আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

শ্রমিক সংকটে দিশেহারা পাট ও তিল চাষিরা

শ্রমিক সংকটে দিশেহারা পাট ও তিল চাষিরা
শ্রমিক সংকটে দিশেহারা পাট ও তিল চাষিরা

রাজবাড়ী একটি কৃষিনির্ভর জেলা। এ জেলায় সব ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে শ্রমিক সংকট ও অর্থাভাবে চাষিরা ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করতে পারছেন না। ফলে পাট ও তিলের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলার প্রধান অর্থকরী ফসলের মধ্যে পাট অন্যতম। পাশাপাশি ব্যাপক আকারে তিলও চাষ হয়। করোনা ও ধান কাটা মৌসুম হওয়ায় শ্রমিক সংকট ও অর্থাভাব দেখা দিয়েছে। এখন আগের মত শ্রমিক পাওয়া যায় না। এ ছাড়া জেলা থেকে প্রায় দেড় হাজারের বেশি শ্রমিক অন্য জেলায় চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে স্থানীয়রা।

শ্রমিক সংকটে দিশেহারা পাট ও তিল চাষিরা
শ্রমিক সংকটে দিশেহারা পাট ও তিল চাষিরা

মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অতিবৃষ্টি ও সঠিক সময়ে ক্ষেত পরিচর্যা না করায় জমিগুলো আগাছায় ভরে গেছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ফলন হবে বলে আশঙ্কা চাষিদের। জেলার প্রত্যেকটি উপজেলায় পাট, তিলসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষ করা হয়। সংকট থাকায় জমির আগাছা নিজেকেই পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। কিন্তু বেশি আগাছা পরিষ্কার করা একার জন্য যথেষ্ট নয়।

সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের কৃষক আ. মান্নান তালুকদার ও তোফাজ্জল হোসেন ভূইয়াসহ অনেকে জানান, আবাদী জমিতে প্রচুর আগাছা ও ঘাস জন্মেছে। তাই পাট ও তিল বেড়ে উঠতে সমস্যা হচ্ছে। এবার চাষে এ পর্যন্ত যে খরচ হয়েছে, তার চেয়ে বেশি লাগবে আগাছা পরিষ্কার করতে। বাড়তি টাকা দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছেন না তারা। এখন পর্যন্ত কোনো কৃষি অফিসার তাদের কোনো পরামর্শ দেননি।

শ্রমিক সংকটে দিশেহারা পাট ও তিল চাষিরা
শ্রমিক সংকটে দিশেহারা পাট ও তিল চাষিরা

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক গোপাল কৃষ্ণ দাস বলেন, ‘জেলায় এ বছর ৪৬ হাজার ৪৪৩ হেক্টর জমিতে পাট ও ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছে। অন্য জেলা থেকে শ্রমিকরা ফিরে এলে শ্রমিক সংকট থাকবে না। এ ছাড়া বর্তমানে কৃষকদের জন্য কোনো প্রণোদনা নেই। তবে আগাছা দমনে কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিচ্ছেন।’

ফসল

যেভাবে ধনিয়া পাতা চাষ করবেন

কম সময়ের মধ্যে মসলা ফসল উৎপাদনে ধনিয়া উল্লেখযোগ্য। ধনিয়া রবি ফসল হলেও এখন প্রায় সারা বছরই এর চাষ করা যায়। ধনিয়ার কচিপাতা সালাদ ও তরকারিতে সুগন্ধি মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ধনিয়ার পুষ্ট বীজ বেঁটে বা গুঁড়া করে তরকারিতে মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

যা আছে ধনিয়ায়ঃ- ধনিয়া একটি পুষ্টিকর মসলা। প্রতি ১০০ গ্রাম ধনিয়া পাতায় ৩.৩ গ্রাম আমিষ, ৪.১ গ্রাম শর্করাসহ ক্যারোটিন (ভিটামিন ‘এ’) ৬ হাজার ৭২ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন ‘বি২’ বা রিবোফ্লাভিন ০.১৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-‘বি’ ১৩৫ মিলিগ্রাম, আয়রন ২০.১ মিলিগ্রাম ও ক্যালসিয়াম ২৯০ মিলিগ্রাম পাওয়া যায়।

