আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শীতকালীন তরমুজ চাষ

গ্রীষ্মকালীন রসালো সুস্বাদু ফল তরমুজ। গ্রীষ্মকালে নয় এখন  সারা বছর চাষ হচ্ছে এ ফলটি ! তাও আবার ফরমালিন ও বিষমুক্ত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দু’জন কৃষক বছরব্যাপী এ তরমুজ চাষ করে সাফল্য দেখিয়েছেন। এবং স্বাবলম্বী  হয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার মোহাম্মদ পুর গ্রামের জামাল উদ্দিন ও মহিউদ্দিন দুই বন্ধু। জামাল উদ্দিন একজন বিদেশ ফেরত আর মহিউদ্দিন একজন গ্রামের হোমিও প্যাথিক চিকিৎসক। গত দুবছর ধরে তারা তরমুজ চাষ করছেন। বছরে ৩ বার ফলন মেলে। এসব তরমুজ রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। ৮ বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করছেন তারা। প্রতি বিঘা জমিতে ৭০/৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। এ পর্যন্ত তাদের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা। তারা প্রায় দ্বিগুন আয় করবেন বলে তাদরে বিশ্বাস। ৩ বার তরমুজ চাষের পর তারা টমেটো, লাউসহ অন্যান্য সবজি ও চাষ করে একই জমিতে।

তারারা জানিয়েছেন, তরমুজ চাষ খুবই লাভজনক। ৩ মাসেই চারা গাছ রোপন ও তরমুজ বড় হয়ে বাজারে পাঠানোর উপযুক্ত হয়। কোনো প্রকার ফরমালিন বা ক্যামিক্যাল ব্যবহার না করায় টাটকা থাকে। তাই চাহিদা অনেক বেশী।

তাদের দেখা মতে অনেকেই এখন তরমুজ চাষে উৎসাহিত হচ্ছে। তিতাস এগ্রো ফার্ম লিঃ নামে একটি ফার্ম যৌথ ভাবে কাজ করছে। এতে ১৫ থেকে ২০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম বদরুল হক জানান, এ এলাকায় ব্যাপক আকারে তরমুজের চাষ হচ্ছে। বীজতলা থেকে শুরু করে ফল পাঁকা পর্যন্ত ৩ মাস সময় লাগে। ওজনে প্রতিটি তরমুজ ৩ থেকে ৪ কেজি হয়। এলাকার মানুষ তাদের চাষ দেখে উৎসাহিত হচ্ছে।

দৈনন্দিন

যেসব কারণে খাবেন লাল কলা

একটি অত্যন্ত পুষ্টিদায়ক ফল যা মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, শরীরে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা, এনার্জি লেভেল , হজম শক্তি বৃদ্ধি থেকে শুরু করে দৃষ্টিশক্তি ভাল করতে লাল কলার জুড়ি নেই। আসুন জেনে নেয়া যাক লাল কলার  গুণগুণ সম্পর্কে:

যেসব কারণে লাল কলা খাবেনঃ


  • হার্টের রোগীদের জন্য লাল কলা ডায়েটে রাখা ভাল। লাল কলায় থাকে পটাসিয়াম। যা শরীরকে সোডিয়ামের খারাপ প্রভাব থেকে রক্ষা করে। পাশাপাশি রক্তচাপও কমায়।
  • ভিটামিন এ থাকে বলে চোখের জন্য লাল কলা খুবই ভালো।
  • প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোনেট ও ভিটামিন সি থাকে লাল কলায়। থাকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও।
  • লাল কলায় থাকে তিন ধরনের প্রাকৃতিক সুগার— ফ্রুকটোজ, সুক্রোজ এবং গ্লুকোজ। শরীরের মধ্যে এই সুগারগুলি খুব তাড়াতাড়ি ভেঙে যায় এবং প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। ফলে সকালের নাস্তায় লাল কলা খুবই ভালো।
  • লাল কলায় রয়েছে ভিটামিন বি-৬। যা হিমোগ্লোবিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। যেসব মানুষ রক্ত স্বল্পতায় ভুগছেন তারা লাল কলা খেতে পারেন।
  • লাল কলায় থাকে প্রচুর পরিমাণে আঁশ। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে লাল কলা খাওয়া ভালো। তবে শুধু কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্যই নয়, হজম শক্তি বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে লাল কলা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

