আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন

সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন
সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন

কৃষিযন্ত্রের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিতে মালিকানা অনুযায়ী খণ্ডিতভাবে নয়, সমন্বিতভাবে ফসল উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করতে চায় সরকার। এমন বিধান রেখে ‘জাতীয় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালা- ২০১৯’ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয় প্রণীত খসড়াটি শিগগিরই মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হচ্ছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালার উদ্যোগ নিয়েছি। কৃষিকে কীভাবে যান্ত্রিকীকরণ করা হবে, কোন ধরনের মেশিনারি অ্যাডপ্ট করা হবে, মেশিনারির মূল্য কী হওয়া উচিত- এসব বিষয়ই নীতিমালায় থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘ভিন্ন ভিন্নভাবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ হচ্ছে। আমরা মনে করছি, এটি একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার। এজন্য নীতিমালার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

কৃষি সচিব আরও বলেন, ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালা প্রণয়নে আমরা শেষ পর্যায়ে আছি। এটি শিগগিরই অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে পাঠানো হবে।’

অধিকতর দক্ষতা এবং শ্রম ও সময়সাশ্রয়ী উপায়ে কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে মানুষ ও প্রাণিশক্তির ব্যবহার কমিয়ে বেশি পরিমাণে যন্ত্রশক্তি ব্যবহারের প্রযুক্তি ও কলাকৌশল প্রয়োগের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাকে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বলা হয়।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে নীতিমালায় বলা হয়, বাংলাদেশে খামারের গড় আয়তন ছোট এবং খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত। ফলে খণ্ডিত জমিতে চাষ, বপন, রোপণ, কর্তন ইত্যাদিতে যন্ত্রের ব্যবহার বেশ কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। এমনকি ছোট ও মাঝারি আকারের কৃষিযন্ত্রের পূর্ণ ক্ষমতার ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।

সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন
সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন

এতে বলা হয়, দেশে চাষাবাদযোগ্য জমির আকার ছোট ও খণ্ড খণ্ড হওয়ায় কৃষি উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রের সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জন সম্ভব হয় না। ভাড়া ব্যবস্থায় কৃষিযন্ত্র সেবার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে কৃষকদের সংগঠিত করে সমন্বিত ফসল উৎপাদন ব্যবস্থা প্রণয়নে উৎসাহিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে জমি ইজারা ও চুক্তিভিত্তিতে ফসল উৎপাদন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত কর্মপদ্ধতি পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে।

বাংলাদেশ কৃষি যান্ত্রিকীকরণে চ্যালেঞ্জ হিসেবে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, কৃষিযন্ত্রের বিক্রয়োত্তর সেবার অপ্রতুলতা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকাণ্ডের সীমাবদ্ধতা, স্থানীয়ভাবে কৃষিযন্ত্র ও খুচরা যন্ত্রাংশ উৎপাদনে আধুনিক মূলধনী যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবলের অভাব, আমদানিকৃত ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষি যন্ত্রপাতির গুণগতমান ঘোষণা ও নির্ধারণ ব্যবস্থার অনুপস্থিতি, আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহার উপযোগী গ্রামীণ অবকাঠামোর অভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগের নেতিবাচক প্রভাবকে তুলে ধরা হয় নীতিমালায়।

এতে আরও বলা হয়, অঞ্চল ও ফসলভেদে আধুনিক ও লাগসই কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণাকে উৎসাহিত করা হবে। গবেষণার সক্ষমতা বাড়াতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।

কৃষক ও সেবা প্রদানকারী উদ্যোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা এবং খামারের আকৃতি বিবেচনায় নিয়ে মানসম্পন্ন ও টেকসই উপযুক্ত যন্ত্র সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হবে জানিয়ে নীতিমালায় বলা হয়, প্রতিকূল পরিস্থিতি (কাদা মাটি, জলমগ্নতা ও ফসলের নুয়ে পড়া অবস্থা ইত্যাদি) অনুযায়ী উপযুক্ত যন্ত্র সহজলভ্য করতে উৎসাহ দেয়া হবে।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সরকারি প্রণোদনা নীতি তুলে ধরে নীতিমালায় বলা হয়, বর্তমানে কৃষিযন্ত্র জনপ্রিয়করণ ও সম্প্রসারণে হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ হারে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ভর্তুকি) দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে শুধু কৃষক-পর্যায়ে পরিচিতি ও জনপ্রিয়করণে এ প্রণোদনা দেয়া হবে। প্রণোদনা অবশ্যই মানসম্পন্ন বা প্রত্যয়নকৃত কৃষিযন্ত্রের ওপর প্রযোজ্য হবে। বছরে স্বল্প সময়কালে ব্যবহার্য অথচ অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হবে। বেসরকারি উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে যন্ত্রের চাহিদা ও সরবরাহ সমন্বয়ের মাধ্যমে কৃষিযন্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পরবর্তীতে প্রণোদনার হার ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন করা হবে।

