আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

সবজির বাহারে, শীতকাল আহা রে

– রাজামশাই?

– উঁ?

– একটা বিচার ছিল।

– বিচার? এই শীতের সাতসকালে? কার বিচার? তোমার নাকি উজিরমশাইয়ের?

– আরে ছি ছি, না রাজামশাই। চোর ধরেছে পেয়াদারা। দিক না হয় মুণ্ডুটা কচাৎ করে।

– তাই তো দেবে। কিন্তু চুরিটা করেছে কী?

– জি, ওই একটু শাকসবজি।

– শাকসবজি?

– মানে রাজবাগান থেকে ওই একটু ফুলকপি, একটু বাঁধাকপি, কয়েকটা শিম আর একগোছা ধনেপাতা।

– ফেলে দাও। মুণ্ডুটা কচাৎ করে ফেলে দাও। রাজ্যে এমন এলেবেলে চোর থাকার দরকার নেই। এত কিছু থাকতে কিনা চুরি করতে গিয়েছে কয়েকটা আগাছা?

– গোস্তাখি মাফ করবেন হুজুর। মুণ্ডুটা ফেলে দেওয়ার ব্যাপারটা পরিষ্কার। কিন্তু আগাছা কোনটাকে বলছেন?

– ওই তো এই শীতের সবজিগুলোকে। হিম হিম শীতকাল মানেই গরম সব খাবার খাওয়ার ঋতু। পোলাও থাকবে, কালিয়া থাকবে, খাসির মগজ থাকবে, গরুর ভুঁড়ি থাকবে, হাঁসের দমপোখত থাকবে। ওখানে সবজির মতো ঘাসপাতা খাবার কী আছে?

– যথাযথ বলেছেন জাহাঁপনা। এসব পেট গরম খাবারই খেতে হয়। তবে কিনা শীতের সবজিও একেবারে খারাপ নয়!

– কী সব মূর্খের মতো কথা বলছ, উজির? দেব নাকি তোমার মুণ্ডুটাও উড়িয়ে? বীরের দল চিবিয়ে চিবিয়ে খাবে মাংস, চুমুক দেবে হাড্ডির মজ্জায়, ওম তাপাবে উত্তম মত্স্য কাবাবের শয্যায়। তাতে সবজির জায়গা কোথায়? এই তো আমি নাশতায় খেয়ে এলাম চিতই পিঠার সঙ্গে হাঁসের মাংসের ভুনা আর একটু খাসির মাংসের রেজালা। শীতের ঠ্যালায় সব কর্পূরের মতো উবে গেছে। তুমি খেয়েছ কী?

– গোস্তাকি মাফ করবেন জাহাঁপনা। সকালবেলা চাট্টি ভাত খেতেই আমার ভালো লাগে। লাল লাল বিরোই চালের ভাত ফুটিয়েছিলেন গিন্নি, তারই সরওয়ালা মাড় দিয়ে স্টার্টার।

– মানে ভাতের মাড়ের স্যুপ?

– ঠিক ধরেছেন হুজুর। গরম ভাতের মাড়, লালরঙা, তাতে পুরু করে পড়েছে সর। ওই মাড় হালকা একটু লবণের ছিটে দিয়ে চুমুক দিলেই শীত গায়েব!

– তারপর?

– তারপর আর কী? ওই বিরুই চালের ভাতই এল। ওপরে এক খাবলা আলুভর্তা। সকালের আলুভর্তায় আমরা শুকনো মরিচ দিই না হুজুর, কাঁচামরিচ-পেঁয়াজে আলুভর্তা। আর তাতে থাকবে কড়া সরষের তেলের ধ্বক।

