আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

যেভাবে শহুরে জীবনে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে প্রাণীরা

শহরের আকাশে কবুতর
শহরের আকাশে কবুতর

কয়েক হাজার বছর ধরে জাপানি শহর সেন্দাইতে কাক সম্প্রদায়কে তাদের প্রিয় একটি খাদ্য আখরোট খাওয়ার ক্ষেত্রে এক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছিল।

যেহেতু এই বাদামের খোসা ছাড়ানো তাদের জন্য খুবই কঠিন, তাই এই পাখিরা খাবারটিকে অনেক ওপরে নিয়ে যেত এবং আকাশ থেকে বাদামগুলো নিচে ফেলে দিতো।

১৯৭০ সালে স্থানীয় একজন বিজ্ঞানী দেখলেন যে, এই প্রাণীটি তাদের কৌশল বদলে ফেলেছে। তারা এই বাদামগুলোকে রাস্তার মাঝখানে এমন জায়গায় ফেলতে শুরু করলো, যেখানে সেগুলোর ওপর দিয়ে যানবাহন চলে যেতে পারে-যাতে করে বাদামের গায়ের শক্ত আবরণ ভেঙে গিয়ে তা খাওয়ার জন্য উন্মুক্ত হয়।।

পাখিগুলি গাড়িগুলোকে ব্যবহার করতো বাদাম ভাঙার উপকরণ হিসেবে।

কিভাবে নগরায়ন পশু-প্রাণীর আচার-আচরণ বদলে দেয় এবং খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষমতা তরান্বিত করে (যা করতে অন্যদের মিলিয়ন মিলিয়ন বছর লেগে যায়)- সে বিষয়ে গবেষণার অনন্য কেস স্টাডি হয়ে উঠলো সেন্দাই এলাকার কাকগুলো।

শহুরে জীবনে খাপ খাওয়ানো

২০১৮ সালের জাতিসংঘের খতিয়ান অনুসারে, আগের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ এখন শহরে বসবাস করছে-যা বিশ্বের জনসংখ্যার ৫৫%, এবং তা ১৯৬০ সাল থেকে ৩৪% বেড়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সাল নাগাদ আমাদের প্রায় ৭০% মানুষই হবে শহরের বাসিন্দা।

আর এই বৃদ্ধির হার বন্যপ্রাণী এবং জীব-বৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে কারণ তাদের বাসস্থান কমে গেছে।

তবে বিষয়টি বেশকিছু প্রজাতির মধ্যে পরিবর্তনের সূচনা করেছে, যারা দ্রুত শহুরে জীবনে বেঁচে থাকার কৌশল আয়ত্ত করে ফেলেছে।

ডাচ জীববিজ্ঞানী মেন্নো স্কিলথুইযেন এর ব্যাখ্যা অনুসারে,”বন্যপ্রাণীর জীবনের সাথে নগরায়নের সম্পর্ক অনুধাবন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ”।

তিনি বলেন “আমরা এমন এক অবস্থার দিকে যাচ্ছি যেখানে অধিকাংশ মানুষ যে প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকবে তা হল নগর-প্রকৃতি। আমাদের আরও নিশ্চিত করারতে হবে যে, নগর প্রকৃতিকে যতটা সম্ভব সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ করতে হবে”।

জাপানী কাক জানে কিভাবে বাদাম গাড়ির নীচে ফেলে ভাংতে হয়
জাপানী কাক জানে কিভাবে বাদাম গাড়ির নীচে ফেলে ভাংতে হয়

দ্রুতগতিতে পরিবর্তন

স্কিলথুইযেন এবং অন্যান্য বিজ্ঞানীদের যুক্তি যে, কিছু কিছু বিষয় মানব-সৃষ্ট দ্রুত বিবর্তনমূলক পরিবর্তনের উদাহরণ – একটি দ্রুত অভিযোজন যা শতাব্দীর মাঝে হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তার পরিবর্তে কয়েক দশক বা এমনকি কয়েক বছরের মধ্যে ঘটতে পারে।