মাটি ও আবহাওয়াঃ- সব রকমের মাটিতেই ধনের চাষ করা যায়। তবে বেলে দো-আঁশ থেকে এঁটেল দো-আঁশ মাটি ধনে চাষের জন্য উপযোগী। ধনে আবাদের জন্য পানি নিষ্কাশনের সুবিধা থাকতে হবে।

জাতঃ- ধনিয়ার পাতা উৎপাদনকারী জাতের মধ্যে বারি ধনিয়া-১ বেশ ভালো ফলন দেয়। এছাড়াও রয়েছে লালতীরের সুগন্ধা, এলবি-৬০ ও এলবি-৬৫। লালতীরের ধনিয়ার জাতগুলো সারা বছরই চাষ করা যায়। এই জাতগুলো রঙ উজ্জ্বল সবুজ বর্ণের, সুগন্ধযুক্ত ও দেরিতে ফুল উৎপাদনকারী অর্থাৎ অনেকদিন ধরে পাতা উৎপাদন করে।

বপনের সময়ঃ- স্থানীয় দেশি জাতের ধনিয়া রবি মৌসুম ছাড়া আগাম চাষ করা যায় না। রবি মৌসুমের জন্য আশ্বিন-কার্তিক (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) মাসে ধনিয়ার বীজ বপন করতে হয়। তবে এর পরেও ধনিয়ার বীজ বপন করা যায়।
জমি তৈরিঃ- মাটি ও জমির প্রকারভেদে ৪ থেকে ৬টি চাষ ও মই দিতে হয়।

বীজ বপনঃ- বীজ বপনের আগে প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক মিশিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হয়। এতে বীজ শোধন ও বীজের ত্বক নরম হয়ে অঙ্কুরোদ্গমের সহায়ক হয়। জমি ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে ঝুরঝুরে এবং সমান করার পর ১ মিটার প্রস্থের বেড তৈরি করতে হয়। বেডে ২০ সেন্টিমিটার দূরত্বে সারি করে সারিতে বীজ ছিটিয়ে বুনে দিতে হয়। বেডে সারি বরাবর একটি রশি টেনে রশি ধরে হাতের আঙুল বা একটি কাঠি দিয়ে ২-৩ সেন্টিমিটার গভীর করে নালা করতে হয়। নালায় বীজ ফেলে হালকা মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। প্রতি শতকে ৭০ থেকে ৮০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। এই পরিমাণ বীজে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ধনিয়া গাছ পাওয়া যায়।

সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতিঃ- ধনে চাষের জন্য মাঝারি উর্বর মাটিতে হেক্টরপ্রতি ১৫০ থেকে ৩০০ কেজি ইউরিয়া, ১০০ থেকে ২০০ কেজি টিএসপি, ৮০ থেকে ১০০ কেজি এমপি এবং ৭ থেকে ১০ টন গোবর সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন। জমি তৈরির সময় অর্ধেক গোবর, সমুদয় টিএসপি ও অর্ধেক এমপি সার প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক গোবর চারা রোপণের এক সপ্তাহ আগে মাদার দিয়ে মিশিয়ে রাখতে হবে। এর পর চারা রোপণ করে সেচ দিতে হয়। ইউরিয়া এবং বাকি অর্ধেক এমপি সার তিন কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। চারা লাগানোর ৮ থেকে ১০ দিন পর প্রথম কিস্তিতে এবং চারা লাগানোর ৩০ থেকে ৩৫ দিন পর বাকি সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যাঃ- পাতা ফসলের ক্ষেত্রে চারা গজানোর ১০ থেকে ১৫ দিন পর প্রতি সারিতে ৫ সেন্টিমিটার পরপর একটি চারা রেখে অন্যগুলো তুলতে হবে। বীজ ফসলের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ সেন্টিমিটার পরপর একটি চারা রাখতে হবে। নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার এবং মাটি ঝুরঝুরে করে দিতে হবে। প্রতিবার সেচের পর জমির ‘জো’ আসামাত্র মাটির জটা ভেঙে দিলে গাছের শিকড় প্রচুর পরিমাণে আলো-বাতাস পাবে, ফলে গাছের বৃদ্ধি সহজ ত্বরান্বিত হবে। ধনে গাছ জমির পানি জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। তাই জমাকৃত অতিরিক্ত সেচের পানি বা বৃষ্টির পানি ২ থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যেই নিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।

