আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

শীত বিকেলের গরম নাশতা

আসছে শীত। বাড়বে গরম খাবারের চাহিদা। সকাল হোক কিংবা বিকেল চায়ের সঙ্গে গরম–গরম টা না হলে শীত ঠিক জমে না। ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা আর সঙ্গে ধোঁয়া ওঠা মুখরোচক নাশতা। আহা…! শত ব্যস্ততার এই শহুরে জীবনে একটুখানি শান্তি যেন।
শীতের বিকেলে বানিয়ে নিন গরম–গরম নাশতা। রেসিপি দিয়েছেন জেবুন্নেসা বেগম।

চিকেন মোমো

শীত বিকেলের গরম নাশতা

উপকরণ

ময়দা দেড় কাপ, মুরগির কিমা ১ কাপ, সয়া সস ১ চা-চামচ, অরিগানো ১ চা-চামচ, কাঁচা মরিচকুচি ১ চা-চামচ, সাদা গোলমরিচগুঁড়া সামান্য, তেল ১ চা-চামচ, ধনেপাতাকুচি ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ চা-চামচ।

শীত বিকেলের গরম নাশতা

প্রণালি

ময়দার সঙ্গে সামান্য লবণ ও পরিমাণমতো পানি দিয়ে ডো তৈরি করুন। ছোট ছোট লুচির মতো করে রুটি বানান। মুরগির কিমার সঙ্গে সয়া সস, কাঁচা মরিচ, সাদা গোলমরিচগুঁড়া, তেল, ধনেপাতা কুচি—সব একসঙ্গে মেশান। রুটির ভেতর কিমা ঢুকিয়ে নিন। এবার ভাপে রেখে ১০ মিনিট পর তুলে নিন। গরম-গরম পরিবেশন করুন।বিজ্ঞাপন

সবজি ডাম্পলিং

শীত বিকেলের গরম নাশতা

উপকরণ

ময়দা দেড় কাপ, লবণ পরিমাণমতো, গাজরকুচি আধা কাপ, ফুলকপি আধা কাপ, পেঁয়াজ কলি ২ টেবিল চামচ, আদাবাটা ১ চা-চামচ, রসুনবাটা আধা চা-চামচ, অরিগানো ১ চা-চামচ, তেল ১ চা-চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ টেবিল চামচ, টমেটো সস ১ চা-চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ১ চা-চামচ।

শীত বিকেলের গরম নাশতা

প্রণালি

তেলে পেঁয়াজ অল্প ভেজে সব সবজি ও মসলা দিয়ে ভাজুন। এতে টমেটো সস ও কাঁচা মরিচ দিয়ে নামিয়ে নিন। ময়দায় লবণ ও পরিমাণমতো পানি দিয়ে ডো তৈরি করুন। ছোট ছোট রুটি বেলে এর ভেতর সবজির পুর ঢুকিয়ে অপর পাশ আটকে ভাঁজ করে নিন। স্টিমারে ৫ মিনিট ভাপিয়ে তুলে নিন। গরম-গরম পরিবেশন করুন।বিজ্ঞাপন

ক্যাবেজ স্টিম রোল

শীত বিকেলের গরম নাশতা

উপকরণ

বাঁধাকপির পাতা ৬টা, মুরগির কিমা ২ কাপ, গাজর আধা কাপ, কাঁচা মরিচকুচি ১ চা-চামচ, সয়া সস ১ টেবিল চামচ, অলিভ ওয়েল ১ চা-চামচ, গরমমসলাগুঁড়া আধা চা-চামচ, জায়ফল-জয়ত্রীগুঁড়া সামান্য, গোলমরিচগুঁড়া সিকি চা-চামচ, লবণ সামান্য।

শীত বিকেলের গরম নাশতা

প্রণালি

বাঁধাকপির পাতা খুলে সামান্য লবণ মেখে নিন। গাজরকুচি করে নিন। মাংসের কিমার সঙ্গে গাজর, অলিভ ওয়েল, কাঁচা মরিচ, সয়া সস, গরমমসলাগুঁড়া, জায়ফল-জয়ত্রী গুঁড়া, গোলমরিচগুঁড়া সব একসঙ্গে মেখে নিন। কপির পাতার ভেতর এই মিশ্রণ ঢুকিয়ে রোল বানিয়ে নিন। এবার স্টিমারে রেখে ভাপে দিন। সেদ্ধ হলে নামিয়ে নিন। গরম-গরম পরিবেশন করুন।বিজ্ঞাপন

চিকেন ফ্লাওয়ার ডাম্পলিং

শীত বিকেলের গরম নাশতা

উপকরণ

মুরগির কিমা ২ কাপ, আদাবাটা ১ চা-চামচ, রসুনবাটা আধা চা-চামচ, গোলমরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ, সয়া সস ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচকুচি ১ চা-চামচ, পুদিনাপাতা মিহিকুচি ১ চা-চামচ, বাসমতী চাল ১ কাপ, লবণ সামান্য।

