আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

শাপলার হ্রদে ‘পাখির বাড়ি’

শাপলার হ্রদে ‘পাখির বাড়ি’
শাপলার হ্রদে ‘পাখির বাড়ি’: শাপলা আর পাখির নিরাপদ আশ্রয়

২২ একর জমিজুড়ে আঁকাবাঁকা হ্রদ। পাশঘিরে ছোট ছোট চা-গাছের টিলা। হ্রদভর্তি শাপলা। আর সেখানে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাস। জায়গাটি ‘পাখির বাড়ি’ নামেই স্থানীয় মানুষের কাছে পরিচিত। এটি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল চা-বাগানে। উপজেলা সদর থেকে ওই স্থানের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার।

 সেদিন সকাল সাতটার দিকে বাগানে ঢোকার পর পথে দেখি চার-পাঁচজন নারী চা-শ্রমিক কনকনে শীতে কাজে যাচ্ছেন হেঁটে।

হ্রদটিতে পৌঁছাব কীভাবে, তা জানতে চাইলে তাঁদের একজন হেসে বললেন, ‘পাখির বাড়ি যাইবেন?’ 

তাঁরা রাস্তা দেখিয়ে দিলেন।

হ্রদে পৌঁছানোর আগেই দূর থেকে শোনা যায় পাখির কিচিরমিচির। বাগানের কারখানার পেছনে হ্রদে ফুটেছে শাপলা। টলটলে পানিতে খাবার খুঁজে বেড়াচ্ছে বালি হাঁস, চখাচখি, ভুঁতি হাঁস, লেঞ্জা হাঁস, পানকৌড়িসহ নানা প্রজাতির পাখি। মানুষের সাড়া পেলে তারা ঝাঁক বেঁধে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে উড়ে যায়। হ্রদের এক পাড়ে টিলার ওপর একটি বাংলো। শাপলা আর পাখি দেখতে টিলার ঢালে বাঁশ দিয়ে সিঁড়ি ও বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর পাশে টিনের ছাউনির একটি পাকা ঘর ও বাঁশের তৈরি বেঞ্চ।

জানা গেল, হ্রদে বাগান কর্তৃপক্ষÿ ১৫-২০ বছর ধরে মাছ চাষ করছে। সেখানে শাপলা ও কিছু পাখি সারা বছরই থাকে। তবে শীতের সময় বেশি দেখা যায়। এখানে পাখি শিকার ও ফুল ছেঁড়া নিষিদ্ধ। বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন এখানে বেড়াতে আসে। তবে বাগান কর্তৃপক্ষেরÿ অনুমতি ছাড়া সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয় না। সকাল ও শেষ বিকেলে হ্রদে পাখি বেশি থাকে।

বাগানের ব্যবস্থাপক সুজিত কুমার সাহা বলেন, বাগানটি ১৮৩৮ সালে স্থাপিত। ২০১৪ সাল থেকে এটি দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ পরিচালনা করছে। তারা বাগান পরিচালনা শুরুর পর শাপলা ও পাখির আবাসস্থল রক্ষায় হ্রদে মাছ ধরা বন্ধ করে দেয়। এরপর পাখির সমাগম বাড়তে থাকে। পাখি সেখানে ডিম ফোটায়। বাচ্চা জন্ম দেয়। স্থানটি পাখির অভয়াশ্রম।

হ্রদটি পাহারার জন্য কয়েকজন শ্রমিককে নিয়োজিত করা হয়েছে।

পরিবেশ

‘আড়াই হাজার বছর’ আগের ১৩ অক্ষত কফিন মিলল মিশরে

লেখক

‘আড়াই হাজার বছর’ আগের ১৩ অক্ষত কফিন মিলল মিশরে
‘আড়াই হাজার বছর’ আগের ১৩ অক্ষত কফিন মিলল মিশরে

মিশরে এক সমাধিক্ষেত্র থেকে ১৩টি অক্ষত কফিন উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির পুরাতত্ত্ববিদরা কয়েক হাজার বছরের পুরনো ওই ১৩ অক্ষত কফিনের সন্ধান পান।  সাহারা মরুভূমির গভীরে সাক্কারা নামের একটি সমাধিক্ষেত্র থেকে এই কফিনগুলো উদ্ধার করা হয়।

মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে ৩০ কি.মি. দূরে এই সমাধিক্ষেত্রটির অবস্থান। এই অক্ষত কফিনগুলো নিয়ে এখন চলছে বিস্তর গবেষণা। 

