আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

শোল মাছকে আমরা ‘রাক্ষুসে মাছ’ বলে থাকি। শোল মাছ বাজারের দামি মাছ। এই মাছ দামি হলেও চাষে খরচ খুবই কম। শোল মাছ সব ধরনের দুর্যোগ বা প্রতিকূল পরিস্থিতি সহ্য করতে পারে। মা শোল মাছই নিজেদের মতো করে ডিম নার্সিং ও পোনা লালন করে।

পোনা মজুত
বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে শোল মাছ চাষ না হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে সংগ্রহের ওপর জোর দিতে হবে। বৈশাখ মাস শোল মাছের প্রজনন মৌসুম। বৈশাখ মাসের প্রথম থেকে শোল মাছ বাচ্চা দিতে শুরু করে। বাচ্চাগুলো এক ঝাঁকে থাকে। সেই সময় হাওর-বাঁওড়, পুকুর থেকে সপ্তাহখানেক বয়সের বাচ্চা সংগ্রহ করতে হবে। পোনা পাওয়া না গেলে বড় শোল মাছ সংগ্রহ করে পুকুরে ছেড়ে দিতে হবে। এককভাবে প্রতি শতাংশে ১০টি দেয়া যেতে পারে। মিশ্র পদ্ধতিতে চাষের জন্য প্রতি শতাংশে ৪টি। একটি প্রাপ্তবয়স্ক শোল মাছ লম্বায় ২.৫-৩ ফুট হতে পারে।

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

পুকুর প্রস্তুতি
যেকোনো পুকুরেই শোল মাছ চাষ করা যায়। তবে তাকে উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে। যে পুকুরে শোল চাষ হবে সে পুকুরে কচুরিপানা অথবা কলমিলতা থাকলে ভালো হয়। কারণ শোল মাছ আড়ালে থাকতে পছন্দ করে। তবে কচুরিপানায় যেন পুকুর ভরে না যায়। পুকুরের চারদিকে কমপক্ষে ৫ ফুট উচ্চতায় জাল দিয়ে বেড়া দিতে হবে। তা না হলে বর্ষাকালে শোল মাছ লাফিয়ে চলে যাবে।

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

খাদ্য
শোল মাছ সাধারণত খৈল বা কুড়া দিয়ে বানানো খাবার খায় না। ছোট মাছই এর প্রধান খাদ্য। পোনা মাছের প্রিয় খাদ্য শুঁটকির গুঁড়া। সেজন্য পোনা মাছকে খাবার হিসেবে চিংড়ি শুঁটকির গুঁড়া ভালোভাবে পিষে দিতে হবে। এভাবে ১৫ দিন খাওয়ানোর পর পোনাগুলো প্রায় ২/৩ ইঞ্চি হবে। ২/৩ ইঞ্চি পোনা মজুদের পর খাদ্য হিসেবে কার্পজাতীয় মাছের ধানীপোনা দেয়া যেতে পারে; সঙ্গে ছোট ছোট ব্যাঙ বা ব্যাঙাচি দেয়া যেতে পারে। আর বড় মাছের জন্য ছোট ছোট মাছ, তবে মরা টাটকা মাছ খেতে দিলে এরা খুব খায়।

মিশ্র চাষ
আমাদের দেশে শোল মাছের একক চাষের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ এত কাঁচা মাছ, শুঁটকি, ব্যাঙ বা ব্যাঙাচি জোগান দেয়া সম্ভব নয়। তাই মিশ্র মাছের সঙ্গে শোল মাছের চাষ করা যেতে পারে। ৬ মাসে একেকটি শোল মাছের ওজন ৭০০-১০০০ গ্রাম হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

রোগ
শীতকালে শোল মাছে ক্ষত রোগ দেখা দেয়। তাই ওই সময় মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে পারেন।

মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি বা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। না হলে আগামী কয়েক বছর দেশীয় মাছের চিহ্ন খুঁজে পাবে না জনগণ।

