আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

শীতের সবজি বর্ষায়, মাচায় ঝুলছে ৮শ লাউ

শীতের সবজি বর্ষায়, মাচায় ঝুলছে ৮শ লাউ
শীতের সবজি বর্ষায়, মাচায় ঝুলছে ৮শ লাউ

মো. আহমেদ আলী হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার মিরপুর দ্বিমুড়া গ্রামের একজন দোকানদার। পাশাপাশি তিনি প্রায় ৩ একর জমিতে শিম, লাউ, কুমড়া, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, টমেটোসহ বিভিন্ন রকম শাক-সবজি চাষ করেন।

জানা যায়, এবার তিনি শায়েস্তাগঞ্জ-মিরপুর সড়কের পাশে আব্দুল্লাপুর নামক স্থানে প্রায় ৯ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছেন। শীতের এই সবজি বর্ষাকালে চাষ করে সফল তিনি। তার সেই লাউয়ের মাচায় এখন প্রায় ৭-৮শ লাউ ঝুলছে।

লাল তীর সিড লিমিটেডের বিভাগীয় ম্যানেজার তাপস চক্রবর্তী বলেন, ‘নিজের কাজে গিয়েই পরিচয় আহমেদ আলীর সাথে। এরপর তাকে আধুনিক পদ্ধতিতে অল্প পরিশ্রমে বেশি ফলনের কৌশল শিখিয়ে দেই। তিনি এখন ভালো ফলন পাচ্ছেন।’

চাষি আহমেদ আলী বলেন, ‘বেশি পরিমাণে গোবর আর অল্প পরিমাণে সারের সংমিশ্রণেই এমন বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে সারাদিন ধৈর্য ধরে পরিচর্যাই এমন ফলনের মূল রহস্য। এ পর্যন্ত ৩শ’র মতো লাউ বিক্রি করেছি। জমিতে আরও ৭-৮শ’ লাউ আছে।’

তিনি বলেন, ‘আরও একটু শিক্ষিত হলে আরও ভালো চাষি হওয়া যেত। তবে বর্তমানে আমি সুখেই আছি। একজন আদর্শ কৃষক হিসেবেই জীবনের শেষদিন পর্যন্ত থাকতে চাই।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সজল দেব বলেন, ‘তিনি সত্যিই একজন আদর্শ কৃষক। লাল তীরের সহযোগিতায় ডায়না জাতের লাউ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। আমরা সবজি উৎপাদনে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি।’

শাকসবজি

ইউটিউব দেখে ক্যাপসিক্যাম চাষে চমকে দিলেন নাহিদ

ছুটিতে দেশে এসেছিলেন সিঙ্গাপুর প্রবাসী হেদায়েত উল্লাহ নাহিদ। তারপর আটকে গেলেন লকডাউনে। দেশে বসে কি করবেন তা ভেবে পাচ্ছিলেন না। শেষে ইউটিউব তার পথ খুলে দিলো। ইউটিউব দেখে দেখে নাহিদ দেশের মাটিতেই ফলিয়ে ফেললেন বিদেশি সবজি ক্যাপসিক্যাম। খেতভরা মিষ্টি এই মরিচ দেখে অবাক এলাকার মানুষ।

নাহিদের বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার মোহনপুর গ্রামে। এলাকার কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পেরিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু পড়াশোনা শেষ না করেই পাড়ি জমান সিঙ্গাপুর। চার বছর সিঙ্গাপুরে থাকার পর গেলো বছর ছুটিতে তিনি দেশে আসেন। করোনা পরিস্থিতিতে তার আর ফেরা হয়নি। এখন তিনি গ্রামের এক আদর্শ চাষি, অন্যদের অনুপ্রেরণার উৎস।

ইউটিউবের ভিডিও দেখে নাহিদ ক্যাপসিক্যাম চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কিন্তু কিছুতেই বীজ পাচ্ছিলেন না। কিন্তু নাহিদ থেমে যাননি। এক ব্যক্তির মাধ্যমে ভারত থেকে ‘ইন্দ্রা’ জাতের ৫০ গ্রাম বীজ সংগ্রহ করেন ভারত থেকে। বাড়ির সামনে বীজতলা তৈরি করেন গত সেপ্টেম্বরে।

