আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

শখের বেনারসি যত্নে রাখার সঠিক নিয়ম

শীত এলেই বিয়ের ধুম পড়ে। আর বিয়ে মানেই বেনারসি শাড়ি পরার প্রতিযোগিতা। কে কেমন ঘরানার শাড়ি পরবেন এ নিয়ে রীতিমতো চলে লড়াই। বিশেষ করে কনে সাজাতে বেনারসির যেন বিকল্প নেই। আর যুগ যুগ ধরে বাঙালির ঐতিহ্যে বেনারসি শাড়ি রয়েছে প্রথম সারিতে। এর কদর আধুনিক যুগেও বিদ্যমান।

তবে নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান শেষে শখের শাড়িটি তুলেই রাখতে হয়। আর এখানেই ঘটে যতো বিপত্তি। অনেকেই জানেন না বেনারসি শাড়ি কীভাবে যত্ন করতে হয়। এত সুন্দর কাজ করা শাড়ি যত্ন করে তুলে রাখার তো বিশেষ পদ্ধতি আছে! অন্য শাড়ির মতো তো রাখলে হবে না।

যেভাবে ধোবেন বেনারসি: পানি-ডিটারজেন্টে ডুবিয়ে কখনো বেনারসি ধোবেন না। ড্রাই ওয়াশ করাটাই সবচেয়ে ভালো। এজন্য লন্ড্রিতে পরিষ্কার করাই নিরাপদ।

দাগ তুলবেন যেভাবে: বেনারসি শাড়িতে দাগ লেগে গেলে ওই স্থানে পানি দিয়ে কখনো ঘষবেন না। এতে কিন্তু হীতে বিপরীত হতে পারে। এজন্য প্রথমে ওই স্থানে সামান্য পেট্রোলিয়াম জেলি দিতে হবে। এরপর নেইলপলিশ রিমুভার ব্যবহার করতে পারেন। এরপর একটি টিস্যু পেপার দিয়ে জায়গাটা মুছে নিন।

এ ছাড়াও আপনি চাইলে বেকিং সোডা দাগের স্থানে ছিটিয়ে ব্রাশ দিয়ে অল্প করে ঘষে তারপর অল্প পানি দিলেই দাগ উঠে যাবে। তবে মনে রাখবেন, শাড়ি শুকাবেন ফ্যানের বাতাসে। রোদে দিলেই কিন্তু বেনারসি তার রং হারাবে।

ইস্ত্রি করবেন যেভাবে: ইস্ত্রি করার প্রয়োজন হলে লন্ড্রিতে দিতে পারেন, আবার নিজেও করতে পারেন। প্রথমেই ইস্ত্রির হিট কমানো রয়েছে কি না দেখে নিন। আর শাড়ি ইস্ত্রি করার সময় অবশ্যই উপরে অন্য একটি পাতলা সুতি কাপড় দিয়ে নেবেন।

আলমারিতে সংরক্ষণের নিয়ম: বেনারসি আলমারিতে রাখা ততটা সহজ নয়। এজন্য খবরের কাগজ বা পাতলা সুতির কাপড় কিছু না কিছুর মধ্যে ঢুকিয়ে রাখতে হবে। সুতি কাপড় হলে সবচেয়ে ভালো।

লক্ষ্য রাখবেন, বেনারসি যাতে অন্য শাড়ির সঙ্গে না রাখা হয়। এতে ঘষা লেগে সুতা উঠে আসতে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয়, হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখবেন না এ শাড়ি। বেনারসি ভারি হওয়ায় এটি ঝুলিয়ে রাখলে কুঁচকে যেতে পারে। তাই আলমারির তাকে রাখুন, একটু ফাঁকা ফাঁকা করে।

দৈনন্দিন

সারা দিনই ক্লান্ত লাগে যেসব কারণে

লেখক

বিভিন্ন কারণেই ক্লান্তি আসতে পারে শরীর ও মনে। কারও আবার ঘুমের আগে ক্লান্তি, ঘুম থেকে উঠেও ক্লান্তি এমনকী সারা দিনই ক্লান্ত লাগে।

সাধারণত গ্রামের তুলনায় শহুরে মানুষদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা বেশি দেখা দেয়। যেসব কারণে সারাদিন শরীর ক্লান্ত লাগতে পারে-

খাওয়া
: খাওয়াদাওয়া ঠিক মতো না হলে ক্লান্তি কাটানো কঠিন। অনেকেই সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে এসেছেন। যখন খিদে পেল বা সময় হল, তখনই খেয়ে নেন। তাতে শরীর সময় মতো পুষ্টি পায় না। এতে কর্মশক্তিও কমতে থাকে।



