আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

করোনা ভাইরাস: স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতিতে শাস্তির নজির নেই। কিন্তু দায়ী কারা?

দুর্নীতি বিরোধী সংগঠনগুলো বলছে, স্বাস্থ্যখাতে জরুরীভিত্তিতে কেনাকাটায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা মানা হচ্ছে না।
দুর্নীতি বিরোধী সংগঠনগুলো বলছে, স্বাস্থ্যখাতে জরুরীভিত্তিতে কেনাকাটায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা মানা হচ্ছে না।

বাংলাদেশে জেকেজি এবং রিজেন্ট হাসপাতাল কেলেঙ্কারির পটভূমিতে স্বাস্থ্যখাতে যখন একের পর এক দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ উঠছে, তখন সরকার টাস্কফোর্স গঠন করে দুর্নীতি দূর করার কথা বলছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির চিত্র প্রকাশ পাওয়ায় চুনোপুটি কয়েকজনকে ধরা হয়েছে। কিন্তু সংকটের গভীরে গিয়ে প্রভাবশালী স্বার্থন্বেষী মহল বা রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে এখনও কার্যকর কোন পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি-অনিয়মের গভীরে যাওয়া আসলে কতটা চ্যালেঞ্জের, এবং সিণ্ডিকেট বা স্বার্থন্বেষী মহলের প্রভাব থেকে স্বাস্থ্যখাতকে মুক্ত করা কী আদৌ সম্ভব-এই খাতের পর্যবেক্ষকদের অনেকে এসব প্রশ্ন তুলেছেন।

সিণ্ডিকেটের হাত কত লম্বা?

স্বার্থন্বেষী মহল বা সিণ্ডিকেটের হাত কি সরকারের হাতের চেয়েও লম্বা, এমন আলোচনাও এখন চলছে।

টিআইবির ড: ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, স্বার্থন্বেষী মহলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াটা বেশ কঠিন। তবে একেবারে অসম্ভব বিষয় নয় বলেও তিনি মনে করেন।

সরকারি হাসপাতালগুলোর বেহালদশা নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হলেও স্থায়ী পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে না বলে বিশ্লেষকরা বলেছেন।
সরকারি হাসপাতালগুলোর বেহালদশা নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হলেও স্থায়ী পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে না বলে বিশ্লেষকরা বলেছেন।

“গভীরে গিয়ে যারা এর সার্বিক প্রক্রিয়ার মধ্যে মূল ভূমিকাগুলো পালন করে থাকে, তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা বা একটা প্রতিরোধমূলক জায়গায় নিয়ে আসা- এটা খুবই কঠিন কাজ এবং অনেক সময় অসম্ভবও মনে হয়। কিন্তু যদি আইনের প্রয়োগটা হতো বা নীতিমালার প্রয়োগ হতো তাহলে কিণ্তু এটা খুবই সম্ভব।”

“কিন্তু দু:খের বিষয় হলো, যে প্রতিষ্ঠানগুলো বা যে কর্তৃপক্ষের ওপর দায়িত্ব তারা কিন্তু এক ধরণের সীমারেখা নির্ধারণ করে বসে আছে যে এই সীমারেখার উর্ধ্বে আর যাওয়া যাবে না, তাহলে হাত পুড়ে যাবে।যার ফলে টানাটানি হবে তথাকথিত কিছু চুনোপুটিদের নিয়ে। এবং রুই-কাতলারা ঠিকই বাইরে থেকে যাবে।”

সরকারের টাস্কফোর্স

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ যখন পদত্যাগ করেন, তখন গত বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

নানা অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, পরিস্থিতি করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি।

জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

“পরীক্ষায় কত নাম্বার পেলেন, এটা নির্ভর করে আপনি পরীক্ষা কেমন দিয়েছেন। আমরা মনে করি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভাল নাম্বার পেয়েছে। নাম্বারটা কি–যে আমাদের মৃত্যুর হার দেড় পার্সেন্ট। এটা হলো সবচেয়ে বড় নাম্বার। যেটা আমেরিকাতেও ছয় পার্সেন্ট, ইউরোপে ১০ পার্সেন্ট। তবে যেখানে যেখানে পরিবর্তন প্রয়োজন, সে বিষয়গুলো আমরা অবশ্যই দেখবো। আমরা চাই যে, এখানে সুষ্ঠু পরিচালনা হোক।”

