আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

সংকটের সময়কে সম্ভাবনায় রূপান্তর, শ্রদ্ধা সকল কৃষক ভাইদের প্রতি

মাঠভরা সোনালী ধান নিয়ে শঙ্কায় হাওরের কৃষকরা
সংকটের সময়কে সম্ভাবনায় রূপান্তর, শ্রদ্ধা সকল কৃষক ভাইদের প্রতি

যে মূল্য আমরা কৃষককে দিই তা সম্ভবত কখনোই যথেষ্ট নয়। শ্রদ্ধা সকল কৃষক ভাইদের প্রতি, যাদের অকৃত্রিম ভালোবাসায় আমাদের সভ্যতা টিকে আছে

“রুটি, মদ ফুরিয়ে যাবে। প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে কিন্তু বইখানা রয়ে যাবে অনন্ত- যৌবনা- যদি তেমন বই হয়।” – ওমর খৈয়াম। আমি বই পড়তে পছন্দ করি। বন্ধুরা বলে, বইয়ের সাথে নির্বাসনে দিলে আমি নাকি দিব্যি আনন্দে সময় কাটিয়ে দিতে পারবো। কথা সম্ভবত খুবই সত্যি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে শহর থেকে গ্রামে আসার সময় সবেমাত্র দুটি বই নিয়ে এসেছি। সিনেমা যা নিয়ে এসেছিলাম তাও শেষ প্রথম কয়েকদিনেই। তাই পুনরায় দেখা শুরু করলাম। বুঝতেই পারিনি এতোদিনের জন্য গ্রামের (কালীগঞ্জ, গাজীপুর) বাড়িতে আটকে যাবো। এখানের পরিস্থিতি ততোটা ভালো না। এখনো পর্যন্ত (২০ এপ্রিল) আমাদের উপজেলায় ৪৪ জনের করোনা পজিটিভ হয়েছে। তার মধ্যে শুধুমাত্র গত ২৪ ঘন্টায় ৩১ জন শনাক্ত হয়েছে। পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নে কয়েকজন সংক্রমিত হওয়ার পর এখানের চলাফেরায় অনেক কড়াকড়ি করা হয়েছে। সময় কিভাবে কাটাবো সে এক মহা আতংকের বিষয় হয়ে দাঁড়ালো। প্রায় বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। অবশেষে চিন্তা করলাম, এই খারাপ সময়গুলোকে ভালো সময়ে রূপান্তরিত করার অন্তত একটা প্রচেষ্টা তো করতে পারি। হঠাৎ করেই নতুন কিছু একটা করার ঝোঁক তৈরি হল। তারপরেই দৃষ্টি পড়ল কৃষি কাজের দিকে।

এই সংকট আমাদের নিত্যদিনের গতানুগতিক জীবন যাপনের পদ্ধতিকে ভেঙে দিয়েছে। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে আমাদের যাবতীয় ব্যবস্থার প্রতি। বলে রাখা ভাল, আমাদের পরিবার সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করার চেষ্টা করছে, যদিও গ্রামে তা বেশ কঠিন। তবুও নিজেদের সীমানা আর পরিসরের মধ্যে থেকেই যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি আমরা। 

এখানের সকালটা শুরু হয় ভিন্নরকম সৌন্দর্য দিয়ে। দোয়েলের শিস, কবুতরের ডাক, মোরগের ডাকসহ বিচিত্র পাখির কোলাহলে মুখরিত গ্রামের সকাল। ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে প্রার্থনা করি। তারপর অল্প সময় মেডিটেশন। মনের চর্চার পর কিছুটা শরীরচর্চাও করি বটে। কারণ এই সময়ে মন এবং শরীর দুটো সুস্থ রাখাই গুরুত্বপূর্ণ। একাডেমিক পড়াশোনায় হাত দেওয়ার পূর্বে কখনো চা-বিস্কুট থাকে কখনো শুধুমাত্র বিস্কুট-ই থাকে। পড়াশোনা শেষে ঘড়ির কাঁটা যখন সকাল নটা ছুঁই ছুঁই তখন আমাদের নাস্তার সময়। 

নাস্তার পরই মূলত শুরু হয় কৃষি সংক্রান্ত কার্যক্রম। এখন দিনের একটা বড় অংশ কৃষি কাজে ব্যয় হচ্ছে। বিভিন্ন গাছের যত্ন নেওয়া, আগাছা নিধন, ভূমি প্রস্তুত, বীজ রোপণ, মাচা মেরামত, গাছের ডালপালা কর্তন এই সবই আপাতত আমাদের কৃষি কাজের গুরুত্বের প্রধান সারণীতে। উল্লেখ্য যদিও আমি গ্রামে জন্মেছি তবুও এই ব্যাপারে আমার একেবারেই জানাশোনা ছিলো না। কারণ যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে এই ভয়ে শৈশবে মা-বাবা দূরে রেখেছিল। তাই নতুন করে অনেক কিছু জানতে হচ্ছে, শিখতে হচ্ছে।

এখন লেবু গাছ, আমগাছ, জাম্বুরা গাছ, জামগাছ, কাঁঠাল গাছ এবং পেয়ারা গাছের যত্ন দিচ্ছি। কোনোটাতে শুধুমাত্র গাছের গোড়ায় মাটি দিলেই হয়ে যাচ্ছে। আবার কোনোটাতে আগাছা পরিষ্কার করে, মাটি আলগা করে গোবর (জৈব সার) মিশিয়ে দিতে হয়েছে। আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে, ইতোমধ্যে লেবু, জাম্বুরা, আম, কাঁঠাল হয়েছে এবং বেড়ে উঠছে। পেয়ারা এবং জামগাছে ফুল হয়েছে। অন্যদিকে আমড়া গাছে ফুল হয়েছে, নারিকেল আছে গাছে, বেল প্রায় পরিণত হয়ে গেছে। কিন্তু কি এক অজানা কারণে এই বেল গাছে তিন কিংবা চারটির বেশি বেল কখনোই দেখা যায়নি। যেহেতু বাজার বন্ধ তাই আর নতুন করে কোনো গাছ লাগানো যাচ্ছে না। শুধুমাত্র একটি পেঁপে চারা এবং কয়েকটি সজনে ঢাল রোপণ করা হয়েছে। অবশ্য ২ দিন পূর্বে বেশ কয়েকটি কলা চারা রোপণ করা হয়েছে। এই সময়ে ত্রাণ চুরির ঘটনা দেখে উপলব্ধি করলাম, আঙুল ফুলে কিভাবে কলাগাছ হয়! যাই হোক সাগর, সবরি, চাম্পা, গেরা এই চার জাতের কলাগাছ রোপণ করা হয়েছে। মনে পড়ছে বিখ্যাত গ্রামীণ প্রবাদ, “কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত।”

আমরা শাক-সবজি বাগানের পরিসর বৃদ্ধি করেছি। লাল শাক পরিণত হয়েছে৷ বেগুন হচ্ছে এবং ঢেঁড়শ চারা বড় হচ্ছে। চাল কুমড়া এবং করলা চারা রোপণ করা হয়েছে। শসা, বাঙ্গি এবং মেস্তা পাতা (চুকুর) চারা এখনো বীজতলায়, মাটি প্রস্তুত করা হচ্ছে। ধুন্দুল চারা সংগ্রহ করেছি। চিচিঙ্গা বীজ খুঁজছি কিন্তু এখনো পাইনি। পেস্তা রোপণ করা হয়েছে। কাকরোল চারা পরীক্ষামূলকভাবে স্বল্প পরিসরে রোপণ করা হয়েছে। একটি মাচা প্রস্তুত করা হয়েছে। আরও সম্ভবত দুটি মাচা প্রস্তুত করতে হবে। বৃষ্টি পেয়ে ধনিয়া পাতা আরও সুন্দর হয়েছে। অতি সম্প্রতি আগাছা এবং বিচ্ছিন্ন জায়গা থেকে ১২টি টমেটো চারা উদ্ধার করেছি। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, অল্প কয়েকদিনের যত্নে এখন চারা প্রায় ফলবান হয়ে উঠেছে।

