আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

সস্তায় ইলিশ কিনতে পদ্মাপাড়ে ভিড়

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দুর্গম চরে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে মা ইলিশ। দূর-দূরান্ত থেকে অপেক্ষাকৃত কম টাকায় বড় সাইজের ইলিশ কেনার জন্য পদ্মাপাড়ে ভিড় করেন নারী-পুরুষরা। এ যেন ইলিশের হাট!

জানা গেছে, পদ্মা নদী থেকে গোপনে ধরা ইলিশ তীরে এনে বিক্রি করছেন জেলেরা। এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪শ-৫শ টাকায়। এছাড়া একটু ছোট সাইজের ইলিশ অনেকটাই পানির দামে পাওয়া যাচ্ছে। নদীর পাড়ে এনে এক হালি, দুই হালি করে একসঙ্গে বিক্রি করা হয় এসব ইলিশ।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, উপজেলার চরজানাজাত ইউনিয়নের শেষ সীমানায় অসাধু জেলেরা পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে আনা ইলিশ বিক্রি করেন। শিবচরসহ দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ সস্তায় ইলিশ কিনতে দুর্গম চরাঞ্চলে আসে। বিস্তৃর্ণ চর এলাকা থেকে হেঁটে আবার ট্রলার নিয়েও মাছ কিনতে আসে অনেকে।

স্থানীয়রা জানান, গত মৌসুম থেকেই ইলিশ সংরক্ষণে প্রশাসনের অভিযান চোখে পড়ার মতো। এবারও প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিদিনই জেলেদের আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এরপরও কেউ কেউ গোপনে মাছ ধরছে। এক শ্রেণির ক্রেতারা তা কিনতে দুর্গম চর এলাকায় আসছে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে নিয়মিত পদ্মা নদীসহ জেলার হাটবাজারগুলোতে প্রশাসনের অভিযান চলছে। গত ছয়দিনে ইলিশ ধরার দায়ে পদ্মা নদীর শিবচর অংশে অভিযান চালিয়ে ৬৯ জন জেলেকে আটক করে সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ধ্বংস করা হয়েছে এক লাখ ৮২ হাজার মিটার জাল। যার আনুমানিক মূল্য ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এ সময় জরিমানা আদায় করা হয়েছে এক লাখ ৪৯ হাজার টাকা। জব্দ করা হয়েছে ১৪০ পিস ইলিশ।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ বলেন, আমাদের অভিযান নিয়মিত চলছে। তবে মঙ্গলবার শিবচর উপজেলায় উপনির্বাচন থাকায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যস্ত ছিলেন। এ জন্য মঙ্গলবার শিবচরে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। কিছু অসাধু জেলে গোপনে ইলিশ ধরে বিক্রি করছেন। তবে আমরা ইলিশ সংরক্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এগ্রোবিজ

১ কেজি নতুন আলুর দাম ৮০ টাকা

নীলফামারীতে জমি থেকে আগাম আলু উত্তোলনে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এখানকার আগাম আলু জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। বাজারে দাম বেশি থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

আগাম আলু চাষের জন্য বিখ্যাত নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলা। দেশের আগাম আলুর সিংহভাগ উৎপাদন হয় এখানে। আগাম আমন ধান কাটার পর এখানকার কৃষকরা এক খণ্ড জমিও পতিত রাখেন না। মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে উৎপাদিত সেভেন গ্র্যানুলা জাতের আগাম আলু চাষ করেছে এখানকার কৃষকরা। মাঠে এখন আগাম আলু তোলার ধুম পড়েছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও বাম্পার। শুরুতে দাম ভালো পাচ্ছেন আলু চাষিরা। সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, একদিকে চলছে আলু উত্তোলনের কাজ, অন্যদিকে কেউ কেউ মৌসুমি আলু লাগানোর কাজে ব্যস্ত, আবার কেউবা খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর দুরাকুটি গ্রামের আলু চাষি স্বপন বলেন, তিনি ৫০ শতক জমিতে আগাম আলু উৎপাদন করে পেয়েছেন ৭৮০ কেজি, যা ৮০ টাকা কেজি দরে ফসলের মাঠেই বিক্রি করেছেন। আগাম আলু আবাদে তার ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও তিনি এই আলু বিক্রি করে পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০ টাকা। এতে তার লাভ হয়েছে ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।

জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের খালিশা খুটামারা গ্রামের নুরুজ্জামান (৪০) বলেন, আমি চার বিঘা জমিতে এ বছর আলু চাষ করেছি। আলুর বয়স এখন ৫৫ দিন। আরও ১০ দিন পরে আলু তুলবো। এবার আলু দাম বেশ ভালো। তিনি বলেন, দুদিন আগে দেড় বিঘা জমির আলু তুলে বিক্রি করেছি ৯০ টাকা কেজি দরে। ওই আলু একদিনের ব্যবধানে কমেছে ১০ টাকা কেজিতে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার পোড়াকোট গ্রামের আলু চাষি লুৎফর রহমান (৪২) বলেন, আমি তিন বিঘা জমিতে এবার আলু চাষ করেছি। আগাম আলুর দাম ভালো থাকায় এক বিঘা জমির আলু বিক্রি করেছি ৮৫ টাকা কেজি দরে। এতে তার ব্যাপক লাভ হবে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা খেতে এসে নগদ টাকায় আলু নিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ী রোস্তম আলী জানান, নীলফামারীতে আগাম আলু উঠতে শুরু করেছে। প্রথমদিকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে আলু বিক্রি হলেও এখন আলুর প্রকারভেদে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে ক্রয় করা হচ্ছে। আগাম আলু ট্রাকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।

নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, দেশের অন্যান্য জেলার আগেই নীলফামারীর আগাম আলু উঠে এবং আগাম বাজারদরে লাভবান হন এখানকার কৃষকরা।

চলতি বছর এ জেলায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রতি হেক্টরে ২৫ দশমিক ৩৬ মেট্রিক টন। এ জেলায় ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগাম আলু উঠবে। এরপর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে আলুর ভরা মৌসুমে বাম্পার আলু বেশি পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

চার বছরের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতায় রোড ম্যাপ

আগামী চার বছরের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমেই পেঁয়াজের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম। এ কারণে আমদানির মাধ্যমে চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করা হয়। আর পেঁয়াজ আমদানি মূলত ভারত নির্ভর। ভারত রফতানি বন্ধ করে দিলে অস্থির হয়ে ওঠে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার। এই প্রেক্ষিতে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রীয় গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এরপর পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য একটি রোডম্যাপের খসড়া প্রণয়ন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। প্রথম খসড়াটি তিন বছর মেয়াদি। এটি উপস্থাপন করা হলে কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে ডিএইকে পরিমার্জনের নির্দেশনা দেয়। সে অনুযায়ী ডিএই চার বছরের রোডম্যাপ প্রণয়ন করে। গত ২৩ নভেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ে এক সভায় রোডম্যাপটি উপস্থাপন করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটি এখনও আমরা চূড়ান্ত করতে পারিনি। এ নিয়ে কাজ করছি। আমরা চার বছরের মধ্যে পেঁয়াজের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাচ্ছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আসাদুল্লাহ বলেন, ‘আগামী চার বছরের মধ্যে আমরা পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবো ইনশাআল্লাহ। আমরা পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াব, একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পেঁয়াজের যে ক্ষতি, সেটা কমিয়ে আনব। রোডম্যাপের অংশ হিসেবে পেঁয়াজে স্বংয়ংসম্পূর্ণতা আনতে বিভিন্ন কৌশল নেয়া হবে। আমরা চাষিদের পেঁয়াজ সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেব। হাইটেক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু হবে।’

