আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

রাস্তা বাড়াতে লালমাই পাহাড়ে কোপ

কুমিল্লার ঐতিহ্য বলতেই নাম চলে আসে লালমাই আর ময়নামতি পাহাড়ের। তবে পাহাড় কাটার কারণে লালমাইয়ের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। সরকারি সড়ক সম্প্রসারণের কাজেও কোপ পড়েছে লালমাই পাহাড়ের বুকে। প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কটির উন্নয়নে এরই মধ্যে পাহাড়ের ১ লাখ ১৪ হাজার ঘনফুট মাটি কেটে ফেলেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত ১১ নভেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আন্তরিক হলে পাহাড়টি রক্ষা করেই প্রকল্পের কাজ শেষ করা যেত। এর ফলে পরিবেশ ও প্রতিবেশের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা কোনোভাবেই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।

তবে সড়ক নির্মাণকারী সংস্থা সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলছেন, পাহাড় কাটার বিষয়টি তাঁরা জানেন না। প্রকল্পের প্রাক্কলনে পাহাড় কাটার কোনো অনুমোদন নেই।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, অমূল্য প্রত্নসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যে ভরপুর লালমাই পাহাড় ধ্বংস করা হচ্ছে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হয়। পাহাড় ক্রমেই সমতল ভূমিতে রূপ নিচ্ছে।

২০১৫ সালের জুন মাসে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত (পরিমার্জিত সংস্করণ) ময়নামতি-লালমাই বইয়ে বলা হয়েছে, ‘কুমিল্লা শহর থেকে আট কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত অনুচ্চ, অপ্রশস্ত ও বিচ্ছিন্ন বিন্যাসে বিন্যস্ত টিলাগুলোর উত্তরের অংশে ময়নামতি ও দক্ষিণের অংশে লালমাই। এ টিলাগুলোর মাটির রং লাল। আনুমানিক ১০ থেকে ২০ লাখ বছরের প্রাচীন প্লায়স্টোসিন অধিযুগের লাল রঙের পললে ঢাকা এই পাহাড়। প্রতিদিন শত শত পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসু এই পাহাড় দেখতে আসেন।’

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে বেআইনিভাবে পাহাড় কাটা হচ্ছে। এই অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

শওকত আরা কলি পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপপরিচালকবিজ্ঞাপন

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর লালমাই পাহাড়ের মধ্য দিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পিপুলিয়া থেকে লোলবাড়িয়া, রতনপুর, চণ্ডীমুড়া হয়ে মগবাড়ি পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৯০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু করে। এতে ব্যয় হচ্ছে ৩৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আগে এই সড়কের প্রস্থ ছিল ৩ দশমিক ৭ মিটার। বর্তমানে সেটি বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫ মিটার করা হচ্ছে। আগামী ১১ জুন ওই কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ১১ নভেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপপরিচালক শওকত আরা কলি বড় ধর্মপুর পাহাড় কাটা এলাকা পরিদর্শন করেন। ১৬ নভেম্বর শওকত আরা কলি চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে পাহাড়ের মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৩০ ঘনফুট মাটি কাটা হয়েছে।

উপপরিচালক শওকত আরা কলি প্রথম আলোকে বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে বেআইনিভাবে পাহাড় কাটা হচ্ছে। এই অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট মামলা দায়েরের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

উপপরিচালকের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের ৭ কিলোমিটার অংশে পাহাড় কাটা হয়েছে। এতে প্রস্তাবিত বর্ধিত অংশের বাইরে প্রায় ৭৫০ ফুট দৈর্ঘ্যে কোথাও ৩-৭ ফুট, কোথাও ১০ থেকে ১৪ ফুট গভীরতায় ৫ থেকে ৫০ ফুট উঁচু পাহাড় কাটা হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটায় কোনো কোনো অংশে পাহাড়ি গাছপালাসহ মাটি ধসে আটকে আছে।