বাড়ির আশেপাশের আগাছা-ময়লা পরিষ্কার করে, দু-এক জায়গায় মাটি তুলেছি। জীবনে এই প্রথম এতোটা সময় ধরে মাটি কাটা এবং মাটি নেওয়ার অভিজ্ঞতা। কিছুটা কষ্টকর এবং আনন্দময় এই অভিজ্ঞতা। মাটি যেন অপসারিত না হয় সে জন্য দূর্বাঘাসও রোপণ করতে হয়েছে। বৈশাখ মাস বলে ঝড়ের প্রবল সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে, সেক্ষেত্র চারা গাছের জন্য ঠিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।  

সাম্প্রতিককালে পুকুর পাড়ের সব আগাছা পরিষ্কার করেছি। মাছের জন্য খাবার কেনা হয়েছে। এমনকি মাছ লাউ পাতা খেতেও পছন্দ করে। প্রশ্ন করতে পারেন কিভাবে জানলাম? তিনদিন পূর্বে লাউ গাছ মাচা থেকে পুরোপুরি অপসারণ করা হয়েছে তারই কিছুটা অংশ পুকুরে পড়েছিল। দেখলাম লাউ গাছের পাতা একটিও নেই শুধুমাত্র ডাটা আছে! প্রায় বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করছি। অধিকাংশ সময় সরপুঁটি মাছ ধরে, তবে কখনো কখনো তেলাপিয়া, কার্প, শিং এবং অল্পবিস্তর রুই মাছের দেখাও মিলে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পুকুরের পাড়গুলো মেরামত করবো এবং কিছুটা গুছিয়ে মাছ চাষ করবো। 

সম্প্রতি ঘুঘুপাখি ঘরের পাশে বাসা বেঁধেছে। ঘুঘুপাখি একটানা ডাকে। কি যে মায়াবী সুর। মন কোথায় যেন হারিয়ে যায়! বক এবং মাছরাঙা পাখি পুকুরে প্রতিদিন মাছ শিকারের জন্য ঘাপটি মেরে বসে থাকে। ফিঙে পাখির নৃত্য কি অসাধারণ! পুকুরের পাশে ডুমুর গাছ, সেখানে বুলবুলি পাখির চারটি বাচ্চা হয়েছে। মা পাখিটা সারাদিন বাচ্চাদের খাবার সন্ধানরত। শালিক, চড়ুই, দোয়েল, টিয়া, হলদে পাখি, কাঠঠোকরা, বক, মাছরাঙা, কোকিল, টুনটুনি, বাবুই, খয়েরি হাঁড়িচাচাসহ নাম না জানা কতো পাখির কোলাহলে মুখরিত আমাদের আঙ্গিনা। গন্ধরাজ গাছে ফুল ফুটেছে। কি মিষ্টি গন্ধ! প্রজাপতির ছড়াছড়ি। অন্যদিকে ফসলের মাঠে অনেক ফড়িংয়ের দেখা মেলে। নানারকম ঘাস ফুলেদের সাথে নিয়মিত পরিচিত হচ্ছি। নাম না জানা কতো রঙিন ফুলের ঠিকানা এই আগাছা। 

বিকেলে ঘন্টাখানেক নিদ্রাযাপন করি। তারপর কিছুটা সময় পুরাতন সিনেমাগুলোই দেখি। সম্প্রতি পছন্দের তালিকায় যোগ হয়েছে কয়েক ক্যাটাগরির সিনেমা। যেমন: সত্য কাহিনী অবলম্বনে, উৎসাহমূলক এবং রহস্যময়। ঘুম থেকে জেগেই ধানক্ষেত পরিভ্রমণ করি। অবারিত সবুজ, মুক্ত আকাশ এবং মুক্ত বাতাস। বুকভরে নিঃশ্বাস নেওয়া যায়। এসব করে ঘরে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। দুপুরে যদিও তীব্র রোদ কিন্তু সন্ধ্যার নিকটবর্তী সময়ে তাপমাত্রা কমতে থাকে। সম্ভবত গ্রামে এখনো কিছু গাছ আছে বলেই রক্ষা।

সন্ধ্যায় হালকা নাস্তার পর অনলাইনে ইংরেজি শিখতে বসি। আপাতত এক মাসের একটি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি। সেখানে ৩০ দিনে ৩০টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উপর লিখতে হবে। ইতোমধ্যে ১২ দিন সম্পন্ন করেছি। উল্লেখ্য আমার ভাষা শিক্ষা সহযোগী লস এঞ্জেলস থেকে উনি খুবই সহযোগিতাপরায়ণ এবং আন্তরিক। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শেষ হলে, রাতের খাবার খেতে যাই। 

রাতের খাবারের পর প্রায় লিখতে বসি। আজকাল ঝড়ের কারণে মাঝেমধ্যেই বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রথম দিকে মোমের ব্যবহার শুরু করেছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত পুরাতন হারিকেন উদ্ধার করলাম। প্রয়োজন হলে কখনো কখনো হারিকেনও ব্যবহার করছি। হারিকেনের আলো সে এক ভিন্নরকম সৌন্দর্য। যদি কখনো লিখতে গেলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায় তবে লেখা থামাচ্ছি না! অন্ধকারেই লিখছি। যদিও লেখা কিছুটা আঁকাবাঁকা হয়ে যাচ্ছে কিন্তু ব্যাপারটা দারুণ উপভোগ্য। 

সারাদিনই অল্প বিস্তর আড্ডা চলে পরিবারের সাথে। রাতে আলোচনার পরিমাণ আরও বাড়ে। আলোচনার নানা রকম বিষয় থাকে। যেমন: রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, ধর্মীয় বিষয়, করোনাভাইরাস, আমাদের দায়িত্ব, কখনো আলোচনার বিষয় আমাদের সীমানাও ছাড়িয়ে যায় বটে। ছোটবোন কাজিনের নিকট থেকে বেশ কয়েকটি বই সংগ্রহ করেছে। তার দিনের বড় অংশ কেটে যায় এইসব বই পড়েই। ইউটিউবে ভিডিও দেখে নিত্যনতুন রেসিপি তৈরি করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি সেলাই মেশিনে কাপড় বানানো শিখছে। মা যদিও প্রায় সারাদিনই রান্না-বান্না সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত। তবুও কাথা মেরামতে কিছুটা সময় ব্যয় করছে। মাঝেমধ্যে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এবং পাওয়ার পয়েন্টও শেখার চেষ্টা করছে। বাবা আর আমি প্রায় সারাদিনই কৃষি কাজে ব্যস্ত। বাবা দুই একদিন পরপর শুধুমাত্র প্রয়োজনে বাজারে যাচ্ছে। বাজারে দোকান খোলা থাকে সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত। পরিবারের সবাই নামাজগুলো ঘরেই আদায় করছে। নিয়ম করে হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করছে। 