মৎস্য

অল্প সময়ে বড় হচ্ছে মাছ, লাভও বেশি

শামীম মাতব্বর দীর্ঘদিন ধরে পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করেন। পুরোনো পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে আগে তাঁর তেমন লাভ হচ্ছিল না। পরে তিনি কার্প ফ্যাটেনিং (কম সময়ে বড় আকারের মাছ) প্রযুক্তিতে মাছ চাষ করেন। এতে অল্প সময়ে মাছ বড় হওয়ায় তিনি এখন লাভবান হচ্ছেন।

এক বছর আগে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকদের পরামর্শে কার্প ফ্যাটেনিং প্রযুক্তিতে মাছ চাষ শুরু করেন মৎস্যচাষি শামীম মাতব্বর। তাঁর সফলতা দেখে অন্য মৎস্যচাষিরাও উৎসাহী হয়েছেন। এলাকায় অন্তত ২০টি পুকুরে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু হয়েছে।

শামীম মাতব্বরের বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নীলগঞ্জ গ্রামে। তিনি বলেন, আগে দু-চার ইঞ্চির পোনা পুকুরে ছাড়তেন। একসময় দেখা যেত, পোনার সংখ্যা কমে যেত, বড় হতে বছরের পর বছর লেগে যেত। গত বছর পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকদের কাছ থেকে পরামর্শ পেয়ে ‘কার্প ফ্যাটেনিং’ পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেন। এখন পাঁচ-ছয় মাসেই দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের মাছ উৎপাদন হচ্ছে।বিজ্ঞাপন

আরিফুল আলম জানান, কার্প ফ্যাটেনিং প্রযুক্তির প্রধান বাধা স্থানীয়ভাবে বড় আকারের কার্পজাতীয় মাছের অপ্রতুলতা। স্থানীয় নার্সারিগুলোতে বড় আকারের পোনা উৎপাদনসহ মৎস্যচাষিরা পোনা কিছু সময় লালন করে পুকুরে চাষ করলে কার্পজাতীয় মাছের উৎপাদন বহুলাংশে বাড়বে।

মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, এই অঞ্চলের মাছচাষিরা সাধারণত ছোট আকারের পোনা পুকুরে ছাড়েন। ছোট আকারের মাছ বাজারজাতের উপযোগী হতে সাধারণত দু-তিন বছর সময় লাগে। এ ছাড়া ছোট আকারের মাছের মৃত্যুহারও বেশি। কার্প ফ্যাটেনিং প্রযুক্তিতে সাধারণত বড় আকারের, যেমন ৪০০-৬০০ গ্রাম ওজনের কার্পজাতীয় মাছ পুকুরে মজুত করা হয়। প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি সম্পূরক খাদ্য দেওয়া হয়। এতে সাত-আট মাসেই মাছ বাজারজাত করা যায়।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের একটি প্রকল্পের আওতায় কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ও চাকামইয়া ইউনিয়নের আনিপাড়া, কাঁঠালপাড়া গ্রামে নতুন প্রযুক্তিতে মাছ চাষ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পে কার্প ফ্যাটেনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প প্রভৃতি কার্পজাতীয় মাছ চাষের নতুন প্রযুক্তি সফলতা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের মৎস্য চাষ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক এবং মৎস্য জীববিদ্যা কৌলিতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আরিফুল আলম ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে কলাপাড়ায় এই নতুন প্রযুক্তিতে মৎস্যচাষিদের উদ্বুদ্ধ করছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

সুন্দরবনে একবার জাল ফেলেই উঠল ছয় লাখ টাকার মাছ

সুন্দরবনের রায়মঙ্গল নদীতে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে শতাধিক লাউভোলা মাছ। একেকটি মাছের ওজন ৭ থেকে ১৭ কেজি পর্যন্ত। মাছগুলো ওই জেলে আজ শুক্রবার ৫৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকায়। একবারেই ভাগ্য খুলে গেছে ওই জেলের।

সৌভাগ্যবান ওই জেলের নাম রফিকুল ইসলাম। তিনি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের সুন্দরবনসংলগ্ন টেংরাখালি গ্রামের বাসিন্দা।