এরই মধ্যে বাড়ির পাশে চাচার কাছ থেকে ইজারা নেন ৩৬ শতক জমি। বীজতলায় বীজ বপনের ৪২ দিন পর চারা তুলে জমিতে লাগান। গত ২ জানুয়ারি নাহিদ প্রথমবারের মতো জমি থেকে ক্যাপসিক্যাম সংগ্রহ করেন।

মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) পড়ন্ত বিকেলে নাহিদের ক্যাপসিক্যাম খেতে গিয়ে দেখা যায়, গাছে গাছে প্রচুর ক্যাপসিক্যাম ধরেছে। মিষ্টি স্বাদের ক্যাপসিক্যাম থেকে খেত থেকেই পাওয়া গেল কাঁচামরিচের ঘ্রাণ। জমির বেশিরভাগ অংশেই মালচিং পলিথিন ব্যবহারের মাধ্যমে ক্যাপসিক্যাম গাছ লাগানো হয়েছে। কিছুটা অংশে গাছ লাগানো হয়েছে মালচিং পলিথিন ছাড়া সাধারণভাবেই।

মালচিং পদ্ধতিতে বিশেষ এক ধরনের পলিথিন গাছের নিচে বেডে লম্বাভাবে বিছিয়ে রাখা হয়। চারা রোপণের আগেই এই পলিথিন বেডে বিছিয়ে দিতে হয়। যে স্থানটিতে চারা রোপণ করা হবে সেই স্থানটি পলিথিন বিছানোর সময়ই ছিদ্র করে দেয়া হয়। এরপর সেখানে ক্যাপসিক্যাম গাছের চারাগুলো রোপণ করা হয়।

নাহিদ জানালেন, মালচিং পলিথিন বেডে বিছানোর পরে আর সার প্রয়োগের সুযোগ নেই। পুরো জীবনকালে গাছের যে পরিমাণ সার প্রয়োজন তা পলিথিন বিছানোর আগেই বেডে দিতে হয়। এই পলিথিনের কারণে বেডে কোন ধরনের ঘাস জন্মায় না। আবার সূর্যের তাপ পড়ার পর পলিথিনের নিচের অংশ ঘেমে মাটি থাকে স্যাঁতসেঁতে। ফলে গাছ বেড়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং আদ্রতা পায়।

নাহিদ বললেন, এ সবই তিনি শিখেছেন ইউটিউব দেখে। অনলাইনে অর্ডার করে দুই রোল মালচিং পলিথিন সংগ্রহ করেছেন কুষ্টিয়া থেকে। দাম পড়েছে সাড়ে ১১ হাজার টাকা। নাহিদ দেখালেন, মালচিং করা অংশটির ক্যাপসিক্যাম গাছগুলো খুব ভালো হয়েছে। প্রচুর ফলও ধরেছে। আর মালচিং না করা অংশটির গাছগুলো তেমন ভালো হয়নি। সেখানে পোকামাকড়-রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। নাহিদ বলেন, ক্যাপসিক্যাম চাষ করতে হলে মালচিং পলিথিন ব্যবহার করতেই হবে। নইলে ফসল ভালো হবে না।

নাহিদ জানালেন, বীজতলা থেকে চারা তোলার পর তিনি স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাকে ফোন করে জানান। কৃষি কর্মকর্তা তার কাছে ছুটে আসেন। ক্যাপসিক্যামের চারা হয়েছে দেখে তিনি খুবই খুশি হন। তারপর থেকে কৃষি কর্মকর্তা সব সময় খোঁজখবর রাখেন। যে কোন প্রয়োজনে নাহিদ পরামর্শ নেন।

