আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

শস্যবিমা: সোনার হরিণই থেকে যাবে?

শস্যবিমা: সোনার হরিণই থেকে যাবে?

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের পুরো জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণের মূল ঝুঁকিটি নিতে হয় কৃষককে। কারণ, কৃষি উৎপাদন বিষয়টিই ঝুঁকিপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। যার সঙ্গে মাটি, পানি ও জলবায়ুর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সম্পর্ক রয়েছে যত্ন ও পরিচর্যার। সম্পর্ক রয়েছে সঠিক সময়ে সঠিক উপকরণ প্রয়োগের। আবার প্রকৃতির প্রতিটি অংশের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও বীজ রোপণের সময় থেকে শুরু করে ফসল তোলার আগ পর্যন্ত কৃষক নিশ্চিত করে বলতে পারেন না ষোল আনা ফসল ঘরে উঠবে কি না। বিজ্ঞান অগ্রসর হওয়ায় অনেক কিছুই কৃষকের হাতের নাগালে এসেছে, কিন্তু তার পরও ঝুঁকি কমেনি, বরং বেড়েছে।  আর বাংলাদেশের জন্য এই ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা অনেক বেশি প্রযোজ্য। পৃথিবীর শীর্ষ ১০টি দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের প্রথমটিই বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন অভিজ্ঞতা আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ সঙ্গে করেই চলে এ দেশের কৃষি।

পরিবেশ, প্রকৃতির পরিবর্তন, জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ও সব ক্ষেত্রে ব্যাপক বাণিজ্যিকায়নের কারণে সনাতন পদ্ধতির কৃষির ওপর আর আস্থা রাখার সুযোগ নেই। সে কারণেই একদিকে চলছে প্রতিটি ফসলের বেশি ফলন নিশ্চিত করার প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে চলছে ফসলবৈচিত্র্য ও শস্য বহুমুখীকরণের দৌড়। অর্থাৎ প্রাকৃতিক অনিশ্চয়তার ভেতরেই ফসলবৈচিত্র্য, উচ্চমূল্যের ফল-ফসল আবাদ ও শস্য বহুমুখীকরণের ঝুঁকি কৃষক নিজেই মাথায় নিচ্ছেন। কারণ একটাই। তা হচ্ছে, নিজস্ব খাদ্য চাহিদা পূরণ, আর্থিক সংগতি অর্জন ও সর্বোপরি কৃষির সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। সে কারণে, কৃষক প্রতিনিয়ত পাড়ি দিচ্ছেন কঠিন এক ঝুঁকিপূর্ণ সময়। সবকিছু এড়িয়ে ফসল ঘরে উঠে গেল তো কৃষকের ভাগ্যপ্রসন্ন, আর না উঠল তো কৃষকের ভরাডুবি। এই পরিস্থিতি মেনে কৃষক পথ চলছেন বহুদিন ধরে। কিন্তু দেশের মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণে তাঁদের যে ভাবনা, সে ভাবনা তো রাষ্ট্রের। কৃষক যেখানে রাষ্ট্রের ভাবনাটি ভাবছেন, দায়িত্বটা পালন করছেন, তাহলে তাঁদের ঝুঁকির ভাগ রাষ্ট্র কেন নেবে না?

