আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

বানে ডুবেছে কৃষকের ধান-সবজি-মাছ, ভেসে গেছে স্বপ্ন

উজানের ঢল এবং অতি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলাসহ জামালপুর ও সিলেটে বন্যা হচ্ছে। এই বন্যার ফলে লাখ লাখ মানুষ যেমন পানিবন্দি হচ্ছে সেই সঙ্গে ডুবে গেছে ফসলি জমি। হঠাৎ বন্যায় কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ধানের ভালো দামের কারণে এবার বোরো কাটার সঙ্গে সঙ্গে চাষিরা আউশ ধান আবাদ করেছেন। বন্যায় আউশ ধান ছাড়াও আমন বীজতলা, কাউন, চিনা বাদাম, তিল, বেগুন, মরিচ, পটল, শশা, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ঢেঁড়স, কাকরোল ও পেপেসহ সবধরনের সবজির খেত এখন পানির নিচে। হাজার হাজার বিঘা খেতের ফসল ডুবে যাওয়ায় অনেক কৃষক এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এছাড়া অনেকের পুকুর ডুবে লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভের খাষ ইউনিয়নের সবজি চাষি মজিবর জাগো নিউজকে বলেন, এবার চাষিরা পটল, ঢেঁড়শ, চিচিঙ্গা, বেগুন, চালকুমড়াসহ যেসব সবজি চাষ করেছে সব খেতে পানি উঠে গাছ মরে গেছে। আমার দুই বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজি করেছিলাম সেগুলো এখন পানির নিচে।

একই গ্রামের কৃষক মফিজুল ইসলাম জানান, ২০ হাজার টাকা ধারদেনা করে চার বিঘা জমিতে করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, চালকুমড়া লাগিয়েছিলেন। ফলন আসার প্রাক্কালে পানি উঠে সব শেষ। এই বন্যায় তার প্রায় দেড় লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় কুড়িগ্রাম জেলার ৫৫টি ইউনিয়নের ৩৫৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার ১৫ হাজার ৬০০ পরিবারের ৬৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নদীভাঙনে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন ৫০০ পরিবার।

বন্যায় কৃষিতে ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৩ হেক্টর। এর মধ্যে আমন বীজতলা ৪৩৫ হেক্টর, আউশ ৮২৫ হেক্টর, তিল ২৪০ হেক্টর, কাউন ৫ হেক্টর, চিনাবাদাম ৮০ হেক্টর, মরিচ ৫৮ হেক্টর এবং পাট অর্ধ নিমজ্জিত হয়েছে ৩৫৯০ হেক্টর। অপরদিকে মৎস্য বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ না জানালেও জানা গেছে ইতোমধ্যে শতাধিক পুকুর প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মাছ চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান জাগো নিউজকে বলেন, বন্যায় ১ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। টানা বৃষ্টি আর বন্যার কারণে কৃষিতে ক্ষতি হয়েছে। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন বীজতলা তৈরি করে উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়াও বন্যার পর ক্ষতি নিরূপণ করে তালিকা তৈরি করা হবে। সেই হিসেবে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বন্যার পানিতে জেলায় ৩ হাজার ১০৬ হেক্টর জমির পাট, ১৯৬ হেক্টর আউশ ধান ও ১২৮ হেক্টর শাক-সবজি, ৪৩ হেক্টর আমন ধানের বীজতলা, ৪৪ হেক্টর তিল ও ২০ হেক্টর জমির চিনাবাদাম নিমজ্জিত হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম ইদ্রিশ আলী বলেন, জেলার সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের ৪ হাজার ৫৩৬ পরিবারের ১৭ হাজার ৮৪৪ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সরকারি ৫০টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২ হাজার ৭৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। বাকিরা বাঁধ ও সড়কে আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ২৫৫ ঘর-বাড়ি।

জানা গেছে, নীলফামারীর চরাঞ্চলের ৩ হাজার পরিবার বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তিস্তার বন্যায় ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশ চাঁপানি, ঝুনাগাছ চাঁপাান এবং জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডা, শৌলমারী, কৈমারীসহ ১০ ইউনিয়নের তিস্তা অববাহিকার ১৫টি চর ও গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। তিস্তার চরাঞ্চলের বাদাম খেত ও আমন ধানের বীজতলা হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অনেক মৎস্য খামারের মাছ পানিতে ভেসে গেছে।