গাছে ফল আসার পর এগুলো কোথায় বিক্রি করবেন তা বুঝতে পারছিলেন না নাহিদ। প্রথমে ১০ কেজি ক্যাপসিক্যাম পাঠান ঢাকায়। দ্বিতীয়বার পাঠান আরও ১৫ কেজি। কিন্তু ঢাকায় দাম পাচ্ছিলেন না। প্রথম চালানের টাকা এখনও পাননি। দ্বিতীয়বারের দাম পেয়েছেন কেজিপ্রতি ৭০ টাকা।

নাহিদ বুঝলেন ঢাকায় তিনি ঠকছেন। কয়েকটি ক্যাপসিক্যামের নমুনা নিয়ে ছুটলেন রাজশাহী মহানগরীর মাস্টারপাড়া কাঁচাবাজারে। এই বাজারে খুচরায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে ক্যাপসিক্যাম বিক্রি হয়। এগুলো নাহিদের ক্যাপসিক্যামের চেয়েও ছোট। ব্যবসায়ীরা নাহিদের ক্যাপসিক্যাম পছন্দ করলেন। এখন নিয়মিত এই বাজারে ক্যাপসিক্যাম দিয়ে আসছেন নাহিদ।

সর্বনিম্ন ১২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৮০ টাকা পর্যন্ত দাম পেয়েছেন। নাহিদের স্ত্রী নাজমা ইয়াসমিন ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে ক্যাপসিক্যাম বিক্রির বিজ্ঞাপন পোস্ট করেন। সেখান থেকেও ক্রেতা মিলছে। জমি থেকে টাটকা ক্যাপসিক্যাম তুলে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিয়ে আসেন নাহিদ। এ জন্য বাড়তি টাকাও নেন না।

নাহিদ জানান, রাজশাহীতে আর কোথাও বাণিজ্যিকভাবে ক্যাপসিক্যাম চাষ হয়নি। গত ১৫ দিনেই তিনি প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্যাপসিক্যাম বিক্রি করেছেন। জমি ইজারা, বীজ, মালচিং পলিথিনসহ সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। গাছের আয়ু ছয় থেকে সাত মাস। গাছে সব সময়ই ক্যাপসিক্যাম থাকে। এই সময়ের মধ্যে তিনি ক্যাপসিক্যাম বিক্রি করে ভালো লাভ করবেন বলেই আশা করছেন।

নাহিদের স্ত্রী নাজমা ইয়াসমিন বললেন, আমাদের এই জমিতে প্রায় পাঁচ হাজার চারা প্রয়োজন হয়েছিল। কিন্তু ৫০ গ্রাম বীজ থেকে চারা হয়েছিল ৭ হাজার ২০০টি। বাকি চারাগুলো আমরা ১০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি করছিলাম। তখন গ্রামের কেউ নিতে চাননি।

এখন আমাদের উৎপাদন দেখে তারা বলছেন, চারা না কিনে ভুলই হয়েছে। ক্যাপসিক্যাম মূলত শহরের রেস্তোরাঁগুলোতে বেশি চলে। তারপরও আমরা নিজেরা রান্না করে খাচ্ছি। গ্রামের মানুষকে দিচ্ছি। তারা ভাজি করে খাচ্ছেন।

পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুন নাহার ভুঁইয়া বলেন, ক্যাপসিক্যাম চাষ করে সত্যিই অবাক করে দিয়েছেন নাহিদ। আমরা তার সফলতায় মুগ্ধ। ভালো দামও পাচ্ছেন। নতুন ফসলের চাষ বলে আমরা সব সময় খোঁজ রেখেছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল হক বলেন, নাহিদের জমিতে খুব ভালো ক্যাপসিক্যাম হয়েছে। কৃষক না হয়েও নাহিদ কৃষিতে বড় ধরনের সফলতা পেয়েছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ক্যাপসিকাম চাষে ৪ লাখ টাকা আয়ের আশা