তবে মন্ত্রী নিজে পদত্যাগ করবেন কিনা-সাংবাদিকদের সেই প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে মি: মালেক বলেছিলেন, একটি টাস্কফোর্স গঠন করে দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

কিন্তু সংকট কতটা গভীরে-তা বের করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা আছে কিনা- তাতে সন্দেহ রযেছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনেকের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা বলেছেন, সংকটের শেকড়টা বের করা প্রয়োজন।

“খুবই গভীর মনে হয়। যদি সেটা গভীরে না হয়, তাহলে একের পর এক দুর্নীতি হতে পারে না। যেমন, আমরা জেকেজি বা রিজেন্টের ঘটনা দেখেছি। এরপর সাহাবুদ্দিন হাসপাতালের ঘটনা দেখলাম। একের পর এক হয়েই যাচ্ছে। এর রুটটা বের করা দরকার। সংবেদনশীল এই খাতে দুর্নীতি চলতে থাকলে শেষপর্যন্ত জনগণকেই কিন্তু ভোগান্তি পোহাতে হয়।”

দুর্নীতির গভীরতা এবং উৎস: কারা দায়ী?

ড: ইফতেখারুজ্জামান, টিআইবি'র নির্বাহি পরিচালক
ড: ইফতেখারুজ্জামান, টিআইবি’র নির্বাহি পরিচালক

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি বা অনিয়ম নতুন কিছু নয়। এখন করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে কিছু ঘটনা প্রকাশ হওয়ায় এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বেশি এবং এই খাতের পর্যবেক্ষকদের অনেকেই এমন বক্তব্য দিচ্ছেন।

কিন্তু কীভাবে বছরের পর বছর ধরে সেখানে দুর্নীতি চলে, সেই প্রশ্নও অনেকে তুলেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগে পরিচালকের কাজ করার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে ডা: বে-নজীর আহমেদ বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতে টাকা বানানোর টার্গেট নিয়েই চক্র গড়ে ওঠে।

“যে সেক্টরগুলোতে বেশি কাজ হয়, তার মধ্যে হেলথ সেক্টর অন্যতম। সুতরাং এই জায়গাটাকে তারা টার্গেট করে যে এখান থেকে ‘দে ক্যান আর্ন অ্যা্ লট’ – এটা টার্গেট করে যারা আসে, তারা বড় বড় প্লেয়ার এবং তাদের নানা জায়গায় পরিচিতি আছে।”

তিনি আরও বলেছেন, “আমাদের ক্রয় সর্ম্পকিত পদ্ধতিতে দূর্বলতা আছে। আর যারা টার্গেট নিয়ে আসে, তারা খুব স্মার্ট। এদের সাথে আমাদের অধিদপ্তর বা আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের কেউ কেউ জড়িত হন। যে লোকগুলো বছরের পর বছর একই পদে থাকেন, তারা এটাকে নিয়ন্ত্রণ করেন। এই দু’টো মিলিয়ে করাপশনগুলো হচ্ছে।”

রুহুল হক, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
রুহুল হক, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সাবেক এই পরিচালক ডা: বে-নজীর আহমেদ এক শ্রেনির কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতিতে জড়িত থাকার যে কথা বলছেন, অনেকটা একই তথ্য এসেছে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা টিআইবি’র গবেষণায়।

সেখানে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যখাতের ঠিকাদার বা ব্যবসায়ী, একশ্রেনির আমলা এবং রাজনৈতিক প্রভাব-এই তিনটি পক্ষের সিণ্ডিকেট সেখানে কর্মকাণ্ড চালায়।

টিআইবি’র নির্বাহি পরিচালক ড: ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ক্ষমতার পরিবর্তন হলে সিণ্ডিকেটের লোক বদল হয়। কিন্তু একইভাবে দুর্নীতি চলতে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

“ক্ষমতার রদবদল কিছু না কিছু হয়। একই রাজনৈতিক দলের আমলে বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন ব্যক্তি ক্ষমতায় আসেন এবং প্রভাবশালী গ্রুপ তৈরি হয়ে যায়। তাদের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন অনিয়ম হয়। সেখানে একদিক থেকে প্রশাসনের এক শ্রেনির কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। আর ঠিকাদার বা সরবারহাকারি আছে, যাদের বানোয়াট বা বাস্তব পরিচয় থাকে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক মহলের সাথে। এগুলোকেই পুঁজি করে চক্রজালের মতো কাজ করে। যেটাকে আমি ত্রিমুখী আঁতাত বলি।”