বন্যায় রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ১ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানির তোড়ে ভেঙে গেছে বিনবিনা এলাকার পাকা সড়ক। ভাঙন দেখা দিয়েছে বাঁধেও।

জানা গেছে, গঙ্গাচড়ার সাতটি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তার প্রায় ১৫টি চরে বসবাসকারী প্রায় ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুুল্লাহ আল হাদী জানান, তার ইউনিয়নের শংকরদহ, ইচলী, জয়রামওঝা ও বাগেরহাট এলাকায় ৪০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার ফসলি জমি ডুবে গেছে। ধান, ভুট্টা ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জানা গেছে, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে দিনাজপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দিনাজপুর সদরের মাঝাডাঙ্গাসহ আশপাশের গ্রাম, বাঙ্গীবেচা ঘাট এলাকা, সাধুর ঘাট এলাকা, দফতরি পাড়া, হঠাৎ পাড়ার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর, সুজাপুর, খয়েরবাড়ি ও বেতদিঘী এবং বিরল উপজেলাসহ আরও কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কিছু জায়গায় ডুবে গেছে ফসলের খেত। আগাম তৈরি করা আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে গেছে অনেকের।

কাহারোল উপজেলার ডাবুর ইউপির বলেয়া ও রসুলপুর ইউপির ভেলোয়া গুচ্ছ গ্রামগুলোর চারদিকে নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় (বীরগঞ্জ-কাহারোল) সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল।

সিরাজগঞ্জ জেলার চরাঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে চরের শত শত হেক্টর জমির পাট, তিল, বাদাম, ভুট্টা, আউশ, কাউন, আখ ও সবজির খেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জে ৯৫৫ হেক্টর জমির পাট, ৩৭১ হেক্টর তিল, ১০ হেক্টর ভুট্টা, ৫৫ হেক্টর আউশ, ২৩ হেক্টর সবজি, ১৭ হেক্টর কাউন, ৭৮ হেক্টর জমির আখ মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৫০৯ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকের ৫০ শতাংশ ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের কৃষক আমজাদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এবার তিন বিঘা জমিতে পাট, তিল ও আউশ চাষ করেছিলাম। কিন্তু এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে সব ফসল।

সদর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, যমুনায় হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় বেশকিছু জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি দ্রুত নেমে না গেলে ফসল ঘরে তুলে নেয়াও সম্ভব নয়। পাশাপাশি চলছে নদীভাঙন। চরাঞ্চলে মানুষ চরম বিপাকে দিনাতিপাত করছে। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ডিডি) মো. হাবিবুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির পানিতে জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রায় ৩০টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ১ হাজার ৫০৯ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।

জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, জেলায় বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৬৩২ হেক্টর জমির পাট, ২৮৬ হেক্টর জমির আউশ ধান, ২৯৩ হেক্টরের সবজি, ৬৫ হেক্টর বীজতলা, ৫ হেক্টর জমির তিল, ৫ হেক্টর জমির ভুট্টা ও ৫ হেক্টর জমির বাদাম।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ বলেন, ‘পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় জেলায় ৪৪ হাজার ৪১০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। আটটি উপজেলায় আমরা ৭৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছি। যেকোনো সমস্যা সমাধান ও সহযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।’

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য প্রশাসন ৪১০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও ২৯ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে তিনি জানান।

সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন জাগো নিউজকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের সহায়তা চলমান রয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকায় (জামালগঞ্জ-তাহিরপুর-ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) সরেজমিন পরিদর্শন করে বন্যার্তদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি। যেখানে সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীকে নিয়ে আপাতত সমস্যার সমাধান করছি।

ফসল

জামালপুরে মরিচের বাম্পার ফলন

জামালপুরে মরিচের বাম্পার ফলন

জামালপুর জেলার ৭টি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। মরিচ চাষে শুধু চাষিরাই লাভবান হননি, বেশি দাম পাওয়ায় লাভবান হয়েছেন কৃষক-দিনমজুর ও ব্যবসায়ীরাও।

