আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

শরীরের লোমের সাথে নারীর জটিল সম্পর্ক

দেহের লোম নিয়ে অধিকাংশ নারী খুবই সচেতন
দেহের লোম নিয়ে অধিকাংশ নারী খুবই সচেতন

নখ বা চুলের মত লোমও মানুষের শরীরের অংশ। আমাদের দেহের নানা জায়গায় – হাতে, বগলের নীচে, পায়ে, পিঠে, পেটে এবং গোপন অঙ্গে কম-বেশি লোম থাকে। কিন্তু তারপরও দেহের লোম নিয়ে মানুষের দ্বিধা-দ্বন্দ্বের অন্ত নেই, বিশেষ করে নারীদের ভেতর।

নারীদের বিরাট অংশ শরীরের লোম নিয়ে কুণ্ঠা বোধ করে। বিশেষ করে অনাবৃত অংশের লোম উঠিয়ে ফেলার জন্য অনেক নারী যে কোনো কিছু করতে প্রস্তুত।

রেজর ব্র্যান্ড জিলেটের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, ব্রিটেনে ১৮ থেকে ৩৪ বছরের মেয়েদের ৫০ শতাংশই সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদের ছবি পোস্ট করা থেকে বিরত থাকে।

নারীদের এই কুণ্ঠা থেকে বের করে আনতে সম্প্রতি ব্রিটেনে ‘জানুহেয়ারি’ (#Januhairy) এবং ‘বডিহেয়ারডোন্টকেয়ার’ ((#bodyhairdontcare) হ্যাশট্যাগে অনলাইনে প্রচারণা দেখা গেছে।

ঐ সব প্রচারণায় কিছুদিনের জন্য নারীদের শরীরের লোম শেভ না করার বা লোমের বিষয়টি পাত্তা না দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে তাতে বড় কোনো ফল হয়েছে বলে মনে হয়না।

অবশ্য শরীরের লোম নিয়ে নারীদের দৃষ্টিভঙ্গির অনেকটাই নির্ভর করে কীভাবে সে বড় হচ্ছে, পরিবারে বাবা-মা ঘনিষ্ঠজনরা কী শেখাচ্ছে, তার ধর্ম, এবং তার জাতি-গোষ্ঠীগত পরিচয়ের ওপর।

বিবিসির সংবাদদাতা নিয়াম হিউজ ব্রিটেনে ভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর তিনজন নারীর সাথে শরীরের লোম নিয়ে কথা বলেছেন। শোনা যাক তাদের অভিজ্ঞতা, দৃষ্টিভঙ্গি :

খাদিজা তাহির, ছাত্রী, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়

“জানুহেয়ারি ধরণের আন্দোলন আমি বা আমার মত এশীয় বংশোদ্ভূত বাদামি চামড়ার মেয়েরা ঠিক বুঝতে পারেনা। মনে হয়, আমার সাথে এর কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই, কারণ ছোটবেলা থেকে দেহের লোমকে ঘৃণা করে বড় হয়েছি আমি, “ বিবিসিকে বলেন খাদিজা তাহির।

শিশু বয়সে পরিবারের সাথে পাকিস্তান থেকে ব্রিটেনে আসেন তিনি। “একটা সময় ছিল যখন সত্যিই আমি দেহের লোমকে ঘেন্না করেছি। ক্লান্ত হয়ে পড়তাম। নিজের চামড়া নিয়ে নিজেই অস্বস্তিতে ভুগতাম।“

তাহিরা বলেন, এতদিনে তিনি আত্মবিশ্বাস বোধ করতে শুরু করেছেন।

“এখন ভাবি এত হীনমন্যতা ঠিক নয়। তারপরও শরীরের লোম যেন দেখা না যায়, সে চেষ্টা করি, নিয়মিত কামিয়ে ফেলি।“

কবে থেকে তার এই অস্বস্তি? খাদিজা বললেন তার বয়স যখন ১০ বা ১১। “আমি দেখতাম আমার সিনিয়র কাজিনরা, আমার মা লোম শেভ করছে। টিভিতে দেখতাম আমার বয়সী মেয়েদের হাত-পা বা মুখে কোনো লোম নেই। তখন থেকেই আমি ধরেই নেই আমাকেও লোমহীন হতে হবে।“

শিশু বয়সে পাকিস্তানে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে তাহিরা দেখেছেন মহিলারা নিয়মিত দেহের লোম ঢাকার চেষ্টা করছে। ওয়াক্সিং করছে, কামিয়ে ফেলছে। “পাকিস্তানে অন্তত মধ্যবিত্ত সমাজে নারীদের কাছে এটা অনেকটা রুটিন।“

তবে তার নিজের মধ্যে এই তাড়না ঢোকে যখন তিনি পাকিস্তান থেকে ইংল্যান্ডে এসে স্কুলে ভর্তি হন। শরীর-চর্চার ক্লাসের আগে পরে চেঞ্জিং রুমে পোশাক বদলের সময় তিনি দেখতেন সহপাঠী শ্বেতাঙ্গ মেয়েদের মাথায় পাতলা সোনালী চুল এবং হাতে-পায়ে-মুখে তার চেয়ে অনেক কম লোম।

বন্ধুরা মাঝে মধ্যে তার মুখের লোম নিয়ে কথা বলতো কিন্তু একদিন সহপাঠী একটি ছেলের মন্তব্যে দারুণ চোট পান খাদিজা।

“স্কুলে সেদিন প্রথম চুল বেঁধে গিয়েছিলাম। আমার কানের পাশে চুল দেখে একটি ছেলে বিস্মিত হয়ে বললো, কীভাবে আমার এই চুল হলো।। তারপর থেকে আমি নিয়মিত কানের পাশের ঐ চুল কামিয়ে ফেলতাম।“

