আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

করোনা ভাইরাস: কেন সরকারি হাসপাতাল বিমুখ হচ্ছে কোভিড আক্রান্ত রোগীরা?

খালি পড়ে আছে হাসপাতালের বেড
খালি পড়ে আছে হাসপাতালের বেড

করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর একমাত্র সরকার নির্ধারিত বিশেষায়িত কোভিড হাসপাতালেই আক্রান্তদের ভর্তি করা হতো। কিন্তু এখন ভর্তি হওয়ার সংখ্যা খুবই কম।

প্রথম দিকে আইসিইউ এমনকি ভর্তির জন্য রোগী নিয়ে অনেকে দৌঁড়ঝাপ করতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি বিবেচেনায় স্বাস্থ্য বিভাগ সরকারি কিছু হাসপাতাল এবং বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করে এবং অস্থায়ী হাসপাতাল বানিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলার উদ্যোগ নেয়।

রোগীর চাপ সামাল দিতে তিন সপ্তাহের মধ্যে বসুন্ধরায় দুই হাজার বেডের বেশি ধারণ-ক্ষমতার একটি অস্থায়ী হাসপাতাল এর মধ্যে অন্যতম।

সবচেয়ে বড় এ ফিল্ড হাসপাতালটি নিয়ে বেশ আগ্রহ ছিল মানুষের। ৭১টি আইসিইউ বেড স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে যা এখনো চালুর অপেক্ষায়।

হাসপাতালের একজন উপপরিচালক ডা. মোঃ হাবিব ইসমাইল ভুইয়া জানান, ২২শে জুলাই সেখানে রোগী ভর্তি ছিলেন মাত্র ১৭ জন।

অথচ সেখানে কর্মরত আছেন ১৮৬ জন চিকিৎসক ও ১০৩ জন নার্স এবং আড়াইশ আয়া, ওয়ার্ড বয় ও ক্লিনার। গত ২৯শে মে থেকে কোভিড রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে বসুন্ধরায়।

“আমরা ডাক্তার নার্স সবাই প্রস্তুত রোগীর সেবা দিতে। সবাই মোটিভেটেড আছি। ৪শ অক্সিজেন সিলিন্ডার হাসপাতালটিতে মজুদ আছে রোগীদের সেবা দিতে। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে আমাদের এখানে রোগী নেই,” বলেন ডা. ইসমাইল ভূইয়া।

অন্যদিকে ঢাকার মহাখালীতে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বহুতল একটি মার্কেটকে ১৫শ শয্যার কোভিড হাসপাতাল বানানোর সব প্রস্তুতির শেষে চালু না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি সপ্তাহ থেকে সেখানে বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ সময়মতো সুযোগ সুবিধা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এখন মানুষ হাসপাতাল বিমুখ হয়েছে।

“সরকারের যে পরিকল্পনাগুলো নিয়েছিল এত ঢিমেতালে যে এটি রোগের গতির সাথে এই প্রস্তুতির গতিটা কখনোই তালমেলাতে পারে নাই।”

“মানুষকে শুধু তাদের সামনে মুলো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল- তিন হাজার শয্যাবিশিষ্ট ওই হাসপাতাল হচ্ছে, নয়তলা এই হাসপাতাল হচ্ছে… এগুলো করারতো কোন দরকার ছিল না।”

মি. লেনিন বলছেন, “আমাদের যা ছিল সেটাকেই যদি আমরা সঠিকভাবে সুসজ্জিত করে আর যে অবকাঠামোগুলো অবহেলিত ছিল, কাজে লাগছিল না সেগুলোকে যদি কাজে লাগাতাম তাহলেই কিন্তু আমাদের সমস্যা সমাধান হতো।”

সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলে কাঙ্খিত সেবা পাবেন কিনা সেটি নিয়েও সংশয়ে আছেন সাধারণ মানুষ
সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলে কাঙ্খিত সেবা পাবেন কিনা সেটি নিয়েও সংশয়ে আছেন সাধারণ মানুষ

খালি পড়ে আছে হাসপাতালের বেড

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে, সারাদেশে সরকারি কোভিড হাসপাতালে মোট সাধারণ শয্যার সংখ্যা ১৫ হাজার ৪৪৮টি এর মধ্যে ১১ হাজার ৯৮টি খালি।

