আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

সরিষা চাষে ভাগ্য ফিরছে যশোরের কৃষকের

সরিষা চাষে ভাগ্য ফিরছে যশোরের কৃষকের
সরিষা চাষে ভাগ্য ফিরছে যশোরের কৃষকের

ধান আবাদের লোকসান পুষিয়ে নিতে বোরো মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে সরিষা আবাদ করেছেন কৃষকরা

যশোর জেলায় দিন দিন বাড়ছে সরিষার আবাদ। ফলন ভালো হওয়ায় ও অন্যান্য ফসলের চেয়ে দাম বেশি পাওয়ায় এ রবিশস্য চাষ বেড়েই চলেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে যশোরে ১৩ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৫ হাজার হেক্টর জমি বেশি। গত মৌসুমে যশোরে সরিষা আবাদ হয় মাত্র ৮ হাজার হেক্টর জমিতে। এক বছরের ব্যবধানে কৃষক রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষা আবাদ করায় কৃষি বিভাগ এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এ বছর বিনা সরিষা-৪, বিনা সরিষা-৯, বারি সরিষা-১৫, টরি সরিষা-৭ জাতসহ স্থানীয় বিভিন্ন জাতের সরিষা আবাদ করা হয়েছে। ধানের চেয়ে লাভ বেশি হওয়া কৃষক সরিষা আবাদকেই এখন বেছে নিচ্ছেন। জেলার ৮টি উপজেলার বিস্তীর্ণ জমিতে এখন সরিষা কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

জানা যায়, গত মৌসুমের চেয়ে চলতি মৌসুমে পাঁচ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। এ জেলার কৃষকরা ধান আবাদের লোকসান পুষিয়ে নিতে বোরো মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে সরিষা আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা।

জেলার ঝিকরগাছা এলাকার বাকড়া গ্রামের কৃষক বাবলুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে আমন চাষ করার পরপরই তারা একই ক্ষেত সরিষা আবাদ করেছেন। এ বছর আবহাওয়া সরিষা চাষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। যে কারণে সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষেত থেকে সরিষা তুলে সময় হয়েছে। আশা করছি এক বিঘা জমিতে ৬-৭ মণ সরিষা আবাদ হবে।

প্রতি মণ সরিষা ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা বিক্রি হওয়ার ফলে সরিষা আবাদ ধান আবাদের চেয়ে দ্বিগুন লাভজনক বলে জানান তিনি।

কৃষক রুবেল হোসেন বলেন, আমরা ধান আবাদ করে লাভতো দূরের কথা উৎপাদন খরচ তুলতে পারিনি। অথচ সরিষা আবাদ করে দ্বিগুন লাভ করা সম্ভব। সরিষা আবাদে তেমন কোনো খরচ নেই বললেই চলে, সময়ও কম লাগে। তেমন সেচ দিতে হয় না এবং খরচ হয় ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা। এক বিঘা জমিতে ৭-৮ মণ সরিষা হয়।

তিনি আরও বলেন, সরিষা ঘরে তুলে একই জমিতে আমরা আবার পাট চাষ করবো। ফলে এক বছরে সহজে তিন আবাদ করে আমরা বেশি লাভ করতে সক্ষম হচ্ছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা বিরেন্দ্র নাথ মজুমদার জানান, গত কয়েক মৌসুম থেকে কৃষকরা সরিষা আবাদের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। যে কারণে এক বছরের ব্যবধানে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ বেশি হয়েছে।

তিনি বলেন, “শস্য নিবিড়তা ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য সরিষা আবাদ খুবই উপযোগী। ফলে সরিষা আবাদ করে কৃষক একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভজনক হচ্ছেন, তেমনি জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও কৃষকদের বেশি বেশি করে সরিষা আবাদ করতে উৎসাহিত করছি।”

ফসল

রোগপ্রতিরোধী সরিষা চাষ

সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় আগ্রহী কৃষকরা
সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় আগ্রহী কৃষকরা