কৃষক ও যন্ত্রসেবা প্রদানকারী উদ্যোক্তাদের কৃষিযন্ত্র ক্রয়ে উৎসাহিত করতে প্রয়োজন মতো সরকারি বাণিজ্যিক, এনজিও ও অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান থেকে সহজে কৃষি ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে। বছরের স্বল্প সময়ে ব্যবহার্য বপন, রোপণ, কর্তন, শুকানো, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ বিষয়ক কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সহজে বিশেষায়িত দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন
সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন

আমদানিকৃত এবং স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত কৃষিযন্ত্র বিপণনে সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে। বর্তমানে কৃষিযন্ত্র আমদানিতে আরোপিত শুল্কহার ন্যূনতম রয়েছে। তবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের স্বার্থে পোর্ট অব এন্ট্রিতে আমদানিকৃত যন্ত্রের ওপর আবগারি, বিক্রয় এবং অন্যান্য শুল্ক যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা হবে। দেশে উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে এমন সব যন্ত্রের যুক্তিসঙ্গত প্রতিরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেয়া হবে।

এতে বলা হয়, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়নের জন্য কৃষক ও কৃষিযন্ত্রের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, তথ্য ও সেবাপ্রদান নিশ্চিত করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরসহ অন্যান্য সংস্থায় উপজেলা থেকে সব উচ্চতর স্তরে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকৌশল জ্ঞানসম্পন্ন আলাদা জনবল কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে।

স্থানীয়-পর্যায়ে কৃষিযন্ত্র ও যন্ত্রাংশের উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসার ও মান উন্নয়নে সরকার পদক্ষেপ নেবে জানিয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে, কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী শিল্পকে কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে গণ্য করার উদ্যোগ নেয়া হবে। কৃষিযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতির ওপর যুক্তিসঙ্গত হারে প্রণোদনামূলক আমদানি কর নির্ধারণ করা হবে। কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী ও সংযোজন শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক রেয়াতি সুবিধা অব্যাহত রাখা হবে। এ শিল্পের সুষ্ঠু বিকাশের স্বার্থে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনার ভিত্তিতে কর রেয়াত-সংশ্লিষ্ট তালিকার যন্ত্রাংশের সংখ্যা প্রয়োজনের নিরিখে সম্প্রসারণ করা হবে।

‘কৃষি যন্ত্রপাতি শিল্পের বিকাশের স্বার্থে প্রস্তুতকারী শিল্পোদ্যোক্তাদের অর্জিত লভ্যাংশের ওপর আরোপিত আয়কর প্রদানে প্রয়োজন অনুসারে রেয়াতি সুবিধা দেয়া হবে। কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী শিল্পে আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর বিধিবদ্ধ শুল্ক বিদ্যমান থাকায় কৃষিযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ বিক্রয় ও সরবরাহের ক্ষেত্রে ভ্যাট রেয়াতি সুবিধার বিষয় বিবেচনা করা হবে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষি যন্ত্রাংশের উৎপাদন খরচ ও কৃষক উদ্যোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমদানিকৃত কৃষি যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক যৌক্তিক-পর্যায়ে নির্ধারণ করা হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।’

দেশে কৃষি যন্ত্রপাতি সংযোজন শিল্পকে উৎসাহিত করা হবে। এক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে। সংযোজন শিল্পে দেশে উৎপাদিত যন্ত্রাংশের একটি অংশ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। উচ্চ মূল্যের নতুন কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন- কম্বাইন্ড হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ইত্যাদি আমদানির পাশাপাশি পুনঃসংযোজিত কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ থাকবে। কৃষিযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী শিল্পাঞ্চলসমূহে ‘কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী জোন (এএমপিজেড)’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ শিল্পের উন্নয়নে বিশেষায়িত উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ‘উচ্চতর সেবাকেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন
সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন

বিশেষ অঞ্চলভিত্তিক যান্ত্রিকীকরণের আওতায় হাওর অঞ্চল, উপকূলীয় ও চরাঞ্চল, পাহাড়ি ও বরেন্দ্র অঞ্চলে বিশেষ পদক্ষেপ নেবে সরকার।

পাশাপাশি গ্রামের শিক্ষিত যুবকদের যন্ত্রসেবা উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি এবং যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণে যুব সম্প্রদায়ের অধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতে নানা উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া কৃষি যন্ত্রপাতি পরিচালনায় নারীর অংশগ্রহণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই নারীদের আরও উৎসাহিত করতে সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

যান্ত্রিকীকরণের ক্ষেত্রে কৃষক, যন্ত্রসেবা প্রদানকারী ও স্থানীয় কৃষিযন্ত্র প্রস্তুতকারক-পর্যায়ে মূলধনের অপ্রতুলতা রয়েছে। এজন্য কৃষিযন্ত্র তৈরিতে মূলধনী যন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে সরকারি বিশেষায়িত ঋণ স্কিমের আওতায় ন্যূনতম হারে ঋণ চালু করা হবে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কর্মকাণ্ড কৃষি খাতের মোট ঋণের একটি নির্দিষ্ট অংশ কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে নির্ধারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

নীতিমালা অনুমোদন শেষে তা বাস্তবায়নে কৃষি মন্ত্রণালয় একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সমন্বয় ও মনিটরিং কাঠামো তৈরি এবং তা সুষ্ঠু বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জাতীয় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালায় বলা হয়েছে।

পরিবেশ

পঙ্গপাল দমন না করে বিক্রি, আয় করছেন কৃষকরা!

পঙ্গপাল দমন না করে বিক্রি, আয় করছেন কৃষকরা!
পঙ্গপাল দমন না করে বিক্রি, আয় করছেন কৃষকরা!

তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহভাবে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল ছড়িয়ে পড়েছে ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে। যেহেতু করোনাভাইরাসের মাঝে পঙ্গপালের আক্রমণ খাদ্য সংকটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে এ সংকটের মাঝেও নতুন একটি সমাধান খুঁজে পেয়েছেন পাকিস্তানের কৃষকরা।

সামাটিভি‘র একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পঙ্গপাল শুধু দমন করাই নয়, তা বিক্রি করে আয়েরও বড় উপায় হয়ে উঠেছে পাঞ্জাবের ওকারা জেলায়। ক্ষুদ্র এ পতঙ্গটি ব্যবহার করা হচ্ছে মুরগির উচ্চপ্রোটিন যুক্ত খাবার হিসেবে।

ওকারা জেলায় উদ্ভাবনী এ প্রকল্প এনেছেন পাকিস্তানের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ খুরশিদ ও পাকিস্তান কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের জৈবপ্রযুক্তিবিদ জোহর আলী।

এরপর প্রকল্পের একটি শ্লোগান দেন তারা, ‘পঙ্গপাল ধর, আয় কর এবং ফসল বাঁচাও’। প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রতি কেজি পঙ্গপালের বিনিময়ে ২০ পাকিস্তানি রুপি করে দেয়া হয়।

খুরশিদ ও আলী মিলে পাকিস্তানের জনসংখ্যাবহুল প্রত্যন্ত গ্রাম ওকারা জেলাতে তিনদিনের পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করেন। প্রকল্পটি ছিল দেপালপুরে পেপলি পাহার বনে। গত ফেব্রুয়ারি থেকেই সেখানে বিপুল সংখ্যক পরিপক্ক পঙ্গপাল আসতে থাকে। আর ওই বন নির্বাচন করার কারণ ওখানে পঙ্গপালের ওপর কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি।

এ ধারণার অন্যতম প্রবর্তক পাকিস্তানের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা খুরশিদ বলেন, পঙ্গপাল সাধারণত দিনের আলোতে উড়ে বেড়ায়। রাতে ওরা গাছপালায় বা উন্মুক্ত ময়দানে বিশ্রাম নেয়। তখন একদম নড়াচড়া করে না। মৃতের মতো পড়ে থাকে। ওই সময় পঙ্গপাল ধরা অনেক সহজ। আমরা কৃষকদের সেই বুদ্ধি দিলাম। তাতেই কাজ হলো। কৃষকরা প্রথম রাতেই ৭ টন পঙ্গপাল ধরেছে। আমরা সেগুলো পার্শ্ববর্তী মুরগির খাবার তৈরির কারখানায় বিক্রি করেছি। ওই রাতে কাজ করে কোনো কোনো কৃষক ২০ হাজার রুপিও আয় করে।