এছাড়া ৫১৪টি আইসিইউ ইউনিটের মধ্যে ২১৭টি খালি আছে। সরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তির এ পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নতুন করে আর কোন কোভিড হাসপাতাল চালু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এমনকি অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক সব কোভিড হাসপাতাল রাখার প্রয়োজন আছে কিনা সে বিষয়টিও পর্যালোচনাও শুরু করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র আয়েশা আক্তার বলেন, “এখন আমরা নতুন করে আর কোনো হাসপাতাল নেয়ার প্রয়োজন দেখছি না। যেহেতু আমাদের যা আছে এক্সিসটিং তা নিয়েই আমাদের চলছে।”

“আমরা চাইছি যেগুলো আছে সেগুলোর সুযোগ সুবিধা বাড়াতে। মৃত্যু হারটা যেন কম হয় সেটা নিশ্চিত করতে। সংক্রমণ যদি আরো কমে এবং আক্রান্তের সংখ্যা আরো কমলে আমাদের কোভিড হাসপাতালগুলো ব্যাপারে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হবে। এ বিষয়ে কমিটি পর্যালোচনার কাজ চলছে।”

বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চাপ অব্যাহত

এদিকে বাংলাদেশে এখনো ব্যাপক সামাজিক সংক্রমণ চলছে। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীদের চাপ অব্যাহত আছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি হাসপাতালের এত বেড এবং আইসিইউ খালি থাকার কারণ হিসেবে আক্রান্ত এবং তাদের স্বজনরা জানাচ্ছেন বাধ্য না হলে কেউ এখন হাসপাতালে যাচ্ছেন না। আর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলে কাঙ্খিত সেবা পাবেন কিনা সেটি নিয়েও সংশয়ে আছেন সাধারণ মানুষ।

ঢাকা বিভাগের নুসরাত ইয়াসমিন করোনা আক্রান্ত স্বামীকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন ২৮শে জুন। বাড়িতে চিকিৎসা এমনকি অক্সিজেন দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন হাসপাতালে ভর্তি না করার।

কিন্তু শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করতে বাধ্য হন। বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা প্রায় টিভিতে, ফেইসবুকে, বিভিন্ন মাধ্যমে দেখেছি যে সরকারি হাসপাতালে আসলে সেভাবে মানুষ ট্রিটমেন্ট পাচ্ছে না। ডাক্তার সময়মতো আসছে না।”

“তাই আমরা ডিসিশন নিলাম যে আমরা প্রাইভেটেই যাব। এছাড়া আমার বড় ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তার অভিজ্ঞতা ভাল না। আমার বাড়ির কেয়ারটেকার সরকারি হাসপাতালে ভর্তি তার কাছ থেকেও খবর পাচ্ছি যে সেখানে সেবা ভাল না।”

সরকারি হাসপাতালে স্থান না পাওয়ার কারণে অনেকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হয়।
সরকারি হাসপাতালে স্থান না পাওয়ার কারণে অনেকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হয়।

আস্থাহীনতার কারণেই হাসপাতাল যাচ্ছে না মানুষ?

এসবকিছুর পরেও সরকারি হাসপাতালে বিপুল পরিমাণে শয্যা খালির বিষয়টি সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতার কারণেই বলে মনে করেন ডা. লেলিন চৌধুরী।

“কোভিড রোগীর সাথে অন্য যে রোগী আছে সবমিলে এখনতো হাসপাতাল একদম টইটুম্বুর থাকার কথা কিন্তু ফাঁকা থাকছে।। ইতোমধ্যেই সরকারি হাসপাতাগুলোতে গিয়ে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে মানুষজনকে এই পরিমাণ ভোগান্তি পেতে হয়েছে যে তারা এখন আর হাসপাতালমুখী হতেই আর আগ্রহী না। বরঞ্চ প্রচুরসংখ্যক লোক মনে করে হাসপাতালে গেলে কষ্ট বেশি পাব ওর চেয়ে বাসায় থাকি সেটাই ভাল।”

করোনা আক্রান্ত রোগীদের আশি ভাগের বেশি মৃদু উপসর্গ থাকে তাদের এমনিতেই হাসপাতালে যাবার প্রয়োজন নেই। কিন্তু শুরুর দিকে আক্রান্ত সবাই হাসপাতালে ছুটেছে। সেই আতঙ্ক অনেকটা কমেছে।

