আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে বাড়ছে সংক্রমণ, কতটা সংকটে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা?

বাংলাদেশে ভাইরাসের ব্যাপক সামাজিক সংক্রমণের কারণে এখন ঢাকার বাইরে‌ও প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচুর রোগী শনাক্ত হচ্ছে
বাংলাদেশে ভাইরাসের ব্যাপক সামাজিক সংক্রমণের কারণে এখন ঢাকার বাইরে‌ও প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচুর রোগী শনাক্ত হচ্ছে

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সোয়া লাখ এবং সংক্রমণ মৃত্যু দেড় হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ভাইরাসের ব্যাপক সামাজিক সংক্রমণের কারণে এখন ঢাকার বাইরে‌ও প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচুর রোগী শনাক্ত হচ্ছে। প্রতিদিনই হাজারো মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় মারাত্মক চাপে পড়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

দেখা যাচ্ছে প্রায়ই ঢাকার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় কোভিড-১৯ উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ মানুষ মারা যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনেও বলা হচ্ছে প্রতিদিনই হাসপাতালের বাইরে বাড়িতে মারা যাচ্ছেন বেশকিছু রোগী।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ছে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠছে।

গত সপ্তাহে খুলনায় ৫০ বছর বয়সী মোজাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬টি হাসপাতাল ঘুরে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

মৃতের বোন মর্জিনা খাতুন বলেন, “সরকারি বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই তাকে ভর্তি না করায় একপর্যায়ে আমার ভাই তার ছেলের কোলে মৃত্যুবরণ করেন।”

ঢাকার বাইরে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ বাড়ছে

আইইডিসিআর এর তথ্যে দেখা যায়, খুলনায় গত তিনসপ্তাহে কোভিড-১৯ রোগী এক হাজারের বেশি বেড়েছে।

পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন শারমিন ইয়াসমিন বলেন, রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ঢাকার বাইরে এখন স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ বাড়ছে।

“ঢাকার বাইরে যে রোগীরা সংক্রমিত হচ্ছে – যেমন চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেটে কিন্তু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সেই অনুপাতে কিন্তু সেখানকার হসপিটাল ফ্যাসিলিটি কম।”

মিস ইয়াসমিন বলেন, এখন ক্রিটিক্যাল রোগীরাই কেবল হাসপাতালে যাচ্ছেন কিন্তু প্রয়োজনীয় সেবা চাহিদা মতো নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

ঢাকার বাইরে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ বাড়ছে
ঢাকার বাইরে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ বাড়ছে

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একটা পরিসংখ্যান দেই, ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে অ্যাকটিভ কেইস ৭০ হাজারের বেশি। তার ৫ শতাংশের যদি আইসিইউ সুবিধা প্রয়োজন হয় তাহলে সেটা সাড়ে তিন হাজার রোগী।”

“আমাদের দেশে কোভিড রোগীদের জন্য আইসিইউ আছে ৩৪০টি যা এই পরিমাণ রোগীর অনুপাতে চাহিদার মাত্র ৯.৫%।”

“এছাড়া ঢাকার বাইরে কিন্তু এই সুবিধা অতটা নেই এবং ডায়ালাইসিস সুবিধাও নেই। ক্রিটিক্যাল রোগীদের কিন্তু ডায়ালাইসিস সুবিধাটা দরকার হবে এবং এটা কিন্তু চিকিৎসার মধ্যেই পড়ে। সেটা না পেলে কিন্তু রোগীরা মারা যাবে।”

করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন সংকটাপন্ন রোগীর জন্য আইসিইউ থেকে এখন বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে উচ্চচাপে অক্সিজেন সরবরাহ করা। ক্রিটিকাল রোগীদের জন্য জীবন রক্ষা করতে পারে এই ব্যবস্থা।

যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে দেশের মাত্র ২৩টি সরকারি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা আছে। বাকী হাসপাতালে চাহিদা পূরণের জন্য রয়েছে প্রায় ১৬ হাজার অক্সিজেন সিলিন্ডার।

আগামী দুই মাসের মধ্যে সব হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

তাদের তথ্যে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের ৮০ ভাগের বেশি এখন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর একেবারে গুরুতর অবস্থা না হলে হাসপাতালে ভর্তি না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে সারাদেশে এ পর্যায়ে কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ আছে ১১ হাজারের মতো হাসপাতাল বেড।

তবে সরকারি বেসরকারি সব হাসপাতালেই এখন কোভিড রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদিও বাস্তবতা হলো এ নির্দেশনা অনুযায়ী সব হাসপাতাল এখনো প্রস্তুতি শেষ করতে পারেনি।

https://www.youtube.com/watch?v=IrqMaRooLbM
সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

ডা. শারমিন ইয়াসমিন নিজেও একটি বেসরককারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

তিনি জানান, তাদের কোভিড রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরো অন্তত দুই সপ্তাহ লাগতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল বিভাগের পরিচালক ডা. মো. আমিনুল হাসান দাবি করেন, এখন দেশের সব হাসপাতালে করোনা বেড ফাঁকা রয়েছে। কিন্তু সিলেট, চট্টগ্রাম কুমিল্লার মতো অধিক সংক্রমিত এলাকা এমনকি ঢাকার সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।

ঢাকার বাইরে সরকারি দু-একটি হাসপাতালের রোগীদের মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এছাড়া অনেকক্ষেত্রে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই ছাড়পত্র দিয়ে নতুন রোগী ভর্তির ঘটনা ঘটছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের ৮০ ভাগের বেশি এখন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের ৮০ ভাগের বেশি এখন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন

‘সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বহু মানুষকে’

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অভিজ্ঞতায়ও পাওয়া যাচ্ছে সংকটের চিত্র।

হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেলিন চৌধুরী বলেন, “আমি আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে বলছি, আমরা একটি বেডও এখন রাখতে পারছি না।”

“ইতোমধ্যেই হাসপাতালের যে শয্যাসংখ্যা ছিল, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশই কোভিড এবং সন্দেহজনক কোভিড রোগীর জন্য বরাদ্দ হয়ে গেছে।”

“বাকী অংশে সাধারণ রোগী এবং সাধারণ রোগীর মধ্যে যারা গুরুত্বপূর্ণ, অর্থাৎ যারা নানা রোগে ভুগছে, বাসায় থাকতে পারছে না, তারা আসছে।”

“তাদের জন্য কিন্তু স্থান সংকুলান করতে পারছি না আমরা। আমাদের হাসপাতালে অন্তত বলতে পারি কোনো বেড ফাঁকা যাচ্ছে না।”

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা কতটা চাপের মুখে সেটি নিয়ে ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, “আমি এভাবে বলতে পারি যে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সামর্থ্যের সর্বশেষ সীমানা অতিক্রম করেছে। এজন্যই মানুষ কিন্তু হাসপাতালে শয্যা পাচ্ছে না, জায়গা পাচ্ছে না, চিকিৎসা পাচ্ছে না।”

