আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

বানে ডুবেছে কৃষকের ধান-সবজি-মাছ, ভেসে গেছে স্বপ্ন

উজানের ঢল এবং অতি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলাসহ জামালপুর ও সিলেটে বন্যা হচ্ছে। এই বন্যার ফলে লাখ লাখ মানুষ যেমন পানিবন্দি হচ্ছে সেই সঙ্গে ডুবে গেছে ফসলি জমি। হঠাৎ বন্যায় কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ধানের ভালো দামের কারণে এবার বোরো কাটার সঙ্গে সঙ্গে চাষিরা আউশ ধান আবাদ করেছেন। বন্যায় আউশ ধান ছাড়াও আমন বীজতলা, কাউন, চিনা বাদাম, তিল, বেগুন, মরিচ, পটল, শশা, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ঢেঁড়স, কাকরোল ও পেপেসহ সবধরনের সবজির খেত এখন পানির নিচে। হাজার হাজার বিঘা খেতের ফসল ডুবে যাওয়ায় অনেক কৃষক এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এছাড়া অনেকের পুকুর ডুবে লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভের খাষ ইউনিয়নের সবজি চাষি মজিবর জাগো নিউজকে বলেন, এবার চাষিরা পটল, ঢেঁড়শ, চিচিঙ্গা, বেগুন, চালকুমড়াসহ যেসব সবজি চাষ করেছে সব খেতে পানি উঠে গাছ মরে গেছে। আমার দুই বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজি করেছিলাম সেগুলো এখন পানির নিচে।

একই গ্রামের কৃষক মফিজুল ইসলাম জানান, ২০ হাজার টাকা ধারদেনা করে চার বিঘা জমিতে করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, চালকুমড়া লাগিয়েছিলেন। ফলন আসার প্রাক্কালে পানি উঠে সব শেষ। এই বন্যায় তার প্রায় দেড় লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় কুড়িগ্রাম জেলার ৫৫টি ইউনিয়নের ৩৫৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার ১৫ হাজার ৬০০ পরিবারের ৬৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নদীভাঙনে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন ৫০০ পরিবার।

বন্যায় কৃষিতে ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৩ হেক্টর। এর মধ্যে আমন বীজতলা ৪৩৫ হেক্টর, আউশ ৮২৫ হেক্টর, তিল ২৪০ হেক্টর, কাউন ৫ হেক্টর, চিনাবাদাম ৮০ হেক্টর, মরিচ ৫৮ হেক্টর এবং পাট অর্ধ নিমজ্জিত হয়েছে ৩৫৯০ হেক্টর। অপরদিকে মৎস্য বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ না জানালেও জানা গেছে ইতোমধ্যে শতাধিক পুকুর প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মাছ চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান জাগো নিউজকে বলেন, বন্যায় ১ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। টানা বৃষ্টি আর বন্যার কারণে কৃষিতে ক্ষতি হয়েছে। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন বীজতলা তৈরি করে উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়াও বন্যার পর ক্ষতি নিরূপণ করে তালিকা তৈরি করা হবে। সেই হিসেবে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বন্যার পানিতে জেলায় ৩ হাজার ১০৬ হেক্টর জমির পাট, ১৯৬ হেক্টর আউশ ধান ও ১২৮ হেক্টর শাক-সবজি, ৪৩ হেক্টর আমন ধানের বীজতলা, ৪৪ হেক্টর তিল ও ২০ হেক্টর জমির চিনাবাদাম নিমজ্জিত হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম ইদ্রিশ আলী বলেন, জেলার সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের ৪ হাজার ৫৩৬ পরিবারের ১৭ হাজার ৮৪৪ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সরকারি ৫০টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২ হাজার ৭৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। বাকিরা বাঁধ ও সড়কে আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ২৫৫ ঘর-বাড়ি।

জানা গেছে, নীলফামারীর চরাঞ্চলের ৩ হাজার পরিবার বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তিস্তার বন্যায় ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশ চাঁপানি, ঝুনাগাছ চাঁপাান এবং জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডা, শৌলমারী, কৈমারীসহ ১০ ইউনিয়নের তিস্তা অববাহিকার ১৫টি চর ও গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। তিস্তার চরাঞ্চলের বাদাম খেত ও আমন ধানের বীজতলা হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অনেক মৎস্য খামারের মাছ পানিতে ভেসে গেছে।