‘বেনিফিশিয়ারির লিস্ট অনেক লম্বা’

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি বা অনিয়ম করে বেনিফিশিয়ারি বা লাভবান হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা অনেক লম্বা, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরও অনেকেই তা মনে করেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রুহুল হক আওয়ামী লীগ সরকারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন।

তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতের ব্যবস্থাপনাতেই ত্রুটি আছে। সেকারণে কেনাকাটা এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাসহ সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি থাকছে। তিনি মনে করেন, স্বাধীন একটা কমিশন গঠন করে স্বাস্থ্যখাতে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

“সার্কেলের মধ্যে বেনিফিশিয়ারির লিস্ট অনেক লম্বা। এই লিস্টের কিছু লোক পরিবর্তন হলেও বেনিফিশিয়ারিরা কোন না কোনভাবে থেকে যায়। সবাই শুধু মন্ত্রীকে জেলে দয়ে। কিন্তু মন্ত্রীর হাত দিয়ে কোন কেনাকাটা হয় না্ মন্ত্রীর বাইরে সব কেনাকাটা হয়। সুতরাং বেনিফিশিয়ারিরা কিন্তু পদ্ধতিটাকে পরিবর্তন করতে দেয় না।”

অধ্যাপক হক আরও বলেছেন, “হাউ টু চেঞ্জ দিজ – এখানে দুর্নীতি বলুন, হাসপাতালগুলোর ব্যবস্থাপনা বলুন, অপরিচ্ছন্ন হাসপাতালে কথা বলুন, আমাদের দুই মাস বিছানায় শুয়ে থাকতে হয় সার্জারির সিরিয়াল পাওয়ার জন্য-এসব যাই বলুন না কেন, এগুলোর সমাধান করতে হলে আমাদের স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজাতে হবে।। সেজন্য একটি কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।”

বিভিন্ন সময়ই স্বাস্থ্যখাতে সংস্কারের বিষয় আলোচনায় এসেছে।

দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে, এমন ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক সংস্কারের লিখিত সুপারিশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে দিয়েছে কয়েক মাস আগে। কিন্তু সংস্কারের প্রশ্নে কোন পদক্ষেপ নেই।

দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতে ব্যবস্থাপনা বা পদ্ধতির মধ্যেই দুর্নীতির উৎস রয়েছে। তারা গবেষণায় এমন চিত্র পেয়েছেন।

“আমরা এটা নিয়ে কিছুটা গবেষণা করেছি। সেখানে কিভাবে ক্রয় করা হয়, কিভাবে হাসপাতাল ম্যানেজ করা হয়, কিভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে খাদ্য সরবরাহ করা হয়, চিকিৎসা সেবা কিভাবে দেয়া হয়-এসব বিষয়ে আমাদের টিম দীর্ঘ সময় গবেষণা করেছে।এই গবেষণায় স্বাস্থ্যখাতের পদ্ধতির বিচার বিশ্লেষণ করে দেখতে পেয়েছি যে ঐ পদ্ধতির মধ্যেই কিছু গোলমাল রয়ে গেছে।”

মি: মাহমুদের বক্তব্য হচ্ছে, পদ্ধতির সংস্কার ছাড়া কোন দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

“সেজন্য আমরা সংস্কারের কিছু সুপারিশ করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, আপনাদের পদ্ধতির মধ্যে দুর্নীতির উৎস হচ্ছে এগুলো। এগুলো বন্ধ করার জন্য আপনারা রিফর্ম করতে পারেন।সেগুলো যদি আমরা সবাই মিলে বাস্তবায়ন করতে পারতাম, তাহলে স্বাস্থ্যখাতে অর্থের অপচয় সেভাবে হতো না।”

জেকেজি হেলথকেয়ার এবং রিজেন্ট হাসপাতাল কেলেঙ্কারিতে প্রতিষ্ঠান দু’টির মালিক মো: সাহেদ এবং ডা: সাবরিনা আরিফসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিদায় নিতে হয়েছে।

কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাই বলেছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকে এর পরীক্ষা এবং চিকিৎসার জন্য ব্যয়ের বেশিরভাগই মৌখিক নির্দেশে হয়েছে। ফলে সেখানে দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ ছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড: শাহনাজ হুদা সুশাসনের জন্য কাজ করেন। তিনি মনে করেন, স্বাস্থ্যখাতে সংকটের গভীরে যাওয়া সম্ভব, কিন্তু কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে।

