আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

সবজির চারা উৎপাদনে যশোরে শতাধিক কৃষক লাখপতি

যশোর: শীতকালীন সবজি উৎপাদন নয়, শুধুমাত্র বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে লাখপতি হয়েছেন যশোরের শতাধিক কৃষক।

মৌসুমের আষাঢ় মাস থেকে শুরু হওয়া চারা উৎপাদন চলতি কার্তিক মাসের শেষ অবধি চলবে। এতে একই জমিতে তিন বার পর্যন্ত বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করছে কৃষকরা।

ইতোমধ্যে কোনো কোনো কৃষক সবজির চারা বিক্রি করে ৩/৫ লাখ টাকা লাভের মুখ দেখেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সবজি চাষে নামকরা যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ও চুড়ামনকাঠি ইউনিয়ন। ওই দুটি ইউনিয়নে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়। অধিকাংশ জমিতে উন্নত পদ্ধতিতে মাচায় সবজি চাষ করা হয়। তবে সবজি চাষের পাশাপাশি দুই ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক ঝুঁকেছেন চারা উৎপাদনে।

সবজির চারা উৎপাদনে যশোরে শতাধিক কৃষক লাখপতি

চুড়ামনকাঠি ও হৈবতপুর এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের আষাঢ় মাস থেকে বীজতলা প্রস্তুত করে বাঁধাকপি ও ফুলকপির বীজ বপন করা হয়। ওই বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা গজালে তা পরিচর্যা করে এক মাস বয়সে তুলে অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে বাজারে প্রতিটি ভালো মানের প্রতিটি ফুলকপির চারা ১ টাকা ৮০ পয়সা এবং বাঁধা কপির চারা মানভেদে ৫৫ পয়সা থেকে ৭৫ পয়সা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। যশোরের ঝিকরগাছা, গদখালী, নাভারণ, চৌগাছা, মণিরামপুর ছাড়াও পাশ্ববর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার জীবনডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, নড়াইল, লোহাগড়া, সাতক্ষীরা, শ্যামনগর, কালীগঞ্জ এলাকার কৃষক ও সবজি চারার পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের পোলতাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, জন্মের পর জ্ঞান হওয়া থেকেই বাবা-দাদার হাত ধরে কৃষি কাজে নেমেছি। চলতি মৌসুমে তিনি নয় বিঘা জমিতে সবজির চাষ করছেন। তবে, গত দুই বছরের মতো তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে বীজ বোপনের পর চারা উৎপাদন করে অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করেছেন। এতে তিনি লাভের মুখ দেখেছেন তিন ল‍াখ টাকা।

সবজির চারা উৎপাদনে যশোরে শতাধিক কৃষক লাখপতি

চারা উৎপাদনকারী কৃষকরা বাংলানিউজকে জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ফুলকপির বীজ বপন করে চারা উৎপাদন পর্যন্ত (এক মাস) অন্তত দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়। তবে এতে তিন লাখ চারা উৎপাদন করে আনুসাঙ্গিক খরচ বাদেও অন্তত তিন লাখ টাকা বিক্রি হয়। পরবর্তীতে ওই চারা অন্য কৃষকরা কিনে অন্তত তিনমাস পরিচর্যা করে বিক্রির উপযোগী করে তোলে।

এছাড়া, প্রতি বিঘা জমিতে বাঁধাকপির বীজ বপন করে চারা উৎপাদন পর্যন্ত (এক মাস) অন্তত ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা খরচ হয়। তবে এতে উৎপাদিত চারা দুই লাখ থেকে দু্ই লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। তবে বীজ থেকে চারা উৎপাদনের পাশাপাশি এ সকল কৃষকরা সবজি উৎপাদন (খাওয়ার উপযোগী) করে বাড়তি আয়ও করছেন।

কৃষকদের মতে, ধানের তুলনায় সবজি চাষে বেশি লাভবান হওয়ায় তারা দিনদিন চাষের পরিধি বাড়াচ্ছেন।

