আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

সবজি উৎপাদনে চাঙ্গা অর্থনীতি

কৃষিতে আমদানিকারক বাংলাদেশ এখন ধীরে ধীরে রফতানিকারক দেশে পরিণত হচ্ছে। কৃষিতে এখন শুধুই জয়জয়কারের ধ্বনি। ফলে কৃষকের ঘটেছে ভাগ্যের পরিবর্তন। সাবলম্বী হয়ে উঠেছেন তারা। দেশের অর্থনীতির চাকা নিত্য সচল আছে কৃষির সিংহভাগ অবদানের জন্য। যুগান্তরের রাজশাহী ব্যুরোর তানজিমুল হক, যশোর ব্যুরোর ইন্দ্রজিৎ রায় ও নরসিংদী প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ সাহার পাঠানো খবর-

রাজশাহী ব্যুরো : সবজিকে কেন্দ্র করে চাঙা হয়ে উঠেছে রাজশাহীর অর্থনীতি। পর পর দুই অর্থবছরে দেশে সবজি চাষে রাজশাহীর অবস্থান প্রথম ও দ্বিতীয়। আলু, টমেটোসহ অন্য সবজি থেকে প্রতিবছর রাজশাহীর কৃষক গড়ে আয় করছেন প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। ফলে কৃষকের ঘটেছে ভাগ্যের পরিবর্তন। সাবলম্বী হয়ে উঠেছেন তারা। আর সবজি চাষকে কেন্দ্র করে ঘটেছে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান। সবজি চাষ এবং এ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে আট বছর ধরে রাজশাহীতে বোরো ধানসহ দানা জাতীয় শস্য ছেড়ে অন্য ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কৃষিবিদরা বলছেন, পানিসাশ্রয়ী ফসলের চাষ বাড়াতে গিয়ে রাজশাহী সবজি উৎপাদন বেড়েছে। ফলে সবজির উন্নত জাতের প্রচলন, সারের সুষম ব্যবহার এবং সময়মতো রোগবালাই দমনে সফলতার কারণে রাজশাহীতে সবজি চাষে সাফল্য এসেছে। সবজি চাষের এ ধারাবাহিকতাও অব্যাহত রয়েছে। রাজশাহী কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজশাহীতে টমেটো, আলুসহ প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন হয়েছে ১৮ দশমিক ১২ টন। মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২ হাজার ৭৯০ টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আলু, টমেটোসহ অন্য সবজি প্রায় একই পরিমাণ জমিতে চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে আলু, ৩ হাজার হেক্টর জমিতে টমেটো এবং প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হয়েছে। উৎপাদনও হয়েছে আগের অর্থ বছরের চেয়ে বেশি। ফলে সবজির চাষের পরিমাণ এ অঞ্চলে বাড়তেই আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় আগমি জাতের উন্নতমানের টমেটো চাষ হয়। চলতি বছর গোদাগাড়ীর টমেটো চাষীরা প্রায় সাতশ’ কোটি টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন। আর চলতি বছর এ পর্যন্ত সবজি বিক্রি হয়েছে চারশ’ কোটি টাকা। আর আলু বিক্রি হয়েছে এ পর্যন্ত প্রায় নয়শ’ কোটি টাকার। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শামছুল হক জানান, সবজি উৎপাদনে জমির পরিমাণ বৃদ্ধি ও হেক্টরপ্রতি সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সারা দেশের মধ্যে সবজি উৎপাদনে শীর্ষ জেলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে রাজশাহী।

যশোর ব্যুরো : বছরে ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় আট লাখ টন সবজি উৎপাদন করে রেকর্ড অর্জন করেছে যশোরের কৃষকরা। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে তাদের উৎপাদিত উদ্বৃত্ত সবজি পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এর মধ্য দিয়ে দেশে সবজি উৎপাদনে শীর্ষ স্থান দখল করেছে তারা। যশোর কৃষি অফিস সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঢাকায় শেষ হওয়া জাতীয় কৃষি মেলায় সবজি উৎপাদনে যশোর জেলাকে দেশসেরার স্বীকৃতি দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। শাক-সবজি উৎপাদনে হেক্টরপ্রতি গড় ফলন সর্বোচ্চ ও দেশের সবজির চাহিদা পূরণে বিশেষ অবদান রাখায় প্রথম হয়েছে যশোর।