বাংলাদেশে স্ট্রবেরি চাষের সম্ভাবনা ও পদ্ধতি

স্ট্রবেরি ফল হিসেবে সবার খুবই পরিচিত। এটি দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও খুবই সুস্বাদু ও বিভিন্ন খাবার ডেকোরেশনে ভীষণ জনপ্রিয়। স্ট্রবেরির উদ্ভিদতাত্বিক নাম Fragaria ananassa। স্ট্রবেরি ছোট ঝোপালো লতানো/গুল্ম প্রকৃতির গাছ থেকে হয়। এর শক্ত কোন ডালপালা বা কান্ড নেই। পাতা সবুজ, ছোট, কিনারা খাঁজকাটা, থানকুনি পাতার মতো; পাতার বোঁটাও লম্বা, সরু, নরম এবং বেশ বাহারি লোমশ। ঝোপের মধ্যেই ছোট ছোট ঘণ্টার মতো সাদা বা ঘিয়া রঙের ফুল ফোঁটে। সরু সুতার মতো বোঁটার মাথায় একটি একটি করে ফল ধরে। কাঁচা ফলের রঙ প্রথমে সবুজ, ক্রমে সাদা এবং পাকলে উজ্জ্বল টকটকে লাল হয়। স্ট্রবেরির ফল আর দশটি ফলের মতো সাধারণ ১টি ফল নয়। এটি একটি পরিবর্তিত যৌগিক ফল। অন্যান্য ফলের মতো এর ভিতরে কোনো বীজ থাকে না, শুধুমাত্র ফলের বাইরে এর বীজ ধারণ করে থাকে। এক থোকাতে অনেকগুলো ফল ধরে। স্ট্রবেরির পাকা ফল টকটকে লাল রঙের হয়। এ ফলটি সুগন্ধীযুক্ত, টক মিষ্টি স্বাদের। এর আকর্ষণীয় রঙ, গন্ধ ও উচ্চ পুষ্টিমানের জন্য স্ট্রবেরি বিশ্বব্যাপী খুবই জনপ্রিয় ও সমাদৃত।

স্ট্রবেরির ইতিহাস

একসময় রাজকীয় খাবার হিসেবে  স্ট্রবেরি পরিচিত ছিল। আজ আমরা রাস্তাঘাটে স্ট্রবেরি পরে থাকতে দেখি। স্ট্রবেরি, স্ট্রবেরি ভর্তা, স্ট্রবেরির চাটনিসহ বিভিন্ন পণ্য- সবকিছুই অনেক সহজলভ্য।আপনার ভালো লাগলে কিনে ফেলছেন আবার ভালো না লাগলে ফেলে দিচ্ছেন! একটা সময় ছিল যখন এতো সহজ ব্যাপার  ছিল না। সেসময় স্ট্রবেরি ছিলো রাজকীয় খাবার।

১৭৪০ সালে ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চলে স্ট্রবেরি সর্বপ্রথম চাষ শুরু হয়। একইসাথে ইউরোপ আর উত্তর আমেরিকায় স্ট্রবেরির জন্মস্থান। অবশ্য সেসময়ের স্ট্রবেরি কিন্তু ঠিক আজকের মতন এতো রসালো, এতো বড় ছিল না। সান কিংয়ের পরিকল্পনানুসারে রাজকীয় হস্তক্ষেপেই তৈরি হয় বর্তমান স্ট্রবেরির ইতিহাস। এরপর অবশ্য ফলটি ভ্রমণ করে অনেকটা পথ। ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুই ফ্রেজিয়ার নামে এক গুপ্তচরকে পাঠান চিলি আর পেরুর দুর্গ থেকে খবরাখবর নিতে। তার ইচ্ছে ছিলো স্পেনের সিংহাসন দখল করার। তবে ফ্রেজিয়ার কেবল খবরাখবরই নয়, সাথে করে কিছু স্ট্রবেরিও এনেছিলো সেবার। চিলিয়ান স্ট্রবেরি অবশ্য এতো সহজে জন্ম নেয়নি ফ্রান্সে। আর এখন নতুন, পুরনো সবরকমের স্ট্রবেরি মিশে সুস্বাদু আর চমৎকার স্ট্রবেরির জন্ম দিলো। কেমন সেই স্ট্রবেরিগুলো? সে তো আপনার জানাই আছে।। ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চলে সর্বপ্রথম স্ট্রবেরীর চাষ করা হয়। এটি পরবর্তীতে চিলি, আর্জেন্টিনা এবং কালক্রমে অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বাংলাদেশের যেসব এলাকায় শীত বেশি পড়ে সেসব এলাকায় বারি স্ট্রবেরি-১ নামে একটি উচ্চফলনশীল জাতের স্ট্রবেরি চাষ করা হচ্ছে। জমির পাশাপাশি টব, বাড়ির আঙিনায়, বারান্দায় বা ছাদে এই ফল চাষ করা সম্ভব। বর্তমানে আমাদের দেশের যশোর, শ্রীমঙ্গল,রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ প্রভৃতি জায়গায় ব্যবসায়িক ভিত্তিতে স্ট্রবেরি চাষ ও বাজারজাত করা হচ্ছে। একজন বেকার নারী বা পুরুষ নিজের কর্মসংস্থান ব্যবস্থার জন্য নিজের জমিতে অথবা বর্গা নেওয়া জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