স্থানীয় জাতের চেয়ে আবাদে খরচ কম, অথচ ফলন দ্বিগুণ। এ ছাড়া রোগ ও পোকা প্রতিরোধক। এ রকম ‘বারি সরিষা-১৪’ জাতের শর্ষের চাষ এ বছর শুরু হয়েছে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়। এখন চলছে কর্তন মৌসুম।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) ডাল ও তৈলবীজ গবেষণা সম্প্রসারণ জোরদারকরণ প্রকল্পের অর্থায়নে এ উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের লংকারচর গ্রামে টানা প্রায় ২০ একর জমিতে এ শর্ষের চাষ হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে রাজস্ব অর্থায়নে ৪০টি প্রদর্শনী প্লটে চাষ হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লংকারচর গ্রামে হলো এ ফসলের ওপর মাঠ দিবস। প্রায় দেড় শ কৃষক মাঠ দিবসে উপস্থিত ছিলেন। মাঠ দিবসের আয়োজন করে যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের সরেজমিন গবেষণা বিভাগ। স্থানীয় ইতনা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শিকদার ইমরানুর রহমানের উদ্যোগে এ মাঠ দিবস হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাস। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএআরআইয়ের তৈলবীজ গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক দিল আফরোজ খানম। বিশেষ অতিথি ছিলেন তৈলবীজ গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক মো. আবদুল লতিফ আকন্দ, যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কাওছার উদ্দিন আহাম্মদ।

যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নড়াইল জেলা কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা অনুজ কুমার বিশ্বাস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ্বাস, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন, ইতনা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক অনিন্দ্য সরকার, ইতনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ ইমদাদুল হক, কৃষক অনুকূল সরকার, শৈলেন্দ্রনাথ সরকার ও সাকিব লস্কর প্রমুখ।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় জাতের শর্ষের পটে যেখানে দানা থাকে ৮-১০টি, সেখানে এ শর্ষের পটে দানা হয় ২৮-৪০টি। এ জাতের শর্ষের ফলন হয় একরে ২৩-২৪ মণ, সেখানে স্থানীয় জাতের শর্ষের ফলন ১২-১৩ মণ। তেলের পরিমাণও বেশি। শর্ষের ওজনের ৪৬-৪৮ ভাগ তেল হয়, অর্থাৎ শর্ষের ওজনের প্রায় অর্ধেক তেল হয়। হলুদ বর্ণের এ শর্ষেগাছ ৩০-৩৫ ইঞ্চি লম্বা হয়। এর চাষে ৮০ থেকে ৮৫ দিন সময় লাগে। আমন কাটার পর বোরো আবাদের আগে কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে এর চাষ হয়। বিএডিসিতে বা স্থানীয় কৃষি বিভাগে এর বীজ পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

যমুনার চরে খেসারি কলাই

যমুনা নদীর বুকে জেগে আছে বিশাল চর। চরের বুকে খেসারি কলাইয়ের আবাদ। খেত ভরা বাহারি খেসারি ফুল আর অপক্ব সবুজ শিম। এই কলাই শাক খেতে পছন্দ করেন নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ। নদীর চরে গিয়ে দেখা যায় নারীরা কলাই শাক তোলার কাজে ব্যস্ত। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার দীঘলকান্দি গ্রাম এলাকার চর থেকে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ব্রি হাইব্রিড ধান৫ হেক্টর প্রতি ফলন ১০ টন

 ব্রি হাইব্রিড ধান৫ হেক্টর প্রতি ফলন ১০ টন
ব্রি হাইব্রিড ধান৫ হেক্টর প্রতি ফলন ১০ টন

