আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ভারত

শেষ চালানে আজ কলকাতা আসছে ২০০ টন ইলিশ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আজ শনিবার আসছে আরও ২০০ টন ইলিশ। হিন্দুধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব দুর্গাপূজা সামনে রেখে কলকাতার ইলিশপ্রিয় ব্যক্তিদের কথা ভেবে বাংলাদেশ সরকার সব মিলিয়ে ১ হাজার ৮৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়। বাংলাদেশের ৯টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রপ্তানির এ অনুমতি পায়। সরকারের অনুমোদন পাওয়ার পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ইলিশের প্রথম চালান আসে। প্রথম চালানে ছিল ২০ টন ইলিশ।  

রপ্তানির আদেশ দেওয়ার সময়ই বাংলাদেশ সরকার নির্দেশ দিয়েছিল ১০ অক্টোবরের মধ্যেই ইলিশ রপ্তানির কার্যক্রম শেষ করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে আজ ইলিশের শেষ চালান ঢুকবে কলকাতায়।

জানা গেছে, ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় প্রতিদিনই ইলিশ আসছে কলকাতায়। গতকাল শুক্রবার সীমান্ত বন্ধ থাকায় কোনো ইলিশ আসেনি। তবে আজ শনিবার এ বছরের শেষ চালানে ২০০ টন ইলিশ আসছে। রপ্তানির আদেশ দেওয়ার সময়ই বাংলাদেশ সরকার নির্দেশ দিয়েছিল ১০ অক্টোবরের মধ্যেই ইলিশ রপ্তানির কার্যক্রম শেষ করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে আজ ইলিশের শেষ চালান ঢুকবে কলকাতায়।
২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। পশ্চিমবঙ্গে অনেকের কাছে বাংলাদেশের ইলিশ খুব প্রিয়। কিন্তু রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার কারণে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এ অবস্থায় গত বছর পূজার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির ব্যবস্থা করেছিলেন। আর এবার আসছে ১ হাজার ৮৫০ টন ইলিশ।

আজ শনিবার শেষ চালানে ইলিশ আসছে ১৫টি ট্রাকে করে। এসব ইলিশ আসছে বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে। বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এ ইলিশ আসবে।

সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ, সম্পাদক, কলকাতা ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন

জানতে চাইলে কলকাতার ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ সরকার প্রথমে কলকাতায় ১ হাজার ৪৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। পরে আরও ৪০০ টন ইলিশ রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দেয়। আজ শনিবার শেষ চালানে ইলিশ আসছে ১৫টি ট্রাকে করে। এসব ইলিশ আসছে বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে। বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এ ইলিশ আসবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

চীন

কোয়াড সংলাপ: চীনের ডানা বাঁধতে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রীরা টোকিওতে

২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে বঙ্গোপসাগরে কোয়াড সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রথম যৌথ সামরিক মহড়া চালায়
২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে বঙ্গোপসাগরে কোয়াড সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রথম যৌথ সামরিক মহড়া চালায়

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরে নৌ চলাচল ‘অবাধ ও স্বাধীন‘ রাখার উপায় খোঁজার যুক্তি দেখিয়ে ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে ‘কোয়াড’ নামে যে সংলাপের সূচনা হয়েছিল, তারই আওতায় এই চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ (মঙ্গলবার) থেকে টোকিওতে দু’দিনের বৈঠকে বসছেন।

দশ বছর হিমঘরে থাকার পর ‘কোয়াড সংলাপ’ ২০১৭ সাল থেকে নতুন করে জীবন ফিরে পেলেও টোকিওর এই বৈঠক নিয়ে এক বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আর এই আগ্রহের প্রধান কারণ, বৈঠকটি হচ্ছে সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় চার মাস ধরে চলা বিপজ্জনক উত্তেজনার মধ্যে।

চীন তাদের প্রধান বৈরী এই চারটি দেশের মধ্যে এই বৈঠক নিয়ে যে একইসাথে উদ্বিগ্ন এবং ক্ষুব্ধ, তার ইঙ্গিত স্পষ্ট। জানা গেছে, মঙ্গল ও বুধবার টোকিওতে কোয়াডের এই বৈঠক চলার সময় একই সাথে তিন থেকে চারটি নৌ এবং বিমান মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং।

কোয়াডের চারটি সদস্য দেশের মধ্যে ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে – কিন্তু চীনকে আটকাতেই যে এই জোটবদ্ধ উদ্যোগ, পরিষ্কার করে তা কখনই বলা হয়নি।

এমনকি এসব বৈঠক নিয়ে এই চারটি দেশের সরকারগুলোর পক্ষ থেকে জনসমক্ষে যেসব ঘোষণা দেয়া হয়েছে বা যেসব নথিপত্র চালাচালি হয়েছে, তার কোথাও চীন শব্দটিই নেই।

কিন্তু অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, টোকিও বৈঠকে তা বদলে যেতে পারে। কারণ যে দেশটি এই প্লাটফর্মকে প্রকাশ্যে ‘চীন-বিরোধী‘ তকমা দিতে সবচেয়ে বেশি কুণ্ঠিত ছিল, সেই ভারত তাদের অবস্থান অনেকটাই বদলে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা র‌্যান্ড কর্পোরেশনের সর্বসাম্প্রতিক এক প্রকাশনায় সাউথ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ডেরেক গ্রসম্যাস লিখেছেন, পরিস্থিতি এখন অন্যরকম কারণ, তার মতে, এই চারটি দেশের সবগুলোই এখন চীনের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের প্রশ্নে একমত।