স্ট্রবেরির স্তূপ

বাংলাদেশে স্ট্রবেরির আগমন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. মনজুর হোসেন ১৯৯৬ সালে জাপান থেকে একটি স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্য জাতের স্ট্রবেরী বাংলাদেশে আবাদের চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি প্রথমে দেখতে পান যে, এই জাতটি রানারের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি হচ্ছে না। এমনকি ফলের আকার অনেক ছোট হচ্ছে। পরে ২০০৭ সালে দেশে প্রথম টকটকে লাল রঙের লোভনীয় ফল স্ট্রবেরি চাষের উদ্ভাবন করেন প্রফেসর ড. এম. মনজুর হোসেন।বাংলাদেশে স্ট্রবেরি চাষের উদ্ভাবক হিসেবে তিনি বেশি পরিচিত। তিনি সোমা ক্লোনাল ভেরিয়েশন প্রযুক্তির সাহায্যে বাংলাদেশে চাষ উপযোগী করে রাবি-১, রাবি-২, রাবি-৩ নামে তিনটি জাত উদ্ভাবন করেন।শ

ব্যবহার

ক) স্ট্রবেরি কাঁচা ব্যবহার করা যায়। বিশেষ করে ফ্রুট সালাদ ও কাস্টার্ডে কাঁচা স্ট্রবেরি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া যেকোনো ডেসার্ট পরিবেশের জন্যে স্ট্রবেরি ব্যবহার করা হয়।

খ) স্ট্রবেরি দ্বারা মূলত ইন্ডাস্ট্রি পণ্যের জন্য ব্যবহার করা হয়।স্ট্রবেরি দ্বারা জ্যাম, জেলী, স্কোয়াশ, জুস, ক্যান্ডি, কেক, চকোলেট,বিস্কুট ইত্যাদি তৈরীতে ব্যবহৃত হয়।

গ) মিল্কশেক কিংবা ককটেল জুস তৈরী করতেও স্ট্রবেরির কোনো জুরি নেই।

ঘ) জাপানের অত্যন্ত জনপ্রিয় মিষ্টি “ইচিগো দাইফুকু” যার মধ্যে রয়েছে আস্ত একটা স্ট্রবেরি, যেটি দেখতে সুন্দর ও গোলাকার।

ঙ) গ্র‍্যানুলা বার, স্ট্রবেরি কেক, স্ট্রবেরি পুডিং তৈরি করা হয়।

চ) স্ট্রবেরির স্বাদ, গন্ধের জন্য এটি এসেন্স হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান থাকায় সাবান, লোশন, ফেসওয়াশ,স্ক্রাবার, বাচ্চাদের টুথপেস্ট, বডি অয়েল, শ্যাম্পুতে, বডি স্প্রে, মেয়েদের প্রশাধনিতেও এটি ব্যবহার করা হয়।

গাছের স্ট্রবেরি

স্ট্রবেরির স্বাস্থ্যগুণ

স্ট্রবেরি অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি ফল। এতে আছে ভিটামিন এ, সি, ই, ফলিক এসিড, সেলেনিয়াম, ক্যালসিয়াম, পলিফেনল, ফেরালিক এসিড, কুমারিক এসিড, কুয়েরসিটিন, জ্যান্থোমাইসিন ও ফাইটোস্টেরল।

কি কি আছে জেনে তো লাভ নেই। বরঞ্চ জেনে আসি এসবের উপকারিতা-

ক) এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু জৈব এসিড ও এন্টিঅক্সিডেন্ট (এলাজিক এসিড) রয়েছে; যা বার্ধ্যক্য ও ক্যান্সার প্রতিরোধে খুবই কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে। তাছাড়া ত্বকের পরিচর্যার জন্যও স্ট্রবেরি বহুল সমাদৃত।

খ) স্ট্রবেরিতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি এবং ফাইটোকেমিক্যালস রয়েছে। যা, আমাদের মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ভালো করে। ভিটামিন সি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

গ) অতিরিক্ত ওজন নিয়ে ডায়েট করতে যে এত চিন্তা করছেন, প্রত্যেকদিন স্ট্রবেরি খেলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত মেদ ঝড়ে যায় সহজে।

ঘ) রক্তচাপ কমিয়ে হাইপারটেনশন কম রাখে স্ট্রবেরিতে থাকা পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম।

ঙ) চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে স্ট্রবেরি।

চ) স্ট্রবেরিতে রয়েছে আয়রন, ভিটামিন সি, ফাইটোকেমিক্যালস যা নার্ভাস সিস্টেমের কার্যপ্রণালী সঠিকভাবে করে।

