আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

শীতের আগেই শীতের সবজি

ঠাকুরগাঁও: বর্ষা শেষ হতে না হতে ঠাকুরগাঁওয়ে শুরু হয়েছে শীতকালীন আগাম সবজির বাণিজ্যিক উৎপাদন। এই আগাম সবজি এখন দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের অনেক দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

বেশি লাভের আশায় শীতকালীন আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা। ক্ষেত পরিচর্যা, রোগ-বালাই দমন ও অধিক ফলনের আশায় দিন রাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করছেন তারা।

আগামী এক মাসের মধ্যেই মাঠ থেকে উঠবে শীতকালীন শাকসবজি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বেশি লাভ ও বাম্পার ফলন হবে এমনই আশা চাষি ও কৃষি বিভাগের।

শীতকালীন সবজি করলা, মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, সিম, লাউ, টমেটো, লালশাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হয়েছে এ এলাকাজুড়ে। নিরন্তর পরিশ্রম করছেন কৃষকরা। বেকার যুবকরা চাকরির দিকে না ঝুঁকে নেমে পড়েছেন সবজি চাষে। শীতকালীন সবজি অল্প দেখা গেলেও মাসখানেকের মধ্যে ভরপুর হয়ে উঠবে ঠাকুরগাঁওসহ এ অঞ্চলের বাজারগুলো। দামে কিছুটা বেশি হলেও ভোক্তারা স্বাদ নেবে এসব সবজির। এবার ভালো ফলন ও লাভবান হবে এমনটাই বলছেন তারা। স্থানীয় শ্রমিকরাও কাজের নিশ্চয়তা ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ায় খুশি।

প্রতিদিন সকালে ঠাকুরগাঁও থেকে রানীগঞ্জ পর্যন্ত পাকা রাস্তায় কৃষকদের করলা বেচাকেনার ধুম পড়ে যায়। ভালো দাম পেয়ে তাদের মুখে হাসির ছোঁয়া।
ঠাকুরগাঁওয়ে শুরু হয়েছে শীতকালীন আগাম সবজির বাণিজ্যিক উৎপাদন
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গ্রামের সবজি চাষি নাসির বাংলানিউজকে জানান, এবার বাজারে সবজির ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় সবজির ফলনও অনেক বেশি। তবে শীতকালীন আগাম সবজি চাষের ঝুঁকিও থাকে অনেক বেশি।

রাজেকা ইউনিয়নের সবজি চাষি আশাদুল বাংলানিউজকে জানান, আগাম সবজি চাষে বিঘা প্রতি খরচ হয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। আর বিক্রি হয় ৮০ থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত। করলার দাম ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা মণ থাকলে লোকসান হওয়ার আশঙ্কা নেই।

রংপুর থেকে আসা ব্যাপারি সাইফুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, আমরা প্রতিদিনই ঠাকুরগাঁও থেকে তিন থেকে চার ট্রাক করে করলা কিনে নিয়ে আবার রাজধানীর ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করি।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় সাত হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদন হবে এক লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন শাকসবজি।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আফতাব হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, এ অঞ্চলের সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীর ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশগুলোতে যায়। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা কারিগরি সহায়তাসহ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন হবে এমন আশা কৃষি বিভাগের।

ঠাকুরগাঁও সবজি সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করাসহ সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ অঞ্চলের কৃষকরা ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার।

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজের কেজি ১৫

১৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এর আগে এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ২০ টাকা কেজি। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, ‘দেশি পেঁয়াজের দাম বাজারে স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে এসেছে। এ কারণে ২০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি কম হচ্ছিল। তাই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

দাম কমার পর দেখা গেছে, টিসিবির পেঁয়াজের দাম বাজারের দেশি পেঁয়াজের তুলনায় অর্ধেক। এরপরও ক্রেতাদের চাহিদা কম। কয়েক দিন আগেও ট্রাকের সামনে লম্বা লাইন দেখা গেলেও এখন আর নেই। অনেক স্থানেই ডেকে ডেকে পেঁয়াজ বিক্রির চেষ্টা করছেন পরিবেশকরা।

