আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

লাঠি হাতে মহাসড়কে পশুবাহী গাড়ি থামিয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

শনিবার দিনগত রাত ৩টা। বগুড়া শহরতলীর শাকপালা, বনানী ও লিচুতলা মোড়। সব পয়েন্টে দাঁড়িয়ে ৭-৮ জন করে যুবক। প্রত্যেকের হাতে লাঠি। নজর মহাসড়কে চলাচল করা গাড়ির হেডলাইটের দিকে। দূর থেকেই তারা বোঝার চেষ্টা করছেন কোনটি গরুবোঝাই ট্রাক আর কোনটি সাধারণ মালবাহী।

গরুবোঝাই ট্রাক কিছুটা কাছাকাছি এলেই সড়কের মাঝে ছুটে যান তারা। সিগন্যাল দিয়ে সড়কের একপাশে দাঁড় করিয়ে জোর করে আদায় করা হয় চাঁদা। সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা না দিলে ট্রাক আটকে রাখার দেয়া হয় হুমকি-ধামকি।

রোববার (১৮ জুলাই) কথা হয় ভুক্তভোগী কয়েকজনের সঙ্গে।বগুড়ার বনানী মোড় থেকে ৫০০ গজ সামনে সোনার বাংলা হোটেলে খেতে নেমেছেন তারা। সেখানে খেতে বসে কীভাবে পথে পথে চাঁদাবাজির শিকার হলেন তার বর্ণনা করছিলেন ট্রাকচালক আমির হোসেন। তার বাড়ি জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে।

তিনি নিজের ট্রাকে এর আগে কখনো এই সড়কে গরু বহন করেননি। এ কারণে এভাবে চাঁদা দেয়ার ঘটনাটিও তার জন্য নতুন। আমির হোসেন বললেন, যারা চাঁদা তুলছে, তাদের মধ্যে কোনো তাড়াহুড়া কিংবা লুকোচুরি নেই। প্রকাশ্যেই তারা চাঁদার টাকা নিচ্ছে।

jagonews24.com

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উত্তরাঞ্চলের মহাসড়কজুড়ে কোরবানির ঈদের আগে বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। বাস, ট্রাকসহ যেকোনো যানবাহন আটকে আদায় করা হচ্ছে টাকা।

তবে মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদা তোলা হলেও তা অস্বীকার করেছেন সংগঠন দু’টির নেতারা।

তারা বলছেন, যারা চাঁদা তুলছে এরা শ্রমিক নয়, শুধুই চাঁদাবাজ। অন্যদিকে চাঁদাবাজরা বলছে, তারা শ্রমিক সংগঠনগুলোর নিয়োগ করা লোক।

সরেজমিন দেখা গেছে, চাঁদাবাজরা মহাসড়কে রীতিমতো ব্যারিকেড দিয়ে পণ্য ও গরুবাহী ট্রাক থামিয়ে চাঁদা আদায় করছে। সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। শুধু বগুড়া জেলার ১৫টি পয়েন্টে তোলা হচ্ছে চাঁদার টাকা। তবে দিনের বেলা চাঁদাবাজরা সতর্ক থাকলেও রাতে হয়ে ওঠে আরও বেপরোয়া।

আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের বগুড়া জেলার সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান বলেন, ‘এই মুহূর্তে সাংগঠনিকভাবে সব ধরনের চাঁদা আদায় বন্ধ আছে। সড়কে কারা চাঁদা তুলছে তা আমি বলতে পারব না। তবে মোটর শ্রমিকের কিছু স্বেচ্ছাসেবী মহাসড়কে যানজট নিরসনে কাজ করছে বলে শুনেছি।’ তিনি দাবি করেন, ‘ট্রাক শ্রমিক পরিচয়ে কেউ চাঁদা আদায় করে থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বগুড়া হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, বগুড়ার দু’টি বাইপাস মহাসড়ক ও মূল শহরের ভেতর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১২০০ ট্রাক যাতায়াত করে। এগুলোর বেশির ভাগই বাইরের জেলার। মূলত চাঁদাবাজদের টার্গেটও বাইরের জেলার ট্রাক। কারণ এসব ট্রাকের চালকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছামতো চাঁদা আদায় করা যায়।

হাইওয়ে পুলিশের শেরপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বানিউল আনাম জানান, মহাসড়কে পণ্য কিংবা গরুবাহী ট্রাক থামানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মহাসড়কে কারা চাঁদা তুলছে, সেটি তারা তদন্ত করবেন। প্রয়োজনে গ্রেফতর করে মামলা দেয়া হবে।

টাঙ্গাইল এলাকার বাসিন্দা ট্রাকচালক আফতাব হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, মাটিডালি দ্বিতীয় বাইপাস সড়কের মানিকচক এলাকায় ও বনানী লিচুতলা এলাকায় তাকে দুই দফায় ৪০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে।