কম খরচে অধিক লাভ হওযায় ভোলার চরাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে বিদেশি সবজি ক্যাপসিকাম চাষ। আর বিদেশি এ সবজি চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে চাষিদের। সরকারিভাবে ক্যাপসিকাম চাষে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেয়ে ভোলার চরাঞ্চলে এ সবজি চাষের বিপ্লব ঘটানো সম্ভব বলে দাবি করছেন চাষিরা। অন্যদিকে রপ্তানীতেও সুবিধা চান তারা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ভোলার সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নে মেঘনা নদীর বুকে জেগে উঠা মাঝের চর ও দৌলতখান উপজেলার চর মদনপুর ইউনিয়নের চর মদনপুরে প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর আগে মনির পাঠান নামে এক কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে বিদেশি সবজি ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করে।

প্রথম বছর সফলতা পেয়ে পরবর্তী বছর বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি এ সবজির চাষ শুরু করেন। কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় গত ৩ বছরে এ সবজির চাষ ও চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ গুণ। বর্তমানে ভোলার সদরের মাঝের চর ও দৌলতখানের চর মদনপুরে প্রায় ১৫০ একর জমিতে প্রায় ৩০০ জন চাষি ক্যাপসিকাম চাষ করছেন।

ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝের চরের ক্যাপসিকাম চাষি মো. তছির ফরাজী জানান, গত ৫ বছর ধরে এ চরে তিনি ক্যাপসিকাম চাষ করছেন। এবছরও তিনি ১ একর জমিতে চাষ করেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। খেতে প্রচুর ফলন হয়েছে।

যা গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ ফলন হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি করেছেন আর খেতে যে পরিমাণ ফলন আছে তাকে আরো ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। তিনি আরো জানান, গত বছর খেতে কিছুটা পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থাকলেও এবছর সময় মত কিটনাশক ব্যবহার করায় পোকার আক্রমণ নেই।

দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চর মদনপুরের ক্যাপসিকাম চাষি মো. শেখ ফরিদ জানান, আমার এক বন্ধুর ক্যাপসিকাম চাষ করে অধিকলাভবান হয়েছে। এটা দেখে আমি তার সাথে আলাপ করে গত ৩ বছর ধরে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করি। ক্যাপসিকাম চাষ করে আমিও লাভবান হয়েছি।

তিনি আরো জানান, এ চরে আমরা আগে ২০থেকে ৩০ জন চাষি ক্যাপসিকাম চাষ করতাম। অধিক লাভজনক হওয়ায় দিন দিনই চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যাপসিকাম চাষে কোন লোকসান নেই।

একই এলাকার ক্যাপসিকাম চাষি আব্দুল রব জানান, খেত থেকে আমরা ক্যাপসিকাম তুলে প্যাকেট করি। এরপর লঞ্চে করে ঢাকায় নিয়ে পাইকারী আড়তে বিক্রি করি। যদি ভোলার বাজারে ক্যাপসিকাম বিক্রি করা যেতো তাহলে আমাদের কষ্ট কম হতো ও আরো অধিক লাভ করতে পারতাম।

১নং চর মদনপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. আলাউদ্দিন জানান, চর মদনপুর ও কাচিয়ার মাঝের চরে বর্তমানে ১০০ কানি (১৬০ একর) জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ হচ্ছে। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো প্রশিক্ষণ বা সহায়তা পাই না। যদি সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পাই তাহলে আগামীতে আমরা দুই চরে ৫০০ কানি (৮০০ একর) জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করব। ভোলার চরাঞ্চলে ক্যাপসিকামের বিপ্লব ঘটনাতে পারবো।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু মো. এনায়েত উল্লাহ জানান, ভোলা জেলায় গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১৫ হেক্টর, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৩৭ হেক্টর এবং ২০২০-২১ অর্থ বছরে অনেক বেড়ে হয়েছে ৭০ হেক্টর। অথাৎ গত তিন বছরের পরিসংখানে বোঝা যায় লাভজনক এ সবজি চাষ ভোলায় দিন দিনই বাড়ছে।