ছ) স্ট্রবেরিতে আছে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিকারী ফেসটিন নামক প্রাকৃতিক ফ্ল্যাভোনয়েডস যা মস্তিষ্ক সচল রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

জ) গর্ভবতী মায়েদের জন্যও স্ট্রবেরি খুব উপকারী ফল।

ঝ) স্ট্রবেরিতে থাকা ফলিক অ্যাসিড, বি৫, বি৬ চুলকে শক্ত ও গোড়াঁ মজবুত করতে সাহায্য করে।

ঞ) স্ট্রবেরিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি এবং ম্যাঙ্গানিজ। এটি ত্বকের মৃত কোষ তুলে ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। তাছাড়া ত্বকে বলিরেখাও দূর করে।পায়ের স্ক্রাবার হিসেবেও দারুণ কাজ করে স্ট্রবেরি।

ট) ১ টেবিল চামচ স্ট্রবেরি পিউরি ও ১ টেবিল চামচ লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। ব্রাশের সাহায্যে মিশ্রণটি দাঁতে ঘষুন। মুখ ধোয়ার আগে ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে দূর হবে দাঁতের হলদে ভাব।

স্ট্রবেরি হাইড্রোপনিকস

স্ট্রবেরির জাত

বারি (বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট) স্ট্রবেরির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা বিবেচনায় বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বারি স্ট্রবেরি-১, বারি স্ট্রবেরি-২ ও বারি স্ট্রবেরি-৩ নামে ৩টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়  থেকে একটি করে স্ট্রবেরির উন্নত জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। এছাড়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভাবিত জাত রাবি-১, রাবি-২, রাবি-৩ এবং মডার্ন হর্টিকালচার সেন্টার, নাটোর থেকে সরবরাহকৃত জাত মডার্ন স্ট্রবেরি-১, মডার্ন স্ট্রবেরি-২, মডার্ন স্ট্রবেরি-৩, মডার্ন স্ট্রবেরি-৪, মডার্ন স্ট্রবেরি-৫, আমাদের দেশে চাষযোগ্য জাত হিসেবে আস্তে আস্তে জনপ্রিয়তার দিকে এগোচ্ছে।

উপযুক্ত সময়

স্ট্রবেরির চারা লাগানোর সময় আশ্বিন মাসে(মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য অক্টোবর) উপযুক্ত সময়।

চাষ পদ্ধতি

স্ট্রবেরি শীতকালীন দেশের ফল হলেও বাংলাদেশের যেসব এলাকায় শীত বেশি পড়ে ও অনেক দিন স্থায়ী হয় সেসব এলাকায় বারি স্ট্রবেরি-১ নামে একটি উচ্চফলনশীল জাতের স্ট্রবেরি বর্তমানে চাষ করা হচ্ছে।

চারা তৈরি

স্ট্রবেরির চারা ২ ভাবে পাওয়া যায়। স্ট্রবেরির বীজ থেকে অথবা রানার থেকে পাওয়া যায়। এখানে একটা জিনিস মাথায় রাখবেন বীজ থেকে যে বছর চারা তৈরি হবে ফল সেই বছর পাওয়া যায় না কিন্তু রানার থেকে যে বছর চারা তৈরি করা হবে ফল সেই বছরেই পাওয়া সম্ভব।

স্ট্রবেরির পটের প্রস্তুতি

কোনো মাটির টব অথবা তেল বা পানির বোতল কেটে স্ট্রবেরি গাছ লাগানো যাবে।  তেলের বোতল হলে প্রথমে বোতলটি ভালো করে ধুয়ে রৌদ্রে শুকিয়ে নিতে হবে, যেনো বোতলে কোন তেল লেগে না থাকে। এরপর বোতলের নিচে তিন/চারটি ছিদ্র করে দিতে হবে যেনো বায়ু চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে। টবে বা বোতলের ছিদ্র করে নিতে হবে যাতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকে।

স্ট্রবেরি অনেকদিন পর্যন্ত টিকতে পারে

মাটি প্রস্তুতি

এরপর মাটি প্রস্তুত করে নিতে হবে।স্ট্রবেরির জন্য বেলে দোঁআশ মাটি উপযোগী।কোনো শুকনো গোবর এবং কম্পোস্ট  মিক্সড করে মাটিকে উর্বর করে নিতে হবে। যে কোনো নার্সারীতেই গোবর সার পাওয়া যায়। গোবর যদি হাতের কাছে পাওয়া না যায় তবে বাসায় ব্যবহৃত শাক সবজির উচ্ছৃষ্টাংশ পচিয়ে তা সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। টবে মাটি দেয়ার আগে ছিদ্রগুলা ছোট পাথর দিয়ে বন্ধ করে নিতে হবে।স্ট্রবেরি পানি পছন্দ করে না তাই টবে খানিকটা বালু দিয়ে দিতে পারেন যাতে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন হয়ে যেতে পারে।

