আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

শীতে ইলিশের রমরমায় সবাই অবাক

শীতে ইলিশের রমরমায় সবাই অবাক
শীতে ইলিশের রমরমায় সবাই অবাক

বরিশালের বাজার এখন ইলিশে ঠাসা। এই ইলিশ ওজন-আকৃতিতেও বেশ বড়। দামও নাগালের মধ্যে। এক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে ইলিশের এমন প্রাচুর্যে অবাক জেলে, ব্যবসায়ী, ক্রেতা—সবাই। এই সময়ে ইলিশের এমন রমরমা অবস্থা আগে কখনো দেখা যায়নি। শুধু বরিশাল নয়, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বাজারগুলো এখন ইলিশে সয়লাব।

বরিশালে ইলিশের সবচেয়ে বড় বাজার (মোকাম) পোর্ট রোডে। সেই বাজারের চিরচেনা রূপ বদলে গেছে। শীতের এই সময় এলে মোকামে সামুদ্রিক মাছের দাপট থাকে। সেখানে পুরো বাজার দখল করে আছে সদ্য ধরে আনা ইলিশ। বিক্রেতাদের ব্যস্ততা, ক্রেতাদের ভিড়, মহাজনদের হাসিমুখ। ঘাটে নোঙর করা ট্রলারগুলোর খোল ভরে আছে রুপালি ইলিশে। বিশেষজ্ঞরা শীত মৌসুমে ইলিশের এমন প্রাচুর্যকে অস্বাভাবিক মনে করছেন না; বরং ইতিবাচক ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম নিয়ামুল নাসের প্রথম আলোকে বলেন, এ সময়টা ইলিশের প্রজনন পর্বের দ্বিতীয় অধ্যায়। শীতের শেষ দিকটায় এমনটা হয়। সংরক্ষণ ভালো হওয়ায় এবার ইলিশের পরিমাণ বেড়েছে এবং আকার বড় হয়েছে।

বরিশালের পোর্ট রোডের ব্যবসায়ী জহির উদ্দীন বললেন, ‘শীতে এত বড় বড় আর এতসংখ্যক ইলিশ আমি আগে কখনো দেখিনি। আগের বছরগুলোতে এই সময়ে অল্পস্বল্প ইলিশ আসত। তা–ও আকারে ছোট, সেসব ইলিশ তেমন পরিপুষ্ট ছিল না। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম। মনে হচ্ছে সুদিন ফিরবে ইলিশের।’

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত শনিবার এই মোকামে ৫৫০ মণ ইলিশ এসেছে। রোববারও একই পরিমাণ ইলিশ এসেছে। সোমবার কিছুটা কমে ৪৫০ মণের মতো এসেছে। এই সময়ে এটা অবিশ্বাস্য ঘটনা। জেলেরাও বলছেন, এই শীতে চিত্র পুরো ভিন্ন। নদীতে জাল ফেললে মনে হয় ইলিশের ভর মৌসুম চলছে।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাশ বলেন, আগে শীত মৌসুমে দিনে দিনে ৫০ থেকে ৮০ মণ ইলিশ আসত। তা–ও আকারে ছোট—৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম। আর এখন এক মোকামেই ৫০০ মণ ছাড়িয়ে যায় দিনে। এগুলো ওজনে ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির ওপরে।

পোর্ট রোডের মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি আশরাফ আলী বলেন, ভর মৌসুমে এবার ইলিশ তেমন মেলেনি। কিন্তু শীত মৌসুমে ইলিশের রমরমা বাজার সব কষ্ট মুছে দিয়েছে। দামও কম। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ২৫ হাজার টাকায়। আর এক কেজির ওপরে ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৩০ হাজার টাকায়। ৪৫০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে পাইকারি বাজারে।

ইলিশের আকার-আকৃতি, ওজন, প্রজনন ও দাম নিয়ে নিয়মিত জরিপ করে মৎস্য অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশের ইকো ফিশ প্রকল্প। তাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে দেশের ইলিশের গড় আকৃতি ও ওজন বেড়েছে। ২০১৪ সালে ধরা পড়া ইলিশের গড় ওজন ছিল ৫১০ গ্রাম। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয়েছে গড়ে ৮৮০ গ্রাম। একই সময়ে ধরা পড়া মাঝারি আকৃতির (আধা কেজি থেকে ১ কেজি) ইলিশ ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৭ শতাংশ হয়েছে। আর জাটকা ধরার পরিমাণ ৬০ শতাংশ থেকে কমে ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