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে। জাতটি নিয়ে যেকোন কৃষক ও নিবন্ধিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বীজ উৎপাদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে ব্রি’র বিজ্ঞানীরা বিনামূল্যে বীজ কারিগরি সহায়তা দেবে। এমন কি কোনো কৃষক যদি উদ্ভাবিত বীজ বিপণন করতে চাই তাহলে বিপণন সুবিধাও দেবে ‘ব্রি’। বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে জাতটি জনপ্রিয়তা পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশে বোরো মৌসুমে হাইব্রিড ধান চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। উপযুক্ত জাত, সঠিক সময়ে বীজ বপন, চারা রোপণ এবং উন্নত আন্তঃপরিচর্যার মাধ্যমে এই মৌসুমে হাইব্রিড ধান চাষ করে দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গত ২০১৬ সালে বোরো মৌসুমের জন্য স্বল্প মেয়াদী ও অধিক ফলনশীল একটি হাইব্রিড ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। যা ব্রি হাইব্রিড ধান৫ নামে জাতীয় বীজ বোর্ড ২০১৬ সালে সারা বাংলাদেশে চাষাবাদের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। এখন সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে।

 ব্রি হাইব্রিড ধান৫ হেক্টর প্রতি ফলন ১০ টন
ব্রি হাইব্রিড ধান৫ হেক্টর প্রতি ফলন ১০ টন

এই জাতটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য : ব্রি হাইব্রিড ধান৫ বোরো মৌসুমের জন্য চাষ উপযোগী ব্রি উদ্ভাবিত একটি নতুন জাত। জাতটির কৌলিক সারি বিআর১৫৮৫এইচ। দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত পিতৃ ও মাতৃ সারি ব্যবহার করে উদ্ভাবিত তৃতীয় জাত এটি। পিতৃ-মাতৃ সারি দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত বিধায় জাতটির রোগ প্রতিরোধ ও বৈরী পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা বেশি। দানায় অ্যামাইলোজের পরিমান শতকরা ২৩-২৪ ভাগ। দানার আকৃতি সরু ও লম্বা এজন্য ভাত ঝরঝরে। দানায় প্রোটিনের পরিমাণ বেশি। তাছাড়া জাতটির গাছের উচ্চতা ১০৫-১১০ সেন্টিমিটার।

ব্রির হাইব্রিড রাইস ডিভিশনের প্রধান ড. মো. জামিল হাসান বলেন, জাতটির ১৪৩-১৪৫ দিন জীবনকাল হলে কিছুটা ঘাত সহিষ্ণু। অর্থাৎ বেশি মাত্রায় শীত ও খরা হলে জাতটি সহনশীল হতে পারে। কান্ড শক্ত বিধায় সামান্য ঝড়েও ঢলে পড়ার সম্ভাবনা থাকে না। তাছাড়া গাছের গোড়া খয়েরি রং এর এবং দানায় কাঁচা অবস্থায় লাল বর্ণের টিপ বিদ্যমান থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় গাছ প্রতি গুচ্ছির সংখ্যা ১২-১৫টি থাকে বিধায় উচ্চ ফলন দিতে পারে। যেকোন জাতের চেয়ে এখনও পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ ফলন দিতে সক্ষম হয়েছে। সঠিক পরিচর্চা ও নিয়মনীতি পরিপালন করলে হেক্টর প্রতি ১০ টনের ল্যান্ডমার্ক দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব হবে।

 ব্রি হাইব্রিড ধান৫ হেক্টর প্রতি ফলন ১০ টন
ব্রি হাইব্রিড ধান৫ হেক্টর প্রতি ফলন ১০ টন