পরিচিতি, ঘনিষ্টজনসহ যারা এখনো শহরে স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছে তাদের সাথে মাঝেমধ্যে যোগাযোগ রাখছি। যোগাযোগ রাখছি আত্নীয়-স্বজন, পরিচিত লোকজনের সাথেও। এমনকি পরিচিতদের মধ্যে যারা চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত তাদের সাথেও যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছি। অনলাইনে অল্প বিস্তর স্বেচ্ছাসেবী কাজও করছি বটে। তবে তা খুবই সামান্য।

হঠাৎ করেই বিভিন্ন রকম কৃষি কাজে অনেক বেশি জড়িত হওয়ার ফলে সর্দির একটা প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাড়িতে কয়েকটি তুলশী গাছ আছে বলে, সেক্ষেত্রে আর কোনো ঔষধের প্রয়োজনও পড়ছে না। সারাদিন মাঝেমধ্যে অনলাইন পত্রিকা দেখে দেশের খোঁজ-খবর রাখছি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকাগুলোতে প্রায় ঢুঁ মারছি। আমাদের একটা পোষা বিড়াল আছে। তার নাম বিল্টু। বিল্টুর সাথেও কিছুটা সময় কাটাচ্ছি। এছাড়াও মা-বাবা, ছোটবোন এবং প্রতিবেশীকে সহযোগিতা করা তো হচ্ছেই।  

এতোকিছুর পরেও ছোটবোন প্রায় ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে। খুব সহজেই রেগে যাচ্ছে। বাবার মেজাজও প্রায় বিগড়ে যাচ্ছে। কখনো কখনো আমার সাথেও জটিলতা হচ্ছে। এমনকি মা ও মাঝেমধ্যে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে। সম্ভবত দীর্ঘদিন ঘরে আটকে থাকার ফলেই এই অবস্থা। এইসব দেখে কখনো কখনো আমার মেজাজও বিগড়ে যাচ্ছে। তবুও আমাকে আরও বেশি ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিতে হচ্ছে।

সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে রাত দশটার মধ্যেই ঘুমের অতল সাগরে হারিয়ে যাই। গভীর রাতে প্রায় ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। অবশ্য নীরবতার জন্য গভীর রাত উত্তম সময়। নীরবতা, নিস্তব্ধতা আমার অসম্ভব পছন্দ। যদিও নীরবতা আর নিস্তব্ধতা মানে শব্দহীনতা নয় বরং বৈচিত্রময় প্রাকৃতিক শব্দের সমাহার বলেই মনে হয়। গভীর রাতে শীতল পরিবেশ বিদ্যমান থাকে। হাজারও জোনাকির সমাহার হয়। যেন আলোর মেলা বসেছে। প্রায় রাতে অজস্র তারাদেরও মেলা বসে। কখনো কখনো তারা গণনা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি তবুও সংখ্যা শেষ হয় না। এই একাকী সময়গুলো নিজেকে উপলব্ধি করা এবং নিজেকে গভীরভাবে জানার সুযোগ তৈরি করে দেয়। সুবিশাল, বিস্তীর্ণ পৃথিবীতে আমাদের প্রজ্ঞা, জ্ঞান কতোটা সীমিত। খুব মনে পড়ছিলো, কার্ল সাগানের সেই বিখ্যাত লেখাটাঃ “Pale Blue Dot: A Vision of the Human Future in Space”। কতোই না ক্ষুদ্র আমরা! কতোই না ক্ষুদ্র আমাদের পৃথিবী! 

এখানের প্রায় প্রতিটি দিন আলাদা। প্রথাগত পদ্ধতি এখানে প্রায় অকার্যকর বলা চলে। কৃষির সাথে জীবনের একটা গভীর সম্পর্ক আছে। এই সম্পর্ক মাঠে থাকলে আরও গভীরভাবে আবিষ্কার করা যায়। আহমদ ছফার “পুস্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ” বইয়ের প্রতিটি লাইন এখন আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারছি। ফসল উৎপাদন কি যে সীমাহীন পরিশ্রমের কাজ, সম্ভবত তা শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা মুশকিল! একটা ধান কিংবা একটা লাউ পরিণত  হওয়া পর্যন্ত কতগুলো ধাপ যে সম্পন্ন করতে হয় তা যদি কেউ জানতো, তাহলে সম্ভবত কোনোদিন কেউ খাদ্যের অপচয় করতো না। আর যে মূল্য আমরা কৃষককে দিই তা সম্ভবত কখনোই যথেষ্ট নয়। শ্রদ্ধা সকল কৃষক ভাইদের প্রতি, যাদের অকৃত্রিম ভালোবাসায় আমাদের সভ্যতা টিকে আছে।

আমাদের গ্রামে (সাইলদিয়া) যুবকদের বেশ কিছু উদ্যোগ আশা জাগানিয়া। গ্রামের বাহির থেকে সকল ধরনের সাধারণ পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারেন না। গ্রামের প্রবেশপথে দুজন পাহারাদার রাখা হয়েছে। যারা বাজার থেকে ফিরে কিংবা গ্রামে প্রবেশ করে তাদের প্রত্যেকের হাত সাবান দিয়ে ধৌত করে তারপর প্রবেশ করতে হয়। যদিও সামাজিক দূরত্ব ব্যাপারটা ততোটা মানা হচ্ছে না। তবে গ্রামের যে দুটি দোকান রয়েছে তা খোলা এবং বন্ধের সময় নির্ধারণ করা আছে। 

সময়টা বেশ সংকটের। আগামী দিনে সংকট হয়তো গভীর থেকে আরও গভীরতর হবে। এখন নিজেদের সাথে বোঝাপড়া করার সময়। ধীরে-স্থীরে, ভেবেচিন্তে পথ চলাই উত্তম। তবে আশার কথা হল, রাত যত গভীর হয় প্রভাত ততোটাই নিকটবর্তী। কিন্তু নিরাশার বিষয় হল, এমনকি কখনো কখনো এটাও সত্যি কোনো কোনো প্রভাত রাতের তীব্র অন্ধকারের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে৷ ঝড়, তুফান, অন্ধকার রাত্রি, সংকট, ভয়,  ব্যাথা, ভোগান্তি, ক্লান্তি, অবসাদ, বিরক্তি, একাকীত্ব এই সবই আমাদের জীবনের অংশ। কখনো কখনো আমারও খুবই ক্লান্তি লাগে। তখন মনে পড়ে, রুমীর বিখ্যাত পংক্তি, “I know you are tried, but come. This is the way” (আমি জানি তুমি ক্লান্ত তবুও আসো, কারণ এটাই জীবনের পথ)।

শুধু মন খারাপ হয় এই ভেবে প্রতিদিন ক্ষুধার্ত মানুষের আহাজারি বাড়ছে। মানুষ আরও বেশি অসহায় হয়ে পড়ছে। সমগ্র পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে এক ভয়াবহ সংকটের দিকে। একদিকে ক্ষুধা, নিগ্রহ, নির্যাতন, নিপীড়ন, যুদ্ধ, সংঘাত, লোভ, হিংসা, ক্ষমতার উদগ্র বাসনা, শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই, পুঁজিবাজ, অবাধ ভোগবিলাস অন্যদিকে মহামারি। সমগ্র পৃথিবীতে মানুষের জন্য আর একখণ্ড নিরাপদ ভূমির অস্তিত্ব নেই! একথা আজ সর্বজনবিদিত, নিজেদের সীমানার মতো মধ্যে কেউ একা ভালো থাকতে পারে না। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরাশক্তিগুলো আজ অসহায়। মানবজাতি নিজেদের মধ্যে সীমানা আর শ্রেষ্ঠত্বের প্রশ্নে হানাহানি, বিভেদ বাড়িয়ে এই পৃথিবীর অস্তিত্বকে কি আরও সংকটের মধ্যে ফেলবে? নাকি এক দেশ আরেক দেশের পাশে, এক মানুষ আরেক মানুষের পাশে দাঁড়াবে। সম্ভবত এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হয়ে গেছে!

