আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

শোল মাছকে আমরা ‘রাক্ষুসে মাছ’ বলে থাকি। শোল মাছ বাজারের দামি মাছ। এই মাছ দামি হলেও চাষে খরচ খুবই কম। শোল মাছ সব ধরনের দুর্যোগ বা প্রতিকূল পরিস্থিতি সহ্য করতে পারে। মা শোল মাছই নিজেদের মতো করে ডিম নার্সিং ও পোনা লালন করে।

পোনা মজুত
বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে শোল মাছ চাষ না হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে সংগ্রহের ওপর জোর দিতে হবে। বৈশাখ মাস শোল মাছের প্রজনন মৌসুম। বৈশাখ মাসের প্রথম থেকে শোল মাছ বাচ্চা দিতে শুরু করে। বাচ্চাগুলো এক ঝাঁকে থাকে। সেই সময় হাওর-বাঁওড়, পুকুর থেকে সপ্তাহখানেক বয়সের বাচ্চা সংগ্রহ করতে হবে। পোনা পাওয়া না গেলে বড় শোল মাছ সংগ্রহ করে পুকুরে ছেড়ে দিতে হবে। এককভাবে প্রতি শতাংশে ১০টি দেয়া যেতে পারে। মিশ্র পদ্ধতিতে চাষের জন্য প্রতি শতাংশে ৪টি। একটি প্রাপ্তবয়স্ক শোল মাছ লম্বায় ২.৫-৩ ফুট হতে পারে।

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

পুকুর প্রস্তুতি
যেকোনো পুকুরেই শোল মাছ চাষ করা যায়। তবে তাকে উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে। যে পুকুরে শোল চাষ হবে সে পুকুরে কচুরিপানা অথবা কলমিলতা থাকলে ভালো হয়। কারণ শোল মাছ আড়ালে থাকতে পছন্দ করে। তবে কচুরিপানায় যেন পুকুর ভরে না যায়। পুকুরের চারদিকে কমপক্ষে ৫ ফুট উচ্চতায় জাল দিয়ে বেড়া দিতে হবে। তা না হলে বর্ষাকালে শোল মাছ লাফিয়ে চলে যাবে।

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

খাদ্য
শোল মাছ সাধারণত খৈল বা কুড়া দিয়ে বানানো খাবার খায় না। ছোট মাছই এর প্রধান খাদ্য। পোনা মাছের প্রিয় খাদ্য শুঁটকির গুঁড়া। সেজন্য পোনা মাছকে খাবার হিসেবে চিংড়ি শুঁটকির গুঁড়া ভালোভাবে পিষে দিতে হবে। এভাবে ১৫ দিন খাওয়ানোর পর পোনাগুলো প্রায় ২/৩ ইঞ্চি হবে। ২/৩ ইঞ্চি পোনা মজুদের পর খাদ্য হিসেবে কার্পজাতীয় মাছের ধানীপোনা দেয়া যেতে পারে; সঙ্গে ছোট ছোট ব্যাঙ বা ব্যাঙাচি দেয়া যেতে পারে। আর বড় মাছের জন্য ছোট ছোট মাছ, তবে মরা টাটকা মাছ খেতে দিলে এরা খুব খায়।

মিশ্র চাষ
আমাদের দেশে শোল মাছের একক চাষের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ এত কাঁচা মাছ, শুঁটকি, ব্যাঙ বা ব্যাঙাচি জোগান দেয়া সম্ভব নয়। তাই মিশ্র মাছের সঙ্গে শোল মাছের চাষ করা যেতে পারে। ৬ মাসে একেকটি শোল মাছের ওজন ৭০০-১০০০ গ্রাম হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

রোগ
শীতকালে শোল মাছে ক্ষত রোগ দেখা দেয়। তাই ওই সময় মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে পারেন।

মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি বা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। না হলে আগামী কয়েক বছর দেশীয় মাছের চিহ্ন খুঁজে পাবে না জনগণ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফল

ধান ছেড়ে তামাক, আম, মাছ চাষ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছেন ইউএনও হাবিবুল হাসান গতকাল দুপুরে
চট্টগ্রামের পটিয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছেন ইউএনও হাবিবুল হাসান গতকাল দুপুরে