স্ট্রবেরির চারা লাগানো

মাটিতে চারা লাগাতে হবে। রোদ এই গাছের জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান। তবে সারাদিন সরাসরি সূর্যালোক থেকে গাছ দূরে রাখা ভালো। সকালের হালকা সূর্যালোক আর শেষ বিকেলের মৃদু রৌদ্র গাছের জন্য উপকারী। আবার খেয়াল রাখতে হবে রাতের‌ শিশির যেনো গাছের উপর পড়ে। মোট কথা গাছের সঠিক ভাবে বেড়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত রোদ এবং শিশির দুটোই প্রয়োজন।

চারা লাগানোর কিছুদিনের মধ্যেই নতুন করে আরও কিছু চারা জন্মাতে থাকে, যা থেকে চারা গাছের সংখ্যা বাড়ানো যায়।

স্ট্রবেরির পরিচর্যা

অন্যান্য গাছের মতোই স্ট্রবেরির নিয়মিত কিছু পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।

ক) নিয়ম করে আগাছা পরিষ্কার।

খ) মরা পাতা কেটে ফেলে দেয়া।

গ) মাঝে মাঝে মাটি নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিতে হয়।

ঘ) প্রতিদিন অল্প করে পানি দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়ায় যেনো পানি জমে না থাকে।

ঙ) গাছে ফুল আসার পর একটু বাড়তি পরিচর্যার প্রয়োজন।

চ) গাছে ফল ধরার পর খেয়াল রাখতে হবে ফল যেনো মাটি স্পর্শ না করে। ফল মাটি স্পর্শ করলে পচে যাবার সম্ভাবনা থাকে।

ছ) এছাড়াও পাখির আক্রমণ থেকে ফলকে সাবধানে রাখার‌ জন্য, ফুল আসার পর পরই গাছ নেট দিয়ে ঢেকে দেয়া ভালো।

স্ট্রবেরি রয়েছে দারুণ পুষ্টিগুণ

সার

স্ট্রবেরি চাষে তেমন কোন সার এর প্রয়োজন‌ হয় না। তবে পনেরো/বিশদিন অন্তর অন্তর সামান্য পরিমাণ ইউরিয়া সার‌ টবের চারপাশের মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া ভালো (গাছের গোড়ায় দেয়া যাবে না, আর সার দেবার পর অবশ্যই পানি দিতে হবে)। এতে গাছ প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন পাবে এবং সসতেজ থাকবে।

ফল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ

ক) স্ট্রবেরি বারি-১ এর ফল সংগ্রহ পৌষ মাস থেকে শুরু করে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে(ডিসেম্বর থেকে মার্চ)।

খ) যখন স্ট্রবেরি ফল পেকে টুকটুকে লাল হবে তখন সংগ্রহ করতে হবে।

গ) এই ফল অনেক নাজুক হয় তাই সংগ্রহকালে কোনো পাতলা ট্রে কিংবা  ডিমের ট্রে কিংবা ফলের ঝুঁড়িতে নিতে হবে যাতে ফল গাদাগাদি অবস্থায়  না থাকে।

ঘ) স্ট্রবেরির গুণ ও সংরক্ষণ ক্ষমতা কম তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটি ব্যবহার করতে হবে বা খেয়ে ফেলতে হবে।

ঙ) যারা টবে বা ছাদে চাষ করবেন তারা যে রানার গুলো বের হবে তা কেটে দিবেন তাহলে প্রচুর ফলন পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

নিরাপদ লিচু উতপাদন

পাবনা জেলার ভাগুড়াউপজেলায় এ বছর প্রায় ১০০ একর জমিতে নিরাপদ লিচু উতপাদন হয় ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

স্ট্রবেরির রোগ বালাই ও সংগ্রহপরবতী সমস্যা

স্ট্রেবেরি একটি সুস্বাধু ফল। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এই ফলের চাষ হয়। এখন বাংলাদেশে এই ফলের জনপ্রিয়তা ও চাষ দুটোই দিনদিন বাড়ছে। রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবত্য অঞ্চলে এ ফলের চাষ হয়। ১৯৯৬ সালে স্ট্রবরেরি আগমন ঘটে বাংলাদশেে এবং ২০০৭ সাল থকেে বাণজ্যিকি ভত্তিতিে শুরু হয়ছেে এর চাষ। রাবি-১, রাবি-২ এবং রাবি-৩ নামে তিনটি স্ট্রবেরি জাত ২০০৭ সালে উদ্ভাবন করা হয়। পরে ওই বছরই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে স্ট্রবেরি চাষ শুরু হয়।এ ফলের চাষে কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূল অবস্থার সমুক্ষীন হয়।বিভিন্ন ধরনের রোগবালাইয়ের আক্রমন ঘটে।