বন্যায় রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ১ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানির তোড়ে ভেঙে গেছে বিনবিনা এলাকার পাকা সড়ক। ভাঙন দেখা দিয়েছে বাঁধেও।

জানা গেছে, গঙ্গাচড়ার সাতটি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তার প্রায় ১৫টি চরে বসবাসকারী প্রায় ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুুল্লাহ আল হাদী জানান, তার ইউনিয়নের শংকরদহ, ইচলী, জয়রামওঝা ও বাগেরহাট এলাকায় ৪০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার ফসলি জমি ডুবে গেছে। ধান, ভুট্টা ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জানা গেছে, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে দিনাজপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দিনাজপুর সদরের মাঝাডাঙ্গাসহ আশপাশের গ্রাম, বাঙ্গীবেচা ঘাট এলাকা, সাধুর ঘাট এলাকা, দফতরি পাড়া, হঠাৎ পাড়ার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর, সুজাপুর, খয়েরবাড়ি ও বেতদিঘী এবং বিরল উপজেলাসহ আরও কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কিছু জায়গায় ডুবে গেছে ফসলের খেত। আগাম তৈরি করা আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে গেছে অনেকের।

কাহারোল উপজেলার ডাবুর ইউপির বলেয়া ও রসুলপুর ইউপির ভেলোয়া গুচ্ছ গ্রামগুলোর চারদিকে নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় (বীরগঞ্জ-কাহারোল) সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল।

সিরাজগঞ্জ জেলার চরাঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে চরের শত শত হেক্টর জমির পাট, তিল, বাদাম, ভুট্টা, আউশ, কাউন, আখ ও সবজির খেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জে ৯৫৫ হেক্টর জমির পাট, ৩৭১ হেক্টর তিল, ১০ হেক্টর ভুট্টা, ৫৫ হেক্টর আউশ, ২৩ হেক্টর সবজি, ১৭ হেক্টর কাউন, ৭৮ হেক্টর জমির আখ মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৫০৯ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকের ৫০ শতাংশ ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের কৃষক আমজাদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এবার তিন বিঘা জমিতে পাট, তিল ও আউশ চাষ করেছিলাম। কিন্তু এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে সব ফসল।

সদর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, যমুনায় হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় বেশকিছু জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি দ্রুত নেমে না গেলে ফসল ঘরে তুলে নেয়াও সম্ভব নয়। পাশাপাশি চলছে নদীভাঙন। চরাঞ্চলে মানুষ চরম বিপাকে দিনাতিপাত করছে। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ডিডি) মো. হাবিবুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির পানিতে জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রায় ৩০টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ১ হাজার ৫০৯ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।

জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, জেলায় বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৬৩২ হেক্টর জমির পাট, ২৮৬ হেক্টর জমির আউশ ধান, ২৯৩ হেক্টরের সবজি, ৬৫ হেক্টর বীজতলা, ৫ হেক্টর জমির তিল, ৫ হেক্টর জমির ভুট্টা ও ৫ হেক্টর জমির বাদাম।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ বলেন, ‘পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় জেলায় ৪৪ হাজার ৪১০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। আটটি উপজেলায় আমরা ৭৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছি। যেকোনো সমস্যা সমাধান ও সহযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।’

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য প্রশাসন ৪১০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও ২৯ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে তিনি জানান।

সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন জাগো নিউজকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের সহায়তা চলমান রয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকায় (জামালগঞ্জ-তাহিরপুর-ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) সরেজমিন পরিদর্শন করে বন্যার্তদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি। যেখানে সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীকে নিয়ে আপাতত সমস্যার সমাধান করছি।

ফসল

পঞ্চগড়ে বাড়ছে বাণিজ্যিকভাবে সুপারির চাষ

পঞ্চগড়ে বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে সুপারি চাষ। উৎপাদিত সুপারি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৫৯৭ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় আকারের সুপারি বাগান রয়েছে। ২০১৭ সালে জেলায় সুপারি উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন। ২০১৮ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৮২ মেট্রিক টন। এবার চলতি মৌসুমে সুপারি উৎপাদন গত বছরের উৎপাদনকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ। 

