আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

শুক নদে মাছ ধরার সুখ

নদীর বাঁধজুড়ে মানুষের ঢল। কেউ দাঁড়িয়ে বাঁধের ধারে, আবার কেউ কোমরসমান পানিতে। চারপাশে জলের ঝপাৎ-ঝপাৎ শব্দ। নানা বয়সের মানুষ জাল ফেলে মাছ ধরছে। এই চিত্র ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শুক নদের বুড়ির বাঁধ (জলকপাট) এলাকার। দুই দিন ধরে সেখানে মাছ ধরা চলছে।

শুক্রবার রাতে খুলে দেওয়া হয় জলকপাটের দরজা। পানি কমে গেলে শনিবার ভোরে হাতে হাতে ফিকা জাল নিয়ে পানিতে নেমে পড়েন স্থানীয় লোকজন। শুরু হয়ে গেছে মাছ ধরার উৎসব। মাছ ধরার এ উৎসব ঘিরে এলাকাটি পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়। প্রতিবছর দু-তিন দিন ধরে এখানে মাছ ধরার উৎসব চলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচসুবিধার জন্য শুক নদের ওপর বুড়ির বাঁধ নামে একটি জলকপাট (স্লুইসগেট) নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৮২ সালে। জলকপাটে আটকে থাকা পানিতে প্রতিবছর মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা ছাড়ে। এসব পোনা যাতে কেউ ধরতে না পারেন, তা দেখভাল করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ। অক্টোবরের শেষের দিকে সেখানে মাছ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। জলকপাট নির্মাণের পর থেকে সেখানে মাছ ধরার উৎসব চলে আসছে। এতে যোগ দেন আশপাশের গ্রাম ও শহর থেকে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শনিবার ভোরে বুড়ির বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে, আবার কেউ পানিতে দাঁড়িয়ে জাল ফেলে মাছ ধরছেন। ভিড়ের কারণে একজনের জাল অন্যজনের জালের ওপরে পড়ছে। আর তা নিয়ে চলছে হাসি-তামাশা। এসব দেখে সদর উপজেলার আখানগর গ্রামের মহসিন আলী বললেন, ‘এইঠে যতলা লোক মাছ মারছে বাঁধের পানি ফাঁকা পাওয়া জাসেনি। জাল ফেলাবা গেলেই অন্যের জালের ওপরত পড়ছে।’

এসব বিড়ম্বনা এড়াতে অনেকে আবার কলার ভেলায় ঘুরে ঘুরে মাছ ধরছেন। বাঁধের ওপরে বসেছে খাবার, ফল ও খেলনার দোকান। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল নিরাপদে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী গ্যারেজ। সেখানে প্রতিটি বাইসাইকেলের জন্য ১৫ ও মোটরসাইকেল রাখতে ৩০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইয়াসিন আলী বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা এই দিনের জন্য অপেক্ষা করি। সকালে থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তিন কেজি ছোট মাছ ধরতে পেরেছি। তবে এবার পানিতে কচুরিপানা থাকায় জাল ফেলতে সমস্যা হচ্ছে।’

অনেক ব্যবসায়ী মাছ কিনে বাঁধের ওপর বিক্রি করছেন। শহর থেকে আসা মানুষজন সেসব মাছ কিনে নিচ্ছেন। আবার অনেকে এখান থেকে মাছ কিনে শহরের বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বনাথ দাস নামের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্রতিবছর এ সময়ে মাছ কিনতে চলে আছি। আজ ১৬ হাজার টাকার ছোট মাছ কিনেছি। এগুলো শহরের বাজারে নিয়ে যাব।’

প্রতিবছর আমরা এই দিনের জন্য অপেক্ষা করি। সকালে থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তিন কেজি ছোট মাছ ধরতে পেরেছি। তবে এবার পানিতে কচুরিপানা থাকায় জাল ফেলতে সমস্যা হচ্ছে।

পুরোনো ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা মো. ইউসুফ জানালেন, এই বাঁধের পানিতে বোয়াল, বাইম, শোল, ট্যাংরা, খলসে, পুঁটি, টাকি, মলা, চিংড়িসহ বিভিন্ন জাতের দেশি মাছ বেশি পাওয়া যায়। তবে অনেকের জালে আবার রুই-কাতলা ধরা পড়ে।