ঘুম
: একসময় অনেকেই ঘুমানোর আগে টিভি দেখে সময় কাটাতেন। এখন তার সঙ্গে ফোন, কম্পিউটারের মতো নানা ধরনের জিনিস যোগ হয়েছে। এ সবের কারণে অনেকেরই ঘুমের সময় কমছে। তাই প্রয়োজন মতো বিশ্রাম পাচ্ছে না শরীর। ক্লান্তিও কাটছে না।

ওজন
: শরীরের ওজন যত বেশি হবে, যে কোনও কাজেই তত বেশি খাটনি হবে। ফলে অনেক বেশি শক্তি ক্ষয় হবে। তাই স্থূলতার কারণেও ক্লান্তি কাটতে চায় না।

মানসিক চাপ: মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও ক্লান্তি নির্ভর করে । টানা মানসিক চাপ থাকলে তার চাপ গিয়ে পড়ে পেশিতেও। মাথা ব্যথা, পেটের সমস্যাও লেগে থাকে। সব মিলে শরীর ক্লান্ত লাগে।

ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকলেও শরীর জানান দেয়। ডায়াবেটিসের একটি গুরুতর উপসর্গ হলো ক্লান্তি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

বছরজুড়েই হাঁচি-সর্দি

লেখক

অ্যালার্জি সর্দি নাকের একটি সমস্যা, যা নাসিকা ঝিল্লির প্রদাহের ফলে হয়ে থাকে। যেহেতু এর ব্যাপ্তি চারদিকে; তাই বলা যায় এটি বিশ্বময় স্বাস্থ্য সমস্যা। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার শতকরা ১০-২৫ ভাগ জনসমষ্টি নাকের এ রোগের শিকার। যদিও নাকের অ্যালার্জি সর্দি কোনো মারাত্মক রোগ নয়, তবে এ রোগের কারণে দৈনন্দিন জীবন প্রবাহ ব্যাহত হয়। যেমন শিশুদের স্কুলের শিক্ষা বাধাগ্রস্ত হয়, আবার অন্যদিকে পেশাজীবীদের কর্মস্থলে কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। মাঝেমধ্যে অ্যালার্জিজনিত সর্দি ও হাঁচি জীবনকে করে তোলে দুর্বিষহ।

নাকের অ্যালার্জির কারণ

যদিও অতিসংবেদনশীলতা অ্যালার্জির মূল কারণ; তবে ব্যক্তিবিশেষে তা ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।

মাইট (এক ধরনের কিট), যা পুরোনো বইপত্র বা পত্রিকায় থাকে, বাসার পুরোনো ধুলা (ঘুণে ধরা), কসমেটিকস, ফুলের রেণু ও পশুপাখির লোমে অ্যালার্জেন (যা অ্যালার্জি সৃষ্টি করে) থাকে। এ ছাড়া গাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, সিগারেটের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার বিভিন্ন উপাদানও অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। কিছু খাবার যেমন- ইলিশ মাছ, বোয়াল মাছ, চিংড়ি, বেগুন, হাঁসের ডিম কারও কারও ক্ষেত্রবিশেষে অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। এখানে একটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে, শীতকালে এ ধরনের সমস্যা বেশি হলেও কারও কারও সারা বছরই এ সমস্যাগুলো রয়ে যায়, বিশেষ করে আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে এমনটা হতে পারে। শীতকালে শুস্ক আবহাওয়ায় বাতাসে ধুলাবালি বেশি থাকে, তাই এই সময় এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। বাসস্থান পরিবর্তন করে নতুন পরিবেশে গেলেও অ্যালার্জিক রাইনাইটিস হানা দিতে পারে। শতকরা ১২ ভাগ শহরবাসী নিঃশ্বাসের সঙ্গে পথের ধুলা/বায়ুবাহিত অ্যালার্জেন দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

নাকের অ্যালার্জি কীভাবে হয়?

যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তারা অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে এলে রক্তে আইজিইর মাত্রা অনেক বেড়ে যায় এবং এই আইজিই নাকের ভেতরে থাকা মাস্ট সেল নামক কোষকে ভেঙে দেয়। ফলে এই কোষ থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ বের হয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে নাকে প্রদাহ ঘটায়। শীতকালে ঠান্ডা আবহাওয়া নাসারন্ধের স্নায়ুকোষের রিসেপ্টরকে উদ্দীপ্ত করার ফলে হাঁচির উদ্রেক করে।

নাকের অ্যালার্জিজনিত সমস্যার লক্ষণ

নাক চুলকানো, একনাগাড়ে কয়েকটি হাঁচি, নাক দিয়ে পানি ঝরে যাওয়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাঝেমধ্যে এর সঙ্গে মাথাব্যথা। অনেক সময় এসবের সঙ্গে কারও কারও চোখ দিয়ে পানি পড়ে এবং চোখ লাল হয়ে যায়। অনেক দিন ধরে এ ধরনের অ্যালার্জিতে আক্রান্ত রোগীদের নাসারল্প্রেব্দর পার্শ্ববর্তী মাংসপিণ্ড (ইনফিরিয়র টারবিনেট) ফুলে গিয়ে থলির মতো বড় এবং বিবর্ণ হয়ে যায়।

অ্যালার্জি প্রতিরোধ

অ্যালার্জি প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো কারণ শনাক্ত করে তা এড়িয়ে চলা। এ জন্য রোগীকে সতর্কতার সঙ্গে খুঁজে বের করতে হবে, তার শরীরে কী কী কারণে অ্যালার্জি হয়। এ জন্য বলা হয়ে থাকে অ্যালার্জি চিকিৎসার প্রথম ধাপ হলো হেলথ এডুকেশন। যাদের এই সমস্যা আছে তারা শীতের ধুলাবালি এড়িয়ে চলতে অথবা রাস্তায় গাড়ির কালো ধোঁয়া থেকে রক্ষা পেতে মুখবন্ধনী বা মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।

চিকিৎসা

যে যে পরিস্থিতিতে অ্যালার্জির উদ্ভব হতে পারে, তা এড়িয়ে চলতে হবে অর্থাৎ অ্যালার্জেন বা অ্যালার্জির কারণ এড়িয়ে চলাই এই রোগের প্রধান চিকিৎসা। তবে এর সঙ্গে ওষুধ প্রয়োগ করে অনেকটাই উপশম বা মুক্তি পাওয়া যায়। মনে রাখবেন ওষুধপত্র দেওয়া হয় উপসর্গ অনুযায়ী। এ রোগের চিকিৎসায় প্রধান ওষুধ হলো অ্যান্টি-হিস্টামিন, স্টেরয়েড জাতীয় নাকের স্প্রে। এ ছাড়া বয়সভেদে মন্টেলুকাস্ট জাতীয় ট্যাবলেট বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। স্টেরয়েড জাতীয় নাকের স্প্রে এই ক্ষেত্রে একনাগাড়ে অনেকদিন (৩ মাস বা এর অধিক) ব্যবহার করলে নাকের বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই অবশ্যই নাকের স্প্রে একজন নাক-কান-গলা রোগে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মতে, ব্যবহার করবেন। কোনোভাবেই নাক-কান-গলা রোগের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে নিজে থেকে কিনে ব্যবহার করা যাবে না।

দীর্ঘমেয়াদি অ্যালার্জি ওষুধ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে যারা অনেকদিন ধরে অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে ভুগছেন এবং ওষুধ দ্বারাও কোনো ফলাফল পান না, তাদের ক্ষেত্রে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ সার্জনরা নাকের ভেতরে ফুলে যাওয়া মাংসপিণ্ড (ইনফিরিয়র টারবিনেট) পুড়িয়ে দিয়ে (Electrocauterization) চিকিৎসা করে থাকেন; তবে সেটা খুব কম। সুখবর হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের সবচেয়ে আধুনিক চিকিৎসা অ্যালার্জির বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি পদ্ধতি চালু হতে পারে।

নাকের অ্যালার্জিজনিত হাঁচি-সর্দির সুচিকিৎসা না হলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। অ্যালার্জিক রাইনাইটিস থেকে শতকরা ২৫ ভাগ রোগীর হাঁপানি হতে পারে। এ ছাড়া নাকের অ্যালার্জিজনিত সর্দি থেকে সাইনোসাইটিস, নাকের পলিপও হতে পারে। ঘর, পর্দা, বিছানার চাদর ভালোভাবে পরিস্কার রাখুন এবং রাস্তায় বের হলে নাকে রুমাল অথবা মাস্ক ব্যবহার করুন। ঘরের ভেতর পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আসার ব্যবস্থা রাখুন। কারও হাঁচিজনিত অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে, হাঁচির উদ্রেক এলে অবশ্যই চেষ্টা করবেন নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে শিষ্টাচার মেনে হাঁচি দিতে। নিয়ম মেনে চললে ভালো থাকা কোনো কঠিন বিষয় নয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ভিটামিন সি’র অভাব হলে বুঝবেন কীভাবে