মুখমণ্ডলের লোম নিয়েও ঐ বয়সেই উদ্বেগ শুরু হয় খাদিজার। লুকিয়ে সারা মুখে হেয়ার রিমুভাল (লোম ঝরানোর) ক্রিম মাখতে শুরু করেন তিনি।

“পরে অবশ্য ভেবেছি মাত্র ১১ বছর বয়সের একটি ছেলের মন্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া ভুল হয়েছিল।“

তবে দেহের পশম, চুল নিয়ে সমাজ ভেদে দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য রয়েছে।

শরীরের লোম সরানোর নানা পদ্ধতি চালু হয়েছে। অনেক নারী এক কাজে অনেক কাঠখড় পোড়াতে দ্বিধা করেন না
শরীরের লোম সরানোর নানা পদ্ধতি চালু হয়েছে। অনেক নারী এক কাজে অনেক কাঠখড় পোড়াতে দ্বিধা করেন না

অমৃত, উলভারহ্যাম্পটন

পাঁচিশ-বছর বয়সী অমৃত শিখ পরিবারের মেয়ে। গোঁড়া শিখ ধর্মীয় রীতি মেনে জীবনযাপন করেন। মাথার চুল পাগড়িতে ঢাকা থাকে।

কানের পাশে, থুতনিতে ঠোটের ওপরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি লোম গজিয়েছে, কিন্তু মূলত ধর্মীয় অনুশাসনের কারণে তা কামানোর কোনো চেষ্টা তিনি করেননা।

বিবিসিকে তিনি বলেন, তাদের ধর্মে চুলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। “লম্বা চুল রাখা, চুল না কাটা পবিত্রতার প্রতীক। শিখরা মনে করে, চুল গজানো এবং চুলের বৃদ্ধি ঈশ্বরের ইচ্ছা, সুতরাং তাকে ব্যাহত করা ঠিক নয়।“

“আমাদের ধর্মগ্রন্থ বলে আপনি যখন ঈশ্বরের নাম নেন, তখন আপনার প্রতিটি চুল কাঁপে। শিখ ধর্মে চুলের সাথে আধ্যাত্মিকতার সম্পর্ক রয়েছে।“

অমৃত বলেন, তিনি এবং তার পরিবার চুলকে এতোটাই পবিত্র মনে করেন যে, চিরুনির সাথে যে চুল উঠে আসে তা না ফেলে জমিয়ে পরে তা দাহ করেন।

আর চুল নিয়ে এই সম্মান ও ভক্তির জন্য শরীরের এবং মুখে গজানো লোমের সাথে তার নারীত্বের বোধের কোনো সংঘাত হয়নি অমৃতের। তবে যখনই তিনি লোকসমক্ষে যান, বা তাকে অন্যের মুখোমুখি হতে হয়, তখন অনেক সময়ই তাকে টিকা-টিপ্পনী শুনতে হয়।

“বিরূপ মন্তব্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আসে পুরুষের কাছ থেকে, বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের কাছ থেকে।“

“আমার যখন বয়স নয়, তখন একটি ছেলে একদিন বলেছিল অমৃত তোমার গোঁফ গজিয়েছে। আমি এতটাই মুষড়ে পড়েছিলাম যে লুকিয়ে ঠোটের ওপর অংশ ব্লিচ করা শুরু করে দিয়েছিলাম।“

“এখন ভাবি যে মানুষদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, তার মতামত- মন্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার দরকার কী?“

তবে অমৃত স্বীকার করলেন, বাইরে বেরুলে অনেক সময় একটি চাদর দিয়ে নাকের নীচ থেকে থুতনি পর্যন্ত ঢেকে রাখেন তিনি।

“এটা নিরাপত্তার জন্য। মানুষ যেন বাজে মন্তব্য না করে, আমার দিকে কিছু ছুঁড়ে না মারে। গন্তব্যে পৌঁছে চাদর খুলে ফেলি।“

১৯৩৮ সালে নিউইয়র্কে একটি পার্লারে ওয়াক্সিং করছেন এক নারী
১৯৩৮ সালে নিউইয়র্কে একটি পার্লারে ওয়াক্সিং করছেন এক নারী

লা লা লাভ, লন্ডন

ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে দেহের চুল, পশমকে মেনে নিয়েছেন অমৃত, কিন্তু সেসব নিয়ে কোনো হীনমন্যতা নেই ব্লগার লা লা লাভ-এর (সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যবহৃত নাম)

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেহের চুল বা রূপ নিয়ে নারীদের হীনমন্যতা ঘোচানোর চেষ্টা করছেন কৃষ্ণাঙ্গ এই তরুণী।

বিবিসিকে তিনি বলছিলেন কীভাবে অল্প কমবয়সে মা তার ভেতর এই আত্মবিশ্বাসের সূচনা করেছিলেন।

“আমার বয়স তখন ১১। আমার মা একদিন বলেন তোমার বগলের চুলে তোমাকে অনেক সেক্সি দেখাচ্ছে। আমার মনে হয়েছিল আমিতো কখনো এটা ভাবিনি…মা যখন বলছেন যে বগলের চুলে আমাকে সেক্সি দেখাচ্ছে তাহলে আমি সেক্সি।“

তার মতে, শরীরের চুল, লোম শরীরের অংশ, ব্যক্তিত্বের অংশ এবং তা ঢাকতে তিনি নিজের ওপর চাপ তৈরি করতে রাজী নন। “আমার পা লোমশ হলে হবে, এটাই প্রাকৃতিক, তাই স্বাভাবিক।“