প্রতিবছর এ সময় ঠাকুরগাঁও শহরের আশ্রমপাড়া এলাকা থেকে জাল হাতে এখানে চলে আসেন মনিরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘মাছ ধরার এই উৎসবে অনেক দিন দেখা নেই—এমন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। আমরা এটাকে মিলনমেলাও বলে থাকি।’

সদর উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান অরুণাংশু দত্ত বলেন, ‘পানি ছেড়ে দিলে বুড়ির বাঁধ এলাকায় মাছ ধরা উৎসবে পরিণত হয়। আমরা যুগের পর যুগ এ উৎসব ধরে রাখতে চাই।’

বাংলাদেশ

সবজি চাষে ফিরেছে সচ্ছলতা

বরগুনা: সবজি চাষে সচ্ছল ও স্বাবলম্বী হচ্ছেন সাগর উপকূলীয় জেলা বরগুনার কৃষকেরা। প্রতিনিয়ত দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা মানুষগুলো এখন প্রায় সারা বছরই নানা জাতের সবজির চাষ করছেন। 

ভরা মৌসুম চলায় ছোট-বড় বাজারগুলো বর্তমানে সবজিতে সয়লাব। জেলার চাহিদা মিটিয়েও পাশের জেলাগুলোতে সবজি বাজারজাত করছেন কৃষকেরা।

গত কয়েক বছর ধরে সদর, আমতলী, বামনা, বেতাগী, পাথরঘাটা ও তালতলী উপজেলার চাষিরা ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করছেন। সেসব সবজি বিক্রির আয়েই ওইসব এলাকার কৃষকদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার প্রত্যন্ত ছোট বদরখালী গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার ১২ মাস সবজি চাষ করে সচ্ছল ও স্বাবলম্বী হয়েছে।

কৃষকরা জানান, এক একর জমিতে সবজি চাষ করতে ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ওই জমিতে উৎপাদিত সবজি বাজারজাত করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়।

সবজি চাষে ফিরেছে সচ্ছলতা

বরগুনা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদ বাংলানিউজকে বলেন, চলতি মৌসুমে জেলার প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। কৃষি অফিসের তথ্য ও পরামর্শে পতিত জমিতে লাউ, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন মৌসুমী সবজি চাষ করেছেন নারী-পুরুষেরা। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে কৃষক পরিবারগুলো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

শীতের সবজি ক্ষেতে ঢলের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার স্বপ্ন

ফেনী: সকাল সাড়ে ৭টা। কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্য সবে উকি দিতে শুরু করেছে। গ্রামের মেঠো পথ প্রায় জনমানবশূন্য। অন্যকোথাও গ্রামের বাসিন্দাদের দেখা না গেলেও, কাকডাকা ভোরেই সবজি ক্ষেতে কৃষকের সরব উপস্থিতি। আগাছা পরিষ্কার, নিড়ানি, চারা গাছের পরিচর্যা ও কীটনাশক প্রয়োগসহ যাবতীয় কাজে কোদাল হাতে বেশ খাটুনি দিয়েই শুরু হয়েছে প্রান্তিক কৃষকদের আজকের দিনটি।

বুধবার (৮ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার আমবাড়ীয়া এলাকায় ফসলের মাঠে কৃষকদের শীতের সবজি চাষের ব্যস্ততার চিত্র এমনই।

কথা হয় মাঠে কর্মরত কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে।

তারা জানান, দফায় দফায় বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পুরো বছরই লোকসান গুনতে হয়েছে তাদের। তাই এখন মৌসুমের শীতের সবজির উপরেই ভরসা।
সিম ক্ষেত পরির্চযায় ব্যস্ত ষাটোর্ধ এক কৃষক/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমআইয়ুব খান নামে এক কৃষক জানান, তিনি মোট ১৫ শতক জমিতে শসা চাষ করেছেন। চাষের শুরু থেকে ফসল ওঠার আগ পর্যন্ত তার খরচ প্রায় ১০ হাজার টাকা। ঠিকমতো ফসল উঠলে ও দাম পেলে এ ক্ষেত থেকেই প্রায় ৫০ হাজার টাকার শসা বিক্রির আশা করছেন তিনি।


