আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

শীতে ইলিশের রমরমায় সবাই অবাক

শীতে ইলিশের রমরমায় সবাই অবাক
শীতে ইলিশের রমরমায় সবাই অবাক

বরিশালের বাজার এখন ইলিশে ঠাসা। এই ইলিশ ওজন-আকৃতিতেও বেশ বড়। দামও নাগালের মধ্যে। এক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে ইলিশের এমন প্রাচুর্যে অবাক জেলে, ব্যবসায়ী, ক্রেতা—সবাই। এই সময়ে ইলিশের এমন রমরমা অবস্থা আগে কখনো দেখা যায়নি। শুধু বরিশাল নয়, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বাজারগুলো এখন ইলিশে সয়লাব।

বরিশালে ইলিশের সবচেয়ে বড় বাজার (মোকাম) পোর্ট রোডে। সেই বাজারের চিরচেনা রূপ বদলে গেছে। শীতের এই সময় এলে মোকামে সামুদ্রিক মাছের দাপট থাকে। সেখানে পুরো বাজার দখল করে আছে সদ্য ধরে আনা ইলিশ। বিক্রেতাদের ব্যস্ততা, ক্রেতাদের ভিড়, মহাজনদের হাসিমুখ। ঘাটে নোঙর করা ট্রলারগুলোর খোল ভরে আছে রুপালি ইলিশে। বিশেষজ্ঞরা শীত মৌসুমে ইলিশের এমন প্রাচুর্যকে অস্বাভাবিক মনে করছেন না; বরং ইতিবাচক ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম নিয়ামুল নাসের প্রথম আলোকে বলেন, এ সময়টা ইলিশের প্রজনন পর্বের দ্বিতীয় অধ্যায়। শীতের শেষ দিকটায় এমনটা হয়। সংরক্ষণ ভালো হওয়ায় এবার ইলিশের পরিমাণ বেড়েছে এবং আকার বড় হয়েছে।

বরিশালের পোর্ট রোডের ব্যবসায়ী জহির উদ্দীন বললেন, ‘শীতে এত বড় বড় আর এতসংখ্যক ইলিশ আমি আগে কখনো দেখিনি। আগের বছরগুলোতে এই সময়ে অল্পস্বল্প ইলিশ আসত। তা–ও আকারে ছোট, সেসব ইলিশ তেমন পরিপুষ্ট ছিল না। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম। মনে হচ্ছে সুদিন ফিরবে ইলিশের।’

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত শনিবার এই মোকামে ৫৫০ মণ ইলিশ এসেছে। রোববারও একই পরিমাণ ইলিশ এসেছে। সোমবার কিছুটা কমে ৪৫০ মণের মতো এসেছে। এই সময়ে এটা অবিশ্বাস্য ঘটনা। জেলেরাও বলছেন, এই শীতে চিত্র পুরো ভিন্ন। নদীতে জাল ফেললে মনে হয় ইলিশের ভর মৌসুম চলছে।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাশ বলেন, আগে শীত মৌসুমে দিনে দিনে ৫০ থেকে ৮০ মণ ইলিশ আসত। তা–ও আকারে ছোট—৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম। আর এখন এক মোকামেই ৫০০ মণ ছাড়িয়ে যায় দিনে। এগুলো ওজনে ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির ওপরে।

পোর্ট রোডের মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি আশরাফ আলী বলেন, ভর মৌসুমে এবার ইলিশ তেমন মেলেনি। কিন্তু শীত মৌসুমে ইলিশের রমরমা বাজার সব কষ্ট মুছে দিয়েছে। দামও কম। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ২৫ হাজার টাকায়। আর এক কেজির ওপরে ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৩০ হাজার টাকায়। ৪৫০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে পাইকারি বাজারে।

ইলিশের আকার-আকৃতি, ওজন, প্রজনন ও দাম নিয়ে নিয়মিত জরিপ করে মৎস্য অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশের ইকো ফিশ প্রকল্প। তাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে দেশের ইলিশের গড় আকৃতি ও ওজন বেড়েছে। ২০১৪ সালে ধরা পড়া ইলিশের গড় ওজন ছিল ৫১০ গ্রাম। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয়েছে গড়ে ৮৮০ গ্রাম। একই সময়ে ধরা পড়া মাঝারি আকৃতির (আধা কেজি থেকে ১ কেজি) ইলিশ ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৭ শতাংশ হয়েছে। আর জাটকা ধরার পরিমাণ ৬০ শতাংশ থেকে কমে ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