তিনি বলেন, ২০০৭ সালে কোয়াড প্লাটফর্মকে একটি প্রতিরক্ষা জোটে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল চীনকে নিয়ে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার আড়ষ্টতা। চীনকে কতটা কোণঠাসা করা উচিৎ, তা নিয়ে এই দুই দেশের মধ্যে দ্বিধা ছিল।

“কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তারা সবাই একমত,“ লিখেছেন ডেরেক গ্রসম্যাস।

“বিশেষ করে আমার সবসময় মনে হয়েছে, কোয়াডে ভারত ছিল উইক লিঙ্ক। কিন্তু ভারত মনে হয় তার অবস্থান বদলে ফেলছে, এখন মনে হচ্ছে চারটি দেশই চীনের প্রশ্নে একমত।“

ভারতের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কোয়াডের ব্যাপারে ব্যক্তিগতভাবে উৎসাহী। সেই সাথে, মি. গ্রসম্যান মনে করেন, ২০১৭ সালে ডোকলাম সীমান্তে বিরোধ এবং জুন মাস থেকে লাদাখ সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে ভারতের অবস্থান কট্টর হয়েছে।

“এমনকি চীনের সাথে সম্পর্কে ভারসাম্য রাখা নিয়ে ভারতে যারা সব সময় সোচ্চার ছিলেন, তারাও তাদের অবস্থান শক্ত করছেন।“

সামরিক শক্তিতে ভারতের নতুন আস্থা

দিল্লিতে জওহারলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক সঞ্জয় ভরদোয়াজও মনে করেন, ভারতের বর্তমান সরকারের মধ্যে এখন এমন বিশ্বাস দিনকে দিন দৃঢ় হচ্ছে যে কেবলমাত্র সামরিক শক্তির ভয় দেখিয়েই চীনকে সামলানো সম্ভব।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “ভারতের বর্তমান সরকার মনে করছে চীন ভারতের ভৌগলিক সার্বভৌমত্ব হুমকিতে ফেলছে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের স্বার্থ-প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করছে, এবং এ থেকে চীনকে বিরত রাখতে হলে শক্তির ভয় দেখানো ছাড়া বিকল্প নেই।“

তার মতে, অন্য দেশের সাথে কোনো সামরিক বা প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে ভারত এখন প্রস্তুত। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ভরদোয়াজ গত সপ্তাহে কোয়াড সম্পর্কে ভারতের প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াতের এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন।

বৃহস্পতিবার এক বক্তৃতায় জেনারেল রাওয়াত বলেন, “ভারত মহাসাগর অঞ্চলে এবং আশপাশের অন্যান্য মহাসাগরে আতঙ্ক-উস্কানি ছাড়া চলাফেরা, অন্য কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ করতে কোয়াডের গুরুত্ব অনেক।“

তিনি আরও বলেন, “সাগরে এবং আকাশে অবাধ গতিবিধি নিশ্চিত করতে ভারত উদগ্রীব।“ কারো নাম তিনি উল্লেখ করেননি, তবে নাম না করলেও জেনারেল রাওয়াত এখানে চীনের কথাই বলেছেন।

তবে ভারতের এই অবস্থান যে রাতারাতি বা গত জুন মাস থেকে তৈরি হয়েছে তা নয়।

শ্রীলঙ্কার ত্রিনকোমালিতে লঙ্কান সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে চীনা সৈন্যরা (সেপ্টেম্বর, ২০১৯) - দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সাম্প্রতিক ভূমিকায় ভারত উদ্বিগ্ন
শ্রীলঙ্কার ত্রিনকোমালিতে লঙ্কান সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে চীনা সৈন্যরা (সেপ্টেম্বর, ২০১৯) – দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সাম্প্রতিক ভূমিকায় ভারত উদ্বিগ্ন

গত দশকের মাঝামাঝি থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার একটি বন্দরে চীনা সাবমেরিনের উপস্থিতি তাদের জন্য চরম মাথাব্যথার কারণ হয়।

পাশাপাশি, পাকিস্তানকে চীনের অব্যাহত সামরিক সাহায্য, পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দরে চীনের নিয়ন্ত্রণ, কাশ্মীরের ভেতর দিয়ে তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের সড়ক নির্মাণে চীনের পরিকল্পনা – এসব নিয়ে ভারতে উদ্বেগের পারদ বাড়ছে।

সে কারণে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন যে ২০১৪ সাল থেকে চীনের সাথে ভারতের সম্পর্কে যে অনাস্থা-অবিশ্বাস বাড়ছে, তাতেই ১০ বছর বাদে আমেরিকার পক্ষে কোয়াডের পুনর্জন্ম নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

এশিয়ান নেটো

তাহলে কোয়াড কি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে চীন-বিরোধী একটি সামরিক জোটের রূপ নিতে যাচ্ছে?

বেশ কয়েক বছর ধরে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে কোণঠাসা করতে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মিত্রদের নিয়ে একটি সামরিক জোট গড়তে আগ্রহী।

অনেক পর্যবেক্ষক বলেন, ইউরোপের সামরিক জোট নেটো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আগ্রহ কমলেও, মূলত চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব-প্রতিপত্তির জবাব দিতে এশিয়ায় নেটো ধাঁচের একটি জোট গঠনে আমেরিকা আগ্রহী হয়ে পড়েছে।

অধ্যাপক ডেরেক গ্রসম্যান মনে করেন, মূলত ভারতের অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তনে সে সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে।

তবে শুধু ভারত নয়, কোভিড মহামারি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক তদন্তের এক প্রস্তাব দেওয়ার পর তাদের সাথেও চীনের সম্পর্ক অত্যন্ত খারাপ হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার গরুর মাংস এবং বার্লির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। অস্ট্রেলিয়ান মদ এবং আরো পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের কথাও বিবেচনা করছে তারা।

