আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

যেভাবে শহুরে জীবনে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে প্রাণীরা

শহরের আকাশে কবুতর
শহরের আকাশে কবুতর

কয়েক হাজার বছর ধরে জাপানি শহর সেন্দাইতে কাক সম্প্রদায়কে তাদের প্রিয় একটি খাদ্য আখরোট খাওয়ার ক্ষেত্রে এক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছিল।

যেহেতু এই বাদামের খোসা ছাড়ানো তাদের জন্য খুবই কঠিন, তাই এই পাখিরা খাবারটিকে অনেক ওপরে নিয়ে যেত এবং আকাশ থেকে বাদামগুলো নিচে ফেলে দিতো।

১৯৭০ সালে স্থানীয় একজন বিজ্ঞানী দেখলেন যে, এই প্রাণীটি তাদের কৌশল বদলে ফেলেছে। তারা এই বাদামগুলোকে রাস্তার মাঝখানে এমন জায়গায় ফেলতে শুরু করলো, যেখানে সেগুলোর ওপর দিয়ে যানবাহন চলে যেতে পারে-যাতে করে বাদামের গায়ের শক্ত আবরণ ভেঙে গিয়ে তা খাওয়ার জন্য উন্মুক্ত হয়।।

পাখিগুলি গাড়িগুলোকে ব্যবহার করতো বাদাম ভাঙার উপকরণ হিসেবে।

কিভাবে নগরায়ন পশু-প্রাণীর আচার-আচরণ বদলে দেয় এবং খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষমতা তরান্বিত করে (যা করতে অন্যদের মিলিয়ন মিলিয়ন বছর লেগে যায়)- সে বিষয়ে গবেষণার অনন্য কেস স্টাডি হয়ে উঠলো সেন্দাই এলাকার কাকগুলো।

শহুরে জীবনে খাপ খাওয়ানো

২০১৮ সালের জাতিসংঘের খতিয়ান অনুসারে, আগের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ এখন শহরে বসবাস করছে-যা বিশ্বের জনসংখ্যার ৫৫%, এবং তা ১৯৬০ সাল থেকে ৩৪% বেড়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সাল নাগাদ আমাদের প্রায় ৭০% মানুষই হবে শহরের বাসিন্দা।

আর এই বৃদ্ধির হার বন্যপ্রাণী এবং জীব-বৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে কারণ তাদের বাসস্থান কমে গেছে।

তবে বিষয়টি বেশকিছু প্রজাতির মধ্যে পরিবর্তনের সূচনা করেছে, যারা দ্রুত শহুরে জীবনে বেঁচে থাকার কৌশল আয়ত্ত করে ফেলেছে।

ডাচ জীববিজ্ঞানী মেন্নো স্কিলথুইযেন এর ব্যাখ্যা অনুসারে,”বন্যপ্রাণীর জীবনের সাথে নগরায়নের সম্পর্ক অনুধাবন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ”।

তিনি বলেন “আমরা এমন এক অবস্থার দিকে যাচ্ছি যেখানে অধিকাংশ মানুষ যে প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকবে তা হল নগর-প্রকৃতি। আমাদের আরও নিশ্চিত করারতে হবে যে, নগর প্রকৃতিকে যতটা সম্ভব সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ করতে হবে”।

জাপানী কাক জানে কিভাবে বাদাম গাড়ির নীচে ফেলে ভাংতে হয়
জাপানী কাক জানে কিভাবে বাদাম গাড়ির নীচে ফেলে ভাংতে হয়

দ্রুতগতিতে পরিবর্তন

স্কিলথুইযেন এবং অন্যান্য বিজ্ঞানীদের যুক্তি যে, কিছু কিছু বিষয় মানব-সৃষ্ট দ্রুত বিবর্তনমূলক পরিবর্তনের উদাহরণ – একটি দ্রুত অভিযোজন যা শতাব্দীর মাঝে হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তার পরিবর্তে কয়েক দশক বা এমনকি কয়েক বছরের মধ্যে ঘটতে পারে।