উৎপাদন বাড়ছে, বড় অবদান বরিশালের

ইলিশ আহরণে বরিশাল বিভাগের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে। গত ১০ বছরে এই বিভাগে ইলিশ ধরার পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে দেশের মোট ইলিশের ৬৬ শতাংশের বেশি ইলিশ আহরিত হচ্ছে এই বিভাগ থেকে। চলতি অর্থবছরেও তা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।

মৎস্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে মোট ইলিশ আহরণ হয়েছিল ৫ লাখ ১৭ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগ থেকেই আহরিত হয়েছিল ৩ লাখ ৩২ হাজার ২৫ মেট্রিক টন ইলিশ, যা দেশে মোট উৎপাদনের অর্ধেকের অনেক বেশি।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইলিশের জোগান দেয় ভোলা ও বরগুনা। ভোলায় গত অর্থবছরে ইলিশ আহরিত হয় ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৩২ মেট্রিক টন ও বরগুনায় আহরিত হয় ৭০ হাজার ২৩৭ মেট্রিক টন।

উপকূলের নদ-নদীতে ইলিশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আটটি জেলায় ‘ইকো ফিশ’ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদপ্তর। এর আওতায় দেশে প্রথমবারের মতো ইলিশের বংশবিস্তার, প্রজননকাল নির্ধারণসহ নানা দিক নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। ২০১৫ সালের মার্চে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ পাঁচ বছর। প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলায়। এতে মৎস্য অধিদপ্তরকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড ফিশ’।

ইকো ফিশ প্রকল্পের দলনেতা ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন আবদুল ওহাব বলেন, ২০০১ সাল থেকে ইলিশ আহরণের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করে। এরপর নানামুখী উদ্যোগে ২০১৪ সালের পর ইলিশের উৎপাদন অনেকটা বাড়ে। ২০১৬ সালে দেশে ইলিশ আহরণ করা হয় ৩ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। সেখানে পরের তিন বছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ লাখ ১৭ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টনে।

মৎস্য

কৈ মাছের রোগ হলে কী করবেন

কৈ মাছের রোগ হলে কী করবেন
কৈ মাছের রোগ হলে কী করবেন

কৈ মাছ একটি সুস্বাদু মাছ। সবারই খেতে ভালো লাগে মাছটি। বাসায় মেহমান এলে আপ্যায়নের তালিকায় কৈ মাছ থাকা চাই। তাই এ মাছের কদরও বেশি। আর সে কারণেই কৈ মাছের যত্ন নিতে হয়। জানতে হয় এর রোগ-বালাই এবং প্রতিকার সম্পর্কে।

রোগ-বালাই
কৈ মাছের ক্ষতরোগ ছাড়া আর কোনো রোগ দেখা যায় না। সাধারণত নমুনায়ন পরীক্ষার সময় পুকুরে ছাড়া মাছগুলোই পরবর্তীতে ক্ষতরোগে আক্রান্ত হয়। যা পরবর্তীতে ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। এ ছাড়া ঘন ঘন জাল টানলেও এ রোগ দেখা দিতে পারে।

কৈ মাছের রোগ হলে কী করবেন
কৈ মাছের রোগ হলে কী করবেন

প্রতিকার
কৈ মাছের ক্ষতরোগ খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নিতে হয়। এ রোগের জন্য শতাংশপ্রতি ১ কেজি লবণ পানির সঙ্গে মিশিয়ে পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। এভাবে এক সপ্তাহ পর আরেকবার একই হারে প্রয়োগ করতে হবে।

কৈ মাছের রোগ হলে কী করবেন
কৈ মাছের রোগ হলে কী করবেন

পরিচর্যা
থাই কৈ সাধারণত শীতকালে ক্ষতরোগে আক্রান্ত হয়। তাই শীতকাল আসার আগেই মাছ বাজারজাত করতে হবে। তবে ভালো ব্যবস্থা নিলে শীতকালেও মাছ মজুদ রাখা যায়।