প্রশ্ন এখানেই। এই চিন্তা থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কৃষিতে ঝুঁকি সামলে উঠতে কৃষকের জন্য বিমার ব্যবস্থা রয়েছে। এ দেশে এই শস্যবিমা ধারণাটি কয়েক বছর আগ পর্যন্ত একেবারেই মূল্যায়িত হয়নি। যত দূর জানা যায়, ১৯৭৬ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত ‘উন্নয়নশীল দেশের জন্য শস্যবিমা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৭ সালে দেশে পরীক্ষামূলকভাবে ‘শস্যবিমা প্রকল্প’ চালু করে। ১৯৮১ সালের পর প্রকল্পের গতি মন্থর হয়ে যায়। তবে গতি মন্থর হলেও ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তা চালু ছিল। প্রকল্পটি আরও শক্তিশালী করার জন্য ১৯৯৬ সালে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিভিন্ন সুপারিশের একটি প্রতিবেদন তৈরি করলেও এ ব্যাপারে সরকারের কাছ থেকে কোনো দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় প্রকল্পটি আর চালু হয়নি। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৯ সালের জানুয়ারিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে কৃষকদের জন্য নামমাত্র প্রিমিয়ামে বিমা চালুর সুপারিশ করা হয়। এগুলো তথ্যপত্রে পাওয়া গেলেও শস্যবিমার বাস্তবতা সত্যিকার অর্থে কৃষক কখনো চোখেও দেখেননি।

সত্তরের শেষ থেকে এখন পর্যন্ত নিয়মিত গ্রামে যাচ্ছি। কৃষকদের সঙ্গে তাঁদের সমস্যা-সংকট নিয়ে কথা হচ্ছে। কথা হচ্ছে তাঁদের ঝুঁকি নিয়ে। কিন্তু কৃষকের ঝুঁকির অংশীদার কেউই হতে চায় না। ২০০৫ সাল থেকে জাতীয় বাজেটের আগে যখন কৃষকের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনার আয়োজন করছি, তখন থেকে কৃষকদের মধ্যে শস্যবিমার ধারণাটি নিয়ে কম-বেশি আলোচনা চালু করেছি। সে সময় থেকে জাতীয় বাজেটের আগে সরকারের কাছে সুপারিশমালা হিসেবে শস্যবিমা বাস্তবায়নের অনুরোধও জানানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক তথ্য হচ্ছে, ২০০৯ সালে বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কৃষকের জন্য শস্যবিমার এই প্রস্তাবটির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেন। সে সময় থেকেই সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে শস্যবিমার বিষয়ে কাজ চলছে বলে খবর পাওয়া যায়। যাই হোক, বিষয়টির একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে একেবারে সাম্প্রতিক অগ্রগতি হলো, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং জাপান সরকার শস্যবিমা পরীক্ষামূলকভাবে সম্পাদন করার লক্ষ্যে একটি যৌথ তহবিল গঠন করেছে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র কৃষক ও খামারিদের ফসলের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করা যাবে, বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি থেকে। ওয়েদার ইনডেক্স বেইজড শস্যবিমার পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণের উদ্দেশ্যে জাপান ফান্ড ২০ লাখ ডলার অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা সম্প্রতি অনুমোদন দিয়েছে এডিবি। তারা এই অর্থের তদারকি করবে।

এই প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ করছে চার লাখ ২০ হাজার ডলার। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের বিমাকরণে উদ্বুদ্ধ করা, যাতে তাঁরা নিরাপদে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো হলেও ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মঙ্গোলিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ডসহ পৃথিবীর বহু দেশে শস্যবিমা অনেক দিন ধরেই চলে আসছে। জানা গেছে, অন্তত ১২ হাজার কৃষক পরিবারকে সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি তিন বছর সময়সীমার মধ্যে নির্বাচিত জেলাগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে শস্যবিমা কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। প্রচলিত বিমার ক্ষেত্রে চড়া লেনদেনমূল্য এবং দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে গ্রামাঞ্চলে বিমা প্রদান করা কষ্টসাধ্য ও ব্যয়সাপেক্ষ বিবেচনা করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রিমিয়ামের হার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। কৃষি ব্যাংক, বহুমুখী (মাল্টিপারপাস) আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং কৃষি সমবায়ের মতো সংগঠনগুলো এই প্রকল্পের সঙ্গে প্রকল্পটির টেকসই বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করবে একসঙ্গে।