পায়ের পশম আছে জেনেও তিনি নিয়মিত ছোট স্কার্ট পরেন।

“অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ছবি দেখে অনেক ছেলে বিরূপ মন্তব্য করে। আমি তাদের উত্তর দিই আমার বগলের চুল নিয়ে আমার কোনো অসুবিধা নাই, তোমার কি সমস্যা?“

তিনি বলেন, তার ফলোয়ার অনেক নারীকে তিনি আত্মবিশ্বাসী করে তুলছেন। “তারা এখন মনে করে খাটো হওয়া বা মোটা হওয়া নিয়ে এত উদ্বেগের কিছু নাই।“

প্রেমের সম্পর্কে অসুবিধা হয়না? এই প্রশ্নের উত্তরে লা লা লাভ বলেন, তার শরীর, দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যদি তার পুরুষ সঙ্গী যদি কখনো বাজে কথা বলে, তাকে ছেড়ে দিতে তিনি দ্বিধা করবেন না।

“আমি যা তাই, কাউকে খুশি করতে আমি আমার স্বাভাবিক ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিতে রাজী নই।“

  • ১৯৩৮ সালে নিউইয়র্কে একটি পার্লারে ওয়াক্সিং করছেন এক নারী

    ১৯৩৮ সালে নিউইয়র্কে একটি পার্লারে ওয়াক্সিং করছেন এক নারী

  • শরীরের লোম সরানোর নানা পদ্ধতি চালু হয়েছে। অনেক নারী এক কাজে অনেক কাঠখড় পোড়াতে দ্বিধা করেন না

    শরীরের লোম সরানোর নানা পদ্ধতি চালু হয়েছে। অনেক নারী এক কাজে অনেক কাঠখড় পোড়াতে দ্বিধা করেন না

  • দেহের লোম নিয়ে অধিকাংশ নারী খুবই সচেতন

    দেহের লোম নিয়ে অধিকাংশ নারী খুবই সচেতন

  • ১৯৩৮ সালে নিউইয়র্কে একটি পার্লারে ওয়াক্সিং করছেন এক নারী
  • শরীরের লোম সরানোর নানা পদ্ধতি চালু হয়েছে। অনেক নারী এক কাজে অনেক কাঠখড় পোড়াতে দ্বিধা করেন না
  • দেহের লোম নিয়ে অধিকাংশ নারী খুবই সচেতন

দৈনন্দিন

পৌনে তিন লাখ একর বনভূমি বেদখলে

  • কারা দখলে রেখেছে, জানানো হয়নি
  • সবচেয়ে বেশি বনভূমি বেদখল কক্সবাজার জেলায়
  • দখল করা বনভূমিতে শিল্প-কারখানাও করা হয়েছে

দেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ একর। এর মধ্যে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫২ একর বনভূমিই বেদখল হয়ে আছে। প্রায় ৯০ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে এসব জমি দখল করেছেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আজ সোমবার এসব তথ্য জানায় বন অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বনভূমি বেদখল হয়েছে কক্সবাজার জেলায়। জেলাটিতে ৫৯ হাজার ৪৭১ হাজার একর বনভূমি বেহাত হয়েছে।

বৈঠকে বন অধিদপ্তর বেদখল হওয়া বনভূমির তথ্য জানালেও কারা এসব জমি দখলে রেখেছেন তা লিখিতভাবে জানায়নি। কারা এসব জমি দখল করেছে ও এখন কী অবস্থায় আছে, তা বিস্তারিত জানাতে বন অধিদপ্তরকে বলেছে সংসদীয় কমিটি। তবে বন অধিদপ্তর মৌখিকভাবে জানিয়েছে প্রায় ৯০ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে আছে এসব বনভূমি।

বন অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, সংরক্ষিত, বিজ্ঞপ্তিত, রক্ষিত, অর্জিত বা অর্পিত ও অশ্রেণিভুক্ত মিলিয়ে দেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ একর। প্রতিবেদনে বনভূমি বেদখলের কারণ হিসেবে বলা হয়, সিএস রেকর্ড মূলে রেকর্ডভুক্ত বনভূমি পরবর্তীতে এসএ/আরএস/বিএস জরিপে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। খাস খতিয়ানভুক্ত বনভূমি (সংরক্ষিত বনভূমি ছাড়া অন্যান্য যেমন রক্ষিত, অর্পিত বনভূমি) অনেক ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বন্দোবস্ত দিয়েছে। এ ছাড়া বনভূমির মধ্য দিয়ে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ বিশেষ করে সড়ক নির্মাণের ফলে এর দু পাশে বনভূমি দখলের প্রবণতা বেড়ে যায়।বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বনভূমি দখল করে কৃষি কাজ, স্থায়ী স্থাপনা, বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন। অনেক দখল করা বনভূমিতে শিল্প-কারখানাও স্থাপন করা হয়েছে বলে বন অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে গেলে শিল্পপতি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আদালতে মামলা করে স্থিতাবস্থা বা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে থাকেন। এ ছাড়া উচ্ছেদের কাজে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অসহযোগিতা করে।


অন্যদিকে বন বিভাগের প্রয়োজনীয় জনবলেরও অভাব রয়েছে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে বন বিভাগ।

বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বনভূমি দখলকারীদের তালিকা চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। এই তালিকা প্রকাশ করা হবে। এখন পর্যন্ত এসব উদ্ধারে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, আইনজীবী হিসেবে কারা আছেন এসব জানাতে বলা হয়েছে। অনেক প্রভাবশালীও বনভূমি দখল করেছেন। জবরদখলে থাকা বনভূমি উদ্ধার করা এখন সংসদীয় কমিটি ও মন্ত্রণালয়ের এক নম্বর অগ্রাধিকার। এক ইঞ্চি জমিও বেদখলে রাখা যাবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