“মন্ত্রণালয়ের একটা সিণ্ডিকেট আছে। শুধু যাদের মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে, মানুষকে খুশি করার জন্য তাদের শাস্তির কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আসলে এর উৎসতো অনেক গভীরে।”

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি: ‘শাস্তির নজির নেই’

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি বা অনিয়মের ব্যাপারে কখনও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে-এই খাতের সাথে সম্পৃক্তরাও এমন প্রশ্নের জবাব মিলাতে পারছেন না।

করোনাভাইরাস সর্ম্পকিত সরকারের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ মনে করেন, কখনও কঠোর শাস্তি না হওয়ায় স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতিবাজরা বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে এবং এখন তার প্রকাশ ঘটেছে।

“দুর্নীতি যারা করছে, তারা ইচ্ছামত করছে। কোন শাস্তি হয় না, পার পেয়ে যাচ্ছে। সুতরাং তারা বেপোরোয়া হয়েছে। এখন দুর্নীতি করলে কোন অসুবিধা যদি না হয়, তাহলেতো তারাতো চালাতেই থাকবে। সেটাই হয়েছে।সেটা আগেও ছিল এবং এখনও আছে। সমস্যা হয়েছে, করোনাভাইরাস আসায় এটা উন্মোচিত হয়ে গেছে। এটুকুই পার্থক্য। আর কিছু নয়।”

এখন প্রকাশ হওয়া দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুদক অনুসন্ধান করছে। এর আগে বিভিন্ন সময় হাসপাতালের পর্দা কিনতেই হাজার হাজার টাকা ব্যয় করাসহ নানা অভিযোগে ১১টি মামলা নিয়ে দুদক কাজ করছে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি বন্ধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব নেই। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধা থাকছে বলে তার ধারণা।

“রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব আছে বলে আমার মনে হয় না। আমার মনে হয়, আমরা যারা ইমপ্লিমেন্টেশনে আছি, তাদেরই সমস্যা। যেমন আপনি দেখেছেন যে মশারি-বালিশ এ সকল ক্রয়ে অনিয়ম। এগুলোতো প্রকল্পে ছিল। প্রকল্প তৈরি হয় কোথায়- অধিদপ্তরে, সেখান থেকে মন্ত্রণালয় তারপর প্ল্যানিঙসহ বিভিন্ন জায়গায় যায়। সবাই কিন্তু তা দেখছেন। তাহলে এত চোখ এড়িয়ে কিভাবে বালিশের দাম এত নির্ধারিত হয়ে যায়। এখানেই সমস্যা।”

তবে সরকারের সাথে সম্পৃক্ত বিশেষজ্ঞরাই বলেছেন, এখন স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজাতে হবে এবং এখনই সেই সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

সংস্কারের পদক্ষেপ নেবে কে?

সেখানে প্রধানমন্ত্রীকেই হস্তক্ষেপ করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন। তারা সেই অপেক্ষাতেই আছেন বলে মনে হয়েছে।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আ.ফ.ম. রুহুল হক বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতে স্বার্থান্বেষীদের সিণ্ডিকেট ভেঙে দিয়ে পুরো এই খাতকে ঢেলে সাজানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজে পদক্ষেপ নেবেন-এমন আশায় তিনি রয়েছেন।

“ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনের কথা যা বলছি,তাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী যদি বলেন, তিনি যদি কনভিন্সড হন যে আমি একটি নতুন ব্যবস্থাপনার কথা বলছি এবং আলোচনা করতে বলেন। তাহলে তা হবে।”

একইসাথে তিনি বলেছেন, “আমি খুব আশাবাদি যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন প্রতিদিনই খুব কাছ থেকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে দেখছেন। সুতরাং আশাবাদি যে পরিবর্তন আসবে। এটা আমার ধারণা।”

সরকারের একাধিক সিনিয়র মন্ত্রী মনে করেন, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্যখাত নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে রাজনৈতিক দিক থেকেও বিবেচনা করলে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় ধরণের সংস্কার কার্যক্রম নেয়া প্রয়োজন।

তবে শেষ পর্যন্ত এসব কথার কতটা বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ রয়েছে।

  • রুহুল হক, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    রুহুল হক, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

  • ড: ইফতেখারুজ্জামান, টিআইবি'র নির্বাহি পরিচালক

    ড: ইফতেখারুজ্জামান, টিআইবি'র নির্বাহি পরিচালক

  • জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

  • সরকারি হাসপাতালগুলোর বেহালদশা নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হলেও স্থায়ী পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে না বলে বিশ্লেষকরা বলেছেন।