ব্রিজ স্পাইডার যা সাধারণত আলো এড়িয়ে চলে, তারা নিজেদের জাল তৈরির জন্য পরিবর্তিত হয়ে মথ-আকর্ষণ করে এমন সড়কবাতির কাছে যায় জীবনের তাগিদে। অনেক শহরে, মথ বাল্বের আলোর হাতছানিতে প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। ডারউইন কামস টু টাউন গ্রন্থে ডাচ জীববিজ্ঞানী এমনটাই লিখেছেন।

আচরণগত এই ধরনের পরিবর্তনগুলো বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে সহজেই লক্ষ্য করা যায় এবং শহরগুলোতে তা চাক্ষুষ করার সেরা জায়গা।

ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টোর জীববিজ্ঞানী মার্ক জনসন বলেছেন, “সর্বোত্তম এবং বৃহৎ-পরিসরে অনিচ্ছাকৃত বিবর্তন অভিজ্ঞতার প্রতিনিধিত্ব করে নগরায়ন”।

নাগরিক অভিযোজনের বিষয়ে ১৯২টি গবেষণা-পরীক্ষা নিয়ে ২০১৭ সালে প্রকাশিত বিজ্ঞান জার্নালে জনসন ছিলেন সহ-লেখক।

এতে দেখা যায় যে, প্রজাতিগুলি শহুরে পরিবেশের মধ্যে স্বস্তির জায়গা খুঁজে বের করে যা তাদের সঠিকভাবে বিকশিত করে।

অন্যতম উদাহরণ হল, পেরেগ্রিন ফ্যালকন-এই শিকারি বাজ পাখিটি বিংশ শতকের মধ্যভাগে অনেক জায়গায় বিলুপ্ত হওয়ার হুমকিতে পড়েছিল রাসায়নিক কীটনাশকের কারণে।

ফ্যালকন বা বাজপাখিরা যেহেতু অতিথি পাখি শিকার করতো, ফলে তাদের শরীরে মারাত্মক ক্ষতিকর মাত্রায় কীটনাশক প্রবেশ করতো (ডিডিটি নামক কীটনাশক), কারণ অতিথি পাখিরা পোকামাকড় খেত।

ডিডিটি কীটনাশকের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং প্রজনন কর্মসূচি এই প্রজাতিটিকে ফিরিয়ে আনার কাজ করেছে।

এই বাজপাখিগুলি গ্রামীণ আবাস ফেলে রেখে শহরে শহরে চলে গেল, যেখান তারা আকাশচুম্বী ভবন এবং উঁচু উঁচু অবকাঠামোগুলোতে বাসা বানানো রপ্ত করে ফেলে। কারণ বাসস্থানের সংকট তাদের ওপর চরম চাপ তৈরি করেছিল।

তাদের শিকার প্রাপ্তির সহজলভ্যতার দিকেও নির্ভর করতে হয়েছিল: গবেষকদের লিপিবদ্ধ তথ্য অনুসারে, ফ্যালকন শহরের অন্যান্য প্রাণীর খাবারে ভাগ বসাতো, তা হোক কবুতর থেকে বাদুড়।

চার্লস ডারউইন ও তার বিখ্যাত বই
চার্লস ডারউইন ও তার বিখ্যাত বই

লম্বা এবং পুরুসূঁচালো ঠোঁট

জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে ডারউইনের ফিঞ্চ পাখির একটি পাকাপোক্ত অবস্থান আছে। যদিও তা সরাসরি সত্যিকার ফিঞ্চপাখির সাথে জড়িত নয়, সেগুলো ছিল গ্যালাপাগোস আইল্যান্ডের একধরনের প্রজাতি। সেগুলো তার ‘ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন’ (বিবর্তনবাদের তত্ত্ব) তত্ত্বের উদ্ভাবনে বিশেষ সহায়তা করেছে।

এই পাখিগুলির ঠোঁটের আকার এবং গঠন ছিল বিভিন্ন রকম, এবং বিভিন্ন দ্বীপ থেকে নির্দিষ্ট খাবার বেছে নিতো তারা।

কিন্তু সাম্প্রতিককালে টাকসন, অ্যারিজোনার ফিঞ্চ পাখির প্রজাতি বিজ্ঞানীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে: তাদের ঠোঁট এখন তাদের গ্রামীণ প্রজাতির থেকে লম্বা এবং চওড়া ।