চীন ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের ইতিহাস রয়েছে
চীন ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের ইতিহাস রয়েছে

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র কোয়াডের বাকি দেশগুলোকে গুয়ামে তাদের সামরিক ঘাঁটিতে যৌথ একটি বিমান মহড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তাছাড়া, আন্দামানের কাছে গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং ভারতের যে নৌ-মহড়া হচ্ছে, তাতে সামনের বছর অস্ট্রেলিয়াও যোগ দেবে।

কিন্তু ভারতের সরকার চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এ ধরণের সামরিক জোটের অংশ হওয়ার পরিণতি নিয়ে এখনও দেশটির অনেকের ভেতরেই গভীর উদ্বেগ রয়েছে বলে মনে করেন অধ্যাপক ভরদোয়াজ।

তিনি বলেন, “সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে চীনের মোকাবেলা করা নিয়ে ভারতে বিতর্ক শেষ হয়নি। কৌশলগত এবং বৈদেশিক নীতির যে স্বাধীনতা এখন ভারতের রয়েছে, তা ক্ষুণ্ণ হবে বলে অনেকে ভয় পাচ্ছেন।

“ভারত আমেরিকার তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে পড়ে কি-না, তা নিয়ে অনেকে সন্দিহান। অর্থনীতির উন্নয়ন হুমকিতে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কাও প্রবল।“

চীন কী ভাবছে

চীন ২০০৭ সাল থেকে এই চারটি দেশের মধ্যে দহরম-মহরমকে গভীর সন্দেহের চোখে দেখছে।

ওই বছরের মার্চে ম্যানিলায় আসিয়ান জোটের বৈঠকের সময় এই চারটি দেশ প্রথম যখন একটি বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেয়, সাথে সাথেই ওই দেশগুলোর কাছে প্রতিবাদ জানায় চীন। কী নিয়ে কথা হবে, তাও জানতে চায় তারা।

টোকিওর বৈঠক নিয়ে দু’দিন আগে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, কোনো একটি দেশকে টার্গেট করে কোনো জোট তৈরি একেবারেই কাম্য নয়। চীনা মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, “অন্য একটি দেশকে টার্গেট করে, তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না করে, আঞ্চলিক দেশগুলোর বরঞ্চ উচিৎ নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস, বোঝাপড়া বাড়ানোর চেষ্টা করা।“

তবে কুয়ালালামপুরে মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব চায়নার অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাহমুদ আলী বিবিসি বাংলাকে বলেন, নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে চীনারা জানে যে অদূর ভবিষ্যতে তাদেরকে হয়ত ভারত মহাসাগর অঞ্চলে সংঘাতের মোকাবেলা করতে হবে।

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের নৌ মহড়া, ২০১৮
দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের নৌ মহড়া, ২০১৮

১৯৯৩ সালেই চীনারা যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এখন বৈরি দেশের তালিকায় যোগ হয়েছে ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া।

সৈয়দ মাহমুদ আলী বলেন, “ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরের মত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাদের পুরনো মিত্রদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেছে আমেরিকা, কিন্তু এই দেশগুলো এই বিরোধে জড়াতে অনিচ্ছুক।

“তাদের মনোভাব অনেকটা এমন যে তাদের অঞ্চলে বৃহৎ শক্তিদের লড়াই তারা অতীতে দেখেছে, তার পরিণতিও তারা দেখেছে। দোরগোড়ায় আর তেমন কোনো সংঘাত তারা চায় না, যাতে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হুমকিতে পড়ে।“

এমনকি গত বছর সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বলেন যে ভারত মহাসাগরে উত্তেজনার জন্য চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশই সমানভাবে দায়ী। মিত্র একটি দেশের কাছ থেকে এই বিবৃতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্বস্তিকর ছিল।

ড. আলী বলেন, “চীনারা জানে চাপ আসছে। তাদের ভেতর মনোভাব অনেকটা এমন যে ‘আমরা সংঘাত শুরু করবো না, কিন্তু যদি কোনো সংঘাত চাপিয়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তার জন্য আমরা প্রস্তুত।’ চীন এখন অপেক্ষা করবে, প্রতিপক্ষ কী করে তার জন্য।“

তিনি বলেন, চীন যেটা বলার চেষ্টা করছে তাহলো ঐতিহাসিকভাবে যেসব জায়গা বা অঞ্চলের ওপর তাদের দাবি রয়েছে, সেটা তারা ছেড়ে দেবে না।

“তারা কতগুলো রেড লাইন টেনে রেখেছে, যেমন তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন সাগর, এবং আমেরিকানদেরও তারা পরিষ্কার বলেছে যে এই রেড লাইন অতিক্রম করা হলে তারা বরদাস্ত করবে না।“

এবং সেই সংকল্প জানান দিতেই চীন গত ছয় মাসে দক্ষিণ চীন সাগর এবং তাইওয়ান প্রণালীতে কমপক্ষে ৩০টি সামরিক মহড়া চালিয়েছে।

তবে ড. আলী মনে করেন, দুই পক্ষ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলেও সত্যিকারের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আগে দশবার ভাববে।

“একটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার – চীন-যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-পাকিস্তান, এরা সবাই পারমানবিক অস্ত্রধর দেশ। ১৯৪৫ সালের পর পৃথিবী পারমানবিক অস্ত্রের ব্যবহার দেখেনি। কোনো যুদ্ধ বাঁধলে হঠাৎ কেউ সেই অস্ত্র ব্যবহার করবে কি-না, করলে তার পরিণতি কি হবে, কে সেই যুদ্ধ থামাবে – তা নিয়ে সবার মধ্যেই গভীর শঙ্কা রয়েছে।”