আবহাওয়া বিষয়ে সঠিক তথ্য আহরণের লক্ষ্যে জাপান এরোস্পেস এজেন্সির সহায়তায় একটি রিমোটচালিত মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তির বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ২০টি আবহাওয়াকেন্দ্রের উন্নয়ন হবে এবং সরকারি ও আবহাওয়াসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান, বিমাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মিলিয়ে ৪০০ জনকে আবহাওয়া ইনডেক্সভিত্তিক বিমার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

হ্রাসকৃত প্রিমিয়াম এবং উন্নত বিতরণব্যবস্থার পাশাপাশি এই বিমা পদ্ধতি কৃষকদের অন্যান্য সুবিধা প্রদান করবে। যেমন শুষ্ক মৌসুমে আয়সহায়তা প্রদান, ঋণসুবিধা, ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ কৃষকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ইত্যাদি। কমপক্ষে ছয় হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকের জন্য বিমা সম্পর্কে সচেতনতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জলবায়ু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সেমিনারের আয়োজন করা হবে। নিয়ন্ত্রণ ও আইনি কাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে যেখানে অপ্রচলিত বিমাপণ্যের সমাবেশ থাকবে। প্রকল্পটি এডিবির সহায়তায় সেকেন্ড ক্রপ ডাইভারসিফিকেশন প্রজেক্টের (এসসিডিপি) সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। নতুন বিমাপণ্যগুলো ক্ষুদ্র আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা সরবরাহকৃত ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে কৃষকের উৎপাদিত ফসল হবে মূল্য সংযোজিত।

শস্যবিমা নিয়ে এবারের আয়োজনটি ইতিবাচক, কিন্তু সবকিছুই নির্ভর করছে পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর। আমি ব্যক্তিগতভাবে ও আমার বিভিন্ন টেলিভিশন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সরকারের কাছে যে বিষয়ে বারবার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি তা হচ্ছে, কৃষকের বিনিয়োগকে মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ করে, বর্তমান সময়ে উচ্চমূল্যের ফল ও ফসল—আম, কুল, লিচু, পেয়ারা, স্ট্রবেরি ও ড্রাগন ফলে কৃষক অনেক বেশি বিনিয়োগ করছে। এই ফলগুলোর আবাদ কৃষককে এক বছরের মধ্যে যেমন ভাগ্য পাল্টে দিচ্ছে, একইভাবে আর্থসামাজিকভাবে পথেও বসার উদাহরণও আছে। এ ক্ষেত্রে যদি বিমার ব্যবস্থা থাকত, তাহলে কৃষকের একার ওপর ক্ষতির চাপ পড়ত না। স্পষ্টতই আমার মনে হয়, ধান আবাদের ক্ষেত্রে শস্যবিমা এত দ্রুত হয়তো সম্ভব হবে না। তবে যেকোনো উচ্চমূল্যের ফল, ফসল ও কৃষির উপখাতগুলো অনায়াসেই আসতে পারে বিমার আওতায়। যেমন পোলট্রি ও মৎস্য খাত।