“গণমাধ্যমে এবং ব্যক্তিগত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে আমরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে প্রচুর সংখ্যক মানুষ এখন সেবা না পেয়ে অবহেলার শিকার হচ্ছে, বাড়ি ফিরে যাচ্ছে এবং কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করার মতো ঘটনা ঘটছে।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে বাংলাদেশে ৬৫৪টি সরকারি এবং ৫০৫৫টি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় রোগীর চাপ ও আতঙ্কে সাধারণ রোগীরাও অতি জরুরি না হলে হাসপাতালে যাচ্ছেন না।

জরুরি বিভাগে হাসপাতালে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ঢাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে কারো কারো অভিজ্ঞতা থেকে জানা যাচ্ছে।

তবে ঢাকার বাইরে পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে বলেই খবর আসছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে বাংলাদেশে ৬৫৪টি সরকারি এবং ৫০৫৫টি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে বাংলাদেশে ৬৫৪টি সরকারি এবং ৫০৫৫টি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে

ব্যহত হচ্ছে অন্য রোগের চিকিৎসা

এদিকে করোনাভাইরাস মহামারিতে সংকট তৈরি হয়েছে সাধারণ রোগের চিকিৎসায়।

কিছু কিছু হাসপাতালে ঘোষণা দিয়েই কয়েকটি রোগের চিকিৎসা বন্ধ রেখেছে বলে জানা যাচ্ছে।

করোনাভাইরাস আতঙ্কে একেবারে জরুরি না হলে খুব কম রোগীরাই হাসপাতালে যাচ্ছেন।

সব মিলিয়ে সার্বিক চিকিৎসা সেবায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতের মধ্যে কেন্দ্রীয় সমন্বয় কতটা হচ্ছে, সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সমন্বয়টা যথাযথ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করে লেলিন চৌধুরী বলেন, “এর আগেও নানাভাবে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে যে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেইজ জেলা, মহানগরভিত্তিক করা উচিত, যেখানে খোঁজ নিলে জানা যাবে যে কোন হাসপাতালে কয়টি বেড খালি রয়েছে এবং রোগীটি কোনদিকে যেতে পারে।”

“এরকম একটি ব্যবস্থা যদি করা যেতো তাহলে আমার মনে হয় যে, আমাদের হাসপাতালের যে শয্যাসংখ্যা, যে আইসিউ এবং হাইফ্লো অক্সিজেন যে ফ্যাসিলিটিজ রয়েছে, সবগুলিকে আমরা শতভাগ কাজে লাগাতে পারতাম। এবং এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘোরার জায়গাটি কমে আসতো।”

করোনাভাইরাস মহামারিতে আরেকটি বড় সংকট দেখা দিয়েছে ডাক্তার নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের একটা বড় অংশ আক্রান্ত হওয়ার কারণে।

ডক্টরস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তথ্যে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৪শ ৩৬জন স্বাস্থ্যকর্মী কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৬৬ জন।

এর মধ্যে ৬০ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৭৬ জন।

ডক্টরস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তথ্যে এখন পর্যন্ত ৬০ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৭৬ জন
ডক্টরস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তথ্যে এখন পর্যন্ত ৬০ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৭৬ জন

এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে পরিস্থিতির সামাল দিতে সবরকম চেষ্টা এবং ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক আয়েশা আক্তার বলেন মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চেষ্টার ত্রুটি নেই।

যেখানে যা করা প্রয়োজন সেটি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এমনকি কন্ট্রোলরুমে ফোন করলে কোথায় গেলে আইসিইউ ফাঁকা পাওয়া যাবে বা কোন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া যাবে সে ব্যাপারেও পরামর্শ এবং সেবা দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

“আমাদের রোগীর সংখ্যা কিন্তু এখন বাড়ছে। কোভিড-ননকোভিড সবরকম রোগী ভর্তি হচ্ছে। আমরা আলাদা করে কোভিড, ননকোভিড ভাগ করেছি। যারা অসুস্থ তারা ভর্তি হচ্ছেন, চিকিৎসা পাচ্ছেন। সবরকম সেবাই কিন্তু দুইটা পাশাপাশি আমাদের চলছে।”

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছে এবং জানাচ্ছে ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সবার সহযোগিতা দরকার।

এই মুহূর্তে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ থাকা সর্বোচ্চ রোগীর তালিকায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সাত নম্বরে।

গত বেশ কিছুদিন ধরে যে পরিমান টেস্ট করা হচ্ছে তার ২০-২৩ শতাংশ পর্যন্ত আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

  • ডক্টরস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তথ্যে এখন পর্যন্ত ৬০ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৭৬ জন

    ডক্টরস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তথ্যে এখন পর্যন্ত ৬০ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৭৬ জন

  • স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে বাংলাদেশে ৬৫৪টি সরকারি এবং ৫০৫৫টি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে বাংলাদেশে ৬৫৪টি সরকারি এবং ৫০৫৫টি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে

  • স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের ৮০ ভাগের বেশি এখন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের ৮০ ভাগের বেশি এখন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন

  • ঢাকার বাইরে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ বাড়ছে

    ঢাকার বাইরে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ বাড়ছে

  • বাংলাদেশে ভাইরাসের ব্যাপক সামাজিক সংক্রমণের কারণে এখন ঢাকার বাইরে‌ও প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচুর রোগী শনাক্ত হচ্ছে

    বাংলাদেশে ভাইরাসের ব্যাপক সামাজিক সংক্রমণের কারণে এখন ঢাকার বাইরে‌ও প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচুর রোগী শনাক্ত হচ্ছে

  • ডক্টরস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তথ্যে এখন পর্যন্ত ৬০ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৭৬ জন
  • স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে বাংলাদেশে ৬৫৪টি সরকারি এবং ৫০৫৫টি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে
  • স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের ৮০ ভাগের বেশি এখন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন
  • ঢাকার বাইরে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ বাড়ছে
  • বাংলাদেশে ভাইরাসের ব্যাপক সামাজিক সংক্রমণের কারণে এখন ঢাকার বাইরে‌ও প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচুর রোগী শনাক্ত হচ্ছে

দৈনন্দিন

ফুলকপির মজাদার রেসিপি

ফুলকপিতে আছে ওজন কমানো ও হজমশক্তি বাড়ানোর জন্য ফাইবার; আছে কোলাইন, যা স্মৃতিশক্তির জন্য প্রয়োজন। এ ছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানে পূর্ণ এই ফুলকপি। এতে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধী গুণ। ফলে প্রতিদিনের খাবারে শীতকালীন এই সবজির গুরুত্ব আছে অনেক।

বিভিন্নভাবে ফুলকপি খাওয়া যায়। শুধু একটু উদ্ভাবনী চিন্তার প্রয়োগেই ফুলকপি দিয়ে বানানো যায় সুস্বাদু সব খাবার। ফুলকপি দিয়ে বানানো খাবার একই সঙ্গে সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে পরিপূর্ণ।