উত্তরের জেলাগুলোর মধ্যে রংপুরে বাড়ছে তামাকের চাষ। বগুড়া ও রাজশাহীতে সবজি আর নওগাঁয় আম চাষে ঝুঁকছেন কৃষক। সিরাজগঞ্জের কৃষক ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তাঁরা কৃষিজমি কেটে পুকুর তৈরি করছেন। মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে সেখানকার মানুষের। গত চার–পাঁচ বছরে দেশের প্রধান ধান উৎপাদনকারী এলাকা উত্তরের জনপদে অনেকটা নীরবে এই পরিবর্তন ঘটে চলেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশের উত্তরাঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে ধানের উৎপাদন কমছে। এ বছর কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। নওগাঁয় গত চার বছরে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ও ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ কমেছে। জেলার ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে এ বছর আম চাষ হয়েছে। রংপুরে আম চাষের জমি ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর থেকে বেড়ে ৩ হাজার ১২৫ হেক্টর হয়েছে। বগুড়ায় পাঁচ বছরে ধানের জমি কমেছে ১ হাজার হেক্টর।

অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ জেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ১৮ হাজার ৮৪৬টি পুকুর রয়েছে। জেলায় রায়পুর ও তাড়াশ উপজেলায় পুকুরের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫টি পুকুর খনন করা হচ্ছে। জেলায় মাছের উৎপাদন ২০১১-১২ সালে ছিল ৫৩ হাজার ৯৮০ টন। চলতি বছর তা বেড়ে ৬৮ হাজার ৪০০ টন হবে বলে আশা করছেন মৎস্য কর্মকর্তারা।

উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁ। সেখান থেকে এখন কেউ বগুড়া হয়ে নাটোর, পাবনা দিয়ে সিরাজগঞ্জে যাওয়ার সময় ধানের জমিতে ভুট্টা, তিল ও সবজির চাষ দেখতে পাবেন। বিশেষ করে এসব এলাকায় আম, লিচু, ভুট্টা ও মাছের চাষ দ্রুত বাড়ছে। চলনবিলের নিচু জমিতে সারি সারি পুকুরে যে মাছ চাষ হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে তা তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীতে চলে আসছে। সবজি ও মাছচাষিরা ভালো দামও পাচ্ছেন। তাঁদের উৎপাদিত পণ্য প্রতি রাতে ট্রাকে করে চলে আসছে রাজধানীতে।

ফল ও সবজির উৎপাদন বৃদ্ধিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এতে দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা মিটবে; বিশেষ করে ফলের প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনে সরকার উৎসাহ দেবে। একই সঙ্গে এসব খাদ্যের গুণগত মান বাড়ানোর ব্যাপারেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, উদ্বৃত্ত চাল রপ্তানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে ধান রাখার গুদাম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের কৃষির পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করা সংস্থাগুলো বলছে, ধানের দাম না পাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য এই পরিবর্তন (অন্য ফসলের চাষে ঝুঁকে পড়া) আরও বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে আসতে পারে। এর কারণ হিসেবে তাঁদের যুক্তি, সবজি ও ফল সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা দেশে গড়ে ওঠেনি। এ ছাড়া কোনো বছর উৎপাদন অনেক বেশি হলে কিংবা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে দামের বড় ধরনের পতন ঘটে।

সম্প্রতি বগুড়া, রংপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষকেরা আলু নিয়ে বিপদে পড়েছেন। গত শীতেও সবজিচাষিরা উৎপাদিত সবজি পানির দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। গত বছর আম পাকার মৌসুমে ঝড়ের কবলে পড়ে বিপুল পরিমাণ আম অকালে ঝরে পড়ে। এতে চাষিদের বড় অংশ লোকসানে আম বিক্রি করতে বাধ্য হন। ধান ছাড়া অন্য ফসলের সংরক্ষণের ব্যবস্থা আরও দুর্বল। ধান গোলায় বা বিভিন্ন গুদামে সংরক্ষণ সম্ভব। কিন্তু অন্যান্য ফল ও ফসলগুলো দ্রুত পচনশীল। ফলে তা দ্রুত বিক্রি করতে না পারলে লোকসানের পরিমাণ অনেক বেশি হয়।