এখানেও জলবায়ুগত ও সামাজিক অনেক কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। শত্রুতামূলকভাবে বিষ দিয়ে কৃষকের পুকুরের মাছ ধ্বংস করে দেওয়া হয়। কিন্তু কৃষক এই ক্ষতি কোনোভাবেই পুষিয়ে উঠতে পারেন না। এই ঝুঁকিতে কেউ মৎস্যচাষির পাশে নেই। আবার দুগ্ধ খামার বা পশু পালনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। এসব ক্ষেত্রে বিমাব্যবস্থা না থাকার কারণে, তৃণমূল পর্যায়ে আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিষয়টি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমার পরামর্শ হচ্ছে, ক. একযোগে বিমাব্যবস্থাটি উচ্চমূল্যের ফল-ফসল আবাদ, পোলট্রি খাত, মৎস্য খাত ও দুগ্ধ খামার খাতের জন্য চালু করতে হবে। খ. এ ক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যাংক বা বিমাপ্রতিষ্ঠানের মাঝামাঝি ঝুঁকির অংশীদার হিসেবে আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে হবে। যা কৃষক ও বিমাপ্রতিষ্ঠান—দুয়ের ঝুঁকিকেই ভারসাম্যপূর্ণ করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। গ. বিমার প্রিমিয়াম নামমাত্র ধার্য করতে হবে। ঘ. বিমা কার্যক্রম চালুর আগে অবশ্যই কৃষকের স্তর (বড়, মাঝারি, ক্ষুদ্র, ভূমিহীন, বর্গাচাষি) নিরূপণ করে নিতে হবে। সবকিছু নির্ভর করছে কার্যকর বাস্তবায়ন, কৃষকের চাহিদা ও দাবি মূল্যায়নের ওপর। সব মিলিয়ে সরকারের গ্রহণ করা নতুন প্রকল্প সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকের মন্তব্যটি বেশ ইতিবাচক। তারা বলেছে, বাংলাদেশে কৃষিবিমা চালু হলেও তা এমনভাবেই হওয়া উচিত যাতে করে প্রান্তিক ও দরিদ্র কৃষকেরা এর সুফল ভোগ করতে পারেন।

বাংলাদেশ

অসময়ের শিম চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

‘রূপভান’, ‘রানী’- দুটি আগাম জাতের শিমের নাম। চলতি মৌসুমে রূপভান ও রানীর মতো বিস্কুট, অটো, ইপসা-১,২ এবং বারী-১, ২ ও ৪ এ আগাম জাতের শিম চাষ হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি শীতকালীন সবজি হিসেবে শিমের আবাদ করছেন কৃষকরা। মাঠজুড়ে শাদা ও বেগুনি ফুলে ফুলে ভরে গেছে মাচা। এর মাঝে মাঝে
উঁকি দিচ্ছে নতুন শিম।

চোখ জুড়ানো দৃশ্য। আসি আসি করছে শীত। এরই মধ্যে চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় শীতকালীন সবজি হিসেবে শুরু হয়েছে শিমের আবাদ শিমের মাচা ভরে গেছে শাদা-বেগুনি ফুলে। আসতে শুরু করেছে শিমও। এসব আগাম জাতের শিম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা অনুকূল আবহাওয়ায় শিমের ভালো ফলন ও বাজারে উচ্চমূল্য পাওয়ায় বেশ খুশি চাষিরাও।

ইতোমধ্যেই আগাম জাতের শিম উঠতে শুরু করেছে বাজারে। ভালো দামও মিলছে। পুষ্ট গাছ ও প্রচুর ফুল ফোটায় চলতি মৌসুমে শিমের ভালো ফলন হবে বলে মনে করছেন চাষিরা। ফলে করোনার দুঃসময়েও তাদের মুখে এখন মিষ্টি হাসি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, এ বছর জেলার চার উপজেলায় মোট ৭১৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের শিমের আবাদ হয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় ৬৮ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ২০৫ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় ৩৭১ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩০ হেক্টর ও জীবননগর উপজেলায় ১১২ হেক্টর জমিতে শিম চাষ করেছেন কৃষকরা।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শিম তুলতে ব্যতিব্যস্ত দেখা গেছে চাষিদের। গ্রামীণ সড়কে দাঁড়িয়ে যতো দূর চোখ যায় শুধুই শিমের সবুজ ক্ষেত। সবুজ পাতা আর বেগুনি ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে আদিগন্ত মাঠ।

ক্ষেতের পরিচর্যা ও নতুন শিম তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। শিম বিকিকিনির জন্য গ্রামে গ্রামে বসেছে অস্থায়ী বাজার। এসব বাজার থেকে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নছিমন-করিমন ও ট্রাকবোঝাই করে শিম যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে। এখানে বর্তমানে পাইকারিতে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। প্রথম দিকে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা দরেও শিম বিক্রি করেছেন বলে জানান কৃষকরা।