জামালপুর সদরে তুলশিরচর, দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ি, বকশিগঞ্জ উপজেলার যমুনা নদীর অববাহিকায় মুন্নিয়ারচর, সাপধরী, বেলগাছা, নোয়ারপাড়া, দেওয়ানগঞ্জের কুলকান্দির চরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমিতে করা হয়েছে মরিচের আবাদ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জামালপুরের সাতটি উপজেলার চরাঞ্চলগুলোতে লাল-সবুজের রঙে ছেয়ে গেছে মরিচের খেত। কেউ মরিচ খেত পরিচর্যা করছেন, কেউ মরিচ তুলছেন কেউ মরিচ বাজারে নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

স্থানীয় বাজারে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খরিদদাররা মরিচ কিনে স্তূপ করে রাখছে দেশের বিভিন্ন জেলায় নেয়ার জন্য। বাজারে দাম ভালো থাকায় মরিচ চাষ করেই স্বাবলম্বী হয়েছেন এ এলাকার অনেক মরিচ চাষি পরিবার। আবার যাদের জমি নেই, তারা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে মরিচ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

ঢাকা থেকে মরিচ কিনতে আসা পাইকার মফিজুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে ৭৫ থেকে ৯০ হাজার টাকায় মরিচ খেত কিনে বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আয় করছেন। ইসলামপুর, মেলান্দহ, দেওয়ানগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, মেস্টাবাজারেও প্রতি মণ মরিচ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় ক্রয় বিক্রি করছি। লাভও হচ্ছে ভালো।

নাওভাঙ্গাচরের মরিচ চাষি মনোহর আলী জানান, এ বছর সাত বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন তিনি। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা মরিচ খেত ৭৫ থেকে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি।

ইসলামপুরের বেলগাছা ইউনিয়নের মুন্নিয়ার চরের নারী দিনমজুর অজুক বেওয়া, হাসিনা বেগম ও মর্জিনা বেগম মরিচ খেতে কাজ করেন। তারা জানান, এবার মরিচের আবাদ ভালো হওয়ায় মালিক দাম বেশি পাচ্ছে। আমরাও বাড়ির কাজ শেষে মরিচ খেতে কাজ করে সংসার চালাই। আমরা প্রতিজনে প্রতিদিন ৩৫০ টাকা করে মজুরি পাচ্ছি।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পাইকার জহির ব্যাপারী ও মদন দেব জানান, চলতি মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকায় ১৭ বিঘা মরিচ খেত কিনেছি। এখন পর্যন্ত ৯ লাখ কাটার মরিচ বিক্রি করছি। প্রতিদিনই ১৫ থেকে ২০ জন নারী শ্রমিক খেতে মরিচ তোলার কাজ করেন। প্রতি বিঘায় খরচ বাদে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতায় এবার জামালপুর জেলায় ৮ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে মরিচের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে জেলায় মরিচ চাষ করা হয়েছে ৮ হাজার ৬৪৭ হেক্টর জমিতে। গত কয়েক বছরের তুলনায় যা অনেক বেশি। মরিচের সম্ভাবনাময় বাম্পার ফলন জেলার কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

আগাম জাতের আলু চাষে লাভবান কৃষকরা

মাগুরায় দিন দিন আলু চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। অধিক লাভের আশায় এখন আগাম জাতের আলু চাষে ঝুঁকে পড়েছেন তারা। বাজারে আগাম জাতের আলুর ভালো দাম পেয়ে খুশি বলে জানিয়েছেন আলুচাষিরা।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, কৃষকরা এখন শীতের কুয়াশা উপক্ষো করে সকালে শিশির ভেজা মাঠে আগাম জাতের আলু তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগাম জাতের ক্যারেজ আলু চাষ করে বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ৩০ মণ ফলন পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান সদর উপজেলার হাজরাপুর গ্রামের আলুচাষি বিকাশ।

আগাম জাতের আলুতে ভালো লাভ পাওয়া যায়, এজন্য প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দুই বিঘা জমিতে আগাম জাতের ক্যারেজ আলু চাষ করেছেন বলে জানান।

বর্তমান বাজারে ২ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ৪শ টাকা পর্যন্ত প্রতি মণ আলু পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ায় খুশি বলে জানান, সদর উপজেলার হাজীপুর গ্রামের আলুচাষি বেলাল হোসেন।