গবেষকরা বলছেন, ধানটি আবাদ, পরিচর্চায় বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। বীজ বপনকাল অক্টোবর থেকে জানুয়ারি মাস। তবে ১৫ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর উৎকৃষ্ঠ সময়। প্রতি হেক্টর (৭.৫ বিঘা) জমিতে মাত্র ১৫ কেজি বীজ প্রয়োজন। সবসময় রোদ থাকে এমন জায়গাতে বীজতলা তৈরি করতে হবে। বীজতলার মাটির উর্বরতার উপর নির্ভর করে পচা গোবর ও রাসায়নিক সার দিতে হবে। চারা রোপনের পর জমিতে সেচের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তবে চারা রোপনের তিন সপ্তাহ পর ৫-৬ দিনের জন্য সেচ বন্ধ রেখে জমি একটু হালকা শুকানো যেতে পারে। হাইব্রিডসহ ধানের বিভিন্ন রোগের জন্য অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার দায়ী। এজন্য শেষ মাত্রার ইউরিয়া প্রয়োগে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ফুল আসার ৩০-৩৫ দিন পর ধান হলুদ হলে অর্থাৎ শীষের অগ্রভাগের শতকরা ৮০ ভাগ ধানের চাল শক্ত হলেই দ্রুত ফসল কর্তন করে ফসল ঘরে উঠাতে হবে। ধান কাটার পর সঙ্গে সঙ্গে মাড়াই করে শুকিয়ে নেয়া উত্তম। তবে ব্রি হাইব্রিড ধান৫ বীজ থেকে উৎপাদিত ধান কোনমতেই বীজ হিসেবে রাখা যাবে না কিংবা পরবর্তীতে বীজ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। বীজ ও ধান উৎপাদনে আলাদা আলাদাভাবে করতে হবে। ঘাত সহিষ্ণু বিধায় জাতটি আবাদে সার ও অন্যান্য উপকরণের ব্যবহার কম করতে হয়।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্রি এ পর্যন্ত ৯১ টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ইনব্রীড ৮৫টি এবং হাইব্রিড ৬টি। এসব জাতগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ঘাত সহিষ্ণু বা লবণাক্ততা, খরা, জলমগ্নতা সহিষ্ণুজাত রয়েছে। এছাড়া উচ্চ প্রোটিন ও জিঙ্গ সমৃদ্ধ এবং চাল রফতানি উপযোগি জাত রয়েছে। পরিবর্তনশীল জলবায়ুর জন্য ব্রি উদ্ভাবিত জাতগুলো মাঠ পর্যায়ে আবাদ করা হচ্ছে। দেশের প্রায় ৮০ ভাগ জমিতে ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ধানের চাষাবাদ করা হয়। এছাড়া দেশের মোট ধান উৎপাদনের শতকরা প্রায় ৯১ ভাগই ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ধানের জাত থেকে আসছে বলে জানান ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর।

 ব্রি হাইব্রিড ধান৫ হেক্টর প্রতি ফলন ১০ টন
ব্রি হাইব্রিড ধান৫ হেক্টর প্রতি ফলন ১০ টন

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশে ধানের বিভিন্ন জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে চালের চাহিদা পূরণে কাজ করছে ব্রি। এরই ধারাবাহিকতায় হাইব্রিড জাতের ধান উদ্ভাবন ও কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন

সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন
সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন

কৃষিযন্ত্রের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিতে মালিকানা অনুযায়ী খণ্ডিতভাবে নয়, সমন্বিতভাবে ফসল উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করতে চায় সরকার। এমন বিধান রেখে ‘জাতীয় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালা- ২০১৯’ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয় প্রণীত খসড়াটি শিগগিরই মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হচ্ছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালার উদ্যোগ নিয়েছি। কৃষিকে কীভাবে যান্ত্রিকীকরণ করা হবে, কোন ধরনের মেশিনারি অ্যাডপ্ট করা হবে, মেশিনারির মূল্য কী হওয়া উচিত- এসব বিষয়ই নীতিমালায় থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘ভিন্ন ভিন্নভাবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ হচ্ছে। আমরা মনে করছি, এটি একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার। এজন্য নীতিমালার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

কৃষি সচিব আরও বলেন, ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালা প্রণয়নে আমরা শেষ পর্যায়ে আছি। এটি শিগগিরই অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে পাঠানো হবে।’