হাঁকডাকে দু-একজন ক্রেতা এলেও তাদের আগ্রহ ডাল অথবা তেলে। কিন্তু পরিবেশকদের শর্ত শুনেই ফিরে যাচ্ছেন বেশিরভাগ ক্রেতা। কারণ নির্দিষ্ট পরিমাণ পেঁয়াজ না নিলে অন্য কোনো পণ্য বিক্রি করছেন না পরিবেশকরা। অর্থাৎ যেকোনো পণ্য কিনলে সঙ্গে পেঁয়াজ নিতে বাধ্য করছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামপুরা এলাকার টিসিবির ডিলার মাসুদ পারভেজ বলেন, পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে অন্য পণ্যের সঙ্গে পেঁয়াজও বিক্রি করার চেষ্টা করছি। পেঁয়াজ নিয়ে আমরা লোকসানে পড়েছি। বরাদ্দের পেঁয়াজ শেষ না হলে টিসিবি থেকে অন্য পণ্য দেয়া হচ্ছে না।

পেঁয়াজের পাশাপাশি টিসিবির ট্রাকে মাঝারি দানার এক কেজি ডালের দাম ৫০ টাকা, যা বাজারের চেয়ে ৩০ টাকা কম। পাঁচ লিটারের এক বোতল তেলের দাম ৪০০ টাকা। এ ক্ষেত্রে ক্রেতার সাশ্রয় ১৫০ টাকার মতো। এছাড়া এখন নেই চিনির সরবরাহ। অন্যদিকে অধিকাংশ ট্রাকসেলে তেল পাওয়া যায়নি।

সেক্ষেত্রে ডালের সঙ্গে আড়াই কেজি এবং যেসব পরিবেশকের কাছে তেল রয়েছে তারা কমপক্ষে পাঁচ কেজি পেঁয়াজ গছিয়ে দিচ্ছেন। এ জন্য ওই সব পণ্যও বিক্রি কমে গেছে।

জানতে চাইলে আরেক ডিলার মনসুর আলী বলেন, প্রতিদিন আড়াই টন করে বরাদ্দ পাচ্ছি। কিন্তু বিক্রি হয় ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি, যা অবিক্রীত থেকে যায়, তা কয়েক দিনে বিক্রি করি। বরাদ্দ পাওয়া পেঁয়াজ পুরোটা বিক্রি করতে সময় লাগছে। এ সময়ের মধ্যে কিছু পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বরাদ্দের পেঁয়াজ বিক্রি না হলে টিসিবি অন্য পণ্য সরবরাহ দিচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

যেসব কারণে ভারতীয় পেঁয়াজে আগ্রহ হারালেন আমদানিকারকরা

এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের স্থল বন্দরগুলো দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। হিলি, বেনাপোল এবং ভোমরা স্থল বন্দরে যোগাযোগ করে এই তথ্য জানা গেছে। গত আটদিন ধরে এই তিন বন্দর দিয়ে কোনো পেঁয়াজই আনেননি এসব বন্দরের আমদানিকারকরা।

হিলি বন্দর আমদানি ও রপ্তানিকারক সমিতি জানিয়েছে, এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে গড়ে প্রতিদিন ২০০ ট্রাকে করে ৪,০০০ মেট্রিক টনের মতো পেঁয়াজ আসে।

কেন ভারতীয় পেঁয়াজ আনা হঠাৎ বন্ধ হলো সে বিষয়ে সমিতির সভাপতি মো. হারুন উর রশিদ জানিয়েছেন, ‘এবার দেশি পেঁয়াজ ভারতীয় পেঁয়াজের থেকে অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের পড়তা হচ্ছে না। ভারতের ভেতরেও পেঁয়াজের দাম অনেক বেশি, বাংলাদেশে সেই তুলনায় কম। গত কিছুদিনে পেঁয়াজের একটা গাড়িও ঢোকেনি।’

