আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

লালস্বর্ণের বিকল্প বাছতে শুরু পরীক্ষা

লালস্বর্ণের বিকল্প বাছতে শুরু পরীক্ষা
লালস্বর্ণের বিকল্প বাছতে শুরু পরীক্ষা

জেলার বেশির ভাগ চাষি দীর্ঘ দিন ধরেই লালস্বর্ণ প্রজাতির ধান চাষ করায় রোগপোকার হামলা বাড়ছে। কমছে ফলন। পাশাপাশি, সময়ে শুরু করা যাচ্ছে না রবি মরসুমে আলু, সর্ষে-সহ নানা ফসলের চাষ। ফলে সেই সব ফসলে রোগ-পোকার হামলা বাড়ে। বাড়ে চাষের খরচ। এই পরিস্থিতিতে সমস্যা সমাধানে ধানের ২১টি প্রজাতি নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু করার কথা জানিয়েছে কালনা মহকুমা কৃষি খামার।

খামারে গিয়ে দেখা গিয়েছে, প্রায় দু’বিঘা জমিকে অজস্র ছোট ছোট প্লটে ভাগ করে নানা ধরনের ধান বীজের চাষ করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞেরা।

কিন্তু কেন এমন তোড়জোড়?

খামারের ব্যাখ্যা, পুষ্টিগুণ বজায় রেখে ফলন কেমন হয় তা দেখতেই এই উদ্যোগ। চলতি ধান থেকে হওয়া চালের উপরের অংশ বাদ দেওয়ায় এর পুষ্টিগুণ কমে যায় বলে কৃষি দফতর জানায়। ‘পুষ্পা’, ‘কৌশল্যা’, ‘বিপিটি ৫,২০৪’-সহ মোট সাতটি প্রজাতির ভাল পুষ্টিগুণ মেলে। সেগুলির পরীক্ষামূলক চাষ হচ্ছে। কৃষিকর্তারা জানান, ‘পুষ্পা’ ও ‘কৌশল্যা’ প্রজাতির ধানে ৯৬ শতাংশ আয়রন ও ‘বিপিটি ৫,২০৪’ প্রজাতির ধানে ১৯ শতাংশ জিঙ্ক রয়েছে। ‘পুষ্পা’, ‘কৌশল্যা’, ‘বিপিটি ৫,২০৪’, এই তিনটি প্রজাতির ধান লাল স্বর্ণ প্রজাতির মতোই উচ্চ ফলনশীল। হেক্টর প্রতি জমিতে ফলন মেলে প্রায় সাড়ে পাঁচ টন।

কৃষি বিশেষজ্ঞেরা জানান, লাল স্বর্ণ চাষ করতে সময় লাগে ১৩৫-১৪০ দিন। অথচ, ‘মুক্তশ্রী’, ‘সুকুমার’, ‘মনীষা’, ‘ভূপেশ’, ‘অজিত’, ‘পুরুলিয়া ১’-এর মতো আরও কয়েকটি প্রজাতির ধান ঘরে তোলা যায় অন্তত ২০ দিন আগে। ফলে এই ধরনের স্বল্পমেয়াদি ধানের চাষ হলে সময়ে রবি মরসুমের চাষ শুরু করতে পারবেন চাষিরা।

ইতিমধ্যে, পূর্ব ভারতের ‘সবুজ বিপ্লব আনয়ন প্রকল্পে’ ‘অজিত’ ও মন্তেশ্বরে ‘মুক্তশ্রী’ প্রজাতির ধানের চাষ করেছেন বেশ কিছু চাষি, জানায় কৃষি দফতর। এই সব স্বল্পমেয়াদি ধানের প্রজাতি নিয়েও শুরু হয়েছে নানা পরীক্ষা। কালনার কৃষি খামারে ‘রানিধান’ নামে আরও একটি প্রজাতি নিয়েও চলছে গবেষণার কাজ।

কৃষিকর্তারা জানান, লালস্বর্ণ ধানের প্রতি চাষিদের দীর্ঘ দিনের দুর্বলতা রয়েছে। ‘রানিধান’ প্রজাতির ধান দেখতে লালস্বর্ণের মতো। তবে এই প্রজাতির ধান খোলাপচা সহনশীল। ফলনও মেলে ভাল। কালনা ১ ব্লকের কাঁকুরিয়া পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় একশো বিঘা জমিতে এই ধানের চাষ করেছেন চাষিরা।