– ভালোই লাগে মনে হচ্ছে।

– ভালো লাগার কেবল তো শুরু হুজুর! ভাতে দুই চামচ গাওয়া ঘি ঢেলে নিন। তারপর অর্ধসেদ্ধ একখানা ডিম। ডিমের পেটে আঙুল দিয়ে একখানা গুঁতো দিলেই হড়হড় করে বেরিয়ে আসবে লালরঙা কুসুম। সেই ঘিয়ে-ভর্তায়-কুসুমে মাখানো গরম ভাত খেলে মনে হয়…কী বলব হুজুর… মনে হয় এর জন্য চাইলে উজিরগিরিও ছাড়তে রাজি আছি!বিজ্ঞাপন

– খামোশ! মুখ সামলে কথা বলো উজির। সামান্য শাকসবজি নিয়ে এত আহা-উহু করার কী আছে?

– মাফ করবেন হুজুর। আমার ভুল হয়েছে। তবে সাহস দিলে একটা আরজি করতে চাই।

– কী আরজি?

– আজ দুপুরে গরিবের ঘরে দুটো ডালভাত খাবেন। শাকসবজি দিয়ে আপনাকে একবার আপ্যায়ন করতে চাই।

– ঠিক আছে, আরজি মঞ্জুর। খেলাম না হয় তোমার ঘরে দুটো শাকপাতা।

– যথা আজ্ঞা জাহাঁপনা। কিন্তু ওই চোরটার বিচারের কী হবে? কত্ত বড় সাহস, রাজবাগান থেকে সবজি চুরি করে! কল্লা ফেলে দিতে বলে দিই?

– দাঁড়াও। ওকে একটু শাস্তি দিয়ে তারপর কল্লা ফেলো। ওকে বেঁধে রাখো তোমার বাড়ি নিয়ে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খালি পেটে আমাদের খাওয়া দেখবে, তারপর না হয় মরল।

– ঠিক বলেছেন হুজুর। মরলে তো মরেই গেল। খিদে পেটে আগে আমাদের খাওয়া দেখে তারপর মরুক, ওটাই হবে ব্যাটার উপযুক্ত শাস্তি।

– ছি ছি ছি উজিরমশাই, এত দিনেও তোমাদের আক্কেল হলো না, তাহলে হবেটা কবে?

– দয়া করে গর্দান নেবেন না হুজুর। কী ভুল করেছি আমি?

– রাজপুরুষদের খাবার থাল হয় স্বর্ণের, পানপাত্র রুপার। আর তুমি কিনা দিয়েছ কাঁসার থালবাটি?

– গোস্তাকি মাফ করবেন। তবে কিনা ওই স্বর্ণের থালে রাজভোগই বেশি মানায়। সাধারণ ভাত-ডাল-সবজি এই কাঁসার থালেই ভালো লাগবে।

– ঠিক আছে, আনো কী খাওয়াবে। ভালো কথা, চোরটা কোথায়?

– হুজুর, ওই যে কোণের দিকে বেঁধে রেখেছে পেয়াদারা। সকাল থেকে না খাইয়ে রেখেছি। ভুখা পেটে আমাদের খাওয়া দেখুক।

– উত্তম উত্তম।

রাজামশাই পাত পেড়ে বসলেন। উত্তুরে হিম হিম হাওয়া বইছে। গায়ের চাদরটা আরও ভালো করে জড়িয়ে নিলেন।

কাঁসার থালে প্রথমেই বাড়া হলো ধোঁয়া ওঠা ভাত। সঙ্গে গরম–গরম ফুলকপি ভাজা।

রাজপুরুষদের খাবার থাল হয় স্বর্ণের, পানপাত্র রুপার। আর তুমি কিনা দিয়েছ কাঁসার থালবাটি?

রাজা ফুঁ দিয়ে ফুঁ দিয়ে ফুলকপি ভাজায় একটা কামড় দিলেন। তারপর আরেকটা। মুখের গরম কাটাতে হু-হা করলেন। তারপর বললেন, আরে! অদ্ভুত ব্যাপার! বাইরে কামড় দিতেই একেবারে মচমচ করে উঠল, আর ভেতরে কী সুন্দর নরম!