রেসিপি দিয়েছেন জিনাত নাজিয়া, সেলিনা আক্তার ও শুভাগতা গুহরায়।বিজ্ঞাপন

ফুলকপির ভাজা ভাত

উপকরণ

ফুলকপি ১টি (মাঝারি), ডিম ৩টি (তেলে দিয়ে ঝুরি করে নিন), মুরগির বুকের মাংস ১ কাপ (কিউব করে কাটা), বরবটি ১ কাপ, গাজর ১ কাপ, ময়দা ২ টেবিল চামচ, সাদা গোলমরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, পেঁয়াজপাতা পরিমাণমতো, লবণ পরিমাণমতো, তেল/ঘি/বাটার অয়েল ৩ টেবিল চামচ, ম্যাগি সস ২ চা-চামচ।

ফুলকপির ভাজা ভাত
ফুলকপির ভাজা ভাত

প্রণালি

ফুলকপি পরিষ্কার করে ধুয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। প্যানে তেল দিয়ে মুরগির মাংস দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করুন। গাজর ও বরবটি দিতে হবে। সয়া সস, গোলমরিচের গুঁড়া দিয়ে লবণ দিন। ভালো করে মেশাতে হবে। তারপর ব্লেন্ড করা ফুলকপি দিয়ে আরও কিছুক্ষণ নাড়ুন। ভালো করে মিশিয়ে পেঁয়াজপাতা ছড়িয়ে পরিবেশন করতে হবে।

বেকড ফুলকপির রোস্ট

উপকরণ

আস্ত ফুলকপি ১টি, মিহি থেঁতলানো রসুন ১ টেবিল চামচ, জলপাইয়ের তেল সিকি কাপ, শর্ষে পেস্ট ২ টেবিল চামচ, লেবুর মিহি খোসা ১ চা-চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, পাপরিকা আধা চা-চামচ, মেশানো হার্বস ১ চা-চামচ, লেবুর রস ২ চা-চামচ, মধু দেড় টেবিল চামচ, গ্রেট করা পনির সিকি কাপ, লবণ সিকি চা-চামচ।

বেকড ফুলকপির রোস্ট
বেকড ফুলকপির রোস্ট

প্রণালি

আস্ত ফুলকপির পাশের ডাঁটাগুলো কেটে ধুয়ে রাখুন। একটি বড় হাঁড়িতে অনেকটা পানি দিয়ে চুলায় বসান। ২ টেবিল চামচ লবণ দিন এবং পানি ফুটে উঠলে আস্ত ফুলকপি দিয়ে দিন। ২ মিনিট রেখে তুলে নিন। কিচেন টাওয়েল দিয়ে খুব ভালো করে মুছে নিন। ওভেন ২২০ ডিগ্রিতে ১০ মিনিটের জন্য প্রিহিটে দিন। একটি বাটিতে থেঁতলানো রসুন, জলপাইয়ের তেল, শর্ষে পেস্ট, গোলমরিচগুঁড়া, মেশানো হার্বস, লেবুর রস, মধু, পাপরিকা, লেবুর খোসা, লবণ একসঙ্গে খুবভালো করে মিশিয়ে ড্রেসিং তৈরি করে নিন। ফুলকপির ওপর ড্রেসিং ব্রাশ করে ১ ঘণ্টা রেখে দিন। এবার ফুলকপির ওপর গ্রেট করা চিজ ছড়িয়ে প্রিহিটেড ওভেনে বেক করুন ৪০ মিনিট। ওভেন থেকে বের করে ওপরে ড্রেসিং ছড়িয়ে গরম-গরম পরিবেশন করুন।বিজ্ঞাপন

ফুলকপির ক্রিম স্যুপ

উপকরণ

চিকেন স্টক ৩ কাপ, ফুলকপির টুকরা ২ কাপ, মাশরুমকুচি ২ টেবিল চামচ, রসুনকুচি ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুচি ৩ টেবিল চামচ, দুধ আধা কাপ, ময়দা ২ টেবিল চামচ, মাখন ৫০ গ্রাম, কুকিং ক্রিম এক কাপের ৩ ভাগের ১ ভাগ, সাদা গোলমরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, লেবুর রস সামান্য ও পার্সলেকুচি ১ টেবিল চামচ।

ফুলকপির ক্রিম স্যুপ
ফুলকপির ক্রিম স্যুপ

প্রণালি

প্রথমে চুলায় অর্ধেক মাখন দিয়ে রসুন সামান্য ভেজে নিন। পেঁয়াজকুচি দিয়ে একটু ভেজে ফুলকপির টুকরাগুলো দিয়ে দিতে হবে। ফুলকপি খুব ভালো করে ভেজে নিন। ভালো করে ভাজা হলে ১ কাপ চিকেন স্টক দিয়ে দিন। ফুলকপি নরম হয়ে এলে নামিয়ে একটু ঠান্ডা করে ব্লেন্ড করে পেস্ট করে রাখুন। আবার প্যান দিয়ে বাকি মাখন ও মাশরুম দিয়ে একটু ভেজে নিন। ময়দা দিয়ে ভেজে নিন। ময়দার রং পরিবর্তন হলে দুধ দিয়ে খুব ঘন ঘন নাড়তে থাকুন। এরপর একে একে চিকেন স্টক, ফুলকপির পেস্ট দিয়ে দ্রুত নাড়তে থাকুন। ফুটে উঠলে ক্রিম ও গোলমরিচের গুঁড়া দিন। হয়ে এলে নামানোর আগে পার্সলেকুচি ও লেবুর রস দিয়ে নামিয়ে নিন। পরিবেশন করুন গরম-গরম।

মচমচে ফুলকপি

উপকরণ

ফুলকপির ফুল ১০-১২টি, সবুজ ক্যাপসিকাম ১টি, গাজর ১টি, আলু ১টি, ডিম ২টি, কর্নফ্লাওয়ার ও চালের গুঁড়া আধা কাপ করে, গোলমরিচের গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, চাট মসলার গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, লবণ, পানি, কাঁচা মরিচকুচি পরিমাণমতো, আদা ও রসুনকুচি ১ চা-চামচ করে, টমেটো, চিলি ও সয়া সস ২ টেবিল চামচ করে, মাখন আধা কাপ, ভাজার জন্য তেল পরিমাণমতো।

মচমচে ফুলকপি
মচমচে ফুলকপি

প্রণালি

ফুটানো লবণপানিতে ফুলকপিগুলো এক মিনিট ফুটিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। একইভাবে লম্বা করে কেটে আলু, ক্যাপসিকাম ও গাজর অল্প সেদ্ধ করে নিন। এবার ফুলকপিতে ডিম, কর্নফ্লাওয়ার, চালের গুঁড়া, গোলমরিচ ও চাট মসলা দিয়ে ভালোভাবে মেখে ডুবোতেলে ফুলগুলো ভেজে তুলে রাখুন। এবার ওই প্যানে মাখন গরম করে আদা ও রসুন ফোড়ন দিয়ে সস ও কাঁচা মরিচকুচি দিয়ে অল্প পানি দিয়ে কষান। কষানো হলে সেদ্ধ সবজি দিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রেখে ভাজা ফুলকপি দিয়ে হালকা হাতে নেড়ে নিন। নামিয়ে পরিবেশন করুন।