শীত বিকেলের গরম নাশতা

প্রণালি

বাসমতী চাল পরিষ্কার করে ধুয়ে সামান্য লবণ–পানিতে আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। পরে চালের পানি ঝরিয়ে নিন। কিমার সঙ্গে আদাবাটা, রসুনবাটা, সয়া সস, গোলমরিচ গুঁড়া ও পুদিনা ভালোভাবে মেশান। গোল গোল করে বল তৈরি করুন। এবার চালে মাংসের বলগুলো গড়িয়ে নিন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভাপে দিন। সেদ্ধ হলে নামিয়ে গরম-গরম পরিবেশন করুন।বিজ্ঞাপন

টরটেলিনি

শীত বিকেলের গরম নাশতা

উপকরণ

ময়দা ১ কাপ, ডিম ১টি, লবণ সামান্য, মুরগি অথবা গরুর কিমা ১ কাপ, গোলমরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ, জায়ফলগুঁড়া আধা চা-চামচ, ফেটানো ডিম ১ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো, স্টক দেড় কাপ, টমেটো সস ১ টেবিল চামচ, রসুনকুচি ১ চা-চামচ, সয়া সস ১ চা-চামচ।

শীত বিকেলের গরম নাশতা

প্রণালি

ময়দার সঙ্গে ডিম ও লবণ মেখে কিছুক্ষণ রেখে দিন। কিমার সঙ্গে গোলমরিচগুঁড়া, জায়ফলগুঁড়া, ডিম, লবণ মেশান। পাতলা রুটি বেলে চার কোনা করে ছোট ছোট করে কাটুন। ভেতরে কিমা ঢুকিয়ে দুপাশের কোনা লাগিয়ে অন্য দুপাশ ঘুরিয়ে একসঙ্গে লাগান। চুলায় স্টকের সঙ্গে টমেটো সস, রসুনকুচি, সয়া সস দিয়ে ফোটান। এবার ফুটন্ত স্টকে টরটেলিনি ঢেলে দিন। সেদ্ধ হলে নামিয়ে গরম-গরম পরিবেশন করুন।বিজ্ঞাপন

রাইস মোমো

শীত বিকেলের গরম নাশতা

উপকরণ

চালের গুঁড়া ১ কাপ, লবণ পরিমাণমতো, বাসমতী চাল ১ কাপ, গাজর ২ টেবিল চামচ, মটরশুঁটি ২ টেবিল চামচ, সাদা গোলমরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ, সয়া সস ১ চা-চামচ, অরিগানো ১ চা-চামচ।

শীত বিকেলের গরম নাশতা

প্রণালি

গাজরের খোসা ফেলে কিউব করে কেটে নিন। বাসমতী চাল ও গাজর সামান্য সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিন। চালের গুঁড়া লবণপানিতে সেদ্ধ করে ডো তৈরি করে তা দিয়ে পাতলা রুটি তৈরি করুন। এ ছাড়া সুপারশপ থেকে রাইস পেপার কিনে রুটির বদলে ব্যবহার করতে পারেন। প্যাকেটের গায়ে প্রস্তুত প্রণালি দেখে নিন। আধা সেদ্ধ চাল ও গাজরের সঙ্গে মটরশুঁটি, সাদা গোলমরিচগুঁড়া, সামান্য লবণ, অরিগানো ও সয়া সস মেশান। পাতলা রুটির ভেতর ঢুকিয়ে মুড়িয়ে নিন। স্টিমারে রেখে ৫ থেকে ১০ মিনিট ভাপিয়ে নিন। গরম-গরম পরিবেশন করুন।

দৈনন্দিন

নানা গুণের ফুলকপি

নানা গুণের ফুলকপি

ফুলকপি। শীতে সহজলভ্য এই সবজিকে যদি বলা হয় এটি শর্ষে পরিবারভুক্ত, অনেকেই পাগল ভেবে বসবেন। এই সত্যি শুনে একটু অবাক হওয়ারই কথা। তবে এটি মূলত ব্রাসিকা বংশের একটি প্রজাতি। যার নাম ব্রাসিকা ওলারেসা। এটি আবার ‘কোল’ ফসলেরও অন্তর্ভুক্ত। প্লিনি তার উন্নত উদ্ভিদের বর্ণনা ‘ন্যাচারাল হিস্ট্রি’তে সবজিটিকে অভিহিত করে করেছেন এভাবে: ‘এক্স অমনিবাস ব্রাসিক জেনারিবাস সুভিসিমা ইস্ট সাইমা’। সাইমা নামেই প্লিনি একে তাঁর বইয়ে উল্লেখ করেছেন, যা বাঁধাকপির বংশের মধ্যে সবচেয়ে সুস্বাদু।বিজ্ঞাপন