তবে এই কঠিন সময়ে মৃত্যুর আশংকা জেনেও অনেক স্বেচ্ছাসেবী, চিকিৎসক, প্রশাসক, আইন-শৃংখলা বাহিনী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অন্য মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এইটুকুই হচ্ছে আশার কথা আর এইটুকুই মানবজাতির শক্তি। আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেও মানুষকে সহযোগিতা করতে পারি, মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কয়েকটি লাইন টেনেই শেষ করছি। “মানুষ বড় একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও, এসে দাঁড়াও, ভেসে দাঁড়াও এবং ভালোবেসে দাঁড়াও, মানুষ বড় কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও।” 

যাই হোক, যখন সমাজে ভয়, অভাব আর ক্ষুধার রাজত্ব বাড়ে তখন গুজব, কুসংস্কার এবং অযৌক্তিক চিন্তার বিকাশ ঘটে। এই সময়টায় মানুষ কাল্পনিক মিথ্যা এবং গুজবের উপর ভর করে সত্য এবং বাস্তবতাকে এড়িয়ে যেতে চায়। তাই আমি সতর্ক আছি, নিজের দুর্বলতাবশতঃ যেন অযাচিত কোনো চিন্তার বিকাশ না ঘটে। অন্যদেরও সতর্ক করতে পারলে ভালো। এই সময়ে গণমাধ্যম এবং যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন তাদের দায়িত্ব একটু বেশি। করোনায় কতোজন আক্রান্ত, কতোজনের মৃত্যু হয়েছে, কোন কোন জেলায় সংক্রমিত হয়েছে শুধুমাত্র এই জাতীয় সংবাদ গণমানুষের মধ্যে আতংক তৈরি করতে পারে। তাই কতোজন সুস্থ হয়েছে, সারাবিশ্বে সুস্থতার পরিমাণ কতোটা বেশি, গড় মৃত্যুহার কতোটা অল্প সেটাও গুরুত্বের সাথে প্রচারের দাবি রাখে। কোন দেশ করোনাকে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে এবং কি কারণে এইসব সংবাদ এবং বিশ্লেষণ সমাজে নতুন আশা তৈরি করতে পারে। কারণ সময় যখন অনেক বেশি প্রতিকূল থাকে তখন অনেক বেশি আশার প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত স্মরণীয় যে, একথা দিনের আলোর মত পরিষ্কার আমাদের সবাইকেই একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। তাই ছোট-বড় যে কোনো কাজই যত্নের সাথেই সম্পাদন করতে চেষ্টা করি। যে কোনো কাজের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মহৎ। আমরা যতক্ষণ বাঁচবো ততক্ষণ আশা নিয়েই বাঁচবো। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে চেষ্টা করবো। আমরা সতর্ক থাকবো। খোদা আমাদের সকলকে নিরাপদে রাখুন। সকলের মঙ্গল কামনা করছি।

এগ্রোবিজ

কৃষকের লাভই সবচেয়ে কম

সবজির সরবরাহ ব্যবস্থায় লাভের ভাগ সবচেয়ে কম পান দেশের কৃষকেরা। সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিপণ্য কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তার কাছে যেতে অন্তত তিন দফা হাতবদল হয়। এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি লাভ করেন।


চট্টগ্রামের শঙ্খ নদের তীরে দোহাজারী ও সাতকানিয়ার নলুয়া, চাগাচর, মুন্সিজরসহ বেশ কিছু এলাকায় চাষ হয় নানা জাতের সবজি। এসব সবজি নৌকায় করে পাইকারি বিক্রির জন্য কৃষকেরা নিয়ে যান দোহাজারীর সবজিবাজারে। গত বৃহস্পতিবার সকালে। ছবি: সৌরভ দাশসবজির সরবরাহ ব্যবস্থায় লাভের ভাগ সবচেয়ে কম পান দেশের কৃষকেরা। সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিপণ্য কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তার কাছে যেতে অন্তত তিন দফা হাতবদল হয়। এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি লাভ করেন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ২০১৭–১৮ অর্থবছরে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে তিনটি সবজির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে লাভ ও মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ তুলে ধরেছে। এতে দেখা যায়, কৃষক যে আলুর দাম কেজিপ্রতি ৯ টাকারও কম পান, সেটি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে দাম হয় ২২ টাকা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ২০১৭–১৮ অর্থবছরে দেশে ৩৮ লাখ টনের কিছু বেশি সবজি উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৩ লাখ টন শীত ও ১৫ লাখ টন গ্রীষ্মকালীন সবজি। অবশ্য হিসাবের মধ্যে আলু নেই। বিবিএসের হিসাবে, গত অর্থবছরে প্রায় ৯৭ লাখ টন আলু উৎপাদন করেছেন দেশের কৃষকেরা।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৭–১৮ অর্থবছরে এক কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় হয় ৭ টাকা ৬০ পয়সা। গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা লাভে ওই আলু কৃষক বিক্রি করেন প্রতি কেজি ৮ টাকা ৮৫ পয়সা দরে। স্থানীয় ব্যবসায়ী একই আলু কিনে বিক্রি করেন ১২ টাকা ২০ পয়সা দরে। এতে তাঁর ব্যয় হয় ১ টাকা ১০ পয়সা, লাভ হয় সোয়া ২ টাকা। পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হয় ১৭ টাকা ১৫ পয়সা কেজিতে। পাইকার ১ টাকা ৬০ পয়সা খরচ করে লাভ করেন ৩ টাকা ৩৫ পয়সা। খুচরা বিক্রেতা কেজিতে ৯০ পয়সা ব্যয় ও ৩ টাকা ৯৫ পয়সা লাভ করে আলু বিক্রি করেন প্রতি কেজি ২২ টাকায়।

একইভাবে প্রতি কেজি বেগুনে কৃষকের ১ টাকা ৮৯ পয়সা, স্থানীয় ব্যবসায়ীর আড়াই টাকা, পাইকারের ৪ টাকা ১৩ পয়সা ও খুচরা বিক্রেতার ৯ টাকা ৩৬ পয়সা লাভ থাকে। প্রতি কেজি টমেটোতে কৃষকের লাভ ২ টাকা ১০ পয়সা, স্থানীয় ব্যবসায়ীর লাভ ৩ টাকা, পাইকারের লাভ ৬ টাকা ৬০ পয়সা ও খুচরা বিক্রেতার লাভ ৭ টাকা ২৮ পয়সা।

জানতে চাইলে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যখন ফুলকপি ৫ টাকা দরে বিক্রি করি, বগুড়া শহরে গিয়ে সেই ফুলকপিই ২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখি।’ তিনি বলেন, কৃষিতে যে পরিমাণ ঝুঁকি, বিনিয়োগ ও পরিশ্রম, তাতে লাভ বেশি নয়। পরিবারের কেউ চাকরি না করলে, অথবা বিদেশে না থাকলে কৃষিকাজ করে মোটামুটি সচ্ছল জীবনযাপন করা সম্ভব নয়।  