ফুলকপির পাকোড়া

উপকরণ

ফুলকপি ১টা, চালের গুঁড়া সিকি কাপ, বেসন সিকি কাপ, মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ, গরমমসলার গুঁড়া সিকি চা-চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া সিকি চা-চামচ, ব্রেড ক্রাম্ব ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো ও তেল প্রয়োজনমতো (ডুবোতেলে ভাজার জন্য)।

ফুলকপির পাকোড়া
ফুলকপির পাকোড়া

প্রণালি

ফুলকপির ফুলগুলো একটা একটা করে খুলে নিন এবং লবণপানিতে ভাপিয়ে নিন। একটা চালনিতে ফুলকপির টুকরাগুলো ঢেলে পানি ঝরতে দিন। এবার একটা পাত্রে সব মসলা, চালের গুঁড়া ও বেসন নিয়ে আন্দাজমতো পানি মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। ফুলকপিগুলো চালের মিশ্রণে ভালো করে মেখে নিন। এবার বিস্কুটের গুঁড়া দিয়ে মাখিয়ে নিন। একটা কড়াইয়ে তেল গরম করে ফুলকপির টুকরাগুলো ভাজুন। গাঢ় বাদামি রং হলে তেল থেকে তুলে নিন এবং সসের সঙ্গে গরম-গরম পরিবেশন করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ওজন নিয়ন্ত্রণে ফুলকপির ভাত

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দর দেহ-মন অর্জন করা এবং বজায় রাখার তাগিদ এখন সারা বিশ্বে সবার মধ্যেই। হৃদ্‌রোগ, ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুরু করে শরীরের ব্যথাবেদনা, হাড়ক্ষয়, বাতের সমস্যা—এসব রোগের প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়ও ওজন কমানো ও নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। এমনকি করোনা মহামারিতেও দেখা যাচ্ছে মরবিড অবেসিটি বা বিপজ্জনক রকমের বেশি ওজন এই রোগের ভয়াবহতা ও প্রকারান্তরে মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ।বিজ্ঞাপন

ওজন নিয়ন্ত্রণে লো কার্ব ডায়েট ও কলিফ্লাওয়ার রাইস

কলিফ্লাওয়ার রাইস বা ফুলকপির ভাত
কলিফ্লাওয়ার রাইস বা ফুলকপির ভাত

নিজের শরীর স্লিম আর ফিট রাখতে যুগে যুগে বহু বিশেষায়িত ডায়েট বা নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের দ্বারস্থ হয়েছে মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় কম শর্করা গ্রহণের মূলমন্ত্র নিয়ে বহু ধরনের লো কার্ব ডায়েট অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করে অনেকেই দ্রুত সুফল পেয়েছে। এসব লো কার্ব ডায়েটের মধ্যে আছে একসময়ে সাড়া জাগানো এটকিন্স ডায়েট, প্যালেও ডায়েট আর হাল আমলে সবার মুখে মুখে ফেরা বিখ্যাত কিটোজেনিক ডায়েট বা কিটো ডায়েট। কম শর্করাযুক্ত খাবারের সমন্বয়ে করা লো কার্ব ডায়েট মানে কিন্তু না খেয়ে থাকা নয়। এ ক্ষেত্রে শর্করাজাতীয় খাবারের বিকল্প বিভিন্ন খাবার খেয়ে অত্যন্ত কার্যকরভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তবে আমাদের মতো ভেতো বাঙালিসহ আরও যেসব দেশের মানুষ ভাত না খেয়ে থাকতে পারে না, তাদের জন্য ভাতের এক চমৎকার বিকল্প কলিফ্লাওয়ার রাইস বা ফুলকপি ভাত।

কলিফ্লাওয়ার রাইস কী

গোটা ফুলকপি কুরিয়ে বা গ্রেট করে দানাদার চালের মতো তৈরি করে তা ভাতের বিকল্প কলিফ্লাওয়ার রাইস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সবজি কুরানোর যন্ত্রে হাতে গ্রেট করে অথবা ব্লেন্ডারে হালকাভাবে ফুলকপির ফুলগুলো ব্লেন্ড করে নিলেই হয়ে গেল ফুলকপির চাল। এবার এই চাল দিয়ে অনায়াসে রান্না করা যায় ফ্রাইড রাইস, পোলাও, বিরিয়ানি। নিজস্ব খুব কড়া কোনো স্বাদ, গন্ধ, বর্ণ না থাকায় চাল দিয়ে তৈরি করতে হয়—এমন যেকোনো রেসিপিতেই সুন্দরভাবে খাপ খেয়ে যায় কলিফ্লাওয়ার রাইস।আরও পড়ুনচাল ছাড়াই ফ্রায়েড রাইস

কলিফ্লাওয়ার রাইসের ইতিকথা

সেই ১৮৬৩ সালে লো কার্ব বা কম শর্করার ডায়েটের ওপরে বই লিখে ওজন সচেতন মানুষের মনে সাড়া জাগিয়েছিলেন ব্রিটিশ এক ফিটনেস এক্সপার্ট। এরপর ২০০২ সালের দিকে ব্যায়ামবিজ্ঞানী লরেইন কোর্ডেনের ‘প্যালেও ডায়েট’ বইয়ে প্রথম চালের ভাতের বদলে কলিফ্লাওয়ার রাইস খাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হয়। আর এখন তো কলিফ্লাওয়ার রাইস সারা বিশ্বেই সমাদৃত।বিজ্ঞাপন

কলিফ্লাওয়ার রাইস বনাম চালের ভাত

দানাদার ও সাদা ফুলকপি ভাত দেখতে ও খেতে কিছুটা হলেও ভাতের আমেজ দেয় আমাদের। অথচ এক কাপে ভাতের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ কম ক্যালরি থাকে ফুলকপির ভাতে। নেট শর্করার পরিমাণও ভাতের তুলনায় প্রায় ১৮ ভাগের ১ ভাগ। এ ছাড়া ফুলকপির পুষ্টিগুণের ব্যাপারটা তো আছেই!