নরসিংদী : নরসিংদীর বাজারে এখন শীতের সবজিতে সয়লাব। গ্রামীণ বাজার জুড়েই নানা জাতের সবজির সমারোহ। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের শিবপুরের একাধিক পাইকারী বাজারগুলোতে উৎপাদিত সবজি নিয়ে কৃষকদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। নরসিংদী কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক শুভন কুমার ধর জানান, জেলার সর্বত্র এবার শাক-সবজির ফলন খুব ভালো হয়েছে।

এগ্রোবিজ

আম, লিচু বাজারজাত করতে নানা উদ্যোগ

বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের শাকসবজি ও মৌসুমি ফলসহ কৃষিপণ্যের পরিবহন এবং বাজারজাতকরণে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করতে পারছে না। বড় শহরের বাজারে ক্রেতার আগমন প্রায় না থাকায় ও জনগণের আয় হ্রাস পাওয়ার কারণে বাজারে কৃষিপণ্যের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে, ফলে পাইকার ও আড়তদাররা কৃষিপণ্য ক্রয়ে আগ্রহ হারাচ্ছে।

কৃষিপণ্য পরিবহন শেষে ট্রাক খালি ফেরার আশঙ্কায় ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এ সকল কারণে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে বেশির ভাগ উৎপাদিত ফল ও সবজি। এমন পরিস্থিতিতে আম লিচু বাজারজাত করতে নানান উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে কৃষিপণ্যের বিপণন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী শনিবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্মে) মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

এ সভায় কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্‌মুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহ্‌রিয়ার আলম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনা‌ইদ আহ্‌মেদ পলক, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, চাঁপাই নবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল, কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ এবং জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট সিম্পসন অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: নাসিরুজ্জামান।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে তরমুজ চাষিরা উৎপাদিত তরমুজের অধিকাংশই বিক্রি করতে পারেনি। যা বিক্রি করেছে তার ভালো দামও পায়নি। ইতোমধ্যে আম, লিচু, আনারস, কাঁঠালসহ মৌসুমি ফল বাজারে আসতে শুরু করেছে। এসব মৌসুমি ফল সঠিকভাবে বাজারজাত না করা গেলে চাষিরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আবার, দেশের অধিকাংশ মানুষ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর মৌসুমি ফল খাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। অথচ এই সময়ে করোনা মোকাবেলায় দৈহিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৌসুমি পুষ্টিকর ফল গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহনের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। ট্রাকের জ্বালানির ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেয়া যেতে পারে যাতে ট্রাকের ভাড়া কম হয়। পুলিশ ব্যারাক, সেনাবাহিনীর ব্যারাক, হাসপাতাল, জেলখানাসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে কৃষকের কাছ থেকে আম কিনে সরবরাহ করা গেলে আমের বাজারজাতকরণে কোন সমস্যা হবে না বলেও তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এই সংকটের সময়ে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ফড়িয়ারাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পরিচয় পত্র ইস্যু এবং ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা বাড়াতে হবে। এই মধু মাসে বিদেশি ফল যেমন আপেল, আঙ্গুর প্রভৃতি আমদানি কমানোর পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

করোনার সময়ে সকল ধরনের কার্গো লঞ্চ চালু আছে জানিয়ে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্‌মুদ চৌধুরী বলেন, শুধু আম-লিচু নয়, সব মৌসুমি ফলের বাজারজাতকরণে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সম্পৃক্ত করে আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে হবে, তা নাহলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহ্‌রিয়ার আলম বলেন, গত কয়েক বছরে আমের ভালো দাম না পাওয়ায় রাজশাহীতে আম চাষ কমে যাচ্ছে। ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পরিচয়পত্র ইস্যু, তাদের যাতায়াতে হয়রানি কমানো, ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা বাড়ানো, এবং বিশেষ করে আমে ফরমালিন বা ক্ষতিকর কিছু নেই মর্মে জনগণকে সচেতন ও আশ্বস্ত করতে হবে বলে তিনি জানান। ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে সকল গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর পরামর্শও প্রদান করেন তিনি।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক বলেন, আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে প্রযুক্তি নির্ভর ‘এক শপ’ অ্যাপস চালু করা হবে যার মাধ্যমে সারা দেশের চাষিরা পণ্য বেচাকেনা করতে পারবে। এর মাধ্যমে চাষিদের পণ্য এনে মেগাশপের পাশাপাশি ডোর টু ডোর গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়া যাবে।