ঢাকার বাজারে এখন দেশি পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা কেজি। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কমপক্ষে ১০ টাকা বেশি দামে। এছাড়া ‘টিসিবি পেঁয়াজ’ বলে এক ধরনের নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এর কম দাম ১৬ থেকে ১৮ টাকা কেজি।

ঢাকায় পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় পাইকারি আড়ৎ শ্যামবাজারের একজন কমিশনিং এজেন্ট মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকারের ট্রেডিং কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশ অনেক কম দামে পেঁয়াজ দিচ্ছে। টিসিবির হাতে অনেক মাল আছে। ইম্পোর্টেড পেঁয়াজ এমনিতেই কেউ খাচ্ছে না। যেটা বিক্রি হচ্ছে সেটা টিসিবির। চীন, নেদারল্যান্ডসেরও কিছু ইম্পোর্টেড পেঁয়াজ আছে। সেটাও ভারতীয় পেঁয়াজের থেকে কম দামে বিক্রি হচ্ছে।’

বেনাপোলের আমদানিকারক মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘দেশি পেঁয়াজ সবসময় জনপ্রিয় কারণ ভারতীয় পেঁয়াজে ঝাঁঝ কম। সাধারণত দেশি পেঁয়াজেরই দাম বেশি থাকে। কিন্তু এ বছর উল্টো। যেহেতু দেশিটাই কম দামে কেনা যাচ্ছে তাই ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা কম রয়েছে।’

গত বছর সেপ্টেম্বর মাসের দিকে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল। অভ্যন্তরীণ বাজারের উপরে নির্ভর করে প্রায়শই এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত। ডিসেম্বরের শেষের দিকে আবার পেঁয়াজ রফতানির ঘোষণা দেয় ভারত এবং এই মাসের শুরুর দিকে আবার আমদানি শুরু হলেও দিন দশেক পরই আনা বন্ধ করে দেন আমদানিকারকেরা। তবে এ মাসের প্রথম সপ্তাহেই পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে ৫% থেকে বাড়িয়ে ১০% শুল্ক আরোপ করে বাংলাদেশের সরকার।

কমিশনিং এজেন্ট মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, ‘তাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে ভারতে অভ্যন্তরীণ বাজারেও এবার পেঁয়াজের দাম বেশি। বাংলাদেশের সীমান্ত পর্যন্ত পেঁয়াজ আনতে খরচ পড়ছে ভারতীয় ৩০ রুপির মতো। এরপর ডলারে কনভার্ট করে, শুল্ক দিয়ে, বাংলাদেশ অংশে প্রবেশের পর পরিবহনসহ দাম অনেক বেড়ে যাচ্ছে।’

তবে সরকারের বর্ধিত শুল্ক আরোপের কারণেও আমদানি কম হচ্ছে বলে মনে করেন বেনাপোলের আমদানিকারক মো. রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘দেশি পেঁয়াজ এমনিতেই এই সিজনের পর অর্থাৎ তিন চার মাস পর কমে যাবে। দেশি কৃষকের সুবিধার জন্য এই শুল্ক আরোপ করা হলেও শুল্ক উঠে গেলে তখন আবার ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ৪ টাকার মতো কমে যাবে।’

‘ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হলে বাংলাদেশিদের পেঁয়াজ খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।’ বহু বছর ধরে এরকম একটি ধারণা বাংলাদেশে প্রচলিত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি ভারতীয় পেঁয়াজের বিপক্ষে বাংলাদেশিদের এক ধরনের মনোভাব তৈরি হয়েছে। যার প্রকাশ দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।ভারত আবারও পেঁয়াজ রফতানি করতে যাচ্ছে এমন খবর প্রকাশের পরই ভারতীয় পেঁয়াজ বয়কটের ডাকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ চালু হয়ে যায়।