কৃষকের নামে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ

কৃষকেরা ব্যাংকে গিয়ে জানলেন তাঁদের নামে ঋণের কথা। জালিয়াতির হোতা অগ্রণী ব্যাংকের কর্মী তবিবর।

রাজমিস্ত্রি আমিনার রহমান লোকমুখে শুনেছেন, তাঁর নামে পঞ্চগড়ের টুনিরহাট অগ্রণী ব্যাংক শাখায় একটি কৃষিঋণ আছে। এরপর তিনি ওই ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, ঘটনা সত্যি। ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর ওই ব্যাংক থেকে তাঁর নামে আলু চাষ বাবদ ৬৭ হাজার টাকা শস্যঋণ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তিনি কোনো ঋণ নেননি, এমনকি ঋণের জন্য আবেদনও করেননি।

আমিনারের চাচাতো ভাই স মিলের শ্রমিক শরিফুলের নামেও ৬৫ হাজার টাকার ঋণ হয়েছে গত বছরের প্রায় একই সময়ে। ঋণের বিষয়টি শরিফুলেরও জানা নেই।

শুধু আমিনার ও শরিফুল নন, অগ্রণী ব্যাংকের এই শাখায় এমন অনেকের নামে ঋণ জালিয়াতির খোঁজ পাওয়া গেছে। গত মাসের শেষের দিকে অন্তত ১০ ব্যক্তি ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, তাঁরা ঋণ জালিয়াতির শিকার হয়েছেন।

জানা গেছে, এই জালিয়াত চক্রের অন্যতম হোতা তবিবর রহমান। তিনি ব্যাংকটির অস্থায়ী মাঠ সহকারী। কৃষিঋণ বিতরণ ও আদায়ে কাজ করেন তিনি। অভিযোগ ওঠায় ৮ অক্টোবর তাঁকে বদলি করা হয়েছে।

যেভাবে জালিয়াতি হয়েছে

আমিনারের বাড়ি পঞ্চগড় সদরের কামাত কাজলদীঘি ইউনিয়নের লস্করপাড়ায়। তাঁর সঙ্গে কথা হয় ৫ অক্টোবর। বললেন, ‘আমরা তিন ভাই—কেউই কৃষির সঙ্গে যুক্ত নই। রাজমিস্ত্রির কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাই। একদিন লোকমুখে শুনে ব্যাংকে গিয়ে দেখি, আমি নাকি ঋণ নিয়েছি।’

আমিনার জানান, গত বছর আলুর মৌসুমে তাঁর চাচা আবদুল হক ঋণ ওঠানোর জন্য তাঁকে সাক্ষী করেন। একইভাবে সাক্ষী করা হয় চাচাতো ভাই শরিফুলকে। কিন্তু এখন জানতে পারছেন, সাক্ষীর কথা বলে ঋণের কাগজে সই নেওয়া হয়েছে।

আমিনার ও শরিফুলের নামে ঋণ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন আবদুল হক। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের মাঠ সহকারী তবিবর তাঁকে সহযোগিতা করেছেন।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, গত কয়েক বছরে ব্যাংকটি ঘিরে ভয়ংকর একটি দালাল চক্র তৈরি হয়েছে। মাঠ সহকারী তবিবরের মাধ্যম হিসেবে স্থানীয় ফারুক, সামছুজ্জামান ও শরিফুল কাজ করতেন। এই চক্রের সঙ্গে ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও জড়িত। চক্রটি অভাবী মানুষদের শস্যঋণ করে দেওয়ার নামে জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাৎ করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

টুনিরহাট অগ্রণী ব্যাংক থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে দফাদার পাড়া। সেখানকার বাসিন্দা আইজুল, গোলাম, আমিনার ও আমিনুর। তাঁদেরও অভিযোগ, প্রতিবেশী হোটেল ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর সাক্ষী করার কথা বলে তাঁদের প্রত্যেকের নামে ঋণ তুলেছেন।

ট্রাকচালক গোলাম হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘গত বছর প্রতিবেশী মোস্তাফিজুর আমাকে একটি ঋণের সাক্ষী হতে বলেন। তিনি আমাকে সই দিতে ব্যাংকে নিয়ে যান। সেখানে আমার কাছ থেকে বেশ কয়েকটি সই নেওয়া হয়। এখন শুনছি, আমার নামে ঋণ তোলা হইছে।’

মোস্তাফিজুর নিজে ও তাঁর মায়ের নামে দুটি কৃষিঋণ নিয়েছেন। তাঁর দাবি, মাঠ সহকারী তবিবরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো হওয়ায় তিনি অন্যদেরও ঋণ পেতে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু তিনি অন্যদের নামে ঋণের টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন কি না, জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান।

তবে ভুক্তভোগী আমিনার বলছেন, সাক্ষী করার কথা বলে তাঁদের নামে ঋণ করেছেন মোস্তাফিজুর। ঘটনা জানাজানির পর তাঁকে চাপ দিলে তিনি এ মাসের মধ্যেই ঋণ পরিশোধ করবেন বলে জানিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করলে তাঁরা আইনের আশ্রয় নেবেন।

ব্যাংকটির তথ্য বলছে, শুধু ২০১৯-২০ অর্থবছরে শস্যঋণ বাবদ ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছিল। আমন, আলু ও বোরো মৌসুমে মোট ৬৭২ জন এই ঋণসুবিধা পান। ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যথাক্রমে ২ কোটি ৮ লাখ, ২ কোটি ৬৩ লাখ ও ৩ কোটি ৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছিল। এ ছাড়া চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত শস্যঋণ বাবদ বিতরণ করা হয়েছে ২৪ লাখ টাকা।