বেগুনে লাভ বেশি

অবশ্য সার্বিকভাবে সবজি চাষ কৃষকের জন্য লাভজনক। পরিসংখ্যান ব্যুরো ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সমীক্ষায় বিভিন্ন ফসলে কৃষকের মুনাফার চিত্র উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০১৫ সাল থেকে ফুলকপি, মিষ্টিকুমড়া, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন ও আদা চাষের ওপর সমীক্ষা করে দেখেছে, এসব ফসল আবাদে ১০০ টাকা বিনিয়োগ করলে তার বিপরীতে প্রায় শতভাগ লাভ হয়।

অন্যদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০১৭–১৮ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি একর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে কৃষকের ব্যয় হয়েছে ৭৬ হাজার ৮৭৪ টাকা। বিপরীতে তাঁর মুনাফা হয়েছে ৪০ হাজার ৬৬৬ টাকা। এক একর জমিতে রসুন আবাদ করলে মুনাফা হয় ৫৪ হাজার ৪৯৮ টাকা। আলুতে লাভ কম, ৩৫ হাজার টাকার মতো। বেগুনে অবশ্য মুনাফা বেশি, একরে প্রায় ৯৯ হাজার টাকা। টমেটো চাষে লাভ একরপ্রতি ৬৮ হাজার টাকার কিছু বেশি।

এবার শীত খারাপ কাটল

এবার শীত মৌসুমে বাড়তি সবজি আবাদ করে মন্দ সময় কেটেছে চাষিদের। প্রতিবার শীতে কখনো দাম বেশ বেড়ে যায়, কখনো কম থাকে। এবার পুরো শীতেই সবজির দর তুলনামূলক কম ছিল। বিশেষ করে পেঁয়াজ ও আলুচাষিরা খরচের টাকা ঘরে তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

কৃষক, ফড়িয়া ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীত মৌসুমে আগাম ও স্বাভাবিক সময় মিলিয়ে এ বছর সবজির আবাদ আগের বছরের চেয়ে বেশি হয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। এ কারণে শীত মৌসুমের পুরোটা সময়ই বাড়তি সরবরাহ ছিল। ফলে দামের খুব একটা ওঠানামা হয়নি। পুরোটা সময় দাম বেশ কম ছিল।

রাজধানীর খুচরা বাজারে এখন বেশির ভাগ সবজির দর কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে। কারওয়ান বাজারের আড়তে এসব সবজি মিলছে আরও কম দামে। কৃষক পর্যায়ে দাম একেবারেই নগণ্য। বগুড়ার মহাস্থানহাটে গত রোববার পাইকারি দোকানে প্রতিটি ফুলকপি ৭–৯ টাকা, বাঁধাকপি ৫–৬ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১০ টাকা, শিম ১২–১৫ টাকা, মুলা ৫–৬ টাকা, আলু ৫–৬ টাকা ও ক্ষীরা ১৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

মহাস্থানহাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, কিছুদিন আগে দাম আরও অনেক কম ছিল। সে তুলনায় এখন কিছুটা বাড়তি। কারণ মৌসুম শেষ হয়ে আসছে। জানতে চাইলে মহাস্থানহাটের আড়ত মালিক মো. ফারুক মিয়া বলেন, হাটে যে দামে সবজি বিক্রি হয়, তার চেয়েও কিছুটা কম দাম পান কৃষক। কারণ, তাঁর পরিবহন ও তোলার খরচ দিতে হয়। সব মিলিয়ে এবার বাজার খারাপ গেছে। চাষিরা দাম পাননি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ভোক্তার জন্য নিরাপদ খাদ্য, কৃষকের চাই লাভ


• কৃষক যেন ফসলের ন্যূনতম লাভজনক দাম পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি
• একই সঙ্গে সুলভ দামে নিরাপদ খাদ্য দিতে হবে ভোক্তাকে


কৃষকের চাই ফসলের ন্যায্যমূল্য। ভোক্তার চাই সুলভ মূল্যে নিরাপদ খাদ্য। মোটা দাগে এ দুটি বিষয় নিশ্চিত করাই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। খাদ্যের উৎপাদন বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ দেশ অনেকটাই পেরিয়ে এসেছে।

উৎপাদন বাড়লে দাম কমে। ভোক্তা সস্তায় খাবার পান, কিন্তু কৃষক ফসলের ভালো দাম পান না। উৎসাহ হারিয়ে পরের মৌসুমে কৃষক আবাদ কমিয়ে দেন, খাবারের দাম যায় বেড়ে।

কিন্তু এই হিসাবটা এত সহজ না। চ্যালেঞ্জটিও তাই জটিল। দেশে ধারাবাহিকভাবে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়েছে, উৎপাদনের খরচও বেড়েছে। গবেষক ও পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, সরকারকে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। পাশাপাশি কৃষক যেন ফসলের ন্যূনতম লাভজনক দাম বা মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি থেকে কৃষককে রক্ষা, ক্ষেত্রবিশেষে বিদেশ থেকে অবাধ আমদানি না করা, কৃষক ও ভোক্তাবান্ধব আমদানি শুল্ক বসানো এবং ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা বাড়ানো জরুরি। সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে রাখাও দরকার।

কৃষিকাজ করে সিংহভাগ কৃষক পরিবার সচ্ছলতার মুখ দেখতে পারে না। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলছেন, শুধু কৃষিকাজ করে জীবিকা চালানো কঠিন। কৃষক পরিবারের সন্তানেরা বেশির ভাগই কৃষিকাজে থাকতে চায় না।

সেলিম রায়হান আরও বলেন, ‘ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডেও বাংলাদেশের মতো ছোট ছোট জমিতে কৃষিকাজ হতো। পরে সেটা বাণিজ্যিক রূপ পায়। কৃষকেরা একত্র হয়ে চাষ করেন। এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ বাড়ে, প্রযুক্তি আসে ও উৎপাদন খরচ কমে। পাশাপাশি সুরক্ষার জন্য বিমাও চালু হয়। বাংলাদেশকেও সেই পথেই যেতে হবে।’

দেশের সাধারণ কৃষকের জন্য সবচেয়ে বড় ফসল ধান। এখন বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন চাল উৎপাদিত হয়। এতে চাহিদা প্রায় মিটে যায়। তবে দুর্যোগে ফসলহানি হলে আমদানি করতে হয়।

আলু হয় চাহিদার অনেক বেশি। সবজি, মাছ, মাংস, ডিমও আমদানি করতে হয় না। দেশি পেঁয়াজেই চাহিদার বেশির ভাগ মেটে। তবে গম, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি আর আদা-রসুনের বড় অংশই আমদানিনির্ভর।

কৃষকেরা সবচেয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন ধানের দাম নিয়ে। গত আমন মৌসুমে তাঁরা ধানের দাম কম পেয়েছেন। কয়েক বছর ধরে পানির দরে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। দুই মৌসুম হলো পেঁয়াজের উৎপাদন খরচই উঠছে না।

সবজি আবাদ মোটের ওপর লাভজনক। তবে দাম না পেয়ে প্রায়ই সবজি গরুকে খাওয়াতে অথবা ফেলে দিতে বাধ্য হন চাষিরা। পাটের দাম নিয়ে হতাশা ফিরে ফিরে আসে।

মাছ চাষে লাভ আছে, বিনিয়োগও লাগে। পাঙাশ, তেলাপিয়ার মতো সাধারণ মাছে মুনাফা খুবই কম থাকে। দামের ওঠানামায় টিকতে না পেরে মুরগি ও ডিমের হাজার হাজার ছোট খামার বন্ধ হয়ে গেছে। গবাদিপশু আর দুধের চাহিদা আর দামও ওঠানামা করে, প্রায়ই খামারিরা দুধ ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানান।