গত ২৫ ডিসেম্বর বারপাড়া ইউনিয়নের বড় ধর্মপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পাহাড়ের টিলার চূড়া থেকে নিচ পর্যন্ত কাটা। বিভিন্ন অংশে পাহাড় ধসে পড়েছে। কোথাও গাছ ও লতাজাতীয় বৃক্ষ পড়ে আছে। চূড়ার ওপরের বাঁশ কাত হয়ে আছে। এই এলাকার স্কুলপাড়া অংশে ভেকু মেশিন দিয়ে পাহাড় কাটার চিহ্ন দেখা গেছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বড় ধর্মপুর স্কুলপাড়া এলাকার সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য তিনটি অংশে খাড়া পাহাড় কেটে ফেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসান টেকনো বিল্ডার্স ও মেসার্স হক এন্টারপ্রাইজ। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ইমামুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘তিন ফুট গভীরতায় বক্স কাটতে গিয়ে কিছু পাহাড় ধসে পড়েছে। আমরা কোনো পাহাড় কাটিনি।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বছরের পর বছর লালমাই পাহাড় থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। কখনো চার লেন মহাসড়কের জন্য, কখনো রেললাইনের জন্য পাহাড়ের মাটি নেওয়া হয়। এবার সড়ক প্রকল্পের জন্য খাড়া টিলা কাটা হয়। লালমাই পাহাড় রক্ষার জন্য তাঁরা বারবার প্রশাসনের কাছে গেছেন। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয় না।

পরিবেশ

জেনে নিন মাছের খাবার সংরক্ষণের সঠিক উপায়

আমাদের দেশে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। অনেক বেকার যুবক মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন মাছ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে মাছ চাষকে আরও বেশি লাভজনক করতে হলে প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি মাছকে অতিরিক্ত সম্পূরক খাদ্য দিতে হবে। আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষে যা খরচ হয় তার প্রায় শতকরা ৬০ ভাগই খরচ হয় খাদ্য ক্রয় করতে।

মাছের খাবার তৈরী:

সম্পূরক খাদ্য হিসাবে আমাদের দেশে সচরাচর যে উপাদানগুলো ব্যবহার করা হয় তা হলো,- চালের কুঁড়া, গমের ভুসি, সরিষার খৈল, তিলের খৈল, ফিশমিল, গরু-ছাগলের রক্ত ও নাড়ি-ভুঁড়ি। এ ছাড়া জলজ উদ্ভিদ যেমন,- কচুরিপানা, ক্ষুদিপানা ইত্যাদি। এসব উপাদান প্রয়োজনমতো মিশিয়ে চাষিরা মাছের খাদ্য তৈরি করেন। কারখানায় তৈরি বাণিজ্যিক খাদ্যও মাছের খামারে ব্যবহার করা যায়। যে ধরনের খাদ্যই মাছ চাষের পুকুরে ব্যবহার করা হোক না কেন তার গুণগতমান ভালো হওয়া আবশ্যক।

খাবারের গুণগতমান ভালো না হলে সুস্থসবল পোনা ও মাছ পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে মাছ সহজেই রোগাক্রান্ত হবে এবং মাছের মৃত্যুহার বেড়ে যাবে। আবার মাছের বৃদ্ধিও আশানুরূপ হবে না। খাদ্যের গুণগতমান ভালো রাখার জন্য যথাযথ নিয়মে খাদ্য উপকরণ বা তৈরি খাদ্য সংরক্ষণ ও গুদামজাতকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই নিয়ম মেনে খাদ্য সংরক্ষণ ও গুদামজাতকরণের দিকে নজর দিতে হবে।