ব্রিজ স্পাইডার যা সাধারণত আলো এড়িয়ে চলে, তারা নিজেদের জাল তৈরির জন্য পরিবর্তিত হয়ে মথ-আকর্ষণ করে এমন সড়কবাতির কাছে যায় জীবনের তাগিদে। অনেক শহরে, মথ বাল্বের আলোর হাতছানিতে প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। ডারউইন কামস টু টাউন গ্রন্থে ডাচ জীববিজ্ঞানী এমনটাই লিখেছেন।

আচরণগত এই ধরনের পরিবর্তনগুলো বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে সহজেই লক্ষ্য করা যায় এবং শহরগুলোতে তা চাক্ষুষ করার সেরা জায়গা।

ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টোর জীববিজ্ঞানী মার্ক জনসন বলেছেন, “সর্বোত্তম এবং বৃহৎ-পরিসরে অনিচ্ছাকৃত বিবর্তন অভিজ্ঞতার প্রতিনিধিত্ব করে নগরায়ন”।

নাগরিক অভিযোজনের বিষয়ে ১৯২টি গবেষণা-পরীক্ষা নিয়ে ২০১৭ সালে প্রকাশিত বিজ্ঞান জার্নালে জনসন ছিলেন সহ-লেখক।

এতে দেখা যায় যে, প্রজাতিগুলি শহুরে পরিবেশের মধ্যে স্বস্তির জায়গা খুঁজে বের করে যা তাদের সঠিকভাবে বিকশিত করে।

অন্যতম উদাহরণ হল, পেরেগ্রিন ফ্যালকন-এই শিকারি বাজ পাখিটি বিংশ শতকের মধ্যভাগে অনেক জায়গায় বিলুপ্ত হওয়ার হুমকিতে পড়েছিল রাসায়নিক কীটনাশকের কারণে।

ফ্যালকন বা বাজপাখিরা যেহেতু অতিথি পাখি শিকার করতো, ফলে তাদের শরীরে মারাত্মক ক্ষতিকর মাত্রায় কীটনাশক প্রবেশ করতো (ডিডিটি নামক কীটনাশক), কারণ অতিথি পাখিরা পোকামাকড় খেত।

ডিডিটি কীটনাশকের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং প্রজনন কর্মসূচি এই প্রজাতিটিকে ফিরিয়ে আনার কাজ করেছে।

এই বাজপাখিগুলি গ্রামীণ আবাস ফেলে রেখে শহরে শহরে চলে গেল, যেখান তারা আকাশচুম্বী ভবন এবং উঁচু উঁচু অবকাঠামোগুলোতে বাসা বানানো রপ্ত করে ফেলে। কারণ বাসস্থানের সংকট তাদের ওপর চরম চাপ তৈরি করেছিল।

তাদের শিকার প্রাপ্তির সহজলভ্যতার দিকেও নির্ভর করতে হয়েছিল: গবেষকদের লিপিবদ্ধ তথ্য অনুসারে, ফ্যালকন শহরের অন্যান্য প্রাণীর খাবারে ভাগ বসাতো, তা হোক কবুতর থেকে বাদুড়।

চার্লস ডারউইন ও তার বিখ্যাত বই
চার্লস ডারউইন ও তার বিখ্যাত বই

লম্বা এবং পুরুসূঁচালো ঠোঁট

জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে ডারউইনের ফিঞ্চ পাখির একটি পাকাপোক্ত অবস্থান আছে। যদিও তা সরাসরি সত্যিকার ফিঞ্চপাখির সাথে জড়িত নয়, সেগুলো ছিল গ্যালাপাগোস আইল্যান্ডের একধরনের প্রজাতি। সেগুলো তার ‘ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন’ (বিবর্তনবাদের তত্ত্ব) তত্ত্বের উদ্ভাবনে বিশেষ সহায়তা করেছে।

এই পাখিগুলির ঠোঁটের আকার এবং গঠন ছিল বিভিন্ন রকম, এবং বিভিন্ন দ্বীপ থেকে নির্দিষ্ট খাবার বেছে নিতো তারা।