স্থানীয়রা বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে অতিথি আপ্যায়নে সুপারি অন্যতম উপকরণ। গৃহস্থের বাড়িতে অতিথি এসে খালি মুখে গেলে নাকি অমঙ্গল হয়। তাই পান-সুপারি থাকতেই হবে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই প্রথা এখনো বিদ্যমান পঞ্চগড়ে। এক সময় এ জেলার কৃষকেরা নিজেদের প্রয়োজনে বাড়ির আশপাশের অল্প কিছু সুপারি গাছ লাগাতেন। এখন পাকা লাল রঙের সুপারি চাষ হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে। 

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চৈত্র, বৈশাখ ও জ্যেষ্ঠ এই তিন মাস সুপারির মৌসুম। এ সময়ে একদিকে গাছে সুপারি পাকতে শুরু করে। অপর দিকে সুপারি গাছে নতুন করে ফুল ও ফল আসা শুরু হয়। বসতবাড়ির আশপাশে এবং উঁচু জমিতে চারা লাগানোর আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যেই ফল দিতে শুরু করে সুপারির গাছ। বছরে এক-দুবার গোবর সার আর পানির সেচ দেওয়া ছাড়া আর তেমন কোনো বাড়তি পরিচর্যা করা লাগে না। 

কৃষকেরা আরও বলেন, মৌসুমের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পঞ্চগড়ে এসে ব্যবসায়ীরা সুপারি কিনে নিয়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কেউ কেউ আবার বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সুপারি কিনে তা মাটিতে খাল করে পুতে রাখেন বা পানিতে ভিজিয়ে রাখেন। পরে পানিতে পঁচানো ওই সুপারি শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে বিক্রি করেন প্রায় দেড়গুণ দামে। 

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে জেলার ছোট-বড় প্রায় সব বাজারেই চলছে সুপারি বেচা-কেনা। জেলার জালাসী বাজার, হাড়িভাসা হাট, টুনির হাট, ভাউলাগঞ্জ হাট, জগদল হাট, ফকিরগঞ্জ বাজার, ভজনপুর বাজার, ময়দানদিঘী বাজার, বোদা বাজারসহ বেশ কিছু বাজারে এখন চলছে পাকা লাল রঙের সুপারির জমজমাট কেনা-বেচা। 

কৃষি বিভাগ সুপারি উৎপাদন হিসাব মেট্রিক টন ধরে করলেও কৃষক সুপারির উৎপাদন ও বিক্রির হিোব করেন পন এবং কাহন ধরে। পঞ্চগড়ের বাজারগুলোতে সুপারি বিক্রি হয় পন হিসাবে। প্রতি বিশ হালি সুপারিতে এক পন হয়। প্রতি পনে ৮০টি সুপারি থকে। আর ১৬ পন সুপারিতে এক কাহন সুপারি হয়। মান ও আকার ভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে সুপারি। বর্তমানে প্রতি কাহন পাকা সুপারি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা থেকে পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা টাকা পর্যন্ত। 

পঞ্চগড় জালাসী বাজারে সুপারি বিক্রি করতে আসা কৃষক মো. রাজু রানা বলেন, এক বিঘা জমিতে সুপারির বাগান আছে। এই বাগানে বছরে একবার গোবর সার আর দুবার পানি সেচ দেন। এর বাইরে আর কোনো খরচ করতে হয় না। বাগান থেকে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৩৫ কাহন সুপারি পান। এবার বড় পাকা সুপারি ৩ হাজার ৭০০ টাকা কাহন দরে বিক্রি করেছেন। সুপারি বিক্রি করা এই টাকা অন্য ফসল আবাদের খরচ জোগায়। 

সুপারি ব্যবসায়ী বরিউল ইসলাম বলেন, পঞ্চগড়ের সুপারি কিনে তাঁরা ঢাকা, কুমিল্লা, সৈয়দপুর, বগুড়া, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন। পঞ্চগড়ের সুপারির মান ভালো হওয়ায় সারা দেশেই এর চাহিদা বেশি। বর্তমানে মান ভেদে প্রতি কাহন সুপারি আড়াই হাজার থেকে শুরু করে চার টাকা পর্যন্ত। প্রতি বস্তায় দুই কাহন করে সুপারি থাকে। কেনার পর থেকে বিক্রি করা পর্যন্ত পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বস্তায় আড়াই শ থেকে তিন শ টাকা লাভ হয়। 

পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু হানিফ বলেন, পঞ্চগড়ের মাটি এবং আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ কারণে এখানকার সুপারি আকারে অনেক বড় এবং সুস্বাদু হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ধানের বীজ রাখার নতুন পদ্ধতি, ‘ইরি কোকুন’

ব্যাগের মুখ আটকে রাখলে তার মধ্যে কোনো আর্দ্রতা ঢুকতে পারে না। ফলে সবকিছুই থাকে সতেজ। ব্যাগটির মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ মণ ধান রাখা যায়। এটাই ‘ইরি কোকুন’। ৩ আগস্ট খুলনার ডুমুরিয়ার বারাতিয়ায়। প্রথম আলো
ব্যাগের মুখ আটকে রাখলে তার মধ্যে কোনো আর্দ্রতা ঢুকতে পারে না। ফলে সবকিছুই থাকে সতেজ। ব্যাগটির মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ মণ ধান রাখা যায়। এটাই ‘ইরি কোকুন’। ৩ আগস্ট খুলনার ডুমুরিয়ার বারাতিয়ায়। প্রথম আলো

বেশ বড় আকারের রাবারের একটি ব্যাগ। ওই ব্যাগের মুখ আটকে রাখলে তার মধ্যে কোনো আর্দ্রতা ঢুকতে পারে না। ফলে সবকিছুই থাকে সতেজ। ব্যাগটির মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ মণ ধান রাখা যায়। এটাকেই বলা হয় ‘ইরি কোকুন’।

ধানের বীজ সংরক্ষণের জন্য খুলনার ডুমুরিয়ার বারাতিয়া ও শরাফপুর গ্রামের কৃষকেরা এখন ওই ইরি কোকুনে ধান রাখা শুরু করেছেন। এর আগে কৃষকেরা ধান রাখতেন বস্তা বা গোলায়।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ইরি কোকুন হলো বাংলাদেশে ব্যবহৃত বীজ সংরক্ষণে কৃষির সর্বশেষ প্রযুক্তি। আগে কৃষক মাটির তৈরি কলস, জালা বা কুলায় বীজ সংরক্ষণ করতেন। কখনো কখনো গোলায় বীজ রাখতেন। এতে বীজের মান ভালো থাকত না। পোকার আক্রমণও বেশি ছিল। পরে কৃষক বস্তা বা প্লাস্টিকের পাত্রে বীজ রাখা শুরু করেন। কিন্তু এতেও বীজের মান ভালো রাখা সম্ভব হয়নি। ওই পদ্ধতিতে অনেক বস্তা বা পাত্রের প্রয়োজন হতো। ওই ব্যবস্থারই বিকল্প হিসেবে এসেছে ইরি কোকুন। এটি একটি ব্লাডারের মতো পাত্র, যেটিতে বীজ রাখলে বড় হয়। এটিতে ৪০ থেকে ৫০ মণ বীজ রাখা সম্ভব। এতে বাইরে থেকে বাতাস ঢুকতে পারে না, ফলে বীজে আর্দ্রতার পরিমাণ ঠিক থাকে এবং পোকামাকড়েরও কোনো আক্রমণ হয় না। এটি বাড়ির উঠানে রাখলেও রোদ, বৃষ্টি, খরায় বীজের কোনো গুণগত মান নষ্ট হয় না। এই বীজের অঙ্কুরোদ্‌গমক্ষমতাও খুব বেশি। এটি ফিলিপাইন, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে আগে ব্যবহৃত হতো। 

বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে চলমান জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি প্রোগ্রাম ফেস-২ (এনএটিপি) প্রকল্পের আওতায় এটি বাংলাদেশে এনে কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ডুমুরিয়া, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় দুটি করে ইরি কোকুন দেওয়া হয়েছে। কৃষক গ্রুপের মধ্যে দেওয়া এই ইরি কোকুন ওই এলাকার সব কৃষকই ব্যবহার করতে পারবেন।