তিনি আরো জানান, ক্যাপসিকাম বীজ বপনের তিন মাসের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়। আমরা আগামীতে ভোলা জেলায় ক্যাপসিকাম চাষ বাড়াতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন ধরণের সহায়তা প্রদান করব। আশা করছি আগামী বছর ক্যাপসিকাম চাষ ৪ গুণ বাড়বে।

এছাড়াও কৃষকরা ভোলার বাজারে ক্যাপসিকাম বিক্রি করলে ভালো দাম পাবে না। কারণ ঢাকায় অনেক পাইকারি আড়ৎ রয়েছে সেখানে বিক্রি করে কৃষকরা অধিক টাকা আয় করতে পারছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

সমন্বিত শাক-সবজি চাষে স্বাবলম্বী হতে চান জলিল

সমন্বিত শাক-সবজি চাষে স্বাবলম্বী হতে চান জলিল

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কাঁচিচর এলাকার চরমাধবরাম গ্রামের মৃত নায়েব আলীর ছেলে মো. আব্দুল জলিল (৩৮)। পেশায় দিনমজুর। দীর্ঘদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় কৃষিজমিতে দিনমজুরের কাজ করেছেন। দিনমজুরের কাজ করে আয়ের টাকা থেকে পরিবারের কাছে কিছু অংশ পাঠিয়ে বাকি টাকা জমা করেন।

দীর্ঘসময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় কৃষিকাজ করার পর নিজে কিছু একটা করার মনস্থির করেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে ফিরে আসেন নিজ জেলা কুড়িগ্রামে। কুড়িগ্রামে ফিরে জেলা শহরের হাসপাতাল পাড়া এলাকার বাসিন্দা মিঠু মিয়ার কাঁচিচরের চরমাধবরাম গ্রামে থাকা ২৫ বিঘা পরিত্যক্ত জমি লিজ নেন।

জমিতে থাকা জঙ্গল পরিষ্কার করে দীর্ঘদিনের কৃষিকাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কোনো জনবল না খাটিয়ে একক শ্রমে ও নিজের প্রচেষ্টায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে সাত বিঘা জমিতে লাউয়ের চাষ করেছেন। এবং ৫০০ পেঁপের চারা লাগিয়েছিলেন। সেগুলোতে পেঁপে ধরায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন।

এছাড়া আদা চাষ করেছেন ২০ শতক জমিতে। এক একর জমিতে ২ হাজার ৫০০ পারটেক্স জাতের মিষ্টি কুমড়ার চারা লাগিয়েছেন। ২০ শতক জমিতে বরবটি চাষ করেছেন। মরিচ ও পুঁইশাক চাষ করেছেন ২০ শতক জমিতে। মুলা ও পাটশাক লাগিয়েছেন ২০ শতক জমিতে। জমির বিভিন্ন অংশে প্রায় ৩০০ লেবু গাছ লাগিয়েছেন। এক বিঘা জমিতে ১৫০টি হাড়িভাঙা আমের গাছ লাগিয়েছেন।

২০ শতক জমিতে প্রায় ৩০০ পানি কুমড়ার চারা লাগিয়েছেন। ২০ শতক জমিতে ঝিঙে। আপেল জাতের টমেটো লাগিয়েছেন ৫ শতক জমিতে। এবং লাল তীর হাইব্রিড জাতের ঢেঁড়শ ১০ শতক জমিতে। তিন জমিতে থাকা পুকুরে সিলভারকার্প, গ্রাসকার্প, রুইসহ নানা প্রজাতির মাছ চাষ। এছাড়াও পুকুরের একদিকে প্রায় দুই বিঘা জমিতে মাচা তৈরি করে বিআরডিসি ও হাইব্রিড জাতের শিম চাষ করেছেন।

মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিন গিয়ে জেলা সদরের চরমাধবরাম রাম এলাকায় আব্দুল জলিলের প্রজেক্ট ঘুরে শাক-সবজি খেতের এমন চিত্র দেখা যায়।