কিন্তু সাম্প্রতিককালে টাকসন, অ্যারিজোনার ফিঞ্চ পাখির প্রজাতি বিজ্ঞানীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে: তাদের ঠোঁট এখন তাদের গ্রামীণ প্রজাতির থেকে লম্বা এবং চওড়া ।

এই আকার সূর্যমুখী ফুলে বীজ খাওয়া সহজ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মিউজিয়াম অব সাউথওয়েস্টার্ন বায়োলজির পরিচালক এবং সংরক্ষক ক্রিস্টোফার উইচ বলেন, “আমি মনে করি এটা খুব শক্তিশালী প্রমাণ যে যখন আমরা বণ্য প্রজাতির সম্পর্কে কোন নতুন তথ্যসরবরাহ করি, আমরা বিবর্তনবাদের সাথে মিলিয়ে ফেলি।

লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ডের মশা নিয়ে সতর্ক থাকতে হয়
লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ডের মশা নিয়ে সতর্ক থাকতে হয়

ভূ-গর্ভস্থ মশা

কিউলেক্স পাইপেনস এক ধরনের মশা যা বিশ্বজুড়ে দেখা যায়। তারা খুব সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে বলে পরিচিত। কিন্তু লন্ডনের ভূ-গর্ভস্থ মশা বিষয়টিকে আরও একধাপ সামনে নিয়ে গেছে।

যেখানে কিউলেক্স পাইপেন্স মশা মাটির ওপরে বসবাস করে, অনেক সঙ্গী বানায়, কিন্তু কিউলেক্স মলেস্টাস থাকে মানব-নির্মিত এলাকা এবং ভূগর্ভস্থ জায়গাগুলোতে। এটি একজন সঙ্গীর সাথে মিলন ঘটায়।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হল, যেখানে কিউলেক্স পাইপেন্স পাখিদের কামড়াতে পছন্দ করে , কিউলেক্স মলেস্টাস মানুষের রক্তের স্বাদ গ্রহণে তৈরি হয়ে যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যেসমস্ত মানুষ ব্রিটেনের রাজধানীর বিখ্যাত পরিবহন টানেল নিরাপত্তা শেল্টার হিসেবে ব্যবহার করতেন তাদের এই মশার মারাত্মকভাবে কামড়ানোর ইতিহাস রয়েছে।

কিউলেক্স মলেস্টাস ভূ-গর্ভস্থ অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছিল ।

কিন্তু মানবদেহের রক্তের প্রতি তার তীব্র আকাঙ্ক্ষা সত্ত্বেও লন্ডনের ভূ-গর্ভস্থ মশা বর্তমান ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর অভিযোগের তালিকায় ততটা স্পষ্ট অবস্থানে নেই।

বিস্টন বেতুলারিয়া মানুষের দ্বারা প্রভাবিত অভিযোজনের আরেকটি উদাহরণ। ব্রিটেনে শিল্পায়নের দশকগুলোতে এটি নগর জীবনে ছড়িয়ে পড়ে। চিমনি থেকে নির্গত কালিঝুলি তাদের শিকারিদের চোখ থেকে লুকাতে সাহায্য করেছিল, কেউ কেউ গাছের আড়ালে লুকাতো, ধরা পড়ে যেত এবং তাদের জনসংখ্যা এভাবে হ্রাস পেতো।

১৯৬০ এর দশকের উন্নত বায়ু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিবেশে পরিচ্ছন্নতা দেয় এবং হালকা রং এর মথের পুনরাবির্ভাব দেখা যায়।

সাংহাই শহর, বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটি
সাংহাই শহর, বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটি

মেট্রো ব্যাঙ

মেক্সিকো থেকে উত্তর-দক্ষিণ আমেরিকার গ্রীষ্মমন্ডলীয় বন পর্যন্ত টুঙ্গারা ব্যাঙ বাস করে এবং চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য মোতাবেক তাদের শব্দের দ্বারা তারা নারী সঙ্গিনীকে আকৃষ্ট করে।

তাদের সঙ্গীত শিকারিরাও তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে কাজে লাগায়।

