আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

শোল মাছকে আমরা ‘রাক্ষুসে মাছ’ বলে থাকি। শোল মাছ বাজারের দামি মাছ। এই মাছ দামি হলেও চাষে খরচ খুবই কম। শোল মাছ সব ধরনের দুর্যোগ বা প্রতিকূল পরিস্থিতি সহ্য করতে পারে। মা শোল মাছই নিজেদের মতো করে ডিম নার্সিং ও পোনা লালন করে।

পোনা মজুত
বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে শোল মাছ চাষ না হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে সংগ্রহের ওপর জোর দিতে হবে। বৈশাখ মাস শোল মাছের প্রজনন মৌসুম। বৈশাখ মাসের প্রথম থেকে শোল মাছ বাচ্চা দিতে শুরু করে। বাচ্চাগুলো এক ঝাঁকে থাকে। সেই সময় হাওর-বাঁওড়, পুকুর থেকে সপ্তাহখানেক বয়সের বাচ্চা সংগ্রহ করতে হবে। পোনা পাওয়া না গেলে বড় শোল মাছ সংগ্রহ করে পুকুরে ছেড়ে দিতে হবে। এককভাবে প্রতি শতাংশে ১০টি দেয়া যেতে পারে। মিশ্র পদ্ধতিতে চাষের জন্য প্রতি শতাংশে ৪টি। একটি প্রাপ্তবয়স্ক শোল মাছ লম্বায় ২.৫-৩ ফুট হতে পারে।

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

পুকুর প্রস্তুতি
যেকোনো পুকুরেই শোল মাছ চাষ করা যায়। তবে তাকে উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে। যে পুকুরে শোল চাষ হবে সে পুকুরে কচুরিপানা অথবা কলমিলতা থাকলে ভালো হয়। কারণ শোল মাছ আড়ালে থাকতে পছন্দ করে। তবে কচুরিপানায় যেন পুকুর ভরে না যায়। পুকুরের চারদিকে কমপক্ষে ৫ ফুট উচ্চতায় জাল দিয়ে বেড়া দিতে হবে। তা না হলে বর্ষাকালে শোল মাছ লাফিয়ে চলে যাবে।

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

খাদ্য
শোল মাছ সাধারণত খৈল বা কুড়া দিয়ে বানানো খাবার খায় না। ছোট মাছই এর প্রধান খাদ্য। পোনা মাছের প্রিয় খাদ্য শুঁটকির গুঁড়া। সেজন্য পোনা মাছকে খাবার হিসেবে চিংড়ি শুঁটকির গুঁড়া ভালোভাবে পিষে দিতে হবে। এভাবে ১৫ দিন খাওয়ানোর পর পোনাগুলো প্রায় ২/৩ ইঞ্চি হবে। ২/৩ ইঞ্চি পোনা মজুদের পর খাদ্য হিসেবে কার্পজাতীয় মাছের ধানীপোনা দেয়া যেতে পারে; সঙ্গে ছোট ছোট ব্যাঙ বা ব্যাঙাচি দেয়া যেতে পারে। আর বড় মাছের জন্য ছোট ছোট মাছ, তবে মরা টাটকা মাছ খেতে দিলে এরা খুব খায়।

মিশ্র চাষ
আমাদের দেশে শোল মাছের একক চাষের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ এত কাঁচা মাছ, শুঁটকি, ব্যাঙ বা ব্যাঙাচি জোগান দেয়া সম্ভব নয়। তাই মিশ্র মাছের সঙ্গে শোল মাছের চাষ করা যেতে পারে। ৬ মাসে একেকটি শোল মাছের ওজন ৭০০-১০০০ গ্রাম হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

রোগ
শীতকালে শোল মাছে ক্ষত রোগ দেখা দেয়। তাই ওই সময় মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে পারেন।

মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি বা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। না হলে আগামী কয়েক বছর দেশীয় মাছের চিহ্ন খুঁজে পাবে না জনগণ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