লেখক

ভিটামিন সি স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টি। ভিটামিন সি এমন একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগ থেকেও আমাদের রক্ষা করে। ভিটামিন-সি ত্বকের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। শরীরে ভিটামিন সি’র ঘাটতি হলে, বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে ভিটামিন-সি এর অভাবজনিত লক্ষণগুলি দেখা দিলে সতর্ক থাকা উচিত।

ভিটামিন-সি এর অভাবে যেসব স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়-

শুষ্ক ত্বক
 : ভিটামিন-সি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন-সি এর অভাব, ত্বককে শুষ্ক ও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে ত্বক নিস্তেজ এবং প্রাণহীন হয়ে ওঠার পাশাপাশি কুঁচকে যায়।

ক্ষতের নিরাময় ধীর গতি : ভিটামিন-সি কোলাজেন উৎপাদনের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই শরীরে ভিটামিন-সি এর ঘাটতি দেখা দিলে, ক্ষত নিরাময় প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরে হয়ে যায়। তাছাড়া ভিটামিন-সি এর অভাবে, সংক্রমণের বিস্তারও বৃদ্ধি পেতে পারে। এটি ভিটামিন-সি এর গুরুতর অভাবজনিত লক্ষণের মধ্যে অন্যতম।

দাঁত এবং মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া : ভিটামিন-সি কেবলমাত্র ত্বকের ক্ষেত্রে নয়, দাঁতের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের ভিটামিন-সি এর ঘাটতির কারণে কোলাজেনের গঠন দুর্বল হয়, ফলে মাড়ি ফুলে যাওয়া এবং মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। তাছাড়া এই ঘাটতি মারাত্মক আকার ধারণ করলে, দাঁত পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অস্থিসন্ধির ব্যথা :  অস্থিসন্ধির কার্টিলেজ প্রাথমিকভাবে কোলাজেন দিয়েই তৈরি। তাই ভিটামিন-সি এর অভাবে, হাড়ের চারপাশের কম প্যাডিং হয়। এর ফলে একটুতেই অস্থিসন্ধিতে ব্যথা অনুভব হতে পারে। তাছাড়া ভিটামিন-সি এর অভাবে, অস্থিসন্ধি এবং হাড়ের চারপাশে প্রদাহ ও ফোলাভাবও দেখা দিতে পারে।

দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
 : ভিটামিন-সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তুলতে অত্যন্ত সহায়ক। তাই শরীরে ভিটামিন-সি এর অভাব দেখা দিলে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে। যার ফলে ঘন ঘন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।


ওজন বৃদ্ধি
 : অনেক সময় হঠাৎ করে ওজন বৃদ্ধির পেছনেও ভিটামিন-সি এর অভাব থাকে। ভিটামিন-সি এর অভাবে, বিশেষ করে পেটে চর্বি জমা হয়।

অবিরাম ক্লান্তি 
: ভিটামিন-সি এর অন্যতম অভাবজনিত লক্ষণ হল, সবসময় ক্লান্তি বোধ করা। এর অভাবে শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয়। সেই সঙ্গে রক্তাল্পতাও হতে পারে। তাছাড়া ভিটামিন সি এর অভাবে, কাজ করায় অনীহা, আলস্য এবং খিটখিটে মেজাজ হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে রোগের উপসর্গ

লেখক

চারদিকে ভ্যাপসা গরম। বৃষ্টি হলেও গরমভাব তেমন কমছে না। এই অতিরিক্ত ঘাম হওয়াটা অস্বস্তিকর ব্যাপার। বাইরে বের হওয়ার পর কাপড়-চোপড় ভিজে একাকার। আপাতদৃষ্টিতে এ সমস্যাটিকে বিরক্তিকর মনে হলেও এই ঘামের মাধ্যমে তাপ ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি আপনার শরীরকে ভয়ংকর তাপমাত্রার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করছে।