গবেষকরা দেখেছেন যে, যেসব ব্যাঙ শহুরে পরিবেশে বসবাস করে তারা নারী সঙ্গিনীদের আকৃষ্ট করতে গ্রামে বসবাসকারী ব্যাঙ এর চেয়ে আরও জটিল ডাক তৈরি করে। একইসময় ‘মেট্রো ফ্রগ’ বা ‘শহুরে ব্যাঙ’দের নাগরিক পরিবেশে শিকারিদের বিষয়ে কম উদ্বিগ্ন হলেও চলে।

রাতের আঁধারে ব্লাকবার্ড এর গান

সাধারণ প্রজাতির ব্ল্যাকবার্ড (টুর্ডুস মেরুলা) বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন একটি শহুরে প্রাণী। গ্রামীণ এলাকা বা উপশহরে বসবাসকারীদের তুলনায় শহুরে এলাকায় বসবাস এসব প্রাণীর জীবনে নানারকম পরিবর্তন এনেছে।

গবেষক মেন্নো স্কিলথুইযেনের মতে, ইউরোপ এবং উত্তর আফ্রিকাতে তাদের সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি হিসেবে বিবর্তন হচ্ছে।

তিনি লেখেন, “এটা জানা দরকার যে, গবেষণাগারে বনের এবং শহুরে ব্ল্যাকবার্ডের অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে যাদেরকে ছানা হিসেবে ঠিক একই পরিস্থিতিতে লালন-পালন করা হয়েছিল”। সুতরাং তারা প্রকৃতিগতভাবে আলাদা ছিল, জীবনের পদ্ধতিগতভাবে নয়।

এইসব শহুরে পাখি লম্বায় খাটো, ছোটা এবং পুরু ঠোঁট, শীতের সময় অভিবাসী হতে দেখা যায় না। শব্দদূষণ তাদের গান গাওয়ার সময়ও বদলে দেয়।

বনের পাখীদের ভোরবেলা সঙ্গীতের কলকাকলির জন্য মুখরিত। শহুরে পাখিদের সূর্যোদয়ে ঘণ্টা-খানেক আগে গাইতে শোনার কথা জানা বিজ্ঞানীরা।

পুয়ের্তোরিকোর অ্যানল লিযার্ড নাগরিক অভিযোজনের পোস্টারবয় হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন। পাথর এবং গাছপালা বেষ্টিত পরিবেশ থেকে এসে বাসিন্দারা শহরের দেয়াল এবং জানালার মাঝে খাপ খাওয়ানো চ্যালেঞ্জ ছিল।

শহুরে ব্লাকবার্ড
শহুরে ব্লাকবার্ড

“শহরাঞ্চল অন্য আরেক পরিবেশ। সেখানে বসবাসকারী প্রাণীরা কোনভাবেই প্রাকৃতিক সিলেকশনের বিরোধী নয়- ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী ক্রিস্টিন উইনচেল বললেন।

তিনি আরও জানান, শহুরে বসবাসকারী প্রাণীগুলোর পায়ের আঙ্গুলগুলোতে বেশি বেশি লোম থাকে এবং পায়ের পাতা তুলতুলে থাকে। শহরের এবং গ্রামীণ এলাকার গিরগিটির চিত্র-ধারণ করে উইনচেল দেখিয়েছেন যে, পিচ্ছিল ভূ-পৃষ্ঠে শহুরে বাসিন্দা স্বচ্ছন্দে হেটে ছাড়িয়ে গেছে।

তার ভাষায়, “এটা আশ্চর্যের বিষয় যে, এই গিরগিটিগুলো কীভাবে আবাসের সীমাবদ্ধতা এবং মানুষের উপস্থিতির সাথে লড়াই করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে তারা এমনকি উচ্চ তাপমাত্রায় আরও সহনশীল হয়ে উঠেছে”।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে এইসব প্রাণীর অভিযোজন ক্ষমতাকে খাটো করে দেখাটা হবে ভুল।