ধান–চালের দাম কমে যাওয়ায় ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশে ধানের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে যায়। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) দেশের ১১টি জেলার বোরো ধান চাষ নিয়ে জরিপ চালিয়ে এ তথ্য পায়। ‘খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার ওপর ধানের জমি হ্রাসের কারণ বিশ্লেষণ’ শীর্ষক ওই জরিপে কৃষক কেন ধানের দাম পাচ্ছেন না এবং ধান উৎপাদনে তাঁরা কেন উৎসাহ হারাচ্ছেন—এর একটি বিশ্লেষণ জরিপে উঠে আসে। তাতে তাঁরা কৃষকের ধান চাষে নিরুৎসাহের প্রধান কারণ হিসেবে বিগত বছরগুলোতে বোরো ধানের দাম কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। আমন ও আউশ মৌসুমের তুলনায় বোরো মৌসুমে বাজারে ধানের অত্যধিক জোগান থাকায় বাজারদর নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কষ্টকর। ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে প্রকৃত কৃষকেরা সরকারের ধার্য করা ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন।

২০১৭ সালে হাওরে ফসলহানির পর মোটা চালের দাম কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। এতে প্রতি মণ ধানের দাম এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। কিন্তু পরের দুই বছর ধানের উৎপাদন বাড়লে দাম কমে যায়। এ বছর বোরো মৌসুমে ধানের দাম না পাওয়ায় পরের মৌসুমগুলোতে ধান চাষে কৃষকের আগ্রহ ও ক্ষমতা কমে যাবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা।

বাংলাদেশের কৃষি খাত নিয়ে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ইফপ্রি) করা এক জরিপে দেখা যায়, দেশের ৩৭ শতাংশ কৃষক শুধু নিজের জমিতে চাষ করেন এবং ১৮ শতাংশ কৃষক অন্যের জমি টাকার বিনিময়ে ইজারা নিয়ে চাষ করে থাকেন। সরকারি হিসাবে এ বছর প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ পড়েছে ৩৫ টাকা আর বাজারে প্রতি কেজি ধান বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৪ টাকা।

ইফপ্রির হিসাবে, ধানের দাম কমে যাওয়ায় ভূমিহীন ৩৬ শতাংশ এবং অন্যের জমি অর্থের বিনিময়ে ইজারা নেওয়া ১৮ শতাংশ কৃষক সবচেয়ে বেশি বিপদে আছেন।

ইফপ্রির কান্ট্রি ডিরেক্টর আখতার আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, হতদরিদ্র ও ভূমিহীন যেসব কৃষক এবার ধান চাষ করেছেন, তাঁদেরকে জরুরি ভিত্তিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহযোগিতা দিতে হবে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কৃষি অর্থনীতি বাংলাদেশের মতোই, তারা কৃষকের কাছ থেকে পাঁচ–ছয় লাখ টন ধান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশে কৃষকের কাছ থেকে কেনা হয় দেড় লাখ টন। সরকার কৃষকের কাছ থেকে যত বেশি ধান সংগ্রহ করবে, গরিব কৃষকের বিপদ তত কমবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

বিলুপ্তপ্রায় ১৯ প্রজাতির মাছের প্রজনন ও চাষপ্রযুক্তি উদ্ভাবন

কর্মশালা শেষে গবেষণা পুকুরের ৮০ কেজি ওজনের পাঙাশ মাছ দেখাচ্ছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. খলিলুর রহমান।
কর্মশালা শেষে গবেষণা পুকুরের ৮০ কেজি ওজনের পাঙাশ মাছ দেখাচ্ছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. খলিলুর রহমান।