মধ্যযুগে ফুলকপির আদি রূপ সাইপ্রাস দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত ছিল এমনটাই ধারণা করা হয়। ফুলকপির এই জাতটি আবার পশ্চিম ইউরোপেও বিস্তার লাভ করেছিল, যা কখনো কখনো সাইপ্রাস কোলওভার্ট নামেও পরিচিতি পায়। ইতালিয়ানরা একে ডাকত কলি-ফাইরি নামে। চমৎকার স্বাদের জন্য এটি বাগানে বিশেষ মর্যাদা পেতে লাগল। তবে চতুর্থ লুইয়ের সময় পর্যন্ত ফুলকপি সাধারণত গ্র্যান্ড টেবিল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। আর ভারতে তথা ভারতীয় উপমহাদেশে আসে ব্রিটিশদের হাত ধরে ১৮২২ সালে। এই হলো ফুলকপির মোটামুটি ইতিহাস।

দৃষ্টিনন্দন এই সবজিটির রয়েছে বিবিধ উপকারী গুণ
দৃষ্টিনন্দন এই সবজিটির রয়েছে বিবিধ উপকারী গুণ

কলিফ্লাওয়ার বা ফুলকপির নামটি এসেছে ইতালীয় ক্যাভলফিয়োর থেকে। যার অর্থ ‘ক্যাবেজ ফ্লাওয়ার’ বা ‘বাঁধাকপি ফুল’। তবে নামের অরিজিন কিন্তু ভিন্ন। লাতিন শব্দ কুলিস মানে বাঁধাকপি ও ফ্লাস মানে ফুল থেকে মূল শব্দটি এসেছে। আর এখন এই মৌসুমি সবজিটি নানা স্বাদে, নানা ঢঙের রান্নায় আমাদের খাবার টেবিলে পরিবেশিত হচ্ছে। ফুলকপির সাধারণ তরকারি ছাড়াও ফুলকপি ক্রাস্ট পিৎজা, ফুলকপির কোরমা, কারি মসলাদার ফুলকপি, গার্লিক পার্মেজান ফুলকপি এমন নানা বাহারি নামে খাবার হয়ে আমাদের রসনায় স্বাদ জুগিয়ে চলেছে। দৃষ্টিনন্দন এই সবজিটির রয়েছে বিবিধ উপকারী গুণও।

একনজরে ফুলকপি

  • শত শত ঐতিহাসিক ও বর্তমানে বাণিজ্যিক জাতের ফুলকপি বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হয়। নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে প্রায় ৮০টি নর্থ আমেরিকান জাতের একটি বিস্তৃত তালিকা রয়েছে।
  • রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) থেকে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে ফুলকপিকে ‘পাওয়ার হাউস অব ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল’ তালিকায় ২৪তম স্থানে রাখা হয়েছে।
  • সাধারণত সাদা ফুলকপিই আমরা দেখি ও খেয়ে থাকি। কিন্তু রঙের দিক থেকেও এর বিভিন্নতা আছে। কমলা, সবুজ এমনকি বেগুনি রঙের ফুলকপিও পৃথিবীতে রয়েছে।
  • রং যা-ই হোক না কেন, স্বাদ প্রায় একই। হালকা, সামান্য মিষ্টি আবার কিছুটা বাদামের মতো স্বাদেরও হয়ে থাকে। ফুলকপি হলো ক্রসিফেরাস ভেজিটেবল, যাতে প্রাকৃতিকভাবেই ফাইবার ও ভিটামিন বি অধিক পরিমাণে থাকে।

গুণাগুণ

এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ক্যানসারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ফুলকপির একটি গ্রুপ রয়েছে, যা গ্লুকোসিনোলেটস নামে পরিচিত। যখন এটি চিবানো হয় এবং হজম হয়, তখন এই পদার্থগুলো এমন যৌগে বিভক্ত হয়ে যায়, যা ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে—এগুলো কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রভাবও রয়েছে।

ফুলকপির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ক্যানসারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখে
ফুলকপির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ক্যানসারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখে

ওজন কমানো ও হজম শক্তি বাড়ানোর জন্য ফাইবার রয়েছে, কোলাইন যা স্মৃতিশক্তির জন্য প্রয়োজনীয় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানে পূর্ণ এই ফুলকপি।

এতে বিদ্যমান উপাদানগুলো হাড়কে মজবুত করতে ও কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে উন্নত করতে সহায়তা করে।

ফুলকপি পানি ও ফাইবারের ভালো উৎস। উভয় উপাদানই কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ, সুস্থ পরিপাকতন্ত্র বজায় রাখা এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়েটারি ফাইবারগুলো প্রতিরোধক্ষমতা এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তাই এটি কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও স্থূলত্বের মতো প্রদাহজনিত অবস্থার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

এর উচ্চ ফাইবার গ্রহণের ফলে রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে এবং স্থূলতাজনিত লোকের ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করে।

ফুলকপির উচ্চ ফাইবার রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে
ফুলকপির উচ্চ ফাইবার রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে

ফুলকপিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সেলুলারের রূপান্তর রোধ করতে এবং ফ্রি র‌্যাডিক্যালগুলো থেকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস করতে সহায়তা করে।

এই অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টগুলোর মধ্যে একটি হলো ইনডোল-৩-কার্বিনল বা আইথ্রিসি, সাধারণত ক্রসিফেরাস শাকগুলোতে যেমন বাঁধাকপি, ব্রোকলি ও ফুলকপিতে পাওয়া যায়। এটি পুরুষ ও মহিলাদের স্তন এবং প্রজনন ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করতে কার্যকর।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