    সরকারি হাসপাতালগুলোর বেহালদশা নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হলেও স্থায়ী পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে না বলে বিশ্লেষকরা বলেছেন।

  • দুর্নীতি বিরোধী সংগঠনগুলো বলছে, স্বাস্থ্যখাতে জরুরীভিত্তিতে কেনাকাটায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা মানা হচ্ছে না।

    দুর্নীতি বিরোধী সংগঠনগুলো বলছে, স্বাস্থ্যখাতে জরুরীভিত্তিতে কেনাকাটায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা মানা হচ্ছে না।

  • রুহুল হক, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
  • ড: ইফতেখারুজ্জামান, টিআইবি'র নির্বাহি পরিচালক
  • জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
  • সরকারি হাসপাতালগুলোর বেহালদশা নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হলেও স্থায়ী পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে না বলে বিশ্লেষকরা বলেছেন।
  • দুর্নীতি বিরোধী সংগঠনগুলো বলছে, স্বাস্থ্যখাতে জরুরীভিত্তিতে কেনাকাটায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা মানা হচ্ছে না।
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

যেভাবে জীবাণুমুক্ত করবেন প্রতিদিনের বাজার

লেখক

যেভাবে জীবাণুমুক্ত করবেন প্রতিদিনের বাজার
যেভাবে জীবাণুমুক্ত করবেন প্রতিদিনের বাজার

দৈনন্দিন কিছু বাজার প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে শাকসবজি, মাছ-মাংস অন্যতম। আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই তাতে নানা রকমের রাসায়নিক যেমন- কীটনাশক, ফরমালিন মেশানো থাকে। সেই সঙ্গে থাকে ক্ষতিকারক ধুলাবালি ও ময়লা। এগুলোর সঙ্গে রোগ বহনকারী জীবাণু মিশে থাকে। 

রাসায়নিক (ফরমালিন) বা কীটনাশক ব্যবহারের ফলে কাঁচা শাকসবজি দেখতেও অনেক তরতাজা মনে হয়, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যদিও আমরা স্বাভাবিকভাবে কাঁচা শাকসবজি ও ফলমূল পানি দিয়ে ধুয়ে খাই কিন্তু শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে খেলে খাবারের ওপর কঠিনভাবে লেগে থাকা দূষিত উপাদান পুরোপুরি সরে যায় না। এর ফলে নানা রোগের সঙ্গে করোনাভাইরাসেও আক্রান্ত হতে পারি আমরা। 

বাজারে শাকসবজি জীবাণুমুক্ত করতে পাওয়া যাচ্ছে ক্লিনআভা। এটি শাকসবজি ও ফলমূল থেকে রাসায়নিক (ফরমালিন, কীটনাশক ইত্যাদি), ক্ষতিকর পদার্থ (ধুলাবালি ও ময়লা) ও রোগ বহনকারী জীবাণু দূর করে খাবারকে বিশুদ্ধ করে। খাবার নিরাপদ করে। এটি বিসিএসআইআরের উদ্ভাবিত একটি ফর্মুলা। 

ক্লিনআভা দিয়ে আপনার খাবার ভালো করে কচলে ধুয়ে নেবেন। এটি দিয়ে ধোয়ার ফলে খাবারের সারফেস পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যায়। এটার পদ্ধতি হলো একটি পাত্রে এক লিটার পানিতে ২ মিলি ক্লিনআভা মিশিয়ে দিতে হবে। এতে ১ কেজি সমপরিমাণ শাকসবজি ও ফলমূল ২০-৩০ মিনিট ডুবিয়ে রেখেই জীবাণুমুক্ত করা যাবে। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে আবার ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পানি, ক্লিনআভা, শাকসবজি ও ফলমূল তিনটি ১:২:১ এই অনুপাত রাখতে হবে। 

ক্লিনআভা ছাড়াও শাকসবজি জীবাণুমুক্ত করা যায়। বাজার থেকে শাকসবজি আনার পর একটি বড় পাত্রে পানিতে ভিনেগার দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে সেই শাকসবজি। ভিনেগার ভেজানো পানি থেকে উঠিয়ে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে সেটা ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনায় অনলাইনে খাবার অর্ডার করা কতটা নিরাপদ?