এই আকার সূর্যমুখী ফুলে বীজ খাওয়া সহজ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মিউজিয়াম অব সাউথওয়েস্টার্ন বায়োলজির পরিচালক এবং সংরক্ষক ক্রিস্টোফার উইচ বলেন, “আমি মনে করি এটা খুব শক্তিশালী প্রমাণ যে যখন আমরা বণ্য প্রজাতির সম্পর্কে কোন নতুন তথ্যসরবরাহ করি, আমরা বিবর্তনবাদের সাথে মিলিয়ে ফেলি।

লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ডের মশা নিয়ে সতর্ক থাকতে হয়
লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ডের মশা নিয়ে সতর্ক থাকতে হয়

ভূ-গর্ভস্থ মশা

কিউলেক্স পাইপেনস এক ধরনের মশা যা বিশ্বজুড়ে দেখা যায়। তারা খুব সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে বলে পরিচিত। কিন্তু লন্ডনের ভূ-গর্ভস্থ মশা বিষয়টিকে আরও একধাপ সামনে নিয়ে গেছে।

যেখানে কিউলেক্স পাইপেন্স মশা মাটির ওপরে বসবাস করে, অনেক সঙ্গী বানায়, কিন্তু কিউলেক্স মলেস্টাস থাকে মানব-নির্মিত এলাকা এবং ভূগর্ভস্থ জায়গাগুলোতে। এটি একজন সঙ্গীর সাথে মিলন ঘটায়।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হল, যেখানে কিউলেক্স পাইপেন্স পাখিদের কামড়াতে পছন্দ করে , কিউলেক্স মলেস্টাস মানুষের রক্তের স্বাদ গ্রহণে তৈরি হয়ে যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যেসমস্ত মানুষ ব্রিটেনের রাজধানীর বিখ্যাত পরিবহন টানেল নিরাপত্তা শেল্টার হিসেবে ব্যবহার করতেন তাদের এই মশার মারাত্মকভাবে কামড়ানোর ইতিহাস রয়েছে।

কিউলেক্স মলেস্টাস ভূ-গর্ভস্থ অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছিল ।

কিন্তু মানবদেহের রক্তের প্রতি তার তীব্র আকাঙ্ক্ষা সত্ত্বেও লন্ডনের ভূ-গর্ভস্থ মশা বর্তমান ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর অভিযোগের তালিকায় ততটা স্পষ্ট অবস্থানে নেই।

বিস্টন বেতুলারিয়া মানুষের দ্বারা প্রভাবিত অভিযোজনের আরেকটি উদাহরণ। ব্রিটেনে শিল্পায়নের দশকগুলোতে এটি নগর জীবনে ছড়িয়ে পড়ে। চিমনি থেকে নির্গত কালিঝুলি তাদের শিকারিদের চোখ থেকে লুকাতে সাহায্য করেছিল, কেউ কেউ গাছের আড়ালে লুকাতো, ধরা পড়ে যেত এবং তাদের জনসংখ্যা এভাবে হ্রাস পেতো।

১৯৬০ এর দশকের উন্নত বায়ু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিবেশে পরিচ্ছন্নতা দেয় এবং হালকা রং এর মথের পুনরাবির্ভাব দেখা যায়।

সাংহাই শহর, বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটি
সাংহাই শহর, বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটি

মেট্রো ব্যাঙ

মেক্সিকো থেকে উত্তর-দক্ষিণ আমেরিকার গ্রীষ্মমন্ডলীয় বন পর্যন্ত টুঙ্গারা ব্যাঙ বাস করে এবং চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য মোতাবেক তাদের শব্দের দ্বারা তারা নারী সঙ্গিনীকে আকৃষ্ট করে।

তাদের সঙ্গীত শিকারিরাও তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে কাজে লাগায়।

গবেষকরা দেখেছেন যে, যেসব ব্যাঙ শহুরে পরিবেশে বসবাস করে তারা নারী সঙ্গিনীদের আকৃষ্ট করতে গ্রামে বসবাসকারী ব্যাঙ এর চেয়ে আরও জটিল ডাক তৈরি করে। একইসময় ‘মেট্রো ফ্রগ’ বা ‘শহুরে ব্যাঙ’দের নাগরিক পরিবেশে শিকারিদের বিষয়ে কম উদ্বিগ্ন হলেও চলে।

