ফেলে নতুন চারা লাগানো হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

আঙিনা কৃষি

ফুলের বাগানে রাখুন অপরাজিতা

 ফুলের বাগানে রাখুন অপরাজিতা
ফুলের বাগানে রাখুন অপরাজিতা

নানা রঙের ফুল আমরা দেখতে পাই। লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি, সাদা- কত রঙের ফুল আছে। এর মধ্যে নীল ফুল মানেই অপরাজিতা। আরও চমকপ্রদ নাম রয়েছে ফুলটির। এর বৈশিষ্ট্যও অনেক। আসুন জেনে নেই অপরাজিতার চাষ সম্পর্কে-

পরিচয়: অপরাজিতা ফুলটি Popilionaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এর ইংরেজি নাম ‘বাটারফ্লাই পি’। গাঢ় নীল বলে একে ‘নীলকণ্ঠ’ নামেও ডাকা হয়। এই ফুল এসেছে মালাক্কা দ্বীপ থেকে। টারনেটি বা মালাক্কা থেকে এসেছে বলে অপরাজিতার বৈজ্ঞানিক নাম ক্লিটোরিয়া টারনেটিকা। ক্লিটোরিয়া অর্থ যোনীপুষ্প। ফুলের ভেতরের আকৃতির জন্যই এ নাম। কেরালায় একে বলে ‘শঙ্খপুষ্পী’।

যত রং: নীল ছাড়াও সাদা এবং হালকা বেগুনি রঙের ফুল হয়ে থাকে। ফুলের ভেতরের দিকটা সাদা বা ঈষৎ হলুদ রঙের হয়ে থাকে।

 ফুলের বাগানে রাখুন অপরাজিতা
ফুলের বাগানে রাখুন অপরাজিতা

বৈশিষ্ট্য: লতানো এবং সবুজ পাতা বিশিষ্ট গাছে এ ফুল হয়ে থাকে। তবে ফুলে কোনো গন্ধ নেই। তবু রঙের বাহারে ফুলটি অনন্য। হালকা সবুজ রঙের পাতার গড়ন উপবৃত্তাকার। ঝোপজাতীয় গাছে প্রায় সারা বছর ফুল ফোটে। বহুবর্ষজীবী এ লতা ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। লতা জাতীয় গাছে এক পাপড়ি ও দুই স্তর পাপড়িতে এই ফুল হয়।

রোপণ: অপরাজিত ফুল গাছের ডাল বর্ষাকালে স্যাঁতস্যাঁতে মাটিতে রোপণ করতে হয়। ছোট ছোট ধূসর ও কালো বর্ণের বিচি রোদে শুকিয়ে নরম মাটিতে রোপণ করতে হয়। বাড়ির আঙিনায়, টবে বা বাগানেও এ গাছ লাগানো যায়। আশেপাশের উঁচু গাছ বেয়ে এটি বেড়ে ওঠে।

 ফুলের বাগানে রাখুন অপরাজিতা
ফুলের বাগানে রাখুন অপরাজিতা

প্রাপ্তিস্থান: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন, ঢাকায় রমনা পার্ক, শিশু একাডেমির বাগান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, বলধা গার্ডেন ও কোনো কোনো অফিসের বাগানে এই ফুলের গাছ রয়েছে।

গুণাবলী: অপরাজিতা কেবল সৌন্দর্যে নয়, ওষুধি গুণেও অতুলনীয়। এর ফুল, পাপড়ি, মূল ও গাছের লতা নানা ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। হিন্দুদের কাছে অপরাজিতা পবিত্র উদ্ভিদ। শারদীয় দুর্গোৎসবে ষষ্ঠীতে এবং বিজয়া দশমীর পূজায় এ ফুল ব্যবহার করা হয়।

 ফুলের বাগানে রাখুন অপরাজিতা
ফুলের বাগানে রাখুন অপরাজিতা

সময়কাল: এই ফুলের বয়স অন্তত ৫ কোটি বছর। নীল অপরাজিতা বারো মাস ফোটে। তবে শীতে কমে যায়। নীল ফুলের গাছ যত তাড়াতাড়ি শাখা-প্রশাখা ছড়ায় সাদা তত তাড়াতাড়ি ছড়ায় না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

শিউলি পাতার অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্যগুণ

শরৎ মানেই শিউলি ফুলের মিষ্টি গন্ধ। যা সহজেই সবাইকে মোহিত করে। আকারে ছোট ও কমলা-সাদা মিশ্রণের এই ফুলের মালা গেঁথে কতজনই তার প্রিয় মানুষটিকে দিয়েছেন তার হিসাব নেই। এর মিষ্টি গন্ধ মনে ভালোবাসার অনুভূতি জাগায়।