কৈ মাছের রোগ হলে কী করবেন
কৈ মাছের রোগ হলে কী করবেন

পদ্ধতি
• সপ্তাহে অন্তত একদিন পানি পরিবর্তন করতে হবে। সেক্ষেত্রে ২ ফুট পানি কমিয়ে নতুন পানি দিতে হবে।
• প্রতি ১৫ দিন পর পর শতাংশপ্রতি এক কেজি লবণ পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে।
• মাছের ঘনত্ব প্রতি শতাংশে ১৫০ থেকে ২০০ এর মধ্যে আনতে হবে।
• শীতকালে অবশ্যই ভাসমান খাবার প্রয়োগ করতে হবে। খাবারের অপচয় থেকেও রোগ-বালাই হতে পারে।
• ১৫ দিন পর পর মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।
• মাছের গায়ে কোনো রোগের লক্ষণ দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে বাজারজাত করতে হবে। রোগ থাকলে মূল্য নেই।
• বাজারজাত ছাড়া কোনো অবস্থাতেই ব্যাপকহারে জাল টানা যাবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

শোল মাছকে আমরা ‘রাক্ষুসে মাছ’ বলে থাকি। শোল মাছ বাজারের দামি মাছ। এই মাছ দামি হলেও চাষে খরচ খুবই কম। শোল মাছ সব ধরনের দুর্যোগ বা প্রতিকূল পরিস্থিতি সহ্য করতে পারে। মা শোল মাছই নিজেদের মতো করে ডিম নার্সিং ও পোনা লালন করে।

পোনা মজুত
বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে শোল মাছ চাষ না হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে সংগ্রহের ওপর জোর দিতে হবে। বৈশাখ মাস শোল মাছের প্রজনন মৌসুম। বৈশাখ মাসের প্রথম থেকে শোল মাছ বাচ্চা দিতে শুরু করে। বাচ্চাগুলো এক ঝাঁকে থাকে। সেই সময় হাওর-বাঁওড়, পুকুর থেকে সপ্তাহখানেক বয়সের বাচ্চা সংগ্রহ করতে হবে। পোনা পাওয়া না গেলে বড় শোল মাছ সংগ্রহ করে পুকুরে ছেড়ে দিতে হবে। এককভাবে প্রতি শতাংশে ১০টি দেয়া যেতে পারে। মিশ্র পদ্ধতিতে চাষের জন্য প্রতি শতাংশে ৪টি। একটি প্রাপ্তবয়স্ক শোল মাছ লম্বায় ২.৫-৩ ফুট হতে পারে।

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

পুকুর প্রস্তুতি
যেকোনো পুকুরেই শোল মাছ চাষ করা যায়। তবে তাকে উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে। যে পুকুরে শোল চাষ হবে সে পুকুরে কচুরিপানা অথবা কলমিলতা থাকলে ভালো হয়। কারণ শোল মাছ আড়ালে থাকতে পছন্দ করে। তবে কচুরিপানায় যেন পুকুর ভরে না যায়। পুকুরের চারদিকে কমপক্ষে ৫ ফুট উচ্চতায় জাল দিয়ে বেড়া দিতে হবে। তা না হলে বর্ষাকালে শোল মাছ লাফিয়ে চলে যাবে।

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

খাদ্য
শোল মাছ সাধারণত খৈল বা কুড়া দিয়ে বানানো খাবার খায় না। ছোট মাছই এর প্রধান খাদ্য। পোনা মাছের প্রিয় খাদ্য শুঁটকির গুঁড়া। সেজন্য পোনা মাছকে খাবার হিসেবে চিংড়ি শুঁটকির গুঁড়া ভালোভাবে পিষে দিতে হবে। এভাবে ১৫ দিন খাওয়ানোর পর পোনাগুলো প্রায় ২/৩ ইঞ্চি হবে। ২/৩ ইঞ্চি পোনা মজুদের পর খাদ্য হিসেবে কার্পজাতীয় মাছের ধানীপোনা দেয়া যেতে পারে; সঙ্গে ছোট ছোট ব্যাঙ বা ব্যাঙাচি দেয়া যেতে পারে। আর বড় মাছের জন্য ছোট ছোট মাছ, তবে মরা টাটকা মাছ খেতে দিলে এরা খুব খায়।

মিশ্র চাষ
আমাদের দেশে শোল মাছের একক চাষের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ এত কাঁচা মাছ, শুঁটকি, ব্যাঙ বা ব্যাঙাচি জোগান দেয়া সম্ভব নয়। তাই মিশ্র মাছের সঙ্গে শোল মাছের চাষ করা যেতে পারে। ৬ মাসে একেকটি শোল মাছের ওজন ৭০০-১০০০ গ্রাম হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে
শোল মাছ চাষ করবেন যেভাবে