মাছের খাদ্যে আর্দ্রতার পরিমাণ ১০% এর বেশি থাকলে ছত্রাক বা পোকা-মাকড় জন্মাতে পারে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬৫% এর বেশি থাকলে খাদ্যে ছত্রাক বা পোকামাকড় জন্মাতে পারে। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় খাদ্যের পুষ্টিমান নষ্ট হয়। পোকামাকড়সমূহ ২৬-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জন্মাতে পারে। সেই সঙ্গে এরা খাদ্য খেয়ে ফেলে ও তাদের মলমূত্র দ্বারা ব্যাকটোরিয়া ছড়াতে পারে।

সূর্যালোকে খোলা অবস্থায় খাদ্য রাখলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে কিছু কিছু ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায়। খোলা অবস্থায় খাদ্য রাখলে বাতাসের অক্সিজেন খাদ্যের রেন্সিডিটি (চর্বির জারণ ক্রিয়া) ঘটাতে পারে যা খাদ্যের গুণগতমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে । অক্সিজেন ছত্রাক ও পোকা-মাকড় জন্মাতেও সহায়তা করে।

খাদ্য সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম:-

শুকনো খাদ্য ও খাদ্য উপাদান, খাদ্য বায়ুরোধী পলিথিনের বা চটের অথবা কোনো মুখ বন্ধ পাত্রে ঠান্ডা ও শুষ্ক জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে। মাঝে মাঝে এই খাদ্য পুনরায় রোদে শুকিয়ে নিলে ভালো হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পলিমালচ ব্যাবহার করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির উপায়

বর্ষাতে উঁচু জমিতে একটু উঁচু করে মাল্চিং করে জল নিকাশী ভালোভাবে করলে চমৎকার স্মার্ট পদ্ধতিতে আগাছার সমস্যা মিটিয়ে সবজি পাবেন। বিশেষ করে এই মাল্চে কনজারভেশন হবার জন্য উৎপাদনও দেড়গুণ বেড়ে যায়। আর এর সাথে ড্রিপ ব্যবস্থা চালু থাকলে দুগুন ফলন অনায়াসে সম্ভব। পলিমাল্চ সম্ভব না হলে প্রাক গ্রীষ্মের জমিতে বাওয়া সবজি বা শীতের সবজিতে খড় বা ফসলের অবশেষ ইত্যাদি দিয়ে মাল্চেও বেশ কিছুটা লাভ পাওয়া সম্ভব।

বিভিন্ন প্রকার জৈব (খড়, ঘাস, গাছের পাতা, কাঠের গুঁড়ো, ফসলের খোসা ইত্যাদি) এবং অজৈব (প্লাস্টিক, পলিথিন,পাথর, বালি ইত্যাদি) পদার্থ দিয়ে চাষের জমির উপরিভাগকে ঢেকে দেওয়ার পদ্ধতিকে আচ্ছাদন বলা হয়।

জৈব আচ্ছাদন এর সুবিধা (Advantages of Organic Poly Munch) –

  • জৈব আচ্ছাদন ব্যবহারের ফলে সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত হয় ফলে মাটির অনুকূল তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • জৈব আচ্ছাদন এর উপকরণ মাটির ভৌত-রাসায়নিক এবং জৈব চরিত্রের মান উন্নয়ন করে, মাটি ঝুরঝুরে হয় এবং মাটির মধ্যে উপকারী অণুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এমনকি মাটির জৈব কার্বনের পরিমান বৃদ্ধি করে যার ফলে গাছের শেকড়ের বৃদ্ধি ভালো হয়।
  • আচ্ছাদন ব্যবহারের ফলে মাটি থেকে বাষ্পীভবনের হার নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে এবং জলের অপচয় কম হয়। সরাসরি সূর্যালোক প্রবেশ করতে না পারার জন্য এটি উষ্ণ এবং শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য খুবই উপযোগী।
  • আগাছা নিয়ন্ত্রণে আচ্ছাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারন চাষের জমির উপরিভাগ আচ্ছাদন উপাদান দিয়ে ঢাকা থাকার ফলে সূর্যালোক সরাসরি মাটিতে প্রবেশ করতে পারে না।
  • জৈব আচ্ছাদন ব্যবহারের ফলে মাটির ক্ষয় কম হয় এবং জল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

