আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

প্রথমবারের মতো খুলনার সবজি যাচ্ছে ইউরোপে

প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে খুলনা থেকে ইতালি ও ইংল্যান্ডে সবজি রফতানি শুরু হয়েছে। শুক্রবার জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ভিলেজ সুপার মার্কেট থেকে পেঁপে, পটোল, কচুর লতি ও কাঁচকলা পাঠানো হয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, খুলনা থেকে প্রথমবারের মতো সবজি যাচ্ছে ইউরোপে। শস্যভান্ডার খ্যাত ডুমুরিয়ার সবজি রফতানিকারকদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রক্রিয়াজাত করার পর রফতানি করা হয়েছে। ভিলেজ সুপার মার্কেট থেকে ট্রাক যোগে এক মেট্রিক টন সবজি প্রথমে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে প্লেনে সরাসরি ইতালিতে যাবে। প্রথম চালানটি ইতালিতে যাচ্ছে। পরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাবে।

তিনি জানান, সবজি রফতানিতে সার্বিক সহযোগিতা করছে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। আর আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সফল নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

জানা গেছে, এনএইচবি করপোরেশন ও আরআর এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব সবজি রফতানি করছে। এনআইচবি কর্পোরেশন ইতালি এবং আরআর এন্টারপ্রাইজ ইংল্যান্ডে সবজি রফতানি করবে। সফল প্রকল্পের আওতায় খুলনা ও যশোরে প্রায় দেড় লাখ কৃষক নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছেন। সেই সবজি প্রক্রিয়াকরণের জন্য ডাচ সরকারের আর্থিক সহায়তায় ডুমুরিয়ায় ভিলেজ সুপার মার্কেট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় খুলনার ডুমুরিয়ায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে চালু করা হয় অত্যাধুনিক ভিলেজ মার্কেট। এলাকার তৃণমূল কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে সরাসরি কৃষিপণ্য ক্রয় করা হয় এখানে। সেখান থেকে এ বছর ১২০ মেট্রিক টন সবজি রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার অংশ হিসেবে শস্যভাণ্ডার খ্যাত ডুমুরিয়ার উৎপাদিত তরতাজা শাক-সবজির প্রথম চালান শুক্রবার পাঠানো হলো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডুমুরিয়ার বিষমুক্ত সবজি এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানির সুযোগ পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হবেন। খুলনা অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। কৃষি অর্থনীতির ব্যাপক সমৃদ্ধি ঘটবে।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার টিপনা ভিলেজ সুপার মার্কেটে বিদেশে প্রথম সবজি রফতানি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন করা হয়।

সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার ফুড সিকিউরিটি এ্যান্ড লিংকেজেস (সফল-২) নিরাপদ ও বালাই মুক্ত সবজি রফতানি কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল ওয়াদুদ। প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদেশে সবজি রফতানি কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল হোসেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মোসাদ্দেক হোসেন ও খুলনার কৃষি বিপনন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক এস এম মাহাবুব আলম । বক্তব্য রাখেন, এহসান উদ্দীন, টিপনা ভিলেজ সুপার মার্কেটের সভাপতি শেখ হেফজুর রহমান, কৃষি বিপনন অধিদফতরের কডিনেটর সুমাইয়া খাতুন প্রমুখ।ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, সবজির ভরা মৌসুমে সঠিক সংরক্ষণ ও বাজারজাত করণের অভাবে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল ক্ষেতেই নষ্ট হয়। এসব দিক বিবেচনা করে কৃষককে সবজি চাষে লাভজনক করে তুলতে কৃষি বিভাগের সহযোগীতায় সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক ও সফল প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশে সবজি রফতানির উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি মৌসুমে ১ হাজার কেজি পটল, লাউ, কচুরমুখি, কচুর লতি, চাল কুমড়া, পেঁপে, ঝিঙে ও ধুন্দল রফতানি করা হচ্ছে।

বেসরকারি সংস্থা বিএফভিএপিইএ, উত্তরণ ও সলিডারিডাড এর মাধ্যমে এলাকার ১১হাজার ৩৩৮ জন কৃষকদের জমিতে ফ্রেমন ট্রাপ, হলুদ ফাঁদসহ বালাই নাশক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করা হয়েছে। বিষমুক্ত এসব সবজি পাঠানো হচ্ছে বিদেশে। নিজেদের কষ্টার্জিত সবজি বিদেশে রফতানি হওয়ায় খুশি এ অঞ্চলের কৃষকরাও। তারা বলছেন, এভাবে বিদেশে সবজি রফতানি করা গেলে আর্থিকভাবে সাবলম্বী হবেন তারা।