রোগ
শীতকালে শোল মাছে ক্ষত রোগ দেখা দেয়। তাই ওই সময় মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে পারেন।

মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি বা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। না হলে আগামী কয়েক বছর দেশীয় মাছের চিহ্ন খুঁজে পাবে না জনগণ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কার্প মাছের পোনার খোঁজ-খবর

কার্প মাছের পোনার খোঁজ-খবর
কার্প মাছের পোনার খোঁজ-খবর

ব্ল্যাক কার্প, বিকেট কার্প এবং মিরর কার্প মাছ চাষ করা সহজ। এ মাছগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পায়। লাভজনকও বটে। এই তিন কার্পের খোঁজ-খবর জেনে নিন আজ।

ব্ল্যাক কার্প মাছ

ব্ল্যাক কার্প মাছ খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ১ বছরে ৫-৭ কেজি ওজন হয়। এই মাছের প্রধান খাবার ছোট ঝিনুক ও শামুক। এটি একটি শক্তিশালী মাছ। এপ্রিল-অক্টোবর মাস পর্যন্ত এ মাছের পোনা পাওয়া যায়। ৩-৪ ইঞ্চি পোনার দাম ১৫ টাকা এবং ৫-৬ ইঞ্চি পোনার দাম ২০ টাকা।

বিকেট কার্প মাছ

চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ
চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ

মাছের সাইজ অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত ১ কেজি পোনার দাম ২৫০-৩০০ টাকা। ২০০-২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিকেট কার্প মাছের পোনা জীবিত পরিবহন করা যায়। কার্প জাতীয় মাছের মধ্যে এ মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পানি উপরের স্তরের মাছ বিকেট কাপ। এ মাছ সাধারণত পানির উপরের স্তরের খাবার খায়। এ মাছ মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ করাই উত্তম ।

মিরর কার্প মাছ

বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য গুণগত মানের মিরর কার্প মাছের পোনা বিক্রি করা হয়। বড় পুকুর বা বিলে এই মাছ চাষ করলে মাত্র ৬ মাসে ৮০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত বড় হয়। এ মাছ মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ করা উত্তম। এ পোনা মাছ কেজি হিসেবে বিক্রি হয়। মাছের সাইজ অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়। ৩০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত জীবিত মাছের পোনা পানি ভর্তি ড্রামে ট্রাকে করে পরিবহন করা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ

চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ
চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ

মাছে-ভাতে বাঙালি আমরা। ভাতের সঙ্গে মাছও আমাদের প্রধান খাদ্য। তাই মাছের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে মাছ চাষ জরুরি। আর কার্প জাতীয় মাছের মধ্যে বিগহেড কার্প মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে এই মাছ চাষ করা প্রয়োজন। তবে এই মাছ মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ করাই উত্তম।

নামকরণ
বিদেশি সিলভার কার্প মাছের মতো এই মাছের মাথা সম্ভবত বড় বলেই এর নাম বিগহেড কার্প।

চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ
চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ

বর্ণনা
চাপা রুপালি বর্ণের শরীর ছোট ছোট আঁশ দিয়ে ঢাকা। পৃষ্ঠদেশ ধূসর কালো। পৃষ্ঠদেশে কালো কালো দাগ দেখতে পাওয়া যায়। পাখনার বর্ণ গাঢ় লাল।

চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ
চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ

উৎস
এই মাছের আদি নিবাস চীন হলেও ১৯৮১ সালে প্রথম নেপাল থেকে এ দেশে আনা হয়। হ্যাচারিতে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উৎপাদন করা যায়। সাধারণত ৩-৪ বছরেই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকে। প্লাবিত নদীতে স্রোত রয়েছে এমন স্থানে প্রজনন করে থাকে।

চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ
চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ

বসবাস
এরা জলাশয়ের স্বাদুপানির উপরিভাগে থাকতে পছন্দ করে। এদের খাবার উদ্ভিদকণা ও প্রাণিকণা। ছোট ছোট আর্থোপোডস খেয়ে থাকে।

চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ
চাষ করুন বিগহেড কার্প মাছ

দরদাম
মাছের সাইজ অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত ১ কেজি পোনার মূল্য ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। ২০০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিগহেড কার্প মাছের পোনা জীবিত পরিবহন করা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