রফিকুল বলেন, তিনি সুন্দরবনসংলগ্ন রায়মঙ্গল নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নদীতে জোয়ার আসে। ওই জোয়ারে তিনি জাল পাতলে ধরা পড়ে একঝাঁক মাছ। পরে দেখেন একসঙ্গে জালে ধরা পড়েছে ১২৬টি লাউভোলা মাছ, যার ওজন হয়েছে ১ হাজার ৫১ কেজি। প্রতিটি মাছের ওজন ৭ থেকে ১৭ কেজি পর্যন্ত। আজ এই ১ হাজার ৫১ কেজি মাছ বিক্রি করেছেন তিনি ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকায়। তাঁরই এলাকার মাছ ব্যবসায়ী নূর হোসেন গাজী মাছগুলো কিনে শ্যামনগর বংশীপুর সোনার মোড়ের মদিনা ফিশের স্বত্বাধিকারী হারুন উর রশিদের মাছের আড়তে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।

লাউভোলা মাছের চাহিদা ভারতসহ বিদেশের বাজারে বিপুল। এ মাছ থেকে তৈর হয় নানা ধরনের সাপ্লিমেন্টস ও ওষুধ। তাই দামও একটু চড়া। আজ শুক্রবার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন টেংরাখালি গ্রামে
লাউভোলা মাছের চাহিদা ভারতসহ বিদেশের বাজারে বিপুল। এ মাছ থেকে তৈর হয় নানা ধরনের সাপ্লিমেন্টস ও ওষুধ। তাই দামও একটু চড়া। আজ শুক্রবার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন টেংরাখালি গ্রামে 

মাছ বিক্রি করে একসঙ্গে অনেক টাকা পেয়ে জেলে রফিকুল ইসলামের পরিবারে বইছে আনন্দের জোয়ার।

মৎস্য ব্যবসায়ী হারুন উর রশিদ জানান, সামুদ্রিক মাছ হিসেবে লাইভোলা বা ভোলা মাছ খেতে বেশ সুস্বাদু। স্বাদের পাশাপাশি এই মাছের চাহিদা ও মূল্য চড়া হওয়ার মূল কারণ হলো এ মাছের ঔষধি গুণ। বিদেশে এ মাছের পটকার (ফুলকা) ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ মাছ রপ্তানি হয়। গ্রেড অনুযায়ী প্রতি কেজি পটকার মূল্য ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। লাউভোলা মাছের পটকা দিয়ে মূল্যবান ওষুধ (ক্যাপসুলের খোল) ও প্রসাধনী তৈরি হয় বলে জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

পাঙাশ মাছের মড়ক রোধ করবে বায়োফিল্ম ভ্যাকসিন: গবেষণায় দাবি

পাঙাশ মাছের মড়ক রোধ করতে বায়োফিল্ম নামে নতুন ভ্যাকসিন উদ্ভাবিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষকের পিএইচডি গবেষণা ফলের ওপর আয়োজিত সেমিনারে এই দাবি করা হয়।

সেমিনারে চারটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ‘বায়োফিল্ম’ নামে নতুন ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। যে ভ্যাকসিনটি পাঙাশ মাছের মড়ক রোধ করতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়।

ডিএনএ বারকোডিংয়ের মাধ্যমে জেনেটিক পদ্ধতিতে একই প্রজাতির মাছ শনাক্তের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি চাষাবাদ পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে দাবি করেন আরেক গবেষক মৎস্য জীববিদ্যা ও কৌলিতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শামীমা নাসরীন।বিজ্ঞাপন

সেমিনারে উপস্থাপিত অপর দুটি গবেষণাপত্র ইতিমধ্যে পেটেন্ট পেয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। এর একটি হচ্ছে ‘সয়াগ্রোথ বোস্টার’ নামে প্রোটিন পরিপূরক। এ গবেষণা করেছেন মাৎস্য চাষ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ এনামুল কবির। এটি মৎস্য, ডেইরি ও পোলট্রিশিল্পে প্রোটিনের পরিপূরক হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