জানতে হবে পাকস্থলীর ক্যানসার সম্পর্কেও

বিশ্বব্যাপী মরণব্যাধিগুলোর মধ্যে একটি হলো ক্যানসার। আর পাকস্থলীর ক্যানসার তার মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশেও এটি মৃত্যুহারের জন্য দায়ী রোগসমূহের তালিকায় রয়েছে। তাই এ ক্যানসার যাতে প্রাথমিক পর্যায়েই প্রতিরোধ করা যায়, সে জন্য এর উপসর্গ সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখতে হবে। কারণ পাকস্থলীর ক্যানসার খুবই মারাত্মক। তবে আশার কথা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করলে জটিলতা এড়ানো যায়। আর এর জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

ডা. মো. শাহরিয়ার ইসলামের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন ডা. এ টি এম কামরুল হাসান (ডানে) ও ডা. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (বামে)
ডা. মো. শাহরিয়ার ইসলামের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন ডা. এ টি এম কামরুল হাসান (ডানে) ও ডা. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (বামে)

এই লক্ষ্যে এসকেএফ অনকোলজি নিবেদিত ‘বিশ্বমানের ক্যানসার চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ অনুষ্ঠানের চতুর্দশ পর্বে অতিথি হিসেবে যোগ দেন ডা. এ টি এম কামরুল হাসান, এমডি (মেডিকেল অনকোলজি), ক্যানসার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা এবং ডা. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, এমডি (মেডিকেল অনকোলজি), সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা। এ অনুষ্ঠানের আলোচ্য বিষয়: পাকস্থলীর ক্যানসার।

অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রথম আলো ও এসকেএফের ফেসবুক পেজে সম্প্রচারিত হয়। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ডা. মো. শাহরিয়ার ইসলাম।বিজ্ঞাপন

ডা. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমাদের দেশে পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলোতে ৬৮-৭০ বছর বয়সে ক্যানসার দেখা দেয় এবং আমাদের দেশে ৫০-৫২ বছর বয়সেই তা দেখা দেয়। নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে, তবে নারীদের তুলনায় পুরুষদের ঝুঁকি কিছুটা বেশি। পৃথিবীর সব দেশে এর ব্যাপ্তি সমান নয়, ঝুঁকির ক্ষেত্রেও তারতম্য রয়েছে। বিভিন্ন দেশের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার ভিন্নতার কারণে এটি ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে আশার কথা হলো, পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর হার আগের চেয়ে অনেকটা কমে এসেছে।

পাকস্থলীর ক্যানসার আর্লি স্টেইজে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাসিম্পটমেটিক হয়ে থাকে। অর্থাৎ তেমন একটা উপসর্গ প্রকাশ পায় না। অথবা উপসর্গ থাকলেও সেটি খুব সামান্য হয়ে থাকে। মূলত পেটে ব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য, গলা জ্বলা, বমি বমি ভাব কিংবা অ্যাসিডিটি হতে পারে। এ ছাড়া অ্যাডভান্সড স্টেজে যেসব উপসর্গ দেখা দেয় সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ধীরে ধীরে ওজন কমে যাওয়া। এ ছাড়া ক্ষুধামান্দ্য, অল্প খেলেই ভরপেট অনুভূত হওয়া, বমিভাব বা বমি হওয়া, বমির সঙ্গে রক্ত আসা, মলের সঙ্গে কালচে রক্ত আসা প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আর ক্যানসার যদি লিভারে ছড়িয়ে যায় সে ক্ষেত্রে জন্ডিস হতে পারে। আবার পেটের ভেতরে পানি আসতে পারে। অনেকের ক্যানসার ফুসফুসেও ছড়িয়ে যায়। তখন কাশি হতে পারে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে এটি হাড় কিংবা মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে যেতে পারে।

আমাদের দেশে রোগীরা সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে এ-জাতীয় রোগকে অবহেলা করে থাকেন। অনেকেই ঠিকমতো অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ না করে কাছাকাছি কোনো ফার্মেসি থেকে অনুমান করে কোনো ওষুধ খাচ্ছেন, যার ফলে রোগ আরও জটিল হতে থাকে। তবে বর্তমানে আমাদের দেশেও পাকস্থলীর ক্যানসারের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। তাই উপসর্গ দেখামাত্রই দ্রুত অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

ডা. এ টি এম কামরুল হাসান বলেন, ক্যানসার পুরোপুরিভাবে প্রতিরোধ করা না গেলেও এর ঝুঁকির কারণগুলো জানা থাকলে আমরা সচেতন হতে সক্ষম হব। ফলে এর ঝুঁকি থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পেতে পারব। এর মধ্যে কিছু রয়েছে যার ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই, আবার কিছু রয়েছে যেগুলো আমরা জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিবর্তন করতে পারি। সাধারণত নারীদের তুলনায় পুরুষেরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস্ট্রিক আলসারে আক্রান্ত হওয়া এবং ওষুধ সেবন করা এর অন্যতম কারণ। এসব রোগীদের পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। জেনেটিক কারণে এ ক্যানসার হতে পারে।