এছাড়া ভাইরাসে এবং রোগ মোকাবেলা করে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে কীভাবে চলতে হবে সেটাও মানুষ অনেকটা আয়ত্ব করেছে।

সরকারি হাসপাতালে রোগী কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আয়েশা আক্তার বলেন, “এখন কিন্তু জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল আর এন্টি হিস্টামিন ওষুধ খেলে তিন-চারদিনের মধ্যে ভাল হয়ে যাচ্ছে। বাড়িতে থাকলেও আমরা ফলোয়াপ করছি। সেক্ষেত্রে হাসপাতালে ভিড়টা অনেকটা কম হচ্ছে।”

“যার জন্য দেখা যাচ্ছে আমাদের এখন কিছুটা হলেও বেডটা ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কিন্তু কোভিড ননকোভিড আলাদা করে ভর্তি নেয়া হচ্ছে।”

২৩শে জুলাই পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে মোট ২ লাখ ১৬ হাজারের বেশি আক্রান্ত মানুষের মধ্যে ৯৪ হাজারের বেশি সক্রিয় রোগী আছে। ওয়ার্ল্ডোমিটার এ তথ্য দিয়ে জানাচ্ছে সক্রিয় রোগীর তালিকায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম আর এশিয়ায় দ্বিতীয়।

  • সরকারি হাসপাতালে স্থান না পাওয়ার কারণে অনেকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হয়।

    সরকারি হাসপাতালে স্থান না পাওয়ার কারণে অনেকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হয়।

  • সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলে কাঙ্খিত সেবা পাবেন কিনা সেটি নিয়েও সংশয়ে আছেন সাধারণ মানুষ

    সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলে কাঙ্খিত সেবা পাবেন কিনা সেটি নিয়েও সংশয়ে আছেন সাধারণ মানুষ

  • খালি পড়ে আছে হাসপাতালের বেড

    খালি পড়ে আছে হাসপাতালের বেড

  • সরকারি হাসপাতালে স্থান না পাওয়ার কারণে অনেকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হয়।
  • সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলে কাঙ্খিত সেবা পাবেন কিনা সেটি নিয়েও সংশয়ে আছেন সাধারণ মানুষ
  • খালি পড়ে আছে হাসপাতালের বেড
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

করোনায় ফুসফুস ভালো রাখার জাদুকরী পাঁচ সহজ উপায়!

করোনায় ফুসফুস ভালো রাখার জাদুকরী পাঁচ সহজ উপায়!
করোনায় ফুসফুস ভালো রাখার জাদুকরী পাঁচ সহজ উপায়!

দিন দিন বাড়ছে করনায় আক্রান্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে মৃত্যুর মিছিলে নাম লেখাচ্ছে লাখো মানুষ। নিশ্চয়ই জানেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ফুসফুসে সংক্রমণ হয়। আর মানবদেহের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থার অন্যতম অঙ্গ ফুসফুস।

ফুসফুসে সংক্রমণ মানেই শ্বাসকষ্ট, যার ফলে রোগীর মৃত্যুও ঘটে। তাই এই কঠিন সময়ে আমাদের অবশ্যই উচিত ফুসফুসকে সুস্থ রাখা। ফুসফুস সুস্থ রাখার বিষয়ে খাবারের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। যা আমাদের ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। হাতের কাছেই এমন কিছু সহজ খাবার আছে যা আমাদের ফুসফুসকে সুস্থ রাখবে। চলুন জেনে নেয়া যাক বিস্তারিত- 

কী খেতে হবে?

> পুষ্টিবিদদের মতে, শাক-সবজি, আলু, পটল, কুমড়া-গাজর বেশি করে খান। খোসা না ছাড়িয়ে তরকারি করে খেতে পারলে আরো ভালো।

> আটার রুটি, ব্রাউন রাইস, কিনোয়া, বার্লি ইত্যাদি খান। এতে ফুসফুসের ক্ষতি যেমন কম হবে, ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

> এছাড়া পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার ফুসফুসের জন্য ভালো। তাই সবুজ শাক, টমেটো, বিট, আলু, কলা খান নিয়মিত। আর প্রোটিনের জন্য মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, দই, ডাল, ছোলা ইত্যাদি।

> ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে দিনে ২ থেকে ৩ লিটার পানি অবশ্যই পান করতে হবে।

যেসব খাবার খাবেন

কয়েকটি বিশেষ খাবার রয়েছে যা ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আসুন জেনে নেয়া যাক এমন কিছু খাবার সম্পর্কে-