ফেসবুকে সার্চ দিলেই দেখা যাচ্ছে #boycottindianonion এবং #ভারতীয়_পেঁয়াজ_বর্জন_করি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে অনেকেই পোষ্ট দিয়েছেন। তাতে নানা রকম বক্তব্য রয়েছে।

যেমন একজন লিখেছেন, ‘দেশি কৃষকদের বাঁচান, ভারতীয় পেঁয়াজ খাওয়া বন্ধ করুন।’

আরেকজনের পোষ্টে লেখা, ‘পেঁয়াজের ঘাটতির সময় দাদাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

ভারত বিরোধী মনোভাবের কারণে সেখানকার পেঁয়াজ না খাওয়ার আহ্বান দিয়ে অনেকেই পোষ্ট করেছেন। গলায় পোস্টার ঝুলিয়ে মেগাফোনে ভারতীয় পেঁয়াজ বয়কটের ডাক দিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন সেরকম একটি ভিডিও দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজের বিপক্ষে পোস্টার লিখে নিজের ছবি তুলে অনেকেই পোস্ট করেছেন। এরকম বহু পোস্ট দেখা যাচ্ছে ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে এ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বিদেশি পেঁয়াজের কদর শেষ!

বাজারে যখন দেশি পেঁয়াজের আকাল ছিল, তখন বিকল্প হিসেবে বিদেশি পেঁয়াজ ছিল ভরসা। কিন্তু দেশি পেঁয়াজের মৌসুম শুরু হওয়ার পর সেদিন শেষ। ভারত, মিয়ানমার, তুরস্ক কিংবা মিশর, কোনো পেঁয়াজেরই এখন আর কদর নেই বাজারে। বেশিরভাগ ক্রেতাই এখন দেশি পেঁয়াজ কিনছেন।

দেশের খুচরা ও পাইকারি বাজারগুলোর চিত্র এখন এমনই। স্বদেশি ঝাঁঝের স্থানীয় পেঁয়াজের আগমনে ঝাঁঝবিহীন ঢাউস আকৃতির বিদেশি পেঁয়াজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ক্রেতারা। আর একটা-দুটোতে এক কেজি হয়, এমন পেঁয়াজ ক্রেতারা একেবারেই কিনছেন না।

 পেঁয়াজের সঙ্কট কাটাতে আমাদের স্বাবলম্বী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের দেশি পেঁয়াজের মান এতোটাই ভালো যে, উৎপাদন বাড়লে ভারত থেকে এক কেজি পেঁয়াজও আনার প্রয়োজন হবে না 

রাজধানীর শান্তিনগর বাজারের ক্রেতা ফরিদা পারভীন বলেন, ‘বিদেশি ওইসব পেঁয়াজ রান্নার উপকরণ হিসেবে তেমন উপাদেয় নয়। মিষ্টি মিষ্টি স্বাদ লাগে। গন্ধ আর ঝাঁঝ কিছুই নেই!’

তিনি বলেন, ‘দামের কারণে বাধ্য হয়ে বিদেশি পেঁয়াজ খেতে হয় কখনো কখনো। কিন্তু দেশি পেলে বিদেশি পেঁয়াজের প্রশ্নই আসে না। এখন দেশি পেঁয়াজ নাগালের মধ্যে।’

সম্প্রতি ওই বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল কেজিপ্রতি ৪০ টাকায়। পাশেই রাখা বিদেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩০ টাকা হলেও তেমন বিক্রি হচ্ছিল না।

রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি মাসুদ বলেন, ‘রান্নায় এক কেজি দেশি পেঁয়াজের কাজ দ্বিগুণ পরিমাণ বিদেশি পেঁয়াজেও হয় না। ঘুরে-ফিরে দেশি পেঁয়াজেই সাশ্রয় ও পরতা। স্বাদও অতুলনীয়।’

ব্যাপক চাহিদার কারণেই প্রতিবছর মৌসুম শেষে দেশি পেঁয়াজ নিয়ে শুরু হয় ভোগান্তি। গত বছর দেশে পেঁয়াজ সঙ্কটের সময় ভারতও রফতানি বন্ধ করে দেয়। জনগণের এই ভোগান্তি লাঘবের জন্য সরকারও আগামী তিন বছরের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়।