প্রথম দিকে একশ টাকা কেজি থেকে শুরু হলেও বর্তমানে খুচরা বাজারে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে নতুন আলু। আবহাওয়া আলু চাষের অনুকূলে থাকায় দাম কমলেও এবার ফলন বেশি হওয়ায় লাভ ভালো হচ্ছে বলে জানান কৃষকরা।

আগাম জাতের আলু ওঠার পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় দফায় অন্যান্য আলু চাষ করার সময় বিঘা প্রতি ৫০ থেকে ৫৫ মণ আলু উৎপাদন হয়ে থাকে। এ সময় আলু বাজার দর কিছুটা কম থাকলেও অতিরিক্ত ফলনের কারণে কৃষকদের লোকসান হয় না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামাণিক জনান, চলতি মৌসুমে মাগুরা জেলায় ১ হাজার ১শ মেট্রিকটন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন- এবছর জেলায় ৯শ ৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে শালিখা উপজেলায় ছত্রিশ, শ্রীপুরে নয় হেক্টর, মহম্মদপুরে চার ও সদর উপজেলা এক হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে।

এছাড়া এ চাষ সফল করার লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ, সার ও কীটনাশকসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করেছে।

এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কৃষকদের মাঝে প্রয়োজনীয় ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ধানের বিস্ময় ব্রি

ব্রির (BRRI) আধুনিক জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশ, বিশেষ করে স্বল্প ব্যয়ে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষ লাভবান হচ্ছে। ব্রির আধুনিক জাতের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি না থাকলে দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটাতে সরকারকে আমদানি করতে হতো আরো অনেক বেশি। এই জাতের কারণে সরকারের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে

দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠার মূল সূচক ধান উৎপাদনে অগ্রগতি। সাফল্যের সূচকে দেশের অন্য সব খাতের মধ্যে এখনো সদর্পে মাথা উঁচু করে এগিয়ে চলেছে ধানভিত্তিক কৃষিব্যবস্থা। প্রধান খাদ্য হিসেবে দেশের মানুষের প্রিয় খাবার ভাতই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সহজলভ্য হয়ে আছে। সময়ে সময়ে অন্য পণ্যগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ধীরে ধীরে দাম বাড়লেও এখনো বিশ্বের ধানপ্রধান দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে ধান ও চালের দাম কমই রয়ে গেছে। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়ায়ও চালের দাম বাংলাদেশের তুলনায় বেশি। আবার দেশে গত ৫০ বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম যতটা বেড়েছে সাধারণ ভাতের চালের দাম ততটা বাড়েনি। সেই সঙ্গে দেশে একের পর এক উদ্ভাবন ঘটছে নিত্যনতুন ধানের জাতের। দুর্যোগে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এমন অনেক ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন দেশের বিজ্ঞানীরা। লবণাক্ততা, খরা ও বন্যা সহিষ্ণু ধান উৎপাদনে বিদেশেও নজর কেড়েছে বাংলাদেশ। এর সবই সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি—BRRI) নানা গবেষণার পথ ধরে। এমন আরো অনেক উদ্যোগের স্বীকৃতিও মিলেছে বিশ্বের বিভিন্ন পর্যায় থেকে, জাতীয় পর্যায়ের অনেক পুরস্কারও এসেছে ধান উৎপাদনের অগ্রযাত্রায়। স্বাধীন বাংলাদেশের বয়স ও ব্রির বয়স প্রায় একই। ১৯৭০ সালের ১ অক্টোবর ঢাকার অদূরে গাজীপুরে যাত্রা শুরু করে ব্রি। গত ৫০ বছরের এগিয়ে চলা গর্বিত করছে বাংলাদেশকেও। প্রতিষ্ঠানটি এই ৫০ বছরে কয়েক শ ধরনের গবেষণা পরিচালনা করে বিভিন্ন জাতের ধান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে গত ১০ বছরেই ধানের ৫১টি জাত উদ্ভাবন বেশি সাড়া ফেলেছে। এখনো আরো অনেক ধানের উদ্ভাবনে কাজ চলছে। 