আসলে লোমকূপের গোড়ায় লুকিয়ে থাকা ঘর্মগ্রন্থি আমাদের দেহের তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করার কাজটি গোপনে করে যাচ্ছে। এ ছাড়া শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম, জ্বর, ব্যথা বা দুশ্চিন্তায় দেহের সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র উজ্জীবিত হওয়ার মাধ্যমে প্রচুর ঘাম সৃষ্টি করে। এসবই স্বাভাবিক শারীরবৃত্তিক ঘটনা। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া কোনো সমস্যা বা রোগের উপসর্গও হতে পারে।

নারীরা গর্ভাবস্থায় বেশি ঘামেন। মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নারীরা হঠাৎ গরমে অস্থির হন, ঘাম হয়, সঙ্গে বুক ধড়ফড়ও করতে পারে। এই বিশেষ সমস্যার নাম হট ফ্লাশ। এমনিতে সেরে না গেলেও এর জন্য হরমোন থেরাপি লাগতে পারে। থাইরয়েড বা গ্রোথ হরমোনজনিত জটিলতায় অনেক ঘাম হতে পারে। রাতে ঘাম হয় যক্ষ্ণা রোগীদেরও। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ঘাম হতে পারে।

ডায়াবেটিক রোগী যারা ওষুধ খাচ্ছেন বা ইনসুলিন নিচ্ছেন, তাদের রক্তের শর্করা হঠাৎ কমে গেলে ঘামতে পারেন। সঙ্গে বুক ধড়ফড় করা, অস্থির লাগা, মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা বা অসংলগ্ন কথা বলতে পারেন। এটি একটি বিপদসংকেত। সঙ্গে সঙ্গে চিনির শরবত বা মিষ্টি কিছু খেয়ে নিলে এই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

ঘামের সঙ্গে বুকে চাপ বা ব্যথা হার্ট অ্যাটাকেরও লক্ষণ হতে পারে। রাতে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছে কিনা, কেবল এক পাশে বেশি হচ্ছে কিনা। বুকে ব্যথা, বুক ধড়ফড়ানি, কাশি, জ্বর বা অন্যান্য উপসর্গ আছে কিনা। ডায়াবেটিক রোগী হলে খেতে অনেক দেরি হয়ে গেছে কিনা।

শিশুদের কাশি-সর্দি থাকাকালে মাথা ঘেমে গেলে এবং তার সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেড়ে গেলে তা হার্ট ফেইলুরের অশনিসংকেত বহন করতে পারে। বড়দেরও মাথা ঘামার সঙ্গে বুকে ব্যথা, ব্যথা ঘাড় বা হাতে নেমে যাওয়াও ভালো লক্ষণ নয়। এ ক্ষেত্রে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

তৈলাক্ত ত্বকের ঘরোয়া প্যাক

শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা—যেকোনো ঋতুতেই ত্বক সুস্থ রাখতে প্রয়োজন সঠিক যত্নের। আলাদা আলাদা ত্বকের সমস্যাও থাকে আলাদা, যত্নের পদ্ধতিও আলাদা।

যাঁদের তৈলাক্ত ত্বক, তাঁদের যেন ভোগান্তি একটু বেশিই। তাঁরাই বোঝেন এর যন্ত্রণা কতটা। যতই সুন্দর করে মেকআপ করা হোক, কিছুক্ষণ পর মুখ আবার সেই তেলতেলে, চিটচিটে। রাস্তায় বেরোলেই মুখে ময়লা জমে একাকার। বাইরের ধুলা-ময়লা তৈলাক্ত ত্বকে আটকে গিয়ে দেখা দেয় নানা সমস্যা। এর মধ্যে ব্রণের সমস্যা সবচেয়ে বেশি। তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে বাইরের রাসায়নিকসমৃদ্ধ প্রসাধনীর চেয়ে প্রাকৃতিক উপাদানগুলো বেশি কার্যকর। আসুন জেনে নিই প্রাকৃতিক উপাদানে ঘরোয়াভাবে তৈরি কিছু ফেসপ্যাক সম্পর্কে, যা তৈলাক্ত ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করে, ব্রণ কমিয়ে মুখে ফিরিয়ে আনবে উজ্জ্বলতা।

বেসনের ফেসপ্যাক

বেসন হলো প্রাকৃতিক ফেসওয়াশ, যা মুখের তেলতেলে ভাব দূর করে চটজলদি উজ্জ্বলতা বাড়ায়। সেই সঙ্গে ত্বকের দাগও দূর করে। ২ চামচ বেসন ও ৪ চামচ দুধ একসঙ্গে ভালো করে গুলিয়ে নিন। এবার এই পেস্ট মুখে, গলায় লাগান। ১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করুন। তারপর তফাতটা নিজেই দেখুন। ত্বক কতটা ফরসা আর তেলমুক্ত লাগছে।