ফসল সংগ্রহঃ- বীজ বপনের ৩০ থেকে ৩৫ দিন পর পাতা সংগ্রহ শুরু করা যায়। পরবর্তী সময়ে মাসখানেক ধরে এ সংগ্রহ চালিয়ে যাওয়া যায়। এতে ১ শতক জমিতে ১৫ থেকে ২০ কেজি পাতা পাওয়া যায়। আবার বীজ সংগ্রহের জন্য গাছ রেখে দিলে এবং বীজ যখন সম্পূর্ণভাবে পাকে কিন্তু গাছ প্রায় সবুজ থাকে তখন বীজ সংগ্রহ করলে ৮ থেকে ১০ কেজি বীজ পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

বাড়ির টবে সহজ উপায়ে করুন ঢেঁড়স চাষ

শহরে বসবাস করেও অনেকে বিভিন্ন সবজি চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ইচ্ছে করলেই ছাদে কিংবা ব্যালকনিতে অল্প পরিসরে নানান রকমের সবজি চাষ করতে পারেন। চাইলে আপনি সহজ উপায়ে টবে ঢেঁড়শ চাষ করতে পারেন। শহরের বাসা-বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় বড় বড় টবে, মাটির চাঁড়িতে, ড্রামে কিংবা একমুখ খোলা কাঠের বাক্সে সার, মাটি ভরে অনায়াসেই ঢেঁড়শ চাষ করা যায়।

ঢেঁড়শ আমাদের দেশের একটি জনপ্রিয় সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে, তাছাড়া ভিটামিন -এসহ অন্যান্য উপাদানও রয়েছে। আমাদের দেশে যে কোনো সময় ঢেঁড়শ চাষ করা যায়। গাছের বৃদ্ধি এবং ঢেঁড়শের ভালো ফলনের জন্য মাটি অবশ্যই উর্বর, হালকা এবং ঝুরঝুরে হতে হবে। পানি শুকিয়ে গেলে টবের মাটিতে যেন ফেটে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। টবের মাটি ঝুরঝুরা রাখতে হলে সমপরিমাণে দো-আঁশ মাটি ও জৈব সার একসাথে ভালোভাবে মেশাতে হবে।

এঁটেল মাটিতে জৈব সারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। সাধারণভাবে প্রতি টবের মাটিতে চা চামচের চার চামচ টিএসপি সার ও ৫ থেকে ৬ দিন আগে ভেজানো ১১৬ গ্রাম পরিমাণ সরিষার খৈল মেশানো যেতে পারে।

জাত:

ঢেঁড়শের অনেক জাত রয়েছে। এর মধ্যে পুশা শাওনী, কাবুলি ডোয়ার্ফ, লক্ষ্ণৌ ডোয়ার্ফ, লং গ্রিন, লং হোয়াইট, পেন্টা গ্রনি-এসব বিদেশি জাত বেশ জনপ্রিয়।

চাষ পদ্ধতি:

গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত অর্থাৎ বছরের যে কোনো সময়ই ঢেঁড়শ গাছ লাগানো যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শীতের শেষভাগ থেকে বৈশাখ পর্যন্ত ঢেঁড়শ লাগানো যায়। এরপরও লাগানো যায় তবে নাবী ফসলে মোজাইক রোগ হয় বলে ফলন ভালো হয় না।

ঢেঁড়শের চারা রোপণকালীন সময় আঘাত সহ্য করতে পারে না বলে সরাসরি মূল টবে বুনতে হবে। ঢেঁড়শের জন্য মাঝারী ধরণের টব হলেই চলবে। প্রতি টবে ২ থেকে ৩টি বীজ বুনে দিতে হয়। চারা গজানোর পর একটি সবল চারা রেখে বাকিগুলো ফেলে দিতে হয়। খোসা শক্ত বলে ঢেঁড়শের বীজ দেরিতে গজায়। তাই বোনার আগে ২৮ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

ঢেঁড়শ গাছ পানি সহ্য করতে পারে না। গাছের গোড়ায় দাঁড়ানো পানি তাড়াতাড়ি সরিয়ে দিতে হবে। প্রত্যেকটি টবে পানি যাতে না বেধে থাকে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