এছাড়া একটি বড় কারণ ধূমপান। এ ছাড়া পান, জর্দা খেলেও এ রোগের ঝুঁকি থাকে। কারও পাকস্থলীর অর্ধেক অংশ কোনো রোগের কারণে কেটে ফেলা হলে রোগীর পাকস্থলীতেও ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপানে পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। ক্যানসারের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন যেমন- প্রসেসড ফুডের পরিহার করে তাজা ফল ও শাকসবজি খাওয়া এবং নিয়মমাফিক চলাফেরার মাধ্যমে ক্যানসার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

শীতের দিনে গোসলে গরম পানি

শীতের দিনে গোসলে গরম পানি

দিনের পর দিন গোসল না করে থাকা লোকের সংখ্যা বাড়ে শীতে। পানিকে ভয় পেয়ে কেউ কেউ ঠিকমতো মুখটাও ধুতে চান না। গরমকালে ফ্রিজের চেম্বার ভরা ঠান্ডা পানি না পেয়ে যিনি পুরো বাড়ি মাথায় তুলে ফেলেন, তিনিও শীতে এড়িয়ে চলেন ঠান্ডা পানি। তবে শীতকালে যাঁরা নিয়মিত গোসল করেন, তাঁরা অনেকেই ঠান্ডার সঙ্গে গরম পানি মিশিয়ে নেন।

কিন্তু শীতে গরম পানিতে গোসল করা কি ঠিক? এই প্রশ্ন থাকে অনেকের মনে। ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের অধ্যাপক আফজালুল করিম বলছেন, ‘শীতের দিনে গরম পানিতে গোসলে সমস্যা নেই। তবে সেটা খুব গরম না। যারা গরম পানিতে গোসল করবে, তারা অবশ্যই কুসুম গরম পানি নেবে। বেশি গরম পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের চামড়ার ওপর তার প্রভাব পড়বে। ত্বক হয়ে পড়বে খসখসে। তাই গোসলের পর ব্যবহার করতে হবে লোশন।’

নিয়মিত গরম পানি মাথায় দিলে চুল রুক্ষ হওয়ার ভয় থাকে
নিয়মিত গরম পানি মাথায় দিলে চুল রুক্ষ হওয়ার ভয় থাকে

গরম পানিতে গোসলের সময় আর্দ্রতাযুক্ত সাবান ব্যবহার করলে ত্বক স্বাভাবিক থাকবে। নিয়মিত গরম পানি মাথায় দিলে চুল রুক্ষ হওয়ার ভয় থাকে। তাই গোসলের সময় আর্দ্রতাযুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুলে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। চুল থাকবে ঝরঝরে।বিজ্ঞাপন

ঢাকার ইগলস জিমের ফিটনেস বিশেষজ্ঞ শিমুল হাসান বলেন, শীতের দিনে দুপুরে গোসল করতে পারলে অনেকের কাছেই শীতের প্রকোপ কিছুটা কম অনুভূত হয়। এখন যাঁরা শরীরচর্চা করেন, তাঁদের ঠান্ডা পানিতে গোসল না করাই ভালো। কেননা বেশি ঠান্ডা পানিতে পেশি (মাসল) সংকুচিত হয়ে যায়। শরীরচর্চার পর গরম পানিতে গোসল করে নিলে পেশি ঠিক থাকবে। অনেক পারলার বা জিমে স্টিম বাথ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সময়ে স্টিম বাথ দারুণ আরামদায়ক। শীতে নানা ধরনের চর্মরোগ দেখা দেয়। বাতাসের ধুলাবালু শরীরে লেগে থাকলেও ত্বকের ক্ষতি হয়। স্টিম বাথ নিলে ত্বক থাকবে মোলায়েম, কোমল।

শীতে স্টিম বাথ নিলে ত্বক থাকবে মোলায়েম, কোমল।
শীতে স্টিম বাথ নিলে ত্বক থাকবে মোলায়েম, কোমল।

শীতের দিনে গরম পানিতে গোসলের আরও কিছু পরামর্শ দিলেন শিমুল হাসান:
* শরীরচর্চার ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর কুসুম গরম পানিতে গোসল করবেন।
* গরম পানিতে গোসলে আরাম পেয়ে বেশি গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না।
* স্নানঘরে গিজারের সুবিধা থাকলে ৩০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতে গোসল সেরে নিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ওজন নিয়ন্ত্রণে ফুলকপির ভাত

ওজন নিয়ন্ত্রণে ফুলকপির ভাত

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দর দেহ-মন অর্জন করা এবং বজায় রাখার তাগিদ এখন সারা বিশ্বে সবার মধ্যেই। হৃদ্‌রোগ, ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুরু করে শরীরের ব্যথাবেদনা, হাড়ক্ষয়, বাতের সমস্যা—এসব রোগের প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়ও ওজন কমানো ও নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। এমনকি করোনা মহামারিতেও দেখা যাচ্ছে মরবিড অবেসিটি বা বিপজ্জনক রকমের বেশি ওজন এই রোগের ভয়াবহতা ও প্রকারান্তরে মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ।বিজ্ঞাপন