দেশীয় ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৬৪ প্রজাতির মাছ সময়ের বিবর্তনে বিলুপ্তপ্রায়। গবেষণা করে ইতিমধ্যে বিলুপ্তপ্রায় ১৯ প্রজাতির মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও চাষপ্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ কারণে বাজারে পাবদা, গুলশা, ট্যাংরা, গুতুম, মেনি, মহাশোল, কুচিয়া, দেশি পুঁটি ইত্যাদি মাছ সহজলভ্য হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানান গবেষকেরা। ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে গতকাল মঙ্গলবার ‘মৎস্যপ্রযুক্তি সম্প্রসারণে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক দিনব্যাপী এ কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয় ও ময়মনসিংহ জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

মাছ উৎপাদনে সফলতার বিষয়টি তুলে ধরার পাশাপাশি মাছ চাষে ফসলি জমি নষ্ট না করার পরামর্শ দেন গবেষকেরা। তাঁরা জানান, দেশে এখন ৪২ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপন্ন হচ্ছে। এর মধ্যে উন্মুক্ত জলাশয় (নদী, বিল, হাওর) থেকে ২৫ ভাগ, বদ্ধ জলাশয় (পুকুর, ডোবা) থেকে ৫৭ ভাগ এবং বাকি অংশ সমুদ্র থেকে উৎপাদিত হচ্ছে। দেশে ৮ লাখ হেক্টর বদ্ধ জলাশয়ের বাইরে আর কোনো ফসলি জমি নষ্ট করে মাছ চাষ করা ঠিক হবে না। বিদ্যমান নদী ও পুকুরগুলোতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়াতে হবে।

ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদের সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মো. জসিমউদ্দিন খান। বিভিন্ন গবেষণা ও উদ্ভাবিত প্রযুক্তি নিয়ে আলোকপাত করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. নূরুল্লাহ ও মো. খলিলুর রহমান এবং মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এইচ এম কোহিনুর।

মহাপরিচালক বলেন, বিলুপ্তপ্রায় মাছগুলোকে খাবার টেবিলে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি মাছের প্রক্রিয়াজাত নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অপ্রচলিত মৎস্যসম্পদ হিসেবে কাঁকড়া, কুচিয়া ও সমুদ্র-শৈবাল নিয়ে গবেষণায় সফল হওয়া গেছে। তা ছাড়া ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়াতে বেশ কিছু গবেষণা চলমান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

২৮ কেজির বাঘাইড়, দাম ২৫২০০ টাকা

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়ায় পদ্মা নদীতে জেলে মিজানুর রহমানের জালে ২৮ কেজি ওজনের একটি বাঘাইড় মাছ ধরা পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টার দিকে পদ্মা নদীর আমবাড়িয়া এলাকায় মাছটি ধরা পড়ে। পরে জেলে মিজানুর একই এলাকার আবু বক্করের ছেলে ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের কাছে ৯০০ টাকা কেজি দরে ২৫ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেন।

বিশাল আকৃতির বাঘাইড় মাছটি দেখার জন্য কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে।

jagonews24

গত কয়েকদিন আগে একই এলাকায় পদ্মা নদীতে জালে পাঁচটি বাঘাইড় মাছ পেয়েছিলেন জেলে মিজানুর। মাছগুলোর ওজন ছিল ৭৬ কেজি। সবমিলিয়ে গত পাঁচ দিনে প্রায় দুই লাখ টাকার বাঘাইড় মাছ বিক্রি করেছেন।

মিজানুর জানান, চলতি মৌসুমে পদ্মা নদীতে ইলিশের তেমন দেখা মেলেনি। তবে বাঘাইড় মাছ ভালো পেয়েছেন। ইলিশের চেয়ে এই মাছের দামও ভালো পেয়েছেন। বাঘাইড় মাছ বিক্রি করতেও তেমন অসুবিধা হয় না। ক্রেতা এবং দাম দুটোই পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

দেশি মাছ সংরক্ষণ করবেন যেভাবে

দেশি মাছ সংরক্ষণ করবেন যেভাবে
দেশি মাছ সংরক্ষণ করবেন যেভাবে

বর্তমানে দেশি মাছ সংরক্ষণ জরুরি হয়ে পড়েছে। আমাদের নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-সমুদ্রে প্রচুর পরিমাণ মাছ উৎপাদন হয়। তার মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগ মাছ ক্রেতার হাতে পৌঁছানোর আগেই পচে নষ্ট হয়ে যায়। এ ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। তাই মাছ যাতে নষ্ট না হয় সেক্ষেত্রে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