ডুমুরিয়ায় পাওয়া দুটি ইরি কোকুন দেওয়া হয়েছে শরাফপুর গ্রামের কমন ইন্টারেস্ট গ্রুপের (সিআইজি) কৃষক সরোয়ার সরদার ও বারাতিয়া গ্রামের সিআইজি কৃষক নবদ্বীপ মল্লিককে। তাঁদের মাধ্যমে ওই এলাকার কৃষকেরা আগামী বছরের জন্য ধানের বীজ সংরক্ষণ করছেন।

ইরি কোকুনে ২০ মণ ব্রি-৬৭ জাতের ধানের বীজ রেখেছেন সরোয়ার সরদার। তিনি বলেন, ‘এটি বীজ সংরক্ষণের অত্যন্ত আধুনিক একটি প্রযুক্তি, এটি পেয়ে আমি অত্যন্ত খুশি। আমি যে বীজ সংরক্ষণ করেছি, তাতে আমার পুরো গ্রামের কৃষকদের মধ্যে বীজ বিতরণ করতে পারব।’

বারাতিয়া গ্রামের নবদ্বীপ মল্লিক বলেন, বীজ সংরক্ষণের এত সুন্দর জিনিস আছে, আগে জানা ছিল না। মানসম্মত বীজ সংরক্ষণে এটির ভূমিকা অপরিসীম। এটির মাধ্যমে ডিলার বা কোম্পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং বীজ সিন্ডিকেট থেকে কৃষক রক্ষা পাবেন।

এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এবার উপজেলায় এনএটিপি-২ প্রকল্পের মাধ্যমে দুজন সিআইজি কৃষককে এটি সরবরাহ করা হয়েছে। বীজ সংরক্ষণের এটি সর্বশেষ একটি প্রযুক্তি। এটি ডুমুরিয়ার কৃষির উন্নয়নে এবং কৃষক পর্যায়ে উন্নত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপপরিচালক পঙ্কজ কান্তি মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ইরি কোকুনের মধ্যে ধান রাখলে কোনো অবস্থাতেই ওই ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই। শুধু তা-ই নয়, ওই ইরি কোকুন ইঁদুরেও কাটতে পারে না। ফলে নিরাপদে ধান রাখা যাবে। সরবরাহ কম থাকায় সব উপজেলায় সেটা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

যেন সবুজের বুকে বেগুনি বিছানা

যেন সবুজের বুকে বেগুনি বিছানা
বেগুনি ধানগাছ। খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার শান্তিপুরে। ছবি: প্রথম আলো

চারপাশে সবুজ ধানখেত। মাঝখানে একচিলতে জমিতে বেগুনি রঙের ধানের আবাদ। যেন সবুজের বুকে বেগুনি বিছানা। ভিন্ন রঙের এই ধান চাষ স্থানীয় পর্যায়ে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। 

বেগুনি রঙা এই ধানের চাষ হচ্ছে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার শান্তিপুর এলাকায়। স্থানীয় কৃষক মনতোষ চাকমা জেলায় প্রথমবারের মতো এই ধানের চাষ শুরু করেছেন বলে জানান কৃষি কর্মকর্তারা। চলতি বছরের ২১ মে এর চারা রোপণ করেন তিনি।

মনতোষ চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা নামের এনজিওর কাছ থেকে বেগুনি রঙের ধানের বীজ সংগ্রহ করেছেন। ওই এনজিও থেকে ‘সুভাষ’, ‘বাঁশফুল’ ও ‘জুনটি’—এই তিন জাতের চারা নিয়েছেন। এখন পরীক্ষামূলকভাবে ২০ শতক জমিতে চার জাতের ধান রোপণ করেছেন। এসব ধানের ফলন কী রকম হবে, তা দেখার পর ভবিষ্যতে আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, দেশে প্রথম বেগুনি রঙা ধানের আবাদ শুরু হয় গাইবান্ধায়। সৌন্দর্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ধান। এই ধানগাছের পাতা ও কাণ্ডের রং বেগুনি। এর চালের রংও বেগুনি। তাই কৃষকদের কাছে এখন পর্যন্ত এ ধানের পরিচিতি বেগুনি রঙের ধান বা রঙিন ধান।

জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মর্ত্তুজা আলী বলেন, বেগুনি রঙের ধানের চাষ খাগড়াছড়িতে এই প্রথম। কেউ এর নাম দিয়েছেন বেগুনি সুন্দরী, কেউ দুলালি সুন্দরী। ফলন ভালো হলে ভবিষ্যতে ধানের আবাদ বৃদ্ধির চিন্তা করা হবে।

পানছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলাউদ্দিন শেখ বলেন, মনতোষ চাকমাকে সব ধরনের পরামর্শসহ কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত ধানখেতটি তদারক করা হচ্ছে।

গত বুধবার দুপুরে পানছড়ির উল্টাছড়ি ইউনিয়নের শান্তিপুরে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে সবুজ ধানখেতের মাঝখানে বেগুনি রঙের ধানের আবাদ। মনতোষ চাকমার রোপণ করা অন্য তিন জাতের ধানের গাছের রং আলাদা। এক জাত বাঁশফুল রঙের, এক জাত গাঢ় সবুজ রঙের এবং অন্য জাত হালকা সবুজ রঙের।

তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্প সমন্বয়কারী সকীরণ চাকমা জানান, মিজারিও-জার্মানির অর্থায়নে ঢাকা বারসিক এনজিও থেকে তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা সাত প্রকারের ধানের বীজ সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে চার প্রকারের বীজ তাঁরা মনতোষ চাকমাকে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করতে দিয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলতাফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে এই ধানের চাষ শুরু হয়েছে। খাগড়াছড়িতেও চাষ হওয়ার খবর শুনেছেন তাঁরা। এই ধানের পুষ্টিমান বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, এই ধানের পুষ্টিমান, চাষাবাদ পদ্ধতি, ফলনের পরিমাণ, জীবনচক্র, দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর বিষয়, কোন মৌসুমে চাষ করলে ভালো হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

দুটি পাতার এক কুঁড়ি

দুটি পাতার একটি কুঁড়ির দেশ সিলেট। চায়ের সঙ্গে এভাবেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে সিলেট অঞ্চলের নাম। চায়ের সুবাদে সিলেটের সুনাম ছড়িয়ে আছে বিশ্বব্যাপী। বর্ষার মৌসুমের শুরু থেকে শীত মৌসুমের আগ পর্যন্ত সিলেটের চাবাগানগুলোয় চলে চা-পাতা তোলা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পালা করে চা-পাতা তোলার কাজে ব্যস্ত থাকেন নারী-পুরুষ চা-শ্রমিকেরা। পাতা তোলা শেষে তা লাইন ধরে জমা দেন শ্রমিকেরা। ওজন শেষে চা-পাতা স্তূপ করে রাখা হয় চা তৈরির জন্য। তারাপুর ও মালিনীছড়া চা-বাগানের কিছু ছবি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ভারতের গুটি স্বর্ণার দাপট

ধানবীজ
ধানবীজ

গুটি স্বর্ণা জাতের ধান বীজের উদ্ভাবন ভারতে। বাংলাদেশে এই জাতের বীজ আমদানি নিষিদ্ধ। চোরাই পথে আসা এমন বীজ দেদার ব্যবহার করছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ছয়টি জেলার কৃষকেরা। অথচ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) গুটি স্বর্ণার বিকল্প হিসেবে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ব্রি-৭৫, ৫৯ ও বিনা-৭ জাত উদ্ভাবন করেছে। কিন্তু এসব ধান চাষে কৃষকের আগ্রহ কম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৩২৭ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। চাষিরা এ বছর উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয় জাতসহ ৯০টি জাতের ধান রোপণ করেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৮২ হেক্টর জমিতে গুটি স্বর্ণা জাতের ধানের আবাদ হয়েছে।

কৃষকেরা বলছেন, গুটি স্বর্ণা নিচু জমিতে, কাদায় বেশি দিন টিকতে পারে। মূলত এ কারণেই তাঁরা এমন জাতের ধানে আগ্রহী হচ্ছেন। কিন্তু গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা বলে, জমিতে তাঁদের ফলন কম হচ্ছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গুটি স্বর্ণা ধানের বিপরীতে উফশী জাতের ব্রি-৭৫, ৫৯ ও বিনা-৭ জাত উদ্ভাবন করেছে। কিন্তু এসব ধানবীজ গুটি স্বর্ণার জায়গা নিতে পারেনি এখনো।