আদা

আদা কুচি নিয়মিত খেলে ফুসফুস ভালো থাকে।

কাঁচা মরিচ

কাঁচা মরিচ খেলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। সংক্রমণের আশঙ্কা কমে।

হলুদ

হলুদের কারকিউমিন প্রদাহ কমায়। এতে ফুসফুস ভালো থাকে।

পেঁয়াজ ও রসুন

পেঁয়াজ ও রসুন প্রদাহের প্রবণতা কমায় ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি জোগায়। ‘জার্নাল অব ক্যানসার এপিডেমিওলজি’ ও ‘বায়োমার্কারস অ্যান্ড প্রিভেনশন’-এ প্রকাশিত প্রবন্ধে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যেসব ধূমপায়ী কাঁচা রসুন খান তাদের ফুসফুসের বিভিন্ন অসুখে ভোগার আশঙ্কা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়।

ফল ও সবজি

আপেল, পেয়ারা, শসা, সফেদা ইত্যাদি ফল ফুসফুসের জন্য খুবই ভালো। আপেল ও বাতাবি লেবুর ফ্ল্যাভেনয়েড ও ভিটামিন সি ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ায়। এছাড়া গাজর, কুমড়া, বেল পেপারে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি। সারা শরীরের পাশাপাশি ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এসব সবজি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

সেমাইয়ের দুই পদ

সেমাইয়ের দুই পদ
সেমাইয়ের দুই পদ

ঈদ মানেই নানা মিষ্টি স্বাদের খাবার। আর সেই তালিকায় সেমাই তো থাকবেই! সেমাইয়ের সুস্বাদু সব পদ জিভে জল আনবেই! ঈদের সকালে সেমাই দিয়ে তৈরি করতে পারেন ব্যতিক্রম স্বাদের দুই পদ। চলুন জেনে নেয়া যাক রেসিপি-

সেমাইয়ের দুই পদ
সেমাইয়ের দুই পদ

স্পেশাল দুধ সেমাই

উপকরণ:
তরল দুধ ২ লিটার
সেমাই ২৫০ গ্রাম
গুঁড়া দুধ ৫ টেবিল চামচ
চিনি স্বাদমতো
এলাচ ও দারুচিনি কয়েকটি
লবণ স্বাদমতো
কিসমিস ও বাদাম কুচি ইচ্ছামতো
ঘি দুই টেবিল চামচ
দুধের সর বা মালাই আধা কাপ।

প্রণালি:
দুই লিটার দুধকে জ্বাল দিয়ে সোয়া এক লিটার করে নিতে হবে। এবার এলাচ ও দারুচিনি দিয়ে জ্বাল দিন। উপরে ঘন সর জমবে, সেটাকে তুলে রাখুন আলাদা করে। এবার দুধে চিনি মেশান। আলাদা পাত্রে খানিকটা দুধ তুলে নিয়ে সেই দুধের সঙ্গে পাউডার মিল্ক গুলিয়ে নিন। গোলানো গুঁড়া দুধ আবার বাকি দুধের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। এবার স্বাদ অনুযায়ী লবণ দিয়ে নাড়তে থাকুন। দুধ ফুটে উঠলে বাদামী করে ভেজে রাখা সেমাই দিয়ে একটু নেড়ে নিন। দুই মিনিট চুলায় রেখে নামিয়ে নিতে হবে। তারপর সেমাইয়ের ওপর দুধের সর আর কিসমিস, বাদাম দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। ব্যাস তৈরি হয়ে গেল ঈদের সকালের স্পেশাল স্বাদের দুধ সেমাই।

সেমাইয়ের দুই পদ
সেমাইয়ের দুই পদ

সেমাই সন্দেশ

উপকরণ
লাচ্ছা সেমাই ২ কাপ
কনডেন্স মিল্ক ১ কাপ
ঘি ২ টেবিল চামচ
এলাচ গুঁড়া সামান্য
মাওয়া পরিমাণমতো
বাদাম/ কিসমিস (সাজানোর জন্য)