কালনার সহ-কৃষি আধিকারিক (কৃষি গবেষণা) সুব্রত ঘোষ বলেন, ‘‘বহু বছর ধরে একই প্রজাতির ধান চাষ করলে নানা সমস্যা দেখা দেয়। লালস্বর্ণ প্রজাতির ক্ষেত্রেও এই সমস্যায় হচ্ছে। চাষিদের বিকল্প হিসেবে নানা ধরনের ধানের প্রজাতি দেওয়ার জন্য কৃষি খামারে চালানো হচ্ছে বিভিন্ন জাত নিয়ে পরীক্ষা।’’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফসল

হাতজাল পদ্ধতিতে কীটনাশকমুক্ত ধানচাষে সফলতা

হাতজাল পদ্ধতিতে কীটনাশকমুক্ত ধানচাষে সফলতা
কীটনাশক ছাড়া ধানখেতের ক্ষতিকর পোকা দমনে ব্যবহৃত হাতজাল পদ্ধতি।

কীটনাশক ছাড়া ধান উৎপাদনে হাতজাল (পার্চিং) পদ্ধতি ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছেন বরিশাল ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা। এবার বোরো মৌসুমে তাঁরা ১৫ হেক্টর জমিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফলতা পান।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) গবেষকেরা বলেন, এই পদ্ধতি মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে পারলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা পাবে।

হাতজাল পদ্ধতিটি হচ্ছে মূলত চিকন রড অথবা বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তোলাকৃতির হাতলওয়ালা বেড় তৈরি করে তাতে জাল লাগিয়ে ফসলের খেতে ডানে-বামে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পোকা ধরার একটি স্থানীয় পদ্ধতি। এই হাতজাল দিয়ে খেত পোকামুক্ত করার পদ্ধতিকে সুইপিং বলে।

কীটনাশক ছাড়া ধানখেতের ক্ষতিকর পোকা দমনে ব্যবহৃত হাতজাল পদ্ধতি। ছবি: সংগৃহীতকীটনাশক ছাড়া ধান উৎপাদনে হাতজাল (পার্চিং) পদ্ধতি ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছেন বরিশাল ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা। এবার বোরো মৌসুমে তাঁরা ১৫ হেক্টর জমিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফলতা পান।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) গবেষকেরা বলেন, এই পদ্ধতি মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে পারলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা পাবে।