সবজি বিদেশে রফতানিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কৃষি বিভাগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, সবজি রফতানি করলে একদিকে যেমন সরকারের আয় বাড়বে অন্যদিকে কৃষি হবে সমৃদ্ধ। দেশের মোট চাহিদার ৬৫ ভাগ সবজির যোগান দেয় ডুমুরিয়া উপজেলা।

এ কারণে দেশের সীমানা পেরিয়ে এই প্রথম উৎপাদিত সবজি রফতানি করা হচ্ছে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে কৃষি বিপণন অধিদফতর, বিএফভি এপিইএ, উত্তরণ ও সলিডারিডাড এর সহযোগীতায় অনুষ্ঠান সার্বিক সঞ্চালনা করেন মিতা রহমান ও তৈয়েবুর রহমান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

হজমে সহায়ক ফুলকপি

লেখক

শীতের সবজির মধ্যে অন্যতম ফুলকপি। স্বাদ ও গুণে এই সবজির তুলনা নেই। সাধারণত রান্না করে, সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে, ভেজে এবং নানা ধরনের স্যুপ তৈরি করে বিভিন্নভাবে ফুলকপি খাওয়া যায়। শীতকালীন এ সবজিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিকেলসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান থাকায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। এ সময় নিয়মিত ফুলকপি খেলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-

ক্যান্সার প্রতিরোধে : ফুলকপিতে এমন কিছু উপাদান আছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। ফুলকপিতে থাকা সালফোরাফেন উপাদান ক্যান্সারের স্টেম সেল ধ্বংস করতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের টিউমারের বৃদ্ধি প্রতিহত করে।

হৃদযন্ত্র ভালো রাখে : হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতে ফুলকপি বেশ সহায়ক। এর সালফোরাফেন উপাদান রক্ত চাপ কমায় এবং কিডনি ভালো রাখে। তাছাড়া ধমনীর ভিতরে প্রদাহ রোধ করতেও সাহায্য করে ফুলকপি।

ভিটামিন এবং খনিজ : শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার জন্য সঠিক পরিমাণে পুষ্টির প্রয়োজন। নিয়মিত ফুলকপি খেলে দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়। ফুলকপিতে প্রচুর ভিটামিন-সি থাকে। এছাড়াও এতে শরীরের জন্য উপকারী ভিটামিন কে, ভিটামিন বি৬, প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ফাইবার, পটাসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ পাওয়া যায়।

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে : ফুলকপিতে থাকা ভিটামিন-বি মস্তিষ্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে থাকা কলিন মস্তিষ্কের কগনিটিভ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। এতে স্মৃতিশক্তি বাড়ে ও দ্রুত শিখতে সাহায্য করে।

হজমে সহায়ক : ফুলকপিতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সালফার-জাতীয় উপাদান থাকায় এটি খাবার হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। তাছাড়া ফুলকপিতে থাকা ফাইবার খাবার হজম করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

গিমাকলমী

আমি প্রথমে শাক হিসেবে মাটিতে চাষ শুরু করি, কারণ চাষ পদ্ধতিতে মাটিতে চাষের উপযোগী হিসেবে বর্ণিত । ভালো ফলন পাওয়ার পর পরীক্ষামুলক ভাবে কর্দমাক্ত মাটি ও পুকুরের পারে রোপণ করি । আলহামদুলিল্লাহ, তাতেও ব্যপক ফলন হয়েছে । এখন আমার শাকের চাহিদা মিটিয়ে পশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছি । যারা গরু ,ছাগল বা টার্কির খামার করছেন এবং ঘাস চাষ নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন , তাদের জন্য এই গিমাকলমী চাষ একটি নির্ভরযোগ্য সমাধান হতে পারে । কারণ এটা উঁচু,নিচু , জলাবদ্ধ জমি আথবা জলাশয়ে চাষ করা সম্ভব । উল্লেখ্য, সাধারণ কলমী গরু বা ছাগল বেশী খেলে পায়খানা পাতলা হতে দেখা যায় । কিন্ত আমি এটা গরু বা ছাগলকে খেতে দিয়ে এখন পর্যন্ত তেমন সমস্যার সম্মুখীন হইনি ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

অর্গানিক খাদ্য উৎপাদনে পিছিয়ে বাংলাদেশ

জৈবখাদ্য বা অর্গানিক ফুড কোনো প্রকার রাসায়নিক বা কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই উৎপাদিত খাদ্য। বিশ্বব্যাপী এ নিরাপদ খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে, বাড়ছে চাষাবাদও। কিন্তু সেই তুলনায় কৃষিনির্ভর দেশ হয়েও অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ।