ফসল

পেঁয়াজ চাষে ২৫ কোটি টাকা প্রণোদনা

লেখক

উৎপাদন বাড়াতে পেঁয়াজ চাষিদের বীজ কিনে দেবে সরকার। আগামী মৌসুমে চাষের জন্য ২৫ কোটি টাকার বীজ সরবরাহ করা হবে। গতকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ চাষিদের প্রণোদনা হিসেবে বীজ কিনে দেওয়ার জন্য এই অর্থ অনুমোদন করেছে। শিগগিরই কৃষি মন্ত্রণালয় চাষিদের কাছে বীজ পৌঁছে দেবে। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে কৃষি সচিব মেজবাহুল ইসলাম সমকালকে বলেন, চাষিদের প্রণোদনা হিসেবে পেঁয়াজের বীজ কিনে দেওয়া হবে। এজন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আগামী মৌসুম শুরুর আগেই বীজ সংগ্রহ করে চাষিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী চার বছরে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এজন্য এ বছরই ১২ হাজার ১২ হেক্টর জমিতে চাষ বাড়ানো হচ্ছে। আগামী মৌসুমে দুই লাখ ৫০ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ করা হবে। পর্যায়ক্রমে চাষ আরও বাড়ানো হবে। চেষ্টা রয়েছে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর। বর্তমানে প্রতি হেক্টরে ১০ দশমিক ৭৯ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। আগামী মৌসুমে এই পরিমাণ বাড়িয়ে ১১ টন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী মৌসুম থেকে ২৯ লাখ পাঁচ হাজার ৫৪০ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া চাষিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ও উন্নত দেশের পেঁয়াজ কাটা ও সংগ্রহ পদ্ধতির ভিডিও দেখিয়ে দক্ষতা বাড়ানো হবে। যাতে সংগ্রহকালীন সময়ে পচে ও শুকিয়ে নষ্ট হওয়ার পরিমাণ কমবে। এ ছাড়া গ্রীষ্ফ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের উদ্যোগ রয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের। মন্ত্রণালয় আগামী গ্রীষ্ফ্মে পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে এ ধরনের পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্য নিয়েছে। তবে গ্রীষ্ফ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মেহেরপুর জেলা থেকে মাত্র এক টন বীজ পাওয়ার আশা করছে। এই বীজ পাওয়া গেলে ২৫০ থেকে ৩০০ হেক্টর জমিতে রোপণ করা যাবে। তবে মন্ত্রণালয়ের চেষ্টা রয়েছে, ভারতের রাজস্থান থেকে এ জাতীয় বীজ আমদানি করার। উল্লেখ্য, প্রতি হেক্টর জমিতে চাষের জন্য সাড়ে সাত কেজি থেকে সর্বোচ্চ ১০ কেজি পর্যন্ত বীজ লাগে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল সমকালকে বলেন, এর আগে কৃষকদের বীজ দেওয়া হয়নি। এখন যেহেতু সরকার পেঁয়াজ চাষে উৎসাহিত করছে, সেজন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সার দেওয়ারও উদ্যোগ রয়েছে।

সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, বাড়তি চাষ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নষ্ট থেকে বাঁচানোর মাধ্যমে দুই লাখ ১০ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়বে। আর গ্রীষ্ফ্মকালীন চাষ ঠিকভাবে করা গেলে আরও ৪২ হাজার টন উৎপাদন হবে। গত দুই বছর আমদানি নির্ভরতার কারণে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা দেখা যায়। দেশের চাহিদা মেটাতে বছরে প্রায় ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। যার সিংহভাগ আসে পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে। দু’বছর ধরে দেশটি অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের রপ্তানি বছরের একটি সময় বন্ধ রাখছে। এতে বাংলাদেশের বাজারে সরবরাহ কমে দাম বেড়ে যাচ্ছে। মিয়ানমার, চীন, পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেও বাজার সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। গত বছর পেঁয়াজের দাম ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এ বছর ভারত রপ্তানি বন্ধের পরপরই ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। পরে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে দাম কিছুটা কমলেও এখনও ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে সরকার এ পণ্যটিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করার উদ্যোগ নিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