গাছ ১০ থেকে ১২ সে.মি. বড় হলে টবের কিনার ঘেঁষে ১ চা চামচ ইউরিয়া ও ১ চা চামচ মিউরেট অব পটাশ মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। শুঁয়া পোকা কচি কাণ্ড ছিদ্র করে গাছের ক্ষতি করে। ভাইরাস (মোজাইক) রোগ ঢেঁড়শে প্রায়ই দেখা যায়। এ রোগে পাতা হলদে হয়ে কুঁচকে যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ভুট্টা চাষ করুন সাবধানে

ভুট্টা এখন আর মুরগীর খাদ্য নয়, মানুষের অন্যতম প্রয়োজনীয় দানা শস্য । ভূট্টার গাছ থেকে তৈরি করা হচ্ছে গুড়। উন্নত পুষ্টিমান ও বহুবিধ ব্যবহারের কারণে ভুট্টার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে । সঙ্গত কারণে আধুনিক পদ্ধতিতে ভুট্টার চাষ আমাদের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। আপনিও করতে পারেন ভুট্টা চাষ। আপনার পাশে আর পতিত কিংবা অনাবাদি জমি না রেখে ভূট্টা চাষে ব্যস্ত হয়ে পরুন।

জমি নির্বাচন : পানি জমে না এমন বন্যামুক্ত উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে ভুট্টা চাষ করা যায়। সাধারলত পলিযুক্ত দোআঁশ, বেলে দোআঁশ এবং এঁটেল দোআঁশ মাটিতে ভুট্টা চাষ ভালো হয়। বাংলাদেশের জলবায়ুতে সারা বছরই ভুট্টা চাষ করা সম্ভব। তবে ররি মৌসুমে ভুট্টা চাষ করলে আর্থিক ফলন পাওয়া যায়। রবি মৌসুমে মধ্য কার্তিক থেকে অগ্রাহায়লেণর শেষ পর্যন্ত এবং খরিপ মৌসুমে ফাল্গুন থেকে চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বীজ বোনার উপযুক্ত সময়।

জাত নির্বাচন : বাংলাদেশের আবহাওয়ায় হাইব্রিড ও দেশি উভয় ভুট্টা চাষ করা যায়। হাইব্রিড জাতে ফন বেশি হওয়ায় দেশে আবাদকৃত মোট জমির ৯৫ ভাগেই হাইব্রিড জাতের চাষ হয়ে থাকে। হাইব্রিড জাতের মধ্যে রয়েছে পেসিফিক-১১, পেসিফিক-৬০, পেসিফিক-৯৮৩, পেসিফিক-৯৮৪, পেসিফিক-৯৮৮, ৯০০ এম, মুক্তা, এনকে-৪৬, পায়োনিয়র ৩০৬৫, বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১, বারি হাইব্রিড ভুট্টা-২, বারি হাইব্রিড ভুট্টা-৩ ইত্যাদি উলে-খযোগ্য। দেশি জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে বর্ণালি, শুভ্রা, মোহর, খৈ ভুট্টা, বারি ভুট্টা-৫, বারি ভুট্টা-৬, বারি ভুট্টা-৭ ইত্যাদি। বীজ বপনের আগে বীজের গজানোর হার ৯০ ভাগের ওপর হলেই ওই বীজ কেনা উচিত। বীজ বপনোর অন্তত এক সপ্তাহ আগে বীজ গজানোর ক্ষমতা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

জমি তৈরি : চাষের আগে জমিতে জৈব সার সমানভাবে প্রয়োগ করা উচিত। মাটিতে জো থাকা অবস্থায় ৩-৪ টি আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে ঝুরঝুরে করে মাটি তৈরি করতে হবে। জমি সমান করার পর সেচ প্রয়োগ ও পানি নিস্কাশনের জন্য জমির চার পােিশ নালা করতে হবে। ভুট্টা বীজ লাইনে বুনতে হয়। জমির দু’পাশে রশি বেঁধে কোদাল বা ছোট হাত লাঙ্গলের সাহায্যে এক থেকে দুই ইঞ্চি পরিমাণ মাটি গভীর করে এই লাইন করতে হয়। লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব হবে ৩০ ইঞ্চি বা পৌনে দু ’হাত। ওই লাইনের মধ্যে ৮-১০ ইঞ্চি বা আধা হাত পরপর একটি করে বীজ দিয়ে লাইনটি ভালোভাবে ভরাট করতে হবে।