এখনও বিশ্বের যেসব দেশে মোট চাষযোগ্য জমির মাত্র এক শতাংশ জমিতে অর্গানিক চাষাবাদ হয়, সেই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানও রয়েছে। তাও আবার অনেক দেশের পেছনে। বাংলাদেশে মাত্র ৮ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে অর্গানিক চাষাবাদ হচ্ছে। এশিয়ার অধিকাংশ দেশেই বাংলাদেশের চেয়ে বেশি অর্গানিক পণ্য উৎপাদন হয়। সম্প্রতি ‘বিশ্ব জৈব কৃষি ২০২১ : পরিসংখ্যান ও দ্রুত বর্ধনশীল প্রবণতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

 দেশে শতভাগ অর্গানিক পণ্য উৎপাদন এখনও সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এখন সেমি-অর্গানিক পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে অর্গানিক পণ্য উৎপাদনকারী হিসেবে বাংলাদেশ স্বীকৃত নয় 

প্রতিবেদনে বলা হয়, সারাবিশ্বে এখন ৫৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন জমিতে অর্গানিক চাষাবাদ হচ্ছে, যা মোট জমির ১ দশমিক ২ শতাংশ। এশিয়া মহাদেশে সার্বিক অর্গানিক চাষাবাদের হার দশমিক ৩ শতাংশ। এ অঞ্চলে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে চীন ও ভারত। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে খারাপ। অর্গানিক চাষাবাদে বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তান।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর অর্গানিক এগ্রিকালচার মুভমেন্টের (আইএফওএএম) সদস্য ও বাংলাদেশ জৈব কৃষি নেটওয়ার্কের ড. মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, দেশে সামগ্রিক কৃষিতে অর্গানিকের অবদান অনেক কম, তা অস্বীকার করা যায় না। রাতারাতি সারাদেশে অর্গানিক চাষাবাদ প্রবর্তন করা সম্ভবও নয়। এজন্য ব্যাপক প্রস্তুতি দরকার। সরকার কৌশলগত কিছু উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে এর অগ্রগতি উল্লেখ করার মতো নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্যনিরাপত্তার দেশে অর্গানিকের বিকল্প নেই। কিন্তু এখনও অর্গানিক ফুড নিয়ে কিছু ভুল ধারণাও আছে। রাসায়নিক সার প্রয়োগে উৎপাদনকে গুরুত্ব দেয়া হলেও অর্গানিক উৎপাদনকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। ফলে আমরা পিছিয়ে পড়ছি।

এদিকে বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল দেশের খাদ্যের জোগান দেয়া জৈব কৃষির পক্ষে আদৌ সম্ভব কি-না তা নিয়ে দেশের নীতিনির্ধারক মহল এখনও সন্দিহান। যদিও এ বিষয়ে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) নিশ্চিত করছে যে, জৈব কৃষি সারা বিশ্বের প্রতিটি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম। এফএও’র বিজ্ঞানীরা একটি তাত্ত্বিক মডেলে বিশ্বের মোট আবাদি জমির পরিমাণ ও ফলন না বাড়িয়েই শুধু জৈব কৃষির মাধ্যমেই বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জন্য দৈনিক দুই হাজার ৬৪০ থেকে চার হাজার ৩৮০ কিলো ক্যালরি খাদ্যের জোগান দেয়া সম্ভব হয়েছে।

 বিশ্বের যেসব দেশে মোট চাষযোগ্য জমির মাত্র ১ শতাংশ জমিতে অর্গানিক চাষাবাদ হয়, সেই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানও রয়েছে। তাও আবার অনেক দেশের পেছনে। মাত্র ৮ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে অর্গানিক চাষাবাদ হচ্ছে। এশিয়ার অধিকাংশ দেশেই বাংলাদেশের চেয়ে বেশি অর্গানিক পণ্য উৎপাদন হয় 

jagonews24

বিশেষজ্ঞরা বলছে, অধিক উৎপাদনের আশায় দেশে উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ও জিএম শাক-সবজিসহ অন্যান্য ফসল ও ফলমূল উৎপাদনে ঝুঁকছে কৃষক। এসব পদ্ধতিতে দফায় দফায় প্রয়োগ করা হচ্ছে বিষাক্ত কীটনাশক। আবার বাজারজাত করার আগে পাকানোর জন্য কার্বাইডসহ পচন রোধে অতিমাত্রায় রাসায়নিক প্রয়োগ করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য শাকসবজি ও ফলমূলে মেশানো হচ্ছে নানা বিষাক্ত রঞ্জক, যা ওই সব খাদ্যের সঙ্গে মানবদেহে প্রবেশ করছে। এসব খাদ্য খেয়ে কমে যাচ্ছে জীবনী শক্তি ও আয়ুষ্কাল। সঙ্গে শরীরে ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগসহ নানাবিধ রোগব্যাধির প্রকোপ বাড়ছে।