একই রকম অভিযোগ করেন সিরাজগঞ্জের ট্রাকচালক সবুজ মিয়া। তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের দাবি করা ৫০০ টাকা না দেয়ায় গাড়িসহ এক ঘণ্টা তাকে লিচুতলা মোড়ে হোটেলগুলোর সামনে আটকে রাখা হয়েছিল। এরপর ৪০০ টাকা দিয়ে ছাড়া পান তিনি।

ট্রাকচালকদের তথ্যমতে, চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বগুড়ার মোকামতলা, মহাস্থানগড়, মাটিডালির মোড়, চারমাথা বাসস্ট্যান্ড, তিনমাথা রেলগেট, শাকপালা, বনানী, লিচুতলা, শাহজাহানপুর, শেরপুর, মীর্জাপুর, ধুনট মোড়, মানিকচক, সাবগ্রাম ও চান্দাইকোনায়। এসব স্থানে নিজ জেলার গাড়ি থেকে আদায় করা হয় ৫০-১০০ টাকা। আর বাইরের জেলার গাড়ি থেকে ৩০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত।

জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান আকন্দ জানান, তারা মহাসড়কে চাঁদা আদায়ের পুরোপুরি বিপক্ষে। এরপরও কারা কীভাবে চাঁদা তুলছে, সেটি বুঝতে পারছেন না বলেও জানান তিনি। তবে চাঁদা তোলার তথ্য তার কাছেও রয়েছে। তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পুলিশের যেকোনো পদক্ষেপে ট্রাক মালিক সমিতির সমর্থন আছে।

বগুড়ার শাকপালা এলাকায় ট্রাক ড্রাইভার খলিল মুন্সি জানান, তিনি যশোর থেকে বগুড়ায় ভাড়ায় মাল এনেছেন। বগুড়ায় মেডিকেলের পাশে বাবা কামালিয়া হোটেলের পাশে তার কাছ থেকে শ্রমিক নামধারী কিছু সন্ত্রাসী জোরপূর্বক ৫০০ টাকা চাঁদা নিয়েছে। লাঠি বের করে ভয় দেখালে বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছেন তিনি।

বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, ‘কোথাও চাঁদা উঠানো হচ্ছে না। যারা চাঁদা তুলবে, তাদের গ্রেফতার করা হবে।’ এসপি জানান, গরুর ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় করার কোনো তথ্য তার জানা নেই। তাদের টহল পুলিশ প্রতিনিয়ত মহাসড়কে কাজ করছে। গোয়েন্দা পুলিশও মাঠে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

কুমিল্লায় আউশ আবাদে ব্যস্ত কৃষক

লেখক

জেলার বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতে আউশ আবাদের ধুম পড়ে গেছে। লাভের আশায় কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন চাষিরা। সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতেই মাঠে মাঠে আউশ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। স্থানীয় চাষিরা জানান, টানা বর্ষণ আর গত কয়েকদিনর বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশ ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিলেন অনেক চাষি। সেই সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্যই ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা আশায় বুক বেঁধেছেন আউশ আবাদে। মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর আউশের ফলন অনেক ভালো হবে বলে মনে করছেন চাষিরা। তাই বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতে আউশ ধান রোপণ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। বর্তমানে ক্ষেতের অবস্থা নিয়েও সন্তুষ্ট চাষিরা।


কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আউশ চাষি কামরুজ্জামান বাসসকে বলেন, লাভবান হওয়ার আশায় ১৮০ শতাংশ জমিতে আউশের আবাদ করেছি, এখন পর্যন্ত ক্ষেতের অবস্থা ভালো।
কৃষক আবদি মিয়া বলেন, গত বছর আউশ আবাদে আমার অনেক লাভ হয়েছে, আশা করছি এবারও লাভের মুখ দেখতে পারবো। কৃষক তোফায়েল ও করিমসহ অন্যরা জানান, জমিনে রোপা আউশের বয়স ৮/১০ দিন হয়েছে, এবার ফলন অনেক ভালো হবে। আগে যাদের ক্ষতি হয়েছে তারা এবার পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। অনেকে এখনো আউশ রোপণ করছেন, কেউ আবার ক্ষেত পরিচর্চা শুরু করেছেন।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, এ বছর জেলার ১৫ উপজেলায় ১৩ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে স্থানীয় ও উফশি জাতের আউশ ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার ৬৫ ভাগ ধান ইতোমধ্যে রোপণ শেষ হয়েছে। মোট আবাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন চাল।
কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বাসসকে বলেন, কৃষকদের আউশ ধান আবাদে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে করে কৃষকরা বাড়তি আউশ আবাদ করে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে। বর্তমানে ধানের দাম ভালো থাকায় অনেকেই আউশ আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন, আমরাও তাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সব জমি যেন কৃষি আবাদের আওতায় আসে সে লক্ষ্যে কুমিল্লাতে কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৪ হাজার ৩২০ জন কৃষককে সবজি বীজও দেওয়া হচ্ছে, যাতে এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। বাজারে ধানের দাম ভালো থাকায় এখনো আউশ আবাদ করছেন চাষিরা। আমরাও তাদের উৎসাহ দিচ্ছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কৃষি কাজের যান্ত্রিকীকরণের সুফল পাওয়া যাচ্ছে : কৃষিমন্ত্রী

