আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

সমস্যায় জর্জরিত উল্লাপাড়া সরকারি মৎস্য হ্যাচারি

সমস্যায় জর্জরিত উল্লাপাড়া সরকারি মৎস্য হ্যাচারি

‘মাছে ভাতে বাঙালি’। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সরকারি মৎস্য হ্যাচারি কমপ্লেক্সটির বেহালদশা দেখে এ বাক্যের বাস্তবায়ন কঠিন বলে মনে করছেন মৎস্য চাষিরা। দীর্ঘদিন যাবৎ নানা সমস্যায় জর্জরিত হওয়ায় হ্যাচারিটিতে মৎস্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। দিনদিন বেড়েই চলছে হ্যাচারিটির সমস্যা।

আয়রনমুক্ত পানির অভাবে রেণুপোনা উৎপাদন ব্যাহত হলেও সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। এ হ্যাচারি পরিচালনায় উদাসীনতার সুযোগে বেসরকারি হ্যাচারিগুলো জমজমাট ব্যবসা করে আসছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৭৭ সালে উল্লাপাড়া সদরে মৎস্য অধিদফতরের আওতায় সরকারি মৎস্য হ্যাচারি কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানের মোট জমির পরিমাণ প্রায় ২৪ বিঘা। হ্যাচারিতে পুকুর রয়েছে মোট ১১টি। ১৪ জন কর্মচারীর পদ থাকলেও আছেন মাত্র ১০ জন। প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প সম্প্রসারণ কর্মকর্তার একমাত্র পদটিও দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য রয়েছে।

রেণুপোনা উৎপাদনের পুকুরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো রয়েছে এই হ্যাচারিতে। সরকারি এ হ্যাচারির মূল উদ্দ্যেশ্য বিভিন্ন জাতের মাছের গুণগতমানের রেণু ও পোনা উৎপাদন, মৎস্য চাষিদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া। উল্লাপাড়ায় মৎস্য চাষির সংখ্যা বেশি হওয়ায় হ্যাচারি থেকে পোনা কিনতে অগ্রিম চাহিদা দিতে হয়। চাহিদা মোতাবেক নগদ টাকায় পোনা কিনতে হয়। হ্যাচারিটিতে রুই, কাতলা, মৃগেল, সরপুটি ও বাটাজাতের রেণু ও পোনা উৎপাদন হয়।

এবছর ১১০ কেজি রেণু ও ১ লাখ ৭৬ হাজার পোনা মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কিন্তু পানিতে আয়রনের কারণে রেণু ও পোনা উৎপাদনে ব্যাহত হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এ হ্যাচারিটির পানিতে আয়রন সমস্যা দুর করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ না থাকলে নিজস্ব জেনারেটর দ্বারা বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো প্রয়োজন হলেও এই হ্যাচারিতে তা নেই। লোডশেডিংয়ের কারণে রেণু ও পোনা উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া পুকুরগুলোর খনন ও সংস্কারের অভাবে পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। এতে পোনা উৎপাদন দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে। পুকুরগুলোর পাড় ধসে যাওয়ায় পোনা রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

উল্লাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া এ বিষয়ে জানান, পুকুরগুলোর পাড় মেরামত ও খননসহ বিভিন্ন অবকাঠামো সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ হ্যাচারির মূল সমস্যগুলো চিহ্নিত করে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর হ্যাচারি কমপ্লেক্স থেকে বহুবার লিখিতভাবে জানানো হলেও সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। প্রকল্পটির অনুমোদন হলে আবার হ্যাচারি কমপ্লেক্সের দৃশ্যপট পাল্টে যাবে বলে জানালেন এই কর্মকর্তা।

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সন্দ্বীপ কুমার বলেন, প্রকল্পটি উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান। উদ্যোগ নিলেই বেশি পরিমাণ রেণুপোনা উৎপাদন করা সম্ভব। যা থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। অন্যদিকে মাছের ঘাটতি মেটাবে এবং সুষম খাবার হিসেবে আমিষ ও পুষ্টির অভাব মিটবে।