এগ্রোবিজ

শৌখিন মাছে কোটিপতি মৃদুল

শৌখিন মাছে কোটিপতি মৃদুল

রংপুরে শখের বশে শৌখিন মাছের খামার গড়ে কয়েক বছরে কোটি টাকার বাণিজ্যে রূপ দিয়েছেন ব্যবসায়ী মৃদুল রহমান। তিনি বলেন, ঘরোয়া পরিবেশে ছোট পরিসরেই গড়ে তোলা সম্ভব শৌখিন মাছের পোনা উৎপাদনের খামার।

বাড়ির সামনে স্বল্প পানির এই চৌবাচ্চাগুলো দেখলে মনে হয় পরিত্যাক্ত ছোট ছোট জলাধার। এখানেই চাষ আর প্রাকৃতিক পোনা উৎপাদন হচ্ছে রঙিন সব মাছের।

ক্ষুদ্র মাছগুলোর একেকটির দামই কমপক্ষে ১ কেজি খাবার মাছের সমান।

শখের বশে শুরু করেই আজ এই শৌখিন মাছের বাণিজ্যকে কোটি টাকায় নিয়ে পৌঁছেছেন উদ্যোক্তা মৃদুল রহমান। এই ছোট্ট জায়গাতেই তিনি সংরক্ষণ করছেন অ্যাকুরিয়াম ফিসের মাতৃজাতও।

তিনি বলছেন, যে কেউ অল্প বিনিয়োগে স্বল্প পরিসরেই গড়ে তুলতে পারে রঙিন মাছের এমন খামার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

খাঁচায় মাছ চাষে সফল আল আমিন

 খাঁচায় মাছ চাষে সফল আল আমিন
খাঁচায় মাছ চাষে সফল আল আমিন

দিনাজপুরে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে খাঁচায় মাছ চাষে সফলতা পেয়েছেন আল আমিন খান। এখন বাণিজিক্যভাবে উৎপাদন শুরু করেছেন তিনি। প্রশিক্ষণ নিয়ে এ পদ্ধতিতে দেশি মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ হন। তার সফলতা দেখে অনেক বেকার যুবক বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

জানা যায়, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। প্রথমবারের মতো ১২ শতক জমি নিয়ে ৬ হাজার লিটার পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ১টি খাঁচা বানিয়ে দেড় কেজি শিং মাছের পোনা ছাড়েন। প্রথম চালানে ৬০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করবেন। পোনা ছেড়ে বাজারজাত করা পর্যন্ত সময় লাগে সাড়ে ৩ থেকে ৪ মাস। যাতে লাভ হবে অর্ধেক। একটি খাঁচা দিয়ে শুরু করলেও এ জমিতে আরও ২১টি খাঁচা স্থাপন করা যাবে।

প্রথমে বাসায় পরীক্ষামূলকভাবে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেন। সেখানে সফলতা পাওয়ার পর বাণিজিক্যভাবে মাছ চাষ শুরু করেন। আগামীতে খাঁচা বাড়িয়ে কৈ, তেলাপিয়া, পাবদা, রুই, মাগুর, ট্যাংরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ চাষ করবেন।

 খাঁচায় মাছ চাষে সফল আল আমিন
খাঁচায় মাছ চাষে সফল আল আমিন

আল আমিন গত ৪ আগস্ট সাড়ে ৩ ফুট উঁচু ও ১৩ ফুট গোলাকৃতির খাঁচা তৈরি করেন। খাঁচাগুলো ওয়াটার প্রুফ ত্রিপল দিয়ে ঘিরে দেন। খাঁচা তৈরি করতে ২৫-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। একটি খাঁচায় সর্বোচ্চ ১২ হাজার শিং, কৈ, তেলাপিয়া, মাগুর, পাবদা ও ট্যাংরা মাছের পোনা ছাড়া যায়। যাতে ৮০-১০০ কেজি মাছ পাওয়া যায়। একটি খাঁচায় বছরে ৩ বার মাছ চাষ করা সম্ভব। এতে মাছের উৎপাদন বেশি হওয়ায় লাভও বেশি। এ পদ্ধতিতে মাছের খাবার কম লাগে। অসুখ না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় না।