ওজন নিয়ন্ত্রণে লো কার্ব ডায়েট ও কলিফ্লাওয়ার রাইস

কলিফ্লাওয়ার রাইস বা ফুলকপির ভাত
কলিফ্লাওয়ার রাইস বা ফুলকপির ভাত

নিজের শরীর স্লিম আর ফিট রাখতে যুগে যুগে বহু বিশেষায়িত ডায়েট বা নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের দ্বারস্থ হয়েছে মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় কম শর্করা গ্রহণের মূলমন্ত্র নিয়ে বহু ধরনের লো কার্ব ডায়েট অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করে অনেকেই দ্রুত সুফল পেয়েছে। এসব লো কার্ব ডায়েটের মধ্যে আছে একসময়ে সাড়া জাগানো এটকিন্স ডায়েট, প্যালেও ডায়েট আর হাল আমলে সবার মুখে মুখে ফেরা বিখ্যাত কিটোজেনিক ডায়েট বা কিটো ডায়েট। কম শর্করাযুক্ত খাবারের সমন্বয়ে করা লো কার্ব ডায়েট মানে কিন্তু না খেয়ে থাকা নয়। এ ক্ষেত্রে শর্করাজাতীয় খাবারের বিকল্প বিভিন্ন খাবার খেয়ে অত্যন্ত কার্যকরভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তবে আমাদের মতো ভেতো বাঙালিসহ আরও যেসব দেশের মানুষ ভাত না খেয়ে থাকতে পারে না, তাদের জন্য ভাতের এক চমৎকার বিকল্প কলিফ্লাওয়ার রাইস বা ফুলকপি ভাত।

কলিফ্লাওয়ার রাইস কী

গোটা ফুলকপি কুরিয়ে বা গ্রেট করে দানাদার চালের মতো তৈরি করে তা ভাতের বিকল্প কলিফ্লাওয়ার রাইস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সবজি কুরানোর যন্ত্রে হাতে গ্রেট করে অথবা ব্লেন্ডারে হালকাভাবে ফুলকপির ফুলগুলো ব্লেন্ড করে নিলেই হয়ে গেল ফুলকপির চাল। এবার এই চাল দিয়ে অনায়াসে রান্না করা যায় ফ্রাইড রাইস, পোলাও, বিরিয়ানি। নিজস্ব খুব কড়া কোনো স্বাদ, গন্ধ, বর্ণ না থাকায় চাল দিয়ে তৈরি করতে হয়—এমন যেকোনো রেসিপিতেই সুন্দরভাবে খাপ খেয়ে যায় কলিফ্লাওয়ার রাইস।আরও পড়ুনচাল ছাড়াই ফ্রায়েড রাইস

কলিফ্লাওয়ার রাইসের ইতিকথা

সেই ১৮৬৩ সালে লো কার্ব বা কম শর্করার ডায়েটের ওপরে বই লিখে ওজন সচেতন মানুষের মনে সাড়া জাগিয়েছিলেন ব্রিটিশ এক ফিটনেস এক্সপার্ট। এরপর ২০০২ সালের দিকে ব্যায়ামবিজ্ঞানী লরেইন কোর্ডেনের ‘প্যালেও ডায়েট’ বইয়ে প্রথম চালের ভাতের বদলে কলিফ্লাওয়ার রাইস খাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হয়। আর এখন তো কলিফ্লাওয়ার রাইস সারা বিশ্বেই সমাদৃত।বিজ্ঞাপন

কলিফ্লাওয়ার রাইস বনাম চালের ভাত

দানাদার ও সাদা ফুলকপি ভাত দেখতে ও খেতে কিছুটা হলেও ভাতের আমেজ দেয় আমাদের। অথচ এক কাপে ভাতের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ কম ক্যালরি থাকে ফুলকপির ভাতে। নেট শর্করার পরিমাণও ভাতের তুলনায় প্রায় ১৮ ভাগের ১ ভাগ। এ ছাড়া ফুলকপির পুষ্টিগুণের ব্যাপারটা তো আছেই!

এক কাপে ভাতের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ কম ক্যালরি থাকে ফুলকপির ভাতে
এক কাপে ভাতের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ কম ক্যালরি থাকে ফুলকপির ভাতে

কলিফ্লাওয়ার রাইসের উপকারিতা

কলিফ্লাওয়ার রাইসের উপাদান হচ্ছে গোটা তাজা ফুলকপি। শীতকালের এই ভরা মৌসুম মানেই ফুলকপির বড়া, ফুলকপির তরকারি, ফুলকপির শিঙাড়া। কিন্তু এই অভিনব কলিফ্লাওয়ার রাইস খেলে কম শর্করা খাওয়ার উপকারের পাশাপাশি ফুলকপির অনন্য পুষ্টিগুণ পাব বাড়তি পাওনা হিসেবে। ফুলকপির গুণের কথা তো বলে শেষই করা যায় না। তাও দেখে নেওয়া যাক এর প্রধান উপকারিতা আর উপযোগিতাগুলো।