আব্দুল জলিল জানান, আমরা কৃষক পরিবার। এক সময় আমাদের অনেক জমিজমা ছিল। ধরলার ভাঙনে সবকিছু বিলীন হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করেছি। আগে আরো তিনজন উদ্যোক্তা চেষ্টা করেও এই জমিতে কোনো কিছু তৈরি করতে সক্ষম হননি।

আমার একক শ্রম দিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে এই শাক-সবজির খেত তৈরি করেছি। এই শাক-সবজি চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে চাই। আশা রাখি দুই লাখ টাকা ব্যয়ে আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকা আয় করতে পারবো। আমি চাই আমার এই সবজি খেত দেখে এলাকার বেকার যুবকরা আগ্রহী হয়ে নিজেদের বেকারত্ব দূর করুক।

আব্দুল জলিলের ভাই আব্দুল হাকিম বলেন, আব্দুল জলিল অনেক কষ্ট করে এই প্রজেক্টটি করেছেন। এই প্রজেক্টটি তার বেকারত্ব দূর করবে। এবং সে ভালো কিছু করতে পারবে। তার এই প্রচেষ্টা দেখে ইতিমধ্যে এলাকার দু-তিনজন যুবক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আশা রাখি এলাকার বেকার যুবকরা আব্দুল জলিলের প্রচেষ্টা দেখে নিজেরাও কিছু একটা করার চেষ্টা করবেন।

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদুর রহমান বলেন, আব্দুল জলিল বেকার না থেকে নিজ প্রচেষ্টায় এমন একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এটি খুবই ভালো উদ্যোগ। সে অত্যন্ত পরিশ্রমী। আশা রাখি সে ভালো কিছু করতে পারবে। এলাকার বেকার যুবকরা তাকে অনুসরণ করে নিজেরাও উদ্যোগী হবে বলে আমি মনে করি।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ধানের চেয়ে শাক-সবজি অত্যন্ত লাভজনক। শাক-সবজি চাষে তেমন কীটনাশক ও স্প্রের প্রয়োজন হয় না।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী শাক-সবজি চাষ করলে ওই কৃষক এক বছরের মধ্যেই কয়েক প্রকারের শাক-সবজি চাষ করতে পারবেন। এবং শাক-সবজি চাষে খরচ কম থাকায় অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব। পরিকল্পনা অনুযায়ী শাক-সবজি চাষ করে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

পালংশাকে জাদু আছে

আজ থেকে প্রায় দুই হাজার বছর আগে প্রাচীন পার্সিয়ায় জন্ম হয়েছিল পালংশাকের। তথ্য সে রকমই বলছে। এরপর এটি ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাচীন জনপদে। ৬৪৭ সালের দিকে এটি ‘পার্সিয়ান সবজি’ নামে ছড়িয়ে পড়ে ভারত এবং প্রাচীন চীনে নেপালের মাধ্যমে। মূলত সিল্ক রোড ধরেই ছড়িয়ে পড়ে এটি।  

পালংশাকের আর এক নাম পার্সিয়ান সবজি
পালংশাকের আর এক নাম পার্সিয়ান সবজি

সেই থেকে মানুষ এটি খেয়েই চলেছে পনির দিয়ে, আলু দিয়ে, মাছ দিয়ে, মাংস দিয়ে কিংবা এমনি এমনি। আর ইদানীং পালংশাকের জুসও খাওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন, সুদীর্ঘকাল ধরে কেন পালংশাক খেয়েই চলেছে? কারণ, এর মধ্যে রয়েছে এমন কিছু গুণ, যেগুলো মানুষকে পৃথিবীতে টিকে থাকতে সাহায্য করে চলেছে।বিজ্ঞাপন

পালংশাকের ৫টি গুণ

১. হাড় মজবুত ও গঠন: পালংশাক ভিটামিন কে–এর বড় উৎস। এই ভিটামিন অস্টিওক্যালক নামের একটি প্রোটিন উৎপাদন করে থাকে। অস্টিওক্যালক হাড়ে ক্যালসিয়ামকে স্থিতিশীল রাখে। এ ছাড়া পালংশাকে রয়েছে ভিটামিন ডি, ভিটামিন সি, আঁশ, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। এসবই হাড়ের গঠন ও মজবুত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়।