এক কাপে ভাতের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ কম ক্যালরি থাকে ফুলকপির ভাতে
এক কাপে ভাতের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ কম ক্যালরি থাকে ফুলকপির ভাতে

কলিফ্লাওয়ার রাইসের উপকারিতা

কলিফ্লাওয়ার রাইসের উপাদান হচ্ছে গোটা তাজা ফুলকপি। শীতকালের এই ভরা মৌসুম মানেই ফুলকপির বড়া, ফুলকপির তরকারি, ফুলকপির শিঙাড়া। কিন্তু এই অভিনব কলিফ্লাওয়ার রাইস খেলে কম শর্করা খাওয়ার উপকারের পাশাপাশি ফুলকপির অনন্য পুষ্টিগুণ পাব বাড়তি পাওনা হিসেবে। ফুলকপির গুণের কথা তো বলে শেষই করা যায় না। তাও দেখে নেওয়া যাক এর প্রধান উপকারিতা আর উপযোগিতাগুলো।

পুষ্টিকর সবজি ফুলকপিতে আছে অপ্রত্যাশিত পরিমাণে ভিটামিন সি। তবে উচ্চতাপে নষ্ট হয়ে যায় বলে একমাত্র কাঁচা কলিফ্লাওয়ার রাইসেই যথার্থ ভিটামিন সি পাওয়া যায়। তবে পানি না দিয়ে অল্প তাপে তাড়াতাড়ি নেড়েচেড়ে কোরানো ফুলকপি স্টারফ্রাই করলেও কিছুটা অক্ষুণ্ন থাকে ভিটামিন সি। এ ছাড়া এতে আছে যথেষ্ট ভিটামিন বি৬, ভিটামিন কে, ম্যাংগানিজ ও পটাশিয়াম। তবে কোলিন নামের আধুনিক কালে আবিষ্কৃত এক বিশেষ পুষ্টি উপাদান উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে একমাত্র ফুলকপিতেই পাওয়া যায় খুবই ভালো পরিমাণে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই কোলিন আমাদের হার্ট, লিভার, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, ক্যানসার গবেষণায় উঠে এসেছে, ব্রকলি ও ফুলকপির বিশেষ অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ক্যানসারের জন্য দায়ী কারসিনোজেনের বিরুদ্ধে ভালো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।

ফুলকপি ভাতের মূল উপাদান ফুলকপি
ফুলকপি ভাতের মূল উপাদান ফুলকপি

আমাদের বাঙালি স্বাদগ্রন্থির পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি আর গলা অবধি উদরপূর্তির অভ্যাসের নিরিখে দেখতে গেলে ফুলকপি ভাতের ভবিষ্যৎ আপাতদৃষ্টিতে খুব উজ্জ্বল মনে না হলেও বাস্তবতা কিন্তু অন্য কথা বলে। কলিফ্লাওয়ার রাইসের ফাইবার আর পানির উপস্থিতির কারণে ভাতের বদলে খেলে কিছুটা হলেও পেট ভরে আর তৃপ্তি মেলে। আর বর্তমান সময়ে যখন অতিরিক্ত ওজনের ফলে বিভিন্ন মারাত্মক রোগ বেড়েই চলছে হু হু করে আমাদের দেশে, তখন শর্করার বিকল্প হিসেবে এই ফুলকপি ভাতের গুরুত্ব ও আবেদন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে অবশ্যই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, বিশেষত পশ্চিমা দেশগুলোয় এর জনপ্রিয়তার কারণেও আমরা ধীরে ধীরে এই কিটোজেনিক লো কার্ব রাইসের দিকে আগ্রহী হচ্ছি। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমাদের সমাজের ফিটনেস–সচেতন মানুষের প্লেটেও ঘরে ঘরে নিত্যদিন শোভা পাবে ফুলকপি চালের পোলাও অথবা ফ্রাইড কলিফ্লাওয়ার রাইস।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

উপকারী ফুলকপির পাঁচ পদ

চলছে শীতকাল। বাজারে গেলেই এখন দেখা যায় টাটকা ফুলকপি। বিভিন্ন পুষ্টিগুণে ভরপুর এ সবজিটি আমাদের রান্নাঘরে দীর্ঘদিনের বন্ধু। ভেজে, ভাপিয়ে, ঝোল ঝোল করে, অন্যান্য সবজির সঙ্গে মিশিয়ে, বিভিন্নভাবেই খাওয়া যায় এটি। ফুলকপিতে থাকা বিভিন্ন খাদ্য উপাদান আমাদের সর্দি-কাশি, জ্বর জ্বর ভাব থেকে যেমন বাঁচায়, তেমনি বাঁচায় অকালে দাঁত লাল হয়ে যাওয়া, মাড়ি দুর্বল হয়ে যাওয়া থেকেও। এ ছাড়া এটি ওজন কমাতে সহায়তা করে।

তাই এই শীতকালে যত ইচ্ছা ফুলকপি খান। এখন এটি দামেও সস্তা। রেসিপি দিয়েছেন কবিতা গোস্বামীজিনাত নাজিয়া

ফুলকপির ফুলকারি

উপকরণ:

মাঝারি আকারের ফুলকপি ১টি, আলু ২টি, তেল ১ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, জিরা ২ চা-চামচ, শুকনা মরিচ ২টা, তেজপাতা ২টা, জিরাবাটা ১ টেবিল চামচ, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, ধনেগুঁড়া ১ চা-চামচ, চিনি ১ টেবিল চামচ, কাজু বাদামবাটা ২ টেবিল চামচ, দুধ ২ কাপ, কাঁচা মরিচবাটা ১ টেবিল চামচ, শুকনা মরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ, গরমমসলার গুঁড়া ১ চা-চামচ, পানি পরিমাণমতো, সাজানোর জন্য কিশমিশ ও ভাজা কাজুবাদাম।

প্রণালি

ফুলকপির ফুলগুলো সমানভাবে কেটে লবণপানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। এরপর লবণ ও হলুদ দিয়ে মেখে নিন।

কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে লবণ-হলুদ মাখানো ফুলকপির টুকরা লাল করে ভেজে তুলে নিতে হবে। ওই তেলে শুকনা মরিচ, জিরা, তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে আলু ভাজতে হবে। লবণ ও হলুদ দিয়ে এরপর জিরা, ধনে, আদাবাটা, কাঁচা মরিচবাটা, শুকনো মরিচগুঁড়া, চিনি এবং অল্প পানি দিয়ে কষাতে হবে। কপি নরম হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর দুধ দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে কাজুবাদামবাটা, গরমমসলা দিয়ে ঢেকে রাখুন। ঝোল ঘন হয়ে এলে পরিবেশনের পাত্রে ঢেলে ভাজা কাজু দিয়ে সাজিয়ে নিন।

মালাই ফুলকপি

উপকরণ:

ফুলকপি ১টি, আদা ও রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ করে, কাজুবাদামবাটা ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুচি ১ কাপ, টমেটোকুচি আধা কাপ। হলুদ, মরিচ ও ধনেগুঁড়া আধা চা-চামচ করে। এলাচ ও কাঁচা মরিচবাটা আধা চা-চামচ করে। তেজপাতা ও দারুচিনি ২-৩টি করে, দুধ দেড় কাপ, ক্রিম আধা কাপ, ঘি আধা কাপ, টক দই আধা কাপ, চিনি ও লবণ স্বাদমতো, কিশমিশ অল্প পরিমাণে।