তাঁর মতে, “যুদ্ধ করতে কেউই হয়তো সাহস পাবে না।“

এসব দলাদলির ভেতর দিয়ে দেশগুলো এক ধরণের ‘ডেটারেন্স‘ তৈরি করতে চাইছে, মনে করছেন সৈয়দ মাহমুদ আলী, যাতে শত্রুপক্ষ তাকে ঘাঁটানোর সাহস না পায়।

“একে অন্যের জন্য ‘রেডলাইন‘ টেনে দেওয়ার চেষ্টা করছে।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

এরতুগ্রুল: ভারতের মুসলিম তরুণরা যে কারণে মজেছেন তুরস্কের টেলি-সিরিয়ালে

এরতুগ্রুল সিরিজের একটি প্রোমো
এরতুগ্রুল সিরিজের একটি প্রোমো

কাশ্মীরের সোপোর, পুলওয়ামা বা বারামুলা-তে এর আগে কস্মিনকালেও ‘এরতুগ্রুল’ নামে কেউ ছিল না। অথচ গত দু-তিন বছরে ভ্যালিতে যে শিশুরা জন্মেছে, সেই নবজাতকদের অনেকেরই নাম রাখা হয়েছে এরতুগ্রুল।

শীতের মরশুমে তো কাশ্মীরে দেখা যাচ্ছে এরতুগ্রুল স্টাইলে’র টুপিও। গাঢ় ওয়াইন-রঙা এই ধরনের মাথা ও কান-ঢাকা ফার বা পশমী টুপি তুরস্কে খুব জনপ্রিয় হলেও কাশ্মীরে তা কিন্তু কখনওই পরার কোন চল ছিল না।

আর এই সব পরিবর্তনের পেছনেই আছে একটি অসম্ভব জনপ্রিয় তুর্কী টেলি-ড্রামা, যার নাম ‘ডিরিলিস: এরতুগ্রুল’।

ডিরিলিস শব্দের অর্থ রেজারেকশন বা পুনর্জন্ম, আর তুরস্কের অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার আগের ইতিহাস নিয়ে তৈরি এই টানটান নাটকে কাশ্মীর এখন একেবারে মন্ত্রমুগ্ধ – বিশেষ করে সেখানকার তরুণ প্রজন্ম।

ত্রয়োদশ শতকে ওঘুজ তুর্কীদের নেতা এবং সে দেশের কিংবদন্তী নায়ক এরতুগ্রুলের জীবন নিয়েই বাঁধা হয়েছে এর গল্প। এই এরতুগ্রুল ছিলেন অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ওসমানের পিতা।

কাশ্মীরে ইদানীং নবজাতকদের নাম রাখা হচ্ছে এরতুগ্রুলের নামে
কাশ্মীরে ইদানীং নবজাতকদের নাম রাখা হচ্ছে এরতুগ্রুলের নামে

মুসলিম বিশ্বের নানা দেশে দারুণ জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর এই এপিক তুর্কী ড্রামাটি এখন কাশ্মীর-সহ ভারতের মুসলমানদের মধ্যেও ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

পাঁচটি সিজনে পরিব্যাপ্ত ৪৪৮টি এপিসোড বা পর্বের এই বিশাল উপাখ্যান অনেকে মাত্র এক-দেড় মাসের মধ্যেও পুরোটা দেখে ফেলেছেন।

ভারতে এরতুগ্রুলের প্রভাব নিয়ে গবেষণা

এরতুগ্রুল কীভাবে ভারতে এতটা জনপ্রিয়তা পেল, তা নিয়ে বিশদে সমীক্ষা করেছেন হায়দ্রাবাদের মৌলানা আজাদ জাতীয় উর্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন অধ্যাপক – সমাজতত্ত্ব বিভাগের শাহীদ মিও এবং ইতিহাস বিভাগের ইকরামুল হক।

অধ্যাপক শাহীদ মিও বিবিসিকে বলছিলেন, “কাশ্মীরে ইন্টারনেটের কী হাল সবাই জানেন। আমি যখন কাশ্মীরি ছাত্রদের আজকাল অনলাইনে ক্লাস নিই, ব্যান্ডউইথের সমস্যায় তারা আমাকে ঠিকমতো শুনতেই পান না।”

“অথচ সেই একই ছাত্ররা আমাকে বলেন, এরতুগ্রুলের একটা এপিসোডও ছাড়া যাবে না। দুর্বল নেট নিয়েই, বাফারিং সহ্য করেই তারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন মোবাইল ফোনে এই তুর্কী নাটক দেখার জন্য!”

অধ্যাপক ড. শাহীদ মিও
অধ্যাপক ড. শাহীদ মিও

বস্তুত ২০১৭ সালের অক্টোবরে নেটফ্লিক্স তুরস্কের এই ঐতিহাসিক ড্রামাটি অনলাইনে ‘স্ট্রিম’ করতে শুরু করার পরই ভারতে তা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তুমুল সাড়া ফেলে।

অধ্যাপক ইকরামুল হকের কথায়, “আজকের ভারতবর্ষে মুসলিমরা যে আত্মপরিচয়ের সঙ্কট বা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগছেন, সেই শূন্যতার জায়গা থেকেই হয়তো তারা ভিনদেশি এই ঐতিহাসিক উপাখ্যানের সঙ্গে নিজেদের অনেকটা ‘রিলেট’ করতে পারছেন – আর সে কারণেই এরতুগ্রুল এদেশেও এতটা জনপ্রিয় হয়েছে।”

কিন্তু ভারত ও তুরস্কের কূটনৈতিক সম্পর্ক যখন অত্যন্ত খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন তুরস্কেরই একটি টেলি-ড্রামা ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে এতটা সাড়া ফেলার আর কি কোন রহস্য রয়েছে?