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, গবেষকদের ধারণা- কফিনগুলো প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে সিল করে দেওয়া হয়েছিল। এতদিন পরেও সেগুলি যথেষ্ট ভালো অবস্থায় রয়েছে। এমনকি কাঠের ফ্রেমগুলোর গায়ে রংও ভাল অবস্থাতেই রয়েছে। এছাড়াও ওই সামধিক্ষেত্র থেকে কয়েক হাজার সারকোফ্যাগাস পাওয়া গেছে। বোতলাকৃতি, মানুষের মতো নক্সাযুক্ত এই সিল করা পাত্রগুলি আগে অন্তেষ্টিক্রিয়ার সময় ব্যবহার হতো।

মিশরের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায়, এগুলো একটির উপর আর একটি সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। ভূমি থেকে প্রায় ১১ মিটার নিচে কফিনগুলো পাওয়া গেছে। এ প্রসঙ্গে দেশটির পর্যটনমন্ত্রী খালেদ আল-আনানি বলেন, ‘এটা একটা অন্য রকম অনুভূতি, যখন নতুন পুরাতাত্ত্বিক কিছু খুঁজে পাওয়া যায়।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ঘূর্ণিঝড় স্যালির তাণ্ডব, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ৫ লাখের বেশি মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় স্যালি। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ক্যাটাগরি দুই মাত্রার শক্তি নিয়ে স্থানীয় সময় বুধবার সকালে উপসাগরীয় উপকূলে আছড়ে পড়ে গ্রীষ্মমন্ডলীয় এই ঝড়। ফ্লোরিডার পেনসাকোলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এই ঝড়ের তাণ্ডবে অনেক স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রায় ৫ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

বুধবার আঘাত হানার পর এই ঝড়ের শক্তি কিছুটা কমেছে। ঝড়ের কারণে ভারী বৃষ্টিপাতে বেশ কিছু স্থানে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে।

পেনসাকোলার দমকল বাহিনীর প্রধান গিনি ক্রেনর সিএনএন-কে বলেন, চার মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয় এই ঝড়ে চার ঘণ্টাতেই সেই পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে।

স্যালি আঘাত হানার সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০৫ মাইল বা ১৬৯ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর-মধ্যাঞ্চলের উপসাগরীয় উপকূলে বন্যা হতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি)।

এছাড়া অন্তত দুই ফুট (৬০ সেমি) বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। উপসাগরীয় উপকূলে আছড়ে পড়ার পর ঘূর্ণিঝড় স্যালি ঘণ্টায় তিন মাইল বেগে আলাবামা-ফ্লোরিডা সীমান্তের দিকে অগ্রসর হয়েছে।

এর প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টিপাত মিসিসিপি থেকে ফ্লোরিডা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে এনএইচসি। ঘূর্ণিঝড় থেকে নিরাপদ থাকতে আগেই উপকূলবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। ওই অঞ্চলের বন্দর, স্কুল, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ত্রিপুরায় প্রথমবার হবে বন্য হাতির সংখ্যা জরিপ

ত্রিপুরায় প্রথমবার হবে বন্য হাতির সংখ্যা জরিপ
ত্রিপুরায় প্রথমবার হবে বন্য হাতির সংখ্যা জরিপ

আগরতলা (ত্রিপুরা): ত্রিপুরা রাজ্যের বন্য হাতির সংখ্যার জরিপ এবং তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া আবাস পুনরায় তৈরির লক্ষ্যে বন দফতর বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। এজন্য অন্য রাজ্য থেকে নিয়ে আসা হবে হাতি বিশেষজ্ঞ দল।

বাংলানিউজকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা জানালেন ত্রিপুরা সরকারের বন ও জনজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া।

প্রায় ৬৫ শতাংশের বেশি বনভূমিত ও পাহাড়ি এলাকায় ঘেরা উত্তরপূর্ব ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের জঙ্গলে অন্যান্য বন্যপ্রাণীর সঙ্গে রয়েছে বন্য হাতিও। রাজ্যের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে অনেকেই এখন পাহাড়ি এলাকায় ঘর-বাড়ি তৈরি করে বসবাস ও চাষবাস করছেন। এর ফলে বন্য হাতির প্রাকৃতিক বিচরণ ভূমি নষ্ট হয়েছে। তাই খাদ্যের খোঁজ করে প্রায়শই বন্য হাতি জনপদে চলে আসে এবং আক্রমণ চালায় বাড়ি-ঘরসহ ফসলের ক্ষেতে। ফলে হাতি ও মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