কেবল মিষ্টি গন্ধ আর মন ভালো করে দেওয়া রঙের জন্যই শিউলি সবার প্রিয় এমনটা চিন্তা করা ভুল। এর রয়েছে বহু ওষুধি গুণও। যা অনেক কঠিন রোগ থেকে আমাদের মুক্তি দিতে সক্ষম। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক শিউলি ফুলের উপকারিতাগুলো-

>> জ্বর কমাতে সাহায্য করে শিউলি। দীর্ঘস্থায়ী জ্বর কমাতে শিউলির চা পান করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

>> গলার আওয়াজ বসে যায় মাঝে মাঝে। এক্ষেত্রে ২ চামচ শিউলি পাতার রস গরম করে দিনে দুইবার কয়েকদিন খেলে উপকার হবে।

>> ম্যালেরিয়ার সময় শিউলি পাতার বাটা খেলে এই রোগের উপসর্গগুলো কমতে শুরু করে। ম্যালেরিয়ার প্যারাসাইটগুলো নষ্ট হয়, রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়ে।

>> খালি পেটে শিউলি গাছের পাতার রস খেলে কফের সমস্যা দূর হবে। যদিও এর রস অত্যন্ত তেতো কিন্তু এটি নিয়মিত খেলে কাশি ও কফ দুটোই দূর হবে।

>> সায়াটিকার ব্যথা কমাতে শিউলির পাতা কার্যকর। কয়েকটি শিউলি পাতা ও কয়েকটি তুলসি পাতা একসঙ্গে পানিতে ফুটিয়ে নিন। এরপর তা ছেঁকে প্রতিদিন ১ চামচ করে সকাল ও সন্ধ্যায় নিয়মিত খান। আপনার সায়াটিকা ব্যথা থাকলে তা কমতে শুরু করবে। নিয়মিত কয়েক সপ্তাহ খেলে এই ব্যথা দূর হবে।

>> প্রতিদিন সকালে চা এর মতো এক কাপ পানিতে দুইটি শিউলি পাতা ও দুইটি তুলসি পাতা ফুটিয়ে ছেঁকে খেতে হবে। এটি এক ধরনের হার্বাল টি। এর ফলে আর্থারাইটিসের ব্যথা কমবে।

>> আমাদের ত্বকের ক্ষেত্রেও শিউলির উপকারিতা অনেক। এতে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ। এটি মুখের ব্রণ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। এছাড়াও শিউলির তেলের ব্যবহার মাথার চুল বাড়ায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

বনের ফুল নীল বনলতা

প্রায় ১৫ বছর আগে মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে ফুলটি প্রথম দেখি। উদ্যানের অফিস ঘরের পূর্ব পাশে, অর্কিড হাউসের পেছনে ঝোঁপ-ঝাড়ের ভেতর বেশ জাঁকিয়ে বসেছিল লতাটি। নীলচে-বেগুনি রঙের ফুলগুলো খুব সহজেই নজর কাড়ে। তবে অপেক্ষাকৃত বাসিফুলে গাঢ়-নীলের পোঁচটা থাকে না বললেই চলে। 

টাঙ্গাইলের মধুপুরের টেলকি ছোট একটি বাজার। বাজার ছাড়িয়ে খানিকটা পথ হেঁটে আমরা বনের ভেতর ঢুকে পড়লাম। বিশাল বিশাল পাতার হাড়গজা (স্থানীয় নাম আজবী) চোখে পড়ল। গাছের গায়ে সুদৃশ্য লতায় নীলচে রঙের গুচ্ছবদ্ধ ফুল ঝুলে আছে। স্থানীয় নাম নীলাতা বা নালাতা।  অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা ফুলগুলো যেন কথা গ্রন্থে এ ফুলটির (Thunbergia grandiflora) নাম রেখেছেন নীল বনলতা। ইংরেজি নাম Bengal Clock Vine, Blue Trumpet Vine, Skay Flower ইত্যাদি।  

এ ফুলগাছ আমাদের মধুপুরের শালবনসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়গুলোতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে। তবে অব্যাহতভাবে প্রাকৃতিক বনভূমি ধ্বংস হতে থাকায় হুমকির মুখে পড়েছে এই লতাগুল্মগুলো। নীল বনলতা মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের গাছ। আমাদের চিরসবুজ বনের গাছপালা এদের প্রিয় আবাস। তবে দেশের বাইরে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় আসামে।

এরা শক্ত লতার গাছ। সাধারণত ৮ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত উপরে উঠতে পারে। পাতা প্রতিমুখ, সবৃন্তক, পত্রবৃন্ত আড়াই থেকে ৪ সে.মি. লম্বা ও কর্কশ, গোড়া তাম্বুলাকার, উভয়পৃষ্ঠ অমসৃণ, করতলাকারে ৫ থেকে ৭টি শিরাল, বোঁটা মোড়ানো ধরনের, আগা চোখা, ১০ সেন্টিমিটারের মতো লম্বা হতে পারে। কিনারে আছে বেশ কয়েকটি লতি। ফুলগুলো লম্বা ঝুলন্ত ডাঁটায় থোকায় থোকায় ঝুলে থাকে। দেখতে অনেকটা ঘণ্টার মতো, দলনল সামান্য বাঁকা, হালকা নীল রঙের অসমান পাপড়ির সংখ্যা ৫টি। পুংকেশর ৪টি, অর্ধসমান, গলদেশের ভেতরের দিক বাঁকানো, পরাগধানী ৫ থেকে ৯ মি.মি. লম্বা ও দীর্ঘায়িত। ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত। ফল বেশ শক্তপোক্ত ধরনের, ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