জৈব আচ্ছাদনের সীমাবদ্ধতা (Limitations of organic cover) –

  • অনেকে সুবিধা থাকা সত্ত্বেও জৈব আচ্ছাদন এর বেশকিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে; যেমন –
  • জৈব আচ্ছাদন মাটির মধ্যে খুব বেশি আর্দ্রতা বজায় রাখে, যার ফলে খারাপ জলনিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত জমিতে গাছের শেকড়ের চারপাশে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, যা গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত করে।
  • যদি গাছের কাণ্ডের খুব কাছাকাছি বা সংস্পর্শে আচ্ছাদন উপাদান ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তবে রোগ-পোকার আক্রমণ বেশী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • কিছু কিছু জৈব আচ্ছাদন -এর উপকরণ এর মধ্যে আগাছার বীজ থাকে, যা চাষের জমিতে ব্যবহারের ফলে আগাছার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবং ফসলের ক্ষতি করে।
  • এই আচ্ছাদন ব্যবহার করে খরা প্রবণ অঞ্চলে অধিক ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিশেষ কলম পদ্ধতিতে ও বীজ থেকে চারা তৈরির মাধ্যমে কাজু বাদাম চাষ

কাজু গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Anacardium occidentale। কাজু বাদাম (Cashew Nut) অত্যন্ত সুস্বাদু একটি বাদাম।  ধান চাষের চেয়ে বাদাম চাষ সহজ ও পরিশ্রম কম হওয়ায় এবং কম দামে বীজ পাওয়ায় অনেক কৃষকেরা এর চাষ করে থাকে। কাজু বাদাম গাছ ৬০-৭০ বছর পর্যন্ত বাঁচে এবং ৫০-৬০ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। 

আমাদের দেশে একটি অর্থকারী ফসল (Cash crop) হিসেবে কাজু বাদাম চাষ হতে পারে সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত।

বিবিধ পুষ্টিপদার্থ (Nutrition) –

যেমন তামা, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, দস্তা, ফসফরাস, আয়রন, সেলেনিয়াম, থায়ামিন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিপদার্থ ভিটামিন কে, ভিটামিন বি৬ ইত্যাদিতে ঠাসা কাজু বাদাম।

এর ১ আউন্স বা প্রায় ২৮.৩ গ্রাম কাজু বাদাম থেকে মোটামুটিভাবে ১৫৭ গ্রাম ক্যালরি, ৫.১৭ গ্রাম প্রোটিন, ১২.৪৩ গ্রাম ফ্যাট, ৮.৫৬ গ্রাম শর্করা, ০.৯ গ্রাম ফাইবার, ১.৬৮ গ্রাম চিনি পাওয়া যায়।

কাজু বাদাম চাষ পদ্ধতি (Cultivation Process) – 

রোপন –

বীজ এবং কলম উভয় পদ্ধতিতেই কাজু বাদামের বংশ বিস্তার করা যায়। কলমের মধ্যে গুটি কলম, জোড় কলম, চোখ কলম ইত্যাদি প্রধান। বীজ থেকে পলি ব্যাগে চারা তৈরি করে কিংবা কলম প্রস্তুত করে জমিতে রোপণ করতে হবে। 

চারা রোপণের আগে ৭-৮ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে ১ ঘনমিটার আয়তনের গর্ত তৈরি করতে হবে। গর্তে সবুজ সার এবং পরিমাণমত ইউরিয়া ও টিএসপি সার মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে ১৫ দিন পর চারা লাগাতে হবে। চারা গজালে একটি সতেজ চারা রেখে বাকি চারা তুলে ফেলতে হয়। বীজের পরিবর্তে চারা তৈরি করে নিয়েও রোপণ করা যায়। হেক্টর প্রতি প্রয়োজনীয় চারার সংখ্যা ২৪৫-৩৩৫ টি।