মাছ চাষের আগে প্রতিটি খাঁচায় অরগানিকভাবে লবণ, চিটাগুড় ও প্রবাইটিক দিয়ে পানির (মিশ্রন) কালচার করতে হবে। এ পদ্ধতিতে মাছের বিষ্ঠা আবারও প্রোটিনে রূপান্তরিত হয়ে মাছের খাদ্যের ৭০ শতাংশ পূরণ হয়। এ পদ্ধতিতে মাছের খাবারও কম লাগে। যত বেশি পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন খাঁচা তৈরি করা যায়; তত বেশি মাছ উৎপাদন হয়।

 খাঁচায় মাছ চাষে সফল আল আমিন
খাঁচায় মাছ চাষে সফল আল আমিন

আল আমিন খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকার বেকার যুবকদের সহজ শর্তে ঋণসহ পৃষ্ঠপোষকতা দিলে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে দেশীয় মাছ চাষ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। এতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হবে হাজারও বেকারের।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. এস এম রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ এই প্রথম। বায়োফ্লক পদ্ধতিকে আমাদেরকে এগিয়ে নিতে হবে। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা পূরণ হওয়া সম্ভব। দ্রুত সময়ে এ বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মৎস্যখাতে সংকটের শঙ্কা, পরিকল্পিত পদক্ষেপের আশ্বাস মন্ত্রীর

 মৎস্যখাতে সংকটের শঙ্কা, পরিকল্পিত পদক্ষেপের আশ্বাস মন্ত্রীর
মৎস্যখাতে সংকটের শঙ্কা, পরিকল্পিত পদক্ষেপের আশ্বাস মন্ত্রীর

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে দেশ অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে। দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যখাতের কার্যক্রমও অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা চলমান থাকলে আগামী দিনগুলোতে মৎস্যখাতে সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সচেতন রয়েছেন জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেছেন, এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ক্ষতি পোষাতে সহায়তা করা হবে। এছাড়া মাছের ঘাটতি থেকে উত্তরণে যা যা করা দরকার আমরা তা করব। সেটা অবশ্যই পরিকল্পিত উপায়ে হবে।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম পর্যায়ে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, গণপরিবহনও। সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে সরকার।

মৎস্যখাতের সঙ্গে জড়িতরা জানিয়েছেন, মৎস্যপোনা পরিবহন ও বাজারজাতকরণে বাধা দেয়া হচ্ছে। মাছের মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমদানিকৃত মৎস্যখাদ্য উপকরণ ছাড়করণে বন্দর ও কাস্টমস জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বন্ধ রয়েছে মাছের মোকাম।

তারা আরও জানিয়েছেন, আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রায় ৬০ শতাংশ প্রাণিজ আমিষের জোগান দেয় মাছ। দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাছের জোগান অব্যাহত রাখতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ বিষয়ে শনিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে সব সেক্টর যেমন কঠিন সমস্যার মুখোমুখি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সেক্টরও সেই একই রকম কঠিন সমস্যার মুখোমুখি।’

তিনি বলেন, ‘এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন রকম বিষয় বিবেচনা করছি। যারা লোন নিয়ে মাছচাষ করছেন। বিভিন্ন খামার করছেন। তাদের লোনের ইন্টারেস্ট কীভাবে কমানো যায়, প্রণোদনা দেয়া যায় কিনা- এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ মহলের কাছে প্রস্তাব রেখেছি।’

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল সংবাদ সম্মেলনে এই প্রণোদনা বা অন্যান্য বিষয়ে মতামত দেবেন। আমরা আশা করি, সেখানে এই সেক্টরের ব্যাপারেও একটা মতামত আসবে’ বলেন রেজাউল করিম।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বর্তমানে পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে চাই, এরপর পরবর্তী পদক্ষেপে যাব।’

মৎস্যমন্ত্রী বলেন, ‘মাছের যে ঘাটতি দেখা দেবে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে, সেই প্রেক্ষাপটে আমাদের যা যা করা দরকার আমরা তা করব। সেটা অবশ্যই পরিকল্পিত উপায়ে হবে। যাতে এই ঘাটতি আমরা কাটিয়ে উঠতে পারি।’