রাজধানীর শ্যামবাজার পেঁয়াজের আড়তে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন এনামুল হক। তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজের সঙ্কট কাটাতে আমাদের স্বাবলম্বী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের দেশি পেঁয়াজের মান এতোটাই ভালো যে, উৎপাদন বাড়লে ভারত থেকে এক কেজি পেঁয়াজও আনার প্রয়োজন হবে না।’

পর্যাপ্ত উৎপাদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি বন্ধ হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটি সরবরাহ সঙ্কটের অজুহাত ও সিন্ডিকেটের কবল থেকে মুক্তি পাবে বলে মনে করেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, ২০১৯-২০ সালে দেশে দুই লাখ ৩৭ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদনের পরিমাণ ২৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে এক লাখ ৭৫ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে চারা পেঁয়াজের উৎপাদন হয় ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। এছাড়া ৬২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে কন্দ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় চার লাখ ৬৬ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন এবং ৩৪০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন হয় দুই হাজার ৮৬৯ দশমিক ৬০ মেট্রিক টন।

পাশাপাশি ২০১৯-২০ সালে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ১০ লাখ মেট্রিক টন। সে হিসেবে ধারণা করা হয়, দেশে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ৩৪ থেকে ৩৫ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ ঘাটতি প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন। ঘাটতির পেঁয়াজের ৮০ শতাংশ পূরণ হয় ভারত থেকে আমদানির মাধ্যমে।

অনুমিত এ ঘাটতির পরও কোনো কারণে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হলে তৈরি হয় সঙ্কট। একটা সময় পর্যন্ত এই সঙ্কট ‘মহাসঙ্কটে’ রূপ নিয়ে ক্রেতাসাধারণের নাগালের বাইরে চলে যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি।

এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পেঁয়াজের ঝাঁঝে কোণঠাসা হয়ে পড়ে দেশের বাজার। এমন পরিস্থিতিতে ভারতও সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দেয়। আর দেশটিতে কোনো কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে রফতানি পুরোপুরিভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন বাধ্য হয়ে পেঁয়াজের জন্য ধর্ণা ধরতে হয় দূরদেশে। বিশেষ পদ্ধতিতে বিমানে করে আনতে হয় এ পণ্যটি।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী দিনগুলোতে আর আগের মতো পেঁয়াজের সঙ্কট দেখা দেবে না। স্থিতিশীলই থাকবে এই প্রয়োজনীয় পণ্যটির বাজার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কমেছে আলু-টমেটোর দাম, পেঁয়াজের কেজি ৪০

বাজারে ভালো মানের নতুন আলু ও পাকা টমেটোর সরবরাহ বাড়ায় এ দুটি পণ্যের দাম কমেছে। ২০ টাকা কেজি দরেই পাওয়া যাচ্ছে নতুন আলু ও দেশি পাকা টমেটো। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

কিছুদিন আগে সবজির দাম নিয়ে হা হুতাশ করছিলেন ক্রেতারা। তবে এখন দাম কমে আসায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে। কারণ বেশিরভাগ সবজি এখন ৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এর সঙ্গে পেঁয়াজের দামও ক্রেতাদের স্বস্তি দিচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে এখন সব ধরনের শীতের সবজি ভরপুর। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, মুলা, বেগুন, পাকা টমেটো কোনো কিছুর কমতি নেই। দিন দিন এসব সবজির সরবরাহ বাড়ছে। ফলে দাম কমছে। সামনে দাম আরও কমবে।

শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। দুই কেজি নিলে কোনো কোনো বিক্রেতা ৭৫ টাকা রাখছেন। অথচ কিছুদিন আগেই দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল ৭০ টাকা।