মো. সফিউল্লাহ ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক ছিলেন। বর্তমানে তিনি অগ্রণী ব্যাংকের পঞ্চগড় শাখায় দ্বিতীয় কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

সফিউল্লাহ তাঁর সময়কার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি থাকাকালীন এমন কর্মকাণ্ড হয়নি এবং হওয়ারও সুযোগ ছিল না।

জাফর আলীর বাড়ি একই ইউনিয়নের কুচিয়ামোড়ে। তাঁর নামে গত মার্চে বোরো আবাদ বাবদ ৬৫ হাজার টাকা কৃষিঋণের টাকা তোলা হয়েছে। জাফরের দাবি, গত জানুয়ারিতে তিনি গরু ব্যবসায় লোকসানে পড়ে ঋণের আবেদন করেছেন। কিন্তু ঋণ দেওয়া হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে তিনি কাজের সন্ধানে ঢাকায় চলে যান। এখন শুনছেন, তাঁর নামে ঋণ হয়েছে। এ ঘটনায় ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে ১৪ অক্টোবর তিনি পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করেছেন।

জাফরের অভিযোগ, ব্যাংকটির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে ফারুক ও শামছুজ্জামান তাঁর নামে ঋণের টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারুক ও শামছুজ্জামান।

ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক ইব্রাহিম আলী দাবি করেন, তিনি গত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব নিয়েছেন। তখন থেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম হয়নি।

তবে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলছেন, তিনি বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন। কিছু অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

১৯৮ বছর পর…

বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে ১৯৮ বছর পর খুঁজে পাওয়া গেল এ রকম প্রজাতির একটি অর্কিড

বাংলাদেশের বনবাদাড়ে ১৮৮ প্রজাতির অর্কিড জন্মে। এসব প্রজাতির মধ্যে ডেনড্রোবিয়াম গণের ২৭ প্রজাতির অর্কিড রেকর্ড করা হয়েছে। তবে অতীতে উদ্ভিদবিদ স্যার ডালটন হুকার এবং ডেভিড প্রেইনের ফ্লোরা অব ব্রিটিশ ইন্ডিয়া বেঙ্গল প্ল্যান্টস বইয়ে উল্লেখ করা অনেক প্রজাতির অর্কিড দ্বিতীয়বার দেখা যায়নি বাংলাদেশে। অনেক প্রজাতির নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। সাধারণত অতীতে রেকর্ড করা কোনো প্রজাতি যদি ১০০ বছর পর খুঁজে পাওয়া যায়, সেসব প্রজাতিকে ‘রিডিসকভারি’ প্রজাতি হিসেবে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে ১৯৮ বছর পর খুঁজে পাওয়া গেল এ রকম প্রজাতির একটি অর্কিড। অর্কিড প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম Dendrobium angulatum। ১৮২১ সালে ডিসিলভা প্রজাতিটির নমুনা তত্কালীন ব্রিটিশ বেঙ্গল থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। সেই একমাত্র নমুনাটি সংগৃহীত আছে ইংল্যান্ডের কিউহার্বেরিয়ামে।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বান্দরবানে পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে উদ্ভিদ গবেষক হিসেবে সাঙ্গু সংরক্ষিত বনে গিয়ে বনের মধ্যে একটি কেটে ফেলা গর্জনগাছের কাণ্ডের সঙ্গে এই অর্কিড খুঁজে পাই। তখন কোনো ফুল ছিল না, তাই প্রজাতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পাতার ভিন্নতা দেখে আমি কয়েকটি অর্কিড নমুনা কেটে ফেলা গর্জনগাছের কাণ্ডসহ সংগ্রহ করি পরবর্তী সময়ে পর্যবেক্ষণের জন্য। ঢাকায় নিয়ে এসে বাসার বারান্দায় আলো-বাতাসময় জায়গায় পরিত্যক্ত কাণ্ডসহ গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে রেখে প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করতে থাকি। ২০১৯ সালের মার্চ মাসের শেষ দিকে এটিতে ফুলের মঞ্জরি আসে এবং ৪ এপ্রিল প্রথম ফুল ফোটে। ফুল ফোটার পর এটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ছয়টি ফুল ফোটে ক্রমান্বয়ে, কিন্তু মাত্র একটি ফুল থেকে একটি ফল আসে মে মাসে। এক মাস পর ফলটি পরিপক্ব হয়ে ফেটে গিয়ে সাদা পাউডারের মতো বীজ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে বাতাসের মাধ্যমে।

সর্বশেষ ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়াম থেকে প্রকাশিত চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের উদ্ভিদ নিয়ে মাঠপর্যায়ে জরিপ করা গবেষণাগ্রন্থ ভাস্কুলার ফ্লোরা অব চিটাগাং এন্ড চিটাগাং হিল ট্রাক্টস, ভলিয়ম-১ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে জরিপের সময় অর্কিডটি পাওয়া যায়নি। প্রজাতিটির বর্তমান অবস্থা অজানা। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের অর্কিড নিয়ে প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে এটিকে দেশ থেকে সম্ভাব্য হারিয়ে যাওয়া প্রজাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তা ছাড়া ২০০৭ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশের উদ্ভিদ এবং প্রাণী বিশ্বকোষ, ভলিয়ম ১২ গ্রন্থে এটিকে মহাবিপন্ন প্রজাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজাতিটি বাংলাদেশে পুনরাবিষ্কার নিয়ে আমাদের একটি প্রবন্ধ ট্রপিক্যাল প্ল্যান্ট রিসার্চ নামক আন্তর্জাতিক পিয়ার রিভিউড জার্নাল–এ প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। প্রবন্ধটির সহযোগী লেখক হিসেবে আমার সঙ্গে আছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এবং পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কবির বিন আনোয়ার এবং বাংলাদেশ জাতীয় হার্বেরিয়ামের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহবুবা সুলতানা।