শনিবার মৎস্যখাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভায় বসেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ। সভায় মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশন, ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ লাইভ অ্যান্ড চিলড ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ এবং ফিশ হ্যাচারি অ্যান্ড ফার্ম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ-এর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সংশ্লিষ্টরা সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। অপরদিকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে করোনা সংকটেও মৎস্য উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ও রফতারি অব্যাহত রাখার জন্য মৎস্যখাতের অংশীজনদের যার যার জায়গা থেকে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। এ সংক্রান্ত সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে স্থাপিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণকক্ষে হটলাইনের মাধ্যমে (হটলাইন নম্বর-০২-৯১২২৫৫৭) অবহিত করার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়।

সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয় দ্রুততার সাথে উদ্যোগ নেবে বলে এ সময় জানানো হয়। সমস্যা সমাধান ও সৃষ্ট ক্ষতিপূরণে সরকার সাধ্যমত সবকিছু করবে বলেও অংশীজনদের আশ্বাস দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব।

মৎস্যচাষীদের ব্যাংকঋণের সুদ মওকুফ, কিস্তি স্থগিতকরণ ও প্রণোদনা দেয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে ব্যবস্থাগ্রহণ, মৎস্যখাতের সমস্যা সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

মৎস্য অধিদফতর থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মুক্তজলাশয়ের (নদী, সুন্দরবন, কাপ্তাই লেক, বিল ও প্লাবনভূমি) পরিমাণ প্রায় ৩৯ লাখ ২০ হাজার হেক্টর, বদ্ধ জলাশয়ের (পুকুর, মৌসুমি চাষকৃত জলাশয়, বাঁওড় ও চিংড়ি ঘের) পরিমাণ ৭ লাখ ৮৩ হাজার হেক্টর, সামুদ্রিক পানিসীমার পরিমাণ ১ লাখ ৬৬ হাজার বর্গ কিমি. এবং সমুদ্র উপকূল রয়েছে ৭১০ কিমি.। যেখানে কিছু উদ্যোগের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বিপুল পরিমাণ বাড়ানো যায় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

মৎস্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনা অবমুক্তি কার্যক্রম রয়েছে। প্রতি অর্থবছরেই গুণগত মানসম্পন্ন ও বিপন্ন প্রায় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এই মাছের সংকট কাটানো কিংবা উৎপাদন বাড়াতে সরকার এই কার্যক্রমটি আরও জোরদার করতে পারে।

মৎস্য অধিদফতর থেকে জানা গেছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ আমাদের দেশে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে প্রবাহমান নদী, উন্মুক্ত জলাশয়, লেক বা বৃহৎ জলাশয়ে খাঁচায় মাছচাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের কিছু কিছু এলাকায় যেমন চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাসহ অন্যান্য অঞ্চলে খাঁচায় মাছচাষ ক্রমান্বয়ে প্রসার লাভ করছে।

অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহজে পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ, দারিদ্র্যবিমোচন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে খাঁচায় মাছচাষ প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। শুধু গ্রামীণ জনগোষ্ঠীই নয় খাঁচায় মাছচাষে ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করে তুলতে হবে। কিন্তু প্রবাহমান নদী, উন্মুক্ত জলাশয়ে খাঁচা স্থাপনের মাধ্যমে মাছচাষের জন্য বৈধ মালিকানার কোনো ভিত্তি না থাকায় ব্যবহারের আইনগত অধিকার বা বৈধতা বা নীতিমালা না থাকায় খাঁচায় মাছচাষের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আশানুরূপভাবে বিকশিত হচ্ছে না। এ জন্য একটি নীতিমালা করা হয়েছে।

এই নীতিমালাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিলে মৎস্যখাত আরও এগিয়ে যাবে বলেও মনে করেন ওই কর্মকর্তা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল

 দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল
দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল

দেশীয় মাছের ডিম থেকে রেণু উৎপাদন করে ভাগ্য বদলেছে চঞ্চল হোসেন নামে এক যুবকের। এখন তিনি নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় যুবকদের রোল মডেল। মাছের রেনু উৎপাদনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুইবার পুরস্কার পেয়েছেন। খামারের প্রচার ও প্রসারের জন্য সরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