রোডম্যাপ অনুযায়ী এবার পেঁয়াজের ফলন ২ লাখ টন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হবে জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘পরের বছর (২০২১-২২) ৩ লাখ ২২ হাজার টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক লাখ টন পেঁয়াজ অতিরিক্ত উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। সব ঠিকঠাক হলে ৪ বছর পর এখনকার তুলনায় পেঁয়াজের উৎপাদন ১০ লাখ টন বেশি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে হেক্টরপ্রতি পেঁয়াজের উৎপাদন ১০ লাখ টনের মতো। উচ্চ ফলনশীল বীজ পেলে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ১৩ থেকে ১৪ লাখ টনে নিয়ে আসা যাবে। অন্যান্য দেশে তাই হচ্ছে। এতে আবাদের জমি বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। আমরা সেদিকে যাচ্ছি। বীজের ক্ষেত্রেও আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার চেষ্টা করছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইং ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে পেঁয়াজ চাষের আওতায় জমির পরিমাণ ২ লাখ ৩৭ হাজার হেক্টর। এসব জমিতে মোট পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ২৫ লাখ ৬৬ হাজার টন। উৎপাদিত পেঁয়াজের মধ্যে রবি ৮১ দশমিক ৫৬ শতাংশ, মুড়িকাটা ১৮ দশমিক ১৯ শতাংশ ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ০ দশমিক ১১ শতাংশ। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ১০ দশমিক ৮২ টন।

২৫ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হলেও এর মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। তাই উৎপাদন ১৯ লাখ টনের মধ্যে থাকে। বীজ ও অপচয় বাদে মোট চাহিদা ২৫ লাখ ৯৬ হাজার টন। ২৫ শতাংশ সংগ্রহোত্তর ক্ষতি বিবেচনায় উৎপাদন দরকার ৩৪ লাখ ৬১ হাজার টন। সে অনুযায়ী পেঁয়াজের ঘাটতি ৮ লাখ ৯৫ হাজার টন। প্রতি বছর মোটামুটি ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়।

পেঁয়াজ আমদানির চিত্র

ডিএইর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯০ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানি হয় ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৯২০ টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৪০ টন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমদানি করা হয় ১০ লাখ ৯১ হাজার টন। গত অর্থবছরে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ১০ লাখ ৭ হাজার ২২০ টন। আমদানি করা পেঁয়াজের প্রায় পুরোটাই ভারত থেকে এসেছে। আর সামান্য পরিমাণ এসেছে চীন, মিশর, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনআরবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৯৫ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শতভাগ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শতভাগ পেঁয়াজ এসেছে ভারত থেকে।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে (২০২০-২১) ২৫ লাখ ৯৬ হাজার টন নিট চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৫ শতাংশ ক্ষতিসহ পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ লাখ ৬১ হাজার টন। উৎপাদনশীলতা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়বে ৬ লাখ ২৫ হাজার টন। ২ লাখ ৭০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা হবে।

গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ

পরের বছর (২০২০-২১) চাহিদা ধরা হয়েছে ২৬ লাখ ২৫ হাজার টন। ক্ষতিসহ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ লাখ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬৮ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এভাবে চতুর্থ বছরে কোনো পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন হবে না। বরং পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত থাকবে।

যেসব কৌশল নেয়া হবে

পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন কৌশল নেয়া হবে জানিয়ে ডিএই’র মহাপরিচালক বলেন, ‘উচ্চ ফলনশীল জাত এবং উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হবে। এজন্য প্রচলিত জাতের তুলনায় হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বাড়ানো হবে। পেঁয়াজ চাষের এলাকা বাড়িয়ে বা ফসল প্রতিস্থাপন করে আবাদ সম্প্রসারণ করা হবে। ২০২০-২১ অর্থবছরে অনাবাদি এলাকা ও চরের জমি অন্তর্ভুক্ত করে সম্ভাব্য ১২ হাজার ১২ হেক্টর বর্ধিত জমি থেকে উৎপাদন বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সমন্বিত চাষাবাদ ও আন্তঃফসল চাষের উদ্যোগ নেব। এক্ষেত্রে আখ ও ভুট্টার সঙ্গে শীতকালীন পেঁয়াজ এবং আদা, হলুদ, কচুমুখীর সঙ্গে চাষ করা হবে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ। মুড়িকাটা পেঁয়াজ ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো হবে। দেশব্যাপী এক লাখ কৃষককে প্রতি এক শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ৩ টন বীজ বিতরণ করা হবে।’

যথাযথ উপায়ে সংরক্ষণ না করায় নষ্ট হয় ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ পেঁয়াজ

উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে পেঁয়াজের উন্নত জাতের বিকল্প নেই জানিয়ে ডিজি আসাদুল্লাহ বলেন, ‘বারি পেঁয়াজ-৪, বারি পেঁয়াজ-৫, বারি পেঁয়াজ-৬, লাল তীর কিং— এসব উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ সহজলভ্য নয়। এগুলো কৃষক পর্যায়ে নিয়ে যেতে কয়েকটা বছর সময় লাগবে।

উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থায় কমবে ক্ষতি

বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজে পেঁয়াজ সংরক্ষণের মাধ্যমে সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমিয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, বর্তমানে পেঁয়াজের যে সংরক্ষণ ব্যবস্থা তা সনাতন এবং মোটেও বিজ্ঞানসম্মত নয়। ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পেঁয়াজকে হয় ঘরের চিলেকোঠায়, না হয় মাটির মেঝেতে বিছিয়ে, অথবা পাটের বস্তায় মার্চ থেকে নভেম্বর, অর্থাৎ চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সংরক্ষণের প্রাণান্তর চেষ্টা করা হয়। এ অবস্থায় পেঁয়াজের জাত বা জিনোটাইপ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা উপযুক্ত না হওয়ায় ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। এতে সংরক্ষণকালীন শরীরতাত্ত্বিক কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে ওজন কমে যায় (যেমন- আর্দ্রতা কমে পেঁয়াজ সংকুচিত হয় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ, পচনে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ এবং অসময়ে অঙ্কুরিত হয়ে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়)। বিশেষ করে জুন ও জুলাই মাসে যখন অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বিরাজ করে, তখন পেঁয়াজ নষ্ট হয়।

তাই রোডম্যাপ অনুযায়ী বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজে পেঁয়াজ সংরক্ষণের পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়া ক্ষতি কমাতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ছাদে বা টবে করলা চাষ করবেন যেভাবে

কৃষিবিদ জিয়াউল হক

করলা আমাদের দেশের অতি পরিচিত একটি গ্রীষ্মকালীন সবজি। এখন সারা বছরই করলা চাষ হয়। করলা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী সবজি। এটাকে ভাজি করে অথবা তরকারি হিসেবে রান্না করেও খাওয়া যায়। আসুন জেনে নেই কীভাবে ছাদে বা টবে করলা চাষ করবেন-

মাটি তৈরি: করলা প্রায় সব মাটিতেই চাষ করা যায়। তবে জৈব পদার্থসমৃদ্ধ দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটিতে চাষ করলে ফলন ভালো হয়। করলা চাষ করার জন্য প্রথমে দুই ভাগ দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ২০-৩০ গ্রাম টিএসপি সার, ২০-৩০ গ্রাম পটাশ একত্রে মিশিয়ে ড্রামে ভরে পানিতে ভিজিয়ে সপ্তাহখানেক রেখে দিতে হয়। তারপর মাটি কিছুটা ওলটপালট করে বা ঝরঝরে করে আবার চার-পাঁচ দিন এভাবেই রেখে দিতে হবে।

বীজ বপন: করলার বীজ বপনের একদিন অথবা ২৪ ঘণ্টা আগে ড্রাম বা টবের মাটি পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে। বীজ বপন করার পর মাটি হাত দিয়ে সমতল করে চেপে দিতে হবে।

সেচ: করলার বীজ বপন করার পর এতে নিয়মিত পানি দিতে হবে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, টবে বা গাছের গোড়ায় যেন কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে। তাহলে গাছের গোড়া পচে যাবে। সঠিক পরিমাপে পানি দিতে হবে।

পরিচর্যা: করলা গাছ বড় হলে অপ্রয়োজনীয় বা মরা লতাপাতা বেছে ফেলে দিতে হবে। টব বা ড্রামের মাটি হালকা নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিতে হবে, তাহলে শেকড় বাড়বে। আগাছা জন্মালে তা উপড়ে ফেলতে হবে। গাছের গোড়া পরিষ্কার রাখলে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের উৎপাত কম হয়। গাছ একটু বড় হলে মাচা করে দিতে হবে। গাছে নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।

