আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

সবজির চাহিদা পূরণ করছে ছাদ বাগান

মাগুরার নতুন বাজারের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় ডেকোরেটর ব্যবসায়ী তরুণ ভৌমিকের প্রায় ১০ শতক জমির ওপর দুইতলা বাড়ির ছাদে শখ করে গড়ে তুলেছেন ‘শখের ছাদ বাগান’। সকাল অথবা বিকেলে অবসর সময়ে প্রিয় ছাদ বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন এই ব্যবসায়ী।

তার বাগানে রয়েছে মরিচ, বেগুন, কলমি শাক, লাউসহ, লাল শাক রয়েছে শখের ছাদ বাগানে। এছাড়া শিউলি, বকুল, গোপাল, জবার সৌন্দর্য চোখে পড়ার মতো।

মাগুরায় নগরায়নের ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে জমির পরিমাণ। জমি বলতে থাকছে এক টুকরো ছাদ। করোনা মহামারিতে বাসা বাড়িতে অবসর সময়ে বসে না থেকে অনেকেই শুরু করেছেন ছাদ বাগান।

মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তুর্য্য বলে, করোনা ও লকডাউনের মধ্যে বাড়ির বাইরে যেতে পারিনি। তখন বাবার সঙ্গে ছাদ বাগানে কাজ করেছি। বাবা আমাকে গাছের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। গাছের বিষয়ে অনেক কিছু শিখেছি বাবার কাছ থেকে।

ডেকোরেটর ব্যবসায়ী তরুণ ভৌমিক বলন, নগরায়নের যুগে আমরা ভূমি হারিয়ে ফেলছি। ভূমি বলতে থাকছে আমাদের একখণ্ড ছাদ। ছাদ বাগান করতে খরচ হলেও শাক, ফুল, ফল, নিত্যদিনের পূজার ফুলের চাহিদা মেটানো যায়।

আমার ছাদ বাগানে প্রায় ১২ রকমের জবা ফুল রয়েছে। ফলের মধ্যে রয়েছে থাই পেয়ারা, সফেদা, জামরুল, আনার, চায়না কমলা, পিচফল, ড্রাগন ফল।

তিনি আরো বলেন, কারিগরি জ্ঞান না থাকার কারণে অনেক সময় সঠিক পরিচর্যার অভাবে গাছ মারা যায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যদি প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের ব্যবস্থা করতেন অনেকেই ছাদ কৃষির ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতেন।

মাগুরা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামাণিক বলেন, শহর ছাড়াও গ্রাম অঞ্চলে অনেকের দালান বাড়ি হচ্ছে।

ছাদের উপরে চাষ করা সবজি একটি পরিবারের প্রতিদিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা যেকোন ধরনের কারিগরি জ্ঞান যদি প্রয়োজন হয় সেটা দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।

বিশেষ করে কোন মৌসুমে কোন গাছ রোপণ করতে হবে, কোন টবে কোন গাছ রোপণ করতে হবে সেই বিষয়ে আমরা পরামর্শ দিয়ে আসছি। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সরকারি অফিসের ছাদেও ছাদ বাগান তৈরি করা হচ্ছে। এতে যেমন পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে তেমনি বিশুদ্ধ অক্সিজেন পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

করোনায় কপাল খুলেছে নওগাঁর লেবু চাষিদের

নওগাঁ: এখনও পর্যন্ত করোনার কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। ভিটামিন সি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আর সে কারণে লেবু খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বলছেন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি খেতে হবে। আর তাই করোনা সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে লেবুর চাহিদা।

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে ভিটামিন সি যুক্ত লেবুর চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে অনেকগুন।  

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ৭ বিঘা জমিতে ১২ মাস জাতের লেবু চাষ করেছি।

করোনাকালের পরিস্থিততে গেলো দুই মাসেই বাগান থেকে লেবু বিক্রি করেছি প্রায় ১৪ লাখ টাকার।  

তিনি বলেন, লেবু চাষে তুলনামূলক পানি সেচ তেমন একটা লাগে না। সারসহ পরিচর্যা আর শ্রমিক খরচ খুবই কম। তাই বরেন্দ্র ভূমিতে ক্রমেই বাড়ছে লেবুর বাগান। এ বছর লেবু বিক্রিতে চাষিদের কোনো সমস্যা হয়নি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জমিতে এসেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন লেবু। এখন প্রতিটি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে সর্বচ্চ ৭ টাকা পিস পর্যন্ত।  