জানা গেছে, দেশে ষাটের দশকের আগে স্বাভাবিকভাবেই পুরো কৃষি ব্যবস্থা ছিল জৈবনির্ভর। কিন্তু এরপর থেকে বাণিজ্যিক চাষাবাদ বৃদ্ধির সঙ্গে বিলুপ্ত হতে থাকে এ ধরনের কৃষি। বাড়তে থাকে খাদ্য ঝুঁকি। এভাবে বিগত সময়ে খাদ্যনিরাপত্তায় নিম্ন সারিতে এসে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। এমতাবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ অন্যান্য দেশ নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ কৃষির টেকসই উন্নয়নে অর্গানিককে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

jagonews24

এদিকে বাংলাদেশে এখন যেটুকু অর্গানিক পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে তাও শতভাগ অর্গানিক নয়- জানিয়ে বাংলাদেশে অর্গানিক পণ্য উৎপাদনকারী সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান মৃধা বলেন, দেশে শতভাগ অর্গানিক পণ্য উৎপাদন এখনও সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এখন সেমি-অর্গানিক পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে অর্গানিক পণ্য উৎপাদনকারী হিসেবে বাংলাদেশ স্বীকৃত নয়।

ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বীকৃত উপায়ে শতভাগ অর্গানিকভাবে কোনো পণ্য বা ফসল উৎপাদনের জন্য সেই উৎপাদকের খাদ্যও অর্গানিক হতে হয়। অর্থাৎ অর্গানিকের সব স্তরের উপাদানগুলো অর্গানিক হওয়া প্রয়োজন, যা বাংলাদেশে হচ্ছে না।

এদিকে বিশ্ব জৈব কৃষির ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০১৩ সালের পর থেকেই অর্গানিক চাষাবাদের জমি বাড়ছে না। সর্বশেষ ২০১৯ সালে এদেশে ১০১টি অর্গানিক চাষাবাদের প্রকল্প চালু ছিল। যেখানে প্রায় ১০ হাজার উদ্যোক্তা সম্পৃক্ত।

jagonews24

বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার অর্গানিক চাষাবাদ বাড়াতে ‘ন্যাশনাল অর্গানিক এগ্রিকালচার পলিসি-২০১৬’ বাস্তবায়ন ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ন্যাশনাল অর্গানিক স্ট্যান্ডার্ড বোর্ড’ গঠনের পরিকল্পনা করেছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের চা একটি উল্লেখযোগ্য অর্গানিক পণ্য। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘কাজী অ্যান্ড কাজী’ ২০১০ সাল থেকে অর্গানিক পদ্ধতিতে চা রফতানি করছে। এছাড়াও সরকারের দুটি সংস্থার উদ্যোগে পাট পাতার চা আবিষ্কার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত আড়াই টন অর্গানিক চা জার্মানিতে রফতানি হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। এছাড়া ২০১৭ সালে ‘সাহবাজপুর টি লিমিটেড’ ১২ দশমিক ৪ টন অর্গানিক ব্ল্যাক টি উৎপাদন করেছে। এছাড়া দেশে ব্যক্তি উদ্যোগে অর্গানিক কাজুবাদাম উৎপাদন করে বিদেশে রফতানি হচ্ছে।

দেশের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশে অর্গানিক চাষাবাদ নিয়ে কাজ করছে প্রশিকা, উবিনীগ, উন্নয়নধারা, হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড, অ্যাকশনএইড, রাজশাহী কৃষি পাঠাগার, বারসিক, এএলআরডি, কারিতাসের মতো আরও শতাধিক প্রতিষ্ঠান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

কাঁচা মরিচের সকালের ‘ঝাঁজ’ কমল বিকেলে

কাঁচা মরিচের সকালের ‘ঝাঁজ’ কমল বিকেলে

ঢাকার পাইকারি ও খুচরা বাজারে ঈদের আগের দিন বৃহস্পতিবার (১৩ মে) হঠাৎ কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে যায়। তবে বিকেলের দিকে মরিচের দাম কমতে শুরু করে বলে জানান বিক্রেতারা।

কাওরান বাজারের পাইকারি আড়ৎ ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, যেখানে গতকাল বুধবার (১২ মে) রাতেও ৫০ থেকে ৬০ টাকা দামে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছিল, সেখানে হঠাৎ বৃহস্পতিবার বেশি দামে কাঁচা মরিচ বিক্রি হতে দেখা যায়।