ধান নিয়েই বেশি দুশ্চিন্তা
দেশের খুচরা বাজারে এখন প্রতিকেজি চাল ৩৪ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত আমন মৌসুমে চালের উৎপাদন খরচই পড়েছে কেজিতে ৩৪ টাকা।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোরো মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ছিল সাড়ে ২৪ টাকা। কৃষকেরা ধান বিক্রি করে ২৫ টাকা বা তার কিছুটা কম দাম পেয়েছিলেন।

কৃষক যেন ধানের ন্যায্যমূল্য পান, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব খাদ্য মন্ত্রণালয়ের। ফসল ওঠার মৌসুমে মন্ত্রণালয় উৎপাদন খরচ বের করে কৃষকের জন্য লাভজনক একটা দাম ঠিক করে দেয়। তারপর মন্ত্রণালয় সেই দামে সরকারি গুদামের জন্য ধান-চাল সংগ্রহ করে। আমদানি শুল্ক ধার্য করার সময় কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ দেখে পরামর্শ দেওয়ার কাজটিও তাদের।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক কাজী সাহাবউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় চালের দাম, মজুত ও আমদানির ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করতে পারেনি। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। নেতৃত্বে দক্ষতারও ঘাটতি ছিল। কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে ভূমিকা রাখতে হবে। নতুন সরকারের মন্ত্রীর সে পরিকল্পনা থাকা দরকার।

২০১৩ সাল থেকে দেশের বাজারে চালের দাম মোটামুটি একই ছিল। ২০১৭ সালে হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ফসলহানি হয়। উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কার মুখে ব্যবসায়ীরা চালের দাম অনেক বাড়িয়ে দেন।

সে সময় দরিদ্র মানুষের জন্য ১০ টাকা দরে চাল দিয়ে আসছিল সরকার। সরকারি গুদামে মজুত ছিল কম। সরকার তখন নিজেরা চাল আমদানি করে। আর বেসরকারি খাতে আমদানি বাড়াতে শুল্ক একেবারেই কমিয়ে দেয়।

আমদানি বাড়ে, তবে চালের দাম তেমন কমে না। ২০১৮ সালে বোরো মৌসুমে ব্যাপক আবাদ ও ফলন হলে ধানের দাম পড়ে যায়। সরকার তখন চালের আমদানি শুল্ক আবার বাড়িয়ে দেয়। তখন আমদানি কমে গেলে দাম আবার বাড়ে। তবে লাভ করেন ব্যবসায়ীরা, কৃষকের জন্য ধানের দাম এখনো লাভজনক হয়নি।

২০১৯ সালের গোড়ায় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএ বলেছে, বিশ্বে এ বছর ধানের উৎপাদন সবচেয়ে বেড়েছে বাংলাদেশে।

সবজিতে লাভ বেশি, তবে…
সবজিসহ দেশের অন্যান্য প্রধান কৃষিপণ্যগুলোর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কাজটি বাজারের নিয়মে ঘটে। সেসব ক্ষেত্রে কৃষকের উৎপাদন খরচ ও ভোক্তার ক্রয়মূল্যের মধ্যে ফারাক কমানোর কোনো চেষ্টা সরকারকে করতে দেখা যায় না।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে (২০১৭-১৮) তিনটি সবজির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে লাভ ও দাম বাড়ার তথ্য দেওয়া আছে। এতে দেখা যায়, ওই অর্থবছরে এক কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ৭ টাকা ৬০ পয়সা। কৃষক সেটা স্থানীয় ব্যবসায়ীকে বিক্রি করেছেন গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা লাভে। আরও দুই হাত ঘুরে সেই আলু ভোক্তার কাছে যাচ্ছে। ভোক্তা কিনছেন ২২ টাকা কেজি দরে। প্রতি ধাপেই বিক্রেতার লাভের পরিমাণ কৃষকের চেয়ে বেশি। একই দশা বেগুন ও টমেটোতেও।

দেশে বছরে আলু উৎপাদিত হয় ৯৫ লাখ টনের বেশি। ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশে আলুর চাহিদা ৬০-৬৫ লাখ টন। বাড়তি উৎপাদনের কারণে বাজারে এখন আলুর দাম কেজিপ্রতি ১৫ টাকায় নেমেছে। কৃষক পর্যায়ে এ দর চার থেকে ছয় টাকা। অথচ এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ সাড়ে ৭ টাকার মতো।

পেঁয়াজেও একই চিত্র। ভরা মৌসুমে ভারত থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আসছে। ফলে খুচরা বাজারে দাম নেমেছে কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকায়। কৃষক পাচ্ছেন ১০-১২ টাকা।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক বছর আগের তুলনায় এখন বাজারে আলুর দর ৪০ শতাংশ ও পেঁয়াজের দর ৫২ শতাংশ কম। আলু-পেঁয়াজের দর এখন উৎপাদন খরচের চেয়ে কম। কৃষক লোকসান গুনে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

নিরাপদ খাদ্য
দেশে এখন খাদ্যের অভাব নেই, তবে নিরাপদ খাদ্যের অভাব আছে। কৃষিতে অতিমাত্রায় কীটনাশকের ব্যবহার বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। খামারের মাছ-মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক আর ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যচক্রে আরও দূষণের ঝুঁকি আছে।

সরকারের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দরকার গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (ভালো কৃষির চর্চা—গ্যাপ) নিশ্চিত করা, যেখানে পরিমিত মাত্রায় সঠিক কীটনাশক ও সার ব্যবহার করা হবে। কৃষি দপ্তর ‘বাংলা গ্যাপ’ পরিকল্পনা করেছে। এখন তার বাস্তবায়ন করতে হবে।’

পরিবেশদূষণের কারণে অনেক সময় মাটি ও পানি থেকে ভারী ধাতু ফসলে ঢুকছে। সেটা খাবারের মধ্য দিয়ে মানুষের শরীরেও ঢুকছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুধসহ বিভিন্ন খাদ্যে ধাতু বা অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য বিস্তারিত গবেষণা দরকার।

বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়ে যাওয়া নিয়ে সরকারের আত্মতৃপ্তি আছে বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ এম এম শওকত আলী। তিনি বলছেন, উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক এই সচিব আরও বলেন, কৃষক নিজের উদ্যোগে সবজি ও মাছ চাষে যে বিশাল বিপ্লবটি করে ফেললেন, তা যাতে টেকসই হয় সে জন্য তাঁদের সহায়তা দিতে হবে। তাঁদের উৎপাদিত খাদ্যকে নিরাপদ করার উদ্যোগ নিতে হবে। এটা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞ অভিমত
কৃষির নতুন প্রযুক্তিতে নজর দিতে হবে
কে এ এস মুরশিদ
মহাপরিচালক, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)

গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষি এখনো বড় ভূমিকা রাখে। কৃষির যে উন্নতি আমরা ১০-১২ বছর ধরে দেখছি, তার গতি এখন ধীরে ধীরে শ্লথ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে হলে কৃষির নতুন প্রযুক্তির দিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

চালের দাম নিয়ে নীতি নির্ধারকসহ দেশের বিভিন্ন মহলে প্রথাগত মানসিকতা রয়েছে। সবাই মনে করে, চালের দাম কম থাকলে ভালো। চালের দাম নিয়ে এত সংবেদনশীল হওয়ার কিছু নেই। যারা হতদরিদ্র, তাদের বিষয় আলাদা। তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাওয়া দরকার। সাধারণভাবে বাজারে চালের দাম দু-এক টাকা বেড়ে গেলেই উদ্বেগ–উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। এটি ঠিক নয়। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যে উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করাটা জরুরি।