ফিরে চল মাটির টানে

ফিরে চল মাটির টানে জুনিয়র ২০১৮

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফিরে চল মাটির টানে

ফিরে চল মাটির টানে , বোরো

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

খাঁচায় মাছ চাষ, সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

খাঁচায় মাছ চাষ, সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

দেশে দিনে দিনে জলাশয় কমে যাচ্ছে কিন্তু জলাশয় কমে গেলেও আমাদের প্রচুর নদী ও খাল রয়েছে যেখানে সারা বছর মাছ চাষ করা যায়। আর এসব জলাশয়ে মাছ চাষের সহজ উপায় হচ্ছে খাঁচায় মাছ চাষ করা। এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে মাছের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার কারণে দেশ-বিদেশে খাঁচায় মাছ চাষ ক্রমাগতভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিভিন্ন ধরনের জলাশয়ে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ উপযোগী আকারের খাঁচা স্থাপন করে অধিক ঘনত্বে বাণিজ্যিকভাবে মাছ উৎপাদনের প্রযুক্তি হলো খাঁচায় মাছ চাষ। এতে জায়গা কম লাগে এবং অধিক লাভজনক।

খাঁচায় মাছ চাষের সুবিধা, উপযোগী স্থান, খাঁচার ঘনত্বসহ বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা মৎস কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ।

খাঁচায় মাছ চাষে সুবিধা

ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ করলে পুকুরের ন্যায় জলাশয়ের প্রয়োজন হয় না।
প্রবাহমান নদীর পানিকে যথাযথ ব্যবহার করে মাছ উৎপাদন বাড়ানো যায়।
মাছের বর্জ্য প্রবাহমান পানির সঙ্গে অপসারিত হয় বিধায় পানিকে দূষিত করতে পারে না।
মাছের উচ্ছিষ্ট খাদ্য খেয়ে নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজাতির প্রাচুর্য্য বৃদ্ধি পায়।
প্রবাহমান থাকায় প্রতিনিয়ত খাঁচার অভ্যন্তরের পানি পরিবর্তন হতে থাকে ফলে পুকুরের চেয়ে অধিক ঘনত্বে মাছ চাষ করা যায়।
পুকুরে চাষকৃত মাছের চেয়ে খাঁচায় চাষকৃত মাছ বেশি সুস্বাদু।

খাঁচা স্থাপনের উপযোগী স্থান

খাঁচা স্থাপনের জন্য উপযোগী, নদীর এমন অংশ যেখানে একমুখী প্রবাহ কিংবা জোয়ার ভাটার শান্ত প্রবাহ বিদ্যমান।
নদীর মূল প্রবাহ যেখানে অত্যাধিক তীব্র স্রোত বিদ্যমান সে অঞ্চলে খাঁচা স্থাপন না করাই ভাল।
মূল খাঁচা পানিতে ঝুলন্ত রাখার জন্য ন্যূনতম ১০ ফুট গভীরতা থাকা প্রয়োজন। যদিও প্রবাহমান পানিতে তলদেশে বর্জ্য জমে গ্যাস দ্বারা খাঁচার মাছের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা কম। তথাপি খাঁচার তলদেশ নিচের কাদা থেকে ন্যূনতম ৩ ফুট ব্যবধান থাকা আবশ্যক।

স্থানটি লোকালয়ের নিকটে হতে হবে যাতে সহজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
খাঁচা স্থাপনের স্থান থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা সুন্দর হতে হবে যাতে সহজে উৎপাদিত মাছ বাজারজাত করা যায়।
খাঁচা স্থাপনের কারণে যাতে কোনোভাবেই নৌ চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে এমন স্থান হতে হবে।
সর্বোপরি খাঁচা স্থাপনের জায়গাটি এমন হতে হবে যাতে শিল্প বা কলকারখানার বর্জ্য কিংবা পয়ঃনিষ্কাশন পানি অথবা কৃষিজমি থেকে বন্যা বা বৃষ্টি বিধৌত কীটনাশক প্রভাবিত পানি নদীতে পতিত হয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে খাঁচার মাছ মারা যেতে না পারে।