ড. আতিউর রহমান বলেন, স্থানীয় মার্কেটে আমের চাহিদা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষিখাতে অতিরিক্ত বাজেটের প্রয়োজন হলে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, এই সংকটের সময় তারা পাশে থেকে কাজ করবে। আম-লিচু পরিবহণের কোন সংকট হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

কৃষিমন্ত্রী জানান, আজকের সভায় পাওয়া সুপারিশ অনুযায়ী:

১. হাওরে ধান কাটা শ্রমিকদের যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠানো হয়েছে, তেমনি অন্যান্য জেলা হতে ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ফড়িয়ারাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা, প্রয়োজনে তাদেরকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রত্যয়নপত্র প্রদান ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা নেয়া।
২. মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য পরিবহণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনের অবাধে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা, পরিবহণের সময় যাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী মাধ্যমে কোনরূপ হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যবস্থা করা।
৩. বিআরটিসির ট্রাক ব্যবহারে উদ্যোগ নেয়া।
৪. স্থানীয়ভাবে ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা বাড়ানো,
৫. পার্সেল ট্রেনে মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য পরিবহণের আওতা বাড়ানো, হিমায়িত ওয়াগন ব্যবহার করা যায় কিনা সেদিকে নজর দেয়া
৬. ফিরতি ট্রাকের বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল হ্রাস করা
৭. ত্রাণ হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীতে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফল অন্তর্ভূক্ত করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নিকট অনুরোধ জানানো।
৮. অনলাইনে এবং ভ্যানযোগে ছোট ছোট পরিসরে কেনাবেচার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা
৯. প্রাণ, একমি,  ব্র্যাকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যারা কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে জুস, ম্যাঙ্গোবার, আচার, চাটনি প্রভৃতি তৈরি করে, তাদেরকে এবছর বেশি বেশি আম-লিচু কেনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা এ বছর বেশি করে আম কিনবেন বলে জানিয়েছেন।
১০. মৌসুমি ফলে যেন কেমিক্যাল ব্যবহার করা না হয় সেজন্য জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করাসহ‌ সুপারিশগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সভায় জানানো হয়, এ বছর ১ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২২ লক্ষ ৩২ হাজার মেট্রিকটন। রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, নাটোর, গাজীপুর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে অধিকাংশ আমের ফলন হয়।

লিচুর আবাদ হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন। অধিকাংশ লিচুর ফলন হয় রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবনা, গাজীপুর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলায়। কাঁঠালের আবাদ হয়েছে ৭১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ও সম্ভাব্য উৎপাদন ১৮ লাখ ৮৯ হাজার মেট্রিক টন। টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও রাঙ্গামাটিতে সবচেয়ে বেশি কাঁঠাল উৎপাদন হয়। অন্যদিকে, আনারসের আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে ও সম্ভাব্য উৎপাদন ৪ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন। আনারসের সিংহভাগ উৎপাদন হয় টাঙ্গাইলে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

লিচুর আয়ে জীবন চলে

 লিচুর আয়ে জীবন চলে
লিচুর আয়ে জীবন চলে

গ্রামের নাম মঙ্গলবাড়িয়া। এ গ্রামের মানুষের প্রধান পেশা লিচুচাষ। গ্রামের নামেই লিচুর নাম। মঙ্গলবাড়িয়া লিচু এ এলাকার মানুষকে এনে দিয়েছে সুখ আর সমৃদ্ধি। প্রসিদ্ধ এ লিচুর কদর এখন দেশ জুড়ে। লিচুর আয়েই চলে এলাকার মানুষের সারা বছরের ভরণ-পোষণ।