২০১৯ সালের মার্চ মাসের শেষ দিকে এটিতে ফুলের মঞ্জরি আসে এবং ৪ এপ্রিল প্রথম ফুল ফোটে। ফুল ফোটার পর এটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়

বাংলাদেশ ছাড়া এ অর্কিড মিয়ানমার, ভারতের আসাম, ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ড থেকে রেকর্ড করা হয়েছে। এটি মূলত বৃষ্টিবহুল চিরহরিৎ বনের বড় গাছের কাণ্ডে ও শাখায় জন্মে। এটি পরাশ্রয়ী বিরুত। কাণ্ডের দৈর্ঘ্য ৪০ থেকে ১০০ সেমি। প্রতিটি শাখায় সর্বোচ্চ ১২টি পাতা থাকে। পাতা প্রশস্তভাবে সজ্জিত। ফলক রেখাকার থেকে আয়তাকার। পুষ্পমঞ্জরি একক পুষ্পযুক্ত। বাংলাদেশে এপ্রিল মাসে ফুল ধরে। এরা প্রায় ৯০০ মিটার উচ্চতায় জন্মাতে পারে। তবে সাঙ্গু বনের যেখানে পাওয়া গেছে, সে জায়গাটি সমুদ্রের সমতল থেকে ২৪৭ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।

প্রজাতিটির উদ্যানতাত্ত্বিক গুরুত্ব রয়েছে। প্রজাতিটির কোনো ইংরেজি নাম জানা নেই। বাংলা নামও নেই। বাংলাদেশে অর্কিড প্রজাতি নিয়ে মাঠপর্যায়ে জরিপ ও গবেষণা করা দরকার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

রোহিঙ্গা সংকট: রাতের আঁধারে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কারা?

বাইরের দিক থেকে এই শরণার্থী ক্যাম্প আপাতত শান্ত মনে হলেও ভেতরে-ভেতরে অস্থিরতা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।

ক্যাম্পের ভেতরে দিনের বেলায় এক রকম চিত্র থাকলেও রাতের বেলায় চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন।

রাতের আঁধার নামার সাথে সাথেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র পদচারণা শুরু হয়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদ্যুত সরবরাহ নেই। অন্যদিকে পর্যাপ্ত রাস্তাও নেই।

ক্যাম্পের ভেতরে বড় কয়েকটি সড়ক তৈরি করা হয়েছে যেগুলো ‘আর্মি রোড’ হিসেবে পরিচিত।

কিন্তু এসব রাস্তার মাধ্যমে সব জায়গায় পৌছনো যায়না।

এমন অনেক জায়গা আছে যেকানে পৌঁছাতে পাহাড়ি উঁচু-নিচু রাস্তায় অনেকক্ষণ হাঁটতে হয়।

ফলে যে কোন অপরাধ করে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

রাতের বেলায় এসব জায়গায় যেতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও নিরাপদ বোধ করেন না।

রোহিঙ্গাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব:

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব।

শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জানা গেল, ক্যাম্পের ভেতরে একটি অংশ আছে যাদের ‘কাফের’ বা বিশ্বাসঘাতক হিসেবে সন্দেহ করে অপরপক্ষ।

এসব ব্যক্তি এখনো ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারের গোয়েন্দাদের তথ্য দেয় বলে তাদের প্রতিপক্ষের অভিযোগ।

ক্যাম্পের ভেতরেই একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে যারা তাদের দৃষ্টিতে ‘কাফের’ চিহ্নিত করার কাজ করে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মুহাম্মদ ইউনুস দোভাষীর সাহায্যে আমাকে বলেন, “যাদের হত্যা করা হয়েছে তারা সবাই মোনাফেক। কোন ভালো মানুষকে হত্যা করা হয়নি।”

তিনি বলেন, ক্যাম্পের ভেতরে অনেকে আছে যারা মিয়ানমার বাহিনীর কাছে ‘তথ্য পাচার’ করে।

পুলিশ বলছে, ক্যাম্পের ভেতরে রোহিঙ্গাদের নিজেদের মধ্যে গত দুই বছরে অন্তত ৪৫টি খুন হয়েছে, যার বেশকিছু পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সূত্রগুলো বলছে, ক্যাম্পের ভেতরে তৎপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর কথা না শুনলে পরিণতি হয় ভয়াবহ।

হত্যাকাণ্ডের আরেকটি কারণ আছে। স্থানীয় প্রশাসনের এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সাথে কথা বলে সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেল।

রোহিঙ্গাদের মধ্যে গত দুই বছরে ক্যাম্পের ভেতরে যারা কিছুটা প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন তাদের বেশ কয়েকজনকে হত্যা কারা হয়েছে।

কারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যেই অনেকে চায়না যে অন্য কেউ প্রভাবশালী হয়ে উঠুক।

সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বোঝা গেল, এই সশস্ত্র গোষ্ঠী ক্যাম্পের ভেতরে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেন, ” ক্যাম্পের ভেতরে একটা কথা প্রচলিত আছে, ক্যাম্প দিনের বেলায় বাংলাদেশের আর রাতের বেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর। এটা এখন ওপেন সিক্রেট।”

কর্মকর্তারা বলছেন, এই সশস্ত্র গোষ্ঠী চায়না যে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাক।