বোরো বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত চলনবিলের কৃষকরা

লেখক

করোনাকালীন সময়ে অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদনে বোরো আবাদকে সামনে রেখে চলনবিলের কৃষকরা বোরো বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বীজতলা তৈরি ও বীজ ছিটানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন তারা।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর চলনবিলের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, পাবনার ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, চাটমোহর, নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর ও নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা রুহাই গ্রামের কৃষক আয়নাল হোসেন জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠে বোরো আবাদের জন্য তারা বোরো বীজতলা তৈরি করছেন। ইতিমধ্যেই যে সকল জমিতে রবিশষ্য আবাদ হচ্ছে না সে সকল জমিতে প্রথমদিকে পৌষ মাসের শুরুতেই যাতে ধান রোপন করা যায় সে জন্য তারা দ্রুতগতিতে বীজতলায় বীজ ছিটাচ্ছেন।

তাড়াশের লালুয়ামাঝিড়া গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন জানান, চলনবিলের প্রত্যন্ত এলাকার আবাদী জমির জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০-৫০ ভাগ বোরো বীজতলায় বীজ ছিটানো হয়েছে। যা আগামী এক মাসের মধ্যে বীজতলা থেকে বীজ তুলে জমিতে লাগানো সম্ভব হবে। 

এদিকে স্থানীয় বীজ ব্যাবসায়ীরা জানান, বর্তমানে চলনবিলের হাঁট-বাজারে বোরো বীজের বিক্রি বেড়ে গেছে। আর স্থানীয় কৃষকরা বলেন, বোরো বীজের মূল্য তাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। ফলে এলাকায় বোরো বীজের কোনো সংকট নেই।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফুলন্নাহার লুনা জানান, চলনবিলের ফসলি মাঠে বোরো বীজতলা তৈরিতে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বোরো বীজের কোনো সংকট না থাকায় এ বছর চলনবিল অঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো আবাদ করা সম্ভব হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

চার বছরের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতায় রোড ম্যাপ

আগামী চার বছরের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমেই পেঁয়াজের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম। এ কারণে আমদানির মাধ্যমে চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করা হয়। আর পেঁয়াজ আমদানি মূলত ভারত নির্ভর। ভারত রফতানি বন্ধ করে দিলে অস্থির হয়ে ওঠে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার। এই প্রেক্ষিতে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রীয় গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এরপর পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য একটি রোডম্যাপের খসড়া প্রণয়ন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। প্রথম খসড়াটি তিন বছর মেয়াদি। এটি উপস্থাপন করা হলে কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে ডিএইকে পরিমার্জনের নির্দেশনা দেয়। সে অনুযায়ী ডিএই চার বছরের রোডম্যাপ প্রণয়ন করে। গত ২৩ নভেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ে এক সভায় রোডম্যাপটি উপস্থাপন করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটি এখনও আমরা চূড়ান্ত করতে পারিনি। এ নিয়ে কাজ করছি। আমরা চার বছরের মধ্যে পেঁয়াজের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাচ্ছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আসাদুল্লাহ বলেন, ‘আগামী চার বছরের মধ্যে আমরা পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবো ইনশাআল্লাহ। আমরা পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াব, একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পেঁয়াজের যে ক্ষতি, সেটা কমিয়ে আনব। রোডম্যাপের অংশ হিসেবে পেঁয়াজে স্বংয়ংসম্পূর্ণতা আনতে বিভিন্ন কৌশল নেয়া হবে। আমরা চাষিদের পেঁয়াজ সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেব। হাইটেক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু হবে।’

রোডম্যাপ অনুযায়ী এবার পেঁয়াজের ফলন ২ লাখ টন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হবে জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘পরের বছর (২০২১-২২) ৩ লাখ ২২ হাজার টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক লাখ টন পেঁয়াজ অতিরিক্ত উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। সব ঠিকঠাক হলে ৪ বছর পর এখনকার তুলনায় পেঁয়াজের উৎপাদন ১০ লাখ টন বেশি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে হেক্টরপ্রতি পেঁয়াজের উৎপাদন ১০ লাখ টনের মতো। উচ্চ ফলনশীল বীজ পেলে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ১৩ থেকে ১৪ লাখ টনে নিয়ে আসা যাবে। অন্যান্য দেশে তাই হচ্ছে। এতে আবাদের জমি বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। আমরা সেদিকে যাচ্ছি। বীজের ক্ষেত্রেও আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার চেষ্টা করছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইং ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে পেঁয়াজ চাষের আওতায় জমির পরিমাণ ২ লাখ ৩৭ হাজার হেক্টর। এসব জমিতে মোট পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ২৫ লাখ ৬৬ হাজার টন। উৎপাদিত পেঁয়াজের মধ্যে রবি ৮১ দশমিক ৫৬ শতাংশ, মুড়িকাটা ১৮ দশমিক ১৯ শতাংশ ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ০ দশমিক ১১ শতাংশ। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ১০ দশমিক ৮২ টন।