সেচ ও সার প্রয়োগ : জমিতে পরিমিত রস না থাকলে বীজ বোনার পর হালকা সেচ দিতে হবে। চারাগাছের পাতা ৩-৫টি হলে প্রথম সেচ দিতে হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, সেচ কিংবা বৃষ্টির পানি গাছের গোড়ায় যেন ১০-১২ ঘন্টা জমে না থাকে। ভুট্টা গাছের পাতা ৮-১০টি হলে প্রথম দফায় একরপ্রতি ৭৫ কেজি বা শতাংশে তিন পোয়া ইউরিয়া সার দু’সারির মাঝখানে ছিটিয়ে দিতে হবে। গাছের মাথায় ফুল আসার আগে সমপরিমাণ সার গাছের গোড়ায় লাইন বরাবর ছিটিয়ে দিতে হয়। সার দেয়ার পরই নালা ভর্তি করে সেচ দেয়া উচিত। সাধারণত বিকাল বেলা সার ও সেচ দেয়া উত্তম।

আগাছা ও পোকামাকড় দমন : ভুট্টা গাছে সাধারণত কাটুই পোকা, পাতা খেকো লেদা পোকা, জাব পোকা ও মাজরা পোকার আক্রমণ হয়ে থাকে। চারাগাছে কাটুই পোকার আক্রমণ বেশি দেখা দেয় রাতের বেলা। কাটুই পোকা কচি গাছের গোড়া কেটে দেয় এবং দিনে গাছের গোড়ায় হালকা মাটির নিচে লুকিয়ে থাকে। চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর্যন্ত এই পোকার আক্রমণ বশি হয়। এজন্য মাটি আলগা করে দেখতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে জমিতে ভাসিয়ে সেচ দিতে হয়। তখন এ পোকা মাটির ওপর উঠে আসে ও রোদের তাপে মারা যায়। ভুট্টার জমিতে যে কোনো পোকামাকড় দমনে অনুমোদিত ও সঠিকমাত্রায় কীটনাশক ¯েপ্র করা যায়।
পরিচর্যাঃ- ভুট্টা সুমিষ্ট হওয়ার বীজ লাগানোর ১০-১২ দিন পর্যন্ত ভুট্টা ক্ষেত অনিষ্টকারী পাখি দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এ সময় পাখি তাড়ানোরে ব্যবস্থা করতে হবে। আর ঘাসজাতীয় আগাছা ক্ষেত থেকে উঠিয়ে ফেলতে হবে। ভুট্টা দানা বাঁধার সময় জমিতে যথেষ্ট পরিমাণ রস প্রয়োজন, তাই এসময় সেচ দেয়া অত্যান্ত জরুরী।

কৃষকের কথাঃ- হাটহাজারীর নাঙ্গলমোড়ার কৃষক নুরুল আলম জানান, এ বছর আমি ভূট্টা করে প্রচুর লাভবান হয়েছি। ভূট্টা চাষ ধান চাষের চেয়ে অনেক বেশি লাভবান। কৃষি অফিসারের কথায় এবার পরীক্ষামুলকভাবে চাষ করে আমি ভূট্টা চাষের সবদিক বুঝতে পেরেছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

