আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট

সরকারের কাছে শাইখ সিরাজের কৃষি বাজেট বিষয়ক সুপারিশমালা

শাইখ সিরাজ

ঢাকা: আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে কৃষি ও কৃষকের জন্য করণীয় বিষয়ে সরকারের কাছে বেশ কিছু সুপারিশ জানিয়েছেন উন্নয়ন সাংবাদিক শাইখ সিরাজ। পনের বছর ধরে বাজেট পাসের আগে আগে তিনি সরকারের কাছে ‘কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট’ শীর্ষক এ ধরনের সুপারিশমালা প্রদান করে আসছেন।

এবারের সুপারিশমালায় শাইখ সিরাজ চলমান করোনা পরিস্থিতিতে কৃষিক্ষেত্রে করণীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে কৃষিপণ্যের রফতানি বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোর জন্য জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ, কর্মহীন বেকারদের কৃষিতে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য জরুরি সহায়তা প্রকল্প, শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের উদ্যোগ গ্রহণ উপযোগী কৃষি সহায়তা প্রকল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সহায়তা প্রকল্প চালু ইত্যাদি। এক্ষেত্রে তিনি মাশরুম চাষ সম্প্রসারণে প্রশিক্ষণ ও কারিগরী সহায়তা দান, আধুনিক গ্রিন হাউস ও পলিনেট হাউসে কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পে সহায়তা দান ও ছোট পরিসরে বায়োফ্লক, রাস ও রেসওয়ে পদ্ধতির মাছ চাষ প্রকল্পে সহায়তা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। 

এছাড়া এবারের সুপারিশমালায় মৎস্য চাষ, পোল্ট্রি ও দুগ্ধ শিল্পে করোনা পরিস্থিতিতে ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে এসব খাতে সরকারি বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। এসব খাত নিয়ে তুলে ধরেন কিছু দিকনির্দেশনা। 

২০০৫ সাল থেকে শাইখ সিরাজ তার কৃষি কার্যক্রম ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি বছর এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি মাঠ পর্যায়ে কৃষকের সংলাপ ‘কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট’ আয়োজন করে থাকেন। এতে সররকারের মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, অর্থনীতিবিদ, জেলা প্রশাসনের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন। তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ও মাঠ পর্যায়ের কৃষক-খামারির দাবি, চাহিদা ও প্রত্যাশার আলোকে সুপারিশমালা প্রস্তুত করে অর্থমন্ত্রীর মাধ্যমে সরকারের কাছে প্রদান করে থাকেন।

অন্যান্য

কৃষককে ন্যায্য দাম দিলে দেশেই উৎপাদন বাড়বে


নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের বাজার আবার অস্থির। দু-তিন বছর পরপরই এ ধরনের একটি সমস্যা তৈরি হয়। কেন এ সমস্যা, সমাধানই-বা কী, তা নিয়ে কথা বলেছেন পুরান ঢাকার মসলাজাতীয় পণ্যের ব্যবসাকেন্দ্র শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী রতন সাহা


পেঁয়াজের দাম লাফিয়ে বাড়ল। আবার দ্রুত কমল। এত ওঠানামার কারণ কী?

রতন সাহা: পেঁয়াজ আমদানির জন্য আমরা প্রায় পুরোটাই ভারতনির্ভর। বিকল্প হিসেবে অনেক দেশেই প্রচুর পেঁয়াজ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু দেশের মানুষ ওই সব পেঁয়াজ খেতে অভ্যস্ত নয়। ফলে ভারত যখন রপ্তানি বন্ধ করে দিল, তখন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা মনে করেছিলেন, দেশে দাম অনেক বাড়বে। এ কারণে কেনার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। এতে দাম বেড়ে যায়। কিন্তু এক দিন পরই দেখা গেল, দাম যতটা বেড়েছে, ততটা হওয়ার কথা নয়।

পেঁয়াজের উৎপাদন এবার কেমন হয়েছে?

রতন সাহা: আসলে পেঁয়াজ উৎপাদনের বাস্তবসম্মত কোনো হিসাব নেই। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত। তারপরও দেখা যায় ঘাটতি। এটা ব্যবসার জন্য খুবই সমস্যা তৈরি করে। দেশে পেঁয়াজ কতটুকু হয়েছে, কতটুকু আমদানি হয়েছে, এসবের তথ্য সরকার যদি গণমাধ্যমে সময়-সময় তুলে ধরে, তাহলে ব্যবসায়ীরা আমদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এখন ব্যবসায়ীরা মূলত অন্ধকারে ব্যবসা করে। ধরেন, নতুন একজন ব্যবসায়ী পেঁয়াজ আমদানি শুরু করতে চান। তিনি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেবেন কিসের ভিত্তিতে?