নিজেই চাষ করুন পাবদা মাছ

নিজেই চাষ করুন পাবদা মাছ
নিজেই চাষ করুন পাবদা মাছ

পাবদা মাছ বাংলাদেশের ছোট মাছের মধ্যে অন্যতম। মিঠাপানির এ মাছ নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়ে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। পাবদা অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুস্বাদু মাছ। বর্তমানে পাবদা মাছ আমাদের দেশে প্রায় বিলুপ্তির পথে। তাই কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পাবদা মাছ রক্ষা করা সম্ভব। তাই নিজেই চাষ করুন পাবদা মাছ।

পুকুর নির্বাচন

এ মাছ চাষের জন্য ৭-৮ মাস পানি থাকে এমন ১৫-২০ শতাংশের পুকুর বা জলাশয় নির্বাচন করুন। তবে পুকুরটি বন্যামুক্ত হতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

মাছ বাছাই

পাবদা মাছের পুরুষ ব্রুড বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পুরুষ মাছটি আকারে তুলনামূলকভাবে স্ত্রী মাছের চেয়ে ছোট। পুরুষ মাছের প্রজনন ঋতুতে পেট চাপা থাকে এবং পুরুষ মাছের বুকপাখনা খাঁজকাটা থাকে। স্ত্রী ব্রুড বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রী মাছটি আকারে তুলনামূলকভাবে পুরুষ মাছ থেকে বড় হয়। স্ত্রী মাছের প্রজনন ঋতুতে পেট ফোলা ও নরম থাকে এবং স্ত্রী মাছের বুকপাখনা তেমন খাঁজকাটা থাকে না।

জেনে নিন পাবদা চাষে করণীয় কী
জেনে নিন পাবদা চাষে করণীয় কী

পুকুর প্রস্তুত

শুকনো মৌসুমে পুকুর থেকে জলজ আগাছা পরিষ্কার ও পাড় মেরামত করুন। তবে ছোট মাছ চাষের ক্ষেত্রে পুকুর শুকানো উচিত নয়। তাই বারবার ঘন ফাঁসের জাল টেনে রাক্ষুসে মাছ ও ক্ষতিকর প্রাণী অপসারণ করে নিন। এরপর প্রতিশতকে ১-২ কেজি পাথুরে চুন প্রয়োগ করুন। মাটির গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে চুনের মাত্রা কম-বেশি হতে পারে। পোনা ছাড়ার আগে সার প্রয়োগ করুন, যাতে পুকুরে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রাকৃতিক খাদ্য জন্মাতে পারে। এছাড়া প্রতিশতকে ৪-৬ কেজি গোবর, ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ও ১০০ গ্রাম টিএসপি প্রয়োগ করতে পারলে ভালো হয়। মনে রাখবেন, পানির রং সবুজ বা বাদামি-সবুজ হলে পোনা ছাড়ার উপযুক্ত সময়।

পোনা মজুদ

ভালো জাতের সুস্থ, সবল ও সঠিক পোনা সঠিক সংখ্যায় মজুদ করতে হবে। পুকুরে পোনা ছাড়ার আগে পরিবহনকৃত পোনা পুকুরের পানির তাপমাত্রার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। এর জন্য ১০ লিটার পানি ও ১ চামচ পটাসিয়াম পারম্যাংগানেট অথবা ১০০ গ্রাম লবণ মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করতে হবে। এরপর তাতে ১-২ মিনিট গোসল করিয়ে পোনা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। শতাংশ প্রতি ৩-৪ গ্রাম ওজনের সুস্থ্য-সবল ২০০-২৫০টি পোনা মজুদ করা যেতে পারে।

নিজেই চাষ করুন পাবদা মাছ
নিজেই চাষ করুন পাবদা মাছ

খাদ্য ও সার

চুন প্রয়োগের ৩ দিন পর প্রতিশতাংশে ৭-৮ কেজি গোবর প্রয়োগ করতে হবে। সম্পূরক খাদ্য হিসেবে দেহ ওজনের ৫-১০ ভাগ হারে ২৫-৩০% আমিষ সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিন ২ বার প্রয়োগ করতে হবে। প্রাকৃতিক খাবার উৎপাদনের জন্য ১৫ দিন অন্তর ৪ কেজি গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে।

মাছ আহরণ

পুকুরের মাছ ৭-৮ মাসের মধ্যে ৩০-৩৫ গ্রাম ওজনের হলে আহরণ করা যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com