প্রণালি

ফুলকপির ফুল ছাড়িয়ে নিন। প্যানে অল্প ঘি দিয়ে ফুলগুলো ভেজে তুলে রাখুন। এবার এতে বাকি ঘি দিয়ে তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজকুচি ভেজে নিন। এতে কাজুবাদাম ছাড়া অন্য সব বাটা ও গুঁড়া মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। তিন মিনিট পর দই দিন। আরেকটু কষিয়ে অল্প দুধ দিন। মসলা ভাজা-ভাজা হলে টমেটো ও ভাজা ফুলকপি দিয়ে আবার একটু দুধ দিয়ে কষান। একটু পর বাকি দুধ দিয়ে ঝোল ঝোল করে নিন। ফুটে উঠলে অল্প দুধে কাজুবাদামবাটা গুলে দিন। এই রান্নায় পানি দেওয়া যাবে না। ফুলকপি সেদ্ধ হয়ে এলে ক্রিম দিয়ে অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রেখে চিনি ও কিশমিশ দিয়ে নামান।

ফুলকপির ফুলবাহার

উপকরণ:

ছোট করে কাটা ফুলকপির ফুল ৩ কাপ, কালোজিরা ১ চা-চামচ, শুকনো মরিচ ২-৩টি, মাখন ৪ টেবিল চামচ, আদা ও রসুনকুচি ১ টেবিল চামচ করে। টমেটো সস ৩ টেবিল চামচ, সয়া সস ২ টেবিল চামচ। লবণ, পানি, কাঁচা মরিচকুচি পরিমাণমতো, জিরার গুঁড়া সামান্য, ধনেপাতা সামান্য।

প্রণালি

অল্প মাখনে ফুলগুলো এক মিনিট ভেজে নামান। এবার মাখনে শুকনা মরিচ ও কালোজিরা ফোড়ন দিয়ে আদা ও রসুনকুচি ভেজে নিন। এতে ফুলগুলো দিয়ে লবণ দিন। আধা সেদ্ধ হয়ে এলে সস ও সয়া সস দিয়ে পাঁচ মিনিট ঢেকে দিন। ফুলকপি সেদ্ধ হয়ে মাখা মাখা হলে কাঁচা মরিচকুচি, ধনেপাতাকুচি ও জিরার গুঁড়া দিয়ে অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রেখে দিন। ওপরে একটু মাখন দিয়ে নামান।

মচমচে ফুলকপি

উপকরণ:

ফুলকপির ফুল ১০-১২টি, সবুজ ক্যাপসিকাম ১টি, গাজর ১টি, আলু ১টি, ডিম ২টি, কর্নফ্লাওয়ার ও চালের গুঁড়া আধা কাপ করে, গোলমরিচের গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, চাট মসলার গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, লবণ, পানি, কাঁচা মরিচকুচি পরিমাণমতো, আদা ও রসুনকুচি ১ চা-চামচ করে, টমেটো সস, চিলি সস ও সয়া সস ২ টেবিল চামচ করে, মাখন আধা কাপ, ভাজার জন্য তেল পরিমাণমতো।

প্রণালি

ফোটানো লবণপানিতে ফুলকপিগুলো এক মিনিট ফুটিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। একইভাবে লম্বা করে কেটে আলু, ক্যাপসিকাম ও গাজর অল্প সেদ্ধ করে নিন। এবার ফুলকপিতে ডিম, কর্নফ্লাওয়ার, চালের গুঁড়া, গোলমরিচ ও চাট মসলা দিয়ে ভালোভাবে মেখে ডুবোতেলে ফুলগুলো ভেজে তুলে রাখুন। এবার ওই প্যানে মাখন গরম করে আদা ও রসুন ফোড়ন দিয়ে সস ও কাঁচা মরিচকুচি দিয়ে অল্প পানি দিয়ে কষান। কষানো হলে সেদ্ধ সবজি দিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রেখে ভাজা ফুলকপি দিয়ে হালকা হাতে নেড়ে নিন। নামিয়ে পরিবেশন করুন।

ফুলকপির রাজ কোফতা

উপকরণ:

কুচি করা ফুলকপি ৪ কাপ, গরু বা খাসির মাংসের কিমা বাটা ১ কাপ, মিহি পেঁয়াজকুচি ১ কাপ, আদাকুচি ১ চা-চামচ। কাঁচা মরিচকুচি, ধনেপাতাকুচি ও লবণ স্বাদমতো। গোলমরিচ গুঁড়া ও চাট মসলার গুঁড়া ১ টেবিল চামচ করে। টমেটোকুচি আধা কাপ, ব্রেড ক্রাম্ব ও কর্নফ্লাওয়ার আধা কাপ বা পরিমাণমতো। ডিম ২টি, কাজুবাদাম ও কিশমিশকুচি ২ টেবিল চামচ করে, ভাজার জন্য তেল পরিমাণমতো।

প্রণালি

তেল ছাড়া সব উপকরণ ফুলকপির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। হাতে অল্প তেল নিয়ে কোফতা বানিয়ে ডুবোতেলে মচমচে করে ভেজে তুলুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ভেষজ উদ্ভিদের চাষঃ গুরুত্ত ও সম্ভাবনা

সৃষ্টির শুরু থেকেই পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ভেষজ ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই যুগ যুগ ধরে বিভিন্নরূপে ও বিভিন্ন নামে মানুষের স্বাস্থ্য পরিচর্যায় ভেষজ ওষুধ ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলিত ও প্রযুক্তি বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার কারণে বর্তমান যুগে ভেষজ ওষুধের উপযোগিতা শেষ হয়েছে বলে অনেকে মনে করলেও সে ধারণা দিনে দিনে ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। নব নব বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে ভেষজ ওষুধ প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ হচ্ছে। ভেষজ ওষুধ অবশ্যই বিজ্ঞানসম্মত ও কার্যকরী ওষুধ। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ বা বিতর্কের অবকাশ নেই। ভেষজ ওষুধের গুণাগুণ ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত সামগ্রিকভাবে ওষুধ বিজ্ঞান তথা আধুনিক অ্যালোপ্যাথিক ওষুধও সমভাবে প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। কারণ এসব ওষুধের আদি ও মূল ভিত্তিও ভেষজ উদ্ভিদ এবং এখনো অসংখ্য আধুনিক অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ সরাসরি উদ্ভিজ্জ দ্রব্য এবং সেগুলোর নিষ্কাশিত রাসায়নিক উপাদান দিয়ে তৈরি হয়ে থাকে।