পুষ্টিকর সবজি ফুলকপিতে আছে অপ্রত্যাশিত পরিমাণে ভিটামিন সি। তবে উচ্চতাপে নষ্ট হয়ে যায় বলে একমাত্র কাঁচা কলিফ্লাওয়ার রাইসেই যথার্থ ভিটামিন সি পাওয়া যায়। তবে পানি না দিয়ে অল্প তাপে তাড়াতাড়ি নেড়েচেড়ে কোরানো ফুলকপি স্টারফ্রাই করলেও কিছুটা অক্ষুণ্ন থাকে ভিটামিন সি। এ ছাড়া এতে আছে যথেষ্ট ভিটামিন বি৬, ভিটামিন কে, ম্যাংগানিজ ও পটাশিয়াম। তবে কোলিন নামের আধুনিক কালে আবিষ্কৃত এক বিশেষ পুষ্টি উপাদান উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে একমাত্র ফুলকপিতেই পাওয়া যায় খুবই ভালো পরিমাণে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই কোলিন আমাদের হার্ট, লিভার, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, ক্যানসার গবেষণায় উঠে এসেছে, ব্রকলি ও ফুলকপির বিশেষ অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ক্যানসারের জন্য দায়ী কারসিনোজেনের বিরুদ্ধে ভালো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।

ফুলকপি ভাতের মূল উপাদান ফুলকপি
ফুলকপি ভাতের মূল উপাদান ফুলকপি

আমাদের বাঙালি স্বাদগ্রন্থির পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি আর গলা অবধি উদরপূর্তির অভ্যাসের নিরিখে দেখতে গেলে ফুলকপি ভাতের ভবিষ্যৎ আপাতদৃষ্টিতে খুব উজ্জ্বল মনে না হলেও বাস্তবতা কিন্তু অন্য কথা বলে। কলিফ্লাওয়ার রাইসের ফাইবার আর পানির উপস্থিতির কারণে ভাতের বদলে খেলে কিছুটা হলেও পেট ভরে আর তৃপ্তি মেলে। আর বর্তমান সময়ে যখন অতিরিক্ত ওজনের ফলে বিভিন্ন মারাত্মক রোগ বেড়েই চলছে হু হু করে আমাদের দেশে, তখন শর্করার বিকল্প হিসেবে এই ফুলকপি ভাতের গুরুত্ব ও আবেদন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে অবশ্যই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, বিশেষত পশ্চিমা দেশগুলোয় এর জনপ্রিয়তার কারণেও আমরা ধীরে ধীরে এই কিটোজেনিক লো কার্ব রাইসের দিকে আগ্রহী হচ্ছি। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমাদের সমাজের ফিটনেস–সচেতন মানুষের প্লেটেও ঘরে ঘরে নিত্যদিন শোভা পাবে ফুলকপি চালের পোলাও অথবা ফ্রাইড কলিফ্লাওয়ার রাইস।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

বন্ধ্যাত্বের দায় একা নারীর নয়

বন্ধ্যাত্ব শরীরের প্রজননগত অসুখ। বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক নারী-পুরুষ এই জটিল সমস্যায় আক্রান্ত। কিন্তু অনেকেই বুঝতে পারেন না এ অবস্থায় কী করণীয় বা কার কাছে গেলে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যাবে। এ নিয়েই আলোচনা হলো সাপ্তাহিক স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ডিজিটাল হসপিটাল লাইভ: হ্যালো ডক্টর’-এর পঞ্চম পর্বে।

ডা. শ্রাবন্য তৌহিদার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি রোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুনিরা ফেরদৌসি (বাঁয়ে)
ডা. শ্রাবন্য তৌহিদার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি রোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুনিরা ফেরদৌসি (বাঁয়ে)

ডা. শ্রাবন্য তৌহিদার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি রোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুনিরা ফেরদৌসি। অনুষ্ঠানটি গত ৮ ডিসেম্বর প্রথম আলো ও ডিজিটাল হসপিটালের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।বিজ্ঞাপন

এক বছর ধরে যদি কোনো দম্পতি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার না করেও সন্তান ধারণ করতে না পারেন, তখন এই অবস্থাকে বন্ধ্যাত্ব বলা হয়। বন্ধ্যাত্ব নারী ও পুরুষ উভয়ের হতে পারে। একজন দম্পতি নানা কারণে এ সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। ডা. মুনিরা ফেরদৌসি বলেন, যখন কোনো দম্পতি এই সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান, তখন সবার আগে তাঁদের ইতিহাস জানা হয়।