পেঁয়াজের দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী নোয়াব আলী বলেন, বাজারে এখন দেশি পেঁয়াজের অভাব নেই। আবার ভারতও পেঁয়াজ দিচ্ছে। কিন্তু ভারতের পেঁয়াজের প্রতি মানুষের আগ্রহ নেই। কারণ দেশি পেঁয়াজ এখন কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা পাইকারিতে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছি ৩৫ টাকা। এখন দিন দিন বাজারে ভালোমানের দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়বে। সুতরাং সামনে পেঁয়াজের দাম আরও কমতে পারে।

রামপুরার ব্যবসায়ী মো. আজম বলেন, ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা কেজি। সবাই দেশি পেঁয়াজ কিনছেন। আমদানি করা পেঁয়াজের চাহিদা নেই।

এদিকে কিছুদিন আগে ৪০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া নতুন আলু এখন মানভেদে ২০-২৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সবচেয়ে ভালো মানের নতুন আলু কোনো কোনো বিক্রেতা দুই কেজি ৪৫ টাকায় বিক্রি করছেন।

মালিবাগ হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী নূর আলী বলেন, কিছুদিন আগেও এক কেজি নতুন আলু ৫০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। এখন ৪৫ টাকা দিয়ে দুই কেজি আলু পাওয়া যাচ্ছে। এই আলু আগের চেয়ে অনেক বড় এবং মানও ভালো। আগে যে সাইজের আলু ৫০ টাকা কেজি ছিল এখন তা ১৮-২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

আলু-পেঁয়াজের মতো স্বস্তি দিচ্ছে পাকা টমেটো। কিছুদিন আগে পাকা টমেটোর কেজি ছিল ১০০ টাকার ওপরে। এখন তার থেকে ভালো মানের পাকা টমেটো ২০-৩০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

স্বস্তি দিচ্ছে অন্যান্য সবজির দামও। শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকা। ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। এছাড়া মুলা ১০ থেকে ১৫ টাকা, গাজর ৩০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ২০ থেকে ৩০ টাকা, উস্তা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে বড় লাউ।

আলু, পেঁয়াজ, টমেটোর দামে স্বস্তি প্রকাশ করে খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, সবজির দাম নিয়ে যে অশান্তি ছিল এখন তা আর নেই। টমেটোর কেজি ২৫ টাকা কিছুদিন আগে এটা কল্পনাও করা যেত না। শুধু কি টমেটো, সবকিছুর দাম ছিল অস্বাভাবিক। সবজির দাম শুনলেই মাথা গরম হয়ে যেত। কিন্তু এখন সব ধরনের সবজি কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।

কারওয়ান বাজারে সবজি কিনতে আসা ইদ্রিস আলী বলেন, ফুলকপি ১০ টাকা, বাঁধাকপি ১৫ টাকা, শিম ২০ টাকা, পাকা টমেটো ২০ টাকা কেজি— সবজির এমন দাম হবে কিছুদিন আগে ভাবাই যায়নি। বেশিরভাগ সবজির কেজি একশ টাকার কাছাকাছি ছিল। এখন ১০০ টাকা দিয়ে ব্যাগ ভরে বাজার করা যায়।

মালিবাগ হাজীপাড়া থেকে বাজার করা আলেয়া বেগম বলেন, কিছুদিন আগেই এক সোয়া, আধা কেজি করে সবজি কিনতাম। এখন সবজির দাম কমেছে। পছন্দ মতো সবজি কিনে তৃপ্তি করে খেতে পাচ্ছি। আমরা কম দামে বেঁচে থাকার পণ্য কিনতে পারলেই খুশি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজের খরচ কেউ দেখে না, সবাই বলে কেজি কত’

পেঁয়াজের খরচ কেউ দেখে না, সবাই বলে কেজি কত

বুকভরা আশা আর মনে শঙ্কা নিয়ে পেঁয়াজ চাষে মহাব্যস্ত পাবনার চাষিরা। কন্দ পেঁয়াজ (মুঁড়ি বা মূলকাটা) চাষ করে কম লাভবান হওয়ায় তারা চারা পেঁয়াজ নিয়ে এখন আশা নিরাশার দোলাচলে। এরপরও থেমে নেই তারা।