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এ মৌসুমে সবচেয়ে ভালো ফলন ও দাম পাচ্ছেন নওগাঁর লেবু চাষিরা। জেলাজুড়ে এ বছর ৩ জাতের লেবু চাষ হয়েছে। প্রায় দেড়শ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে লেবু। লেবুর আবাদ বাড়াতে এ বছর থেকে আলাদা প্রকল্প হাতে নিয়েছে জেলা কৃষিবিভাগ। দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ ও অর্থিক সহযোগিতা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

চীনে রপ্তানি বন্ধ, লোকসানের মুখে কাঁকড়া চাষিরা

পাথরঘাটা (বরগুনা): চীনে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতির কারণে আমদানি বন্ধ থাকায় রপ্তানির অভাবে শুধু বরগুনার পাথরঘাটাতেই ২০ কোটি টাকা ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে কাঁকড়া চাষিদের। এলাকার বেশিরভাগ চাষি ঋণ নিয়ে এ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাই লাভের অঙ্কের চেয়ে এখন ব্যাংক আর এনজিওর সুদ নিয়েই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কয়েকশত চাষি।

গত বছর এমন সময়ে যে কাঁকড়া চীন, থাইল্যান্ড, তিউনিশিয়ায় রপ্তানি হয়েছে এবার সে কাঁকড়া পানি থেকে এখনো আলোর মুখ দেখেনি। চাষিরা বলছেন, রপ্তানির আশায় কাঁকড়া চাষ করে চাহিদা না থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।

জানা যায়, গত বছর স্ত্রী কাঁকড়া দুই হাজার ৯৫০ টাকা ও পুরুষ কাঁকড়া এক হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। সেই কাঁকড়া বর্তমানে স্থানীয় বাজারে ৩০০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকেও ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা কেজিও বিক্রি করা হয়েছে।

পাথরঘাটার সবচেয়ে বড় কাঁকড়ার আড়তদার সমির চন্দ্র ব্যাপারি বাংলানিউজকে বলেন, গত বছর চাষিদের কাছে ২৫০০ টাকা কেজিতে কিনেছি। সেই কাঁকড়া এখন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় পাইকাররা বলছে। বর্তমানে চীনে রপ্তানি না থাকায় চাষিদের লোকসান গুণতে হচ্ছে।

স্থানীয় এক কাঁকড়া আড়তদার বলেন, ঢাকার পাইকাররা আমাদের জানিয়েছে, চীনে কাঁকড়া যায় না, তাই তারাও কিনছে না। এজন্য আমরাও চাষিদের থেকে কাঁকড়া কিনছি না। পেইচ প্রকল্পের সহকারী ভ্যালুচেইন ফ্যাসিলিটেটর গোলাম মোর্শেদ রাহাত বলেন, ‘পিকেএসএফ’র সহযোগিতায় স্থানীয় এনজিও সংগ্রামের মাধ্যমে পাথরঘাটা উপজেলার ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক উদ্যোক্তাদের কাঁকড়া চাষে উদ্বুদ্ধ করি। এতে তারা গত কয়েক বছরে অনেক লাভবান হয়েছে। তবে এ বছর কাঁকড়া বিক্রি করতে না পারায় তাদের প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুণতে হবে।

পাথরঘাটা উপজেলা কাকড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি ও কাঁকড়া চাষি উত্তম মজুমদার এক একর জমিতে নির্মিত ঘেরে আড়াই হাজার টাকা কেজিতে কাঁকড়া চাষ করছেন। তিনি সেখানে প্রতি মাসে চার লাখ টাকার খাবার দিয়ে তিন মাস ধরে পরিচর্যা করে আসছেন।

উত্তম মজুমদার বলেন, সুন্দরবন এলাকা থেকে ২০ লাখ টাকার কাঁকড়া সংগ্রহ করে তিন মাস পরিচর্যা করে খরচ হয়েছে ৩২ লাখ টাকা। অথচ এখন ৩০০ টাকা দরে মূল্য দাঁড়ায় শুন্যের কোটায়। তিনি বলেন, বর্তমানে কাঁকড়ার পেটে ডিম চলে এসেছে তাই বিক্রি না করলে সেগুলো মরে যাচ্ছে।

পাথরঘাটা কাঁকড়া চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনোজ বেপারী বলেন, যেখানে কেজি বিক্রি করেছি ২৫০০ টাকা সেখানে এ বছর মাত্র ৩০০-৪০০ টাকা কেজি বলছে পাইকাররা। এতে আমরা প্রচুর  লোকসানে পড়তে যাচ্ছি। সঠিক সময় সঠিক মূল্যে বিক্রি করতে না পারলে এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবোনা।