হাতজাল পদ্ধতিটি হচ্ছে মূলত চিকন রড অথবা বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তোলাকৃতির হাতলওয়ালা বেড় তৈরি করে তাতে জাল লাগিয়ে ফসলের খেতে ডানে-বামে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পোকা ধরার একটি স্থানীয় পদ্ধতি। এই হাতজাল দিয়ে খেত পোকামুক্ত করার পদ্ধতিকে সুইপিং বলে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর দক্ষিণাঞ্চলে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত অর্থবছরে তিন মৌসুম মিলে (আমন, বোরো, আউশ) প্রায় ২৮ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়েছে। এবার তা আরও বেড়ে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছাবে বলে কৃষি বিভাগ আশা করছে।
ব্রির আঞ্চলিক কার্যালয় বরিশালের বিজ্ঞানীরা বলছেন, ধানখেতে ক্ষতিকর পোকা দমনে এবারই তাঁরা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যাপক ভিত্তিতে ধানের আবাদ করেন। বোরো মৌসুমে বরিশাল নগরের সাগরদি এলাকার ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের অভ্যন্তরে এবং সদর উপজেলার চর বদনা এলাকায় ১৫ হেক্টর জমিতে কীটনাশক ছাড়া দুটি প্রদর্শনী খেত করেন। এতে ব্রি ধান ২৮, ব্রি ধান ২৯, ব্রি ধান ৪৭, ব্রি ধান ৫৮, ব্রি ধান ৬৭, ব্রি ধান ৭৪, ব্রি ধান ৮৮, ব্রি ধান ৮৯ আবাদ করেন। এই দুটি খেতে ডাল পুঁতে এতে হাতজাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীটনাশক ছাড়াই ফসল উৎপাদনে তাঁরা সফলতা পেয়েছেন। এতে হেক্টরপ্রতি ৫ থেকে ৬ মেট্রিক টন পর্যন্ত শস্য উৎপাদন হয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, ধানের আবাদ করার সময় কৃষকেরা সাধারণত গড়ে তিনবার খেতে কীটনাশক প্রয়োগ করেন। মাজরা, পাতামোড়ানো, বাদামি গাছফড়িং ও গান্ধি পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কৃষকেরা এই বালাইনাশক ব্যবহার করেন।
ব্রি সূত্র জানায়, বীজতলা থেকে ধানের জমিতে চারা রোপণের ১০ দিন পর প্রতি ১০০ বর্গমিটারে একটি করে গাছের ডালপালা পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। এরপর হাতজাল দিয়ে পার্চিং করে ক্ষতিকর এসব পোকা নিধন ও উপকারী পোকা সৃজনের ব্যবস্থা করা হয়।
ব্রি বরিশালের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কীটতত্ত্ববিদ মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের ধানখেতে মূলত মাজরা পোকার আক্রমণ বেশি। সকালের নরম আলোয় মাজরা পোকার মথ (পূর্ণবয়স্ক মাজরা পোকা) ধানের পাতার ওপরের দিকে বসে থাকে।
তিনি বলেন, ‘গবেষণায় দেখা যায়, সকাল সকাল হাতজাল দিয়ে সুইপ করলে পোকা দমনে সফলতা বেশি পাওয়া যায়। মূলত এবার আমরা পরীক্ষামূলকভাবে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছি। এখন আমরা চাই প্রযুক্তিটি কৃষকদের মধ্যে মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে।’
ব্রির গবেষকেরা জানান, চারা রোপণের ১৪ দিন পর থেকে ধানের শিষ বের হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে একবার হাতজাল দিয়ে সুইপিং করে ক্ষতিকর ও উপকারী পোকার তথ্য সংগ্রহ করেন তাঁরা। এরপর জাল দিয়ে সুইপিং করে সেসব পোকা ধরে ক্ষতিকর পোকা মেরে ফেলা এবং উপকারী পোকা খেতে পুনরায় ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এতে ধানের খেতে উপকারী পোকামাকড়ের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন হয়।


২৬৬ প্রজাতির ক্ষতিকর পোকা
ব্রির এক গবেষণা বলছে, দেশে ধানখেতে ২৬৬ প্রজাতির ক্ষতিকর পোকা শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২০ থেকে ৩৩টি প্রজাতিকে প্রধান অনিষ্টকারী পোকা হিসেবে ধরা হয়। এসব পোকার আক্রমণে দেশে বোরো মৌসুমে প্রায় ১৩ শতাংশ, আউশ মৌসুমে প্রায় ২৪ শতাংশ এবং রোপা আমন মৌসুমে প্রায় ১৮ শতাংশ ফলন নষ্ট হয়। আর তিন মৌসুমে দেশে পোকার আক্রমণে গড়ে ১৮ ভাগ পর্যন্ত ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হাতজাল পদ্ধতিতে কীটনাশকমুক্ত ধানচাষে সফলতা

বরিশাল সদর উপজেলার চর বদনা এলাকায় ব্রির পরীক্ষামূলক বোরেখেতে গত মে মাসে হাতজাল পদ্ধতিতে পোকা দমন করা হয়।

ব্রির কীটতত্ত্ব বিভাগের এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী কৃষকেরা এক মৌসুমে ধান উৎপাদনে গড়ে সাধারণত তিনবার কীটনাশক ব্যবহার করে থাকে।
কীটতত্ত্ব বিভাগের ওই গবেষণায় বলা হয়, শুধু ক্ষতিকর পোকা দমনে প্রতিবছর দেশে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন উচ্চমাত্রার কীটনাশক ব্যবহার হয়। ২০১৪ সালে মাঠপর্যায়ে জরিপ করে সংস্থাটির গবেষকেরা দেখেছেন, ওই বছর দেশে ৩৯ হাজার ৪৬৪ মেট্রিক টন কীটনাশক ব্যবহার হয়। এর ৮০ ভাগই ব্যবহার হয়েছে ধানখেতে।