উৎপাদন বাড়ছে, বড় অবদান বরিশালের

ইলিশ আহরণে বরিশাল বিভাগের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে। গত ১০ বছরে এই বিভাগে ইলিশ ধরার পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে দেশের মোট ইলিশের ৬৬ শতাংশের বেশি ইলিশ আহরিত হচ্ছে এই বিভাগ থেকে। চলতি অর্থবছরেও তা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।

মৎস্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে মোট ইলিশ আহরণ হয়েছিল ৫ লাখ ১৭ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগ থেকেই আহরিত হয়েছিল ৩ লাখ ৩২ হাজার ২৫ মেট্রিক টন ইলিশ, যা দেশে মোট উৎপাদনের অর্ধেকের অনেক বেশি।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইলিশের জোগান দেয় ভোলা ও বরগুনা। ভোলায় গত অর্থবছরে ইলিশ আহরিত হয় ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৩২ মেট্রিক টন ও বরগুনায় আহরিত হয় ৭০ হাজার ২৩৭ মেট্রিক টন।

উপকূলের নদ-নদীতে ইলিশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আটটি জেলায় ‘ইকো ফিশ’ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদপ্তর। এর আওতায় দেশে প্রথমবারের মতো ইলিশের বংশবিস্তার, প্রজননকাল নির্ধারণসহ নানা দিক নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। ২০১৫ সালের মার্চে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ পাঁচ বছর। প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলায়। এতে মৎস্য অধিদপ্তরকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড ফিশ’।

ইকো ফিশ প্রকল্পের দলনেতা ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন আবদুল ওহাব বলেন, ২০০১ সাল থেকে ইলিশ আহরণের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করে। এরপর নানামুখী উদ্যোগে ২০১৪ সালের পর ইলিশের উৎপাদন অনেকটা বাড়ে। ২০১৬ সালে দেশে ইলিশ আহরণ করা হয় ৩ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। সেখানে পরের তিন বছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ লাখ ১৭ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টনে।

মৎস্য

পচা ইলিশ ‌‘তাজা’ করেন তারা

লেখক

পচা ইলিশ ‌‘তাজা’ করেন তারা
পচা ইলিশ ‌‘তাজা’ করেন তারা

ইলিশের বাড়ি নামে খ্যাত চাঁদপুরে ইলিশ নিয়ে প্রতারণা চলছে। এখানে পাইকারি ইলিশের প্রধান আড়ত চাঁদপুর বড় ষ্টেশন মাছঘাট। ইলিশের এই ভরা মওসুমে এখান থেকে প্রতিদিন শত শত মণ ইলিশ বিকিকিনি হয়। ট্রাক ও অন্যান্য যান ভর্তি করে ইলিশ যায় দেশের বিভিন্ন জেলায়। এমনকি ভারতসহ বিভিন্ন দেশে। আর এই ইলিশের দেশেই পচে যাওয়া ইলিশকে অভিনব কায়দায় ‘তাজা ইলিশে’ রূপ দিয়ে চলছে প্রতারণা।

জানা যায়, মাছঘাটে আসা দক্ষিণাঞ্চলীয় ইলিশগুলো বিক্রি হয় ৩ ক্যাটাগরিতে। এর মধ্যে তাজা ইলিশগুলো ১নং এবং অপেক্ষাকৃত নরমগুলো ২য় এবং পঁচা ইলিশ বিক্রি হয় ৩নং ক্যাটাগরি অর্থাৎ সবচেয়ে কম দামে। এই পচা ইলিশ লবণজাত করে পরে বিক্রি করা হয়।