উজির বিগলিত হেসে বললেন, ফুলকপির বড়া হুজুর। ফুলুরিও বলে অনেকে।

– খালি খালিই তো খেতে ভালো লাগছে।

– খালি পেটে খেতে মজা, খাবার শুরু করার জন্য উত্তম অনুষঙ্গ। আবার গরম ভাত, ঘন ডালের সঙ্গে কামড়ে কামড়ে খেতেও মজা।

– অতি উত্তম। আনো তোমার পরের পদ।

পরের পদ অতি সাধারণ। শিমের ভর্তা। রাজা একটুখানি তুলে ভাতের সঙ্গে মাখালেন। মুখে দিতেই গরম ভাতের সঙ্গে ঠান্ডা ভর্তার আমেজ পেলেন। দাঁতের নিচে টের পেলেন নরম শিমের বিচি, কচকচ করা পেঁয়াজ কুচি, হালকা মরিচের ঘ্রাণ। প্রসন্নচিত্তে রাজা বললেন, ভালোই তো!

বলতে বলতেই রাজার চোখ বড় বড় হয়ে উঠল, নাসারন্ধ্র ফুলে ফুলে উঠল। উজির হাসিমুখে বললেন, সর্ষের তেলের ঝাঁজ হুজুর।

রাজা ততক্ষণে ধাতস্থ হয়েছেন। চাদরটা সরিয়ে বললেন, সর্ষের ঝাঁজে তো শীত চলে গেল উজিরমশাই!

উজির হেসে বললেন, ভালো লেগেছে কি না, বলুন হুজুর।

– আলবত। পেঁয়াজ, ধনেপাতা, কাঁচা মরিচের ঘ্রাণটাই পাগল করে দিল! কেমন একটা ঝাঁজালো সোয়াদ!

– আরে বাহ বাহ, হুজুর কি ঝাঁজ পছন্দ করেন? তাহলে সর্ষে বাটার সঙ্গে শিমের ওই ছেঁচকিটা খেয়ে দেখুন। ওই যে উজির সাহেবের ডান পাশের বাটিটা।

– কে? কে কথা বলে?

– হুজুর আমি কেউ না, ওই যে সবজিচোর।

– তোমার এত বড় আস্পর্ধা? দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমাদের খাওয়া না দেখে খাদ্য বিশেষজ্ঞের মতো উপদেশ দিচ্ছ!

– না না মহারাজ! আপনাকে উপদেশ দেব, এত সাহস কোথায়?

– তো চুরি করার সাহসটা কীভাবে হয়েছিল তাহলে?

– ওই সাহস অভাবে পড়লে হয়, হুজুর। ছেলেটা জ্বরের মুখে শিম দিয়ে দুটো ছেঁচকি খেতে চেয়েছিল। শিম কিনতে তো টাকা লাগে, আমার টাকা কোথায়? ভাত আর নুন কিনতেই সব শেষ! সবার বাগানের সবজিই বিক্রি হয়ে যায়, কেবল আপনার বাগানেই দেখি সবজি হয়, আবার ঝরে যায়। ওই দেখে দুটো তুলে নিতে গিয়েছিলাম। বাগানের মধ্যেও যে পেয়াদা লুকিয়ে আছে, কীভাবে জানব মহারাজ? তাই ধরা খেয়েছি।

– আহা…থাক, তোমার আর মুণ্ডু কেটে লাভ নেই। সবজি আসলে খুব একটা খারাপ জিনিস নয়। ইয়ে, উজিরমশাই, ও ব্যাটাকেও দুটো খাইয়ে দেওয়া যায়—কী বলো?

– যা আপনি বলেন মহারাজ! তবে গত কুড়ি বছরে অন্তত হাজার কুড়িবার আপনি কল্লা ফেলে দেওয়ার রায় দিয়েছেন, আবার হাজার কুড়িবার সেই রায় উঠিয়েও নিয়েছেন। প্রজারা তো এরপর শীতের তোড়েই কাঁপবে কেবল, রাজার ভয়ে আর কাঁপবে না হুজুর!