দামুড়হুদা উপজেলার ভগিরথপুর গ্রামের চাষি বাদশা মন্ডল বলেন, তার ২ বিঘা জমিতে শিমের লতায় ও ফুলে ভরে গেছে মাচা। ফুল ভরে গেছে প্রতিটি ডগা। ইতোমধ্যে শিম আসতে শুরু করেছে গাছে। প্রথম দিকে প্রচন্ড রোদ ও পোকার আক্রমণের কারণে ফুলে পঁচা লাগতো।

কৃষি বিভাগের পরামর্শে কঠোর পরিশ্রম, নজরদারি, সার ও বালাইনাশক স্প্রে করার পর ফল দেখা দিয়েছে। এখন আর পঁচা লাগে না। একই উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম জানান, শিম মূলত শীতকালীন সবজি। বেশি দামের আশায় একটু আগেভাগে শিমের আবাদ করেছেন তিনি।

বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। কিছুদিন আগেও প্রতি কেজি শিম বিক্রি হতো ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা দরে। বর্তমানে উৎপাদন বাড়ায় কিছুটা কমেছে শিমের দাম। নতিপোতা গ্রামের পাইকারি শিম ব্যবসায়ী সোলায়মান হক জানান, স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে শিম কিনে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পাঠানো হয়।

ইতোমধ্যেই নতুন শিম পাঠানো শুরু হয়েছে। খুচরা বাজারেও চাহিদা ও দাম ভালো আছে শিমের। দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, কৃষকরা এখন সচেতন হওয়ায় যেকোনো সমস্যায় সরাসরি স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ নেন তারা। সাধারণত আগাম সবজি চাষ ঝুঁকিপূর্ণ। তবে, অসময়ে এ আবাদ থেকে চাষিরা বাড়তি আয় করতে পারেন। এসময় পোকা মাকড়, শাদা মাছি, শিম ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ বেশি থাকে।

নিয়মিত পরিচর্যা ও নজরদারিতে রেখে বালাই নাশক স্প্রে করলে ফলন ভালো পাওয়া সম্ভব। তিনি আরও জানান, এবার চলতি মৌসুমেরর শুরুতেও শিম ক্ষেতে ছত্রাক ও পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সুষ্ঠু পরিচর্যায় শেষ পর্যন্ত শিমের ফলন ভালো হচ্ছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার দামও ভালো। শিমের উৎপাদন বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বাড়াল সরকার

কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন করে আলুর দাম নির্ধারণ করল কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার অধিদপ্তরে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় আলুর দাম খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।

নতুন দর অনুযায়ী, হিমাগারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হবে ২৭ টাকা দরে। পাইকারি এ আলু ৩০ টাকায় বিক্রি করবেন ব্যবসায়ীরা। এর আগে গত ৭ অক্টোবর আলুর দাম হিমাগার পর্যায়ে ২৩ টাকা, পাইকারিতে ২৫ টাকা ও খুচরায় ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যদিও এই দাম কোথাও কার্যকর হয়নি।

বাজারে ব্যাপকভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় আলুর দর নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। গত সপ্তাহে ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি আলু ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়।

যা স্মরণকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। ৭ অক্টোবর দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পর আলু কেজিপ্রতি ৫ টাকা কমে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয় ঢাকার বাজারে। দাম নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে অভিযান চালানো হয়। এরপর গত দুই দিন ঢাকার কারওয়ান বাজারে আলু বিক্রি বন্ধ ছিল। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হিমাগার থেকে আলু বিক্রি করা হয়নি।

আজ বিকেলে দাম নির্ধারণ নিয়ে সভার পর কৃষি বিপণন অধিদপ্তর একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। এতে বলা হয়, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জেলা কর্মকর্তাসহ সরকারের অন্যান্য সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসন আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে পর্যবেক্ষণের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিজ্ঞপ্তিতে আলুর নতুন দাম কার্যকর করতে জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়।

সভায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ সভাপতিত্ব করেন। এতে কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