মাহিদিয়া গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, ‘১২ বিঘায় স্বর্ণা ও ৪ বিঘায় রণজিত জাতের ধান চাষ করেছি। ১২ বছর ধরে আমি এই দুই জাতের ধানের চাষ করছি। বীজ আমি নিজেই তৈরি করি। একই বীজ থেকে অন্তত ১২ বার বীজ তৈরি করা হয়েছে। বিঘায় ১৫ থেকে ১৬ মণের বেশি ধান পাওয়া যায় না। এই গ্রামের আমন আবাদের মাঠে ৮০ ভাগই স্বর্ণা ধান রয়েছে। আমার জমি একটু নিচু। পানি জমে থাকে। এ জন্য ব্রি উদ্ভাবিত ধান লাগানো হয় না।’

সদরের তফসিডাঙ্গা গ্রামের কৃষক হ‌ুমায়ূন কবীর বলেন, ‘এক হেক্টর জমিতে এ বছর আমন ধানের চাষ করেছি। নিচু জমিতে স্বর্ণা ও উঁচু জমিতে ব্রি-৭৫ ধান লাগানো হয়েছে। স্বর্ণা ধান বিঘায় এখন ১৬ থেকে ১৭ মণের বেশি ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। দুই বছর আগে চোরাই পথে ভারত থেকে ১০ কেজি স্বর্ণা ধানের “ভিত্তি বীজ” এনে রোপণ করেছিলাম। তখন বিঘায় ২৭-২৮ মণ করে ধান পেয়েছি। পরে তা থেকে আবার বীজ তৈরি করে চাষাবাদ করেছি। তবে ধানের আবাদ কমেছে।’ তিনি বলেন, তিনি নিজে ধানের বীজ তৈরি করে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করেন। এখন যে স্বর্ণা বীজ রোপণ করেন, তা ভিত্তি বীজ থেকে ১২ থেকে ১৫ বার তৈরি করা হয়েছে। যে কারণে এ বীজে ফলন এখন অনেক কম হয়। রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও কমে গেছে। যে কারণে উৎপাদন কম হচ্ছে।

কয়েকজন কৃষক বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি চীন থেকে হাইব্রিড জাতের ধানের বীজ আমদানি করে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করছে। এ বছরও কয়েকটি জাতের ধানবীজ চীন থেকে আমদানি করে রোপণ করা হয়েছে। ভারত থেকে স্বর্ণা ধানের বীজ আমদানি মানা। তবে চোরাই পথে এসব নিয়মিতই আসে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, এক বীজ থেকে বারবার বীজ করলে ফলন কমে যান। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। গুটি স্বর্ণা বীজের বেলায়ও একই ফল হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক সুধেন্দু শেখর মালাকার বলেন, মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, দক্ষিণ-পশ্চিমের ছয় জেলায় এখনো গুটি স্বর্ণা জাতের আবাদ সবচেয়ে বেশি। বারবার চাষের কারণে ফলন কমছে। কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে চেষ্টা চলছে। কয়েক বছরের মধ্যে ব্রি উদ্ভাবিত গুটি স্বর্ণার বিকল্প জাতের ধানে কৃষকেরা আগ্রহী হবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আমন মৌসুমে যশোর ও আশপাশের জেলায় ৯০টি জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি উদ্ভাবিত ৩৬টি, চীন থেকে আমদানি করা ২২টি, উফশী ১২টি ও স্থানীয় (অপ্রচলিত) ২০টি জাতের ধান রোপণ করা হয়েছে।

ব্রি উদ্ভাবিত ধানবীজ ভারতীয় স্বর্ণা ধানের জায়গা নিতে পারছে না কেন—এ প্রশ্নের উত্তরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মোহম্মদ আলী বলেন, কৃষকের মধ্যে সম্প্রসারণ হতে আরও দু-এক বছর লাগবে। চীন থেকে হাইব্রিড ধানবীজ আমদানি করা হলেও ভারত থেকে স্বর্ণা ধানের বীজ আমদানি করা হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের নীতি হচ্ছে, মুক্ত পরাগায়ন (ওপি) জাতের ধানবীজ আমদানি করা যাবে না। স্বর্ণা হচ্ছে মুক্ত পরাগায়ন জাতের ধান, যে কারণে এ ধানের বীজ আমদানি নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com