ভাসমান খাঁচা তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ

খাঁচা তৈরির মূল পলিইথিলিন জাল (৩-৪ ইঞ্চি থেকে ১ ইঞ্চি মেসের) রাসেল নেট (খাদ্য আটকানোর বেড়া তৈরিতে) নাইলনের দড়ি ও কাছিকভার নেট বা ঢাকনা জাল (পাখির উপদ্রব থেকে রক্ষার জন্য) ১ ইঞ্চি জিআই পাইপ (৭০ ফুট প্রতিটি খাঁচার জন্য) ফ্রেম ভাসমান রাখার জন্য শূন্য ব্যারেল-ড্রাম (২০০ লিটারের পিভিসি ড্রাম, ওজন ৯ কেজির ঊর্ধ্বে) খাঁচা স্থির রাখার জন্য গেরাপি (অ্যাঙ্কর) ফ্রেমের সঙ্গে বাঁধার জন্য মাঝারি আকারের সোজা বাঁশ (প্রয়োজনীয় সংখ্যক)।

খাঁচার আকার

খাঁচা তৈরির জন্য এমন জাল ব্যবহার করতে হবে যেন কাঁকড়া, গুইসাপ, কচ্ছপ ইত্যাদি ক্ষতিকর প্রাণী জালগুলো কাটতে না পারে। সাধারণত দুই আকারের জাল তৈরি করা হয়। যেমন- খাঁচার গভীরতা ৬ ফুট, প্রস্থ ১০ ফুট ও দৈর্ঘ্য ২০ ফুট। খাঁচা তৈরির জন্য জালগুলো মেস ৩-৪ ইঞ্চি থেকে ১১-৪ ইঞ্চির মধ্যে হওয়া ভাল। এতে সহজে নদীর পরিষ্কার পানি প্রতিনিয়ত খাঁচার ভেতরে সঞ্চালিত হতে পারে।

ফ্রেম তৈরি ও স্থাপন

খাঁচাগুলোর ফ্রেম তৈরি করতে প্রথমত ১ ইঞ্চি জিআই পাইপ দ্বারা আয়তকার ২০ ফুটী ১০ ফুট ফ্রেম তৈরি করা হয়। আর মাঝে ১০ ফুট আরেকটি পাইপ বসিয়ে ঝালাই করে ফ্রেম তৈরি করা হয়। এতে একটি ফ্রেমে সরাসরি ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ১০ ফুট আকারের খাঁচা বসানো যায় আবার প্রয়োজনবোধে ১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থ আকারের দুটি খাঁচাও বসানো যায়। প্রতি দুই ফ্রেমের মাঝে ৩টি ড্রাম স্থাপন করে সারিবদ্ধভাবে ফ্রেমগুলো স্থাপন করা হয়। প্রয়োজনীয় সংখ্যক নোঙর দিয়ে খাঁচা নদীর নির্দিষ্ট স্থানে শক্তভাবে বসানো হয়। এরপর প্রতিটি ফ্রেমের সঙ্গে পৃথক জাল সেট করা হয়।

খাঁচায় মাছের মজুদ ঘনত্ব নির্ধারণ

পানির স্রোত, জালের ফাঁসের আকার, পানির গভীরতা, প্রত্যাশিত আকারের মাছ উৎপাদন, খাদ্যের গুণগতমান এবং বিনিয়োগ ক্ষমতা ইত্যাদি বিবেচনা করেই মজুদ ঘনত্ব নির্ধারণ করা হয়। স্থাপিত খাঁচায় মাছের প্রজাতি ভেদে যেমন প্রতি ঘনমিটারে ৩০ থেকে ৪০টি পর্যন্ত মনোসেক্স তেলাপিয়া পোনা মজুত করা যাবে। মজুদকালে পোনার আকার এমন হতে হবে যাতে জালের মেসের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে। ন্যূনতম ২৫-৩০ গ্রাম আকারের পোনা মজুত করতে হবে।

খাঁচায় সম্পূরক খাদ্য প্রদান

বাণিজ্যিকভাবে খাঁচায় মাছ চাষ পরিচালনার জন্য প্রবাহমান পানিতে ভাসমান খাদ্যের বিকল্প নেই। বিভিন্ন কোম্পানি পিলেট আকারের পানিতে ভাসমান সম্পূরক খাদ্য তৈরি করে থাকে। মাছ খাঁচায় মজুদের পর হতে বাজারজাত করার আগ পর্যন্ত দৈহিক ওজনের বিবেচনায় খাদ্য প্রয়োগের মাত্রা ৮ শতাংশ হতে ৩ শতাংশ এর মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। মজুদ থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত ৭৫০-১০০০ গ্রাম ওজনের মাছ উৎপাদন করতে সর্বোচ্চ ১.৫ কেজি খাদ্যের প্রয়োজন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