গবেষণা রিপোর্টটির অন্যতম লেখক ড. হক বিবিসিকে বলেন, “একটা ফ্যাক্টর তো এটার টানটান গল্প, নাটকীয়তায় ভরা প্লট, দারুণ অভিনয় আর দুর্ধর্ষ স্পেশাল এফেক্টস। এরতুগ্রুল একবার দেখতে বসলে সেটা ছেড়ে ওঠাই মুশকিল।”

“ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণে ভারতীয় মুসলিমরাও হয়তো এই তুর্কী গল্পটা ভালবেসে ফেলছেন, একাত্ম বোধ করছেন।”

ভারতে সম্প্রদায়ের মানুষদের পিটিয়ে মারার ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে মুসলিমদের প্রতিবাদ
ভারতে সম্প্রদায়ের মানুষদের পিটিয়ে মারার ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে মুসলিমদের প্রতিবাদ

“কিন্তু তার মানে এই নয় যে তুর্কী প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের প্রতি এর মাধ্যমে তাদের কোনও মুগ্ধতা তৈরি হচ্ছে। আসলে এটা শেষ পর্যন্ত ড্রামা-ই, কোনও বিশেষ ব্যক্তি বা কূটনীতির সঙ্গে এর তেমন সম্পর্ক আছে বলে মনে করি না।”

ইসলামী দুনিয়া এরতুগ্রুলকে কী চোখে দেখছে?

মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই মনে করে, এই টেলি-নাটকের মধ্যে দিয়ে তুরস্ক কিন্তু কূটনীতিতে তাদের ‘সফট পাওয়ার’ প্রয়োগ করতে চাইছে।

এরতুগ্রুল ঠিক কী ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা দিচ্ছে, তা নিয়ে বিতর্কের জেরে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিশরে এই সিরিজগুলো এরই মধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মিশরের সর্বোচ্চ ফতোয়া কাউন্সিল এক বিবৃতিতে এমনও বলেছে যে এই টেলি-ড্রামার মাধ্যমে তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নিজস্ব ‘প্রভাব বলয়’ তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তবে পাশাপাশি তুরস্কের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ পাকিস্তানে কিন্তু এরতুগ্রুল অসম্ভব জনপ্রিয় হয়েছে।

পাকিস্তানে লাহোরের রাস্তায় এরতুগ্রুল গাজীর মূর্তি
পাকিস্তানে লাহোরের রাস্তায় এরতুগ্রুল গাজীর মূর্তি

পাকিস্তানের রাষ্ট্রায়ত্ত পিটিভি এই সিরিয়ালটির প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে মিলে এরতুগ্রুলের জন্য আলাদা একটি ইউটিউব চ্যানেলও চালু করেছে, যেখানে উর্দু ডাবিংয়ে এই নাটকটির সব এপিসোড দেখা যায়।

ওই ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ৮৮ লক্ষেরও বেশি। গত জুন মাসে তুর্কী সংবাদ সংস্থা টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছিল, পাকিস্তানের লাহোর শহরে এরতুগ্রুল গাজীর দুটি মূর্তিও বসানো হয়েছে।

তবে এরতুগ্রুল সিরিজ নিয়ে খোদ তুরস্কের ভেতরেও কিন্তু বিতর্ক থেমে নেই।

সে দেশে ‘ডিরিলিস: এরতুগ্রুল’-এর সমালোচকরা মনে করেন যে এই সিরিজের মাধ্যমে সুকৌশলে যে মুসলিম জাতীয়তাবাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে তার ক্ষমতা সংহত করতে সাহায্য করছে।

এমন কি, এই সিরিজের লেখক ও প্রযোজক মেহমেত বোজডাগ-ও প্রেসিডেন্টের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

মি. এরদোয়ান নিজেও বহুবার প্রকাশ্যে এই সিরিজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

ভারতে যেভাবে সিরিজটি জনপ্রিয়তা পেল

গত মে মাসের মাঝামাঝি এরতুগ্রুলের প্রযোজক সংস্থা টিআরটি-র একজন সিনিয়র কর্মকর্তা, রিয়াদ মিন্টি একটি খুব ইন্টারেস্টিং টুইট করেন।

গুগল ট্রেন্ডস থেকে নেওয়া একটি গ্রাফ শেয়ার করে তিনি লেখেন, “ভারতীয়রা এখন ইউটিউবে শাহরুখ খানের চেয়েও অনেক বেশি সার্চ করছে এরতুগ্রুলের ভিডিও!”

ড. শাহীদ মিও কিন্তু এই পরিসংখ্যানে এতটুকুও বিস্মিত নন।

বিবিসিকে তিনি বলছিলেন, “এই সিরিজের বহু দর্শকের সঙ্গে কথা বলে আমরা যে ধারণাটা পেয়েছি, তাহলো এই মুহুর্তে মুসলিমরা ভারতে যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও অসহায়তায় ভুগছেন, সেই সঙ্কট থেকে তাদের একটা উত্তরণের স্বপ্ন দেখাচ্ছে এই সিরিজ।”

“তা ছাড়া ভারতীয় সিনেমায় বর্বর শাসক বা নৃশংস খুনী হিসেবে মুসলিম চরিত্রগুলোকে যেভাবে স্টিরিওটাইপিং করা হয়, তা সে সুলতান আলাউদ্দিন খিলজিই হোক বা মাফিয়া করিম লালা – সেখান থেকেও এটা একটা ‘রিফ্রেশিং’ পরিবর্তন।”