সঠিক পরিমাণ সার দিতে হবে। করলার বীজ থেকে চারা বেরোনোর পর মাঝে মধ্যে পানি দিতে হবে। চারার যত্ন নিতে হবে। করলা ধরা শুরু করলে সরিষার খৈল পচা পানি পাতলা করে গাছে ১৫-২০ দিন অন্তর অন্তর নিয়মিত দিতে হবে। টবে জৈব সার দিতে হবে, যেন গাছ মাটি থেকে খাদ্য উৎপাদন করে বাড়তে পারে। প্রয়োজনে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী রাসায়নিক সার ব্যবহার করা যায়।

রোগবালাই দমন: করলা গাছে মাছিপোকা, পামকিন বিটলসহ বিভিন্ন পোকা ও ভাইরাসজনিত মোজাইক রোগ, পাউডারি মিলডিউসহ বিভিন্ন বালাইয়ের আক্রমণ দেখা দিতে পারে। গাছে রোগ বা পোকামাকড় আক্রমণ করলে কৃষি অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী বালাইনাশক স্প্রে করতে হবে। পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে বাঁচতে সেক্স ফেরোমন ও বিষটোপ ফাঁদের যৌথ ব্যবহার করা যেতে পারে।

ফল সংগ্রহ: করলা ছোট অবস্থায়ও সংগ্রহ করতে পারেন অথবা বড় হলেও সংগ্রহ করতে পারেন। তবে করলা কাঁচা থাকতেই সংগ্রহ করতে হবে। পাকা করলা তরকারি হিসেবে খাওয়া যায় না। ফল পরিপক্ব হওয়ার আগেই সংগ্রহ করতে হবে।

গুণাগুণ: করলায় প্রচুর পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা মানবদেহের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্য উপকরণ দিয়ে থাকে। খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম করলায় ৯২.২ গ্রাম জলীয় অংশ, ২.৫ গ্রাম আমিষ, ৪.৩ গ্রাম শর্করা, ১৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১.৮ মিলিগ্রাম আয়রন, ১৪৫০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন, ভিটামিন বি১- ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২- ০.০২ মিলিগ্রাম, অন্যান্য খনিজ পদার্থ ০.৯ গ্রাম ও খাদ্যশক্তি ২৮ ক্যালরি থাকে।

উপকারিতা: নিয়মিত করলা খাওয়ার অভ্যাস করলে নানা রোগবালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। করলা খাওয়ার ফলে রক্তের সমস্যা, চোখের সমস্যা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসাসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ড্রাগন চাষে স্বপ্ন পূরণ সফিউল্লাহর

চাঁদপুরে ড্রাগন চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন সফিউল্লাহ হাওলাদার নামের এক কৃষক। মাত্র ৩০ শতাংশ জমিতে ড্রাগন চাষ করে মাসে আয় করছেন প্রায় ১০ হাজার টাকা। এ কারণে তিনি ড্রাগনের আবাদ আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন।

প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় করে ৩০ শতাংশ জমিতে ২০১৯ সালে ড্রাগন আবাদ শুরু করেন চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ভিঙ্গুলিয়া গ্রামের প্রবাসফেরত সফিউল্লাহ হাওলাদার। মাত্র আট মাসের মধ্যেই তিনি প্রথম ফলন পান।

এরপর থেকে প্রতি মাসে যে ফলন পাচ্ছেন তাতে লাভ হচ্ছে অন্তত ১০ হাজার টাকা। ড্রাগনের আবাদ আরো বাড়াতে চান তিনি।

ড্রাগন চাষি সফিউল্লাহ ৪০০ চারা দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তার ড্রাগন গাছ ২ হাজার। বাংলাদেশে ২০০৭ সালে প্রথম থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে এ ফলের বিভিন্ন জাত আনা হয়। এর জাত তিনটি, বারি-১ এবং বারি-২, বারি-৩। একবার গাছ লাগালে প্রায় ২০ বছর এর ফল পাওয়া যায় বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

অপরদিকে তার দেখাদেখি ড্রাগন চাষে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিচ্ছেন।