সিঁদুরে লাল টুকটুকে এ লিচু এক নামে প্রসিদ্ধ সারা দেশে। নাম শুনলে জিভে জল এসে যায়। লাল টুকটুকে সুস্বাদু লিচুর রং আর গন্ধে মাতোয়ারা পাকুন্দিয়া উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রাম। কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে ঐতিহ্যবাহী মঙ্গলবাড়িয়া লিচুর আবাদ। এ মৌসুমে মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে প্রায় ১০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হচ্ছে। এখন লিচুর ভরা মৌসুম। তাই লিচু ঘিরেই মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে এক ভিন্ন উৎসব চোখে পড়ে।

 লিচুর আয়ে জীবন চলে
লিচুর আয়ে জীবন চলে

প্রায় একশ বছর আগে মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের হাশিম মুন্সি চীন থেকে একটি লিচুর চারা এনে তার বাড়ির আঙিনায় রোপণ করেন। এভাবে এ উন্নত লিচুর জাত ছড়িয়ে পড়ে সারা গ্রামে। বর্তমানে মঙ্গলবাড়িয়ায় গ্রামে দেড় লাখেরও বেশি লিচু গাছ রয়েছে।

মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের সফল চাষি মো. শামসুদ্দিন। লিচুর আয় থেকে সংসার চালিয়েও ৫ মেয়েকে উচ্চ শিক্ষিত করে বিয়ে দিয়েছেন। মানুষ করেছেন, ৩ ছেলেকেও। এখন তার চোখে-মুখে তৃপ্তির হাসি। তিনি একজন সুখী মানুষ। বর্তমানে তার মালিকানায় রয়েছে বিশালাকৃতির ৬৫টি লিচু গাছ। প্রতি মৌসুমে ৫ থেকে ৮ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করেন।

তিনি জানালেন, লিচু গাছগুলো তার ছেলের চেয়েও বেশি উপকারী। লিচু চাষ করে তার যে আয় হয় তা বছরে ১০ একর জমিতে উৎপাদিত ধানের চেয়ে বেশি।

 লিচুর আয়ে জীবন চলে
লিচুর আয়ে জীবন চলে

একই গ্রামের মো. তৌহিদ মিয়ার মালিকানায় এবার দেড় শতাধিক লিচু গাছ রয়েছে। তিনি এ এলাকার প্রথম সফল লিচু চাষি ও ব্যবসায়ী। ৪০ বছর ধরে এ পেশায় জড়িত। তৌহিদ মিয়া বলেন, এবার সময়ে সময়ে বৃষ্টি হয়েছে। তাই লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার তিনি অন্তত ২৫ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করবেন বলে আশাবাদি।

ভাইকে সঙ্গে নিয়ে অনেক দিন ধরে লিচুর ব্যবসা করছেন মো. মামুন মিয়া। তিনি জানান, এবার তারা ৩শ গাছ কিনেছেন। এসব গাছ থেকে ৩০ থেকে ৩২ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

এমন সফলতার খোঁজ মেলে মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের আনাচে-কানাচে। লিচু চাষ করে ভাগ্য বদলেছেন মঙ্গলবাড়ি গ্রামের অনেকেই।

 লিচুর আয়ে জীবন চলে
লিচুর আয়ে জীবন চলে

বড় আকৃতি, ছোট বীজ, রসে ভরপুর এবং সুস্বাদু হওয়ায় এ লিচুর কদর সবখানে। এখন লিচুর ভরা মৌসুম। আর তাই মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে চলছে উৎসবের আমেজ। গাছ থেকে লিচু পেড়ে গাছের নিচেই প্যাকেট করে সেখান থেকে পাঠানো হচ্ছে ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। বাগান থেকেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বেশিরভাগ লিচু।

পাকুন্দিয়ার শত শত মানুষ লিচু বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তারা পাকা লিচু প্রসেস করে ডাটা ও পাতাসহ বেতের ঝুড়িতে প্যাকেট করে ঢাকার ওয়াইজঘাটে ও সিলেটের রেলগেটে পাঠান। প্রতি টুকরিতে এক হাজার থেকে ১২শ লিচু থাকে। প্রতি টুকরি লিচু বিক্রি হয় সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মৌসুমি ফল অনলাইনে বিক্রি