তরতাজা মাছ পাবেন যেখানে

তরতাজা মাছ পাবেন যেখানে
তরতাজা মাছ পাবেন যেখানে

মাছে-ভাতে বাঙালি আমরা। ভাতের পরেই আমাদের চাহিদায় মাছ থাকে। হাওর-বাওড়, নদী-নালা, পুকুর, খাল-বিল, সমুদ্র আমাদের মাছের জোগান দেয়। জেলেদের ধরা মাছ আমাদের পাতিলে আসতে কয়েকবার হাত বদল হয়। সে রকম একটি হাত বদলের হাট কক্সবাজার ফিশারি ঘাট। বিস্তারিত জানাচ্ছেন হুসাইন আরমান-

কক্সবাজার বিমানবন্দরের পাশে বাকখালী নদীর তীরের এই ফিশারি ঘাটে খুব সকালে দেখা যাবে প্রচুর সামুদ্রিক মাছ। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন ফিশারি ঘাটের (বিএফডিসি) মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (মাছ খালাস ঘাট) রয়েছে। এখানে মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন করা হয়।কক্সবাজার শহরের ৬ নম্বর ঘাটে রয়েছে তিনটি মাছ অবতরণ ঘাট ও নুনিয়াছড়ায় রয়েছে আরো একটি অবতরণ ঘাট। এছাড়া শহরতলীর নাজিরারটেক এলাকায় ২টি, কলাতলি পয়েন্টে ১টি ও কলাতলি বড়ছড়ায় ১টিসহ মোট ১০টি ঘাটে ফিশিং ট্রলার ও নৌকা থেকে প্রতিদিন মাছ খালাস হয়ে আসছে।

তরতাজা মাছ পাবেন যেখানে
তরতাজা মাছ পাবেন যেখানে

সূর্য ওঠার আগেই জেগে ওঠে এই ঘাট। রাতভর জেলেরা মাছ ধরে। ভোর হতেই সেই মাছ বাজারে উঠতে শুরু করে। ভোর ৫টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। সাধারণত ভোরবেলায় মাছের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। একই জায়গায় দুইবার হাত বদল হয় মাছগুলো। প্রথমে নৌকায় থাকতে জেলেদের কাছ থেকে কিনে নেয় স্থানীয় পাইকাররা। তারা মাছগুলো কিনে নিয়ে বাজারে সাজায়। তাদের কাছ থেকে কিনে নেয় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বেপারিরা।তরতাজা ও সুস্বাদু সামুদ্রিক মাছগুলো দেখলে লোভ সামলানো কঠিন। প্রায় পঞ্চাশের অধিক প্রজাতির মাছের সমাহার এখানে। মাছ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন দামে সেগুলো বিক্রি হয়। প্রতিকেজি সুরমা মাছ (বড়) ২২০, তেল্লা ৪০০, ইলিশ ৬০০-৮০০, পাতা ১২০, বুইজ্জা ৩০০, চাপা ৩০০, ননাইয়া ৪০০, সামুদ্রিক বাইন ৪০০, চুরি ২০০, কোরাল ৫০০, লাল কোরাল ৬০০, তিল্লি ৪০০, বুম বাটা ১৫০, টুইট্টা ১৫০, পোয়া ৩৫০, করিত্তা ২৫০-৩০০, চুরি (বড়) ৪০০, রুপচাঁদা ৪০০-৮০০, কাকড়া ২৫০, পটকা ৩০, হাঙ্গর ১২০, শাপলা ১৫০, বাইলা ২০০, পাইসসা ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