লেখক

করোনায় অনলাইনে খাবার অর্ডার করা কতটা নিরাপদ?
করোনায় অনলাইনে খাবার অর্ডার করা কতটা নিরাপদ?

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এখনও অনেক কিছু বন্ধ রয়েছে। এ কারণে অনেকেই অনলাইনে খাবারসহ অন্যান্য জিনিসপত্র অর্ডার করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইরে থেকে আসা জিনিসপত্র থেকে করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে। তাই, খাবার অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ হবে কিনা তা নিয়ে অনেকে সংশয়ে আছেন। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও পর্যন্ত খাবার বা খাবার প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে করোনারভাইরাস সংক্রমণের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কারণ ভালোভাবে রান্না করা হলে এই ভাইরাস বেঁচে থাকে না, তাই অনলাইনে অর্ডার করা খাবার খেতে বাঁধা নেই। তবে ফুড প্যাকেজিংয়ের সংস্পর্শের কারণে সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও সম্ভাবনা আছে। তাই অনলাইন খাবার অর্ডার করলে কিছু বিষয় অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-

১. ডেলিভারির ক্ষেত্রে, ফুড ডেলিভারি দেওয়া ব্যক্তিকে খাবারটি দরজার বাইরে রাখার পরামর্শ দিন। 

২. ডেলিভারি দেওয়া ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। 

৩. খাবারের জন্য আনা ব্যাগটি বাইরেই রেখে দিন। প্যাকেটটি ভিতরে আনার আগে ব্যাগটি ডাস্টবিনে ফেলে দিন। খাবারটি একটি পরিষ্কার পাত্রে ঢালুন, প্যাকেটটি ডাস্টবিনে ফেলে দিন। 

৪. যদি খাবার গরম না থাকে তবে খাওয়ার আগে গরম করুন। হাত দিয়ে না খাওয়ার পরিবর্তে চামচ এবং কাঁটাচামচ ব্যবহার করা উচিত। ৫. ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলুন। নিরাপদ থাকতে খাওয়ার  আগে ও পরে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করুন। প্যাকেটে হাত দেওয়ার পরেও  হাত পরিষ্কার করে ফেলুন। 

৬. অনলাইনে পেমেন্ট করুন। ক্যাশ অন ডেলিভারি পদ্ধতি এড়ানোর চেষ্টা করুন। আপনি যদি নগদ অর্থ প্রদান করেন তবে একবারে পুরো টাকা দেওয়ার চেষ্টা করুন, যাতে আপনাকে বিপরীত মানুষটির কাছ থেকে কোনও চেঞ্জ নিতে না হয়। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনা সংক্রমণের মধ্যে বাইরে খাওয়া কতটা নিরাপদ?

লেখক

করোনা সংক্রমণের মধ্যে বাইরে খাওয়া কতটা নিরাপদ?
করোনা সংক্রমণের মধ্যে বাইরে খাওয়া কতটা নিরাপদ?

লকডাউন শেষে অনেক রেস্তোরাঁ, দোকানপাট খুলেছে। যদিও  করোনা সংক্রমণ থামছে না। গত তিন মাস ধরে বাড়ির খাবার খেয়ে অনেকেরই স্বাদ বদলের ইচ্ছে হচ্ছে। অন্যদিকে করোনার ভয়ও আছে। অনেকেরই তাই  প্রশ্ন, এই সময় বাইরের খাবার খাওয়া এখন কি নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার নিয়ে ভয় নেই। কিন্তু খাবার তৈরির সময় কতটা স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে সেটাই প্রশ্ন। তাদের মতে,এ পর্যন্ত খাবার থেকে করোনা সংক্রমণের কোনও প্রমাণ মেলেনি।

অন্যদিকে বাইরে খাবার খেতে গেলে রেস্তোরাঁগুলো আদৌ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে কিনা সেটা দেখা দরকার। যেমন-

১. ক্রেতাদের হাতের সঙ্গে জুতাও স্যানিটাইজ়ড করা প্রয়োজন।

২. সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে বসার ব্যবস্থাপনার প্রতি নজর দিতে হবে। ছয়জনের টেবিলে চার জন, চার জনের জায়গায় তিন জনের বসার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৩. ফেলে দেওয়া যায় এমন পাত্রে খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৪. খাবার সরবরাহকারীদের মাস্ক, ফেস শিল্ড, গ্লাভস ব্যবহার করছে কিনা সেটা নিশ্চিত হোন।