রাজধানীর মগবাজারে দুই ধরনের কাঁচা মরিচ দেখা গেল। এক ধরনের মরিচকে দেশি উল্লেখ করে বিক্রেতারা ১২০ টাকা কেজি চাইলেন। আরেক ধরনের মরিচের দাম চাওয়া হলো ১০০ টাকা।

অথচ একদিন আগে বুধবার রাতেও ভালো মানের আড়াই’শ গ্রাম কাঁচা মরিচের দাম ১৩ থেকে ১৫ টাকা ছিল। সে হিসেবে প্রতি কেজি দাম পড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

অন্যদিকে, কাঁচা মরিচ ছাড়া বাজারে বেশ কিছু সবজির দামও চড়া। দুই-তিন সপ্তাহ আগে বাজারে বেশির ভাগ সবজির কেজি ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, এখন তা বেড়ে ৫৫, ৬০ থেকে ৭০ এবং ৮০ টাকা হয়েছে।

মরিচের দাম বেড়ে যাওয়া এবং কমে যাওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষ নিয়ে দূরে গেছে ট্রাক-পিকআপ। তাই মোকাম থেকে মরিচ না আসায় সরবরাহ কম ছিল। ফলে দামও বেড়েছে।

কাওরান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘গতকাল মরিচ আমদানি অনেক বেশি ছিল। কম দামেও বিক্রি করেছি। কিন্তু রাতে মরিচ কম আসায় হঠাৎ দাম বেড়ে যায়।’

তবে বিকেলের দিকে আবারো মরিচ আসায় ঈদের দিন দাম কমবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

এদিকে কাওরান বাজারে লম্বা বেগুন ৬০ টাকা, গোল বেগুন ৫০ টাকা, ঝিঙে ৭০ টাকা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স ও চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ছোট লাউ প্রতিটি ৪০, মাঝারি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, ফুলকপি-৬০ টাকা, পাতাকপি বড় সাইজের ৮০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ক্যাপসিকাম ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া মিষ্টি কুমড়া বড় সাইজের কেটে ৩০ টাকা কেজি, আর মাঝারি ৫০ টাকা পিস, জালি কুমড়া প্রতিটি ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। কচুর লতি ৭০ টাকা কেজি, পেঁপে ৮০ টাকা এবং কাচা কলা ৫০ টাকা হালি বিক্রি হয়।

সবজির দাম এত বেশি কেন জানতে চাইলে ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান বলেন, ‌‌’বৃষ্টি কম হওয়ায় খরার কারণে ফলন কম হয়েছে। সবজি আসবে কোথা থেকে?’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

ঢেঁড়স খেলে দূরে থাকে ডায়াবেটিস

আমাদের সকলের পরিচিত একটি সবজি হলো ঢেঁড়স। এই ঢেঁড়সকে একটু অবহেলা করে দেখা হয়। কিন্তু পুষ্টি বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ঢেঁড়সের খাদ্যগুণ অনেক।

পেটের কষ্ট থেকে মুক্তি দেয় এই ঢেঁড়স। এর ফাইবার হজমে বিশেষ সহায়তা করে। ঢেঁড়সে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, আছে ভিটামিন-এ। ফলে ঢেঁড়স চোখের জন্য খুবই উপকারী।

নিয়মিত ঢেঁড়স খেলে শরীরে জরুরি ইমিউনিটি সিস্টেম তৈরি হয়ে যায়। ভাইরাসজনিত সংক্রমণ এড়াতে এটি খুবই সাহায্য করে। ঢেঁড়সে ভিটামিন-সি থাকায় তা ত্বকের ক্ষেত্রেও খুব উপকারী। ফলে গরমকালে ত্বক সুস্থ রাখতে ঢেঁড়স খুবই কার্যকরী। ঢেঁড়স ওজনও নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এটি ওজন কমায়। অ্যান্টি ওবেসিটি কোয়ালিটি রয়েছে বলেও ঢেঁড়সের কদর যথেষ্ট।

ঢেঁড়স ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও খুব কার্যকরী। এখন প্রতি ঘরেই ডায়াবেটিস রোগী রয়েছে। ফলে ঢেঁড়স ডায়াবেটিসে রোগীদের জন্য এখন খুবই জরুরি খাদ্যে পরিণত হয়েছে। ঢেঁড়সে কোলেস্টেরল লেভেল খুবই কম। ফলে ঢেঁড়স হৃদরোগীদের ক্ষেত্রেও উপকারী। ঢেঁড়স রক্তে লোহিত কণিকা বাড়াতেও সাহায্য করে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com