এদিকে একশ্রেণির অসাধু মাছ বিক্রেতা ৩নং ক্যাটাগরির এই পচা ইলিশকে এক অভিনব কায়দায় ‘তাজা’ করে প্রতারিত করছে ক্রেতাদের। তারা আড়ত থেকে পাইকারি দরে পচা ইলিশ কিনে তাতে লবণ লাগিয়ে বরফজাত করে। আর লবণের কারণে পচা ইলিশের লালচে রঙ রূপালী হয়ে যায় কিছুটা, আর মাছের পচা শরীরটা হয় শক্ত। এসব মাছ বিভিন্ন শহরের পাড়া মহল্লায় বিক্রি করা হয় তাজা ইলিশ বলে! অথচ এসব ইলিশের খাদ্য গুণাগুণ নষ্ট হয় এবং বিস্বাদ লাগে।

চাঁদপুর মাছ ঘাটের বাইরে এমন অসাধু কাজ চলে প্রায় প্রতিদিনই। এ অসাধু কাজটি যারা করেন তারা জানান, এই পচা ইলিশগুলো তারা কম দরেই বিক্রি করে থাকেন। কারণ, কমদামে এই ইলিশ ক্রেতারা খুশি হন। কিন্তু বাড়ি গেলে তাদের মাথায় হাত পড়ে।

পচা ইলিশ ‌‘তাজা’ করেন তারা
পচা ইলিশ ‌‘তাজা’ করেন তারা

চাঁদপুর মাছঘাটের আড়তদাররা জানান, ঘাটে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা অপেক্ষাকৃত নরম ইলিশগুলো কম দরে বিক্রি করা হয়। কিছু খুচরা বিক্রেতা সেগুলো ক্রয় করে বরফ এবং লবণ দিয়ে পাড়া-মহল্লায় বিক্রি করে থাকে। তবে এটি একবারেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা। দু’চারজন খুচরা বিক্রেতা এসব করে থাকে।

চাঁদপুর মৎস বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৎস ব্যবসায়ী শবে বরাত এই প্রতারণায় মাছ বিক্রির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘হ্যাঁ, এ ধরনের পচা মাছ বিক্রি হয়, তবে আমরা তা বিক্রি করি না। মূল আড়তের আশেপাশে সেটি বিক্রি হয়।’ তিনি বলেন, ‘অনেক মানুষ আছে একটু সস্তায় ইলিশ কিনতে চায়। পরিপক্কটাই ৩-৪ শত টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। যা ঘাটে তাজায় তার তিন গুণ বেশি দাম। এই ইলিশ যারা কেনেন, প্রতারিত হন, সেটি দুঃখজনক।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের কিছু ইলিশ লবণ মেখে বিশেষ প্রক্রিয়াজাতে বিক্রি করি। যাকে লবণ ইলিশ বা লোনা ইলিশ বলে। সেটির জন্য ডিম বের করে আলাদা করা হয়। সেটি উত্তরাঞ্চলের মানুষ পছন্দ করেন। কিন্তু ৩নং গ্রেডের ইলিশ যেভাবে করা হয় তা স্বাস্থ্য সম্মত নয়।’

এদিকে চাঁদপুরের বিশিষ্ট চিকিৎসক পীযূষ কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘এই পচা লবণ মাখা ইলিশ যা ফেরি করে বিক্রি হয়, তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক  ঝুঁকিপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘যে কোন পচা মাছ বা পচা খাবারই শরীরের জন্য নানা রকম অসুখ ডেকে আনে। বিশেষ করে পেটের অসুখ গুলো হবেই কমবেশ।’

ডা. পীযূষ বলেন, ‘এসবে কোন স্বাস্থ্য সম্মত প্রক্রিয়া মানার কথা যারা বলেন, তারা ভুল বলছেন। পচন বা মুখে নেওয়া অনুপযুক্ত মাছ মানেই, তার আর খাদ্য বা স্বাস্থ্য গুণাগুণ আছে বলে আমার জানা নেই।’ তিনি বলেন, খুব শিগগিরই এসব মাছ বিক্রি বন্ধ করা জরুরি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