ভেষজ উদ্ভিদ চাষের যৌক্তিকতা
• ভেষজ ওষুধ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বিভিন্ন ঔষধি উদ্ভিদ উৎস থেকে সংগ্রহ বা আহরণ করা হয়। সাধারণত বনে-জঙ্গলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে থাকা ঔষধি উদ্ভিদ থেকেই ভেষজ ওষুধের কাঁচামাল সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে জমিতে চাষকৃত উৎস থেকে ঔষধি উদ্ভিদ সংগ্রহ বাঞ্ছনীয়, নাহলে একসময় প্রকৃতি ভেষজ উদ্ভিদশূন্য হয়ে পড়বে। তাছাড়া চাষকৃত ভেষজ উদ্ভিদের গুণগতমান অনেক উন্নত হয়ে থাকে। চাষের আওতায় ঔষধি উদ্ভিদের উৎপাদন ও আহরণ পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করে সঠিক সময়ে সঠিক পদ্ধতিতে তা সংগ্রহ করার সুযোগ থাকে। বন্য উৎস থেকে সংগৃহীত কাঁচামালের ক্ষেত্রে এ ধরনের নিশ্চয়তা থাকে না। এ ক্ষেত্রে ভুল উদ্ভিদ ও দ্রব্য আহরণের যেমন আশঙ্কা থাকে তেমনি অসময়ে আহরিত নিম্নমানের কাঁচামাল সরবরাহেরও প্রচুর সুযোগ থাকে। অসময়ে, অপ্রাপ্ত বয়সে ও ভ্রান্ত পদ্ধতিতে সংগৃহীত ঔষধি উদ্ভিদ দ্বারা ভেষজ ওষুধ তৈরি হলে তা কখনো গুণগত মানসম্পন্ন হয় না।

• ভেষজ উদ্ভিদ যথেষ্ট মাত্রায় পরিবেশবান্ধব। প্রায় সব ভেষজ উদ্ভিদেরই পরিবেশ বিশুদ্ধকরণের ৰমতা রয়েছে। ভেষজ উদ্ভিদ বাতাসে বিরাজমান বিভিন্ন রোগ জীবাণুকে প্রাকৃতিকভাবে বিনষ্ট করতে সক্ষম। তাই অধিকহারে ভেষজ উদ্ভিদের চাষ আমাদের ক্রমশ দূষিত হয়ে পড়া পরিবেশ বিশুদ্ধকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

• অধিকাংশ ভেষজ উদ্ভিদ চাষে কৃত্রিম কীটনাশক ও সার প্রয়োজন হয় না। অধিকাংশ ভেষজ উদ্ভিদ থেকে সারা বছর ধরে অথবা খুব অল্প সময়ে ফল বা প্রয়োজনীয় অংশ সংগ্রহ করা যায়। এ কারণে তুলনামূলকভাবে ভেষজ উদ্ভিদ চাষে বিনিয়োগ অনেক কম কিন্তু লাভ বেশি।
• মাশরুমসহ আরো বেশ কিছু ভেষজ উদ্ভিদ রয়েছে যা চাষে জায়গা খুবই কম লাগে, তাই ভূমিহীন বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ভেষজ উদ্ভিদ চাষ উপযোগী।
• আর্থিক বিশ্লেষণে ভেষজ উদ্ভিদের চাষ অন্য যেকোনো কৃষির চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক।
• দেশে-বিদেশে ভেষজ উদ্ভিদের ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে ভেষজ উদ্ভিদ বিক্রি বা বাজারজাতকরণে কৃষককে তেমন বেগ পেতে হযনা। এ কারণে ভেষজ উদ্ভিদের ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে ভেষজ উদ্ভিদ বিক্রি বা বাজারজাতকরণে কৃষককে তেমন বেগ পেতে হয় না। এ কারণে ভেষজ উদ্ভিদ চাষে ঝুঁকি কম।
• ভেষজ উদ্ভিদ চাষ অপেক্ষাকৃত কম শ্রমসাধ্য। ভেষজ উদ্ভিদে খুব বেশি পরিচর্যা প্রয়োজন হয় না, তাই নারীর অংশগ্রহণে পারিবারিক পর্যায়ে ভেষজ উদ্ভিদের চাষ সম্ভব।
• দেশে ব্যাপকভাবে ভেষজ উদ্ভিদের চাষ সম্ভব হলে ভেষজ চিকিৎসা ও ভেষজ ওষুধ আরো বেশি সহজলভ্য হবে, ফলে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমবে।

ভেষজ উদ্ভিদের ব্যবহার
বাংলাদেশে বার্ষিক কী পরিমাণ ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহৃত হয় তার কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে আমাদের দেশে বর্তমানে প্রায় ৩ শতাধিক ইউনানী ও ২ শতাধিক আয়ুর্বেদিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে বহু ভেষজ প্রসাধনী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে বছরে ২০ হাজার টনেরও বেশি ভেষজ কাঁচামালের চাহিদা রয়েছে বলে জানা যায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর সাড়ে ৩০০ থেকে পৌনে ৪০০ কোটি টাকার ভেষজ সামগ্রী আমদানি করা হয়। এগুলো সাধারণত ভেষজ ওষুধ ও প্রসাধন সামগ্রী তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ভেষজ উদ্ভিদ চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব
ভেষজ উদ্ভিদ চাষ অন্য যেকোনো ফসল চাষের চেয়ে বহুগুণ বেশি লাভজনক এবং নিরাপদ। সমগ্র বিশ্বে ভেষজ উদ্ভিদের বিপুল চাহিদা রয়েছে। ভেষজ উদ্ভিদ রপ্তানি করে চীন প্রতি বছর আয় করে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারত আয় করে ৬ বিলিয়ন ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আয় ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শতভাগ রপ্তানি সম্ভাবনা ছাড়াও ভেষজ উদ্ভিদের চাষ করে কৃষক তুলনামূলক অধিক লাভ করতে পারেন। অধিকাংশ ভেষজ উদ্ভিদের চাষ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ। ভেষজ উদ্ভিদ চাষের ৰেত্রে সার ও কীটনাশকের ভূমিকা অত্যন্ত গৌণ, এ কারণে কৃষকের উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। গুল্মজাতীয় ভেষজ প্রায় বিনা পরিচর্যা ও বিনা খরচে উৎপাদন সম্ভব, অথচ এসব উদ্ভিদের বাজারদর বেশ চড়া।

বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগেও বাণিজ্যিক আকারে ভেষজ উদ্ভিদের চাষ শুরু হয়নি। এর অন্যতম কারণ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব। বর্তমানে আমাদের দেশে কৃষি ব্যবস্থায় যথেষ্ট আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে, সে ক্ষেত্রে ভেষজ উদ্ভিদ চাষ যেটুকু হচ্ছে তা মান্ধাতা আমলের মতো অথবা প্রাকৃতিকভাবেই হচ্ছে। ভেষজ উদ্ভিদ চাষে সংশ্লিষ্ট মহলকে আরো আন্তরিক হতে হবে। না হলে যথেষ্ট সম্ভাবনা এবং সুযোগ থাকার পরও আমাদের ভেষজ সম্ভাবনা অন্যান্য সম্ভাবনার মতোই মুখ থুবড়ে পড়বে। আমাদের দেশেও পর্যাপ্ত সরকারি এবং বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমরা অবশ্যই বিশ্বে ভেষজ উদ্ভিদ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রথম স্থান অধিকার করতে পারব, কারণ আমাদের রয়েছে ভেষজ উদ্ভিদ চাষ ও ব্যবহারের বংশ পরম্পরা ঐতিহ্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