হাতজাল দিয়ে সুইপিং করে ক্ষতিকর মাজরা পোকা, পাতামাছি, পামরি পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি পোকা, লেদা পোকা, ঘাস ফড়িং, লম্বাশুঁড় উরচুঙ্গা, সবুজ পাতা ফড়িং, বাদামি গাছফড়িং, সাদাপীঠ গাছফড়িং, গান্ধি পোকা ধরা পড়ে। সেই সঙ্গে উপকারী পোকামাকড় যেমন লেডি বার্ড বিটল, স্ট্যাফিলিনিড বিটল, ক্যারাবিড বিটল, মাকড়সা, ড্রাগন ফ্লাই, ডেমসেল ফ্লাই ইত্যাদি উপকারী পোকাও ধরা পড়ে। ক্ষতিকর ও উপকারী পোকা বাছাই করে উপকারী পোকাদের খেতে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর ক্ষতিকর পোকা মেরে ফেলা হয়। ধানের ক্ষতিকর পোকা দেখতে সাদা ও বাদামি রঙের হয়ে থাকে। অন্যদিকে উপকারী পোকা দেখতে রঙিন হয়। ধানের উপকারী পোকা মূলত ক্ষতিকর পোকার বাচ্চা ও ডিম খেয়ে থাকে বাঁচে।

হাতজাল পদ্ধতি সম্পর্কে ব্রি, বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সদ্য সমাপ্ত বোরো মৌসুমে আমরা পরীক্ষামূলকভাবে হাতজাল দিয়ে পার্চিং প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে আশানুরূপ সফলতা পেয়েছি। পরিবেশবান্ধব এ প্রযুক্তিটি কৃষকদের মাঠে দ্রুত সম্প্রসারণ করা গেলে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

পঞ্চগড়ে বাড়ছে বাণিজ্যিকভাবে সুপারির চাষ

পঞ্চগড়ে বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে সুপারি চাষ। উৎপাদিত সুপারি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৫৯৭ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় আকারের সুপারি বাগান রয়েছে। ২০১৭ সালে জেলায় সুপারি উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন। ২০১৮ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৮২ মেট্রিক টন। এবার চলতি মৌসুমে সুপারি উৎপাদন গত বছরের উৎপাদনকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ। 

স্থানীয়রা বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে অতিথি আপ্যায়নে সুপারি অন্যতম উপকরণ। গৃহস্থের বাড়িতে অতিথি এসে খালি মুখে গেলে নাকি অমঙ্গল হয়। তাই পান-সুপারি থাকতেই হবে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই প্রথা এখনো বিদ্যমান পঞ্চগড়ে। এক সময় এ জেলার কৃষকেরা নিজেদের প্রয়োজনে বাড়ির আশপাশের অল্প কিছু সুপারি গাছ লাগাতেন। এখন পাকা লাল রঙের সুপারি চাষ হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে। 

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চৈত্র, বৈশাখ ও জ্যেষ্ঠ এই তিন মাস সুপারির মৌসুম। এ সময়ে একদিকে গাছে সুপারি পাকতে শুরু করে। অপর দিকে সুপারি গাছে নতুন করে ফুল ও ফল আসা শুরু হয়। বসতবাড়ির আশপাশে এবং উঁচু জমিতে চারা লাগানোর আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যেই ফল দিতে শুরু করে সুপারির গাছ। বছরে এক-দুবার গোবর সার আর পানির সেচ দেওয়া ছাড়া আর তেমন কোনো বাড়তি পরিচর্যা করা লাগে না। 

কৃষকেরা আরও বলেন, মৌসুমের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পঞ্চগড়ে এসে ব্যবসায়ীরা সুপারি কিনে নিয়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কেউ কেউ আবার বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সুপারি কিনে তা মাটিতে খাল করে পুতে রাখেন বা পানিতে ভিজিয়ে রাখেন। পরে পানিতে পঁচানো ওই সুপারি শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে বিক্রি করেন প্রায় দেড়গুণ দামে। 

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে জেলার ছোট-বড় প্রায় সব বাজারেই চলছে সুপারি বেচা-কেনা। জেলার জালাসী বাজার, হাড়িভাসা হাট, টুনির হাট, ভাউলাগঞ্জ হাট, জগদল হাট, ফকিরগঞ্জ বাজার, ভজনপুর বাজার, ময়দানদিঘী বাজার, বোদা বাজারসহ বেশ কিছু বাজারে এখন চলছে পাকা লাল রঙের সুপারির জমজমাট কেনা-বেচা। 