“মুসলিম চরিত্রগুলোকে যে পক্ষপাতশূন্য দৃষ্টিতে এভাবেও তুলে ধরা যায়, অবচেতনে সেটা আবিষ্কার করেও তারা বোধহয় এরতুগ্রুলে আরও বেশি হুকড হয়ে পড়েছেন,” বলছিলেন শাহীদ মিও।

তার সহ-গবেষক অধ্যাপক ইকরামুল হক যোগ করেন, “ভারতের গ্রামেগঞ্জে বেশির ভাগ মুসলিম কিন্তু জানেন, তারা মুসলিম সমাজের উচ্চবর্ণের অংশ নন। তারা সৈয়দ বা শেখ বংশোদ্ভূত নন – বরং তারা নিজেদের ‘পাসমান্দাজ’ বলেই মনে করেন, উর্দুতে যার অর্থ হল পশ্চাৎপদ বা পিছিয়ে থাকা শ্রেণী।”

ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান সফরে গিয়ে কাশ্মীরের মুসলিমদের প্রতি সংহতি জানান তুর্কী প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান
ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান সফরে গিয়ে কাশ্মীরের মুসলিমদের প্রতি সংহতি জানান তুর্কী প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান

“সেই সঙ্গে তারা এটাও জানেন তাদের পূর্বপুরুষরা আফগানিস্তান, আরব বা তুরস্ক থেকে আসেননি। তারা ভারতেরই ভূমিপুত্র, যারা কয়েকশো বছর আগে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন।”

“কিন্তু আজকের এই সময়ে ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়টা সোজাসুজিভাবে ঘোষণা করার ঝোঁক বাড়ছে। রানা আইয়ুব, রানা সাফভী-র মতো অ্যাক্টিভিস্ট, যারা কোনও মতেই ফ্যানাটিক বা উগ্রবাদী নন – তারাও কিন্তু ঠিক একই জিনিস করছেন।”

“একটা তুর্কী সিরিজ গোগ্রাসে গেলার মধ্যেও আমি সেই প্রবণতারই প্রতিফলন দেখছি”, বলছিলেন ইকরামুল হক।

ভারতের হিন্দুরা কীভাবে দেখছে এরতুগ্রুলকে?

হায়দ্রাবাদের দু’জন গবেষকই জানাচ্ছেন যে ভারতে হিন্দুদের মধ্যেও কিন্তু এই তুর্কী সিরিজটি কম জনপ্রিয় নয়।

শাহীদ মিও আর ইকরামুল হক দু’জনের অভিজ্ঞতাই বলছে, তাদের হিন্দু বন্ধুবান্ধব-সহকর্মী বা পরিচিতজনদের মধ্যেও অনেকেই ‘ডিরিলিস: এরতুগ্রুল’ এর মধ্যেই আদ্যোপান্ত দেখে ফেলেছেন।

অধ্যাপক ড. ইকরামুল হক
অধ্যাপক ড. ইকরামুল হক

তারা প্রায় প্রত্যেকেই বলেছেন, তুর্কী ইতিহাসের গল্পটা এখানে খুব বড় কথা নয় – এরতুগ্রুলের নাটকীয়তা, প্লট বা মেকিংয়ের জন্যই তারা এই সিরিজ মাঝপথে ছাড়তে পারেননি।

তবে এরতুগ্রুলকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভারতীয় ও পাকিস্তানিদের ধর্মীয় লড়াই-ও কিন্তু থেমে নেই।

ভারতের প্রথম সারির দৈনিক ‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’ কিছুদিন আগেই রিপোর্ট করেছিল, এরতুগ্রুলকে কেন্দ্র করে প্রধানত ভারতের হিন্দুরা কীভাবে পাকিস্তানি মুসলিমদের সঙ্গে ধর্মীয় বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছে।

‘অপইন্ডিয়া’ নামে ভারতের একটি হিন্দুত্ববাদী পোর্টাল সম্প্রতি লিখেছে, “পাকিস্তানিদের মতো এরতুগ্রুল দেখতে শুরু করে ভারতীয় মুসলমানেরা আসলে দেশের সঙ্গে বেইমানি করছেন!”

অপইন্ডিয়ার বক্তব্য ছিল, “এর মাধ্যমে ভারতীয় মুসলমানেরা আসলে তাদের হিন্দু ঐতিহ্যকে অস্বীকার করতে চাইছেন এবং তুর্কী বা আরব দুনিয়ার দিকে তাকিয়ে নিজেদের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস ঘোচাতে চেষ্টা করছেন।”

এই ধরনের ঢালাও অভিযোগ সত্ত্বেও ভারতে কিন্তু এরতুগ্রুলের আকর্ষণ ক্রমেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে।

মুসলিমদের মধ্যে তো বটেই, এমন কী অল্প অল্প করে হিন্দুদের মধ্যেও।

আর পাকিস্তানিরা কেউ কেউ সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াতে এমনও দাবি করেছেন যে নরেন্দ্র মোদী সরকার না কি ভারতে এরতুগ্রুল নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।

তবে এই বক্তব্য সত্যি নয় মোটেই। যে কোনও কারণেই না কেন হোক – ভারত কিন্তু এই তুর্কী সিরিজটিকে এ দেশে কখনওই নিষিদ্ধ করেনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ইলিশও পাচার হচ্ছে ভারতে

চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পথে পাচার হয়ে আসা ৪ হাজার কেজির বেশি বাংলাদেশি ইলিশ ধরা পড়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফয়ের হাতে। সম্প্রতি বিএসএফয়ের দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের হাতে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে আসা ৩ হাজার ৮৮৮ কেজি ইলিশ ধরা পড়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে ১৬ জন ভারতীয় পাচারকারী।