তারা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে চায়।

এর মাধ্যমে সেই সশস্ত্র গোষ্ঠী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্য চরিতার্থ করছে বলে মনে করেন সে কর্মকর্তা।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেবার পর সে গোষ্ঠী অনেক রোহিঙ্গাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে যাতে তারা ফিরে যেতে রাজী না নয়। স্থানীয় প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রশাসনের দুশ্চিন্তা

কক্সবাজারে অবস্থানকালে আমি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। এদের মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত কর্মকর্তা, পুলিশ এবং বিজিবি সূত্রগুলোর সাথে কথা বলেছি।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট যখন শুরু হয়, তখন অনেকেই আশংকা প্রকাশ করেন যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে ঘিরে জঙ্গি তৎপরতা তৈরি হতে পারে।

এর একটি বড় যুক্তি ছিল, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো হয়তো তাদের সদস্য সংগ্রহের জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে টার্গেট করতে পারে।

তাছাড়া নির্যাতিত রোহিঙ্গারা হয়তো প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠবে মিয়ানমার বাহিনীর উপর। সেজন্য তারা বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করতে পারে – এমন আশংকাও ছিল অনেকের মনে।

এই আশংকা এখনো রয়েছে।

এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়িয়েছে বাংলাদেশে সরকার।

স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেন, “পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, আগামী কয়েক বছর পর রোহিঙ্গারাই ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে।”

সে কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গাদের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইয়াবা চোরাচালানের সাথে জড়িত। এখান থেকে টাকা আয় করে নিজেদের সংগঠন চালানোর জন্য খরচ করে তারা।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আশরাফুল আফসার বলেন, রোহিঙ্গাদের ‘নিজস্ব দ্বন্দ্বের’ কারণে খুনোখুনিগুলো হচ্ছে এবং তার প্রভাব কক্সবাজারের আইশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপরও পরছে।

“সময় যতই গড়িয়ে যাচ্ছে মানুষের মধ্যে টেনশন তত বৃদ্ধি পাচ্ছে,” মি. আফসার বিবিসিকে বলেন।

এনজিও কর্মীদের উদ্বেগ

কক্সবাজারে কর্মরত আন্তর্জাতিক সংস্থার একাধিক কর্মকর্তার সাথে বিবিসি বাংলার কথা হয়েছে।

তাদের আশংকা হচ্ছে, শরণার্থী ক্যাম্পের পরিস্থিতি যেভাবে দিনকে দিন জটিল হয়ে উঠছে তাদের ক্যাম্পের ভেতরে নিরাপদে কাজ করা মুশকিল হয়ে উঠতে পারে।

এখনও পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের মাঝে এনজিও কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা আছে। সেটি না থাকলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলে তাদের আশংকা।

বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের জন্য যদি আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে যায় তাহলে সেটির নেতিবাচক প্রভাব পড়বে রোহিঙ্গাদের উপর। এখনো পর্যন্ত তারা এনজিও কর্মীদের সুদৃষ্টিতে দেখে।

এর কারণ হচ্ছে, এনজিওদের কাছ থেকে তারা নানা সাহায্য পাচ্ছে।

যদি সাহায্যের মাত্রা কমে আসে তাহলে অচিরেই এনজিও কর্মীরা রোহিঙ্গাদের চক্ষুশূলে পরিণত হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বেসরকারি সংস্থাগুলো এরই মধ্যে ‘অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, বেসরকারি সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের বেশি ত্রাণ সাহায্য দিচ্ছে বলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবার আগ্রহ পাচ্ছেনা।

এমন অবস্থায় বেসরকারি সংস্থাগুলো রয়েছে উভয় সংকটে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

উত্তর কোরিয়া নতুন ‘বিশাল আকৃতির‘ ক্ষেপণাস্ত্রের কতটা জানা যাচ্ছে

উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার মধ্যরাতের পরপরই পিয়ংইয়ংয়ে যে সামরিক কুচকাওয়াজ হয়েছে তা নজিরবিহীন।

প্রচুর মানুষের অংশগ্রহণে কোনো ভুল-ভ্রান্তি ছাড়াই যে চোখ ধাঁধানো কুচকাওয়াজ হয়েছে, তেমন অনুষ্ঠান আয়োজনে উত্তর কোরিয়ার জুড়ি মেলা ভার।

চেয়ারম্যান কিম জং উন অনুষ্ঠানে আবেগে মোড়া একটি ভাষণ দিয়েছেন। তার দেশের সংগ্রামের ইতিহাসের কথা বলতে গিয়ে কয়েকবার তিনি চোখ মুছেছেন।

কিন্তু নতুন একটি আন্ত-মহাদেশীয় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উন্মোচন ছিল শনিবার মধ্যরাতের জমকালো ঐ অনুষ্ঠানের প্রধান বিস্ময়।

উত্তর কোরিয়ার নতুন এই আন্ত-মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্পর্কে প্রধান যে তিনটি বিষয় জানা গেছে তা এরকম:

কিমের প্রতিশ্রুত ‘কৌশলগত অস্ত্র‘

দু’হাজার বিশ সালের ১লা জানুয়ারিতে কিম জং উন তার নতুন বছরের ভাষণে ঘোষণা করেছিলেন উত্তর কোরিয়া এমন সব অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরি করছে যা শুধুমাত্র “গুটিকয়েক আধুনিক রাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।“

তিনি বলেছিলেন, তার সরকার ‘কৌশলগত’ – অর্থাৎ পারমাণবিক – অস্ত্র-সম্ভার তৈরির প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

মি. কিম সেদিন যুক্তরাষ্ট্রর সাথে তার দেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।