ফুলকপি ক্ষেতে কোদাল হাতে কৃষক/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমএর কিছু দূর গিয়ে কথা হয় কৃষক সবির হোসেনের সঙ্গে। দুই ছেলেসহ মাঠে কাজ করছেন তিনি। মোট ২৪ শতক জমিতে ফুল কপি চাষ করেছেন। তিনি জানান, গত ১০ অক্টোবর চারা রোপণ করেছেন, প্রতি ১৫ দিন পরপরই নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হয়, নিয়মিত প্রয়োগ করতে হয় কীটনাশক। সবমিলিয়ে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এখান থেকে লাখ টাকা আয়ের আশা প্রকাশ করে সবির হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, কোনো ধরনের দুর্যোগ না হলে ডিসেম্বরের শেষ বা জানুয়ারির শুরুতেই ফসল তোলা সম্ভব হবে।
মাচায় ঝুলছে লাউ/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমপুরো এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, এখানে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, বেগুন, মূলা, করলা, পটোল, পালং ও লাল শাক, টমেটোসহ রকমারি শীতকালীন সবজি চাষ হচ্ছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ আর সবুজ। যেন সবুজে সবুজে ভরে উঠেছে প্রান্তর। আর এ সবুজের মাঝেই দিন কাটছে কৃষকদের। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দিনমান ব্যস্ততা ফসলের মাঠেই।


মাচায় ঝুলছে শীতের সবজি চিচিঙ্গা/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমসবজি চাষ নিয়ে কথা হয় মিরসরাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদের সঙ্গে। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, এবারের শীত মৌসুমে মিরসরাই উপজেলায় মোট ২ হাজার হেক্টর জমিতে মৌসুমী সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রায় ১২শ’ হেক্টর জমিতে সবজি চাষাবাদ শুরু হয়েছে।
বরবটি সিমের ফুল/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমবুলবুল আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, সবজি উৎপাদনের জন্য খুবই সম্ভাবনাময় জনপদ মিরসরাই। এ এলাকার সবজি ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যায়। উপজেলার করের হাট, হিঙ্গুলী, জোরারগঞ্জ, দুর্গাপুর, মিরসরাই সদর, খইয়াছড়া ও ওয়াহেদ পুরে বেশি সবজি চাষ হয়।
বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে ফুল কপির চাষ/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমতিনি আরো জানান, দফায় দফায় বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ধান চাষে তেমন সুবিধা করতে না পারায় সবজি চাষের দিকেই আগ্রহী কৃষকরা। সবজি চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, সবজি চাষের জন্য খুব বেশি জমি প্রয়োজন হয় না। মূলধন ও পরিশ্রমও তুলনামূলক কম। একটু সেবা-যত্ন করতে পারলেই সবজি চাষাবাদ করে যেকোনো কৃষক ভাগ্য ফেরাতে পারেন।
জমির আইলেই চাষাবাদ হচ্ছে কলা/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমমাঠ পর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সবজি চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে তাদের। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কথাও তুলে ধরেছেন তারা। কৃষকদের অভিযোগ, কোনো ধরনের সহযোগিতা করে না উপজেলা কৃষি অফিস।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বেগুনে ভাগ্যবদল কৃষকের!

বগুড়া: বগুড়া জেলার ১২ উপজেলার সবজিখ্যাত গ্রামগুলোর সিংহভাগ কৃষক আগামজাতের সবজি চাষে আবাদ তালিকার শীর্ষে রেখেছেন বিভিন্ন জাতের বেগুন।

বেগুন চাষে অনেক কৃষকের ভাগ্য বদল হচ্ছে। শুরু থেকেই উৎপাদিত বেগুনের দাম বাজারে ভাল পাচ্ছেন চাষিরা।

সবুজের সমারোহ চারদিকে। মাঠে মাঠে বইছে মৃদু বাতাস।

বাতাসের ভাড়ে ক্ষেতের গাছগুলো একে অপরের গায়ে আঁচড়ে পড়তে চায়। কিন্তু সেটা হয়েও যেন হয় না। কারণ কোদাল, পাচুনসহ আনুষাঙ্গিক কৃষি সামগ্রী নিয়ে কৃষক রয়েছেন মাঠে। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত সবজির ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন কৃষকরা। বেগুনে ভাগ্যবদল কৃষকের, ছবি: আরিফ জাহানসবজিখ্যাত বগুড়া সদর, নন্দীগ্রাম, শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ, শেরপুর, গাবতলী উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা হলে এমন তথ্য ওঠে আসে।