সংসারে অভাবের তাড়নায় এক সময় মাছের আড়তে কাজ করতেন বদলগাছী উপজেলার কাশিমালা গ্রামের চঞ্চল হোসেন। অভাবের কারণে পড়াশুনা বেশি দূর এগোয়নি। ২০০৪ সালে ৮ম শ্রেণিতে পড়াশোনার সমাপ্তি ঘটে। মাছের আড়তে কাজ করার সময় চঞ্চল দেখতেন দেশীয় মাছের দাম অন্যান্য মাছের তুলনায় তুলনামূলক বেশি। এরপর বিলুপ্ত প্রজাতির দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদনের চিন্তা আসে তার মাথায়। মাছের আড়তের কাজ ছেড়ে নিজেই কিছু করার পরিকল্পনা করেন।

 দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল
দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল

এরপর ২০০৪ সালে ৯ হাজার টাকা দিয়ে একটি পুকুরে দেশীয় মাগুর মাছ চাষ শুরু করেন। সফলতা পাওয়ায় পরের বছরে আরও একটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেন। পর্যায়ক্রমে ১৬টি পুকুরে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ চাষ করেন। মাছ চাষ করতে গিয়ে তিনি উপলদ্ধি করেন দেশীয় মাছের রেণু সংগ্রহ করা কষ্টকর। এক সময় ডিম ও রেণুর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিজেই বাড়িতে শুরু করেন দেশীয় মাছের রেণুর হ্যাচারি। বড় মেয়ে সুবর্ণার নামে খামারের নাম দেন ‘সুবর্ণা মৎস্য হ্যাচারি’। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বছর বছর বাড়তে থাকে রেণুর চাহিদা। চঞ্চল তিন সন্তানের জনক। বড় মেয়ে সুবর্ণা স্থানীয় একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ও দ্বিতীয় মেয়ে সখি প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। সবার ছোট ছেলে সৌরভ।

চঞ্চলের হ্যাচারিতে দেশীয় শিং, মাগুর, টেংরা, গুলসা টেংরা, পাবদা, কৈ, চিতল, গুচি, পুঁটি, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস ও বাইমসহ কয়েক প্রজাতির মাছের রেণু উৎপাদন করা হয়। হ্যাচারি থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৩০০ কেজি রেণু উৎপাদন করা সম্ভব। তবে প্রচারের অভাবে তেমন সাড়া মিলছে না। খামারে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করছে ১৫ জন শিক্ষার্থী। অন্যান্য মাছের তুলনায় দেশীয় মাছের চাহিদা এবং দাম ভালো পাওয়া মাছ চাষিদের কাছে বাড়ছে দেশীয় মাছের রেণুর চাহিদা। তার খামার থেকে বগুড়া, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় রেণু সরবরাহ করা হয়ে থাকে। সরকারের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা পেলে চঞ্চল হোসেনের খামারের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

 দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল
দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল

সফল খামারি চঞ্চল হোসেন বলেন, এক সময় ডোবাতে দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু ফসলে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে সেসব মাছ মারা যাচ্ছে। এতে করে দেশীয় মাছ এখন বিলুপ্ত প্রায়। এছাড়াও পুকুরে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই চিন্তাধারা থেকে দেশীয় মাছকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে দেশীয় মাছের রেণুর হ্যাচারি করেছি। এতে করে বাহির থেকে রেণু কিনতে হচ্ছে না। এখন নিজের হ্যাচারি থেকে বিভিন্ন জেলায় রেণু সরবরাহ করছি। বর্তমানে এখন আমার প্রজেষ্ট প্রায় দুই কোটি টাকার। হ্যাচারি থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৩০০ কেজি রেণু উৎপাদন করা সম্ভব। তবে প্রচারের অভাবে তেমন সাড়া মিলছে না।

ভবিষ্যত পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েকটি জেলায় দেশীয় মাছের হ্যাচারি করার ইচ্ছা আছে। কারণ অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মাছ চাষিরা রেণু নিতে আসেন। তারা বাড়ি ফেরার পথে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়ায় সেই রেণুর অনেক সময় সমস্যা হয়। বাহিরের জেলাগুলোতে হ্যাচারি করা হলে কষ্ট করে আর এখানে আসতে হবে না। এজন্য প্রয়োজন সরকারের আর্থিক সহযোগিতা।

 দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল
দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল

জয়পুরহাটের মৎস্যচাষি আলমগীর কবীর জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করছেন। লোকমুখে শুনেছেন ‘সুবর্ণা মৎস্য হ্যাচারি’ থেকে দেশীয় মাছের রেণু সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অন্যান্য মাছের খরচ বেশি এবং দামও তুলনামূলক কম। তাই দেশীয় মাছ চাষের প্রতি তিনি আগ্রহ বাড়াতে চান। দেশীয় মাছে খাবারসহ অন্যান্য খরচ কম লাগে। এছাড়া দামও বেশি পাওয়া যায়।

আরাফাত হোসেন রাসেল, আসলাম হোসেন, শাকিল হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, মৎস্য হ্যাচারিতে তাদের মতো ১৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করেন। রেণুর নিয়মিত পরিচর্যা, খাবার দেয়া, পানি পরিবর্তনসহ আনুষাঙ্গিক কাজ করতে হয় তাদের। এতে করে মাসে তারা ৬-৯ হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক পান।

 দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল
দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল

নওগাঁ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ বলেন, চঞ্চল হোসেন স্বল্প সময়ে হ্যাচারিতে সফল হয়েছেন। তার কাছ থেকে মৎস্যচাষিরা দেশীয় মাছের রেণু সংগ্রহ করে থাকেন। মাছ চাষ করায় একদিকে যেমন আমিষের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অপরদিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন চাষিরা। তার হ্যাচারির কলেবর বৃদ্ধির জন্য যে কোনো ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

চিংড়ির সাথে চাষ করা যাবে আমেরিকান রূপচাঁদা

চিংড়ির সাথে চাষ করা যাবে আমেরিকান রূপচাঁদা
চিংড়ির সাথে চাষ করা যাবে আমেরিকান রূপচাঁদা

সামুদ্রিক আমেরিকান রূপচাঁদার চাষ শুরু করেছে ভারতের হলদিয়ার দুই ভেনামি চিংড়ি চাষি। রাজ্যের ব্লক মৎস্য দফতরের সহযোগিতায় এ রূপচাঁদার পোনা এসেছে তামিলনাড়ুর মান্ডপাম সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র থেকে। হলদিয়ার দুই মাছ চাষি তুষার জানা ও মদন জানা এ সুস্বাদু রূপচাঁদা চাষ করবেন।

জানা যায়, মান্ডপাম থেকে মাদুরাই, সেখান থেকে চেন্নাই হয়ে দমদম বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয় রূপচাঁদার পোনাগুলো। এরপর দমদম থেকে হলদিয়া ব্লক মৎস্য কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে মাছের পোনা নিয়ে আসা হয় হলদিয়ায়।

হলদিয়ার মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহু জানান, বিশ্বে সামুদ্রিক চাষযোগ্য মাছের মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় আমেরিকান রূপচাঁদা। মাছগুলো খুব উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন ও সুস্বাদু। আমেরিকা, চীন, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স ও ভিয়েতনামে এ মাছের চাষ বহুল প্রচলিত।

চিংড়ির সাথে চাষ করা যাবে আমেরিকান রূপচাঁদা
চিংড়ির সাথে চাষ করা যাবে আমেরিকান রূপচাঁদা

সুমন কুমার আরও জানান, এখানে নোনাজলে ভেনামি চিংড়ি চাষের মধ্যবর্তী সময়ে চাষের জন্য খুবই উপযোগী এ মাছ। একদিকে যেমন ভেনামি চিংড়ি চাষে রোগের সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে। তেমনি এ মাছ চাষ করে লাভবান হবেন চাষিরা।

তাছাড়া এ মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। চার মাসে ১০০ গ্রাম ও ছয় মাসে ২৫০ গ্রাম ও আট মাসে ৫০০ গ্রাম ওজন হয়ে থাকে। এমনকি বিদেশে রফতানিযোগ্য মাছ হিসেবে আমেরিকান রূপচাঁদার বিশেষ কদর আছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com