অধিকতর দক্ষতা এবং শ্রম ও সময়সাশ্রয়ী উপায়ে কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে মানুষ ও প্রাণিশক্তির ব্যবহার কমিয়ে বেশি পরিমাণে যন্ত্রশক্তি ব্যবহারের প্রযুক্তি ও কলাকৌশল প্রয়োগের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাকে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বলা হয়।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে নীতিমালায় বলা হয়, বাংলাদেশে খামারের গড় আয়তন ছোট এবং খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত। ফলে খণ্ডিত জমিতে চাষ, বপন, রোপণ, কর্তন ইত্যাদিতে যন্ত্রের ব্যবহার বেশ কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। এমনকি ছোট ও মাঝারি আকারের কৃষিযন্ত্রের পূর্ণ ক্ষমতার ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।

সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন
সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন

এতে বলা হয়, দেশে চাষাবাদযোগ্য জমির আকার ছোট ও খণ্ড খণ্ড হওয়ায় কৃষি উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রের সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জন সম্ভব হয় না। ভাড়া ব্যবস্থায় কৃষিযন্ত্র সেবার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে কৃষকদের সংগঠিত করে সমন্বিত ফসল উৎপাদন ব্যবস্থা প্রণয়নে উৎসাহিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে জমি ইজারা ও চুক্তিভিত্তিতে ফসল উৎপাদন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত কর্মপদ্ধতি পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে।

বাংলাদেশ কৃষি যান্ত্রিকীকরণে চ্যালেঞ্জ হিসেবে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, কৃষিযন্ত্রের বিক্রয়োত্তর সেবার অপ্রতুলতা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকাণ্ডের সীমাবদ্ধতা, স্থানীয়ভাবে কৃষিযন্ত্র ও খুচরা যন্ত্রাংশ উৎপাদনে আধুনিক মূলধনী যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবলের অভাব, আমদানিকৃত ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষি যন্ত্রপাতির গুণগতমান ঘোষণা ও নির্ধারণ ব্যবস্থার অনুপস্থিতি, আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহার উপযোগী গ্রামীণ অবকাঠামোর অভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগের নেতিবাচক প্রভাবকে তুলে ধরা হয় নীতিমালায়।

এতে আরও বলা হয়, অঞ্চল ও ফসলভেদে আধুনিক ও লাগসই কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণাকে উৎসাহিত করা হবে। গবেষণার সক্ষমতা বাড়াতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।

কৃষক ও সেবা প্রদানকারী উদ্যোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা এবং খামারের আকৃতি বিবেচনায় নিয়ে মানসম্পন্ন ও টেকসই উপযুক্ত যন্ত্র সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হবে জানিয়ে নীতিমালায় বলা হয়, প্রতিকূল পরিস্থিতি (কাদা মাটি, জলমগ্নতা ও ফসলের নুয়ে পড়া অবস্থা ইত্যাদি) অনুযায়ী উপযুক্ত যন্ত্র সহজলভ্য করতে উৎসাহ দেয়া হবে।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সরকারি প্রণোদনা নীতি তুলে ধরে নীতিমালায় বলা হয়, বর্তমানে কৃষিযন্ত্র জনপ্রিয়করণ ও সম্প্রসারণে হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ হারে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ভর্তুকি) দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে শুধু কৃষক-পর্যায়ে পরিচিতি ও জনপ্রিয়করণে এ প্রণোদনা দেয়া হবে। প্রণোদনা অবশ্যই মানসম্পন্ন বা প্রত্যয়নকৃত কৃষিযন্ত্রের ওপর প্রযোজ্য হবে। বছরে স্বল্প সময়কালে ব্যবহার্য অথচ অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হবে। বেসরকারি উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে যন্ত্রের চাহিদা ও সরবরাহ সমন্বয়ের মাধ্যমে কৃষিযন্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পরবর্তীতে প্রণোদনার হার ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন করা হবে।