তৈলাক্ত ত্বকের ঘরোয়া প্যাক

ডিম, শসা ও পুদিনার প্যাক

ডিমের সাদা অংশ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে, ত্বক টানটান করতে সাহায্য করে। একটি ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে শসার রস ও পুদিনাপাতার পেস্ট মিশিয়ে ত্বকে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। পুদিনার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণমুক্ত রাখবে ত্বক। এ ছাড়া শসা ত্বককে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখবে।বিজ্ঞাপন

কমলার ফেসপ্যাক

মুখের অতিরিক্ত তেল কন্ট্রোল করতে কমলালেবুর খোসার জুড়ি নেই। ২ চামচ কমলালেবুর খোসার গুঁড়া, ৪ চামচ দুধ, ১ চামচ কাঁচা হলুদবাটা একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটা শুধু অতিরিক্ত তেলই কন্ট্রোল করবে না, ত্বককে করে তুলবে গ্লোয়িং। সপ্তাহে এক বা দুদিন করুন।
কাঁচা হলুদবাটা, চালের গুঁড়া, কমলার খোসার গুঁড়া এবং সামান্য মসুর ডালবাটা একসঙ্গে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক টানটান হবে।

তৈলাক্ত ত্বকের ঘরোয়া প্যাক

পাকা কলার ফেসপ্যাক

কলা তৈলাক্ত ত্বকের পরিচর্যার জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এটি ত্বকের ঔজ্জ্বল্য আর কোমলতা বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে।

লেবুর রস ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ত্বকের জেল্লা বাড়াতে সাহায্য করে।

মধু হলো প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের ব্রণ-ফুসকুড়ির সমস্যা দূর করে ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে ময়েশ্চারাইজ করতে সাহায্য করে। ১টি পাকা কলা, ২ চা-চামচ পাতি লেবুর রস, ১ চা-চামচ মধু নিন। কলার খোসা ছাড়িয়ে সেটিকে ভালো করে চটকে এর সঙ্গে মধু আর পাতি লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে ঘন পেস্টের মতো তৈরি করুন। এই পেস্ট হাতে, মুখে ও গলার ত্বকে ভালো করে মেখে নিয়ে মিনিট ১৫ রেখে দিন। ১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে একটি নরম তোয়ালে দিয়ে চেপে চেপে মুছে নিন।

সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার এই প্যাক ব্যবহার করতে পারলে খুব ভালো ফল পাওয়া যাবে।

শসার প্যাক

শসা খুব ভালো টোনারের কাজ করে। ত্বকের ভেতরের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে ও ত্বককে ভেতর থেকে ফ্রেশ রাখে। ২ টেবিল চামচ শসার পেস্ট, ১ চা-চামচ গোলাপজল ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস নিয়ে নিন। একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাকটি মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখুন। তারপর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন। এটা রোজও করতে পারেন। তাহলে খুব ভালো তেল কন্ট্রোল হবে। আর রোজ সময় না থাকলে সপ্তাহে তিন দিন করুন। ত্বক থাকবে ফ্রেশ ও তেলমুক্ত।

তৈলাক্ত ত্বকের ঘরোয়া প্যাক

লেবুর রস ও মধুর প্যাক

তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে লেবু সবচেয়ে ভালো ঘরোয়া উপাদান, লেবুতে উপস্থিত সাইট্রিক অ্যাসিড তৈলাক্ত ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে ত্বকে পিম্পল হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

১ টেবিল চামচ তাজা লেবুর রসের সঙ্গে সমপরিমাণ মধু নিয়ে একসঙ্গে মিশিয়ে গাঢ় লিকুইড তৈরি করুন । এই লিকুইড ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে আপনার ত্বক ধুয়ে ফেলুন।

এই প্যাক ব্যবহারে ত্বকে ব্রণ কমে আসবে, ব্রণের দাগ হালকা হতে শুরু করবে এবং আপনার ত্বকও উজ্জ্বল হবে। তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ প্রতিরোধে এই প্যাক সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।

প্রাকৃতিক উপাদানগুলো দিয়ে খুব সহজেই ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করা যায়। ভালো ফলাফল পেতে এক দিন পরপর বা প্রতিদিনই এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। মনে রাখবেন, প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারে রাতারাতি পরিবর্তন কখনো সম্ভব নয়। তাই নিয়মিত ব্যবহার করতে থাকুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com