৫. বিল মেটানোর জন্য কার্ড ব্যবহার করুন। ব্যবহৃত মেশিনটা বারবার স্যানিটাইজার দিয়ে রেস্তোরঁ কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার করছে কিনা সেটা জেনে নিন।

৬. সর্বোপরি, খাবার তৈরির সময় রেস্তোরাঁটি কতটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে সেটা জানা বেশি জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা সংক্রমণের এই সময় রাস্তার খাবার কোনও ভাবেই খাওয়া ঠিক নয়।  রাস্তায় দাঁড়িয়ে চা খাওয়ার অভ্যাসও এখন ছাড়তে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মনে সন্দেহ বা  ভয় থাকলে এই সময় রেস্তোরাঁয় না যাওয়াই ভালো। অনেকেই অবশ্য এ সময় অনলাইনের মাধ্যমে বাইরে থেকে খাবার আনিয়ে খাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিষ্টি ছাড়া বাইরে থেকে খাবার আনার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই খেয়ে ফেলা উচিত। খাবারটি গরম থাকতেই খেয়ে ফেলতে হবে। এই খাবার বেশি দিন ফ্রিজে রাখা ঠিক নয়।।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনা এড়াতে ফ্রোজেন খাবার কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন যেভাবে

লেখক

করোনা এড়াতে ফ্রোজেন খাবার কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন যেভাবে
করোনা এড়াতে ফ্রোজেন খাবার কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন যেভাবে

করোনা সংক্রমণের এই সময় অনেকেই মহল্লার বাজারের ভিড় এড়াতে সুপারশপ বা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে খাবার কিনছেন। রান্নার সহজ উপায় হিসেবে নিয়মিত সেখান থেকে রেফ্রিজারেটরে থাকা রেডিমেট খাবারও  কিনছেন কেউ কেউ। 

অনেকেই ভাবছেন, বাড়িতে গিয়ে একটু তেলের মধ্যে ছেড়ে দিলেই রান্নার ঝামেলা শেষ। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের খাবারের প্যাকেট ধরার আগে সতর্ক থাকা উচিত। কারণ এসব প্যাকেট থেকেও শরীরে ঢুকে পড়তে পারে করোনা ভাইরাস। গবেষণায় দেখা গেছে, মাইনাস বিশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে বেঁচে থাকতে পারে সার্স এর মতো করোনাভাইরাস।

শুধু ফ্রোজেন ফুড প্যাকেটই নয়, সুপারশপের প্যাকেজজাত মাছ, মাংস সবই রেফ্রিজারেটরের মধ্যে থাকে। আবার স্থানীয় বাজারে গিয়েও অনেকে বরফে ঢাকা সামুদ্রিক মাছ নেড়েচেড়ে দেখেন। যেহেতু বাজারে আনার আগে মাছ স্যানিটাইজ করা সম্ভব নয় এ কারণে বরফে ঢাকা মাছে হাত না দিয়ে চোখে দেখেই পছন্দ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, হিমায়িত মাছ কিনলে বাড়িতে এনে হালকা গরম পানিতে প্রথমে পরিষ্কার করা উচিত। তাহলে ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা কমবে।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, নাগেটস বা এই ধরনের কিছু প্রক্রিয়াজাত খাবার ঠান্ডায় না রাখলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ কারণে এসব খাবার সুপারশপে কিংবা বাড়িতে রেফ্রিজারেটরেই রাখতে হয়। এসব খাবারের প্যাকেট ধরার আগে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, সুপারশপে যে কোনও জিনিস গ্লাভস পরে ছোঁয়াই ভালো। কোনও জিনিস হাত দিয়ে ধরার পর সেই হাত মুখে যেন না দেওয়া হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলছেন তারা। কেনাকাটার সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি হাতে একটা স্যানিজাইটারও রাখতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

চীনে দ্বিতীয়বার ভাইরাসের সংক্রমণের ক্ষেত্রে ফ্রোজেন ফুডকেই দায়ী করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বরফে ঢাকা কাঁচা মাছ-মাংসের বাজারের থেকেই আবার সংক্রমণ শুরু হয়েছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আমদানি করা মাছ বা প্যাকেজিং থেকে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে এখনই এমনটা বলা যাবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনা সংক্রমণের সময় উদ্বেগ কমাবে যেসব খাবার

লেখক

করোনা সংক্রমণের সময় উদ্বেগ কমাবে যেসব খাবার
করোনা সংক্রমণের সময় উদ্বেগ কমাবে যেসব খাবার