২. দৃষ্টিশক্তি এবং রোগপ্রতিরোধ বাড়ানো: পালংশাকে থাকা জেক্সানথিন, লুটিন ও ক্লোরোফিল মানুষের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় এবং রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।

পালংশাক ভিটামিন কে–এর বড় উৎস
পালংশাক ভিটামিন কে–এর বড় উৎস

৩. ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া: পালংশাকে থাকে প্রচুর ভিটামিন এ। এটি মানুষের ত্বক ও শ্লেষ্মা ঝিল্লি থেকে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সহায়তা করে। এ ছাড়া ভিটামিন এ সিবাম উৎপন্ন করার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিবাম চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে।

৪. ভিটামিন সি–এর বড় ক্ষেত্র: পালংশাকে থাকে প্রচুর ভিটামিন সি। বলা হয়ে থাকে, এটি ভিটামিন সি–এর বড় আধার। ভিটামিন সি আমাদের শরীরে কী করে, তার বিস্তারিত বিবরণ মনে হয় প্রয়োজন নেই। তারপরও বলে রাখি, ভিটামিন সি মানুষের চোখের রোগ এবং কপালের বলিরেখা দূর করতে পারে, প্রসবপূর্ব সময়ে মায়েদের স্বাস্থ্যের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া ভিটামিন সি কার্ডিওভাসকুলার রোগ দূর করতে সক্ষম। ভিটামিন সি-তে লুটিন থাকে। এটি ধমনির গা মোটা হওয়া ঠেকিয়ে মানুষের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।

৫. তরতাজা করে: পালংশাকে থাকে ম্যাগনেশিয়াম। এটি শরীরের শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। ফলে নিয়মিত পালংশাক খেলে তরতাজা থাকা যায়।

কয়েকটি রেসিপি

রেসিপি দিয়েছেন ফারাহ সুবর্ণা।

মুরগি-পালং সালাদ

কয়েকটি রেসিপি
কয়েকটি রেসিপি

উপকরণ:

পালংশাক ২ আঁটি (ছোট পালং হলে ভালো), কর্ন (ভুট্টার দানা) আধা কাপ, সেদ্ধ মুরগি অথবা চিকেন সসেজ আধা কাপ, আনার সিকি কাপ, জলপাই তেল ১ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ চা-চামচ, চিলি ফ্লেক্স ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল ১ চা-চামচ, চিনি আধা চা-চামচ।

কয়েকটি রেসিপি
কয়েকটি রেসিপি

প্রণালি

ডাঁটা বাদ দিয়ে পালংশাক বেছে নিয়ে ফুটন্ত পানিতে ছেড়ে দিয়ে এক মিনিট রেখে তুলে নিন। এবার বরফ পানিতে কিছুক্ষণ রেখে তুলে নিয়ে কিচেন টিস্যুতে ভালো করে মুছে হাত দিয়ে ছিঁড়ে রাখুন। কচি ভুট্টার দানা অল্প লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। মুরগি ব্যবহার করলে হাড় ছাড়ানো মুরগি ছোট টুকরা করে অল্প লবণ-হলুদ দিয়ে তেলে হালকা করে ভেজে নিন। চাইলে গ্রিল করা মুরগিও ব্যবহার করা যাবে। আর চিকেন সসেজ ব্যবহার করলে তা–ও ছোট ছোট টুকরা করে তেলে হালকা ভেজে নিন।

এবার ড্রেসিং তৈরির পালা। একটা পাত্রে অলিভ অয়েল, চিলি ফ্লেক্স, লেবুর রস, চিনি ও স্বাদমতো লবণ খুব ভালো করে মিশিয়ে নিন। তারপর এতে ভুট্টার দানা, মুরগি অথবা চিকেন সসেজ মিশিয়ে নিন। হালকা হাতে পালংশাক আর আনার দানা ছড়িয়ে মিলিয়ে নিলেই সালাদ তৈরি। সেদ্ধ ডিম বা খোসা ছাড়ানো কমলা ওপরে ছড়িয়ে পরিবেশন করলে দেখতে ভালো দেখাবে। সালাদ সব সময় পরিবেশনের একদম আগে তৈরি করা উচিত। নাহলে পানি ছেড়ে দিয়ে নরম হয়ে যায়। এ ছাড়া মুরগি বা সসেজের পরিবর্তে চিংড়িও ব্যবহার করা যেতে পারে।বিজ্ঞাপন