লেখক

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কৃষি কাজে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে নিরলস কাজ করছে। কৃষিমন্ত্রী রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের’ জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহর সভাপতিত্বে কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো: হাসানুজ্জামান কল্লোল, অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো: হামিদুর রহমান, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো: বখতিয়ার, ব্রির মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক বেনজীর আলম।


আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে নেয়া হয়েছে ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার প্রকল্প। পাশাপাশি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত করতে দক্ষ জনবল তৈরিতে ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কৃষি প্রকৌশলীর ২৮৪টি পদ সৃজন করা হয়েছে। ফলে, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দিকে যাচ্ছে ও যান্ত্রিকীকরণের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। এ বছরে বোরোতে ধান কাটার যন্ত্র কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় দ্রুততার সাথে সফলভাবে ধান ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে অঞ্চলভেদে ৫০%- ৭০% ভর্তুকিতে কৃষকদেরকে কৃষিযন্ত্র দেয়া হচ্ছে। এটি সারা বিশ্বের একটি বিরল ঘটনা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষিতে নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। এর মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে সময় ও শ্রম খরচ কমবে। কৃষক লাভবান হবে। বাংলাদেশের কৃষিও শিল্পোন্নত দেশের কৃষির মতো উন্নত ও আধুনিক হবে।

কৃষি যন্ত্রের প্রাপ্তি, ক্রয়, ব্যবহার ও মেরামত সহজতর করতে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা পর্যায়ক্রমে স্থানীয়ভাবে কৃষিযন্ত্র তৈরি করতে চাই। বর্তমানে বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তা আমরা কমিয়ে আনতে চাই। ইতিমধ্যে আমরা ইয়ানমার, টাটাসহ অনেক কোম্পানির সাথে কথা বলেছি, তাদেরকে অনুরোধ করেছি যাতে তারা বাংলাদেশে কৃষিযন্ত্র তৈরির কারখানা স্থাপন করে।
তিনি বলেন, ভর্তুকি পাওয়ার পরও যাতে কৃষক কৃষিযন্ত্র কিনতে পারে, সেজন্য কৃষককে ঋণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কৃষি যন্ত্র সরবরাহকারীদেরকে যন্ত্রের মেইনটেন্যান্সে সহায়তা ও বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে হবে। এছাড়া, কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণে জোর দেয়া হচ্ছে- যাতে তারা নিজেরাই যন্ত্র চালনা ও মেরামত করতে পারে। এ সময় কৃষিযন্ত্র প্রস্তুতকারী, নির্মাতা ও আমদানিকারকদের দেশে কৃষিযন্ত্র তৈরিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ভোলায় এক লাখ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

লেখক

জেলায় চলতি মৌসুমে ৯৯ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।এর মধ্যে উফশী ৮৩ হাজার ৫২০ ও স্থানীয় জাত ১৫ হাজার ৯৭০ হেক্টর। ইতোমধ্যে প্রায় ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে আবাদ শুরু হয়ে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত জমি থেকে ২ লক্ষ ৪০ হাজার ৯২৭ মে:টন চাল উৎপাদনের টার্গেট গ্রহণ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুক’লে থাকলে এ অঞ্চলে আউশের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনার রয়েছে।


উপ-সহকারী উদ্বিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির বাসস’কে জানান, বাংলাদেশে আউশ ধান আবাদে ভোলা প্রথম স্থানে রয়েছে। প্রতি বছরই এ জেলায় আউশের আবাদি জমির পরিমান বাড়ছে। এবছর হেক্টর প্রতি উফশীতে চাল উৎপাদন ধরা হয়েছে ২ শমিক ৬ মে:টন ও স্থানীয়তে ১ দশমিক ৪ মে:টন করে। শুরুর দিকে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আউশ আবাদে বিলম্ব হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে মাটি নরম হওয়াতে এখন আবাদ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আউশ আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করতে জেলায় ১৫ হাজার ৮০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে উন্নত বীজ এবং সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। খরিপ-১/২০২১-২০২২ মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সরকারিভাবে ১২ হাজার কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি উচ্চফলনশীল জাতের বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার ৮০০ কৃষককে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের বীজ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৫ কেজি করে বীজ দেওয়া হয়েছে।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু মো: এনায়েতউল্লাহ বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা’র প্রভাবে যাতে দেশে খাদ্য সংকট সৃষ্টি না হয় সে কারণে এবার আবাদি জমির পরিমান বৃদ্ধি করা হচ্ছে। গত বছর আউশ আবাদ হয়েছে ৯৮ হাজার ৭৫৫ হেক্টা জমিতে। এ বছর আশা করা হচ্ছে আবাদ আরো বাড়বে। আগষ্টের শেষের দিকে কৃষকরা ফসল ঘরে তুলবেন। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা কৃষকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। চারা রোপণ, সুসম মাত্রায় সার প্রয়োগসহ সব ধরনের পরামর্শ কৃষকদের দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নীলফামারীতে বীজআলু উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু

লেখক

জেলার ডোমার উপজেলায় আজ মানসম্পন্ন বীজআলু উৎপাদন, সংরক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে দুইদিন ব্যাপি প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ডোমার ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
বিএডিসির মানসম্পন্ন বীজআলু উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং কৃষক পর্যায়ে বিতরণ জোরদারকরণ প্রকল্প’র আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণে বিএডিসির রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ৩০জন কর্মকর্তা অংশ গ্রহন করছেন।


ভার্চ্যুয়ালি এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন বিএডিসির চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) ড. অমিতাভ সরকার।
এসময় বিএডিসির মহাব্যবস্থাপক মো. ইব্রাহীম হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএডিসির পরিচালক (বীজ ও উদ্যান) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ডোমার ভিত্তি বীজআলু উৎপাদন খামারের উপ-পরিচালক মো. আবু তালেব মিঞা প্রমুখ।
আগামীকাল শনিবার বিকালে সমাপ্ত হবে ওই প্রশিক্ষণ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

দেয়ালের ড্যাম্প দূর করার সহজ উপায়

বর্ষায় ঘরের দেয়ালের পঁলেস্তার খসে পড়ে। দেয়ালে ড্যাম্প ধরার কারণে এটি হয়ে থাকে। এর ফলে দেয়ালে দেখা দেয় বিশ্রী কালচে ছোপ। সেইসঙ্গে দেয়ালের রংও চটে যায়।

ভেজা দেয়াল শুকিয়ে গেলে আবার পঁলেস্তার ফুলে ওঠে এবং ধীরে ধীরে ঝরে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে অনেকের ঘরেই এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে খুব সহজেই দেয়ালের ড্যাম্প দূর করা সম্ভব। জেনে নিন উপায়-

প্রথমে ঘরের দেয়ালের যেসব স্থানে ড্যাম্প ধরেছে তা চিহ্নিত করুন। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো এক স্থান থেকে ক্রমাগত পানি চুঁইয়ে পড়ার কারণে ওই ভেজা অংশ থেকেই ড্যাম্প ছড়াতে থাকে।

ঘরের ভেন্টিলেশনের দিকে নজর রাখুন। অনেক সময় সেখান থেকেও পানি চুঁইয়ে দেয়াল নষ্ট হতে পারে। তাই বর্ষার আগেই ব্যবস্থা নিন।

অনেক সময় বাড়ির ছাদে বা দেয়ালে ফাটল ধরে পানি চুঁইয়ে পড়ার কারণে ঘরের ভিতরে ছাদের অংশে বা দেয়ালে ড্যাম্প ধরে। এক্ষেত্রে দ্রুত ওই ফাটল মেরামত করা প্রয়োজন।

দীর্ঘদিন যদি কোনো ওয়ালমেট বা আসবাব দেয়ালের সঙ্গে লাগানো অবস্থায় থাকে; ওই স্থানে ড্যাম্প ধরে। তাই কিছুদিন পরপর আসবাবপত্রের জায়গা পরিবর্তন করুন।

চেষ্টা করুন ঘর খেলামেলা রাখতে। দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরে যদি আলো-বাতাস খেলা করে; তাহলে দেয়ালে ড্যাম্প ধরবে না। অন্যদিকে বদ্ধ ঘরে অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প বা আর্দ্রতা জমে দেয়ালে ড্যাম্প পড়ার আশঙ্কা থাকে।

দেওয়ালের যে স্থানে ড্যাম্প ধরেছে সেখানে জিপসাম প্লাস্টার ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমানে বাজারে উপলব্ধ ‘মোল্ড রেজিস্ট’ রং বা জিপসাম প্লাস্টার পাওয়া যায়। এগুলো ঘরের দেয়ালকে ড্যাম্প পড়ার হাত থেকে দীর্ঘদিন রক্ষা করে।

ঘরের কোনো দেয়ালে বা মেঝেতে যদি শেওলা হয়, তাহলে স্থানটিতে সাদা ভিনেগার স্প্রে করে কিছুক্ষণ রেখে শুকনো কাপড় দিয়ে নিয়মিত মুছে ফেলতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com