পাবনার আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত কুমার সরকার জানান, এবার (কন্দ ও চারা পেঁয়াজ মিলিয়ে) ৫২ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় লাখ ৩৭ হাজার ৯৯৭ মেট্রিক টন।

এর মধ্যে সাঁথিয়া উপজেলায় এ বছর ১৭ হাজার ১৫০ হেক্টর আর সুজানগর উপজেলায় ২০ হাজার ৬৪১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাবনার এ দুই উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়।

প্রশান্ত কুমার সরকার আরও জানান, গত বছর পাবনায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সাত হাজার হেক্টর বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়। গত দুই বছর পেঁয়াজের ভালো দাম পেয়েছেন চাষিরা। এবার পেঁয়াজ চাষে আরও বেশি ঝুঁকেছেন। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, দেশে প্রতি বছর পেঁয়াজের বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন। পাবনা থেকেই উৎপাদন হয় প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন, যা মোট উৎপাদনের এক-চতুর্থাংশ। পাবনার সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলায় উৎপাদন হয় প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন। সে হিসাবে দেশে মোট উৎপাদিত পেঁয়াজের এক-পঞ্চমাংশ উৎপাদন হয় পাবনার এ দুই উপজেলায়।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, জেলার চাষিরা দুই পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ করেন। একটি কন্দ (মূলকাটা বা মুড়ি) অন্যটি চারা (হালি) পদ্ধতি। মূলকাটা পদ্ধতিতে পেঁয়াজের চাষ শুরু হয় অক্টোবর-নভেম্বরে। মূলকাটা পদ্ধতিতে চাষ করা নতুন পেঁয়াজ জানুয়ারিতে বাজারে পাওয়া যায়। হালি পদ্ধতিতে চাষ করা পেঁয়াজ ওঠে মার্চের মাঝামাঝি।

সরেজমিনে সাঁথিয়া ও সুজানগর উপেজলার বিল গ্যারকাপাড়, বিল গাজনা পাড়, কুমিরগাড়ী, বামনডাঙ্গা, বামনদি, ইসলামপুর মাঠে গিয়ে দেখা যায়, এলাকার শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষ পেঁয়াজের মাঠে। বাড়ির নারীরাও পুরুষ সদস্যদের সহায়তা করছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেক শিশুকে বড়দের সঙ্গে পেঁয়াজ লাগাতে দেখা গেছে।

দেশের অন্যতম বড় পেঁয়াজের হাট সাঁথিয়ার বনগ্রামে দেখা যায়, প্রতি মণ কন্দ পেঁয়াজ ৯০০-১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হাটে পেঁয়াজের আড়তদার ইব্রাহিম হোসেন বলেন, মাস চারেক আগে প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম ছিল তিন-সাড়ে তিন হাজার টাকা। এখন বাজারে ‘মন্দা হাওয়া’ লেগেছে।

তিনি আরও বলেন, তিন মাসের মধ্যে নতুন হালি পেঁয়াজ হাটে উঠতে শুরু করবে। তখন আরও দাম কমার আশঙ্কা রয়েছে। পেঁয়াজের দাম এভাবে নেমে গেলে কৃষকের লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচই উঠবে না।

সাঁথিয়া উপজেলার কুমিরগাড়ী গ্রামের পেঁয়াজ চাষি আরশেদ খান, কানু খান, বামনডাঙ্গা গ্রামের জসিম উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে হলে শুরুতেই বীজ কেনা ও চারা উৎপাদনের জন্য বীজতলা ভাড়া নিতে হয়। জমি চাষ, সেচ, সার, নিড়ানি, শ্রমিক ও উত্তোলন খরচ মিলিয়ে বিঘাপ্রতি প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। পাশাপাশি যারা অন্যের জমি লিজ নিয়ে আবাদ করেন তাদের বিঘাপ্রতি বাৎসরিক ১০ হাজার টাকা লিজমানি জমির মালিককে দিতে হয়। এজন্য তাদের খরচ হয় আরও বেশি। এছাড়া অনেক ছোট-বড় চাষি চড়া সুদে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়েও পেঁয়াজ চাষ করেন।