এমন ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে রাজ্যের খোয়াই জেলার অন্তর্গত কল্যাণপুর ঘিলাতলী, চেবরী, মহারানীসহ আশেপাশের বিভিন্ন জনপদে। মূলত ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই জেলার আঠারোমুড়া পাহাড় এবং তার আশেপাশের বনভূমিতে বন্য হাতিদের প্রাকৃতিক বিচরণ ক্ষেত্র রয়েছে। কিন্তু এই সকল এলাকায় এখন জনবসতি গড়ে ওঠায় হাতিদের বিচরণসহ খাবারের সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই বন্য হাতির দল লোকালয়ে নেমে আসে। দীর্ঘকাল ধরে এই সমস্যা চলছে।

বন্য হাতি ও মানুষের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব চলছে তা দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছে ত্রিপুরা সরকারের বন দফতর। কী করে হাতিদের প্রাকৃতিক আবাসকে আবার নতুন করে গড়ে তোলা যায় এবং রাজ্যে বর্তমানে কতগুলো বন্য হাতি রয়েছে তা গণনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই প্রেক্ষিতে বন দফতর পশ্চিমবঙ্গ এবং রাজস্থান থেকে হাতি বিশেষজ্ঞ আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতোমধ্যে এই দুই রাজ্যের অভিজ্ঞ বেশ কয়েকজন হাতি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে সরকার কথা বলেছে বলেও জানান মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বন্য হাতির গণনাসহ কী করে আবার হাতিদের প্রাকৃতিক আবাস ফিরিয়ে দেওয়া যায় সেই বিষয়ে কাজ শুরু হয়ে যেত। কিন্তু করোনা অতিমারির কারণে এই প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে গেছে। তবে আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে বহিঃরাজ্যের বিশেষজ্ঞের একটি দল রাজ্যে এসে হাতি গণনা এবং আবাস সংক্রান্ত জরিপ শুরু করবে। এবারে প্রথম ত্রিপুরা রাজ্যের হাতি জরিপের কাজ করা হবে।

ত্রিপুরা রাজ্যের আঠারোমুড়া পাহাড়ের এলিফ্যান্ট করিডর তথা বন্য হাতির অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে চলে গেছে ৮ নম্বর জাতীয় সড়ক, যা আসাম হয়ে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সড়কপথে ত্রিপুরাকে সংযুক্ত করেছে। এলিফ্যান্ট করিডোরের উপর দিয়ে চলে যাওয়া সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের নিরাপত্তায় বন দফতর থেকে ইতোমধ্যে করিডোরের বিভিন্ন জায়গায় গাড়ির গতিসীমা নিয়ন্ত্রণসহ সতর্কতা সম্বলিত সাইনবোর্ড টাঙিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বাঘের সংখ্যা বাড়াতে যে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন

রয়েল বেঙ্গল টাইগার
রয়েল বেঙ্গল টাইগার

ঢাকা: বর্তমানে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে প্রায় ১১৪টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার আছে। আবাসস্থল উজাড় ও অবৈধ চোরা শিকারের ফলে বাংলাদেশের জাতীয় পশু ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা এই বাঘ এখন ‘বিপদাপন্ন’ অবস্থায়।বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে বাঘের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৮৯০টি। বাঘের সংখ্যা বাড়াতে না পারলে আগামী কয়েক দশকে পৃথিবী থেকে বাঘ বিলুপ্ত হবার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার (২৯ জুলাই) দেশে ‘বাঘ বাড়াতে করি পণ, রক্ষা করি সুন্দরবন’ প্রতিপাদ্য ধারণ করে বিশ্ব বাঘ দিবস-২০২০ পালিত হয়েছে। বিশ্ব বাঘ সম্মেলনে ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বন বিভাগের সহযোগিতায় ২০১৯ সালে সুন্দরবনে বাঘের ধারণ ক্ষমতা নিয়ে একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। সুন্দরবনে সর্বশেষ চালানো জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে ১১৪টি বাঘ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন এবং ঘনত্ব অনুযায়ী অন্তত ২০০টি বাঘ থাকার কথা।  

পরিবেশবিদ, জীববিজ্ঞানী এবং বাঘ গবেষকদের মতে, আবাসস্থল ধ্বংস, চোরা শিকার, চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।  

সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়াতে কী উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল আজিজ বাংলানিউজকে বলেন, সুন্দরবন এবং বাঘ একে অপরের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। বাঘ বাড়ানোর জন্য যেমন সুন্দরবন সংরক্ষণ প্রয়োজন, ঠিক একইভাবে সুন্দরবন রক্ষা করতেও বাঘের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। বাঘ বাগানের মালীর ন্যায় ভূমিকা পালন করে। মালী যেমন বাগানের ডালপালা ছেটে, অপ্রয়োজনীয় গাছ কেটে ফেলে এবং বাগানকে রক্ষা করে, বাঘও ঠিক তেমন করে সুন্দরবনকে রক্ষা করে। বাঘের আবাসস্থল হচ্ছে সুন্দরবন, বাঘের সংখ্যা বাড়াতে হলে সুন্দরবনকে সংরক্ষণ করাটাও অনেক জরুরি।

এ গবেষক আরও বলেন, সুন্দরবনের মাঝখান দিয়ে পশুর, শিবশাসহ আরও অনেক বড় বড় নদী প্রবাহিত হয়েছে। এই নদীগুলোর কারণে বন অনেকটা ভাগ হয়ে গেছে। যেটাকে বলে বন বিভাজন (ফরেস্ট ফ্রাগমেন্টেশন)। অপরদিকে এসব নদী দিয়েই বড় বড় বাণিজ্যিক নৌজাহাজ চলাচল করে। নদীগুলোতে রাতে জাহাজ অবস্থান করার সময় বাতি জালিয়ে রাখা, শব্দদূষণ এবং নানা রকম কার্যক্রম করতে দেখা যায়, ফলে বাঘের চলাচল অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আলো বাঘের চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি করে। বাঘের পপুলেশন যত কম হয়, জেনেটিক্যাল ডাইভারসিটি তত কম হয়।  

‘জেনেটিক্যাল ডাইভারসিটি কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে বাঘের টিকে থাকার সক্ষমতা কমে যায়, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। সুতরাং জেনেটিক্যাল ডাইভারসিটি বাড়ানো উচিত। আমার পরামর্শ হচ্ছে, সাতক্ষীরার একটি বাঘ যদি লোকালয়ে চলে আসে, আমরা যদি সেটাকে উদ্ধার করতে পারি, তাহলে সেটাকে খুলনার সুন্দরবন অংশে ছেড়ে দিতে পারি, তাহলে বাঘের জেনেটিক্যাল ডাইভারসিটি বাড়বে। এছাড়াও রাতের বেলা যে জাহাজগুলো চলাচল করবে, সেগুলোকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে শব্দ এবং আলো নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা। যেন রাতের বেলা বাঘ নদীগুলো দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। ’ 

বাঘ বাড়ানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এ অধ্যাপক বলেন, বিশ্ব বাঘ সম্মেলনে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার যে অঙ্গীকার, সেটা করতে হলে আমাদের প্রথম কাজ হবে বাঘের চোরা শিকার বন্ধ করা। গবেষণায় দেখা যায়, চোরা শিকার বন্ধ করতে পারলে বাঘের সংখ্যা আপন গতিতেই বাড়বে। একই সাথে বাঘের আবাসস্থল সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি সুন্দরবনের দূষণ এবং জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বাঘের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিপন্ন তালিকায় চলে যাচ্ছে ‘সবুজ-ধুমকল’

সবুজ-ধুমকল জোড়া বেঁধে চলে
সবুজ-ধুমকল জোড়া বেঁধে চলে

মৌলভীবাজার: একজোড়া পাখি বুনো ফলের ডালে। খাবার খেতে খেতে তারা পরস্পর থেকে দূরে চলে যাচ্ছে।পুনরায় ফিরে আসছে কাছে-ফলের গ্রহণের টানে। ফল খাওয়ার এমন প্রাকৃতিক দৃশ্যে জুড়িয়ে যায় হৃদয়।    

পাহাড়ি বনের অদেখা পাখি ‘সবুজ-ধুমকল’ (Green Imperial Pigeon)। পাহাড়ি বনকে প্রসারিত হতে না দেওয়া এবং বনের খাদ্যসংকটের ফলে অনেক প্রাণীর মতো এ পাখিটির অস্তিত্ব বিপন্ন হতে চলেছে।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের দেশে মাত্র ২ প্রজাতির ‘Imperial Pigeon’ অর্থাৎ ‘ধুমকল পায়রা’ রয়েছে। পৃথিবীতে রয়েছে ৪২ প্রজাতির। কিন্তু আমাদের থেকে পশ্চিমের দেশগুলোতে ওরা নেই। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং দক্ষিণ, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামের সবুজ পাহাড়ি বনগুলোতে ওরা আছে।

বিপন্ন তালিকায় চলে যাচ্ছে ‘সবুজ-ধুমকল’
বিপন্ন তালিকায় চলে যাচ্ছে ‘সবুজ-ধুমকল’