তরতাজা মাছ পাবেন যেখানে
তরতাজা মাছ পাবেন যেখানে

মৌসুম অনুযায়ী মাছের দাম ওঠানামা করে। আবার কোনো কোনো মাছ হালি, শত, হাজার, মণ, পাল্লা হিসেবেও বিক্রি হয়। প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকার মাছের কারবার হয় এই ঘাটে। এখান থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মাছ সরবরাহ করা হয়। প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিদেশেও রফতানি হয়।আপনিও যেতে পারেন। চাইলে তরতাজা মাছ কিনে আনতে পারবেন। সেখান থেকে বাসায় আনতে আনতে মাছ যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য পাশেই প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে গিয়ে বা ব্যবসায়ীদের বললে তারা আপনার মাছ ভালোভাবে প্যাকেট করে দেবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বঙ্গোপসাগরে আছে ৪৩০ প্রজাতির মাছ

বঙ্গোপসাগরে আছে ৪৩০ প্রজাতির মাছ

দেশের সমুদ্রসীমা মূল ভূ-খণ্ডের প্রায় সমান হলেও মাছ উৎপাদনের মাত্র ১৫ দশমিক ৪২ শতাংশ অবদান রয়েছে সামুদ্রিক মাছের। বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি থেকে মাছ উৎপাদন খুবই অপ্রতুল। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কৌশল জানা না থাকায় সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন হচ্ছে না বলে মনে করছেন মৎস্য বিজ্ঞানীরা।

তবে সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কৌশল রপ্ত করার জন্য গত তিন বছর ধরে গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ইতোমধ্যে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধানে বঙ্গোপসাগরে ৪৩০ প্রজাতির মাছ শনাক্ত হয়েছে।এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩০০ মাছের ক্যাটালগিং করা হয়েছে। বাকি মাছগুলোর ক্যাটালগিংয়ের পাশাপাশি আরও নতুন প্রজাতির মাছের সন্ধানে বঙ্গোপসাগরে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বিজ্ঞানীদের।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) উদ্ভাবিত চারটি মেরি কালচার প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ের বিজ্ঞানীদের কাছে হস্তান্তর কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরেন মৎস্য বিজ্ঞানীরা।

কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জানানো হয়, আমাদের সমুদ্রের আয়তন ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটার হলেও মৎস্য উৎপাদনে সামুদ্রিক মাছের অবদান খুবই অপ্রতুল। এ কারণে বর্তমান সরকার সামুদ্রিক মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে ব্লু-ইকোনমি জোরদারের যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তারই লক্ষ্যে এখন নতুন নতুন প্রযুক্তির বিষয়ে জোর গবেষণা চলছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের উপকূলীয় ছয় জেলার ৩০ জন মৎস্য কর্মকর্তাকে কক্সবাজারে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র মিলনায়তনে কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জুলফিকার আলীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পরিচালক (প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মনিটরিং ইউনিট) ড. ফৌজিয়া ইয়াসমিন। কর্মশালায় বিএফআরআই উদ্ভাবিত চারটি মেরি কালচার প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ের বিজ্ঞানীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কর্মশালায় বিএফআরআই উদ্ভাবিত এসব প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন- বিএফআরআইর কক্সবাজারের উপ-পরিচালক ড. আবদুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. যাকিয়াহ রহমান মনি, কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুর রহমান, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম ও জাকিয়া হাসান প্রমুখ।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম বলেন, হ্যাচারিতে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদনে আমরা সফল হলেও আমাদের অর্জিত প্রযুক্তি এখনো অনেক দুর্বল। কাঁকড়ার পোনা শতকরা মাত্র এক থেকে দেড় ভাগ বাঁচে। আমাদের লক্ষ্য এ হার শতকরা ১০ ভাগে উন্নীত করা। তবে সি-উইড বা সামুদ্রিক শৈবাল চাষে আমাদেরকে উন্নত বিশ্বের কাতারে উঠতে বেশি দিন সময় লাগবে না।

কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পরিচালক ড. ফৌজিয়া ইয়াসমিন বলেন, বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যমআয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উন্নীত করার জন্য যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনে ব্লু-ইকোনমি তথা সমুদ্র সম্পদের উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছে। ২০১২ ও ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা নিয়ে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার পর আমাদের সমুদ্র সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বহুমুখী গবেষণা শুরু হয়েছে। উন্নত বিশ্বের কাতারে যেতে হলে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

সায়ীদ আলমগীর/এএম/এমকেএইচ

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com