ওটস-পালং পাকোড়া

ওটস-পালং পাকোড়া
ওটস-পালং পাকোড়া

উপকরণ:

পালংশাক ১ কাপ (মিহি কুচি), ওটস ৪ টেবিল চামচ (প্রয়োজনে কমবেশি করা যেতে পারে), কর্নফ্লাওয়ার ৪ টেবিল চামচ, ডিম ১টি, চিকেন স্টকের কিউব ১টি, পেঁয়াজ ১টি (কুচি), আদা ১ চা-চামচ (কুচি), কাঁচা মরিচ ৩-৪টি (কুচি), লবণ স্বাদমতো, তেল ভাজার জন্য।

ওটস-পালং পাকোড়া
ওটস-পালং পাকোড়া

প্রণালি

একটা পাত্রে সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন গোলা তৈরি করে নিন। প্যানে গরম তেলে প্রয়োজনমতো গোলা ঢেলে কম আঁচে দুই দিক সোনালি করে ভেজে নিন। পছন্দমতো সস বা চাটনির সঙ্গে গরম–গরম পরিবেশন করুন।

পালং পায়েস

পালং পায়েস
পালং পায়েস

উপকরণ:

ডাঁটা ছাড়া পালংশাক ১ কাপ, গাজর ২টি, পোলাওয়ের চাল ৩ টেবিল চামচ, তরল দুধ ১ লিটার, কনডেনসড মিল্ক ১ টিন, ঘি ২ টেবিল চামচ, এলাচিগুঁড়া চা-চামচের তিন ভাগের এক ভাগ, গোলাপজল ১ চা-চামচ, বাদাম-আমন্ড-চেরি ৮-১০টি (সাজানোর জন্য)।

প্রণালি

পালং পায়েস
পালং পায়েস

পোলাওয়ের চাল ধুয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন দুই ঘণ্টা। পালংশাক সেদ্ধ করে ব্লেন্ডারে দিয়ে পিউরি করে নিন। গাজর মিহি করে গ্রেট করে নিন। দুধ জ্বাল দিয়ে একটা বলক উঠলে পানি ঝরানো পোলাওয়ের চাল হালকা ভেঙে দুধে দিয়ে দিন। অন্য একটি পাত্রে ঘি গরম করে গাজর দিয়ে বেশি আঁচে হালকা ভেজে (গাজরের কাঁচা গন্ধটা চলে গেলেই হবে) দুধের মধ্যে দিয়ে দিন। গাজর ভাজার সেই পাত্রে অল্প ঘি দিয়ে পালং পিউরি দিয়ে হালকা ভেজে নামিয়ে নিন। দুধের মধ্যে দেওয়া চাল আর গাজর ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে থকথকে হয়ে এলে প্রয়োজনমতো কনডেনসড মিল্ক আর এলাচিগুঁড়া মিশিয়ে দিন। গোলাপজলটাও এ সময় মিশিয়ে দিতে হবে। চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে তারপর অল্প অল্প করে পালং পিউরি মেশান। পিউরি সবটা না-ও লাগতে পারে। হালকা সবুজ ভাব এলে পরিবেশন পাত্রে ঢেলে বাদামকুচি, লাল চেরি বা ভাজা গাজরকুচি দিয়ে সাজিয়ে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে তারপর পরিবেশন করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

গ্রাফটিং পদ্ধতিতে বছরব্যাপী টমেটো চাষ

গ্রাফটিং পদ্ধতিতে বছরব্যাপী টমেটো চাষ

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com