কৃষক আব্দুল মতিন। নন্দীগ্রাম উপজেলার কাথম বেতগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় জাত কৃষক তিনি।

এ কৃষক বাংলানিউজকে জানান, অন্যের জমি বর্গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সবজি চাষ করে আসছেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় এবারো তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ছাপা জাতের বেগুন লাগিয়েছেন।

সবমিলে তার ব্যয় হয়েছে দুই লাখ টাকার মতো। ইতোমধ্যেই তিনি দুই লাখ টাকার অধিক বেগুন বিক্রি করেছেন। আরো অনেক টাকার বেগুন বিক্রি করা যাবে যোগ করেন কৃষক আব্দুল মতিন।

সদর উপজেলার কৃষক রমজান আলী, শেরপুর উপজেলার কৃষক সামছুল আলম বাংলানিউজকে জানান, শীতকালীন সবজি হিসেবে অন্য সবজির পাশাপাশি তারা এবার বেশির ভাগ জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। ফলনও ভাল হয়েছে। দামও ভাল পাচ্ছেন। এছাড়া সবজি চাষে ব্যয় অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম হয়।

তারা আরো জানান, ক্ষেতের বেগুন উঠানোর শুরুর দিকে পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি বেগুন ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি করছেন। বর্তমানে একই বেগুন ৪০-৪৫ টাকা কেজি হিসেবে পাইকারী দরে বিক্রি করছেন। এতে বেগুন চাষিরা এবার ভাল লাভবান হবেন। বেগুন তাদের ভাগ্যের চাকা অনেকটা ঘুরিয়ে দিয়েছে বলেও জানান এসব কৃষকরা। বেগুনে ভাগ্যবদল কৃষকের, ছবি: আরিফ জাহানজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বাংলানিউজকে জানান, শীতকালীন হিসেবে এ জেলায় বিপুল পরিমাণ জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে বেগুন ও মরিচের জমির পরিমান বেশি। এ দু’টো সবজির দাম কৃষক ভাল পেয়েছেন বা পাচ্ছেন। বেগুন ও মরিচ চাষিরা ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলেও জানান কৃষি বিভাগের । ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

শীতের সবজিতে নারীর অবদান বেশি, মজুরি কম

নীলফামারী:  শীত আর কুয়াশাকে উপেক্ষা করে ছুটে চলেছেন নারীরা। ঝড়-বৃষ্টিকেও তোয়াক্কা করেন না তারা। কর্মজীবী এই নারীরা ক্ষেতে-খামারে কাজ করে আয়-রোজগারের মাধ্যমে সংসারের চাকাকে সচল রাখছেন। কৃষি ফসল উৎপাদন ও পরিচর্যা বিশেষ করে শীতের সবজি চাষাবাদ ও নিড়ানিতে অবদান রেখে চলেছেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, পুরুষের তুলনায় বেশি কাজ করেও মজুরি কম পাচ্ছেন এসব নারী। প্রতিদিন কৃষিকাজে একজন পুরুষ শ্রমিককে ৩০০ টাকা দেওয়া হলেও নারী শ্রমিক পাচ্ছেন ২০০ টাকা করে।

তবে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় নারীদের মজুরি সামান্য বেড়েছে।

পুরুষের মতো কাজে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা না থাকায় নারী শ্রমিকদের কদর বেড়েছে। আবার সমান পারদর্শী হয়ে ওঠায় কৃষি কাজে গ্রামীণ নারীদেরই কাজে লাগানো হচ্ছে বেশি।

কৃষকদের শীতের সবজি, আলু ও রোপা আমন ক্ষেতের নিড়ানি ও পরিচর্যা এবং উত্তোলনে পারদর্শিতা দেখাচ্ছেন নারী শ্রমিকরা। গৃহস্থদের কাছে অনেক প্রিয় হওয়ায় তাদের মজুরি কিছুটা হলেও বেড়েছে।