গ্রামে কৃষির উন্নয়নে ক্ষুদ্রঋণ, মোবাইলের মাধ্যমে অর্থের লেনদেন থেকে শুরু করে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ বড় ভূমিকা রাখছে। এসব প্রযুক্তি কৃষকের জন্য সংযোগ ও নানা সুবিধা এনে দিচ্ছে। এমন কোনো নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া ঠিক হবে না, যাতে কৃষকের সুযোগগুলো সংকুচিত হয়। সরকারি পর্যায়ে কৃষি পণ্যের বিতরণব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী এবং কার্যকর করতে হবে।

আমাদের জাতীয় ও গৃহস্থ পর্যায়ে খাদ্যসংকট একসময় নিয়মিত ব্যাপার ছিল। এখন আমরা সেই স্তর অতিক্রম করেছি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের প্রধান খাদ্য চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এটি স্বস্তির পরিস্থিতি দিয়েছে, যার ওপর ভর করে আমরা এখন আরও সামনের দিকে এগোচ্ছি। এখন আমাদের নিরাপদ খাদ্যের কথা চিন্তা করতে হবে। খাদ্যে যাতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক কিছু না থাকে। অনিরাপদ খাদ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দুর্বল করে দেবে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকেও এখন সময় উপযোগী করতে হবে। আগের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যে কাজ করছে না তার বড় প্রমাণ হচ্ছে খোলা বাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কৃষকের ধান চাষে ভর্তুকি দেব, না অন্য কোথাও দেব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

‘বাঙ্গির গ্রামে’ ম-ম ঘ্রাণ

তখনো সূর্যের আলো ঠিকমতো ফোটেনি। কৃষকেরা ব্যস্ত জমি থেকে বাঙ্গি তুলতে। সকাল সাড়ে সাতটার আগে বাঙ্গিগুলো হাটে নিতে হবে। তা না হলে বাঙ্গিগুলো বিক্রি করার জন্য দিনভর অপেক্ষা করতে হবে।

এ অবস্থা ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের ভাঙ্গাভিটার। গত শনিবার ভোরে বাঙ্গির গ্রাম হিসেবে পরিচিত জায়গাটিতে গিয়ে দেখা যায়, সকালের হাট ধরতে কৃষকদের তোড়জোড়। খেত থেকে বাঙ্গি উঠিয়ে ভ্যানে রাখছেন। কৃষকেরা জানান, তাঁদের এলাকার বাঙ্গির সুনাম সারা দেশে রয়েছে। শুধু এই ফলকে কেন্দ্র করে এ মৌসুমে ভাঙ্গাভিটা ইছামতীর পাড়ে প্রতিদিন সকাল-বিকেল দুই বেলা বসে বাঙ্গির হাট।

গ্রামের ২০০ বিঘা জমিতে বাঙ্গি চাষ হয় বলে জানান কৃষকেরা। প্রায় ১৮০টি পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে এর ওপর। তাঁরা জানান, মূলত ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত বাঙ্গি চাষ হয়। বাকি সময় চলে আমন ধানের আবাদ।

সড়কপথে যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় ইছামতী নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হয় গ্রামটিতে। ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়কের পাশে মরিচা ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা নৌকা নিয়ে যাওয়া যায় ভাঙ্গাভিটার বাঙ্গির হাটে। নদীপথে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের পথ। সরেজমিনে দেখা যায়, বাঙ্গির ম-ম গন্ধ এলাকাজুড়ে। গাঁয়ের মেঠো পথ দিয়ে হেঁটে গেলে বাঙ্গির ঘ্রাণ নাকে আসে। কৃষক মধুসূদন মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের এই এলাকার বাঙ্গি চাষ হয় কোনো ধরনের সারের ব্যবহার ছাড়া। এটা বাঙ্গির গ্রাম হিসেবে পরিচিত। এই হাট থেকে বাঙ্গি রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় যায়।’

কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় ন্যায্যমূল্য পান না বলে জানান মধুসূদন। বলেন, ‘এক ঝাঁকা বাঙ্গি (৩০টি) পাইকারদের কাছে নিয়ে আমরা বিক্রি করি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। কিন্তু এগুলো বাজারে গিয়ে প্রতিটি বিক্রি হতো ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। রাস্তাঘাট ভালো হলে আমরা সদরে নিয়ে বিক্রি করতে পারতাম। ন্যায্যমূল্যও পেতাম।’

বাঙ্গিচাষি বিনন্দ বদ্দি জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই জমিতে রোপণ করা হয় বাঙ্গিবীজ। একটি বাঙ্গি গাছ বড় হতে সময় লাগে চার-পাঁচ মাস। নিয়মিত পরিচর্যা করার পর ফাল্গুন মাসের প্রথম দিকে গাছে ফুল আসে এবং ফল ধরা শুরু হয়। চাষিরা পুরো চৈত্র মাস বাঙ্গি তুলতে পারেন। স্থানীয় কৃষক চিত্তরঞ্জন মণ্ডল জানান, তাঁর জমিতে বাঙ্গির ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন আগে বৃষ্টি হওয়ায় বেশির ভাগ বাঙ্গি পচে গেছে। ফলে লোকসান নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে বাঙ্গি কিনতে আসা মো. শাহাজউদ্দিন বলেন, তিনি সাত-আট বছর ধরে ভাঙ্গাভিটা থেকে বাঙ্গি কিনে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন হাটে বিক্রি করেন। যোগাযোগব্যবস্থা খুবই খারাপ। তাই কোনো গাড়ি সেখানে যেতে পারে না। বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ ভাড়ায় গাড়ি আনতে হয়।

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল আমীন প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এ বছর বাঙ্গির ফলন ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, ভাঙ্গাভিটা এলাকায় বাঙ্গির ফলন বেশ ভালো হয়। ওই এলাকার প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে বাঙ্গির চাষ হয়। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থা তেমন ভালো না হওয়ায় কৃষকেরা মূল্যটা ভালো পাচ্ছেন না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মরিচ চাষে ভাগ্যবদল

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গুঠাইল এলাকায় যমুনা নদীর পারেই সপ্তাহে দুই দিন শুকনো মরিচের হাট বসে। প্রতি হাটেই ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মণ শুকনো মরিচ ক্রয়-বিক্রয় হয়। এর আনুমানিক মূল্য অর্ধকোটি টাকা। এবার মরিচের ভালো দামে চাষিরা বেশ খুশি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবার ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৪ হাজার চাষি মরিচ আবাদ করেছেন। গত বছর ২ হাজার ৯৫০ হেক্টরে মরিচ চাষ হয়েছিল। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় রোপণ করা হয়। চার মাসের মধ্যে ফলন আসে। গত মাস থেকেই মরিচ তোলা শুরু হয়েছে। দেশি জাতের বালুজুড়ি মরিচ আবাদ হয়েছে বেশি।

গতকাল সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনা নদীর একদম পারেই বিশাল শুকনো মরিচের হাট। চারদিকে মরিচের গন্ধ। কেনাবেচা নিয়ে চাষিরা ব্যস্ত। দরদাম ঠিক করে চাষিদের কাছ থেকে ক্রেতা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন মরিচ। হাটে গড়ে উঠেছে অর্ধশত মরিচের আড়ত।