সার –

কাজু বাদাম গাছে খুব একটা সার দেয়ার প্রয়োজন হয় না। ভাল ফলনের জন্য প্রতি ফলন্ত গাছে গোবর-৪০কেজি, ইউরিয়া-১কেজি, টি.এস.পি.-১কেজি এবং এম.পি.সার ১কেজি প্রয়োগ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া পাতা শোষক পোকা ও পাতা কাটা পোকা প্রভৃতি কাজু বাদামের ক্ষতি সাধন করে। তাই পরিমিত পরিমাণে কীটনাশক প্রয়োগ করে কীটপতঙ্গ দমন করা যায়।

পরিচর্যা:

আগাছা পরিষ্কার করা, মরা অপ্রয়োজনীয় ডাল ছাটাই করা এবং সাথী ফসল চাষ করা প্রয়োজন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

জয়পুরহাটে পোকায় খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় ফসলের মাঠে আমন ধানে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কীটনাশক ছিটিয়েও পোকাড় আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করতে পারছে না কৃষক। আশানুরূপ ফলন না হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পরেছেন এলাকার কৃষকরা। 

কৃষি বিভাগের দাবি, কৃষকের সব রকমের পরামর্শ প্রদান ও সার্বিক সহযোগিতায় কাজ করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ।উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, কারেন্ট পোকার আক্রমণে কৃষকের আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলার দরপাল গ্রামের কৃষক বিনয় চন্দ্র বলেন, আমরা কৃষকরা সারাদিন মাঠে ফসলের পরিচর্যা করি। ফসলে পোকার আক্রমণ বা রোগবালাই দমনে কোনো ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে এসব পরার্মশ দেওয়ার জন্য কৃষি অফিসের কাউকে মাঠে ঠিকমত পাই না।

আগাইর গ্রামের কৃষক লিটন আরমান বলেন, এ বছর ৪ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। ফলন ভাল হওয়ায় বিঘা প্রতি ২০ মণ ধান পাওয়ার আশা থাকলেও কারেন্ট পোকাড় আক্রমণে অর্ধেক ধানও ঘরে তুলতে পারব না বলে মনে হচ্ছে। তারও অভিযোগ পরামর্শের জন্য কৃষি অফিসের কাউকে না পেয়ে নিজেই কীটনাশক ব্যবহার করি।

এ বিষয়ে আয়মারসুলপুর ইউনিয়নে দায়িত্বরত কৃষি উপ-সহকারী ফজলে রাব্বী বলেন, এত বড় ইউনিয়নে আমি একা দ্বায়িত্ব পালন করছি। যে কৃষক তার ফসলের সমস্যার কথা জানায় সঙ্গে সঙ্গে সরেজমিনে গিয়ে পরামর্শ দেই। 

পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফর রহমান এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নওগাঁয় খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় রেল লাইনের দু‘পাশে তাকালেই চোখে পড়ে সারি সারি অসংখ্য খেজুর গাছ। শীতের আগমনী বার্তার সাথে সাথে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে গাছিরা। বৈচিত্রপূর্ণ ছয়টি ঋতুর দেশ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ। এক একটি ঋতুর রয়েছে এক একটি বৈশিষ্ট্য। ঋতু বৈচিত্রে এখন রাতের শেষে কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের আগমন বার্তা। আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য খেজুর রস সংগ্রহে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে খেজুর রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা খেজুর গাছ কাটার কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর মাত্র কয়েক দিন পর রস সংগ্রহ করে রস থেকে লালি ও গুড় তৈরির পর্ব শুরু হয়ে চলবে প্রায় মাঘ মাস পর্যন্ত। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি উপজেলার প্রতিটি গ্রামে চোখে পড়ছে। খেজুর রস ও গুড়ের জন্য আত্রাই উপজেলা এক সময় খ্যাতি ছিল। সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়। 