– আহা, থাক সে হিসাব। কল্লা কি কম আছে নাকি রাজ্যে? তুমিও তো দশাসই একখান নিয়ে ঘোরো। সুযোগমতো যেকোনো একটা ফেলে দেওয়া যাবে। এখন দেখি, ওই ব্যাটার হাতের বাঁধন খুলে দিতে বলো। আমাদের সঙ্গেই চাট্টে খাক।

তারপর? তারপর আর কী? রাজামশাইরা টেংরা মাছ দিয়ে পেঁয়াজকলি খেলেন, পালং শাকের ঘণ্ট চাখলেন, শালগমের বাটি চচ্চড়ি শুঁকলেন, কচি মুলোর ঘণ্ট মাখালেন, নতুন আলুর দম গিললেন, শোল মাছের সঙ্গে লাউয়ের ঝোল সাঁটালেন।

আস্ত কাতল মাছের মুড়োটা রাজার পাতে তুলে দেওয়া হলো। রাজা কিছুটা ভেঙে তুলে দিলেন উজিরের পাতে, কিছুটা চোরের পাতে। সঙ্গে সঙ্গেই শূন্যস্থান পূরণ করে দেওয়া হলো আলু, ফুলকপি, টমেটো আর মটরশুঁটির মাখা মাখা ঝোলে।

তৃপ্তি করে গরাস মেখে খেয়েদেয়ে রাজামশাই ঢেঁকুর তুললেন। উজির কাঁচুমাচু হয়ে বললেন, হুজুর একটা পদ তো এখনো বাকি আছে।

– বলো কী হে, আবার কী বাকি?

– সামান্য একটু খাসির ব্যঞ্জন। বাঁধাকপি দিয়ে।

– কী মুশকিল! তোমাকে নিয়ে আর পারা গেল না। ভালো কথা, এই যে চোর ভাইয়া, যাওয়ার আগে তোমার থেকে জব্দ করা ওই শিমটিম যা আছে, নিয়ে যেয়ো তো। আর সবজি যখন যা দরকার পড়ে, আমার বাগান থেকে নিয়ে নিয়ো। আমার আবার এসব অভাব-টভাব দেখলে মন খারাপ হয়ে যায়। কই হে উজির, নিয়ে এসো তোমার খাসি-বাঁধাকপির ব্যঞ্জন।

রাজামশাই রাজ কোমরবন্ধনী আলগা করে আবার লেগে পড়লেন, উজিরমশাই লেগে পড়লেন, চোর বেচারাও লেগে পড়ল।

রাজামশাইয়ের গল্প ফুরাল

নটেগাছটি মুড়াল।

দৈনন্দিন

হেমন্তের সর্দি-কাশি সারাবে ‘বেসন শিরা’

শীত প্রায় চলেই এলো! দিনে গরম পড়লেও রাত থেকেই তামপাত্রা কমতে শুরু করেছে। ভোরে ঠান্ডা অনুভূতি পেতে শুরু করেছেন নিশ্চয়ই! ঋতু পরিবর্তনের এই সময় সর্দি-কাশি, বুকে কফ জমার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই।

হেমন্তের এই মৌসুমে তাপমাত্রার তারতম্যে সর্দি-কাশির সমস্যা ছোট-বড় সবারই হয় কমবেশি। যদিও অনেকেই সর্দি-কাশির সমস্যকে তেমন গুরুত্ব দিতে চান না। তবে এ সমস্যার সঠিক চিকিৎসা করা না হলে বুকে শ্লেষ্মা বা কফ জমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে শ্বাসযন্ত্রে।