কৃষক ও যন্ত্রসেবা প্রদানকারী উদ্যোক্তাদের কৃষিযন্ত্র ক্রয়ে উৎসাহিত করতে প্রয়োজন মতো সরকারি বাণিজ্যিক, এনজিও ও অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান থেকে সহজে কৃষি ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে। বছরের স্বল্প সময়ে ব্যবহার্য বপন, রোপণ, কর্তন, শুকানো, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ বিষয়ক কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সহজে বিশেষায়িত দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন
সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন

আমদানিকৃত এবং স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত কৃষিযন্ত্র বিপণনে সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে। বর্তমানে কৃষিযন্ত্র আমদানিতে আরোপিত শুল্কহার ন্যূনতম রয়েছে। তবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের স্বার্থে পোর্ট অব এন্ট্রিতে আমদানিকৃত যন্ত্রের ওপর আবগারি, বিক্রয় এবং অন্যান্য শুল্ক যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা হবে। দেশে উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে এমন সব যন্ত্রের যুক্তিসঙ্গত প্রতিরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেয়া হবে।

এতে বলা হয়, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়নের জন্য কৃষক ও কৃষিযন্ত্রের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, তথ্য ও সেবাপ্রদান নিশ্চিত করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরসহ অন্যান্য সংস্থায় উপজেলা থেকে সব উচ্চতর স্তরে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকৌশল জ্ঞানসম্পন্ন আলাদা জনবল কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে।

স্থানীয়-পর্যায়ে কৃষিযন্ত্র ও যন্ত্রাংশের উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসার ও মান উন্নয়নে সরকার পদক্ষেপ নেবে জানিয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে, কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী শিল্পকে কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে গণ্য করার উদ্যোগ নেয়া হবে। কৃষিযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতির ওপর যুক্তিসঙ্গত হারে প্রণোদনামূলক আমদানি কর নির্ধারণ করা হবে। কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী ও সংযোজন শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক রেয়াতি সুবিধা অব্যাহত রাখা হবে। এ শিল্পের সুষ্ঠু বিকাশের স্বার্থে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনার ভিত্তিতে কর রেয়াত-সংশ্লিষ্ট তালিকার যন্ত্রাংশের সংখ্যা প্রয়োজনের নিরিখে সম্প্রসারণ করা হবে।

‘কৃষি যন্ত্রপাতি শিল্পের বিকাশের স্বার্থে প্রস্তুতকারী শিল্পোদ্যোক্তাদের অর্জিত লভ্যাংশের ওপর আরোপিত আয়কর প্রদানে প্রয়োজন অনুসারে রেয়াতি সুবিধা দেয়া হবে। কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী শিল্পে আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর বিধিবদ্ধ শুল্ক বিদ্যমান থাকায় কৃষিযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ বিক্রয় ও সরবরাহের ক্ষেত্রে ভ্যাট রেয়াতি সুবিধার বিষয় বিবেচনা করা হবে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষি যন্ত্রাংশের উৎপাদন খরচ ও কৃষক উদ্যোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমদানিকৃত কৃষি যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক যৌক্তিক-পর্যায়ে নির্ধারণ করা হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।’

দেশে কৃষি যন্ত্রপাতি সংযোজন শিল্পকে উৎসাহিত করা হবে। এক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে। সংযোজন শিল্পে দেশে উৎপাদিত যন্ত্রাংশের একটি অংশ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। উচ্চ মূল্যের নতুন কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন- কম্বাইন্ড হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ইত্যাদি আমদানির পাশাপাশি পুনঃসংযোজিত কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ থাকবে। কৃষিযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী শিল্পাঞ্চলসমূহে ‘কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী জোন (এএমপিজেড)’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ শিল্পের উন্নয়নে বিশেষায়িত উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ‘উচ্চতর সেবাকেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন
সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন

বিশেষ অঞ্চলভিত্তিক যান্ত্রিকীকরণের আওতায় হাওর অঞ্চল, উপকূলীয় ও চরাঞ্চল, পাহাড়ি ও বরেন্দ্র অঞ্চলে বিশেষ পদক্ষেপ নেবে সরকার।

পাশাপাশি গ্রামের শিক্ষিত যুবকদের যন্ত্রসেবা উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি এবং যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণে যুব সম্প্রদায়ের অধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতে নানা উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া কৃষি যন্ত্রপাতি পরিচালনায় নারীর অংশগ্রহণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই নারীদের আরও উৎসাহিত করতে সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

যান্ত্রিকীকরণের ক্ষেত্রে কৃষক, যন্ত্রসেবা প্রদানকারী ও স্থানীয় কৃষিযন্ত্র প্রস্তুতকারক-পর্যায়ে মূলধনের অপ্রতুলতা রয়েছে। এজন্য কৃষিযন্ত্র তৈরিতে মূলধনী যন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে সরকারি বিশেষায়িত ঋণ স্কিমের আওতায় ন্যূনতম হারে ঋণ চালু করা হবে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কর্মকাণ্ড কৃষি খাতের মোট ঋণের একটি নির্দিষ্ট অংশ কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে নির্ধারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

নীতিমালা অনুমোদন শেষে তা বাস্তবায়নে কৃষি মন্ত্রণালয় একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সমন্বয় ও মনিটরিং কাঠামো তৈরি এবং তা সুষ্ঠু বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জাতীয় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালায় বলা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন

ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন
ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন

ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। উদ্ভাবিত এ নতুন জাত ‘ব্রি ধান-৮১’ কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের জন্য জাতীয় বীজ বোর্ড অবমুক্ত করেছে।

এ নিয়ে ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ধান জাতের সংখ্যা হলো ৮৬টি। এর মধ্যে ছয়টি হাইব্রিড ধানের জাত রয়েছে। দেশের ৮০ ভাগের বেশি ধানি জমিতে এসব জাতের ধান চাষ হয় এবং এ থেকে আসে দেশের মোট ধান উৎপাদনের শতকরা ৯১ ভাগের বেশি।

ব্রি সূত্র জানায়, ইরান থেকে সংগৃহীত জাত Amol-৩ এর সঙ্গে ব্রি ধান-২৮ এর সংকরায়ণের মাধ্যমে নতুন জাত ব্রি ধান-৮১ উদ্ভাবন করা হয়েছে। ব্রি ধান-৮১ বোরো মৌসুমের জনপ্রিয় ও মেগা জাত ব্রি ধান-২৮ এর একটি পরিপূরক জাত। এটি প্রতিকূল পরিবেশে ঢলে পড়া প্রতিরোধী। জাতটির জীবনকাল ১৪০ থেকে ১৪৫ দিন।

এ জাতের ১০০০ পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২০ দশমিক ৩ গ্রাম। ব্রি ধান-৮১ জাতে অ্যামাইলোজ রয়েছে শতকরা ২৬ দশমিক ৫ ভাগ এবং এতে উচ্চ মাত্রায় আমিষ রয়েছে (১০ দশমিক ৩ শতাংশ)।

এ ধানের চালের আকার লম্বা ও চিকন বিধায় ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রান্নার পর এর ভাত ১ দশমিক ৬ গুণ লম্বা হয়। জাতটিতে সুগন্ধ ছাড়া উন্নত গুণমাণ সম্পন্ন ধানের সকল বৈশিষ্ট্যই বিদ্যামান থাকায় এটি রফতানি সম্ভাবনাময়। নতুন উদ্ভাবিত জাতটির গড় ফলন হেক্টরে ৬ দশমিক শূন্য থেকে ৬ দশমিক ৫ টন। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে এটি হেক্টরে ৮ টন ফলন দিতে সক্ষম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com