২৫ টাকায় আলু বেচবে টিসিবি

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ক্রেতাদের সাশ্রয়ী মূল্যে আলু সরবরাহের জন্য ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাক সেলের মাধ্যমে সবজিটি বিক্রি করা হবে। টিসিবি প্রতি কেজি আলু ২৫ টাকায় বিক্রি করবে।


সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আজ রোববার কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন, আলুর পাইকারি বিক্রেতা, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে সরকার–নির্ধারিত মূল্যে আলু বিক্রি নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

দেশে আলুর কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে আলুর কোনো ঘাটতি নেই। প্রচুর আলু আবাদ হয়েছে। বন্যা ও বৃষ্টির কারণে সবজির আবাদ কিছুটা ক্ষতি হওয়ায় আলুর চাহিদা বেড়েছে। তবে সরকার–নির্ধারিত মূল্যের বেশি আলুর দাম হওয়ার কোনো কারণ নেই।


প্রসঙ্গত, সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কোল্ড স্টোরেজ পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর দাম ২৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে।


গতকালের সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. ওবায়দুল আজম, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) মো. হাফিজুর রহমান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোস্তাক হোসেন, ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মো. আবু রায়হান আল-বেরুনি প্রমুখ। সভাটি সঞ্চালনা করেন বাণিজ্যসচিব মো. জাফর উদ্দীন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কাপাসিয়ার বাজার থেকে আলু উধাও

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা প্রশাসন সরকার নির্ধারিত ৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে গত বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এর পর থেকে বাজারগুলোতে আলু পাওয়া যাচ্ছে না। রোববার সকালেও কাঁচা বাজার ছিল আলুশূন্য। এ পরিস্থিতিতে আড়তদারদের ডেকেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)।

শনিবার সন্ধ্যা ও রোববার সকালে কাপাসিয়া উপজেলা সদরের বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা সবজি বিক্রেতাদের দোকানে অন্যান্য সবজি থাকলেও আলু নেই।

কাঁচা সবজি বিক্রেতারা ইচ্ছে করেই আলু বিক্রি করছেন না এমন অভিযোগ ক্রেতাদের। কাপাসিয়া এলাকার তপন বিশ্বাস নামের এক ক্রেতা বলেন, বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারির পর শুক্রবার বাজার পর্যবেক্ষণ করা হয়। তখন বাজারে বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশিত ৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হন বিক্রেতারা। কিন্তু পর্যবেক্ষণ দল চলে যাওয়ার পর শুক্রবার বিকেল থেকে বিক্রেতারা আর আলু বিক্রি করছেন না। এমনকি শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নাগাদ কাপাসিয়া উপজেলা সদরের কাঁচাবাজারে ক্রেতারা আলু কিনতে পারেননি।

মোবারক হোসেন নামের এক ক্রেতা আলু কিনতে গিয়ে হতাশ হয়েছেন। তিনি বলেন, বাজারে কোনো দোকানেই আলু বিক্রি করা হচ্ছে না। এতে ভোক্তারা বিপাকে পড়েছেন।

এ বিষয়ে দুজন কাঁচা সবজি বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাদের কাছে থাকা সব আলু বিক্রি হয়ে গেছে। এখন অনেক বেশি দামে পাইকারি কিনে আনতে হয়। বেশি দামে কিনে কম দামে তাঁরা আলু বিক্রি করতে চান না। উপজেলা প্রশাসন থেকে বেঁধে দেওয়া ৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করলে পাইকারি ক্রয়মূল্য থেকে আরও ১৫ টাকা গচ্চা দিতে হয়।

তবে ক্রেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বলেছেন, পর্যাপ্ত আলু থাকার পরও ব্যবসায়ীরা তা বিক্রি করছেন না বলে তাঁদের ধারণা। সরকার নির্ধারিত টাকায় বিক্রি করলে লাভ কম হওয়ায় তারা এমনটা করছেন বলে তাদের অভিযোগ।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. ইসমত আরা প্রথম আলোকে বলেন, বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন তিনি। বাজারে আলুর কৃত্রিম সংকট থাকলে এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি। জেলা বাজার কর্মকর্তার বরাত দিয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোববার আড়তদারদের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ডাকা হয়েছে। সেখানে ডিসি মহোদয়ের উপস্থিতিতে সভা হবে। তখন হয়তো একটা সিদ্ধান্ত আসবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