দেশি মাছ সংরক্ষণ করবেন যেভাবে
দেশি মাছ সংরক্ষণ করবেন যেভাবে

মাছ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা যায় বরফ বাক্স। এতে পলিথিন দিয়ে আগাগোড়া মোড়া থাকে বলে বার বার পরিষ্কার করে একই ঝুড়ি ব্যবহারেও সমস্যা হয় না। ২৫-৩০ কেজি মাছ ধরে এমন একটি বাঁশের ঝুড়ির ভেতরের দিকটা হোগলা পাটি দিয়ে মুড়ে দিতে হবে। হোগলার ওপর দু’স্তর প্লাস্টিকের শিট দিয়ে সেলাই করে দিতে হবে। শিটের কিছু অংশ বাড়তি থাকবে। সেলাই করা প্লাস্টিকের শিটের ওপর আরেকটি পাতলা স্বচ্ছ পলিথিন শিট বিছিয়ে বরফ দেওয়া মাছ পরিবহন করতে হবে।

দেশি মাছ সংরক্ষণ করবেন যেভাবে
দেশি মাছ সংরক্ষণ করবেন যেভাবে

প্রথমে পলিথিন শিটের ওপর প্রথম স্তরে বরফ রেখে মাছ সাজিয়ে দিতে হবে। এরপর ভাঁজে ভাঁজে বরফ ও মাছের স্তর সাজিয়ে উপরে জাম বরফ দিয়ে বাড়তি চট, হোগলা ও পলিথিন শিট একসঙ্গে মুড়ে ঝুড়ির উপরে বেঁধে নিতে হয়। ঝুড়ির মুখ সবসময় বেঁধে রেখে মাছ পরিবহন করতে হয়।

দেশি মাছ সংরক্ষণ করবেন যেভাবে
দেশি মাছ সংরক্ষণ করবেন যেভাবে

এভাবে বরফ দেওয়া মাছ ২৪ ঘণ্টা গুণাগুণ ঠিক রেখে সংরক্ষণ করা যায়। ২৪ ঘণ্টা পরপর মাছের উপর সামান্য জাম বরফ দিয়ে প্রায় ৫-৬ দিন পর্যন্ত মাছ সংরক্ষণ করা যায়। হোগলাপাতা, ছেড়াজাল বা নাইলন কাপড় চমৎকার তাপ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। বরফ বাক্সটি মাঠ পর্যায়ের মৎস্যজীবী, মৎস্য ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র প্রক্রিয়াজাতকারী ও মৎস্য পরিবহনকারীরা ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

এক চিতলের দাম ১৩ হাজার টাকা!

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় প্রবাহমান পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনা থেকে ১০ কেজি ওজনের একটি বড় সাইজের চিতল মাছ ধরা পড়েছে।

[৩] সোমবার (২২ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে দৌলতদিয়া ব্যাপারীপাড়া এলাকার আল আমিন হালদারের জালে মাছটি ধরা পড়ে।

[৪] পরে মাছটি দৌলতদিয়া বাইপাস সড়কের পাশে বাবু সরদারের আড়তে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনলে ফেরি ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী মো. চান্দু মোল্লা ১৩শ টাকা কেজি দরে ১৩ হাজার টাকায় কিনে নেন। এসময় মাছটি এক নজর দেখতে উৎসুক জনতা ভীড় করেন।

[৫] এ ব্যাপারে মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা বলেন, মাছটি আমি ১৩শ টাকা কেজি দরে মোট ১৩হাজার টাকায় কিনেছি। এখন মাছটি ভাল দাম পেলে বিক্রি করবো।এ জন্য বিভিন্ন জায়গায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

[৬] এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল শরিফ বলেন, বর্তমানে পদ্মা-যমুনার মোহনায় এখন প্রায়ই জেলেদের জালে বড় আকৃতির বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com