সয়াবিন চাষ কেবল কৃষকেরই ভাগ্য বদল নয়, জমিরও শক্তি বাড়ায়

দেশে উৎপাদিত প্রায় ৮০ শতাংশ সয়াবিন উৎপাদন হয় লক্ষীপুরে। ১০ বছরের মাথায় সয়াবিন চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সয়াবিনের বাম্পার ফলন এবং কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। সয়াবিন চাষে কেবল কৃষকেরই ভাগ্য বদল নয়, জমিরও শক্তি বাড়ায়, হয়ে উঠে আরো বেশি উর্বর। যে কারণে পরবর্তী যেকোনো ফসল উৎপাদনে অর্ধেকে নেমে আসে সারের ব্যবহার। এতে কৃষক লাভবান হন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট নোয়াখালী অঞ্চলের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, সয়াবিনের পাতাসহ অন্যান্য অংশ এবং শেকড় অল্প সময়ের মধ্যে পচে-গলে মাটিতে জৈব সার তৈরি করে। এর ফলে মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ অনেক উন্নত হয়। মাটি হয় পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। সয়াবিন চাষের ফলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পরবর্তী ফসলে সারের ব্যবহার অর্ধেক নেমে আসে। উৎপাদন খরচ কমে যায়। ফলনওভালো হয়। তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিকভাবে সয়াবিন চাষে আমদানি নির্ভরতা কমানো, জমির উর্বরতা বৃদ্ধি, দারিদ্র দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মহিউদ্দিন চৌধুরী বিগত কয়েক বছরের তথ্য উপাত্ত গবেষণা ও বিশ্লেষণে জেনেছেন, বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে শস্য পরিক্রমায় রবি ফসল হিসাবে সয়াবিন একক ও অনন্য সাধারণ ফসল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। সয়াবিন চাষে ঝুঁকি ও খরচ বাদামের তুলনায় অনেক কম, লাভও বেশি। সয়াবিন কাটার পর ওই জমিতে আউশ ধানের ফলন খুব ভালো হয়। সয়াবিন বহুমুখী মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। সয়াবিন মাটিতে নাইট্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। প্রতি আবাদ মৌসুমে হেক্টর প্রতি ২৫০ থেকে ২৭৭ কেজি নাইট্রোজেন সংযোজন করতে পারে। যা ফসলের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের শতকরা প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ। সয়াবিন গাছের শেকড়ে ফুলন্ত অবস্থায় ১২-৪৩টি ধূসর বর্ণের গুটি থাকে। এ গুটিগুলোতে বায়োক্যামিকেল প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডলীয় নাইট্রোজেন অবমুক্ত করার পর আপনা আপনি শুষ্ক হয়ে শেকড়সহ জৈব পদার্থ হিসেবে মাটিতে মিশে গিয়ে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

সয়াবিনের ক্ষেতকৃষি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে, যেকোনো ঋতুতেই সয়াবিন চাষ করা যায়। তবে রবি মৌসুমে সয়াবিনের ব্যাপক আবাদ হয়। এর শেকড়গুচ্ছ মাটির এক মিটার নিচে পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে। গাছের কান্ডে ফুল হয়। ফুল সচরাচর সাদা, গোলাপি ও বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। একটি খোসায় বীজ জন্মে। আর এই বীজগুলোকেই সয়াবিন বলা হয়। বীজ রোপণের ৯৫ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়। হেক্টর প্রতি ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৫ টন উৎপাদন হয়ে থাকে। সয়াবিন গাছ ৩০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার উঁচু হয়। এর বীজ অত্যন্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। এটি ভোজ্য তেলের প্রধান উৎস। পরিণত বীজ থেকে শিশুখাদ্য, সয়া-দুধ, দই ও পনির, সয়া-স্যস তৈরি হয়। শুষ্ক বীজে আছে চর্বি, শর্করা ও প্রোটিন। গ্লিসারিন, রং, সাবান, প্লাস্টিক, মুদ্রণের কালি ইত্যাদি দ্রব্য উৎপাদনের ক্ষেত্রেও সয়াবিন একটি অপরিহার্য উপাদান। কাঁচা সয়াবিন গাছ গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার্য। সয়াবিনের উচ্চ পুষ্টিগুণসহ নানান ব্যবহারে সয়াবিনের আবাদ দিন দিন বেড়েই চলছে।

লক্ষীপুর কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর খামারবাড়ি ল²ীপুর অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কৃষি বিভাগ।

এর মধ্যে লক্ষীপুর সদর উপজেলায় ৬ হাজর ৫৬০ হেক্টর, রায়পুরে ৬ হাজার ১৫০ হেক্টর, রামগঞ্জে ৮৫ হেক্টর, রামগতি ১৮ হাজার ১৯০ হেক্টর ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ১৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে সয়াবিনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