২৫ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হলেও এর মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। তাই উৎপাদন ১৯ লাখ টনের মধ্যে থাকে। বীজ ও অপচয় বাদে মোট চাহিদা ২৫ লাখ ৯৬ হাজার টন। ২৫ শতাংশ সংগ্রহোত্তর ক্ষতি বিবেচনায় উৎপাদন দরকার ৩৪ লাখ ৬১ হাজার টন। সে অনুযায়ী পেঁয়াজের ঘাটতি ৮ লাখ ৯৫ হাজার টন। প্রতি বছর মোটামুটি ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়।

পেঁয়াজ আমদানির চিত্র

ডিএইর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯০ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানি হয় ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৯২০ টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৪০ টন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমদানি করা হয় ১০ লাখ ৯১ হাজার টন। গত অর্থবছরে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ১০ লাখ ৭ হাজার ২২০ টন। আমদানি করা পেঁয়াজের প্রায় পুরোটাই ভারত থেকে এসেছে। আর সামান্য পরিমাণ এসেছে চীন, মিশর, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনআরবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৯৫ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শতভাগ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শতভাগ পেঁয়াজ এসেছে ভারত থেকে।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে (২০২০-২১) ২৫ লাখ ৯৬ হাজার টন নিট চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৫ শতাংশ ক্ষতিসহ পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ লাখ ৬১ হাজার টন। উৎপাদনশীলতা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়বে ৬ লাখ ২৫ হাজার টন। ২ লাখ ৭০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা হবে।

গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ

পরের বছর (২০২০-২১) চাহিদা ধরা হয়েছে ২৬ লাখ ২৫ হাজার টন। ক্ষতিসহ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ লাখ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬৮ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এভাবে চতুর্থ বছরে কোনো পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন হবে না। বরং পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত থাকবে।

যেসব কৌশল নেয়া হবে

পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন কৌশল নেয়া হবে জানিয়ে ডিএই’র মহাপরিচালক বলেন, ‘উচ্চ ফলনশীল জাত এবং উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হবে। এজন্য প্রচলিত জাতের তুলনায় হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বাড়ানো হবে। পেঁয়াজ চাষের এলাকা বাড়িয়ে বা ফসল প্রতিস্থাপন করে আবাদ সম্প্রসারণ করা হবে। ২০২০-২১ অর্থবছরে অনাবাদি এলাকা ও চরের জমি অন্তর্ভুক্ত করে সম্ভাব্য ১২ হাজার ১২ হেক্টর বর্ধিত জমি থেকে উৎপাদন বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সমন্বিত চাষাবাদ ও আন্তঃফসল চাষের উদ্যোগ নেব। এক্ষেত্রে আখ ও ভুট্টার সঙ্গে শীতকালীন পেঁয়াজ এবং আদা, হলুদ, কচুমুখীর সঙ্গে চাষ করা হবে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ। মুড়িকাটা পেঁয়াজ ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো হবে। দেশব্যাপী এক লাখ কৃষককে প্রতি এক শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ৩ টন বীজ বিতরণ করা হবে।’

যথাযথ উপায়ে সংরক্ষণ না করায় নষ্ট হয় ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ পেঁয়াজ

উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে পেঁয়াজের উন্নত জাতের বিকল্প নেই জানিয়ে ডিজি আসাদুল্লাহ বলেন, ‘বারি পেঁয়াজ-৪, বারি পেঁয়াজ-৫, বারি পেঁয়াজ-৬, লাল তীর কিং— এসব উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ সহজলভ্য নয়। এগুলো কৃষক পর্যায়ে নিয়ে যেতে কয়েকটা বছর সময় লাগবে।

উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থায় কমবে ক্ষতি

বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজে পেঁয়াজ সংরক্ষণের মাধ্যমে সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমিয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, বর্তমানে পেঁয়াজের যে সংরক্ষণ ব্যবস্থা তা সনাতন এবং মোটেও বিজ্ঞানসম্মত নয়। ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পেঁয়াজকে হয় ঘরের চিলেকোঠায়, না হয় মাটির মেঝেতে বিছিয়ে, অথবা পাটের বস্তায় মার্চ থেকে নভেম্বর, অর্থাৎ চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সংরক্ষণের প্রাণান্তর চেষ্টা করা হয়। এ অবস্থায় পেঁয়াজের জাত বা জিনোটাইপ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা উপযুক্ত না হওয়ায় ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। এতে সংরক্ষণকালীন শরীরতাত্ত্বিক কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে ওজন কমে যায় (যেমন- আর্দ্রতা কমে পেঁয়াজ সংকুচিত হয় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ, পচনে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ এবং অসময়ে অঙ্কুরিত হয়ে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়)। বিশেষ করে জুন ও জুলাই মাসে যখন অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বিরাজ করে, তখন পেঁয়াজ নষ্ট হয়।

তাই রোডম্যাপ অনুযায়ী বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজে পেঁয়াজ সংরক্ষণের পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়া ক্ষতি কমাতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

মোখলেছুরের শখের কফি চাষে সাফল্য

কফি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন মোখলেছুর রহমান। বাড়ির পাশে গড়ে তুলেছেন অ্যারাবিকা জাতের কফির বাগান। গাছ রোপণের তিন বছর পর ফল আসতে শুরু করেছে। সেগুলো বিক্রি করে টাকাও আসছে বেশ।

মোখলেছুর রহমানের (৩৩) বাড়ি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ি গ্রামে। তারাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে গ্রামটির অবস্থান। সম্প্রতি গোয়ালবাড়ি গ্রামে গিয়ে জানা যায়, মোখলেছুর রহমানের কফি চাষের আদ্যোপান্ত।

উপজেলা সদর থেকে কাঁচা-পাকা পথ ধরে মোখলেছুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তিনি বাড়িতে নেই। খোঁজ করতেই একজন আঙুল উঁচিয়ে দেখিয়ে দেন, ‘ওই যে মোখলেছুর কফিবাগানে কাজ করছেন।’ কিছু দূর এগোতেই দেখা যায়, নিজের বাগানে কফিগাছ থেকে ফল তুলছেন মোখলেছুর। সাংবাদিক পরিচয় শুনে বাগান থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।

স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে মোখলেছুর রহমানের সংসার। বর্তমান তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানির শোরুমের জেলা পরিদর্শক। চাকরির পাশাপাশি তিনি কফি চাষ করছেন।বিজ্ঞাপন

কফি চাষে শুরুর কথা জানতে চাইলে মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘২০১৬ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারি, পার্বত্য অঞ্চলে কফির চাষ হচ্ছে। তখন আমার মনে হয়, পার্বত্য অঞ্চলের মতো তারাগঞ্জে উঁচু জমি আছে। এই উঁচু জমিতে কফি চাষ করা সম্ভব। এই ভাবনা থেকেই শখ করে কফি চাষের পরিকল্পনা করি। ২০১৭ সালের মে মাসে চট্টগ্রামের জাহানারা গ্রিন অ্যাগ্রো ফার্মের মাধ্যমে ভারত থেকে অ্যারাবিকা জাতের কফির চারা এনে রোপণ করি।’

মোখলেছুর রহমান জানান, তাঁর ২৮ শতক জমিতে ৪৫০টি কফিগাছ আছে। এ কফি চাষ করতে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিন বছর পর প্রতিটি গাছেই ফল এসেছে। ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতিটি গাছে দুই কেজি করে কফি ফল পাওয়া যাচ্ছে। ২০০ টাকা কেজি হিসেবে এ ফল চট্টগ্রামের কফি ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে এক লাখ টাকার কফি ফল বিক্রি হয়েছে। গাছে যে পরিমাণ কফি ফল আছে, তা বিক্রি হবে আরও ৮০ হাজার টাকা। বছরে একবার ফল পাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঊর্মি তাবাসসুম বলেন, কফি সাধারণত পাহাড়ি ফসল। উঁচু এবং যেখানে পানি জমে থাকে না, এমন সমতল জমিতে কফি চাষ করা যাবে। তারাগঞ্জের মাটি বেলে-দোআঁশ হওয়ায় এই মাটি কফি চাষের উপযোগী।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