মৌসুমি ফল অনলাইনে বিক্রি
মৌসুমি ফল অনলাইনে বিক্রি

কৃষকের বাগান ও খেতে পেকে ওঠা আম–লিচু ও তরমুজ যাতে নষ্ট না হয়, ফলগুলো যাতে দ্রুত ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য বিপণনের নতুন এক কৌশল নিচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ভোক্তা ও চাষিদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে প্রথমত হাটবাজারগুলোকে কাজে লাগানো হবে। সেই সঙ্গে এবার এ কাজে অনলাইন পণ্য বিপণনের প্ল্যাটফর্ম ও সুপারশপগুলোকে কাজে লাগানো হবে।

সম্মিলিত এ উদ্যোগ নিয়ে গতকাল শনিবার এক ব্যতিক্রমী সভার আয়োজন করে কৃষি মন্ত্রণালয়। সভায় সরকারের চারজন মন্ত্রী, ১৭ জন সাংসদ, সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, দেশের শীর্ষস্থানীয় ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানি, পরিবহনমালিক ও শ্রমিকনেতারা উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুমে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রত্যেকেই কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও তরুণদের উদ্যোগে তৈরি হওয়া পণ্য বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

সভার শুরুতে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের শাকসবজি ও মৌসুমি ফলসহ কৃষিপণ্যের পরিবহন এবং বাজারজাতকরণে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করতে পারছেন না। বড় শহরের বাজারে ক্রেতার আগমন প্রায় না থাকায় ও জনগণের আয় কমে যাওয়ায় বাজারে কৃষিপণ্যের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৃষিপণ্যের বিপণন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পাঠাও, চালডালের মতো পণ্য বিপণন প্রতিষ্ঠান, স্বপ্ন ও আগোরার মতো সুপারশপগুলোকে কাজে লাগানো হবে।

সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহনের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। ট্রাকের জ্বালানির ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে, যাতে ট্রাকের ভাড়া কম হয়। পুলিশ ব্যারাক, সেনাবাহিনীর ব্যারাক, হাসপাতাল, জেলখানাসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে কৃষকের কাছ থেকে আম কিনে সরবরাহ করা গেলে আমের বাজারজাতকরণে কোনো সমস্যা হবে না বলেও মনে করেন তিনি।

আম–লিচু নিয়ে চাষি ও ভোক্তার মধ্যে সংযোগ ঘটাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম।
পাঠাও, চালডাল, স্বপ্ন ও আগোরাকে কাজে লাগানো হবে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, বিদেশি ফল যেমন আপেল, আঙুর প্রভৃতি আমদানি কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, গত কয়েক বছরে আমের ভালো দাম না পাওয়ায় রাজশাহীতে আম চাষ কমে যাচ্ছে। ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পরিচয়পত্র ইস্যু, তাঁদের যাতায়াতে হয়রানি কমানো, ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা বাড়াতে হবে।

সভায় জানানো হয়, এ বছর ১ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২২ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন ধরা হয়েছে। লিচুর আবাদ হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার হে

ক্টর জমিতে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন।

সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংস্থাপ্রধান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, দিনাজপুর ও সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, দেশের শাকসবজি ও ফলমূল রপ্তানিকারক সমিতি, সুপারশপ মালিক সমিতি, আম-লিচু চাষি, ব্যবসায়ী ও আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা সংযুক্ত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কাতলের কেজি ৯৮০ টাকা!

কাতলের কেজি ৯৮০ টাকা!
কাতলের কেজি ৯৮০ টাকা!

রাজশাহী নগরীর সাহেববাজারে একটি ৩০ কেজি ওজনের বিশাল কাতল মাছ বিক্রি হয়েছে। শনিবার রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে মাছটি ধরেন স্থানীয় জেলেরা। মাছটি ৯৮০ টাকা কেজি দরে ২৯ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়।

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, অনেক দিন পরে এত বড় কাতল মাছ বাজারে উঠেছে। ৩০ কেজি ওজনের কাতল মাছ বাজারে নিয়ে আসেন তাজিম নামে এক মাছ ব্যবসায়ী। তিনি কেজিতে এক হাজার টাকা করে দরে হাঁকান। ওই সময় মাছটি ঘিরে ক্রেতাসহ আশপাশের জনতার ভিড় জমে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে ৬ জন ক্রেতা ৯০০ টাকা কেজি দরে মাছটি কিনতে চান। পরে একজন ক্রেতা ৯৮০ টাকা কেজি দরে ২৯ হাজার ৪০০ টাকায় মাছটি কিনে নেন।

কাতলের কেজি ৯৮০ টাকা!
কাতলের কেজি ৯৮০ টাকা!