গবেষণার ক্ষেত্রে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ছয়টি হাইব্রিডসহ ৯৪টি আধুনিক ধানের জাত উদ্ভাবন, যার মধ্যে ১০টি লবণাক্ততা সহনশীল, রোপা আমনের খরা সহনশীল তিনটি জাত, জলাবদ্ধতা সহনশীল চারটি জাত, পুষ্টিসমৃদ্ধ পাঁচটি জাত এবং রপ্তানিযোগ্য বিশেষ চারটি জাতের ধান। এ ছাড়া মাটি, পানি, সার ব্যবস্থাপনা ও ধানের চাষাবাদ পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট ৫০টির বেশি উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন, ৫০টির বেশি লাভজনক ধানভিত্তিক শস্যক্রম উদ্ভাবন, ৩২টি সহজ কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন, দেশ ও বিদেশের আট হাজারের বেশি ধানের জার্ম প্লাজম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং বছরে ১০০ মেট্রিক টনের বেশি ব্রিডার বীজ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ১৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত পানির নিচে ডুবে থাকলেও ধানের কোনো ক্ষতি হবে না—এমন বিস্ময়কর ধানের জাত আবিষ্কৃত হয়েছে বাংলাদেশেই। ব্রির আধুনিক জাত ও উৎপাদন-প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশ, বিশেষ করে স্বল্প ব্যয়ে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষ লাভবান হচ্ছে। ব্রির আধুনিক জাতের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি না থাকলে দেশের মানুষের চাহিদা মেটাতে সরকারকে খাদ্য আমদানি করতে হতো আরো অনেক বেশি। এই জাতের কারণে সরকারের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে। এই খাতের বিজ্ঞানীদের ভাষায়, ধান গবেষণা ও সম্প্রসারণে এক টাকা বিনিয়োগ থেকে আসে ৪৬ টাকা। ব্রির জাত ও প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে ধানের দাম স্থিতিশীল থাকে। ১৯৮০ সাল থেকে নিয়মিত খাদ্যশস্য আমদানি কমতে থাকে এবং ১৯৯০ সালের দিকে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতার কাছাকাছি পৌঁছে। এখন দেশে দিনে অন্তত এক বেলা ভাত খাচ্ছে না—এমন কোনো পরিবার নেই বলেও দাবি করে থাকেন ধানবিজ্ঞানীরা। এ ক্ষেত্রে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে উচ্চফলনশীল ধানের জাত এবং ধান উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে ব্রি। গত ৫০ বছরে ধান উৎপাদন তিন গুণের বেশি বেড়েছে, আর সে কারণেই বাংলাদেশে ধান গবেষণায় ব্রি বহির্বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেছে। প্রাথমিকভাবে ব্রি ১১টি গবেষণা শাখা এবং তিনটি আঞ্চলিক কার্যালয় নিয়ে কাজ শুরু করেছিল। এখন তা বেড়ে ১৯টি গবেষণা শাখা এবং ১১টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে সম্প্রসারিত হয়েছে; যেখানে প্রায় সাড়ে তিন শ বিজ্ঞানীসহ প্রায় এক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন নিরলসভাবে।

দেশে আবাদযোগ্য যত জমি আছে তার মধ্যে ব্রির উচ্চফলনশীল আধুনিক ধানের জাত হিসেবে বর্তমানে বোরোর (শীতকালীন ধান) ৮২ শতাংশ, আউশের (গ্রীষ্মকালীন ধান) ৩৬ শতাংশ এবং রোপা আমনের (বর্ষাকালীন ধান) ৪৭ শতাংশ চাষ হচ্ছে। গড়ে দেশের মোট ৭৫ শতাংশ জমিতে ব্রি ধানের চাষ হয় এবং দেশে উৎপাদিত ধানের ৮৫ শতাংশ আসে এই ধান থেকে। ব্রির উচ্চফলনশীল আধুনিক জাত প্রতিবছর ধান উৎপাদন বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা রেখে চলেছে। ফলে ১৯৭০-৭১ অর্থবছরে দেশে মোট উৎপাদিত ধান এক কোটি ১০ লাখ টন হলেও ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসে তা প্রায় চার কোটিতে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে ব্রি প্রযুক্তিগতভাবে বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় আয় ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। দেশের যেসব এলাকায় ব্রি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় সেসব এলাকায় অন্য এলাকার চেয়ে দারিদ্র্যের হার কম। এ ছাড়া পরোক্ষভাবে সার ব্যবসা, পাম্পসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণসহ নানাভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আধুনিক সেচ সুবিধা, আধুনিক জাতের ধান চাষের জমির প্রসারণে দেশের কৃষি ও অকৃষি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে গ্রামীণ মানুষের আয়ও বেড়েছে।