রাতের আঁধারে ব্লাকবার্ড এর গান

সাধারণ প্রজাতির ব্ল্যাকবার্ড (টুর্ডুস মেরুলা) বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন একটি শহুরে প্রাণী। গ্রামীণ এলাকা বা উপশহরে বসবাসকারীদের তুলনায় শহুরে এলাকায় বসবাস এসব প্রাণীর জীবনে নানারকম পরিবর্তন এনেছে।

গবেষক মেন্নো স্কিলথুইযেনের মতে, ইউরোপ এবং উত্তর আফ্রিকাতে তাদের সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি হিসেবে বিবর্তন হচ্ছে।

তিনি লেখেন, “এটা জানা দরকার যে, গবেষণাগারে বনের এবং শহুরে ব্ল্যাকবার্ডের অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে যাদেরকে ছানা হিসেবে ঠিক একই পরিস্থিতিতে লালন-পালন করা হয়েছিল”। সুতরাং তারা প্রকৃতিগতভাবে আলাদা ছিল, জীবনের পদ্ধতিগতভাবে নয়।

এইসব শহুরে পাখি লম্বায় খাটো, ছোটা এবং পুরু ঠোঁট, শীতের সময় অভিবাসী হতে দেখা যায় না। শব্দদূষণ তাদের গান গাওয়ার সময়ও বদলে দেয়।

বনের পাখীদের ভোরবেলা সঙ্গীতের কলকাকলির জন্য মুখরিত। শহুরে পাখিদের সূর্যোদয়ে ঘণ্টা-খানেক আগে গাইতে শোনার কথা জানা বিজ্ঞানীরা।

পুয়ের্তোরিকোর অ্যানল লিযার্ড নাগরিক অভিযোজনের পোস্টারবয় হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন। পাথর এবং গাছপালা বেষ্টিত পরিবেশ থেকে এসে বাসিন্দারা শহরের দেয়াল এবং জানালার মাঝে খাপ খাওয়ানো চ্যালেঞ্জ ছিল।

শহুরে ব্লাকবার্ড
শহুরে ব্লাকবার্ড

“শহরাঞ্চল অন্য আরেক পরিবেশ। সেখানে বসবাসকারী প্রাণীরা কোনভাবেই প্রাকৃতিক সিলেকশনের বিরোধী নয়- ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী ক্রিস্টিন উইনচেল বললেন।

তিনি আরও জানান, শহুরে বসবাসকারী প্রাণীগুলোর পায়ের আঙ্গুলগুলোতে বেশি বেশি লোম থাকে এবং পায়ের পাতা তুলতুলে থাকে। শহরের এবং গ্রামীণ এলাকার গিরগিটির চিত্র-ধারণ করে উইনচেল দেখিয়েছেন যে, পিচ্ছিল ভূ-পৃষ্ঠে শহুরে বাসিন্দা স্বচ্ছন্দে হেটে ছাড়িয়ে গেছে।

তার ভাষায়, “এটা আশ্চর্যের বিষয় যে, এই গিরগিটিগুলো কীভাবে আবাসের সীমাবদ্ধতা এবং মানুষের উপস্থিতির সাথে লড়াই করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে তারা এমনকি উচ্চ তাপমাত্রায় আরও সহনশীল হয়ে উঠেছে”।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে এইসব প্রাণীর অভিযোজন ক্ষমতাকে খাটো করে দেখাটা হবে ভুল।

“এটা এমন নয় যে কোনও প্রজাতি যে বিলুপ্তির হুমকিতে নেই তার অবস্থার শিগগিরই বা বিলম্বে অবস্থার পরিবর্তন হবেনা। এমনকি সাধারণ প্রাণীও বিলুপ্ত হওয়ার আশংকা দেখা যেতে পারে যদি আমরা নিশ্চিত করতে না পারি যে, শহর-নগরের বিকাশও বন্যপ্রাণীর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এলো আহত বানর

চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এলো আহত বানর
চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এলো আহত বানর

বানরের বুদ্ধিমত্তা মন্দ নয়। মাঝে মাঝেই তাই সংবাদে উঠে আসে বানরের নানাবিধ কর্মকাণ্ড। এই তো কিছুদিন আগেও নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখে ফল খেতে দেখা যায় বানরের দলকে। ইতোমধ্যেই এমন ঘটনার বহু প্রমাণ উঠে এসেছে গণমাধ্যমে। তবে এবার ঘটলো আরেকটি অবাক করা কাণ্ড।

জানা যায়, মানুষের মতো না হলেও বানরের মস্তিষ্ক বেশ উন্নত। তাই কোন সময় কী করা উচিত, তা এরা জানে। এবার তেমনই একটি ঘটনা ঘটলো ভারতের কর্ণাটকের ডান্ডেলিতে। সেখানকার আহত হওয়া একটি বানর নিজে নিজেই চলে গেল একটি হাসপাতালে।

সে ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের দরজায় বসে আছে একটি বানর। বাইরে রোগীদের লম্বা লাইন। বানরটিও অন্যদের মতো লাইন দিয়েছে হাসপাতালের আউটডোরে। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের এক কর্মী এসে বানরটির গায়ে হাত দেন।

হাসপাতালের কর্মী দেখেন, বানরটি আহত। চিকিৎসার জন্যই হাসপাতালে এসেছে। তাই দেরী না করে তিনি বানরটিকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে ক্ষতগুলো পরিষ্কার করে প্রয়োজনমতো ওষুধ দেন। এরপর হাসপাতাল থেকে চলে যায় বানরটি। কারো কোনো ক্ষতি করেনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত অসংখ্য বার দেখা হয়েছে ভিডিওটি। লাইক এবং শেয়ারের সংখ্যাও কম নয়। নেটিজেনরা আহত বানরের চিকিৎসা করার জন্য হাসপাতালের কর্মীদের প্রশংসা করেছেন।

উপরের ভিডিওটি দেখুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়

এখন ঘরে ঘরে ফসল তোলার মৌসুম। ইরি-বোরো ধান, ভুট্টাসহ নানাবিধ ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা। তাছাড়া জমিতে চাষ হচ্ছে আঁখ, পাট প্রভৃতি। তবে এ মৌসুমে ঝড়-তুফানের আশঙ্কাও প্রচুর। তাই আগে থেকেই ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। আসুন জেনে নেই উপায়গুলো-

১. বিভিন্ন জাতের ধানবীজ সংগ্রহ করে রাখা যেতে পারে।
২. প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চারা উৎপাদন করে উঁচু বা নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা যায়।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়

৩. ঝড়ের আগে তোলা যায় এমন দ্রুতবর্ধনশীল ফসল চাষ করা।

৪. আমন ধান নষ্ট হলে এবং পর্যাপ্ত সময় থাকলে পুনরায় চারা উৎপাদন করা।

৫. বিভিন্ন স্থানীয় উন্নত জাত এবং ব্রি ধান-৪৫, নাজিরশাইল ইত্যাদি রোপণ করা যেতে পারে।
৬. দ্রুত বর্ধনশীল শাকসবজি চাষ করে খাদ্য ও পুষ্টির পাশাপাশি অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা করা।
৭. উচ্চ মূল্যের শীতকালীন শাকসবজি আগাম চাষ করা যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়

৮. ফসল নষ্ট হয়ে গেলে ডাঁটা, লালশাক, গিমাকলমি, ঢেড়শ, পুঁইশাক ইত্যাদি লাগানো যেতে পারে।
৯. কৃষি জমিতে বাতাসের বেগ প্রতিরোধী গাছ যেমন- তাল, নারিকেল রোপণ করতে হবে।

১০. ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চলকে পুনরায় স্থাপন করা।
১১. বনজ ও ফলদ গাছের ছোট চারা প্রধান মূলসহ রোপণ করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

আফ্রিকার বতসোয়ানায় শত শত হাতির মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর রহস্য অজানা

বতসোয়ানায় গত দুই মাসে শত শত হাতির রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে
বতসোয়ানায় গত দুই মাসে শত শত হাতির রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে

সতর্কতা: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিগুলো কারো কারো কাছে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে!