স্ট্রবেরির গোড়া পচা রোগঃ

আক্রমনের লক্ষনঃ আক্রান্ত গাছের ক্রাউন/গোঁড়া অংশে টানলে/কাটলে কমলা লাল থেকে গাঢ় বাদামি লাল রঙ দেখা যায় এবং আক্রান্ত অংশ থেকে কিছুটা দুর্গন্ধ বের হয়। এক ধরনের জীবাণু স্ট্রবেরি গাছের ক্রাউনের এক প্রান্ত থেকে আক্রমণ শুরু করে যা গাছের ওপর থেকে বোঝা যায় না। তারপর ক্রমান্বয়ে গাছের ক্রাউন অংশ পচে গেলে গাছটি হঠাৎ করে ঢলে পড়ে এবং পাতা হলুদ বা বাদামি হয়ে যায়।


প্রতিকারঃ

১)আক্রান্ত গাছ থেকে চারা সংগ্রহ করা যাবে না।

২)চারা সংগ্রহের সময় সুস্থ সবল চারা সংগ্রহ করতে হবে।
৩)প্রয়োজনে ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে(সেপানীল ০.১ ভাগ্র করতে হবে। সেপানীল প্রয়োগের দুদিন পর ১ মন ছাই, ১ কেজি পটাশ সার, ১/২ কেজি রিডোমিল মিশিয়ে গাছের গোড়ায় ১ মুঠো করে দিতে হবে)।

স্ট্রেবেরি সংগ্রহের পর করনীয়ঃ

স্ট্রেবেরি সংগ্রহের পর তা সংরক্ষণ করা বা বাজার জাত করা অনেক কঠিন। সংগ্রহ পরবতী সংরক্ষনের অভাবে এ ফল সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। পাউডারী মিলডউ এর আক্রমনে ফলে এ ফল দ্রুত পচে যায়। 

করনীয়ঃ

১) ফল সংগ্রহের সময় যেন আঘাত না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখা।

২) সংগ্রহের পর  ছায়াযুক্ত জায়গায় রাখা।

৩) বোটা সহ সংগ্রহ করা।

৪) দ্রুত শীতলীকরনের ব্যবস্থা করা।

৫) বাজারজাত করনের সময় যেন ফলে আঘাত না লাগে সেদিকে লক্ষ রাখা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ভিন দেশি ফল “পা‌র্সিমন”

পা‌র্সিমন। ইং‌রে‌জি‌তে Persimmon আর এর বৈজ্ঞা‌নিক নাম Diospyros Kaki. এ‌টি প্রধানত এ‌শিয়া মহা‌দে‌শের ফল। জাপানে এর নাম Hoshigaki, চী‌নে Shibing, কো‌রিয়ায় Gotgam কিংবা Hangul এবং ভি‌য়েতনা‌মে Hong kho না‌মে প‌রি‌চিত। ইসরাই‌লে এ ফল‌টি‌কে বলা হয় Sharon fruits. এ‌টি সুস্বাদু , সু‌মিষ্ট, সুদৃশ্য এবং লোভনীয় এক‌টি ফল। ফ্রি‌জে রে‌খে খে‌লে এর মিষ্টতা আরও বে‌ড়ে যায়।

ফল‌টি দেখ‌তে অ‌বিকল আমাদের দেশের পাকা গা‌বের ম‌তো। কোনটা আবার পাকা ট‌মে‌টোর ম‌তো হ‌য়ে থা‌কে। অত্যন্ত সুস্বাদু ও সু‌মিষ্ট এ ফল‌টি পাক‌লে সবুজাভ হলুদ রঙ ধারণ ক‌রে। প্রজা‌তি‌ভে‌দে হলুদ, কমলা, লাল, বাদামী এমন‌কি কাল‌চে র‌ঙের পা‌র্সিমনও দেখা যায়।

পা‌র্সিমন এক‌টি চির সবুজ গাছ। প্রজা‌তি‌ভে‌দে এ গা‌ছের উচ্চতা ১৫ থে‌কে ৫০ ফুট পর্যন্ত হয়। আর ফ‌লের ডায়া‌মিটার হয় ০.৫৯” থে‌কে ৩.৫৪” পর্যন্ত। পুরুষ ফুল এবং স্ত্রী ফুল আলাদা গা‌ছে হয়। আবার কিছু প্রজাতির গাছ আ‌ছে যা‌তে একই সা‌থে পুরুষ ও স্ত্রীফুল ফো‌টে।