ধান গবেষণা ও ধানের জাত উদ্ভাবনে বিশেষ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু পুরস্কার-১৯৭৪, প্রেসিডেন্ট স্বর্ণপদক-১৯৭৭, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার-১৯৭৮, প্রেসিডেন্ট স্বর্ণপদক-১৯৮০, এফএও ব্রোঞ্জ প্ল্যাক-১৯৮০, প্রেসিডেন্ট স্বর্ণপদক-১৯৮৪, বেগম জেবুন্নেছা ও কাজী মাহবুল্লাহ ট্রাস্ট স্বর্ণপদক-১৯৮৬, ড. মনিরুজ্জামান ফাউন্ডেশন স্বর্ণপদক-১৯৯১, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার-১৯৯২, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার-১৯৯৭, ইরি প্ল্যাক অব অনার-২০০৪, সেনাধীরা অ্যাওয়ার্ড (ইরি)-২০০৬, ষষ্ঠ বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড সম্মাননা স্মারক-২০০৮, বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল সম্মাননা-২০০৮, জাতীয় পরিবেশ পদক-২০০৯, অ্যাগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ গোল্ড মেডেল-২০০৪, মার্কেন্টাইল ব্যাংক অ্যাওয়ার্ড-২০১৩, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) অ্যাওয়ার্ড-২০১৪, সেরা গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেআইবি কৃষিপদক-২০১৫, আইসিটি কাজের মাধ্যমে উদ্ভাবনী সেবা প্রদানের উৎকর্ষের স্বীকৃতিস্বরূপ ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৬-এ জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পুরস্কার-২০১৬, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড-২০১৭, বাংলাদেশ একাডেমি অব অ্যাগ্রিকালচার-২০১৮, সেনাধীরা রাইস রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ঝাঁজালো শর্ষে, মিষ্টি মধু

সিরাজগঞ্জের যমুনাতীরের চরগুলোতে যেদিকে তাকাবেন, কেবল হলুদ শর্ষের ফুলই চোখে পড়বে। সব খেতের পাশেই বসানো হয়েছে সারি সারি মৌবাক্স। শর্ষে ফুলের ম-ম গন্ধে ভরা খেতগুলোতে এখন দিনভর গুনগুন গুঞ্জন তুলে ওড়াউড়ি করে মৌমাছিরা। মৌবাক্সের পরিচর্যা আর মধু আহরণে তুমুল ব্যস্ত চাষিরা। রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের বোয়ালিয়ার বিলে গিয়ে গত সপ্তাহে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। স্থানীয়রা ছাড়াও এই মৌচাষিদের কাছ থেকে দেশি-বিদেশি কয়েকটি কোম্পানিও সরাসরি খেতে এসে মধু কিনছে।

শর্ষের ফলন ভালো হলে মধুও ভালো হয় বা উল্টো করেও বলা যায়, ভালো ফলনে মৌমাছিরাও বিশেষ ভূমিকা রাখে। সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী চলতি মৌসুমে জেলায় শর্ষে আবাদ হয়েছে ৪৯ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। এবার শর্ষের বাম্পার ফলন আশা করা হচ্ছে। আর চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২০ হাজার কেজি মধু আহরণের আশা করা হচ্ছে। গত মৌসুমে আহরণ করা মধুর পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১০ হাজার কেজি। চলতি মৌসুমের ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২১ হাজার ৩৪৭ কেজি মধু আহরণ করা হয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, সিরাজগঞ্জে ৩৩৬টি মৌ খামার রয়েছে। প্রতিটি খামারের ১৫০ থেকে ৩০০টি পর্যন্ত মৌবাক্স রয়েছে। গত সপ্তাহে বোয়ালিয়ার বিলে গিয়ে দেখা যায়, মৌচাষিদের কেউ বাক্স থেকে মধু বের করছেন আবার কেউ বাক্স ঠিক করে দিচ্ছেন, কেউ ড্রামে মধু ভরছেন। খেত থেকে প্রতি কেজি মধু ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছেন তাঁরা।