চতুর্থ গবেষণাটি হচ্ছে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামুদ্রিক কুয়াশা নির্ধারণ ও এর স্থানান্তর প্রক্রিয়া নির্ণয়ের মাধ্যমে সামুদ্রিক দুর্ঘটনা রোধ করা। এই কৌশল আবিষ্কার করেছেন জলজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আহমেদ হারুন-আল-রশীদ।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন মো. আবু সাঈদ। সহকারী অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন মাৎস্য চাষ বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহাব উদ্দিন, অধ্যাপক মোহা. তরিকুল আলম, সেমিনার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবু জাফর ব্যাপারী, সহযোগী অধ্যাপক মো. তাওহীদ হাসান প্রমুখ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

পৌষসংক্রান্তির মাছের মেলায় ৭৫ কেজির বাগাড়

পৌষসংক্রান্তির মাছের মেলায় ৭৫ কেজির বাগাড়

পৌষসংক্রান্তি বা মকরসংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ উৎসবের দিন। বাংলা পৌষ মাসের শেষের দিন এই উৎসব পালন করা হয়। দিনটি উপলক্ষে নতুন ধানের চাল গুঁড়া করার ধুম পড়ে, ঘরে ঘরে তৈরি হয় নানান স্বাদের পিঠাপুলি। নদীমাতৃক গ্রামবাংলার কোথাও এখনো দিনটিতে বসে জমজমাট মাছের মেলা। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সে রকমই এক মাছের মেলায় সাড়া ফেলে দিয়েছে ৭৫ কেজির এক বাগাড়। বিক্রেতা মাছটির দাম হেঁকেছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা!

যুগ যুগের ঐতিহ্য মেনে দিনব্যাপী এ মেলা বসেছে আজ বুধবার শ্রীমঙ্গল শহরের নতুন বাজারে। পৌষসংক্রান্তি কাল বৃহস্পতিবার হলেও পুরো মৌলভীবাজারে বিভিন্ন স্থানে গতকাল মঙ্গলবার থেকেই বসতে শুরু করেছে পৌষসংক্রান্তির মাছের মেলা। এসব মেলায় দূরদূরান্ত থেকে আসছে বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় সব মাছ। এর বেশির ভাগই নদী-হাওর-পুকুরের দেশি মাছ। কোনো কোনোটি চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে ক্রেতাদের।

আজকের মেলায় এ রকমই একটি এই ৭৫ কেজির বাগাড়। মেলায় আসা সব মাছের মধ্যে সবার আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বিশাল এই মাছ। মাছটি বাজারে এনেছেন হাফিজ আহমেদ নামের এক মাছ বিক্রেতা। দুপুর পর্যন্ত এই বাগাড়ের দাম উঠেছে ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু বিক্রেতা হাফিজ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা না হলে মাছটি বিক্রি করবেন না পণ করেছেন। প্রত্যেকে একবার হলেও মাছটির কাছে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন। কেনার সাধ্য না থাকলেও নজর বোলাতে তো অসুবিধা নেই!

পৌষসংক্রান্তি বা মকরসংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ উৎসবের দিন। বাংলা পৌষ মাসের শেষের দিন এই উৎসব পালন করা হয়।

হাফিজ বলেন, তাঁর আনা বাগাড় মাছটির ওজন ৭৫ কেজি। এই মাছটি মেঘনা নদী থেকে ধরা হয়েছে। মাছটির দাম ৮০ হাজার টাকা উঠলেও আরও বেশি দামে বিক্রির অপেক্ষায় আছেন তিনি। প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম পাবেন বলে তিনি মনে করছেন।বিজ্ঞাপন

সকালে মাছবাজারে দেখা যায়, বাগাড়টি ছাড়াও বড় বড় রুই, কাতলা, বোয়াল নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। এ ছাড়া রয়েছে বাগাড়, চিতল, আইড়, ব্রিগেড, সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন জাতের মাছ। ক্রেতা ও বিক্রেতার আগমনে জমে উঠেছে মাছের এই মেলা। উৎসবমুখর পরিবেশে একেকজন ক্রেতা মাছ কিনে হাসিমুখে হাঁটা ধরছেন বাড়ির পথ।

জোনাইদ মিয়া নামের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে শ্রীমঙ্গল মাছবাজারে বড় বড় মাছ উঠেছে। এ মাছগুলো হাকালুকি হাওর, হাইল হাওর ও মেঘনা নদী থেকে আনা হয়েছে।

পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে কমলগঞ্জের শমশেরনগর বাজারে বসেছে এই মাছের মেলা। আজ বুধবার দুপুরে
পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে কমলগঞ্জের শমশেরনগর বাজারে বসেছে এই মাছের মেলা। আজ বুধবার দুপুরে

সনেট দেব চৌধুরী নামের এক ক্রেতা বলেন, সারা বছরের তুলনায় পৌষসংক্রান্তিতেই বেশি মাছ আসে। দূরদূরান্ত থেকে এখানে মাছ নিয়ে আসা হয়। এত বড় বড় মাছ একসঙ্গে সব সময় বাজারে ওঠে না। এই সময়ই পাওয়া যায় বলে ক্রেতা সমাগমও বেশি।

পৌষসংক্রান্তির মাছের মেলা বসেছে জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর, শহীদনগর ও মুন্সীবাজারেও। মুন্সীবাজারে মাছের মেলা বসেছিল গতকাল। আজ সকাল থেকে মাছের মেলা বসেছে শমশেরনগর ও শহীদনগরে। সকাল থেকেই এই দুই মাছের মেলায় লেগেছে প্রচণ্ড ভিড়।

করোনা সংক্রমণের কারণে মৌলভীবাজারের শেরপুরে বৃহত্তর সিলেটের অন্যতম বৃহৎ মাছের মেলাটি এবার বসছে না। তাই এবার শমশেরনগরে ক্রেতাদের ভিড় বেশি।

সকালে শমশেরনগর মাছের মেলায় এক কোণে দেখা যায়, আড়তদার জোরে জোরে হাঁক দিচ্ছেন মাছের দাম। খুচরা বিক্রেতারা এসে কিনে নিচ্ছেন পছন্দের মাছ। আড়তদারের কাছে খুচরা ক্রেতাদের কেনার সুযোগ নেই। পাইকারি মাছ কিনে বিক্রেতারা তাঁদের থালায় সাজিয়েছেন বড় আকারের রুই, চিতল, কাতল, মৃগেল, কালবাউশ, বাউশ, গ্রাস কার্প, বোয়াল, পাবদা, শোল, গজার, তেলাপিয়া, আইড়, কমন কার্প (কার্পু), বাঘ মাছসহ নানা জাতের মাছ। মেলায় সর্বোচ্চ ২০ কেজি ওজনের রুই, বোয়াল, চিতল, কার্প, আইড় ও বাঘ মাছ উঠেছে।

এসব বড় মাছের একেকটির দাম চাওয়া হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। তবে কেজি হিসাবে চাচ্ছেন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। শমশেরনগর মাছের মেলায় আসা ক্রেতা অলক সাহা ও বাচ্চু সেন শর্ম্মা বলেন, পৌষসংক্রান্তিতে বাসায় তৈরি হয় নানা ধরনের পিঠাপুলি। তার সঙ্গে মেলা থেকে বড় আকারের পছন্দের মাছ না কিনলে উৎসব জমে না।

পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে কমলগঞ্জের শমশেরনগর বাজারে বসেছে এই মাছের মেলা। আজ বুধবার দুপুরে
পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে কমলগঞ্জের শমশেরনগর বাজারে বসেছে এই মাছের মেলা। আজ বুধবার দুপুরে

একই কথা জানান স্বপন ও সুজিত দেবনাথ নামের আরও দুই ক্রেতা। তাঁরা বলেন, করোনা সংক্রমণের কারণে মৌলভীবাজারের শেরপুরে বৃহত্তর সিলেটের অন্যতম বৃহৎ মাছের মেলাটি এবার বসছে না। তাই এবার শমশেরনগরে ক্রেতাদের ভিড় বেশি।

মাছের মেলায় দেখা যায়, যাঁদের সামর্থ্য আছে, তাঁরা পছন্দমতো বড় আকারের মাছ কিনছেন। আর স্বল্প আয়ের মানুষজন তুলনামূলক ছোট আকারের মাছ কিনছেন।
শমশেরনগর মাছের মেলায় মাছ বিক্রেতা মানিক মিয়া ও আবদুল মন্নান জানান, পৌষসংক্রান্তি কাল হলেও এখানে আজ গভীর রাত পর্যন্ত এক দিনব্যাপী মাছের মেলা থাকবে। দেশের বিভিন্ন হাওর অঞ্চল, ভৈরব, চাঁদপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে এখানে মাছ আনা হয়েছে।