সফিউল্লাহ হাওলাদার প্রবাসী হওয়ায় ড্রাগন বাগানের দেখাশোনা করেন তার স্ত্রী আয়েশা বেগম। তার হাত ধরেই ড্রাগন চাষে এতটা সফলতার মুখ দেখেছেন সফিউল্লাহ হাওলাদার। চাষের বিষয়ে আয়েশা বেগম বলেন, ড্রাগন বাগান তৈরি করতে আমার বেশকিছু রেডি ফিলার এবং চারাগাছের প্রয়োজন হয়। যাতে মোট এক লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছিল। এখন আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি।

এই ফলের বাগানের আরেকটা দিক হলো ড্রাগন গাছ উপরে থাকায় এবং এর কোন পাতা না থাকায় নিচের অংশে অন্যান্য সবজির চাষও করা যায়, যা অত্যন্ত লাভজনক। আমার এই বাগান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ড্রাগন ফল মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের প্রতিশোধক হিসেবে কাজ করে। এ বিষয়টি নিয়ে খুব গুরুত্বসহকারে কাজ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরদার জানান, চাঁদপুরের একমাত্র ড্রাগন চাষি হিসেবে কৃষক সফিউল্লাহকে সার্বিক সহযোগিতা, পরামর্শ ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

১১ বছর পর দেখা দিল আফ্রিকান কম্বডাক

প্রতিবছর শীতের শুরুতেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিড় করে পরিযায়ী পাখিরা। এ বছরও ক্যাম্পাসের ৪টি লেকে আশ্রয় নিয়েছে এরা। তবে এবার ক্যাম্পাসের ট্রান্সপোর্ট সংলগ্ন লেকে দেখা মিলেছে বিরল প্রজাতির আফ্রিকান কম্বডাকের। ক্যাম্পাসে ১১ বছর পর দেখা মিলল এই পাখির।

২০০০ সালে ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো আফ্রিকান কম্বডাকের দেখা মেলে। এরপর মাঝে মাঝেই এই পাখি দেখা যেত। তবে ২০০৯ সালের পর আর এই পাখির দেখা মেলেনি বলে জানিয়েছেন পাখি বিশেষজ্ঞরা।

গত ৮ নভেম্বর ক্যাম্পাসের ট্রান্সপোর্ট সংলগ্ন লেকে এই পাখির একটি ঝাঁক দেখা যায়। সুদূর সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে এই পাখি এসেছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

আফ্রিকান কম্বডাককে নাকতা হাঁস ও বুঁচা হাস নামেও ডাকা হয়। এটি অতি বিপন্ন প্রজাতির বড় হাঁস। এই হাঁসের দেহের উপরিভাগ নীলচে কালো। পিঠের পেছনভাগ ধূসর। মাথা ও ঘাড়ে সাদার ওপর কালো রঙের ফুটকি রয়েছে। ডানার গৌণ পালক ব্রোঞ্জ রঙের। বুকের অর্ধেক জুড়ে একটি কালো রঙের ফালি। স্ত্রী হাঁস অপেক্ষাকৃত মলিন ও ছোট। এরা উড়তে দক্ষ ও ডুবসাঁতারে নিপুণ।

ভারত, নেপাল, সাইবেরিয়া, চীন ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এদের দেখা যায়। শীতে দেশের হাওর অঞ্চলের বড় বড় জলাশয়ে এদের দেখা যায়।

৮ ও ৯ নভেম্বর ক্যাম্পাসে পাখির উপর প্রাথমিকভাবে শুমারি করা হয়। এতে ক্যাম্পাসে ৭ প্রজাতির প্রায় পাঁচ হাজার পাখি এসেছে বলে জানা গেছে। গত বছর পাখির প্রজাতির সংখ্যা ছিল ৫টি। এবার আফ্রিকান কম্বডাকের সঙ্গে গার্গেনি বা জিরিয়া হাঁস জাতের পাখিও এসেছে।

অনেকদিন পর ক্যাম্পাসে আফ্রিকান কম্বডাকের দেখা পাওয়ায় খুশি পাখি বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও পাখি বিশেষজ্ঞ ড. মো. কামরুল হাসান বলেন, বিরল প্রজাতির এই পাখি সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের বড় বড় জলাভূমিতেও এদের দেখা মেলে। পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত ও মানুষের উৎপাত কমানো গেলে পাখির সংখ্যা বাড়তে থাকবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com