মধু ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও বোয়ালিয়ার বিলে শর্ষের মধুর জন্য ১৫০টি মৌবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। পাঁচ থেকে সাত দিন পরপর মধু আহরণ করা হয়। তাঁরা ১০-১২ জন পালা করে কাজ করেন।বিজ্ঞাপন

মৌচাষি শাহ আলম বিদেশি কোম্পানির কাছেও মধু বিক্রি করেন। তিনি বলেন, বোয়ালিয়ার চর এলাকায় ২০০টি মৌবাক্স বসিয়েছেন। চলতি মৌসুমে প্রায় দুই টন মধু আহরণের আশা করছেন তিনি। তাঁর কাছ থেকে দেশের কয়েকটি কোম্পানি মধু সংগ্রহ করে। এ ছাড়া বিদেশি কোম্পানির জন্যও তিনি মধু সরবরাহ করেন।

দিগন্তজোড়া শর্ষেখেত। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়ার বিলে।
দিগন্তজোড়া শর্ষেখেত। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়ার বিলে।

শুধু রায়গঞ্জ নয়, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, চৌহালী, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় শর্ষেখেতে চলছে মধু আহরণ। যমুনাতীরের চরাঞ্চলসহ এসব উপজেলায় শর্ষে ভালো হয়। খেতগুলো স্থানীয়দের হলেও মধু আহরণের জন্য দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, মাগুরা, নাটোরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মৌ খামারিরা এখানে এসে আস্তানা গেড়েছেন। দিনাজপুরের ভাই ভাই আদর্শ মৌ খামারের মালিক মিনারুল ইসলাম বলেন, এবার শর্ষের ফলন ভালো হওয়ায় এ অঞ্চলে মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাবনা থেকে আসা মৌচাষি আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মধু সংগ্রহ করতে আসেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তবে মধু সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের সঠিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে আরও ভালো দাম পাওয়া যাবে।

মৌচাষিরা বললেন, দেশি কোম্পানির মধ্যে এপি, স্কয়ারের প্রতিনিধিরা তাঁদের কাছ থেকে মধু কেনে। এ ছাড়া ভারতে ডাবর কোম্পানির লোকজনও কয়েক বছর ধরে মধু কিনছে। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় একটি মধু প্রক্রিয়াকরণ কারখানা হয়েছে। মধু প্রক্রিয়াজাত করা হলে এতে যে গন্ধ থাকে, সেটা কমে যায়। স্বাদ ও গাঢ়ত্বেও পরিবর্তন আনা যায়। প্রক্রিয়াকরণের আরও কিছু কারখানা হলে মৌচাষিরা প্রক্রিয়াজাত মধু বিক্রি করে আরও ভালো দাম পাবেন।

মাঠে মধু কিনতে আসা আবদুর রহিমের সঙ্গে কথা হলো। তিনি বলেন, প্রতিবছরই তিনি মাঠ থেকে মধু সংগ্রহ করে সারা বছর বিক্রি করেন।

মধু সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের সঠিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে আরও ভালো দাম পাওয়া যাবে।

আশরাফুল ইসলাম, মৌচাষি

খেত থেকে মধু কিনতে আসা কয়েকজন জানান, ঢাকার খোলাবাজারে তাঁরা সাত থেকে সাড়ে সাত শ টাকা কেজি মধু বেচতে পারেন। এ বছর অনলাইনে প্রচুর মধু বিক্রি হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু হানিফ বলেন, সরকার শর্ষে চাষে বীজ ও সার প্রণোদনা দেয়। ফলে কৃষকেরা চাষে আরও বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এই মৌবাক্সের মধু থেকে মৌচাষিরা বাড়তি আয় করেন। খেতে মৌবাক্স স্থাপনে মৌমাছির পরাগায়নের মাধ্যমে ফসলের ১০ শতাংশ ফলন বেশি হয়। এখানকার মধু বিভিন্ন কোম্পানির পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও বিক্রি হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