সাঁথিয়ার বিল গ্যারকা পাড়ের চাষি আবুল বাশার মোল্লা জানান, পেঁয়াজের দাম বাড়লে জমির বার্ষিক লিজ মানিও বাড়ে। পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় গ্যারকা বিল পাড়ের জমিতে বাৎসরিক লিজমানি এ বছর প্রায় ১৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে রয়েছে উৎপাদন খরচ বিঘাপ্রতি ৩০ হাজার টাকা।

তারা জানান, এক বিঘায় পেঁয়াজের গড় ফলন হয় ৪০- ৫০ মণ। সে হিসাবে ৬০০-৭০০ টাকা মণ দরে পেঁয়াজ বিক্রি করলে চাষির উৎপাদন খরচও ওঠে না।
চাষিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পেঁয়াজ উৎপাদন খরচ কেউ হিসাব করেন না। হিসাব করেন শুধু কত টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে! বছরের পর বছর ধরে পেঁয়াজের দাম কম থাকবে, এ ধারণাটা চাষিদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে।

তারা বলেন, দেশে সব কিছুর দাম বাড়ছে, জনগণের আয় বাড়ছে। তাই মসলাজাতীয় ফসল পেঁয়াজের দামও প্রতি বছর বাড়লে চাষিরাও লাভবান হতে পারবেন।

বাংলাদেশ ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পাবনা জেলার বিশিষ্ট চাষি আলহাজ শাহজাহান আলী বাদশা জানান, চাষিরা বাপ- দাদার আমল থেকে চাষ করে আসা পেঁয়াজের জাতই চাষ করে আসছেন। ফলে বিঘাপ্রতি ফলন একই রকম হারে রয়েছে। কিন্তু জনসংখ্যা বেড়েছে, পেঁয়াজের চাহিদাও বেড়েছে। বিঘাপ্রতি ফলন বাড়ানোর বিকল্প নেই। এজন্য অন্যান্য ফসলের মতো পেঁয়াজের উফশী (উচ্চ ফলনশীল) জাত সম্প্রসারণ করা দরকার।

পাবনার দোতলা কৃষির উদ্ভাবক কৃষিবিদ জাফর সাদেক জানান, বছরের শেষ দিকে অনেক সময় পেঁয়াজের দাম বাড়ে। সে দাম সাধারণ চাষিরা পান না। কারণ চাষের খরচজনিত দেনার কারণে তাদের মৌসুমের শুরুতেই সিংহভাগ পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয়। বাধাইকারকরা বেশি দাম ধরতে পারে। পেঁয়াজ চাষে স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার সরকারি ঘোষণা থাকলেও সাধারণ চাষিরা সে সুবিধাও পাচ্ছেন না। অনেকেই চড়া সুদে মহাজনী ঋণ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কৃষি বিপণন অধিফতরের পাবনা জেলা মার্কেটিং অফিসার হুমায়ুন কবীর জানান, চাষি ভালো দাম পেলে সেটাকে নেতিবাচকভাবে না নিয়ে ইতিবাচক দিকটিও ভাবতে হবে। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে চাষিদেরও তো লাভবান হতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর পাবনার উপ-পরিচালক আদুল কাদের জানান, দেশে পেঁয়াজের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনও বাড়ছে। উন্নত জাতও উদ্ভাবিত হয়েছে। সেগুলো দীর্ঘমেয়াদে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করতে হয়। চাষি পর্যায়ে পৌঁছতে সঙ্গত কারণেই সময় লেগে যায়।

তিনি জানান, বিগত কয়েক বছর ধরেই চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। এবারও তারা নায্যমূল্য পাবেন বলে তারা আশাবাদী।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com