বিস্তারিত ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, নারীদের ক্ষেত্রে অনেক ফ্যাক্টর কাজ করে। তাঁদের ক্ষেত্রে প্রথমে দেখা হয় নিয়মিত মাসিক হচ্ছে কি না। কারণ, এটি ঠিকমতো হলে ওভ্যুলেশনও ঠিকমতো হয়। এরপর দেখা হয় জরায়ুতে কোনো সমস্যা আছে কি না। জরায়ুতে কনজেনিটাল সমস্যা থাকতে পারে। যেমন অস্বাভাবিক আকৃতি, দুটি জরায়ু, জরায়ুতে দুটি ভাগ বা টিউমার প্রভৃতি। টিউবাল ফ্যাক্টর ও জরায়ু মুখের সমস্যা থাকলেও বন্ধ্যাত্ব হতে পারে।

আবার পুরুষের ক্ষেত্রে সবার আগে বীর্যের মান বা স্পার্ম কাউন্ট করা হয়। যদি এসবে কোনো ধরনের সমস্যা না থাকে, তাহলে পরবর্তী ধাপে অন্যান্য ইনভেসটিগেশন করা হয় বলে জানান ডা. মুনিরা ফেরদৌসি।

নারীদের এই সমস্যা নির্ণয়ের জন্য অনেক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু পুরুষের মাত্র একটি পরীক্ষা করলেই হয়ে যায়। এ জন্য ডা. মুনিরা ফেরদৌসির পরামর্শ, সবার আগে স্বামীর বীর্য পরীক্ষা করা। এতে যদি তাঁর সমস্যা ধরা পড়ে, তাহলে অনেক টাকা খরচ করে স্ত্রীর পরীক্ষা করার প্রয়োজন হবে না।

নারীদের আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং টিউবের হিস্টেরোসালপিঙ্গোগ্রাফি করার পাশাপাশি হরমোন ও ডায়াবেটিস টেস্ট করা হয়। এই পরীক্ষাগুলোর ফলাফল অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা হয়। তবে ডা. মুনিরা ফেরদৌসি বলেন, চিকিৎসা শুরু করার আগে কাউন্সেলিং অনেক বেশি জরুরি। কারণ, বাচ্চা না হওয়ার কারণে অনেক নারী স্ট্রেসের ভেতর থাকেন। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও স্ট্রেসের জন্য কনসিভ করতে দেরি হয়। এরপর ওষুধ যেমন ওভ্যুলেশন ইন্ডুসার ড্রাগ দেওয়া হয়। ওষুধ গ্রহণের পর নিয়মিত ফলোআপে থাকতে হবে। কারণ, এ ধরনের ওষুধ দীর্ঘ সময় ধরে খাওয়া যাবে না।বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে আইইউআই নিয়েও আলোচনা করা হয়। ইন্ট্রা ইউটেরাইন ইনসেমিনেশন বা আইইউআই সাধারণত পুরুষের বীর্যে সমস্যা থাকলে বা নারীর অনেক বেশি ডিসচার্জ হলে করানো হয়। এই পদ্ধতিতে স্বামীর বীর্য নিয়ে সেটি শোধন করে ওভ্যুলেশনের সময় একটি টিউবের মাধ্যমে জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। এর পাশাপাশি সন্তান ধারণের আরেকটি কৃত্রিম পদ্ধতি হলো ‘টেস্টটিউব বেবি’ বা আইভিএফ। স্বামীর বীর্যের সমস্যা বা স্ত্রীর ওভ্যুলেশন ঠিকমতো না হলে বা বয়স বেশি হলে আইভিএফ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর আগে জরায়ুর দেয়াল ঠিক করতে এবং ডিম্বাণু যাতে ভালোভাবে এসে সেখানে বসে, সে জন্য ওষুধ ও ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপর সেই ডিম্বাণু এবং স্বামীর শুক্রাণু নিয়ে ল্যাবে ফারটিলাইজ করানো হয়। এরপর এই ফারটিলাইজড ডিম্বাণুটি জরায়ুতে স্থাপন করা হয়।

ডা. মুনিরা ফেরদৌসি বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বলেন, ‘আমরা বন্ধ্যাত্ব শব্দটি বলতে নারাজ। এর চেয়ে সাবফারটাইল বা কম উর্বর বলা যেতে পারে। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। সবচেয়ে দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশে বাচ্চা না হওয়ার জন্য শুধু মেয়েদের দায়ী করা হয়। এ জন্য তাদের অনেক মানসিক অশান্তির ভেতর দিয়ে যেতে হয়। ৪০ ভাগ ক্ষেত্রে যদি মেয়ের বাচ্চা না হয়, তাহলে ৪০ ভাগ ক্ষেত্রে পুরুষের কারণেও বাচ্চা হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুজনই দায়ী থাকতে পারে। আবার কারও কোনো সমস্যা না থাকলেও বাচ্চা না হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। তাই শুধু শুধু কোনো মেয়েকে দোষারোপ করা যাবে না। তাকে বলাই যাবে না, তুমিই দায়ী। এতে তার যে স্ট্রেস হয়, তাতেও ওভ্যুলেশন হয় না।’ এ জন্য কোনো মেয়েকে অযথা এ ধরনের কথা না বলে তাঁকে সাহায্য করার এবং পাশে থাকার পরামর্শ দেন ডা. মুনিরা ফেরদৌসি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com