সমগ্র পৃ‌থিবী‌তে বর্তমা‌নে প্রায় ৩৬ লক্ষ মে.টন পা‌র্সিমন উৎপা‌দিত হয় তন্ম‌ধ্যে চীন একাই ক‌রে ৫৫% বা ২০ লক্ষ মে.টন। এরপর দ.‌কো‌রিয়ায় ৩ লক্ষ মে.টন, জাপা‌নে ২লক্ষ ৬০ হাজার মে.টন, ব্রা‌জিলে ১লক্ষ ২০ হাজার‌ মে.টন পা‌র্সিমন উৎপাদিত হয়। এছাড়া USA, ইউরো‌পের দ‌ক্ষিণাঞ্চল, মিয়ানমার, ভারত, নেপাল, ইসরাইল, আজারবাইজান, ভি‌য়েতনাম প্রভৃ‌তি দে‌শে পা‌র্সিমন উৎপা‌দিত হয়।

সাধারণত পাকা ফ‌লের পাতলা খোসা ছু‌রি দি‌য়ে ছা‌ড়ি‌য়ে নি‌য়ে ভিতরের শাঁস স্লাইস ক‌রে সরাস‌রি খাওয়া হয়। কো‌নো কো‌নো দে‌শে রান্না ক‌রে বি‌ভিন্ন ধর‌নের খাবার প্রস্তুত ক‌রেও খাওয়া হ‌য়। এছাড়া পাকা কিংবা আধা পাকা ফল শু‌কি‌য়ে টিনজাত ক‌রে রাখা হয়। জাপা‌নে এ গা‌ছের পাতার রস জ্বাল দি‌য়ে চা‌য়ের ম‌তো পান করা হয়, যার নাম kaki no ha chu. এর ফল থে‌কে ভি‌নেগারও প্রস্তুত করা হয়।

পা‌র্সিমন উচ্চ পু‌ষ্টিমান সমৃদ্ধ এক‌টি ফল। প্রজা‌তি‌ভে‌দে শর্করার প‌রিমাণ থা‌কে ১৯-৩৩%, হজম‌যোগ্য আঁশ থা‌কে ৪% এছাড়া পর্যাপ্ত প‌রিমা‌ণে বি‌ভিন্ন ধর‌নের ভিটা‌মিন এবং খ‌নিজ পদার্থ বিদ্যমান থাকায় এ‌টি অ‌নেক ধর‌নের রোগ প্রতি‌রোধ এবং নিরাম‌য়ে সহায়তা ক‌রে।

কোষ্ঠকা‌ঠিন্য ও অর্শ রোগ প্র‌তি‌রো‌ধে পা‌র্সিমন ফল খাওয়া হয়। রান্না করা ফল ডায়‌রিয়া ও আমাশয় রে‌া‌গে ব্যবহার করা হয়। মাদকাসক্ত রোগীর চি‌কিৎসায় এফল ব্যবহার করা হয়। হু‌পিং কা‌শি রো‌গের প্র‌তি‌রো‌ধে এবং সা‌পের কাম‌ড়ের প্র‌তি‌ষেধক হি‌সে‌বে এ ফল ব্যবহার করা হয়। ব্যাক‌টে‌রিয়াজ‌নিত বিষাক্ততার বিরু‌দ্ধেও কার্যকর ভূ‌মিকা রা‌খে।

সমগ্র পৃ‌থিবী‌তে ৭৫০ প্রজা‌তির পা‌র্সিমন উৎপা‌দিত হয়। অ‌ধিকাংশই বীজশূণ্য। ত‌বে কিছু প্রজা‌তি র‌য়ে‌ছে যেগু‌লো বীজযুক্ত। কিছু প্রজা‌তির শাঁস আঁশ বিহীন আবার কিছু আ‌ছে আঁশযুক্ত। পা‌র্সিমন গা‌ছের শক্ত কাঠ দ্বারা জাপান, কো‌রিয়া ও চী‌নে বি‌ভিন্ন ধর‌নের আসবাবপত্র প্রস্তুত করা হয়। পা‌র্সিম‌নের উন্নত জাতগু‌লো হ‌লো- Diospyros kaki (জাপা‌নিজ), Diospyros virginiana (আ‌মে‌রিকান), Diospyros digyna (কা‌লো রঙ- মে‌ক্সিকান),
Diospyros peregrina( ই‌ন্ডিয়ান) ইত্যা‌দি।

বাংলা‌দেশ কৃ‌ষি বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের জার্মপ্লাজম সেন্টা‌রে এ ফ‌লের পরীক্ষামূলক উৎপাদন সফল হ‌য়ে‌ছে। এছাড়া ব্য‌ক্তি উ‌দ্যো‌গে বড় বড় নার্সা‌রি গু‌লো‌তে চাষাবাদ শুরু হ‌য়ে‌ছে। তারা এখন এর চারাগাছ বি‌ক্রি কর‌ছেন। যে‌হেতু আমা‌দের প্র‌তি‌বেশী দেশ ভারত, নেপাল, মিয়ানমার ও থাইল্যা‌ন্ডে এ ফ‌লের চাষ হয় সেজন্য আম‌দের দে‌শেও এ ফল উৎপাদ‌নের উজ্জল সম্ভাবনা র‌য়ে‌ছে।