‘বীজে ভেজাল’, গজায় না চারা

কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে কেনা পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ নতুন মোড়কে বাজারজাত করা হচ্ছে। সে বীজ থেকে চারা গজাচ্ছে না।

খুলনার বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়নের বলাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জলি মণ্ডল নিজের এক বিঘা মাছের ঘেরের চারপাশে সবজির বীজতলা তৈরি করেছেন। তাতে আছে ওলকপি, ফুলকপি ও টমেটোর বীজ। কিন্তু বীজতলার চারা রোপণ করতে পারেননি তিনি। কারণ, বাজার থেকে কেনা যে বীজ দিয়ে বীজতলা করেছিলেন, সেখানে খুব অল্প পরিমাণে চারা গজিয়েছে। সেগুলোও বেশ দুর্বল।

অঞ্জলি মণ্ডল বলেন, আগাম চারা দিয়ে মৌসুমের শুরুতে ফলন তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়। এ কারণে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সবজির বীজতলা করেন। বাজার থেকে ভালো কোম্পানির বীজই কিনেছিলেন। কিন্তু ওই বীজ থেকে চারা গজায়নি।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক এ ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আর এই উপজেলার কৃষকদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লোকজ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০ জন কৃষক এরই মধ্যে তাঁদের কাছে বীজ নিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেছেন। লোকজের সমন্বয়কারী পলাশ দাস মনে করছেন, পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ নতুন মোড়কে বাজারজাত করায় সে বীজ কিনে কৃষকদের এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।বিজ্ঞাপন

উপজেলার কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল বীজে স্থানীয় বাজার ছেয়ে গেছে। স্থানীয় পর্যায় থেকে বীজ সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন নামীদামি কোম্পানির নামে মোড়কজাত করে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে উচ্চফলনশীল (হাইব্রিড) বলা হলেও ফলন কম হয়। অন্যান্য বছরও কৃষকেরা এমন ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে এবার ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।

বটিয়াঘাটা উপজেলার একটি বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার কৃষিকাজের বেশির ভাগই নিয়ন্ত্রণ করেন নারীরা। সদর ইউনিয়নের ধলাবুনিয়া গ্রামের নীলিমা মণ্ডলও বীজ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনিও আগে সবজি পাওয়ার আশায় বীজতলা করেছিলেন। এক হাজারেরও বেশি বীজের মধ্যে তাঁর বীজতলায় চারা গজিয়েছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০টি।

নীলিমা মণ্ডল বলেন, বাজার থেকে চারা কিনলে তা মনের মতো হয় না। এতে বীজতলায় চারা উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বীজতলার চারা দেখে হতাশ হয়ে আগের মতো বাজার থেকে চারা কিনে রোপণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ব্রি-২৩ নিয়েও অভিযোগ

বাটিয়াঘাটা উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের হাজরাতলা বিলে ১ একরের মতো জমিতে ব্রি-২৩ জাতের ধান লাগিয়েছেন কৃষক অমর রায়। তাঁর ওই জমিতে গিয়ে দেখা যায়, কিছু কিছু গাছ থেকে কেবল শিষ বের হচ্ছে, আবার কিছু কিছু গাছের ধান পেকে যাওয়ার উপক্রম। গাছগুলোও বিলের অন্যান্য ধানের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল।

অমর রায় বলেন, বটিয়াঘাটার মাটির প্রকৃতি ও আবহাওয়ার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়ায় ওই এলাকায় ব্রি-২৩ জাতের ধানের উৎপাদন বেশ ভালো হয়। এতে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই জাতের ধান লাগাচ্ছেন তিনি। সরকারি প্রতিষ্ঠানের বীজ না পাওয়ায় বাজার থেকে অন্য কোম্পানির বীজ সংগ্রহ করেছিলেন। বীজে ভেজাল থাকার কারণেই এমনটা হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, সবজির বীজের ব্যাপারে তাঁদের কাছে এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। তবে ব্রি-২৩ জাতের ধান নিয়ে অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মৌসুমে কারেন্ট পোকার আক্রমণের কারণে বীজের এমন অবস্থা হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com