এর মধ্যে উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের অধীন সীমান্ত এলাকায় ধরা পড়েছে ৫০০ কেজি ইলিশ। এই ফ্রন্টিয়ারের সীমান্ত এলাকা হলো মালদহ ও মুর্শিদাবাদ। আর দক্ষিণবঙ্গে সবচেয়ে বেশি ইলিশ পাচার হয়ে এসেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এবং বসিরহাট মহকুমার সীমান্ত থেকে। এ ছাড়া এই বনগাঁও এবং বসিরহাট মহকুমার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত সীমান্ত নদী ইছামতী দিয়েও পাচারকারীরা ইলিশ পাচার করছে নদীপথে।

দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের ডিআইজি এসএস গুলারিয়া সাংবাদিকদের বলেছেন, চলতি মৌসুমে যে পরিমাণ ইলিশ ওপার থেকে এপারে চোরাইপথে এসেছে তা আগে কখনো হয়নি। তবে উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের পাচারের পরিমাণ কম। এখন অবশ্য দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের সীমান্ত এলাকা ইলিশ পাচারের অন্যতম করিডর হিসাবে ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। সব মিলিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত এই রাজ্যে বাংলাদেশ থেকে চোরাইপথে আসা ইলিশ ধরা পড়েছে ৪ হাজার ৩৮৮ কেজি।

এদিকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে কলকাতায় সরকারিভাবে আসা শুরু হয়েছে বাংলাদেশের ইলিশ । বাংলাদেশ সরকার আসন্ন দুর্গাপূজার কথা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গে ১ হাজার ৪৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়। সেই লক্ষ্য নিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর প্রথম ইলিশ আসে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলসীমান্ত পথে। প্রথম দিন আসে ২০ টন ইলিশ। ওই দিন থেকে প্রায় প্রতিদিনই ইলিশ আসছে কলকাতায়। গতকাল সোমবার পর্যন্ত কলকাতায় ইলিশ এসেছে ৭৭৫ টন। আজ মঙ্গলবার আসছে আরও ৭০ টন। আর বাকি সব ইলিশ কলকাতায় চলে আসবে আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে।

কলকাতার ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রথম আলোকে জানান, এখন বাংলাদেশের ইলিশের দাম কলকাতায় কমতে শুরু করেছে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত ৭৭৫ টন ইলিশ কলকাতায় এসেছে। আজ মঙ্গলবার আসছে আরও ৭০ টন ইলিশ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

ভারতে পাচারের সময় ১২৬ কেজি ইলিশ জব্দ

লেখক

রাজশাহীর বাঘায় সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পাচারের সময় ১২৬ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করেছে উপজেলার সীমান্ত এলাকার আলাইপুর বিজিবি (বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ান)। বৃহস্পতিবার  রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি টহল দল ভারতে পাচারকালে ওই ইলিশ মাছগুলো জব্দ করে।

চোরাকারবারীরা মাছগুলো নৌকায়  নদীপথে ভারতে পাচারের জন্য সড়কঘাট এলাকার পদ্মার পাড়ে অপেক্ষা করছিল বলে জানা গেছে।

আলাইপুর ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার আবু তালেব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার জব্দকৃত মাছগুলো বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন রেজার উপস্থিতিতে মাদ্রাসায়, এতিমখানায়, এলাকার দুস্থ ও গরিবদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্বব হয়নি বলে জানান সুবেদার আবু তালেব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

‘তাহলে আডভানি-জোশীরা সেদিন মঞ্চে মিষ্টি বিলি করছিলেন কেন?’ -প্রশ্ন আসাদউদ্দিন ওয়াইসির

বাবরি মসজিদের গম্বুজে চড়ে বসেছেন করসেবকরা। ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২
বাবরি মসজিদের গম্বুজে চড়ে বসেছেন করসেবকরা। ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২

আঠাশ বছর আগে ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনায় বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডভানি, মুরলী মনোহর জোশী, উমা ভারতী-সহ মোট ৩২জন অভিযুক্তকে বুধবার আদালত অব্যাহতি দেওয়ার পর কোর্টের রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিনিয়র এমপি ও দেশের মুসলিম সমাজের প্রথম সারির নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

মি ওয়াইসি বুধবার বলেছেন, “সারা দুনিয়া দেখেছে বাবরি ভাঙার দিনে সেখানে মঞ্চের ওপর বসে আডভানি-জোশীরা মিষ্টি বিলি করছিলেন। তাহলে তারা কীভাবে নির্দোষ হতে পারেন?”

অন্যদিকে কোর্টে অব্যাহাতি পাওয়ার পর বিজেপির এই দুই প্রবীণ নেতাই ”জয় শ্রীরাম” ধ্বনিতে রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।

আর ক্ষুব্ধ ও হতাশ মুসলিম নেতারা প্রশ্ন তুলছেন, এই অভিযুক্তদের যদি সে দিনের ঘটনায় কোনও ভূমিকাই না-থাকে তাহলে মসজিদ ভাঙল কারা?