পদ্মায় ধরা পড়া ঘড়িয়াল এল বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে

রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা নদীতে ধরা পড়া ঘড়িয়ালটিকে গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে আনা হয়েছে। বুধবার রাত সোয়া ৯টায় সাফারি পার্কে ঘড়িয়ালটি অবমুক্ত করা হয়। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক আবদুল্লাহ আস সাদিক ঘড়িয়ালটিকে সাফারি পার্কে নিয়ে আসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গত মঙ্গলবার দুপুরে পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের শাহাপাড়া গ্রামে পদ্মা নদীতে এক জেলের জালে ঘড়িয়ালটি ধরা পড়ে। জেলে বাদশা মিয়া এটিকে হাবাসপুর বাজারে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি গ্রুপে ঘড়িয়ালের ছবিটি প্রকাশ হয়। এ তথ্য পেয়ে বন সংরক্ষক (বন্য প্রাণী) মিহীর কুমার দো বিষয়টি বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের নজরে আনেন।
পরে আবদুল্লাহ আস সাদিক সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল আলীমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চেয়ারম্যানকে প্রাণীটির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে নিরাপত্তা দিতে বলেন। চেয়ারম্যান ঘড়িয়ালটিকে সামাজিক বন বিভাগ ফরিদপুরের কাছে হস্তান্তর করার ব্যবস্থা করেন। বুধবার বেলা ২টায় প্রাণীটি বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় প্রাণীটিকে গাজীপুরের শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে অবমুক্ত করা হয়।

বন বিভাগের সরীসৃপবিদ সোহেল রানা জানান, এটি পুরুষ ঘড়িয়াল। বয়স হতে পারে ১ বছর। দৈর্ঘ্য ৪ ফুট ২ ইঞ্চি। ওজন ১৫ কেজির মতো হবে।


সাফারি পার্কের ওয়াইল্ডলাইফ সুপারভাইজার মো. আনিসুর রহমান বলেন, এটিকে আনার পর পার্কের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ম মেনে অবমুক্ত করা হয়েছে। ঘড়িয়াল সারা পৃথিবীতেই মহা বিপদাপন্ন। বাংলাদেশের মিঠা পানিতে একসময় হরহামেশাই ঘড়িয়াল দেখা যেত। কিন্তু এখন একদমই কমে গেছে।


বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে জলচর এ ঘড়িয়াল অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির হয়। এরা দৈর্ঘ্যে ৪ থেকে ৭ মিটার হয়। বাংলাদেশে একসময় বিভিন্ন নদীতে ঘড়িয়াল দেখা যেত। বিশেষ করে পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও এর শাখা-প্রশাখায় এদের দেখা মিলত। এদের দেখা যেত পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটানসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে। ঘড়িয়াল নদীর পাড়ে গর্ত খুঁড়ে সেখানে ডিম পাড়ে। ডিম পেড়ে তা মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়। এরপর সেগুলো থেকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর বাচ্চা বের হয়।


সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পার্কে আগে থেকেই ছয়টি ঘড়িয়াল আছে। এর মধ্যে একটি স্ত্রী। বাকি সব পুরুষ। আজ আরও একটি নতুন পুরুষ ঘড়িয়াল যোগ হয়েছে। বর্তমানে সাফারি পার্কে ঘড়িয়ালের সংখ্যা হলো সাতটি। তিনি বলেন, উদ্ধার করে আনা ঘড়িয়ালটি বিশেষ তত্ত্বাবধানে থাকবে। এটি কিছুটা শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com