প্রণালি:
প্যানে ঘি হালকা গরম করে লাচ্ছা সেমাইগুলো অল্প আচে ভেজে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন সেমাই পুড়ে না যায়। এবার কনডেন্স মিল্ক আর এলাচ গুঁড়া দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে সন্দেসের ঘনত্ব আসলে চুলে থেকে নামিয়ে ঘি মাখানো একটা সমান থালায় বিছিয়ে মাওয়া গুঁড়া ওপর দিয়ে ছিটিয়ে দিতে হবে। সন্দেশটা একটু ঠান্ডা হলে চাকু দিয়ে পছন্দমত শেপে কেটে বাদাম বা কিসমিস দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

গরুর মাংসের শাহী রেজালা তৈরির সহজ রেসিপি

গরুর মাংসের শাহী রেজালা তৈরির সহজ রেসিপি
গরুর মাংসের শাহী রেজালা তৈরির সহজ রেসিপি

শাহী খাবার মানেই রাজকীয় একটা আমেজ। গরুর মাংসের শাহী রেজালা ভীষণ লোভনীয় একটি খাবার। এর সুঘ্রাণেই জিভে জল চলে আসতে বাধ্য। পোলাও কিংবা পরোটার সঙ্গে খেতে বেশ লাগে এই রেজালা। চলুন রেসিপি জেনে নেয়া যাক-

উপকরণ:
গরুর মাংস-১ কেজি
আদা বাটা-১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা- ১ চা চামচ
ধনে বাটা- ১ চা চামচ
জিরা বাটা- ১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়া- ১/২ চা চামচ
পেঁয়াজ তুচি- ১ কাপ
পোস্তদানা বাটা- ১ টেবিল চামচ
টক দই- ১/২ কাপ
কাঁচা মরিচ (আধাফালি)- ১৫-২০টি
কিসমিস- ২ টেবিল চামচ
গরম মসলা ১ চা চামচ
ঘি- ১/২ কাপ
তেল- ১/২ কাপ
মাওয়া- ২ টেবিল চামচ
গোলাপজল- ১ টেবিল চামচ।

প্রণালি:
তেল, ঘি, পেঁয়াজ, কাচামরিচ, কিসমিস ছাড়া মাংস ছোট টুকরা করে সব মশলা মাখিয়ে ৫-৬ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। হাঁড়িতে তেল ঘি দিয়ে পেঁয়াজ বেরেস্তা করে তুলে নিয়ে মাংস দিয়ে কষাতে হবে। এরপর বেরেস্তা মেশাতে হবে। কষানো হলে ২-৩ কাপ পানি দিয়ে ঢেকে সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত অল্প আঁচে রেখে দিতে হবে। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল গরুর মাংসের শাহী রেজালা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

কলিজা দিয়ে ভুনা খিচুড়ি রাঁধবেন যেভাবে

কলিজা দিয়ে ভুনা খিচুড়ি রাঁধবেন যেভাবে
কলিজা দিয়ে ভুনা খিচুড়ি রাঁধবেন যেভাবে

ভুনা খিচুড়ি এমনিতেই সুস্বাদু একটি খাবার। তার সঙ্গে যদি কলিজা ভুনা যোগ হয় তবে তো কথাই নেই। তবে সঠিক রেসিপি জানা না থাকলে খিচুড়ি সুস্বাদু হবে না। চলুন জেনে নেয়া যাক সুস্বাদু ভুনা খিচুড়ি রান্নার রেসিপি-

উপকরণ: ১
পোলাওয়ের চাল ৪০০ গ্রাম
ভাজা মুগ ডাল ২৫০ গ্রাম
আদাবাটা ২ টেবিল চামচ
রসুন ১ চা চামচ
পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ কাপ
গরম মশলার গুঁড়া (দারুচিনি, এলাচ ও লবঙ্গ) ১ টেবিল চামচ
তেজপাতা ২টি
কাঁচা মরিচ ৪-৫টি
লবণ স্বাদমতো
ঘি আধা কাপ
তেল ও পানি পরিমাণমতো।

উপকরণ: ২
কলিজা ভুনা:
খাসির কলিজা ৫০০ গ্রাম
আলু (মাঝারি) ২টি
পেঁয়াজকুচি ২ টেবিল চামচ
আদাবাটা ১ চা-চামচ
মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ
হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ
দারুচিনি ২ টুকরা
এলাচ ৪টি (থেঁতো)
তেজপাতা ২টি
লবণ স্বাদমতো ও তেল ৩ টেবিল চামচ।