লাঘাটা পুনঃখনন এখন কৃষকের গলার কাঁটা

বোরো ধান চাষাবাদের ওপর নির্ভরশীল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কৃষকেরা। দুই বছর ধরে লাঘাটা নদী পুনঃখননের জন্য দেওয়া বাঁধে একদিকে জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে সেচের অভাবে শুষ্ক জমি খাঁ খাঁ করছে। ফলে বোরো আবাদ করতে না পেরে চার গ্রামের তিন শতাধিক কৃষক দুই বছর ধরে ক্ষতি গুনছেন। লাঘাটার পুনঃখনন এখন তাঁদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লাঘাটা নদীতে দুই বছর ধরে পুনঃখননের কাজ চলছে। নদী খননে সেচ সমস্যার কারণে কমলগঞ্জের ধূপাটিলা, রূপষপুর গ্রামের শতাধিক কৃষক বোরো আবাদ করতে পারছেন না। অন্যদিকে খননকাজের অংশ হিসেবে বাঁধ দেওয়ার কারণে নিম্নাঞ্চল কেওলার হাওর এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কমলগঞ্জের পতনউষার দুই শতাধিক কৃষক চাষাবাদ করতে পারছেন না। এতে বোরো নির্ভরশীল কৃষকেরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কৃষকেরা বলছেন, লাঘাটা নদীর শমশেরনগর ইউনিয়নের সতিঝিরগ্রাম এলাকায় স্লুইসগেট থাকায় সেচ সুবিধা নিয়ে এর আশপাশের এলাকার কয়েকজন কৃষক বোরো চাষাবাদ করলেও অন্যরা তা থেকে বঞ্চিত।বিজ্ঞাপন

ক্ষোভ প্রকাশ করে পতনউষার বোরোচাষি আনোয়ার খান, ধূপাটিলা গ্রামের কৃষক আক্তার মিয়া, ফারুক মিয়া, ছমির মিয়া, রেহমান মিয়া, শওকত মিয়া বলেন, নদী খননের জন্য তাঁরা দুই বছর ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের কাছে সহায়তা দাবি করেন।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের কেওলার হাওর এলাকা খননকাজের কারণে জলাবদ্ধ হয়ে আছে
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের কেওলার হাওর এলাকা খননকাজের কারণে জলাবদ্ধ হয়ে আছে

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন (১ম পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় লাঘাটা খালের ১২৮৩০ মিটার কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। ২০১৮ সালে নদী পুনঃখননের জন্য সার্ভে সম্পন্ন হলেও কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর। দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন থেকে কমলগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ১১ কিলোমিটার ৮০০ মিটার ও ১২ কিলোমিটার ৮৩০ মিটার মিলিয়ে ২৪ কিলোমিটার ৬৩০ মিটার খননকাজ হবে। ১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড কমলগঞ্জ অংশে নদী খননের প্রাক্কলিত মূল্য ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৩ হাজার ৮০৭ টাকা। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত বছরের ৩০ নভেম্বর। তবে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় পুনঃখননের কাজ এখনো ঝুলে আছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএএসআই অ্যান্ড ইশরাত এন্টারপ্রাইজ ৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নিম্নাঞ্চল এলাকার খননকাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লাঘাটা পুনঃখননের কাজ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিলেও দুই বছর ধরে বোরো আবাদ করতে না পেরে তাঁরা এখন ক্ষুব্ধ। তাঁদের বিস্তীর্ণ বোরো আবাদি জমি পতিত আছে। আবার কেওলার হাওর এলাকার বোরো জমি জলাবদ্ধ হয়ে আছে।

কমলগঞ্জে হাওর ও নদী রক্ষা আঞ্চলিক কমিটির সদস্যসচিব তোয়াবুর রহমান বলেন, কেওলার হাওর এলাকায় যাঁরা জমিতে বোরো রোপণ করেছিলেন, তাঁদের জমি তলিয়ে গেছে। নদী খনন থেকে শুরু করে সবকিছুতেই গোঁজামিল। এতে ক্ষতি গুনছেন সাধারণ কৃষকেরা।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন বলেন, ‘বিষয়টি আমি গত সপ্তাহে শুনে জেলা পর্যায়ের একটি সভায় সেটি উপস্থাপন করেছি। আবারও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলব।’

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, নদী খনন করতে গেলে কিছুটা তো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবেই। এই খননকাজ করতে গিয়ে কেউ কেউ উপকৃত হচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সবকিছুর পরে কাজটি করতে হবে। আগামী এপ্রিলের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশেকুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com