হাঁটতে পারে ১২ প্রজাতির মাছ

লেখক

কেইভ অ্যাঞ্জেল ফিশ
কেইভ অ্যাঞ্জেল ফিশ

বৃষ্টি হলে অনেক সময় দেখা যায় খাল-বিল থেকে কিছু মাছ পানির ধারা বা স্রোতের সঙ্গে ডাঙায় উঠে আসে। সাগর বা নদীর ঢেউয়ের সঙ্গেও উঠে আসে মাছ। এসব মাছের বেশির ভাগই আর পানিতে ফিরতে পারে না। তবে কৈ মাছকে ঘাসের ওপর দিয়ে যেতে দেখা যায়। এতে হাঁটতে পারার ক্ষমতা প্রমাণ হয় না।

একজাতীয় মাছ হাঁটতে পারে, এ প্রমাণ পাওয়া গেছে কয়েক বছর আগেই। সর্বশেষ এক গবেষণায় জানা গেছে, প্রায় ১২ প্রজাতির মাছ হাঁটতে পারে। কেইভ অ্যাঞ্জেল ফিশসহ বেশ কয়েক প্রজাতির মাছ নিয়ে গবেষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি, নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি ও থাইল্যান্ডের মায়েজো ইউনিভার্সিটির গবেষকরা।

তারা বলেন, শরীরের বিশেষ গঠনের কারণে মাছ মাটিতে হাঁটতে পারে। এদের পেলভিক বা নাভির নিচের অংশের গঠন ভিন্ন ধরনের। এই অংশে থাকা এদের পাখনার সঙ্গে মেরুদণ্ডের হাড়ের সংযোগ রয়েছে। এই সংযোগ শক্তিই মাছকে হাঁটতে সাহায্য করে।

কেইভ অ্যাঞ্জেল ফিশকে প্রথম হাঁটতে দেখা যায় ২০১৬ সালে থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের এক গুহায়। সেখানে থাকা শিলা বা পাহাড়ের গায়ে এই মাছকে হাঁটতে দেখে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন, এটিই কোনো মাছের জাত, যার এই বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু পাহাড়ি ঝরনার পানিতে সাঁতার কাটে, এমন ৩০টি প্রজাতির মাছ নিয়ে গবেষণায় আরও অন্তত ১১টি প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যায়। যাদের একই ধরনের ক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ক্রিপ্টোটরা থামিকলা।

এই গবেষণায় সিটি স্কেন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে মাছের তিন ধরনের পেলভিক গঠনের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং ঠিক কোন ধরনের পেলভিক গঠন এই মাছগুলোকে হাঁটতে সাহায্য করে থাকে তাও শনাক্ত হয়।

তবে ফ্লোরিডা মিউজিয়ামের ইমেজিং ল্যাবের ব্যবস্থাপক জীববিজ্ঞানী জাচারি র‌্যানডাল বলেন, সাধারণত মাছের মেরুদণ্ড ও পেলভিক পাখনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

তিনদিনে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেল ১৯৭ মেট্রিক টন ইলিশ

তিনদিনে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেল ১৯৭ মেট্রিক টন ইলিশ
তিনদিনে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেল ১৯৭ মেট্রিক টন ইলিশ

শারদীয় দুর্গোৎসবের আগেই বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে পদ্মার ইলিশ পৌঁছে গেছে ওপার বাংলায়। ফলে এবার দুর্গা পূজায় পদ্মার ইলিশের নানা পদের রান্না তৈরি হবে।

তবে তরকারিতে ভারতের পেঁয়াজের স্বাদ নিতে পারছে না এদেশের মানুষ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। তবে এদিন বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি হয়েছে ১২ মেট্রিক টন ইলিশ। ভারতে রফতানির আগে প্রকারভেদে ৫০০- ৭০০ টাকা কেজিতে ইলিশ পাওয়া গেলেও এখন দেশের বাজারে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ইলিশ।

অথচ ইলিশ রফতানির দিন ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে দুদেশের ব্যবসায়ীসহ জনসাধারণের মনে হাজার প্রশ্ন। অনেকে বলছেন, ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ যদি ইলিশ রফতানি বন্ধ করে দিতো তাহলে পেঁয়াজ রফতানির বিষয়টি বিবেচনা করতো ভারত।

কাস্টমস ও বন্দর সূত্রে জানা যায়, পূজা উপলক্ষে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন ইলিশের মধ্যে গত তিনদিনে ১৯৭ দশমিক ৯ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ রফতানি হয়েছে ভারতে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ৯৩ দশমিক ৬ মেট্রিক টন ইলিশের চালান কাস্টমস ও বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে প্রবেশ করে।

এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ৪১ দশমিক ৩ মেট্রিক টন ও মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ৬৩ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রফতানি হয়। বুধবার ইলিশের চালানটির রফতানিকারক ছিলেন ঢাকার রিপা এন্টারপ্রাইজ ও খুলনার জাহানাবাদ সি ফিশ লিমিটেড। প্রতি কেজি ইলিশের রফতানি দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ মার্কিন ডলার হিসেবে ৮০০ টাকা। এই দরে রফতানি করা প্রতিটি ইলিশের সাইজ ছিল এক কেজি থেকে ১২০০ গ্রাম ওজনের।

মৎস্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ও বেনাপোলের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবার নয়জন রফতানিকারককে মোট এক হাজার ৪৭৫ টন ইলিশ ভারতে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। প্রতি কেজি ১০ মার্কিন ডলার দরে মোট এক লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের ইলিশ মাছ ভারতে রফতানি করা হচ্ছে। এ বছর ভারতে মোট এক হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ ভারতে রফতানি করা হবে।

বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শামিম হোসেন বলেন, প্রতি কেজি ১০ ডলার মূল্যে শুল্কমুক্ত সুবিধায় এ ইলিশ ভারতে রফতানি হচ্ছে।

২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ সাত বছর। সম্পর্কের বরফ গলে দুদেশের। ২০১৯ সালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৫০০ টন ইলিশ পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। এক বছর পর ফের বেনাপাল-পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে পশ্চিম বাংলায় যাচ্ছে এক হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ।

বর্তমান সরকার এক হাজার ৪৭৫ টন ইলিশ মাছ ভারতে রফতানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আগেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শর্ত অনুযায়ী আগামী মাসের ১০ অক্টোবরের মধ্যে বাকি ইলিশ রফতানি করা হবে। পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে ইলিশ যাচ্ছে শিয়ালদহ, হাওড়া, পাতিপুকুর বাজারসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেল ১২ মেট্রিক টন ইলিশ

বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেল ১২ মেট্রিক টন ইলিশ

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এক হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন ইলিশ রফতানির প্রথম চালান পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে প্রথম চালান হিসেবে ১২ মেট্রিক টন ইলিশ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রফতানি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এরপর বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার ভারত সরকারকে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ইলিশ মাছ দিয়েছে। গত বছরও শারদীয় দুর্গাপূজার সময় দেয়া হয়েছিল ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ। পদ্মার ইলিশ পেয়ে ওপারের অনেকে খুশি। পশ্চিমবঙ্গজুড়ে আগামী ২৩ অক্টোবর শুরু হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

বেনাপোল স্থলবন্দর মৎস্য কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শক আসওয়াদুল ইসলাম বলেন, ইলিশ রফতানি নিষিদ্ধ হলেও দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১০ সেপ্টেম্বর এক হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন ইলিশ রফতানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এসব ইলিশ রফতানির অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশের ৯টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১৫০ থেকে ১৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার প্রথম চালান ১২ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি মাছও রফতানি হবে।

বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘নিলা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি রুবাইত বলেন, এবার প্রতি কেজি ইলিশের রফতানি মূল্য ১০ দশমিক ৬ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রতি কেজি ৮৫৫ টাকা। ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশের কাস্টমস থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলিশের এ চালান ছাড় করা হবে। প্রথম চালানের দুই ট্রাকে ৬০০ বক্সে ১২ মেট্রিক টন ইলিশের রফতানি মূল্য এক লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। ইলিশের রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান খুলনার জাহানাবাদ সি ফুড লিমিটেড আর ভারতের আমদানিকারক কলকাতার জেকে ইন্টারন্যাশনাল।

পদ্মার ইলিশ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের কাছে প্রিয় হলেও দেশের চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন সময় তা রফতানি বন্ধ রাখে বাংলাদেশ সরকার। ২০১২ সালের আগে ভারতে ইলিশ রফতানি করা হতো। ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ২০১২ সালের পর ইলিশ রফতানি বন্ধ করে দেয় সরকার। গত বছরও দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৫০০ টন ইলিশ রফতানির অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। এরপর থেকে আবারও বন্ধ থাকে ইলিশ রফতানি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