বতসোয়ানায় গত দুই মাসে শত শত হাতির রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে। হাতির মৃত্যুর এই ‘অভূতপূর্ব’ ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার করে কিছুই জানা যায়নি।

আফ্রিকায় অবস্থানরত সহকর্মীদের বরাত দিয়ে ডক্টর নিয়াল ম্যাককান জানান, মে মাসের শুরু থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার দেশটি ওকাভাঙ্গো ব-দ্বীপে ৩৫০টির বেশি হাতির মরদেহ দেখা গেছে।

হাতিগুলো কেন মারা যাচ্ছে, সেসম্পর্কে কেউ কোন ধারণা দিতে পারছে না। দেশটির সরকার বলছে প্রাণীগুলোর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করতে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা চলছে, যেই রিপোর্ট আরো সপ্তাহখানেক পরে পাওয়া যাবে।

আফ্রিকার মোট হাতির এক-তৃতীয়াংশ রয়েছে বতসোয়ানায়।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল পার্ক রেসকিউর কর্মকর্তা নিয়াল ম্যাককান বিবিসিকে জানায় যে স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণবাদীরা মে মাসের শুরুর দিকে ব-দ্বীপের ওপর দিয়ে বিমান ভ্রমণ করার সময় কিছু হাতির মরদেহ চোখে পড়লে বসতোয়ানার সরকারকে বিষয়টি জানায়।

তিনি বলেন, “তারা ঐ অঞ্চলের ওপর দিয়ে তিন ঘণ্টার একটি ফ্লাইটে যাওয়ার সময় ১৬৯টি হাতির মরদেহ দেখে। তিন ঘণ্টার ফ্লাইটে ঐ পরিমাণ হাতির মরদেহ দেখতে পাওয়া খুবই অস্বাভাবিক।”

মৃত হাতি
মৃত হাতি

“ঐ ঘটনার এক মাস পর আরো তদন্ত করে তারা আরো অনেকগুলো মরদেহ দেখতে পান। মোট সংখ্যাটি ৩৫০এর ওপর।”

মি. ম্যাককান বলেন, “যেই বিপুল সংখ্যক হাতি মারা গেছে, তা একেবারেই অভূতপূর্ব। খরা বাদে কোন একটি একক কারণে এত বিপুল পরিমাণ প্রাণী মারা যাওয়ার ঘটনা দেখা যায় না।”

বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা ফিস’এর খবর অনুযায়ী, এই হাতিগুলোর মৃত্যুর পেছনে চোরাশিকারিদের হাত থাকার সম্ভাবনা আগেই নাকচ করে দিয়েছে বতসোয়ানার সরকার কারণ হাতিগুলোর দাঁত কেটে নেয়া হয়নি।

ড. ম্যাককান বলেন, “সেখানে শুধু হাতিই মারা যাচ্ছে, অন্য কোন প্রাণী নয়। যদি চোরাশিকারিদের দেয়া সায়ানাইডে হাতিগুলো মারা যেতো, তাহলে হাতি বাদে অন্য আরো পশুও মারা যেতো।”

স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অ্যানথ্রাক্স বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন ড. ম্যাককান। গত বছর অ্যানথ্রাক্স বিষক্রিয়ায় বতসোয়ানায় ১০০’র বেশি হাতি মারা গিয়েছিল।

মৃত হাতি
মৃত হাতি

তবে বিষক্রিয়া বা কোন রোগের উপস্থিতির সম্ভাবনা একেবারে বাতিল করে দিতে পারছেন না তারা।

ড. ম্যাককানের মতে যেভাবে প্রাণীগুলো মারা যাচ্ছে – অনেকগুলো হাতিকেই মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে – এবং অন্য হাতিগুলোকে চক্রাকারে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে, তাদের স্নায়ুবিক প্রক্রিয়া কোন ধরণের আক্রমণের শিকার হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাতিগুলোর মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে জানা না যাওয়ায় তাদের মধ্যে থেকে কোন রোগ মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে কিনা, সেই সম্ভাবনাও বাতিল করে দেয়া যাচ্ছে না – বিশেষ করে যখন জানা যাচ্ছে না যে পানির উৎস বা মাটি থেকে কোন ধরনের বিষক্রিয়া হচ্ছে কিনা।