জনপ্রিয় মসলা ফসল চুইঝাল

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে উপকূলীয় জেলাসমূহে চুইঝাল একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় গুরুত্বপূর্ণ মসলা ফসল। বিশেষ করে বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইল প্রভৃতি জেলায় চুইঝালের চাষ করা হয়। চুইঝালের চাষ প্রধানত বসতবাড়িতেই সীমাবদ্ধ। চুইঝালকে সবাই চেনে ‘চই’ বা ‘চুই’ নামে। সাধারণ মানের এক কেজি চুইয়ের দাম দুইশ থেকে তিনশ টাকা। আর পুরনো মোটা বয়েসী পাকা চুই হলে তো কথাই নেই, আটশ টাকা কেজিও বিক্রি হয়। এ হিসাবে এক একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চুই চাষ করে বছরে প্রায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। এ অঞ্চলের পুরনো লোকদের মুখে এখনো চুইয়ের স্বাদ লেগে আছে।

চুইয়ের ব্যবহার

মসলা হিসেবে চুইগাছের শেকড় ও কান্ড ব্যবহার করা হয়। ভেষজ ওষুধ তৈরির জন্য ফল, বীজ ও লতা ব্যবহার করা হয়। শেকড় ও কান্ডের কালচে বাকল চেঁছে তুলে ফেলে লম্বা ফালি ফালি করে রান্নার সময় তরকারি বা মাছের ঝোলে, মাংসের কারিতে মিশিয়ে দেয়া হয়। এতে রান্নায় সুঘ্রাণ আসে, ঝাল হয় ও স্বাদ বেড়ে যায়। তা ছাড়া চুইগাছের ঝাল মরিচের চেয়ে উপকারী, স্বাস্থ্যসম্মত ও ভেষজ গুণসম্পন্ন।

চাষের উপযুক্ত স্থান

ছায়া বা আধো ছায়া জায়গাতে চুই ভালো হয়। সাধারণত বসতবাড়ির আঙিনায় এ ধরনের স্থানে চুইঝালের গাছ লাগানো হয়। চুইঝালের গাছ জলাবদ্ধতা সইতে পারে না। তাই নিচু বা পানি আসে বা জমে থাকে এরূপ জায়গায় চুইঝালের গাছ না লাগানো ভালো। বড় কোনো গাছ যেমন জিওল বা জিকা, মেহগনি, আম ইত্যাদি গাছের পাশে চুইঝাল লাগানো উচিত। ১০টি গাছ লাগাতে প্রায় ১ শতক জায়গা লাগে। জমির পরিমাণ নির্ভর করে বাউনি তুলে দেয়া গাছের সংখ্যা ও দূরত্বের ওপরে।

জমি ও গর্ত তৈরি

গাছ লাগানোর জায়গা ঠিক করার পর সেখানে সবদিকে এক হাত মাপে গর্ত তৈরি করতে হবে। সে গর্তের মাটির সঙ্গে ১৫-২০ কেজি গোবর সার, ২০০ গ্রাম টিএসপি, ২৫০ গ্রাম এমওপি, ১০০ গ্রাম জিপসাম ও ২৫ গ্রাম জিংক সালফেট সার মিশিয়ে দিয়ে গর্ত ভরাট করে রেখে দিতে হবে। গর্ত ভরাটের পর তা যেন ঢিবির মতো উঁচু হয়।

চারা তৈরি

বীজ, ডাল ও শিকড় থেকে চুইগাছের নতুন চারা হয়। ফল পাকলে তার উপরের নরম আবরণ ফেলে দিয়ে রোদে শুকিয়ে বীজ রেখে দিলে তা অনেকদিন ভালো থাকে। বীজতলায় বীজ ভিজিয়ে ফেললে সেসব বীজ থেকে চারা গজায়। বয়স্ক কান্ড ও শেকড়ের গিঁট কেটে মাটিতে পুঁতে দিলে সেখান থেকেও চারা বের হয়। কৃষকরা নিজেদের গাছ থেকে সাধারণত: কাটিং করে চারা তৈরি করে। যদি অন্যের কাছ থেকে কিনতে হয় সে ক্ষেত্রে প্রতিটি চারার দাম ১৫-২৫ টাকা হতে পারে।