একই এলাকার নারী উদ্যোক্তা পুতুল রানী ৩৩ শতাংশ জমিতে সাড়ে ৭০০ কেজি কাঁকড়ার চাষ করে লোকসানের মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে উপজেলার মনোজ ব্যাপারি, তপু, কিশোর, মহিন্দ্র, জোৎস্না রানী ও শিল্পী রানীসহ শতাধিক উদ্যোক্তা গোনট পূর্ণাঙ্গ কাঁকড়া বিক্রি করতে না পারায় হতাশ হয়ে পড়েছেন।

তবে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু চাষিদের একটু ধৈর্য ধরে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে এবং বাড়তি পরিচর্যা করতে পরামর্শ দিয়েছেন।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, করোনা ভাইরাসের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে বাজার খারাপ হওয়ার কারণে এর প্রভাব আমাদের দেশে পড়ছে। অতি শিগগিরই একটি সমাধান আসবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পাহাড়ের লেবু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে অন্য জেলায়

জামালপুর: জামালপুরের গাঢ় পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে গাছে ঝুলে রয়েছে লেবু। করোনা ও রমজানে লেবুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন লেবু চাষিরা। 

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের সাতানিপাড়া এলাকায় দেখা যায়, দিগন্ত জুড়ে লেবুর বাগান। স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালিরা একটু সমতল জায়গা পেলেই রোপণ করছেন লেবুর চারা।

এর কারণ অবশ্যই একটু ভিন্ন। হাতির আক্রমণে যখন পাহাড়ি জনপথ দিশেহারা তখন স্থানীয় জেলা প্রশাসকের পরামর্শে হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে লেবু চাষে আগ্রহী হয় স্থানীয় জনপদের মানুষ।

বিভিন্ন জায়গা থেকে লেবুর চারা ও কলম সংগ্রহ করে বন্য হাতির বিচরণ ক্ষেত্র ও হাতির চলাচল রাস্তায় এসব লেবু চারা রোপণ করেন তারা। এসব লেবুর চারা রোপণের ফলে একদিক থেকে হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য ফসল তারা নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতে পারছেন। লেবুর চারা বড় হওয়ায় এখন এলাকায় হাতির উপদ্রব অনেকটাই কমে গেছে।

লেবু চাষে আবহাওয়া ও মাটি অনুকূল হওয়ায় এখানে শুধু এলাচি, কাগজি ও বাতাবি লেবুর চাষ করা হয়েছে। অন্যান্য লেবুর চেয়ে গুনগত মান উন্নত হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এ লেবুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় উপযুক্ত দামও পাচ্ছেন এসব লেবু চাষিরা।
স্থানীয় বাজারে লেবুর চাহিদা পূরণ করে অন্যান্য জেলাতেও যাচ্ছে এই লেবু।

লেবু গাছ বড় হওয়ায় ভারতীয় বন্যহাতি এখন আর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকতে পারে না, ফলে জানমাল অনেকটাই নিরাপদ।

এদিকে লেবু চাষের পর এবার পরীক্ষামূলকভাবে মালটার চারাও রোপণ করতে দেখা গেছে এই এলাকার চাষিদের। বেশ কিছু গাছে মালটা ধরেছেও। এগুলো পাকতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।
তবে স্থানীয় কৃষি বিভাগের প্রতি অভিযোগ অনেক। সাত্তার, নজরুল ও সর্দার মিয়া জানান, তারা লেবু চাষ করছেন আনুমানের ওপর ভিত্তি করে। এ পর্যন্ত লেবু চারা রোপণ করলেও কোনো ধরনের সার ও কীটনাশক দেওয়া হয়নি। প্রশিক্ষণ নিয়ে সঠিক নিয়ম মোতাবেক লেবু চাষ করলে হয়তো আরও লাভবান হওয়া যেতো।

এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর আজাদ বাংলানিউজকে জানান, ওখানে লেবু চাষ হয়েছে আমি জানতে পেরেছি। লেবু চাষ নিয়ে বা অন্য কোনো সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে আসেনি কেউ। যদি আসে তবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

লোকসানের মুখে নালিম চাষিরা

মাগুরা: লাভের আশায় এ বছর মাগুরায় ১৮২ হেক্টর জমিতে নালিম চাষ করা হয়। কিন্তু লাভের আশায় গুড়ে বালি। করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ না করতে না পারায় চরম লোকসানের মুখে নালিম চাষিরা।