কোভিড-১৯ মহামারি এখন প্রাণীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে – এই বিষয়টিরও উল্লেখ করেন ড. ম্যাককান।

তিনি বলেন, “এটি পরিবেশগত বিপর্যয় – তবে এটি জনস্বাস্থ্য বিষয়ক দুর্যোগেও পরিণত হতে পারে।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

গাছের রস ও তেল সংগ্রহ পদ্ধতি

আমাদের দেশে তাল, খেজুর, গোলপাতা গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। যে রস থেকে আমরা চিনি বা গুড়ের অভাব পূরণ করতে পারি। এছাড়া পাম গাছ থেকে তেল সংগ্রহ করে ভোজ্য তেল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এখন আমাদের জানতে হবে কীভাবে সংগ্রহ করা যায় এগুলো। আসুন জেনে নেই রস ও তেল সংগ্রহ পদ্ধতি।

তাল গাছের রস

তাল এবং খেজুর রসের গুরুত্ব একই। কিন্তু উৎপাদনের পরিমাণ খেজুরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। পুরুষ তাল গাছ থেকে মার্চ-মে মাস রস সংগ্রহ করা যায়। পুরুষ তাল গাছের লম্বা জটা বের হওয়ার পর অর্ধেক জটার গোড়া কেটে অবশিষ্ট জটাগুলো চট বা শক্ত কাপড় দিয়ে ৬-৭ দিন ভালো করে ঘঁষে নরম করতে হয়। তারপর জটার আবরণ তুলে মাথা কেটে মাটির কলসি ঝুলিয়ে দিলে ফোটায় ফোটায় রস পড়ে। স্ত্রী তাল গাছ থেকে এপ্রিল-জুন মাস রস সংগ্রহ করা যায়। স্ত্রী তাল গাছের পুষ্পমঞ্জুরি বের হওয়ার ১০-১২ দিন পর কাঠের দণ্ড দ্বারা কয়েক দিন পুষ্পমঞ্জুরিকে পিটিয়ে হালকাভাবে থেতলে দিতে হয়। এরপর পুষ্পমঞ্জুরির মাথা কেটে মাটির কলস ঝুলিয়ে দিলে ফোটায় ফোটায় রস পড়ে। একটি তাল গাছ থেকে বছরে প্রায় ৪৬০-৫০০ লিটার রস উৎপন্ন হয়। তা থেকে ৬০-৭০ কেজি গুড় পাওয়া যায়। গাছের বয়স, মাটি, আবহাওয়া এবং পরিচর্যার উপর রসের গুণগতমান ও পরিমাণ নির্ভর করে।

খেজুর গাছের রস

খেজুর ফলের চেয়ে রস সংগ্রহের গুরুত্ব বেশি। নভেম্বর মাস থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। ৫-৬ বছর বয়সের গাছের উপরে বা মাথার দিকে ধারালো দা দিয়ে এক পাশে ২৪-২৫ ইঞ্চি পরিমাণ লম্বা স্থান ঠ আকৃতি করে সুন্দরভাবে কাটতে হয়। তারপর ৪-৫ দিন শুকানোর পর কর্তিত স্থানে আবার ধারালো দা দিয়ে পাতলা করে চেঁচে দিয়ে নিচের দিকে বাঁশের চুঙ্গি লাগিয়ে মাটির কলসি ঝুলিয়ে দিলে ফোটায় ফোটায় রস পড়ে। একটি গাছ থেকে বছরে প্রায় ২২০-২৫০ লিটার রস উৎপন্ন হয়। তা থেকে প্রায় ৩৫-৪০ কেজি গুড় পাওয়া যায়। গাছের বয়স, মাটি, আবহাওয়া এবং পরিচর্যার উপর রসের গুণগতমান ও পরিমাণ নির্ভর করে।