পাখিটির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১৯ সালে আমরা হাকালুকি হাওরে পাখিশুমারির কাজ সেরে লাউয়াছড়ার ভেতর দিয়ে শ্রীমঙ্গল ফিরছি; হঠাৎ গাড়ি জানালা দিয়ে দেখি এক জোড়া Green Imperial Pigeon। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থামিয়ে আমরা তাদের ছবি তুললাম। চা-বাগানের ফাঁকা গাছে ওরা খুবই কম আসে। কিন্ত ওখানে ওরা নিমের ফল খেতে এসেছিল। এদের আকৃতি ৪৩-৪৭ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে।  

‘শরীর সবুজ বলে সহজে লোকের চোখে পাড়ে না, ডানাটা একটু বেশি ঘনসবুজ। ও ঘুঘুর মতো ডাকে; কিন্তু অনেক গম্ভীর গলা। বনে ঢুলকেই ডাক শুনে বুঝতে পারি ইমপেরিয়াল পিজন আছে আশ-পাশে। এরা হলো ফল খাওয়া পাখি। শুধুমাত্র বুনো ফলই খায়। ওরা ঝাঁক বেঁধে আসে না। আমি একজোড়া গ্রিন ইমপেরিয়াল পিজন দেখতে পেলেই মহাখুশি। ’

ইনাম বলেন, ‘সবুজ-ধুমকল’ বিরল পাখি; তবুও টিকে আছে। ওর বড় ভাগ্য, লোকে ওকে খুঁজে পায় না। হরিয়াল (Green Pigeon) যেমন বটগাছে আসে বলে লোকজন তাকে সহজে মেরে ফেলতে পারে। কিন্তু ধুমকলকে মারা ততটা সহজ নয়। একমাত্র চট্টগ্রামে ক’বছর আগে আমি নৃ-গোষ্ঠী মুরংদের এই পাখিটিকে বন্দুক দিয়ে মারতে দেখেছিলাম। কিন্তু সিলেটে লোকের হাতে খুব কমই মারা পড়ে। কারণ লোকে ওকে দেখতে পায় না।

‘ও শুকনো কাঠি দিয়ে গাছের উঁচুতে বাসা করে। ঈগলের নাগাল ছাড়া সে বড় পাখি বলে কিছুটা নিরাপদ। প্রাকৃতিকভাবে মারা পড়ে না। তবে ছানা হলে খাটাশ, বনবিড়াল হয়তো ওদের খেয়ে ফেলে। কিন্তু এটি প্রাকৃতিক ব্যাপার বলে এতে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হবে না। মানুষ মারলেই প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই মানুষ কর্তৃক পাখি ও প্রাণী শিকারের বিরুদ্ধে আমাদের ব্যাপকভাবে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। ’

পাখির প্রজনন এবং বন সম্পর্কে এ গবেষক বলেন, ‘এরা ঘুঘু পাখির মতো বছরে দুটো ডিম পাড়ে। অসুবিধা হলো- একটি ডিম ফুটলো না; বা বড় হওয়ার আগেও কোনো শিকারী পাখি/প্রাণী খেয়ে ফেললো। ফলে অনেক সময় ৫/১০ বছরেরও সে বয়স্ক বাচ্চা রেখে যেতে না পারলে ওদের বংশবিস্তার প্রাকৃতিকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়াও এ পাখিটি যে ফল খায়; সেই ফলগাছগুলোও কমে গেছে। বন ছোট হয়ে গেছে। এরাই ফল খেয়ে বীজ ছড়িয়ে বন প্রসারিত করে। কিন্তু আমরা তো এখন বন প্রসারিত হতে দিই না। বনকে তো আমরা আটকে রেখেছি একটা ছোট্ট জায়গার মধ্যে। ’

বিপন্ন তালিকায় চলে যাচ্ছে ‘সবুজ-ধুমকল’

রাজকীয় অপূর্ব সুন্দর এক পাখি গ্রিন ইমপেরিয়াল পিজন; আমাদের জালালি পায়রা থেকেও সে আকারে বড়। এই পাখিটি আমাদের বনে টিকে থাকুক-এটাই আমরা চাই। এই ৪২ প্রজাতির প্রত্যেকটি পাখিই কিন্তু অপূর্ব। তবে ওদের অনেকগুলোই কিন্তু পৃথিবীতে বিপন্ন। ভাগ্যক্রমে আমাদের সবুজ ধুমকলটা রয়েছে; এখনো আমরা ‘বিপন্ন’ ঘোষণা করিনি। তবে মনে হয়-খুব শিগগির এ প্রজাতিটিও বিপন্ন তালিকায় যাবে বলে জানান প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com