সর্দি-কাশির সমস্যা সারাতে এ সময় ভরসা রাখতে পারেন আয়ুর্বেদিক ওষুধে। আর সেই ওষুধ হলো বেসনের শিরা। যা সর্দি-কাশি, ঠান্ডা লাগার সমস্যা নিরাময়ে খুবই কার্যকরী।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, আদা, কালো গোল মরিচ, হলুদ ও বেসনে উপস্থিত বিভিন্ন গুনাগুন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে থাকা উপাদানসমূহ শরীরে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বা অ্যান্টিভাইরাল হিসেবে কাজ করে। বেসন শিরা খেলে মুহূর্তেই সর্দি-কাশি, নাক বন্ধ ভাব ও গলা ব্যথা সেরে যাবে।

পাঞ্জাবের এই প্রাচীন টোটকা তৈরিতে প্রয়োজন হয় বেসন, ঘি, দুধ, হলুদ ও কালো গোল মরিচ। হলুদ ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে, ঘি ও গুড় শরীরকে গরম রাখে।

এই পানীয় গলা ব্যথা ও ফ্লু’র অন্যান্য উপসর্গ থেকে মুক্তি দেয়। চাইলে চিনি ও গুড় যোগ করেও এই পানীয় আরও সুস্বাদু করতে পারেন। ‘বেসন শিরা’ অনেকটা হালুয়ার মতো খেতে।

অসুস্থ ও দুর্বল শরীরকে মুহূর্তেই চাঙা করে তুলতে সাহায্য করে বেসন। এ ছাড়াও বেসনে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে, যা ঠান্ডা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর।

বেসন শিরা তৈরির উপায়

একটি পাত্রে ৩-৪ চামচ ঘি গরম করে সামান্য বেসন ভেজে নিন। বেসনের রং গাঢ় হয়ে এলে এতে দুধ দিয়ে আবারও নাড়তে থাকুন। ৫ মিনিট পর হলুদ ও গোলমরিচের গুঁড়া দিয়ে ভালো করে নেড়ে নিন।

সবশেষে এর মধ্যে সামান্য গুড় দিয়ে হালকা আঁচে আরও ৫-৭ মিনিট নেড়ে নামিয়ে নিন। স্বাদ বাড়াতে বেসন শিরায় সামান্য বাদাম কুচি ছড়িয়ে দিতে পারেন। গরম থাকতে থাকতেই খেয়ে নিন বেসন শিরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

যে ৫ সবজি বেশি খেলেই বিপদ!

শরীর সুস্থ রাখতে শাক-সবজি খাওয়ার বিকল্প নেই। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সবজি রাখা জরুরি। একেক সবজি থেকে ভিন্ন ভিন্ন পুষ্টিগুণ মেলে। আর তাই তো স্বাস্থ্য সচেতনরা অবশ্যই খাদ্যতালিকায় সবজি রাখেন।

বর্তমানে অনেকেই ওজন কমাতে কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে পাতে প্রোটিন ও ভিটামিন বেশি রাখেন। তাই অনেকেই এখন ভাত-রুটি কমিয়ে শাক-সবজি বেশি করে খান।

তবে জানেন কি, অতিরিক্ত সবজি খাওয়াও বিপদের কারণ হতে পারে। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক কোন সবজি বেশি খেলে শরীরে খারাপ প্রভাব পড়ে-

>> স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে মাশরুম খুবই প্রিয় এক সবজি। বিশেষ করে বাহারি সব পদে ব্যবহার করা হয় এটি। মাশরুমে ভিটামিন ডি’সহ অনেক পুষ্টিগুণ আছে।

তবে অ্যালার্জির সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের মাশরুম খেলে সমস্যা হতে পারে। তা ছাড়াও এমন কিছু মাশরুম যা এতোটাই বিষাক্ত যে, হাত দিলেও বিপদ!