কৃষি বিভাগ সুপারি উৎপাদন হিসাব মেট্রিক টন ধরে করলেও কৃষক সুপারির উৎপাদন ও বিক্রির হিোব করেন পন এবং কাহন ধরে। পঞ্চগড়ের বাজারগুলোতে সুপারি বিক্রি হয় পন হিসাবে। প্রতি বিশ হালি সুপারিতে এক পন হয়। প্রতি পনে ৮০টি সুপারি থকে। আর ১৬ পন সুপারিতে এক কাহন সুপারি হয়। মান ও আকার ভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে সুপারি। বর্তমানে প্রতি কাহন পাকা সুপারি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা থেকে পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা টাকা পর্যন্ত। 

পঞ্চগড় জালাসী বাজারে সুপারি বিক্রি করতে আসা কৃষক মো. রাজু রানা বলেন, এক বিঘা জমিতে সুপারির বাগান আছে। এই বাগানে বছরে একবার গোবর সার আর দুবার পানি সেচ দেন। এর বাইরে আর কোনো খরচ করতে হয় না। বাগান থেকে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৩৫ কাহন সুপারি পান। এবার বড় পাকা সুপারি ৩ হাজার ৭০০ টাকা কাহন দরে বিক্রি করেছেন। সুপারি বিক্রি করা এই টাকা অন্য ফসল আবাদের খরচ জোগায়। 

সুপারি ব্যবসায়ী বরিউল ইসলাম বলেন, পঞ্চগড়ের সুপারি কিনে তাঁরা ঢাকা, কুমিল্লা, সৈয়দপুর, বগুড়া, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন। পঞ্চগড়ের সুপারির মান ভালো হওয়ায় সারা দেশেই এর চাহিদা বেশি। বর্তমানে মান ভেদে প্রতি কাহন সুপারি আড়াই হাজার থেকে শুরু করে চার টাকা পর্যন্ত। প্রতি বস্তায় দুই কাহন করে সুপারি থাকে। কেনার পর থেকে বিক্রি করা পর্যন্ত পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বস্তায় আড়াই শ থেকে তিন শ টাকা লাভ হয়। 

পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু হানিফ বলেন, পঞ্চগড়ের মাটি এবং আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ কারণে এখানকার সুপারি আকারে অনেক বড় এবং সুস্বাদু হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ধানের বীজ রাখার নতুন পদ্ধতি, ‘ইরি কোকুন’

ব্যাগের মুখ আটকে রাখলে তার মধ্যে কোনো আর্দ্রতা ঢুকতে পারে না। ফলে সবকিছুই থাকে সতেজ। ব্যাগটির মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ মণ ধান রাখা যায়। এটাই ‘ইরি কোকুন’। ৩ আগস্ট খুলনার ডুমুরিয়ার বারাতিয়ায়। প্রথম আলো
ব্যাগের মুখ আটকে রাখলে তার মধ্যে কোনো আর্দ্রতা ঢুকতে পারে না। ফলে সবকিছুই থাকে সতেজ। ব্যাগটির মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ মণ ধান রাখা যায়। এটাই ‘ইরি কোকুন’। ৩ আগস্ট খুলনার ডুমুরিয়ার বারাতিয়ায়। প্রথম আলো

বেশ বড় আকারের রাবারের একটি ব্যাগ। ওই ব্যাগের মুখ আটকে রাখলে তার মধ্যে কোনো আর্দ্রতা ঢুকতে পারে না। ফলে সবকিছুই থাকে সতেজ। ব্যাগটির মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ মণ ধান রাখা যায়। এটাকেই বলা হয় ‘ইরি কোকুন’।