নালিম চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রমজান মাসে ইফতারির সঙ্গে নালিমের চাহিদা থাকে। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতির ক্রেতা না থাকার কারণে জমিতেই নষ্ট হচ্ছে নালিম।

জানা যায়, এ বছর শিবরামপুর, আঠারোখাদা, পূর্ববাড়িয়ালা, ইছাখাদা এলাকায় নালিমের বাম্পার ফলন হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে বাজার অনেকটাই মন্দা যাচ্ছে। ক্রেতা সংকটের কারণে সঠিক দাম পাচ্ছে না চাষিরা। বেড়েছে পরিবহন ব্যয়ও।

হাজরাপুর গ্রামের নালিম চাষি রবিউল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, এ বছর আমি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে নালিম চাষ করি। ফলনও ভাল হয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে বাজারজাত করতে পারছি না। সঠিক সময় নালিম জমি থেকে তুলতে না পারার কারণে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। রমজান মাসে নালিমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে বিক্রি করতে পারছি না।

একই গ্রামের চাষি জহির শেখ বাংলানিউজকে বলেন, আমি চার বিঘা জমিতে নালিম চাষ করেছি। আরও অন্যের জমি থেকে নালিম কিনেছি। ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার কারণে ভাল দাম পাচিছ না। বর্তমানে নালিমের দাম রয়েছে ৫-৬ টাকা করে। খরা হলে আর একটু ভাল দাম বেশি পাব বলে মনে হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাহিদুল আমিন বাংলানিউজকে বলেন, যেসব কৃষক ঢাকায় নালিম বিক্রি করতে যাবেন তাদের আমরা একটা প্রত্যায়নপত্র দিচ্ছি যাতে করে পথে কোনো সমস্যা না হয়। তবে জেলায় চলিত বছরে নালিম চাষ হয়েছে ১৮২ হেক্টর জমিতে। ফলন ভাল হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

খুলনায় বাড়ির ছাদে ফুল-ফল-সবজির বাগান

খুলনা: সকাল থেকে রোদ মেঘের খেলা। মাঝে মধ্যে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। বৈশাখের বৃষ্টির ফোটাগুলো বেশ করে গায়ে মাখলো কাগজি ও বাতাবি লেবু। বিন্দু বিন্দু জলের কণায় দুলে দুলে উঠলো তাদের শরীর। এ সৌন্দর্যে বুঁদ হয়ে থাকবে যে কেউ।

খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে অবস্থিত খুলনা কর অঞ্চলের কর কমিশনার প্রশান্ত কুমার রায়ের বহুতল ভবনের ছাদ বাগানে এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশের দেখা মেলে। এ বাগানে শুধু কাগজি ও বাতাবি লেবু নয় রয়েছে ঢেড়শ, ডাটা, উচ্ছেসহ নানা রকম সবজি ও বাহারি ফুল।

কর কমিশনার প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, বাড়ির ছাদে বাগান করার শখ আমার অনেক দিনের। পরিবারের সদস্যদের বিষমুক্ত খাদ্যর যোগান দিতে এ বাগান তৈরি করা। ছাদ বাগানে কাগজি লেবু,বাতাবি লেবু আর ঢেড়শসহ বিভিন্ন ফল ও ফুলের গাছ রয়েছে। আমি কৃষক পরিবারের ছেলে। তারপর লেখাপড়া করেছি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কৃষি আমার রক্তে, শিরা উপশিরায়। শখ থেকে বর্তমানে পরিবারের পুষ্টির যোগানও হচ্ছে এই বাগান থেকে।
ভবনের ছাদে ব্যতিক্রমী এ বাগানে প্রচন্ড এ গীষ্মের তাপদহে কোনো গাছে ধরে আছে ফুল, আর কোনো গাছে ধরে আছে বিভিন্ন প্রজাতির ফল। তার বাগান জুড়ে থাকা ফলের হাসি শুধু তাকেই অনুপ্রাণিত করেনি, অনুপ্রাণিত করেছে এলাকার সব শ্রেণিপেশার মানুষকে।