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে সংসারের যাবতীয় কাজ শেষ করে কর্মক্ষেত্রে ছুটে যাচ্ছেন শত শত নারী। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রম ভিত্তিক কাজে অর্থ উপার্জন করে সংসারের অভাব দূর করছেন।
 
এখন মাস শেষে পরিবারের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন নারীরাও। ফলে এসব পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৫ থেকে ১৫ জন মিলে দল গঠন করেছেন নারী শ্রমিকরা। কর্মক্ষেত্রে সমস্যায় পড়লে এসব দলবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদও করছেন। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে নানা হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কৃষকরা জানান, আগাম টাকা না দিয়ে রাখলে নারী শ্রমিকদের সময়মতো কাজে পাওয়া যায় না। সরকারের বিভিন্ন ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা, কর্মসংস্থান কর্মসূচি উন্নয়নমূলক কাজে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কাজে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ায় তাদেরকে পাওয়াটাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

কমলগঞ্জে টমেটো চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের দিন

মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কৃষক আব্দুল হামিদ টমেটো চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাকে অনুসরণ করে আরও ১০/১২ জন টমেটো চাষে এগিয়ে এসেছেন। খরচ যা হবে তার দ্বিগুণের বেশি লাভের আশা করছেন কৃষকরা।

কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পাথরখলা বাগানের বালুঝিল এলাকায় পা রাখলেই চোখে পড়বে চিকন বাঁশের কঞ্চির আড়ালে সবুজ গাছের সমারোহ। একটু এগিয়ে কাছে গেলে দেখা যাবে টমেটোর সবুজ গাছে ফুল ও ফল ধরতে শুরু করেছে।

বছরে চার বার গাছ থেকে টমেটো তোলা হবে।

কৃষকরা জানান, চৈত্র মাস থেকে শুরু হয়ে যায় বীজ বপন বা চারা লাগানো। আবার কখনো কখনো আরও পরে অর্থাৎ আষাঢ় মাস থেকে। আর ভাদ্র মাসে ফল বিক্রি শুরু হয়। বীজ বপন বা চারা লাগানোর দু’মাসের মধ্যে ফল ধরতে শুরু করে। আগাম টমেটো চাষ করলে অধিক দামে বিক্রি করা যায় বলে কৃষকরা আর্থিকভাবে বেশ লাভের মুখ দেখেন।

তবে টমেটো গাছের রোগব্যাধি কৃষকদের বেশ ভোগাচ্ছে। কোনও কোনও গাছ লাল হয়ে কুঁকড়ে গেছে আবার কোনও গাছের কচি টমেটোগুলোতে নিচে থেকে পচন ধরা শুরু করেছে। আবার কোনও কোনও গাছে প্রচুর টমেটো ধরেছে। আর আধা পাকা টমেটোর ভারে গাছ নুয়ে পড়ছে। পচন রোগ ও  গাছ-মরা রোগে দিশেহারা কৃষকেরা। অথচ নেই কৃষি বিভাগের তদারকি।

টমেটো খেতের কাছে গিয়ে দেখা গেল, সেখানে অনেক লোক কাজ করছে। কেউবা সুতো দিয়ে গাছগুলো বাঁধছে। কেউ ঘাস পরিষ্কার করছে। কেউ আবার ওষুষধ ছিটাচ্ছে। এখানকার টমেটোর খেতগুলোতে শিশুসহ ৭০-৮০ জন লোক নিয়মিত কাজ করে। তবে ফসল তোলার সময় কাজ করে প্রায় দেড়শ লোক।

জমির মালিকদের কাছ থেকে চুক্তির ভিত্তিতে জমি নিয়ে চাষ করছেন অনেক টমেটোচাষী। জমির মালিকদের মধ্যে কয়েকজন হচ্ছেন বিশ্বনাথ, নিমাই, হরিদাস, ফুল মিয়াসহ অনেকে। জায়গাটা উঁচু বলে টমেটোর চাষের জন্য খুবই উপযুক্ত জায়গা। এখানকার সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে জায়গা নিয়ে চাষ করেন আব্দুল হামিদ নামে এক ব্যক্তি। তার বাড়ি পাশ্ববর্তী ইউনিয়ন আদমপুরের বনগাঁও গ্রামে। তিনি ওই এলাকার কাদির খানের ছেলে।