কয়েকজন চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীভাঙন ও বন্যাকবলিত উপজেলা ইসলামপুর। উপজেলার পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত যমুনা নদী। একসময় বোরোই ছিল এ অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ফসল। কিন্তু ধান চাষে তেমন লাভ না হওয়ায় চাষিরা মরিচ আবাদে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন। মরিচ বিক্রির বাড়তি অর্থে জীবনে এসেছে স্বাচ্ছন্দ্য। অনেকে সংসারের খরচ মিটিয়ে সঞ্চয়ও করতে পারছেন।

ব্যবসায়ী ও চাষিদের সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুলকান্দি, হরিণধরা, বেলগাছা, ধনতলা, সিন্দুরতলা, চর বরুল, মন্নিয়ার চর, সাপধরী, চেংগানিয়া, চর শিশুয়া, কুকুরমারি, চর মুন্নিয়া, কালির চর, রামতলা ও প্রজাপতি এলাকায় এই মরিচ চাষ হয়। সপ্তাহের শুক্র ও সোমবার গুঠাইলে মরিচের হাট বসে। প্রতি হাটে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মণ মরিচ কেনাবেচা হয়। মরিচের প্রকারভেদে প্রতি মণ ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

চেংগানিয়ার চাষি মোতালেব হোসেন গুঠাইল হাটে মরিচ বিক্রি করতে এসেছেন। ভালো দাম পেয়ে খুশি মোতালেব বলেন, তিনি এবার সাড়ে ১০ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছিলেন। এতে ৭৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। তাঁর ফসলও ভালো হয়েছিল। তিনি এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন। আরও ১ লাখ ১০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবেন।

কালির চর এলাকা থেকে মো. সেলিম মিয়া হাটে মরিচ বিক্রি করতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘এবার তিন বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছিলাম। ফলন খুব ভালো হয়েছে। কাঁচা মরিচ বিক্রি করেছিলাম প্রায় ৫০ হাজার টাকার। এক সপ্তাহ ধরে শুকনো মরিচ বিক্রি শুরু করেছি। এ পর্যন্ত আরও প্রায় ৭৫ হাজার টাকার শুকনো মরিচ বিক্রি করেছি। আরও ১ লাখ টাকার মতো বিক্রি করা যাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন  বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহের মধ্যে ইসলামপুরের পশ্চিম অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি মরিচ চাষ হয়। চাষিরা এবার ভালো দাম পাচ্ছেন। গুঠাইল হাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারেরা এসে সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে মরিচ কেনেন। এতে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। প্রতি হাটে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মণ মরিচ বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি কার্যালয়ের পরামর্শে চাষি মরিচ চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সবুজ খেতের মধ্যে বেগুনি ধান


  • দুলালী সুন্দরী, বঙ্গবন্ধু ইত্যাদি নামে পরিচিত
  • বিশেষ কোনো জাত নয়, অন্য ধানের মতোই
  • ধানগাছের পাতা ও কাণ্ড বেগুনি রঙের হয়
  • চাঁদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাদ হয়েছে

চারপাশে সবুজ ধানখেত। মধ্যে এক ফালি জমিতে বেগুনি রঙের ধানগাছ। রঙিন এই ধানের আবাদ দেখতে প্রায়ই আশপাশের লোকজন এসে ভিড় করছেন। অনেকে নতুন ধরনের এই ধানের চাষ করতে উৎসাহের কথাও জানাচ্ছেন।

বেগুনি ধানের এই আবাদ করেছেন কৃষক আক্তারুজ্জামান পাটওয়ারী। তাঁর বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাহাপুর গ্রামে। চলতি বোরো মৌসুমে সাড়ে ১৫ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই ধানের চাষ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, চাঁদপুরে তিনিই এই জাতের ধানের প্রথম আবাদকারী।

জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুর রশিদ বলেন, এটি বিশেষ কোনো জাত নয়, অন্য ধানের মতোই। কেউ এর নাম বেগুনি সুন্দরী, কেউ দুলালি সুন্দরী নামে ডাকছেন। এটি ধানখেতের সীমানা নির্ধারণের জন্য উদ্ভাবন করা হয়। পরে দেশের দু-একটি জায়গায় এই ধান চাষ করা হয়। কিন্তু ফলন তেমন ভালো না হওয়ায় এটির আবাদ বাড়ানো হয়নি।

এর আগে গত মৌসুমে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে দুলালি বেগম ও কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার মনাগ্রামের কৃষক মনজুর হোসেন বেগুনি রঙের ধানের চাষ করেছেন। এ বছর শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ভেদিকুড়া গ্রামের শাহিনুর আলম এই জাতের ধানের চাষ করেন।

গাইবান্ধার কিষানি দুলালি বেগম জানান, তিনি অন্যবারের মতো স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ করেন। এর মধ্যে তিনি কিছু বেগুনি রঙের গাছ দেখতে পান। পরে সেসব গাছ থেকে আলাদা করে বীজ সংগ্রহ করেন। পরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের পরামর্শমতো তিনি এই ধানের আবাদ করেন।

অপরদিকে কুমিল্লার কৃষক মনজুর হোসেন বলেন, তিনি ২০১৭ সালে সুন্দরবন এলাকায় বেড়াতে যান। পথে সাতক্ষীরায় এক কৃষকের জমিতে তিনি বেগুনি রঙের ধান দেখেন। সেখান থেকে বীজ সংগ্রহ করে এনে তিনি আবাদ করেন।

সম্প্রতি ফরিদগঞ্জের শাহাপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে সবুজ ধানখেত। মধ্যে একচিলতে জমিতে বেগুনি রঙের ধানের আবাদ। যেন সবুজের বুকে বেগুনি বিছানা। কিছু গাছে ধানের ছড়া বেরিয়েছে।

এই গ্রামের কৃষক আক্তারুজ্জামান বলেন, তাঁর এক আত্মীয় গাজীপুর থেকে এই ধানের বীজ এনেছেন। সেই আত্মীয় এক কেজি বীজ তাঁকে দিয়েছেন। সেই বীজ বুনে চারা তৈরি করে তিনি সাড়ে ১৫ শতক জমিতে রোপণ করেছেন। অন্য অনেকেও তাঁর কাছ থেকে এই ধানের বীজ চাইছেন। আর মাসখানেক পর এই ধান পাকবে। যদি ফলন ভালো হয়, তবে অন্যান্য কৃষককেও এর বীজ দেবেন তিনি।

একই গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, ফরিদগঞ্জ ধান চাষের জন্য অন্যতম উৎকৃষ্ট এলাকা। সারা বছর এখানকার কৃষকেরা ধান চাষ করে থাকেন। তাঁর এলাকায় এবার রঙিন ধানের আবাদ হয়েছে জেনে আশপাশের অনেকে দেখতে আসছেন।

জানতে চাইলে ফরিদগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নূরে আলম বলেন, ‘বেগুনি রঙের এই ধানের চাষ চাঁদপুরে এই প্রথম। এই ধানের পাতা ও কাণ্ডের রং বেগুনি। শুধু গাছ নয়, এর চালের রংও বেগুনি। তাই এখানকার কৃষকদের কাছে এটি বেগুনি ধান হিসেবে পরিচিত। কৃষক আক্তারুজ্জামান নিজ উদ্যোগে বীজ সংগ্রহ করে এর আবাদ করেন। পরে আমরা জানার পর সরকারিভাবে খেতটি পর্যবেক্ষণ করছি। এর ফলন কী রকম হয়, তা দেখার পর ভবিষ্যতে এর আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বিদেশি কোনো জাত নয়।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com