“এটা এমন নয় যে কোনও প্রজাতি যে বিলুপ্তির হুমকিতে নেই তার অবস্থার শিগগিরই বা বিলম্বে অবস্থার পরিবর্তন হবেনা। এমনকি সাধারণ প্রাণীও বিলুপ্ত হওয়ার আশংকা দেখা যেতে পারে যদি আমরা নিশ্চিত করতে না পারি যে, শহর-নগরের বিকাশও বন্যপ্রাণীর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

মাছের খামারে দুর্বৃত্তদের বিষ, মরলো দেড়শ মণ মাছ

গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাছের খামারে দুর্বৃত্তদের বিষ প্রয়োগে খামারটির প্রায় দেড়শ মণ মাছ মরে গেছে। উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের ভাসানিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শনিবার সকালে স্থানীয় ওই মাছের খামারের মালিক ও ঢাকা জজ কোর্টের শিক্ষানবিশ আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান। এর আগে তিনি গত শুক্রবার কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানাধীন উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন জানান, তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের ভাসানিয়া এলাকায় জমি কিনে শখ করে সেখানে মাছের খামার করেছেন। কিন্তু শখের ওই খামারে দুইদিন আগে কে বা কারা রাতের আঁধারে বিষ ঢেলে দিয়েছে। এতে ওই আইনজীবীর মৎস্য খামারের সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে।

এসআই জাকির আরও জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া জানান, গত ১৩ অক্টোবর তার মাছের খামারের কেয়ারটেকার মোকলেস তাকে ফোন করে জানায় যে, পুকুরের মাছ মরে ভেসে উঠছে। পরে তিনি এসে দেখেন তার মাছের খামারে অবমুক্ত করা বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দেড়শ মণ মাছ মরে ভেসে উঠেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পাঁচ লাখ টন মজুদ থাকার পরও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন

দুই সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কাঁপুনি ধরিয়েছে ক্রেতার পকেটে। গত মাসের শেষ দিকে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা থাকা নিত্যপণ্যটি দাম বেড়ে এখন ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এই দাম বৃদ্ধির পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না ক্রেতা। খোদ বাণিজ্যমন্ত্রী বলছেন দেশে পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ মজুদ আছে, যা দিয়ে আগামী তিন মাস চাহিদা মেটানো যাবে।

পেঁয়াজই নয় শুধু, দাম বৃদ্ধির দৌড়ে আছে চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেলসহ আরও কয়েকটি নিত্যপণ্য। অল্প দিনের ব্যবধানেই দফায় দফায় বাড়ছে এসব পণ্যের দাম। খোদ রাষ্ট্রায়ত্ত ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি এক প্রতিবেদনে বলছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম একমাসে প্রায় ১৯.৬৪ শতাংশ বেড়ে গেছে। একমাসের ভেতর দ্রব্যমূল্যের দাম এর আগে কখনোই এতটা বাড়তে দেখা যায়নি বলেও দাবি সংস্থাটির।

প্রশ্ন উঠেছে, তিন মাসের পেঁয়াজ মজুদ থাকার পরও কেন বাড়ছে দাম? যেখানে মধ্য সেপ্টেম্বরেও সর্বোচ্চ ৫০ টাকা ছিল পেঁয়াজের কেজি সেখানে গত দুই সপ্তাহ ধরে ৭০ থেকে ৮০ টাকা ছাড়া মিলছে না নিত্যপণ্যটি। অবশ্য পেঁয়াজের দাম আপাতত আর বাড়বে না বলেই অভয় দিয়েছেন বাণিজ্য সচিব। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরকে পেঁয়াজের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারে অনুরোধও জানানো হয়েছে।

সোমবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে এক সভায় নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে এই মুহূর্তে পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ মজুদ আছে, যা দিয়ে আগামী আড়াই থেকে তিন মাস চলতে পারে।’

পেঁয়াজসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সব ধরনের চেষ্টা চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা চারদিক থেকে চেষ্টা করছি যাতে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যতদিন পর্যন্ত আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ না হবো, ততদিন পর্যন্ত কখনো কখনো আমাদের মূল্য নিয়ে ক্রাইসিসে পড়তে হবে।’