দেখা যায়, টমেটো খেতে কাজ করছে ৭ম শ্রেণীতে পড়–য়া হৃদয় দাস ও সাজু মিয়াকে। বাংলানিউজকে তারা বলে, কখনো কখনো স্কুল বাদ দিয়ে ১ শ টাকা মজুরিতে তারা টমেটোর খেতে কাজ করে। এরা ছাড়াও সেখানে ফজল মিয়া, কালাম মিয়া, মানিক চাঁদসহ কয়েকজন শিশুশ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেল।
শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানের শ্রমিক সুমন দাস বাংলানিউজকে জানায়, বাগানে কাজ না থাকায় ২শ টাকা মজুরিতে এখানে সে কাজ করছে।

টমেটো খেতে কাজ করেন মুজেফফর। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, তিনি ৫ বছর ধরে টমেটো খেতে দৈনিক ৩শ টাকা মজুরিতে কাজ করে সংসার চালান।

খেতে গিয়ে দেখা গেল টমেটোচাষী হামিদ আপন মনে টমেটোগাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত। সাংবাদিক শুনে এগিয়ে আসেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ২০১২ সালে প্রথমে এক একর জায়গা লিজ নিয়ে টমেটো চাষ শুরু করেন। সে বছর ১ লক্ষ টাকা খরচ করে লাভ হয় ২ লক্ষ টাকা। সেই থেকে প্রতি বছর টমেটো চাষ করে যাচ্ছেন। তার সাফল্যের কথা  শুনে এলাকার আরও ১০/১২ জন টমেটো চাষে এগিয়ে এসেছেন। এখন তারা সবাই মিলে ১৫ একর জায়গাতে টমেটো চাষ করছেন।

হামিদ আরও জানান, এ বছর তিনি ২ একর জমিতে টমেটো চাষ করছেন। তার খরচ হবে ৬ লক্ষ টাকা। টমেটো বিক্রী করবেন ১৫ লক্ষ টাকার। খরচ বাদে তার লাভ হবে ৮ থেকে ৯ লক্ষ টাকা।

তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের ব্যাপারে অভিযোগের অন্ত নেই তার। জানালেন, গত ৫ বছরে একদিনের জন্যও কোনও কৃষি কর্মকর্তা তাদের এখানে আসেননি। কৃষি কর্মকর্তারা যদি তাদের সঠিক পরামর্শ দিতেন তবে গাছ বা ফলন নষ্ট হতো না। তাদের ফলন আরও বেশি হতো, লাভও বেশি হতো।

রোগ বালাই হলেও অতিরিক্ত কীটনাশক তিনি টমেটোগাছে বা টমোটোতে দেন না। অনেক শিক্ষিত ছেলে চাকরি পাচ্ছে না। তারা যদি চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকাজে এগিয়ে আসে, তবে দেশের কৃষিক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে। সেইসঙ্গে নিজেরাও স্বনির্ভর হতে পারবে।

হামিদ ছাড়াও এখানকার অন্যসব টমেটোচাষী হলেন নাজমুল মিয়া,মান্নান মিয়া, আব্দুস ছালাম, রেজ্জাক মিয়া, জয়নাল মিয়া, হুরমান মিয়া, কুদ্দুছ মিয়া, আবু তাহের, মৃণাল, ছায়েদ, সবুজ, নওশাদ ও সাবেক ইউপি সদস্য বীরবল প্রসাদ পাল।

বীরবল প্রসাদ পাল বাংলানিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হামিদকে দেখে তারও টমেটো চাষের ইচ্ছা জাগে। তুলনামূলক কম কষ্ট করে অধিক ফলন ও লাভ পাওয়া যায় বলে তারা টমেটো চাষ করছেন। টমেটোর লাভে এখন তাদের পরিবার ভালই চলছে। পাশাপাশি অন্য অনেকের কাজের ব্যবস্থা হচ্ছে।

এব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামছুদ্দিন আহমদের কাছে টমেটো চাষীদের পাশে না দাঁড়ানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, এবিষযে তার জানা ছিল না। মঙ্গলবার বিকেলেই তিনি টমেটো চাষের এলাকাটা ঘুরে দেখবেন। টমেটো চাষীদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com