মুন্সীবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল সাপ্তাহিক হাটবার বলে সেখানে সেদিনই এক দিনের মাছের মেলা বসেছিল। পতনঊষার ইউনিয়নের শহীদনগর বাজারেও আজ ছোট আকারে পৌষসংক্রান্তির মাছের মেলা বসেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

গাংনীতে বিষ দিয়ে এক মাসে ৫০ লাখ টাকার মাছ নিধন

স্বচ্ছলতা ফেরাতে নিজের দেড় বিঘা জমিতে পুকুর কেটে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার যুগির গোফা গ্রামের যুবক আসাদুজ্জামান। প্রায় ৫০ হাজার টাকার মাছের পোনা ছেড়েছিলেন তিনি। পোনাগুলো বেশ বড় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন তিনি দেখেন , পুকুরের মাছ মারা যাচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ভেবেছিলেন আবহাওয়ার কারণে এটা ঘটছে। পরে পুকুরের পানি পরীক্ষা করে দেখেন, বিষ প্রয়োগের ফলে পুকুরের সব মাছ মারা গেছে। এতে অন্তত ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে তার।

ঘটনাটি গেল বছরের ২৫ ডিসেম্বরের। তবে নিরাশ না হয়ে পুকুরের পানি সেচে নতুনভাবে আবারও মাছ চাষ শুরু করেছেন আসাদুজ্জামান। শুধু আসাদুজ্জামান না, গেল এক মাসে গ্রামের ছয়জন মাছচাষির পুকুরে গোপনে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন করা হয়েছে।

যুগির গোফা গ্রামের আব্দুল লতিফ জানান, গত ১৭ ডিসেম্বর সকালে তিনি দেখতে পান, পুকুরের মাছ মরে ভেসে উঠেছে। প্রথমে এটি পানির অক্সিজেন কমে যাওয়ার বিষয়টি মনে করলেও পরে দেখেন, পাঁচদিনের ব্যবধানে পুকুরের সব মাছ মরে গেছে। এতে তার ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা।

একইভাবে গ্রামের ঠান্ডু মিয়ার ২০ লাখ টাকার, আনিছ ও ইদ্রিসের ৮ লাখ খলিল মেম্বরের ১০ লাখ ও দুলু মিয়ার ৫ লাখ টাকার মাছ বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলা হয়েছে। পুকুরে পাহারা বসানোর পরও অতি গোপনে এ কাজটি করেছে দুর্বৃত্তরা। গ্রামের মাছ চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

এলাকার মাছচাষিরা জানান, এমনিতেই মাছের পোনা ও খাদ্যের দাম বেশি, এদিকে আবার মাছের দাম পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও মাছ বিক্রি করে কোনো রকমে পুুঁজি বাচানো সম্ভব হতো। অথচ দুর্বৃত্তরা কৌশলে মাছ চাষিদের ক্ষতি করে পথে বসাচ্ছে।

তারা আরও জানান, ইতোপূর্বে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা টহলে আসার কারণে চোর বা দৃর্বৃত্তরা এসব অপকর্ম করতে সাহস পেতো না। এখন টহল না থাকায় তারা সুযোগ পাচ্ছে।

গাংনী উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা হোসেন আহমেদ স্বপন জানান, মাছ চাষ বেশ লাভজনক হওয়ায় গাংনীর যুগির গোফা গ্রামের যুবক ও প্রবাস ফেরতরা মাছ চাষ শুরু করেন। বেশ লাভবানও হয়েছিলেন তারা। সম্প্রতি বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের পর অনেকেরই পথে বসার উপক্রম। বিষয়টি নিয়ে মাছ চাষিদের সাথে বৈঠক করা হয়েছে। সম্মিলিতভাবে পুকুর পাহারার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে দৃর্বৃত্তদেরকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনারও প্রক্রিয়া চলমান।

গাংনী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ ক্যাম্পকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং টহল জোরদারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com