ভারতে রামমন্দির আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন লালকৃষ্ণ আডভানি (সামনে)
ভারতে রামমন্দির আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন লালকৃষ্ণ আডভানি (সামনে)

বস্তুত লখনৌতে বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক বুধবার দুপুরে রায় পড়ার শুরুতেই জানিয়ে দেন, মসজিদ ভেঙে ফেলার এই ঘটনা আদৌ পূর্ব পরিকল্পিত ছিল না।

১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার দিন বিজেপি নেতারা উন্মত্ত জনতাকে ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও আদালত মন্তব্য করেছে।

বাবরি মসজিদ ভাঙার আঠাশ বছর পর যখন আদালতে মূল অভিযুক্তরা সবাই আজ খালাস পেয়ে যান, সঙ্গে সঙ্গে কোর্টরুমের ভেতরেই মুহুর্মুহু ”জয় শ্রীরাম” স্লোগান উঠতে থাকে, বাইরেও চলতে থাকে তার রেশ।

বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক এস কে যাদব তার চাকরি জীবনের শেষ দিনটিতে জানিয়ে দেন, এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি আডভানি-জোশী-উমা ভারতীর মতো নেতানেত্রীরা সেদিন মসজিদ ভাঙায় প্ররোচনা দিয়েছিলেন বলে- বরং তারা না কি সেটা আটকাতেই চেষ্টা করেছিলেন।

লাঠিসোঁটা, শাবল নিয়ে যখন বাবরি মসজিদের দেওয়াল ভাঙতে শুরু করেছেন করসেবকরা
লাঠিসোঁটা, শাবল নিয়ে যখন বাবরি মসজিদের দেওয়াল ভাঙতে শুরু করেছেন করসেবকরা

রায় ঘোষণার পর বিরানব্বই বছর বয়সী প্রবীণ বিজেপি নেতা মি আডভানি বাড়ির বাইরে এসে সাংবাদিকদের মিষ্টিমুখ করান।

তিনি বলেন, “আজ ভীষণ আনন্দের এক মুহূর্ত, খবরটা শোনার পরই আমরা জয় শ্রীরাম বলে এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছি।”

বাবরি মসজিদ ভাঙায় সময় বিজেপির সভাপতি ছিলেন মুরলীমনোহর জোশী, আর সে দিন তিনিও ছিলেন ঘটনাস্থলেই।

ছিয়াশি বছর বয়সী এই নেতা আজ দাবি করেছেন রামমন্দির আন্দোলনে সামিল দিলেও তারা মোটেই মসজিদ ভাঙতে চাননি।

বাবরি যখন অক্ষত। অযোধ্যায় হিন্দু সাধুদের পরিক্রমা, ১৯৮৯
বাবরি যখন অক্ষত। অযোধ্যায় হিন্দু সাধুদের পরিক্রমা, ১৯৮৯

তার বক্তব্য, “আমরা শুধু রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে জনমত গড়তে চেয়েছিলাম, মানুষের সামনে তথ্যটা তুলে ধরতে চেয়েছিলাম।”

তবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বা বজরং দলের মতো সংগঠনের আরও যে অনেক নেতানেত্রী আদালতে খালাস পেলেন, তারা অনেকেই আজও জোর গলায় বলেছেন মসজিদ ভেঙে থাকলে বেশ করেছি।

যেমন হিন্দু সন্ন্যাসিনী সাধ্বী ঋতম্ভরা।

তিনি বলেছেন, “রামলালার জন্য ও সত্যের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে এই সব বাধাবিপত্তি আমি হাসিমুখে মেনে নিয়েছি।”

নব্বইয়ের দশকে ভারত জুড়ে ”হিন্দুদের ভাবনার যে অবমাননা” হয়েছে, বাবরি ভাঙা তারই প্রতিক্রিয়া বলেও দাবি করেন তিনি।

আসাদউদ্দিন ওয়াইসি
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি

জয়ভগবান গোয়েল নামে আর একজন অভিযুক্ত কোর্টে ঢোকার আগেই মিডিয়াকে বলে যান, মসজিদ ভাঙার জন্য তিনি মোটেও লজ্জিত নন।

আর এত সব কিছুর পরেও কীভাবে আসামিরা সবাই খালাস পেলেন, তাতে চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হায়দ্রাবাদের এমপি ও ভারতীয় মুসলিম সমাজের শীর্ষস্থানীয় নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

মি ওয়াইসির প্রশ্ন, “সারা দুনিয়া দেখেছে সেদিন উমা ভারতী বাবরি ভাঙার জন্য স্লোগান দিয়েছিলেন। আডভানি-জোশীরা মঞ্চে মিষ্টি বিলোচ্ছিলেন।”

“চার্জশিটে পর্যন্ত বলা হয়েছে, আগের রাতে আডভানি বিনয় কাটিয়ারের ডেরায় গিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিলেন।”

“এরা সবাই নির্দোষ হলে আমাদের প্রশ্ন, তাহলে মসজিদ ভাঙল কারা?”

জাফরইয়াব জিলানি
জাফরইয়াব জিলানি

বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটির নেতা জাফরইয়াব জিলানি আবার বলছেন, “যেখানে মাত্র দুজন সাক্ষীর ভিত্তিতে খুনের আসামিকেও সাজা দেওয়া যায় সেখানে কয়েক ডজন সাক্ষী থাকার পরও আদালত কীভাবে বলতে পারে কোনও প্রমাণ নেই?”

“আর এই সাক্ষীদের মধ্যে পুলিশ বা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্তারাও ছিলেন যারা মুসলমান নন। ছিল অসংখ্য মিডিয়া রিপোর্ট, ফোটোগ্রাফারদের ছবি।”

বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি আজকের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ফলে বাবরি মসজিদ ভাঙার প্রায় তিন দশক পর বুধবার প্রথম সেই ঘটনায় বিচারবিভাগের রায় এল ঠিকই – কিন্তু তা সংক্ষুব্ধ পক্ষ বা ভারতের মুসলিম সমাজকে কোনও ”ক্লোজার” দিতে পারল তা কিন্তু আদৌ বলা যাচ্ছে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com