ধানের বীজ সংরক্ষণের জন্য খুলনার ডুমুরিয়ার বারাতিয়া ও শরাফপুর গ্রামের কৃষকেরা এখন ওই ইরি কোকুনে ধান রাখা শুরু করেছেন। এর আগে কৃষকেরা ধান রাখতেন বস্তা বা গোলায়।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ইরি কোকুন হলো বাংলাদেশে ব্যবহৃত বীজ সংরক্ষণে কৃষির সর্বশেষ প্রযুক্তি। আগে কৃষক মাটির তৈরি কলস, জালা বা কুলায় বীজ সংরক্ষণ করতেন। কখনো কখনো গোলায় বীজ রাখতেন। এতে বীজের মান ভালো থাকত না। পোকার আক্রমণও বেশি ছিল। পরে কৃষক বস্তা বা প্লাস্টিকের পাত্রে বীজ রাখা শুরু করেন। কিন্তু এতেও বীজের মান ভালো রাখা সম্ভব হয়নি। ওই পদ্ধতিতে অনেক বস্তা বা পাত্রের প্রয়োজন হতো। ওই ব্যবস্থারই বিকল্প হিসেবে এসেছে ইরি কোকুন। এটি একটি ব্লাডারের মতো পাত্র, যেটিতে বীজ রাখলে বড় হয়। এটিতে ৪০ থেকে ৫০ মণ বীজ রাখা সম্ভব। এতে বাইরে থেকে বাতাস ঢুকতে পারে না, ফলে বীজে আর্দ্রতার পরিমাণ ঠিক থাকে এবং পোকামাকড়েরও কোনো আক্রমণ হয় না। এটি বাড়ির উঠানে রাখলেও রোদ, বৃষ্টি, খরায় বীজের কোনো গুণগত মান নষ্ট হয় না। এই বীজের অঙ্কুরোদ্‌গমক্ষমতাও খুব বেশি। এটি ফিলিপাইন, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে আগে ব্যবহৃত হতো। 

বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে চলমান জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি প্রোগ্রাম ফেস-২ (এনএটিপি) প্রকল্পের আওতায় এটি বাংলাদেশে এনে কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ডুমুরিয়া, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় দুটি করে ইরি কোকুন দেওয়া হয়েছে। কৃষক গ্রুপের মধ্যে দেওয়া এই ইরি কোকুন ওই এলাকার সব কৃষকই ব্যবহার করতে পারবেন।

ডুমুরিয়ায় পাওয়া দুটি ইরি কোকুন দেওয়া হয়েছে শরাফপুর গ্রামের কমন ইন্টারেস্ট গ্রুপের (সিআইজি) কৃষক সরোয়ার সরদার ও বারাতিয়া গ্রামের সিআইজি কৃষক নবদ্বীপ মল্লিককে। তাঁদের মাধ্যমে ওই এলাকার কৃষকেরা আগামী বছরের জন্য ধানের বীজ সংরক্ষণ করছেন।

ইরি কোকুনে ২০ মণ ব্রি-৬৭ জাতের ধানের বীজ রেখেছেন সরোয়ার সরদার। তিনি বলেন, ‘এটি বীজ সংরক্ষণের অত্যন্ত আধুনিক একটি প্রযুক্তি, এটি পেয়ে আমি অত্যন্ত খুশি। আমি যে বীজ সংরক্ষণ করেছি, তাতে আমার পুরো গ্রামের কৃষকদের মধ্যে বীজ বিতরণ করতে পারব।’

বারাতিয়া গ্রামের নবদ্বীপ মল্লিক বলেন, বীজ সংরক্ষণের এত সুন্দর জিনিস আছে, আগে জানা ছিল না। মানসম্মত বীজ সংরক্ষণে এটির ভূমিকা অপরিসীম। এটির মাধ্যমে ডিলার বা কোম্পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং বীজ সিন্ডিকেট থেকে কৃষক রক্ষা পাবেন।

এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এবার উপজেলায় এনএটিপি-২ প্রকল্পের মাধ্যমে দুজন সিআইজি কৃষককে এটি সরবরাহ করা হয়েছে। বীজ সংরক্ষণের এটি সর্বশেষ একটি প্রযুক্তি। এটি ডুমুরিয়ার কৃষির উন্নয়নে এবং কৃষক পর্যায়ে উন্নত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপপরিচালক পঙ্কজ কান্তি মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ইরি কোকুনের মধ্যে ধান রাখলে কোনো অবস্থাতেই ওই ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই। শুধু তা-ই নয়, ওই ইরি কোকুন ইঁদুরেও কাটতে পারে না। ফলে নিরাপদে ধান রাখা যাবে। সরবরাহ কম থাকায় সব উপজেলায় সেটা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

যেন সবুজের বুকে বেগুনি বিছানা

যেন সবুজের বুকে বেগুনি বিছানা
বেগুনি ধানগাছ। খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার শান্তিপুরে। ছবি: প্রথম আলো

চারপাশে সবুজ ধানখেত। মাঝখানে একচিলতে জমিতে বেগুনি রঙের ধানের আবাদ। যেন সবুজের বুকে বেগুনি বিছানা। ভিন্ন রঙের এই ধান চাষ স্থানীয় পর্যায়ে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। 