করোনা সংক্রমণ যত দীর্ঘ স্থায়ী হচ্ছে মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে। করোনায় আক্রান্ত হবে কি না, হলে কী হবে? চাকরি থাকবে কিনা, ব্যবসা চলবে কি না, প্রিয় জন সুরক্ষিত কি না, সেই চিন্তায় অনেকেরই রাতের ঘুম কমে যাচ্ছে।  চিন্তা করে সমাধান মিলবে না জানার পরও উদ্বেগ কমছে না৷ এ সময় মনসিক চাপ কমাতে যোগাভ্যাস, মেডিটেশন করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তাতেও কমছে না উদ্বেগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্বেগে এমন একটি অনুভূতি এতে মানুষ দিনে দিনে নেতিবাচক হয়ে পড়েন। কেউ কেউ বিশ্বাস করতে শুরু করেন, তার যা হবে, সবই খারাপই হবে৷ ফলে দিন দিন অস্থিরতা বাড়ে। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে অমনোযোগ, দুঃখ, আতঙ্ক, অনিদ্রা।

তখন মস্তিষ্ক আর স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না। এ সময় কিছু শারীরিক উপসর্গও দেখা হয়৷ যেমন, গা-বমি ভাব, মাথা ব্যথা, হাত-পা কাঁপা, বুক ধড়ফড় করা, বুকে যন্ত্রণা ইত্যাদি। এ ধরনের সমস্যা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যাবার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, মহামারির এ সময় মানসিক অস্থিরতা কমাতে প্রাথমিক অবস্থাতেই সতর্ক হতে হবে। এ সময় মানসিক চাপ কমাতে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কথা বলা কিংবা মেডিটেশনের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও মানসিক চাপ কমাতে কিছু খাবারের কথাও বলেছেন তারা৷ যেমন-

১. ভিটামিন ই-র অভাব হলে উদ্বেগ ও মন খারাপ বাড়তে পারে৷ এই ভিটামিনের চাহিদা মেটাতে নিয়মিত বাদাম খেতে পারেন৷ এক্ষেত্রে ব্রাজিল নাট ও অ্যামন্ড বেশ উপকারী। ব্রাজিল নাটে  সেলেনিয়াম খনিজ উদ্বেগে শরীরে যে প্রদাহ বাড়ে তা কমাতে পারে৷ তবে দিনে ৩-৪ টার বেশি এই বাদাম খাওয়া ঠিক নয়।

২. গবেষণায় দেখা গেছে যারা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড কম খান, তাদের মুড ডিজঅর্ডার বেশি হয়৷ এ কারণে সপ্তাহে অন্তত দু-বার তৈলাক্ত মাছ খেতে পারেন। সয়াবিন, আখরোট, তিসির বীজ, কড লিভার অয়েলও মানসিক চাপ কমাতে ভূমিকা রাখে।

৩. জার্নাল অফ আফেকটিভ ডিজঅর্ডারে প্রকাশিত প্রবন্ধে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন ভিটামিন ডি-র অভাব হলে অবসাদের আশঙ্কা বাড়ে৷ এ কারণে দিনে ২০-৩০ মিনিট গায়ে রোদ লাগানো জরুরি৷ এর পাশাপাশি তৈলাক্ত মাছ, ডিমের কুসুম, মাশরুম, কড লিভার অয়েল খেতে পারেন৷ চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ডি’য়ের সাপ্লিমেন্টও গ্রহণ করতে পারেন।

৪. কুমড়ার বীজে পটাশিয়াম ও জিঙ্ক থাকে যা মুড ডিজঅর্ডারের মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়াও কলায় থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে৷  এছাড়া দিনে ৪০ গ্রাম ডার্ক চকলেট খেলে ফ্ল্যাভেনয়েড, ট্রিপ্টোফান, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদির প্রভাবে মন ভাল থাকে৷

৫. হলুদে থাকা কারকিউমিন প্রদাহের প্রবণতা কমায়৷ এতে মনও শান্ত হয়৷ সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। 

৬. ক্যামোমিল চা খেতে পারেন। এটি মন হালকা করতে ভূমিকা রাখে৷ এতে থাকা জীবাণুনাশক প্রদাহ কমানোর ক্ষমতা বাড়ায়৷

৭. টক দইয়ে  উপকারী উপাদান যেমন- ল্যাক্টোব্যাসিলাস ও বাইফিডোব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। এটি পেট ভালো রাখার পশাপাশি মস্তিষ্কও সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com