চারা রোপণ

বর্ষার আগে বা বর্ষায় গর্ত করে চুই লতার বা শেকড়ের কাটিং সরাসরি মাটিতে পুঁতে দিলে সেখান থেকে নতুন গাছের জন্ম হয়। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কাটিংয়ে অন্তত তিনটি গিঁট থাকে যার এক থেকে দুটি গিঁট মাটির নিচে পুঁততে হবে। এ ছাড়া পলিব্যাগেও বীজ থেকে বা লতার কাটিং থেকে চারা তৈরি করে সেসব চারা গর্তে লাগানো যায়। গর্তে জৈব সার দিলে বাড়বাড়তি ভালো হয়। চারা মাটিতে লেগে যাওয়ার পর ৮ থেকে ১০ মাস বয়সের ডাল বা লতা খাওয়ার উপযুক্ত হয়। সাধারণত বসতবাড়ির আঙিনাতেই এ দেশে চুই চাষ করা হয়।

বাউনি দেয়া ও মাটি তোলা

আম, জাম, কাঁঠাল, সুপারি, নারিকেল, দেবদারু, নিম, মেহগনি, শিরিষ প্রভৃতি গাছে চুই লতিয়ে বাড়তে পারে। চুঁইগাছ একবার কোনো গাছকে আঁকড়ে ধরলে তাকে ঝড়ও আর সরাতে পারে না। এ জন্য কোনো ফলের গাছে চুঁইঝালের গাছ তুলে দেয়া উচিত না। এতে সে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন কমে যায়। আম ও জিকা/কচা গাছে তুলে দিলে ভালো ফলন দেয়। বাউনি ছাড়াও চুই হয়। সে ক্ষেত্রে মাটিতেই চুই গাছের ঝোপ হয়। তাকে বলে আইটে চুই। বর্ষার আগে প্রতিটি গাছের গোড়ায় মাটি তুলে উঁচু করে দিতে হয়।

সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা

চারা লাগানোর সপ্তাহখানেক আগে গোবর ও অন্যান্য সার গর্তের মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর প্রতি গাছের গোড়ায় বছরে একবার বর্ষা শেষে ২৫-৫০ গ্রাম ইউরিয়া দিতে হবে। সার দেয়ার সময় গাছের গোড়ায় মাটি হালকা করে কুপিয়ে সেচ দিতে হবে। চুইগাছে সাধারণত কোনো সেচ দেয়া লাগে না। তবে চৈত্র্য-বৈশাখ মাসে গাছের গোড়ায় নিয়মিতভাবে সেচ দিলে ভালো হয়।

চুইঝাল কাটা

চারা লাগানোর ৩ বছর পর আহরণযোগ্য হয়। ৫ থেকে ৭ বছরের গাছে ভালো মানসম্পন্ন চুইঝাল পাওয়া যায়। কান্ড বা লতা কাটার পর অবশিষ্টাংশ থেকে আবার নতুন লতা কাটার পর সেখান থেকে আবার নতুন করে ডাল বা লতা বের হয়। সেসব লতা আবার পরে চুইঝালে পরিণত হয়। তবে ৫ থেকে ৭ বছর পর সম্পূর্ণ গাছ তুলে আবার নতুন গাছ লাগানো ভালো।

ফলন মজুত ও বিক্রি

বয়সভেদে চুইঝালের ফলনও ভিন্ন হয়। ৩-৪ বছর বয়েসী একটি গাছে ১.৫-২.০ কেজি চুইঝাল পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু ৮-১০ বছরের একটি গাছ থেকে ৮ কেজি পর্যন্ত চুই পাওয়া যায়। চুইঝালের গাছ কাটার পর দ্রম্নত শুকাতে থাকে। শুকালে তার বাজারমূল্য কমে যায়। এ জন্য কাটা কান্ড বা ডালপালা সবসময় পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হয়। আঁটি বেঁধে তাতে পানির ছিটা দিয়ে ভিজিয়ে রাখলে ভালো হয়। ভেজা কাপড় বা চট দিয়ে পেঁচিয়েও রাখা যায়। কাটারি দিয়ে ডাল টুকরো করে কেটে ওজনে চুইঝাল বিক্রি করা হয়। মোটা ও গিঁটযুক্ত খন্ড অনেক সময় লম্বালম্বিভাবে কেটে দুভাগে ফালি করেও বিক্রি করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com