কিছুদিন আগেও বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে, ক্ষেতের আইলে, ঝোপ-ঝাড়ের পাশে ও রাস্তার দুই ধার দিয়ে ছিল অসংখ্য খেজুর গাছ। কোন পরিচর্যা ছাড়াই অনেকটা প্রাকৃৃতিকভাবে বেড়ে উঠতো এসব খেজুর গাছ। প্রতিটি পরিবারের চাহিদা পূরন করে অতিরিক্ত রস দিয়ে তৈরি করা হতো সুস্বাদু খেজুরের গুড়। গ্রামীন জনপদে সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবে পুকুরের পাড়ে রাস্তার ধারে পরিবেশ বান্ধব খেজুর গাছ এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। ইটভাটার রাহু গ্রাসে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার বেশি হওয়ার কারণে যে পরিমাণ গাছ চোখে পড়ে তা নির্বিচারে নিধন করায় দিনদিন খেজুর গাছ কমছেই। এখনও শীতকালে শহর থেকে মানুষ দলে দলে ছুটে আসে গ্রাম বাংলার খেজুর রস খেতে। এক সময় সন্ধ্যাকালীন গ্রামীণ পরিবেশটা খেজুর রসে মধুর হয়ে উঠতো। রস আহরণকারী গাছিদের প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যেত সে সময়ে। রস জ্বালিয়ে পাতলা ঝোলা, দানা গুড় ও পাটালি তৈরি করতেন। যার সাধ ও ঘ্রাণ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন অবশ্যই সে কথা নতুন প্রজন্মের কাছে রূপকথা মনে হলেও বাস্তব। যত বেশি শীত পড়বে তত বেশি মিষ্টি রস দেবে খেজুর গাছ। এ গাছ ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত রস দেয়। এটাই তার বৈশিষ্ট্য। শীতের পুরো মৌসুমে চলে রস, গুড়, পিঠা, পুলি ও পায়েস খাওয়ার পালা। এছাড়া খেজুরর পাতা দিয়ে আর্কষণীয় ও মজবুত পাটি তৈরি হয়। এমনকি জ্বালানি কাজেও ব্যাপক ব্যবহার। কিন্তু জয়বায়ু পরিবর্তন, কালের বির্বতনসহ বন বিভাগের নজরদারি না থাকায় বাংলার ঐতিহ্যবাহি খেজুর গাছ এখন উপজেলাজুড়ে বিলুপ্তির পথে।নাটোরের লালপুর উপজেলা থেকে আসা গাছি কালাম মিঞা জানান, আমরা পেশাগত কারণে প্রায় প্রতি বছরেই আত্রাই উপজেলার বজ্রপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস এর জমিতে তাবু গেড়ে ওই এলাকার খেজুর গাছ মালিকদের কাছ থেকে ৪ মাসের জন্য গাছ ভেদে ৫ থেকে ৭ কেজি করে খেজুরের গুড় দিয়ে গাছগুলো আমরা নেই। চাহিদা মত খেজুর গাছ না পাওয়ার কারণে রস কম হওয়ায় আশানুরূপ গুড় তৈরি করতে পাড়ি না। তারপরও এ বছর প্রায় ২শ’টির বেশি খেজুর গাছের মালিকদের সাথে চুক্তি করেছি। বর্তমান বাজারে আখের গুড় চিনি যে মূল্যে বেচাকেনা হচ্ছে তার চেয়ে মানসম্পন্ন খেজুরের গুড়ের দাম এ বছর কিছুটা বেশি হবে এমনটাই আসা করছেন গাছিরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাউছার হোসেন জানান, বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলেই খেজুর গাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। গাছিদের খেজুর গাছ কাটার কাজটি শিল্প আর দক্ষতায় ভরা। ডাল কেটে গাছের শুভ্র বুক বের করার মধ্যে রয়েছে কৌশল, রয়েছে ধৈর্য ও অপেক্ষার পালা। এ জন্য মৌসুমে আসার সাথে সাথে দক্ষ গাছিদের কদর বাড়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com