“পা‌র্সিমন ফলের উপকারিতা ও পু‌ষ্টিমান”

পা‌র্সিমন ফলে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। প্রতি ১০০ গ্রাম তাজা পা‌র্সিমন ফলে ২৯৩ কিলো জুল বা ৭০ ক্যালরি খাদ্য শক্তি পাওয়া যায়। এর হলুদ রঙের কোষ হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ সমদ্ধ। পা‌র্সিমন আমাদের দেহের ভিটামিন ‘এ’ এর চাহিদা পূরণ করে। সেজন্য এই ফল অপুষ্টিজনিত সমস্যা, রাতকানা এবং রাতকানা থেকে অন্ধত্ব প্রতিরোধ করার জন্য খুবই উপযোগী ফল।

শিশু, কিশোর, কিশোরী এবং পূর্ণ বয়সী নারী-পুরুষ সব শ্রেণীর জন্যই পা‌র্সিমন খুবই উপকারী ফল। গর্ভবতী এবং যে মা বুকের দুধ খাওয়ান তাদের জন্য পা‌র্সিমন দরকারি ফল। শরীরে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাব দেখা দিলে ত্বক খসখসে হয়ে যায় এবং শরীরের লাবণ্যতা হারিয়ে ফেলে। পা‌র্সিমন এ ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। এ ছাড়া পা‌র্সিমনে প্রচুর পরিমাণে শর্করা ও ভিটামিন থাকায় তা মানব দেহের জন্য বিশেষ উপকারী।

১০০গ্রাম পা‌র্সিমনে ০.৫৮ গ্রাম আমিষ ও ১৮.৫৯ গ্রাম শর্করা আছে। চিনির পরিমাণ ১২.৫৩ গ্রাম। পা‌র্সিমনে চর্বির পরিমাণ নিতান্ত কম মাত্র ০.১৯ গ্রাম। এজন্য এই ফল খাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধির আশংকা কম। পা‌র্সিমন পটাশিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস। পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এ জন্যে পা‌র্সিমন খেলে উচ্চ রক্ত চাপের উপশম হয়।

পা‌র্সিমন অন্যতম উপযোগিতা হল ভিটামিন ‘সি’। প্রাকৃতিকভাবে মানবদেহে ভিটামিন “সি” তৈরি হয় না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দাঁতের মাড়িকে শক্তিশালী করে ভিটামিন “সি”। পা‌র্সিমনে বিদ্যমান ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস- আলসার, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ এবং বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।

পা‌র্সিমনে প্রচুর পরিমাণে শর্করা ও ভিটামিন থাকায় তা মানব দেহের জন্য বিশেষ উপকারী। এতে আছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের দেহকে ক্ষতিকর ফ্রির‌্যাডিকেলস থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও আমাদেরকে সর্দি-কাশি রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

টেনশন এবং নার্ভাসনেস কমাতে পা‌র্সিমন ভালো কাজ করে। এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা ও ভিটামিন থাকায় তা মানব দেহের জন্য বিশেষ কার্যকরী। পা‌র্সিমনে থাকে খাদ্য আঁশ ৩.৬০ গ্রাম, এই ফল আঁশালো বিধায় কোষ্ঠকাঠিণ্য দূর করে। পা‌র্সিমনে রয়েছে খনিজ উপাদান আয়রন যা দেহের রক্তাল্পতা দূর করে।

১০০ গ্রাম তাজা পা‌র্সিমনে বিদ্যমান ভিটামিন সমূহ :
ভিটামিন-A তে রূপান্তরযোগ্য বিটা ক্যারোটিন 834 μg
থায়ামিন (B1) 0.03 mg
রিবোফ্লাভিন (B2) 0.02 mg
Niacin নায়াসিন (B3) 0.1 mg
ভিটামিন-B6 0.1 mg
ফলেট (B9) 8 μg
কোলিন 7.6 mg
ভিটামিন-C 7.5 mg
ভিটামিন-E 0.73 mg
ভিটামিন-K 2.6 μg

১০০ গ্রাম তাজা পা‌র্সিমনে যে সকল খনিজ উপাদান রয়েছে তা হলো :
ক্যালসিয়াম 8 mg
লৌহ 0.15 mg
ম্যাগনেশিয়াম 9 mg
ম্যাঙ্গানিজ 0.355 mg
ফসফরাস 17 mg
পটাসিয়াম 161 mg
সোডিয়াম 1 mg
জিংক 0.11 mg

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com