যদিও পেঁয়াজের দাম কবে নাগাদ সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে বাণিজ্যমন্ত্রী ও সচিব বলতে পারেননি। অবশ্য আরেক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক পেঁয়াজের দাম ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে কমে আসবে বলে জানিয়েছেন।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘পেঁয়াজসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম সত্যিই অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। তাই কথা বলার চেয়ে এগুলো নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করা যায় সেদিকে মন দিতে হবে দায়িত্বশীলদের।’

দুদকের সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে আমরা বারবার বলে আসছি। বিশেষ করে পেঁয়াজ নিয়ে এমন কিছু হবে এটা অনেকেই আশঙ্কা করেছিল। উচিত ছিল ভারত ছাড়া অন্য উৎসগুলো থেকে আগেভাগে পেঁয়াজ আমদানি নিশ্চিত করা।’

পেঁয়াজ নিয়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস প্রতি বছরই ওঠে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত রপ্তানি বন্ধ করায় দেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। দফায় দফায় বেড়ে তখন পণ্যটির দাম কেজি প্রতি ৩০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছয়। তবে বিকল্প উৎস থেকে সরকারি ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আমদানি করে সেবার পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।

দুই সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার কারণ নিয়ে কৃষিমন্ত্রীর ভাষ্য, পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে সেই এপ্রিল মাসে, এত দিন পর্যন্ত পেঁয়াজ থাকে না। তাই কৃষকেরা সব বিক্রি করে দেন। পেঁয়াজ পচনশীল ও মজুদ রাখার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। আর একারণে মৌসুমের শেষের দিকে বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়।

গত রবিবার এক অনুষ্ঠানে দাম কমার বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রীষ্মকালীন ও আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে আসার পরপরই আগামী ১৫ থেকে ২০ দিন পর দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

অবশ্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কিছুটা ভিন্ন কারণ দেখিয়েছেন। তিনি বলছেন, ‘যতদিন পর্যন্ত আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ না হবো, ততদিন পর্যন্ত কখনো কখনো আমাদের মূল্য নিয়ে ক্রাইসিসে পড়তে হবে। এছাড়া বৃষ্টিজনিত কারণে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে।’

পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে সব ধরণের চেষ্টার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ভারত ছাড়া মিয়ানমার থেকে যদি পেঁয়াজ আনা যায়, তাহলে কিন্তু এত প্রেশার (চাপ) পড়ার কথা না। গত বছরের তুলনায় এবছর অন্তত এক লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন বেশি হয়েছে।’ শুধু পেঁয়াজ নয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে ১৭টি পণ্য রয়েছে সেগুলোর মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মনিটর করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে পেঁয়াজ উৎপাদন কম হয় জানিয়ে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ জানান, নভেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষে বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসবে। ভারতের বেঙ্গালুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে সেখানকার বাজারে দাম বেড়ে গেছে উল্লেখ করে সচিব বলেন, সেটার প্রভাবে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম ব্যবসায়ীরা বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিছু ভারতের দাম বাড়ার জন্য এবং কিছু আশঙ্কা থেকে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

তিন মাসের পেঁয়াজ মজুদ থাকার পরও দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে জানতে চাইলে ক্যাব চেয়ারম্যান গোলাম রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, মন্ত্রী হয়তো ধারণা করে বলেছেন। যে পেঁয়াজ আছে সেটা তো কৃষকের ঘরে। এখন কৃষক কয় টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করবে সেটা তার বিষয়। এজন্য বিপদের আগেই স্বল্প মেয়াদে একাধিক উৎস থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। দেশে পেঁয়াজের উৎপাদনশীলতাও বাড়াতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

চাঁদপুরে ৭৫ কেজি মা ইলিশ ৫৫ লাখ মিটার জালসহ ৩১ জেলে আটক

লেখক

জেলার পদ্মা- মেঘনায় প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় অভয়াশ্রমে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে চাঁদপুর  নৌ-পুলিশ।  শনিবার অভিযানের ষষ্ঠ দিন ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত চলা নৌ-পুলিশের এ অভিযানে ৭৫ কেজি মা ইলিশ ৫৫ লাখ মিটার কারেন্ট জালসহ ৩১ জেলেকে আটক করা হয়। 
এ অভিযানে  অংশ নেয় নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জমান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান। এসময় চারটি ফাঁড়ি এবং একটি থানার পুলিশ সদস্যরা অভিযানে যোগ দেন। এছাড়া নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য্যসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত  ছিলেন। 


পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজজ্জামান বাসসকে জানান, চাঁদপুর সদরের রাজরাজেশ্বর ও তার আশপাশের পদ্মা ও মেঘনা নদীর বেশকিছু এলাকায় শনিবার সকাল থেকে  এ সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। তিনি আরো জানান, অভিযানকারী দলটি দেখে জেলেরা জাল ও নৌকা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেন। এসময় আটক ৩১ জেলের জাল থেকে  ৭৫ কেজি মা ইলিশ, ৮টি নৌকা,  প্রায় ৫৫ লাখ মিটার কারেন্ট  জাল আটক করা হয়।   


এদিকে, গত ৬ দিনের অভিযানে  সবমিলিয়ে চাঁদপুর জেলায়  এ পর্যন্ত এক কোটি দশ লাখ মিটার কারেন্ট  জাল, ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার ১৫টি নৌকা এবং প্রায় চারশ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। এ সময় আটক করা হয়েছে ৮০ জন জেলেকে। অন্যদিকে, আটক দের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলাসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

তরমুজ থেকে তৈরি হচ্ছে ‘গুড়’, নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

তরমুজ থেকে তৈরি হওয়ায় গুড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘তোগুড়’

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ছোটবন্ড গ্রামে  কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় তরমুজ থেকে গুড় উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সেই উৎপাদিত গুড়ের নাম দিয়েছেন “তোগুড়”।

কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল জানান, ২০১৯ সাল থেকে তিনি তরমুজ চাষ শুরু করে সফলতা পান। এরপর তরমুজের রস মিষ্টি এবং পাতলা বলে তা জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করে সফল হন। 

তিনি আরও বলেন, “শুরুতে প্রায় তিন কেজি গুড় তৈরি করে পাড়া প্রতিবেশী, উপজেলা কৃষি অফিসারসহ অনেককেই খাইয়েছেন। আবার অনেকেই সে গুড় ৩০০ টাকা কেজি দরে কিনতেও চেয়েছেন।”

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মোছাদ্দেক হোসেন জানান, আমাদের দেশের গুড় শিল্প দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, তাল ও খেঁজুর গাছের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি, গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য গাছির সংখ্যাও কমছে। এছাড়া, উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলগুলো তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তরমুজের মৌসুমের সময়ে কৃষকরা তরমুজের জন্য ন্যয্য মূল্য পান না। তাই তরমুজের গুড় কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তাই বাণিজ্যিকভাবে তরমুজের গুড় তৈরি করলে কৃষকরা তার ন্যায্যমূল্য পাবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পদ্মায় ইলিশ ধরার সময় আটক ৫৫ জেলে

মুন্সিগঞ্জের পদ্মা নদীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ ধরার সময় আটক করা হয়েছে ৫৫ জন জেলেকে। আটকদের মধ্যে ৩৭ জনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে রোববার (১৭অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত লৌহজং উপজেলা সংলগ্ন পদ্মা নদীর বিভিন্ন অংশে ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালায় উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। এতে সহায়তা করে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার হামিদ এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

জানা যায়, অভিযানে ১ লাখ ২০হাজার মিটার কারেন্টজালসহ একটি মাছ ধরার নৌকা ও ২৫০কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করায় জেলেদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

jagonews24

লৌহজং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান আসাদ জাগো নিউজকে জানান, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যদের সহায়তায় নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ ধরা বন্ধ করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ৫৫ জেলেকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৭ জনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকিদের মধ্যে ১৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর একজন প্রতিবন্ধী ছিলেন।

jagonews24

তিনি আরও জানান, দুপুরে জব্দ করা ইলিশ মাছ স্থানীয় বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। আর কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com