মালয়েশিয়ায় এ গাছের পাতার ক্বাথ পেটের অসুখে কাজে লাগে। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীও এ গাছের পাতা নানান কাজে ব্যবহার করেন। বংশবৃদ্ধি বীজ ও কাটিংয়ে। বাগানের বেড়ায় এ ফুলের ঝুলন্ত সমারোহ সত্যিই মনোমুগ্ধকর। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কত্ত ফুলের গল্প বলে যাই

আমাদের চারদিকে কত সুন্দর সুন্দর ফুল। এক নিঃশ্বাসে কতগুলো ফুলের নাম বলতে পারো তা একবার দেখবে নাকি? পাঁচটা নাকি ১০টা? অনেক ফুলগাছ আমরা বাগানে লাগাই, কোনোটা বা বেড়ে ওঠে অবহেলা-অনাদরে। তেমনি কিছু ফুল নিয়ে এই কুইজ। ছবিগুলো এলোমেলো করে কিছু বর্ণনা দেওয়া হলো। দেখো তো বলতে পারো কিনা কোন বর্ণনা কোন ফুলের সঙ্গে মিলে যায়। না পারলে বড়দের সাহায্য না নিয়ে নিজেই বাগান ঘুরে ঘুরে ফুলগুলো খুঁজে বের করে চিনে নাও। আর একদমই না পারলে নিচে উত্তর দেখে নিতে পারো।

১. এমন একটা ফুলের নাম বলতে পারো, যে ফুলটা তোমার-আমার মতো যখন একেবারে তরুণ, তখন সে তার চুলগুলো ‘স্পাইক’ করে খাড়া রাখে। বুড়ো বয়সে এই ফ্যাশন আর থাকে না। পরিণত বয়সে সব চুল ঝরে একেবারে টাকমাথা হয়ে যায়! এবার বলো দেখি ফুলটার নাম কী?

২. ‘লাল টুকটুক বউটি, মাথায় টিকলি পরে,
সকালবেলা জন্ম তার, বিকেল হলেই মরে।’
বলো দেখি ফুলের নামটি, একটু চিন্তা করে।

৩. আমরা বাগ্ধারায় কতই পড়েছি ‘দা-কুমড়ো সম্পর্ক’, যার অর্থ ভীষণ শত্রুতা। এমন একটা ফুলের নাম বলো দেখি, যে গাছের ফুল ও পাতার মধ্যে দা-কুমড়ো সম্পর্ক লেগেই থাকে। অর্থাৎ, একে অন্যকে দেখতে পারে না। গাছে যখন পাতা থাকবে, তখন একটা ফুলও ফুটবে না। কী তাজ্জব ব্যাপার! আবার যখন ফুল ফুটবে তখন গাছে একটা পাতাও থাকবে না।

৪. আমরা সচরাচর দেখি যে বেশির ভাগ ফুলই ফোটে ভোরবেলা, আবার অনেক ফুলই ফোটে রাতের বেলা। তবে এমন একটি ফুলের নাম বলো, যে ফুল ফোটে সন্ধ্যাবেলা! ফুল থেকে যে ফল হয়, সেই ফল দেখতে লম্বাটে হয়। আবার বুড়ো বয়সে সেই ফলের ভেতর কঙ্কালের অস্তিত্ব ভেসে ওঠে। কঙ্কালটা দেখতে অনেকটা বাবুই পাখির বাসার মতো। বলো তো ফুলের নামটা কী?

(এই ফুল নিয়ে কাজী নজরুল ইসলামের লেখা কবিতাও আছে।)

৫. এ ফুলের গাছ মাটির স্পর্শ ছাড়াই জন্মায়, মাটির স্পর্শ ছাড়াই বড় হয় এবং মাটির স্পর্শ ছাড়াই সারাটা জীবন পার করে দেয়। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো মাটির স্পর্শ ছাড়াই ফুলের গাছটি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাফেরা করতে পারে, যা অন্যান্য গাছের ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।

৬. এই ফুলটা ওই গাছের তুলনায় আকারে প্রায় ১০ গুণ বড় হয় এবং একটি গাছে সাধারণত একটি মাত্র ফুল ফোটে। ফুলটা কিন্তু তোমার-আমার বেশ পরিচিত (রান্না করে সবজি হিসেবে খাওয়া হয়)। এবার বলো তো এর নাম কী?

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com