>> প্রতিদিন পাতে এক টুকরো লেবু না থাকলে খাবারের স্বাদই বাড়ে না। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, তা সবারই জানা। তবে লেবুর অ্যাসিডিক উপাদান বেশি শরীরে গেলেও ক্ষতি হতে পারে।

বিশেষ করে দাঁতের ক্ষয় হয়। আবার অনেকে শরীরের বিপাক হার বাড়াতে খালি পেটে গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খান। তবে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় যারা ভোগেন তাদের ক্ষেত্রে এটি বদহজম ও পেট ব্যথার কারণ হতে পারে।

>> বাজারে এখন ফুলকপি উঠেছে। এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অনেক কম। যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্য ফুলকপি অনেক উপকারী।

তবে এই সবজিতে এমন এক পদার্থ থাকে, যা বদহজমের কারণ হতে পারে। তাই ফুলকপি বেশি খেলে পেট ভার হয়ে থাকাসহ অ্যাসিডিটির মতো নানা সমস্যা হয়। আবার বর্ষায় বা গরমে ফুলকপি খেলেও অনেকের সমস্যা হয়।

>> লাল টকটকে বিটরুটে অনেক পুষ্টিগুণ থাকে। বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে চান, তাদের ডায়েটে বিট থাকবেই। তবে এই সবজিও বেশি খেলে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

>> গাজরে আছে বিটা ক্যারোটিন। যা বেশি পরিমাণে শরীরে গেলে, ত্বকের রং বদলে কমলা হয়ে যেতে পারে।

আবার ভিটামিন সি’তে ভরপুর গাজর খেলে দাঁত, চোখ ভালো থাকে। তবে গাজরও মেপে খাওয়াই ভালো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

গিঁটে ব্যথা যে মারাত্মক রোগের লক্ষণ

গিঁটে ব্যথায় অনেকেই ভোগেন। বিশেষ করে মধ্য বয়স্করা এই সমস্যায় বেশি কষ্ট পান। এটি মূলত রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ।

এই রোগে আক্রান্ত রোগীরা হাঁটু, গোড়ালি, পিঠ, কব্জি বা ঘাড়ের জয়েন্টগুলোতে ব্যথার অনুভূত হয়।

রিউমাটয়েড আর্থরাইটিসকে অনেকে শুধু হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা বলেই মনে করেন। তবে এই অসুখ শুধু তা নয়।

এ রোগের কারণে হাড়ে ব্যথার পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে।

jagonews24

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের সমস্যা রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এই রোগের কারণে হাড়ে প্রদাহ ও ব্যথা বাড়ে।

সমস্যাটি অতিরিক্ত পর্যায়ে পৌঁছালে চোখ, ত্বক, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও রক্তনালীতেও মারাত্মক প্রভাব পড়ে।

যদিও রাতারাতি এই অসুখ সারানো যায় না। তবে প্রাথমিক অবস্থায় রোগটি ধরা পড়লে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে। গিঁটে ব্যথা ছাড়াও এ রোগে আরও যেসব লক্ষণ প্রকাশ পায়-

>> অতিরিক্ত ক্লান্তি সব রোগেরই প্রাথমিক লক্ষণ। ঠিক তেমনই রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসও এই অসুখের ইঙ্গিত দেয়।

>> প্রায়ই জ্বর আসছে? তাহলে নিশ্চয়ই শরীরে কোনো রোগ বাসা বাঁধছে। যা জ্বরের মাধ্যমে জানান দেয়। যদি প্রায়ই হঠাৎ করে জ্বর আসে বা শরীরে জ্বরজ্বর ভাব থাক, তাহলে রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ হতে পারে।

jagonews24

>> হঠাৎ করেই হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া এই রোগের আরেকটি লক্ষণ। হাত ও পায়ের জোরও কমে যেতে পারে এ কারণে।

>> যদি হাত-পায়ে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যথা থাকে, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি। রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস হলে যে প্রচণ্ড ব্যথা হয় তা কিন্তু নয়। শুরুর দিকে এক্ষেত্রে কম ব্যথা থাকে।

>> রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের আরও একটি মারাত্মক লক্ষণ হলো, চোখ লাল হয়ে যাওয়া।

>> এ ছাড়াও ওজন কমতে শুরু করলেও সতর্ক হতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

খাবারের ফরমালিন দূর করবেন যেভাবে

এখন বাংলাদেশে ফরমালিন ছাড়া খাবারজাতীয় কোনো কিছু পাওয়া এককথায় অসম্ভব। ফলে ফরমালিনযুক্ত খাবার খেয়ে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। তবে একেবারে সহজ কিছু উপায় অবলম্বন করে খাদ্য থেকে ফরমালিন দূর করা যায়।


অনেকেরই ধারণা, ১৫ থেকে ২০ মিনিট বিশুদ্ধ পানিতে ডুবিয়ে রাখলে খাদ্যদ্রব্য থেকে ফরমালিন দূর হয় বা কমে যায়। অাসলে কমলেও তা অতটা কার্যকর নয়। তার চেয়ে বরং কাঁচা অবস্থায় খাবার থেকে ফরমালিন অপসারণ করতে চাইলে পানির কল ছেড়ে তার নিচে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখতে হবে। কারণ কাঁচাসবজি ও ফলের ত্বকে অসংখ্য ছোট ছোট ছিদ্র রয়েছে। অার পানিতে ডুবিয়ে রাখলে ফরমালিন আরো ভালোভাবে খাবারে মিশে যেতে পারে। তাই পানির কল ছেড়ে তার নিচে নির্দিষ্ট খাবার দ্রব্য বা ফলটি রেখে দিন।ভিনেগার বা লেবুর রসে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রেখেও ফরমালিন দূর করা যায়। আগুনের তাপে ফরমালিন অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই রান্নার আগে ফরমালিন কমানোর পদ্ধতি ব্যবহার করে রান্না করলে খাবার পুরোপুরি ফরমালিন মুক্ত করা সম্ভব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

অ্যালোভেরার যত গুণ

প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন ভেষজ উদ্ভিদ অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর গুনের কোনো সীমা পরিসীমা নেই। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, জিংক, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফলিক অ্যাসিড, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিন-এ, বি৬ ও বি২ ইত্যাদি, যা স্বাস্থ্যরক্ষার বিভিন্ন কাজে লাগে।

অ্যালোভেরার গুণাগুণ;অ্যালোভেরার ঔষধি গুণ রক্তচাপ কমায় এবং রক্তে কোলেস্টেরল ও চিনির মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে সাহায্য করে।
অ্যালোভেরায় মিনারেল, অ্যামিনো অ্যাসিডসহ নানা পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। যা হাড় ও মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে।
দেহে ক্ষতিকর পদার্থ প্রবেশ করলে তা অপসারণ করতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা।

অ্যালোভেরা প্রাকৃতিক ওষুধের কাজ করে। বিভিন্ন চর্মরোগ ও ক্ষত সারায় এটি। অনেক সময় প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় অ্যালোভেরা। অ্যালোভেরার জুস ক্লান্তি দূর করে দেহকে সতেজ করে।

নিয়মিত অ্যালোভেরার রস পান করলে হজম শক্তি বাড়ে। পরিপাক তন্ত্রের নানা জটিলতা সারাতেও সাহায্য করে অ্যালোভেরা।    

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যালোভেরা। এটি দেহে সাদা ব্লাড সেল গঠন করে যা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে।

সুষম খাদ্যের পাশাপাশি নিয়মিত অ্যালোভেরার রস পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

ওজন কমাতে অ্যালোভেরার জুস অনেক বেশি কার্যকরী। অ্যালোভেরা জুসের অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান শরীরের জমে থাকা মেদ দূর করে এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ওজন কমাতে সাহায্য করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com