গোলপাতার রস

তাল ও খেজুর গাছের মতোই গোলপাতা গাছ থেকেও বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রস সংগ্রহ করা যায়। মাত্র ৩০টি গোলপাতা গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে প্রায় ৬০ কেজি গুড় উৎপাদন করা যায়। গুড় প্রতি কেজি একশ’ টাকা দরে বিক্রি করা যায়। 

পাম তেল

বাংলাদেশে পামওয়েলের চাষ প্রাথমিক পর্যায়ে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষুদ্র পরিসরে এর চাষ শুরু হয়েছে। পাম গাছ থেকে পাকা ফল সংগ্রহ করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে গরম পানিতে সেদ্ধ করতে হয়। সেদ্ধ পাম ফলগুলো পরিষ্কার পাত্রের মধ্যে রেখে দুই হাতে চাপ প্রয়োগ করলে তেল বের হয়ে পাত্রের মধ্যে জমা হবে। এরপর ছোবলা ও বীজ আলাদা করে ছাঁকনি দ্বারা তেলগুলো ছেঁকে নিতে হবে। তেলের সঙ্গে কিছু পরিমাণ পানি মিশ্রিত থাকে। তাই চুলায় জ্বাল দিলে পানি বাষ্পাকারে শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরিষ্কার পাম তেল পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নজর কাড়ছে মহাসড়কের গাছপালা

নজর কাড়ছে মহাসড়কের গাছপালা
নজর কাড়ছে মহাসড়কের গাছপালা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দু’পাশে গাছের সারির সৌন্দর্য পথচারী ও যাত্রীদের নজর কাড়ছে। মেজর এমএ জলিল সেতুর পশ্চিম পাশ থেকে জয়শ্রী (আটিপাড়া রাস্তার মাথা পর্যন্ত) ৪ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সামাজিক বনায়নের আওতায় ১১ হাজার গাছ রোপণ করে বনবিভাগ।

দক্ষিণ অঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম এ সড়কে গাছের সারি ভ্রমণপিপাসুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখরিত জনপদটি এক অনন্য দৃশ্য ধারণ করে। নান্দনিক এ অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই ক্ষণিকের জন্য হলেও গাড়ি থামান। এছাড়া গাছের সারির কারণে প্রখর রোদে পথচারী ও কৃষকদের বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ হয়েছে।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সিআরপিএআর প্রকল্পের আওতায় সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে ২৬ প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ওষুধি বৃক্ষ রোপণ করা হয়। এর মধ্যে মেহেগনি, রেইনট্রি, আকাশমণি, শিশু, চাম্বুল, ইপিল-ইপিল, পিকরাশি, তেলসুর, পাহাড়ি নিম, বট, পাপড়ি, আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, কামরাঙ্গা, জলপাই, আমলকি, বিলাতি গাব, অর্জুন, উলটকম্বল, লটবিপল, দেশি নিম, শিমুল, ডেউয়া, বকুল, কাঞ্চন, তেুঁতলসহ ৫৫০টি তালগাছ রোপণ করা হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্য থেকে ১১০ জন উপকারভোগী সদস্য রয়েছে।

বৃক্ষরোপণকালে সিআরপিএআর প্রকল্পের আওতায় আড়াই বছর প্রতি ১ হাজার চারার পরিচর্যা ও পাহারার জন্য ১ জন করে মোট ১১ জন পাহারাদারকে ৬ হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ৫৫ জন উপকারভোগীকে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রকল্প এলাকার আশপাশের ৬টি গ্রামের ১১০ জন দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উত্তরণ নামক এনজিও’র মাধ্যমে বিকল্প জীবিকায়নের জন্য সবজি চাষ, ফলের চারা রোপণ, হাঁস-মুরগি পালন, সঞ্চয় জমা করার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় উপকারভোগী সদস্য এবং জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় গাছগুলো এখন বেশ বড় হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে বনবিভাগের সচিব, প্রধান বনরক্ষক, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা স্থানটি পরিদর্শন করে প্রশংসা করেছেন। ২০০৫-২০০৬ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত সামাজিক বনায়নের গাছ কয়েক লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রিত অর্থ সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুযায়ী বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com