প্রণালি: ১
কলিজা ডুমো করে কেটে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরাতে হবে। আলু ডুবো করে কেটে হলুদ ও লবণ মেখে ভেজে তুলে রাখুন। এবার প্যানে তেল দিয়ে সব মসলা কষিয়ে তাতে কলিজা ও আলু দিয়ে একটু নাড়াচাড়া করে ১ কাপ পানি দিয়ে ঢেকে দিয়ে হবে। কলিজা ভুনা করে নামিয়ে নিন।

প্রণালি: ২
পোলাওয়ের চাল ও ডাল ধুয়ে পানি ঝরান, হাঁড়িতে তেল দিয়ে তাতে তেজপাতা, আদাবাটা, রসুনবাটা, চাল-ডালের মিশ্রণ অর্ধেক পেঁয়াজ বেরেস্তা, লবণ ও পরিমাণমতো গরম পানি দিয়ে একটু নেড়ে ঢেকে দিন। যদি ১ কাপ চাল-ডালের মিশ্রণ হয়, তবে দেড় কাপ গরম পানি দিতে হবে।

নামানোর আগে ভুনা করা কলিজা গরমমসলার গুঁড়া, কাঁচা মরিচ দিয়ে পাঁচ মিনিট দমে রেখে ওপরে পেঁয়াজ বেরেস্তা ও ঘি ছড়িয়ে সালাদ বা আচারের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

গরুর মাংস দিয়ে সহজে বিরিয়ানি রান্নার রেসিপি

গরুর মাংস দিয়ে সহজে বিরিয়ানি রান্নার রেসিপি
গরুর মাংস দিয়ে সহজে বিরিয়ানি রান্নার রেসিপি

রেসিপি জানা থাকলে গরুর মাংসের বিরিয়ানির থেকে সহজ রান্না আর হয় না। এর স্বাদ তো প্রায় সবারই জানা। সুস্বাদু এই খাবারটি রাঁধতে চাইলে জেনে নিন সহজ রেসিপি-

উপকরণ
গরুর মাংস- ১ কেজি
পোলাওর চাল- ১ কেজি
বিরিয়ানি মসলা- ৩ টেবিল চামচ
এলাচ ও দারুচিনি বাটা- ১ টেবিল চামচ
আদা বাটা- ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা- ১ টেবিল চামচ
পেয়াজকুচি- ১ কাপ
তেল- ১ কাপ
আলু- ১ কাপ (কিউব করে কাটা)
কিচমিচ- ১০-১৫ টি
পানি- যতটুকু চাল তার দ্বিগুণ পানি লাগবে
তেজপাতা- ৩ টি
লবণ- স্বাদমতো
জিড়া গুড়া- ১ টেবিল চামচ
গোলাপ জল- ১ চামচ
কেওরা জল- ১ চামচ।

প্রণালি:
প্রথমে মাংসকে ছোট ছোট টুকরো করে ধুয়ে নিতে হবে। এখন যে পাত্রে চাল ও মাংস জায়গা হবে এমন একটি বড় পাত্র নিতে হবে। পাত্রটি চুলায় বসিয়ে তেল দিয়ে গরম করে নিতে হবে। তেল গরম হয়ে আসলে পেঁয়াজকুচি ও তেজপাতা দিয়ে দিতে হবে।

পেঁয়াজ যখন হালকা বাদামি কালার আসবে তখন আদা বাটা, রসুন বাটা, জিড়ার গুঁড়া, ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে একটু কষিয়ে নিতে হবে। যখন মসলা কষে আসবে তখন ধুয়ে মাংস দিয়ে সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। যখন মাংস মোটামুটি সিদ্ধ হয়ে আসবে তখন আলু দিয়ে একটু সিদ্ধ করে নিতে হবে।

তারপর বিরিয়ানি মসলা দিয়ে একটু নাড়তে হবে। এখন পোলাওর চাল ধুয়ে এই মাংস ও আলুর মধ্যে দিয়ে একটু ভাজতে হবে। যখন পানি শুকিয়ে চাল ভাজা ভাজা হবে তখন আগে থেকে করে রাখা গরম পানি দিয়ে দিতে হবে।
যখন গরম পানি কমে মাখা হয়ে আসবে তখন চুলার আঁচ কমিয়ে ধমে রাখতে হবে।

এরপর এই চালের উপর গোলাপ জল ও কেওরা জল দিয়ে চালগুলোকে নেড়ে আবার ২ মিনিটের মত দমে রাখতে হবে। ২ মিনিট পর চুলা বন্ধ করে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। এরপর পরিবেশনের পালা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com