সাহেববাজারের মাছ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, গত বছর ২৫ কেজি ওজনের একটি মাছ পাওয়া গিয়েছিল। প্রতি বছর আমাদের কাছে এমন বড় ওজনের মাছ আসে। এমন বড় মাছ পাওয়া গেলে সাধারণত ঢাকায় চলে যায়। তবে মাঝে মাঝে আমাদের এখানেও বোয়াল, বাগাড়সহ কার্প জাতীয় মাছ নিয়ে আসেন বিক্রেতারা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষকের লাভই সবচেয়ে কম

সবজির সরবরাহ ব্যবস্থায় লাভের ভাগ সবচেয়ে কম পান দেশের কৃষকেরা। সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিপণ্য কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তার কাছে যেতে অন্তত তিন দফা হাতবদল হয়। এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি লাভ করেন।


চট্টগ্রামের শঙ্খ নদের তীরে দোহাজারী ও সাতকানিয়ার নলুয়া, চাগাচর, মুন্সিজরসহ বেশ কিছু এলাকায় চাষ হয় নানা জাতের সবজি। এসব সবজি নৌকায় করে পাইকারি বিক্রির জন্য কৃষকেরা নিয়ে যান দোহাজারীর সবজিবাজারে। গত বৃহস্পতিবার সকালে। ছবি: সৌরভ দাশসবজির সরবরাহ ব্যবস্থায় লাভের ভাগ সবচেয়ে কম পান দেশের কৃষকেরা। সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিপণ্য কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তার কাছে যেতে অন্তত তিন দফা হাতবদল হয়। এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি লাভ করেন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ২০১৭–১৮ অর্থবছরে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে তিনটি সবজির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে লাভ ও মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ তুলে ধরেছে। এতে দেখা যায়, কৃষক যে আলুর দাম কেজিপ্রতি ৯ টাকারও কম পান, সেটি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে দাম হয় ২২ টাকা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ২০১৭–১৮ অর্থবছরে দেশে ৩৮ লাখ টনের কিছু বেশি সবজি উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৩ লাখ টন শীত ও ১৫ লাখ টন গ্রীষ্মকালীন সবজি। অবশ্য হিসাবের মধ্যে আলু নেই। বিবিএসের হিসাবে, গত অর্থবছরে প্রায় ৯৭ লাখ টন আলু উৎপাদন করেছেন দেশের কৃষকেরা।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৭–১৮ অর্থবছরে এক কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় হয় ৭ টাকা ৬০ পয়সা। গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা লাভে ওই আলু কৃষক বিক্রি করেন প্রতি কেজি ৮ টাকা ৮৫ পয়সা দরে। স্থানীয় ব্যবসায়ী একই আলু কিনে বিক্রি করেন ১২ টাকা ২০ পয়সা দরে। এতে তাঁর ব্যয় হয় ১ টাকা ১০ পয়সা, লাভ হয় সোয়া ২ টাকা। পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হয় ১৭ টাকা ১৫ পয়সা কেজিতে। পাইকার ১ টাকা ৬০ পয়সা খরচ করে লাভ করেন ৩ টাকা ৩৫ পয়সা। খুচরা বিক্রেতা কেজিতে ৯০ পয়সা ব্যয় ও ৩ টাকা ৯৫ পয়সা লাভ করে আলু বিক্রি করেন প্রতি কেজি ২২ টাকায়।

একইভাবে প্রতি কেজি বেগুনে কৃষকের ১ টাকা ৮৯ পয়সা, স্থানীয় ব্যবসায়ীর আড়াই টাকা, পাইকারের ৪ টাকা ১৩ পয়সা ও খুচরা বিক্রেতার ৯ টাকা ৩৬ পয়সা লাভ থাকে। প্রতি কেজি টমেটোতে কৃষকের লাভ ২ টাকা ১০ পয়সা, স্থানীয় ব্যবসায়ীর লাভ ৩ টাকা, পাইকারের লাভ ৬ টাকা ৬০ পয়সা ও খুচরা বিক্রেতার লাভ ৭ টাকা ২৮ পয়সা।