আমরা দেখছি, পেঁয়াজ উৎপাদন কয়েক বছর ধরে একই জায়গায় আছে। খুব বেশি বাড়ছে না কেন, আপনার কী মনে হয়?

রতন সাহা: দেখা যায়, এ দেশে মৌসুম যখন শুরু হয়, তখন ভারতীয় পেঁয়াজ অবাধে আমদানি হয়। এতে কৃষক দাম পান না। এ বছরও মৌসুমের শুরুতেই পেঁয়াজের দাম খুব কম ছিল। কৃষককে যদি ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা দেওয়া যেত, তাহলে দেশেই প্রচুর উৎপাদিত হতো। হয়তো সামান্য কিছু আমদানি করতে হতো। তবে এতটা ঘাটতি থাকত না।

ন্যায্যমূল্যের জন্য করণীয় কী?

রতন সাহা: মৌসুমের সময় আমদানি বন্ধ করে দিতে হবে অথবা শুল্ক আরোপ করতে হবে। যখন কৃষক ৫ টাকা, ৮ টাকা, ১০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করেন, তখন তো কেউ খোঁজও নেয় না। দাম না পেয়ে কৃষক নিরাশ হন, পরের বছর আর উৎপাদন করতে চান না। তাঁদের অন্তত উৎপাদন খরচটুকু ওঠানোর নিশ্চয়তা দেওয়া উচিত।

আগে তো শ্যামবাজারের অনেক ব্যবসায়ী পেঁয়াজ আমদানি করতেন। তাঁদের অবস্থা কী?

রতন সাহা: অনেকেই ব্যাপক লোকসান দিয়ে আমদানি ছেড়ে দিয়েছেন। এখন আমদানি করে মূলত স্থলবন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজ আমদানি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। ধরেন, ভারত এক মাস পর পেঁয়াজ রপ্তানি উন্মুক্ত করে দিল। এতে যাঁরা মিসর ও তুরস্ক থেকে আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন, তাঁরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়বেন। কারণ, ভারতীয় ও দেশি পেঁয়াজ থাকলে ক্রেতারা মিসর ও তুরস্কের পেঁয়াজ কোনোভাবেই কিনবেন না।

ভারতে কি নতুন মৌসুম আসছে?

রতন সাহা: এক মাস পরই মহারাষ্ট্রের নাসিকের পেঁয়াজ উঠবে। বন্যায় ওই পেঁয়াজ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারপরও মৌসুম শুরু হলে দাম কমবে। মিসর থেকে এখন যদি কেউ পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়, সেটা আসতে ৪০ দিনের মতো লাগবে।

এখন যে বাজারে অভিযান চলছে, তার প্রভাব কতটুকু?

রতন সাহা: সাময়িক হয়তো একটা প্রভাব পড়ছে। কিন্তু আতঙ্ক ছড়ালে ব্যবসায়ীরা আমদানির ঝুঁকি না-ও নিতে পারেন। কেউ যদি সিদ্ধান্ত নেন, তিনি দুই মাস আমদানি করবেন না, তাহলে কারও কিছু বলার থাকবে না। এতে বাজারে কিন্তু সংকট তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক পেঁয়াজ আমদানিতে ব্যাংকঋণের সুদহার কমিয়েছে। এর সুফল কতটুকু পাওয়া যাবে?

রতন সাহা: এর তেমন একটা সুফল পাওয়া যাবে বলে আমার মনে হয় না। আমদানিকারকেরা কম সুদে ঋণ পেলে হাতখরচ কিছুটা কমবে। বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ঢাকায় ৪৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। সেটা কি দাম কমাতে ভূমিকা রাখতে পারছে?

রতন সাহা: টিসিবির পেঁয়াজের দাম কম। তবে পরিমাণ খুবই নগণ্য। ভালো হতো যদি সরকার মিসর বা তুরস্কের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারিভাবে পেঁয়াজ আমদানি করত।

দেশে নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ কত দিন পর আসবে?

রতন সাহা: দেশে মৌসুম শুরু হতে এখনো এক মাসের বেশি সময় বাকি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট

কৃষির বাজেট কৃষোকের বাজেট ২০১৮-১৯ । পর্ব-২

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট

কৃষি বাজেট কৃষোকের বাজেট ২০১৮-১৯ | পর্ব-১

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট

কৃষি বাজেট কৃষোকের বাজেট(২০১৭-১৮)-পর্ব-৬

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট

কৃষি বাজেট কৃষোকের বাজেট (২০১৭-১৮) পর্ব-৫

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com