তিনি বলেন, “ডিপিআরকে‘র সাথে তাদের সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যত টালবাহানা করবে, কালক্ষেপণ করবে, গণতান্ত্রিক কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের শক্তির সামনে তারা আরো বেশি অসহায় বোধ করবে। ডিপিআরকে কল্পনার চেয়েও বেশি শক্তি সঞ্চয় করছে, এবং (সম্পর্কে) অচলাবস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে গহ্বরের আরো গভীরে নিয়ে যাবে। “

যে পারমাণবিক মারণাস্ত্রের প্রতিশ্রুতি ১০ মাস আগে মি. কিম দিয়েছিলেন সেটাই নতুন এই আইসিবিএম, এবং এর টার্গেট যুক্তরাষ্ট্র। সম্পর্ক উন্নয়নের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার জেরে এমন একটি অস্ত্র অবধারিত ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নতুন হুমকি

উত্তর কোরিয়া এর আগেই দুটো আইসিবিএম পরীক্ষা করেছে। ২০১৭ সালে দুই বার তারা হুয়াসং-১৪ পরীক্ষা করে। পারমানবিক বোমা বহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র ১০,০০০ কিমি (৬২১৩ মাইল) দূরের লক্ষ্যবস্তু আঘাত করতে সক্ষম।

তার অর্থ, পুরো পশ্চিম ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের অর্ধেক এখন কোরীয় এই পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায়।

ঐ একই বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়া তাদের আরেকটি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র হুয়াসং-১৫ পরীক্ষা করে যার পাল্লা ১৩,০০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের যে কোনো স্থানে আঘাত করতে সক্ষম।

আরও পড়তে পারেন:

যেভাবে ধরা পড়লো উত্তর কোরিয়ার গোপন অস্ত্র ব্যবসা

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং আন কোথায়?

দক্ষিণ কোরিয়ার বেলুন প্রচারণায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষোভ

শনিবার রাতে নতুন যে আইসিবিএমটি প্রদর্শন করা হয়েছে সেটির পরীক্ষা এখনও হয়নি। তবে এটিও দুই-ধাপ বিশিষ্ট তরল-জ্বালানি চালিত ক্ষেপণাস্ত্র, কিন্তু দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থে এটি হুয়াসং-১৫‘র চেয়ে এটি অনেকটাই বড়।

এটির পাল্লা কত অর্থাৎ কতদূরের লক্ষ্যবস্তু এটি আঘাত করতে সক্ষম তা এর যন্ত্রের প্রযুক্তি তা না জানলে বা পরীক্ষা না করা পর্যন্ত বলা যাবেনা।

কিন্তু এই নকশা দেখে উত্তর কোরিয়ার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য পরিষ্কার বোঝা যায়: ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন তাদের আর নেই। বদলে, তারা এখন চেষ্টা করছে একটি ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক পারমাণবিক বোমা বসানোর প্রযুক্তির প্রয়োগ।

এর সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন মাথাব্যথা তৈরি করবে, কারণ একটি পারমাণবিক বোমাকে প্রতিরোধের জন্য এমনিতেই একইসাথে অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়তে হয়। এখন যদি উত্তর কোরিয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক ওয়ারহেড বা বোমা স্থাপনে সক্ষম হয় তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরো চাপে ফেলবে।

উদ্বেগের আশু কারণ

নতুন যে আইসিবিএম উত্তর কোরিয়া প্রদর্শন করেছে, তার নকশা দেখে ধারণা করা শক্ত যে কখন এটি পরীক্ষা করা হবে বা মোতায়েন করা হবে। তবে, যে সব ট্রাকের ওপর সেটি বহন করা হয়েছে, তা বাড়তি উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

কোনো পারমাণবিক যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার জন্য এখনও যেটি উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে দুর্বলতা তাহলো যথেষ্ট লঞ্চার বা উৎক্ষেপকের অভাব।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যমতে, উত্তর কোরিয়ার ছয়টি লঞ্চার রয়েছে যা থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাল্টা আঘাত আসার আগে বড়জোর ১২টি আইসিবিএম উৎক্ষেপণে সক্ষম।

দু’হাজার দশ সালে উত্তর কোরিয়া গোপনে চীন থেকে ছয়টি WS51200 হেভি-ডিউটি ট্রাক আমদানি করে। তারপর তাতে হাইড্রোলিকস প্রযুক্তি প্রয়োগ করে সেগুলোকে চলমান ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ উপযোগী লঞ্চারে পরিণত করে।

সে ধরণের ট্রাকের ওপরেই নতুন ঐ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনিবার রাতের প্যারেডে বহন করা হয়েছে, কিন্তু এই প্রথম ছটিরও বেশি তেমন ট্রাক চোখে পড়লো। অর্থাৎ, উত্তর কোরিয়া হয়তো এখন নিজেরাই নিজেদের মত করে এসব ট্রাক তৈরি করতে সমর্থ হচ্ছে বা জোগাড় করতে পারছে।

সুতরাং এটা পরিষ্কার যে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও উত্তর কোরিয়া এখনও হেভি-ডিউটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপকের যন্ত্রপাতি জোগাড় করতে এবং এমনকী নিজেরাই হয়তো উৎক্ষেপক তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার নতুন আইসিবিএম বাকি বিশ্বের জন্য একটিই বার্তা দিচ্ছে – তাদের রাষ্ট্র, নেতৃত্ব এবং তাদের মানুষের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে যেন খাটো করে না দেখা হয়।

মেলিসা হানহ্যাম,উপ পরিচালক, ওপেন নিউক্লিয়ার নেটওয়ার্ক (ওএনএন)। তিনি পারমাবিক অস্ত্রের একজন বিশেষজ্ঞ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com