বীজ সংরক্ষণ

ফসল উৎপাদনে বীজ যত মানসম্মত হয় ফলন ততবেশি হয়, তত ভালো হয়। ভালো মানসম্মত বীজ যতটুকু না উৎপাদন কৌশলের ওপর নির্ভর করে তার চেয়ে বেশি নির্ভর করে যথাযথ পদ্ধতিতে বীজ সংরক্ষণের ওপর। সাধারণভাবে লাগসই পদ্ধতিতে, আধুনিক পদ্ধতিতে বীজ সংরক্ষণ করা যায়। সাধারণ পদ্ধতিতে সংরক্ষিত বীজ মানসম্মত থাকে না। আধুনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করলে খরচ বেশি হয়। সেজন্য কম খরচে মানসম্মত বীজ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা পাওয়া যায় এমন পদ্ধতিই বিশ্লেষণ করা হবে। আমাদের দেশে সাধারণত মাটির পাত্রে বীজ সংরক্ষণ করা হয়। বিশেষ কিছু কৌশল আর পদ্ধতি অবলম্বন করলে সাধারণ পদ্ধতি অসাধারণ পদ্ধতিতে পরিণত হয়। বীজ মাটির পাত্রে, বোতলে, পটে, টিনে, ড্রামে, প্লাস্টিকের ড্রামে, বস্তায় সংরক্ষণ করা হয়। তবে বীজ পাত্রের পছন্দ নির্ভর করে বীজের পরিমাণ, জাতের ওপর। যেমন- শাকসবজির বীজ হলে বোতলে/পটে, ডাল তেল বীজের জন্য পট বা টিনে আর দানাদার বীজ হলে ড্রাম, মাটির পাত্র, পলিথিনের বস্তায় রাখা যায়। যে কোনো পাত্রেই রাখা হোক না কেন সাধারণ অনুসরণীয় কৌশল হলো বীজপাত্রের তলায় শুকনা/পরিষ্কার/ ঠান্ডা বালি রেখে তার ওপর ১০-১২% আর্দ্রতা সম্পন্ন বীজ রাখতে হবে। বীজ পাত্রের ঠিক মাঝখানে ১/২ খ- শুকনা চুন রাখতে হয়। তারপর বীজ পাত্রের মুখ পর্যন্ত বীজ রেখে তার উপরে বিশকাটালী/ নিম/ নিসিন্দা/ ল্যান্টানা/তামাকের শুকনা পাতার গুঁড়া মুখে রেখে বীজপাত্র বায়ুরোধী করে বন্ধ করে দিতে হবে। এভাবে বীজ পাত্রে বীজ একবছর পর্যন্ত ভালো থাকে। বীজ সংরক্ষণের সাথে সংশ্লিষ্ট আরো কিছু আবশ্যকীয় করণীয় হলো-


ক. বীজ পাত্র মাটির হলে অগণিত অদৃশ্য ছিদ্রের মাধ্যমে বাতাস মাটির বীজপাত্রের ভেতরে ঢুকে বীজের মান নষ্ট করে দেয়। এ জন্য মাটির বীজপাত্র ভালোভাবে লেপে দিতে হবে। বীজপাত্র প্রলেপ দেয়ার জন্য আলকাতরা, গাবের রস, যে কোনো বাজারি রঙ, রান্নার পুরনো তেল, রেড়ি/ভেরেন্ডা তেল, পাকা বীচিকলার কাথ, কাঁঠালের খোসার কাথ, পাকা বেল এসব দিয়ে মাটির পাত্র লেপে দিয়ে শুকানো বীজ রাখতে হবে। এতে বীজ শতভাগ ভালো এবং বিশুদ্ধ থাকবে।

খ. বীজপাত্রে বীজ যদি কম থাকে তাহলে বিভিন্ন সমস্যা হয়, বীজের মান কমে যায় সেজন্য পারতপক্ষে মুরী, শুকনা পরিষ্কার কাঠের গুঁড়া/ছাই/তুষ দিয়ে বীজপাত্রের খালি অংশ ভরে তারপর বায়ুরোধী করে মুখ বন্ধ করতে হয়। যদি কোনোভাবে বীজপাত্র ভরে দেওয়া সম্ভব না হয় তাহলে খালি জায়গাটিতে একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে আস্তে আস্তে বীজপাত্রের ঢাকনা দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। এতে খালি জায়গার জীবাণু মরে গিয়ে বীজপাত্রের পরিবেশ বালাইমুক্ত রেখে বীজ মানসম্মত থাকে।
গ. বীজপাত্রে বীজ রাখার কাজ শেষ হলে হয় শিকায় ঝুলিয়ে রাখতে হয় অথবা ওজনে ভারী হলে মাচা করে চাটাই, কাঠের ওপর এমনভাবে রাখতে হবে যেন বীজপাত্র মাটির বা ফ্লোরের সংস্পর্শে না লাগে। এতে মাটির আর্দ্রতায় বীজের কোনো ক্ষতি হয় না।


বীজ সংগ্রহ: মাঠ থেকে জমির সবচেয়ে ভালো ফলন সম্পন্ন অংশ বীজের জন্য নির্বাচন করতে হবে। ৮০ শতাংশের উপর পাকলে বীজ কাটার সময় হয়। রোদ্রউজ্জ্বল দিনে ফসল কেটে পরিষ্কার ভালো স্থানে উপযুক্ত উপকরণে মাচা/টেবিল/গাছের গুড়ি/ড্রাম এসবে আড়াই বাড়ি দিলে যে পরিমাণ বীজ আলাদা হয় সেগুলোই ভালো বীজ হিসেবে সংগ্রহ করতে হবে। আড়াই বাড়ির পর যেসব দানা ফসলের কান্ডের সাথে লেগে থাকে সেগুলো গরু/মহিষ বা পায়ে মুড়িয়ে আলাদা করে খাওয়ার জন্য রাখা যায়। এরপর ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে, নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। বীজ শুকানো হলো কিনা তার লাগসই পরীক্ষা হলো দাঁতের মধ্যে দিয়ে চাপ দিলে কটকট আওয়াজ করলে বা ধানের বীজ ডানহাতের বৃদ্ধ ও তর্জনীর মধ্যে দিয়ে কানের কাছে নিয়ে চাপ দিলে কট করে আওয়াজ হয়। এতে বুঝতে হবে ধানের আর্দ্রতা সংরক্ষণের পর্যায়ে এসেছে। তারপর শুকিয়ে ঠান্ডা করে উপযুক্ত পাত্রে সংরক্ষণ করতে হয়। মোটকথা বীজের জন্য সবকিছু আলাদা বিশেষত্ব অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com