বেগুনি রঙা এই ধানের চাষ হচ্ছে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার শান্তিপুর এলাকায়। স্থানীয় কৃষক মনতোষ চাকমা জেলায় প্রথমবারের মতো এই ধানের চাষ শুরু করেছেন বলে জানান কৃষি কর্মকর্তারা। চলতি বছরের ২১ মে এর চারা রোপণ করেন তিনি।

মনতোষ চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা নামের এনজিওর কাছ থেকে বেগুনি রঙের ধানের বীজ সংগ্রহ করেছেন। ওই এনজিও থেকে ‘সুভাষ’, ‘বাঁশফুল’ ও ‘জুনটি’—এই তিন জাতের চারা নিয়েছেন। এখন পরীক্ষামূলকভাবে ২০ শতক জমিতে চার জাতের ধান রোপণ করেছেন। এসব ধানের ফলন কী রকম হবে, তা দেখার পর ভবিষ্যতে আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, দেশে প্রথম বেগুনি রঙা ধানের আবাদ শুরু হয় গাইবান্ধায়। সৌন্দর্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ধান। এই ধানগাছের পাতা ও কাণ্ডের রং বেগুনি। এর চালের রংও বেগুনি। তাই কৃষকদের কাছে এখন পর্যন্ত এ ধানের পরিচিতি বেগুনি রঙের ধান বা রঙিন ধান।

জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মর্ত্তুজা আলী বলেন, বেগুনি রঙের ধানের চাষ খাগড়াছড়িতে এই প্রথম। কেউ এর নাম দিয়েছেন বেগুনি সুন্দরী, কেউ দুলালি সুন্দরী। ফলন ভালো হলে ভবিষ্যতে ধানের আবাদ বৃদ্ধির চিন্তা করা হবে।

পানছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলাউদ্দিন শেখ বলেন, মনতোষ চাকমাকে সব ধরনের পরামর্শসহ কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত ধানখেতটি তদারক করা হচ্ছে।

গত বুধবার দুপুরে পানছড়ির উল্টাছড়ি ইউনিয়নের শান্তিপুরে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে সবুজ ধানখেতের মাঝখানে বেগুনি রঙের ধানের আবাদ। মনতোষ চাকমার রোপণ করা অন্য তিন জাতের ধানের গাছের রং আলাদা। এক জাত বাঁশফুল রঙের, এক জাত গাঢ় সবুজ রঙের এবং অন্য জাত হালকা সবুজ রঙের।

তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্প সমন্বয়কারী সকীরণ চাকমা জানান, মিজারিও-জার্মানির অর্থায়নে ঢাকা বারসিক এনজিও থেকে তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা সাত প্রকারের ধানের বীজ সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে চার প্রকারের বীজ তাঁরা মনতোষ চাকমাকে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করতে দিয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলতাফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে এই ধানের চাষ শুরু হয়েছে। খাগড়াছড়িতেও চাষ হওয়ার খবর শুনেছেন তাঁরা। এই ধানের পুষ্টিমান বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, এই ধানের পুষ্টিমান, চাষাবাদ পদ্ধতি, ফলনের পরিমাণ, জীবনচক্র, দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর বিষয়, কোন মৌসুমে চাষ করলে ভালো হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

দুটি পাতার এক কুঁড়ি

দুটি পাতার একটি কুঁড়ির দেশ সিলেট। চায়ের সঙ্গে এভাবেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে সিলেট অঞ্চলের নাম। চায়ের সুবাদে সিলেটের সুনাম ছড়িয়ে আছে বিশ্বব্যাপী। বর্ষার মৌসুমের শুরু থেকে শীত মৌসুমের আগ পর্যন্ত সিলেটের চাবাগানগুলোয় চলে চা-পাতা তোলা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পালা করে চা-পাতা তোলার কাজে ব্যস্ত থাকেন নারী-পুরুষ চা-শ্রমিকেরা। পাতা তোলা শেষে তা লাইন ধরে জমা দেন শ্রমিকেরা। ওজন শেষে চা-পাতা স্তূপ করে রাখা হয় চা তৈরির জন্য। তারাপুর ও মালিনীছড়া চা-বাগানের কিছু ছবি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com