খুলনা মহানগরীর রায়ের মহল এলাকার রায়ের মহল কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শেখ শামসুদ্দীন দোহা। তার বাড়ির ছাদ বাগানে রয়েছে আম, তরমুজ, বেদানা, ডালিম, কাগজি ও বাতাবি লেবুর গাছ। এছাড়া রয়েছে মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন শাক সবজি ও বাহারি সব ফুল গাছ।
তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ছুটির দিন ছাড়াও সময় পেলেই বাগানের পরিচর্যা করি। ১৭শ’ বর্গ ফুটের ছাদ বাগানে প্রায় সব ধরনের শাক সবজি আছে। যা দিয়ে পরিবারের চাহিদা মিটে যায়।

মহানগরীর গোবরচাকা মেইন রোডে ভাড়া বাসায় থেকে ছাদ বাগান গড়ে তুলেছেন সাংবাদিক হেদায়েত হোসেন মোল্লা। তার ছাদ বাগানে রয়েছে, কমলা, মাল্টা, থাই পেয়ারা, কাগজি লেবু, গ্রীষ্মকালীন টমেটো, আছে সরিষা ফুল, বেলী, নীল কণ্ঠমনি,পুদিনাসহ ড্রাগন ও মসলা গাছ।
হেদায়েত হোসেন মোল্লা বলেন, শখ থেকে ছাদে বাগান গড়ে তুলেছি। কাজের ফাঁকে সময় করে বাগান পরিচর্যা করি। আমার এ বাগানে ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছসহ প্রায় ৪৫ প্রজাতির গাছ রয়েছে।

এছাড়া ২০১৫ সাল থেকে খুলনা মহানগরীর নিরালার ৬ নম্বরে রোডের ৬৬ নম্বর বাসভবনের ছাদে শখের বাগান গড়ে পরিচিতি পেয়েছেন মুর্শিদা আক্তার রনি। তিনি খুলনার মাছ ব্যবসায়ী জব্বার মোল্লার স্ত্রী।
মুর্শিদার বাগানে রয়েছে, কলা, লেবু, আতা, পেঁপে, সফেদা, পেয়ারা, ড্রাগনসহ বেশকিছু ফলের গাছ। প্রতিদিনের সবজির জন্য বাগনে রয়েছে লাউ, বেগুন, পটল, উচ্ছে আর ঝিঙ্গা। আরও আছে, আদা, অ্যালোভেরা, পুদিনাসহ বেশকিছু দেশি-বিদেশি প্রজাতির গাছ।

খুলনা মহানগরীতে এদের মতো অনেকেই শখের বসে ছাদ বাগান গড়ে তুলছেন। এসব বাগানে রয়েছে ফুলের মধ্যে- গোলাপ, গাঁদা, ডালিয়া, বেলী, রজনীগন্ধা, নয়নতারা, অফিস ফুল, চন্দ মল্লিকা, জারবেরা, অর্কিড, ক্যাকটাস, রঙ্গল, বিভিন্ন ধরনের বাহারি গাছ। ফলের মধ্যে- আম, পেয়ারা, আমড়া, লেবু, কুল, জামরুল, কমলা, স্ট্রবেরি, ডালিম, মাল্টা, করমচা, বাতাবি লেবু, সফেদা, আঙ্গুর, জামরুল, কামরাঙ্গা ইত্যাদি। শাকসবজির মধ্যে-টমেটো, শিম, কপি, বেগুন, ঝিঙ্গা, মরিচ, কলমী শাক, পুঁই শাক, লেটুস, বাটি শাক, করলা, বরবটি, শশা, ধুন্দল, বিলাতি ধনে ইত্যাদি।
অন্যদিকে যারা ভাড়া বাসায় থাকেন অথবা একটি ফ্লাটের মালিক, ছাদে বাগান করার সুযোগ নেই তারা তাদের বেলকনিতেই ক্ষুদ্র পরিসরে সুন্দর বাগান গড়ে তুলেছেন। করোনার কারণে সৃষ্ট এই পরিস্থিতিতে ঘরে বসে থাকা সময়টুকু অনেকেই ছাদ বাগানের পরিচর্যার কাজে ব্যয় করছেন। আবার অনেকে ছাদ বাগান থেকে পরিবারের ফল ও শাক সবজির যথা সমান্য যোগানের চেষ্টা করছেন।



খুলনা মেট্রোপলিটন কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন ফেরদৌস বাংলানিউজকে বলেন, খুলনায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ছাদ বাগান। খুলনা মহানগরীতে ৩৮০টি ছাদ বাগান রয়েছে। নগরীর বাসা-বাড়ির অসংখ্য ছাদ ভরে উঠছে ফুল, ফল ও সবজির বাগানে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com