হঠাৎ বেড়ে গেছে ইলিশের চাহিদা

হঠাৎ বেড়ে গেছে ইলিশের চাহিদা

গত কয়েকদিন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছিল প্রচুর ইলিশ। কিন্তু হঠাৎ করে তিনদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে কম ধরা পড়ছে ইলিশ। এ নিয়ে মন খারাপ জেলেদের। তবে কম ধরা পড়ায় দাম বেড়েছে ইলিশের।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) অল্প পরিমাণ ইলিশ নিয়ে পটুয়াখালীর মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দরে এসে ভিড়ে কয়েকটি ট্রলার। ট্রলার থেকে ঝুড়িতে করে ইলিশ এনে আড়তে ফেলেন শ্রমিকরা। সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত বিক্রি হয়ে যায় ইলিশগুলো। অথচ তিনদিন আগেও ইলিশের এত চাহিদা ছিল না। হঠাৎ ইলিশ কম ধরা পড়ায় চাহিদা বেড়েছে। এজন্য পাইকারি ক্রেতারা অল্প সময়ের মধ্যে দরদাম শেষে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর জন্য কার্টনে ভরা শুরু করেন ইলিশ।

জেলেরা বলছেন, সাগরে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়বে ইলিশ- এমন ভাবনা একেবারেই ভুল। মাঝে মধ্যে ধরা পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। তবে অধিকাংশ সময় ইলিশ কম ধরা পড়ে। গত তিনদিন তেমন ইলিশ ধরা পড়েনি। এর আগের দিনও প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছিল। আগামী সপ্তাহে আবার ইলিশ ধরা পড়তে পারে। তবে নিশ্চিত করে বলা যায় না। ইলিশ ধরা পড়লে একদিনে লাখপতি। ধরা না পড়লে ট্রলার ভাড়া, তেল এবং যাবতীয় খরচ পকেট থেকে দিতে হয়।

শনিবার মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দরে ইলিশ বিক্রি করতে আসা ভোলার মনপুরা উপজেলার জেলে মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আজ ৫০ মণ ইলিশ ও বিভিন্ন প্রজাতির ১০ মণ সামুদ্রিক মাছ নিয়ে আড়তে এসেছি। বড় ট্রলারে ১৫০ মণ ইলিশ ধরে। সাগরে প্রচুর মাছ আছে। তবে ধরা পড়ছে কম। তবে দাম একটু বেশি।

তিনি বলেন, আজ এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশের মণ ২৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। দ্বিতীয় গ্রেডের অর্থাৎ ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মণ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। আজ পাইকাররা কম এসেছেন।

কলাপাড়ার জেলে নজনু ফকির বলেন, সাগরে মাছ এই আছে এই নেই। এক জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ে অথচ পাশের জেলের জাল ফাঁকা থাকে। কেউ কেউ সাগরে চার-পাঁচদিন ঘুরেও মাছ পান না। হঠাৎ একদিন দেখা যায় ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়েছে। ইলিশ পানির মধ্যে দৌড়ের প্রতিযোগিতা করে। এজন্য এই আছে এই নেই অবস্থা। দুদিন ধরে ট্রলার নিয়ে সাগরে গিয়ে খালি ফিরে এসেছি। মাছ ধরা পড়েনি। হয়তো সামনে ধরা পড়বে।

একই এলাকার জেলে মালেক মিয়া বলেন, আমার ট্রলার ছোট। গভীর সাগরে যেতে পারি না। তাই কম মাছ পাই। সাগরের মধ্যে ভালো পানি দেখলে যখন লাল জাল ফেলা হয় তখন সব মাছ তাদের জালে ধরা পড়ে। আমাদের জালে ধরা পড়ে না। ইলিশ কখন কার জালে ধরা পড়বে তা কেউ জানে না।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা ইমদাদুল্লাহ বলেন, হঠাৎ করে জেলেদের জালে ইলিশ কম ধরা পড়ার সঠিক কারণ আমার জানা নেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com