জানতে চাইলে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যখন ফুলকপি ৫ টাকা দরে বিক্রি করি, বগুড়া শহরে গিয়ে সেই ফুলকপিই ২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখি।’ তিনি বলেন, কৃষিতে যে পরিমাণ ঝুঁকি, বিনিয়োগ ও পরিশ্রম, তাতে লাভ বেশি নয়। পরিবারের কেউ চাকরি না করলে, অথবা বিদেশে না থাকলে কৃষিকাজ করে মোটামুটি সচ্ছল জীবনযাপন করা সম্ভব নয়।  

বেগুনে লাভ বেশি

অবশ্য সার্বিকভাবে সবজি চাষ কৃষকের জন্য লাভজনক। পরিসংখ্যান ব্যুরো ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সমীক্ষায় বিভিন্ন ফসলে কৃষকের মুনাফার চিত্র উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০১৫ সাল থেকে ফুলকপি, মিষ্টিকুমড়া, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন ও আদা চাষের ওপর সমীক্ষা করে দেখেছে, এসব ফসল আবাদে ১০০ টাকা বিনিয়োগ করলে তার বিপরীতে প্রায় শতভাগ লাভ হয়।

অন্যদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০১৭–১৮ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি একর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে কৃষকের ব্যয় হয়েছে ৭৬ হাজার ৮৭৪ টাকা। বিপরীতে তাঁর মুনাফা হয়েছে ৪০ হাজার ৬৬৬ টাকা। এক একর জমিতে রসুন আবাদ করলে মুনাফা হয় ৫৪ হাজার ৪৯৮ টাকা। আলুতে লাভ কম, ৩৫ হাজার টাকার মতো। বেগুনে অবশ্য মুনাফা বেশি, একরে প্রায় ৯৯ হাজার টাকা। টমেটো চাষে লাভ একরপ্রতি ৬৮ হাজার টাকার কিছু বেশি।

এবার শীত খারাপ কাটল

এবার শীত মৌসুমে বাড়তি সবজি আবাদ করে মন্দ সময় কেটেছে চাষিদের। প্রতিবার শীতে কখনো দাম বেশ বেড়ে যায়, কখনো কম থাকে। এবার পুরো শীতেই সবজির দর তুলনামূলক কম ছিল। বিশেষ করে পেঁয়াজ ও আলুচাষিরা খরচের টাকা ঘরে তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

কৃষক, ফড়িয়া ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীত মৌসুমে আগাম ও স্বাভাবিক সময় মিলিয়ে এ বছর সবজির আবাদ আগের বছরের চেয়ে বেশি হয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। এ কারণে শীত মৌসুমের পুরোটা সময়ই বাড়তি সরবরাহ ছিল। ফলে দামের খুব একটা ওঠানামা হয়নি। পুরোটা সময় দাম বেশ কম ছিল।

রাজধানীর খুচরা বাজারে এখন বেশির ভাগ সবজির দর কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে। কারওয়ান বাজারের আড়তে এসব সবজি মিলছে আরও কম দামে। কৃষক পর্যায়ে দাম একেবারেই নগণ্য। বগুড়ার মহাস্থানহাটে গত রোববার পাইকারি দোকানে প্রতিটি ফুলকপি ৭–৯ টাকা, বাঁধাকপি ৫–৬ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১০ টাকা, শিম ১২–১৫ টাকা, মুলা ৫–৬ টাকা, আলু ৫–৬ টাকা ও ক্ষীরা ১৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

মহাস্থানহাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, কিছুদিন আগে দাম আরও অনেক কম ছিল। সে তুলনায় এখন কিছুটা বাড়তি। কারণ মৌসুম শেষ হয়ে আসছে। জানতে চাইলে মহাস্থানহাটের আড়ত মালিক মো. ফারুক মিয়া বলেন, হাটে যে দামে সবজি বিক্রি হয়, তার চেয়েও কিছুটা কম দাম পান কৃষক। কারণ, তাঁর পরিবহন ও তোলার খরচ দিতে হয়। সব মিলিয়ে এবার বাজার খারাপ গেছে। চাষিরা দাম পাননি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com