এ ব্যাপারে পাকিস্তান কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের জৈবপ্রযুক্তিবিদ আলী বলেন, আমরা যখন শুরু করলাম তখন অনেকেই উপহাস করেছে। কারণ পঙ্গপাল ধরে বিক্রি করবে এ চিন্তা তখন পর্যন্ত কেউ করতে পারেনি। প্রথম রাতে ১০ থেকে ১৫ জন কৃষক কাজ করে। কিন্তু লোভনীয় এ আয়ের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে তৃতীয় রাতে কয়েকশ কৃষক জড়ো হয়। তারা নিজেরাই থলে নিয়ে আসে এবং সারারাত পঙ্গপাল ধরে থলে ভর্তি করে ফেলে। আমরাও তাদের বিনিময় দিয়ে দিলাম।

খুরশিদ আরো জানান, ইয়েমেনের ২০১৯ সালের একটি উদাহরণ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন তারা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষ কবলিত ওই দেশটিতে শ্লোগান উঠেছিলো, পঙ্গপাল খেয়ে ফেল, ওরা ফসল খাওয়ার আগে।

পাকিস্তানে মুরগির খাবার তৈরির প্রতিষ্ঠান হাই-টেক ফিডসের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আতাহার বলেন, কীটনাশক ব্যবহার ছাড়া পঙ্গপাল ধরা গেলে এটি অত্যন্ত উচ্চপ্রোটিন যুক্ত খাবারে পরিণত হয়। এ খাবার হাস-মুরগি, মাছ ও গবাদিপশুকে খাওয়ানো যায়।

তিনি আরো জানান, প্রাণীর খাবার তৈরি করতে যে সয়াবিন আমদানি করা হয়, তাতে প্রোটিন ৪৫ শতাংশ, আর পঙ্গপালে আছে ৭০ শতাংশ। এছাড়া পঙ্গপালে খরচও পড়ে অনেক কম।

প্রকল্পের এ সাফল্যে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও সাময়িক স্থগিত রাখতে হয় করোনা মহামারির কারণে। লকডাউন শিথিল হলে প্রকল্পটি আবার শুরু করা হবে। গ্রামে কাজহীন বহুমানুষ আছে, তারা আয়ের জন্য এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

অন্যান্য

কাঁচা ছোলা কেন খাবেন?

কাঁচা ছোলা কেন খাবেন
কাঁচা ছোলা কেন খাবেন

ছোলা প্রোটিন তথা আমিষের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় আমিষ প্রায় ১৮ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট প্রায় ৬৫ গ্রাম, ফ্যাট ৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২০০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ প্রায় ১৯২ মাইক্রোগ্রাম এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১ ও বি-২ আছে। 

এছাড়াও ছোলায় বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন, খনিজ লবণ, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে। 

কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা:

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে

ছোলাতে থাকা আঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি-৬ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। এর ডাল আঁশসমৃদ্ধ যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদা পূরণ হয়। আমিষ শরীরকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায় এবং অ্যান্টিবায়োটিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে

ছোলায় পর্যাপ্ত ফাইবার আছে। এ ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য সারিয়ে তোলে। 

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে

ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখানো হয়, যে সকল অল্পবয়সী নারীরা বেশি পরিমাণে ফলিক এসিডযুক্ত খাবার খান তাদের হাইপারটেনশনের প্রবণতা কমে যায়। ছোলায় ফলিক এসিড থাকায় এটি খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। 

কোলেস্টেরল কমাতে 

ছোলা শরীরের অপ্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। 

ক্যান্সার রোধে

গবেষকরা বলেন, বেশি পরিমাণ ফলিক এসিডযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে নারীরা কোলন ক্যান্সার ও রেক্টাল ক্যান্সার থেকে ঝুঁকিমুক্ত থাকে। তাই নিয়মিত ছোলা খান এবং সুস্থ থাকুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষকের লাভই সবচেয়ে কম

সবজির সরবরাহ ব্যবস্থায় লাভের ভাগ সবচেয়ে কম পান দেশের কৃষকেরা। সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিপণ্য কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তার কাছে যেতে অন্তত তিন দফা হাতবদল হয়। এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি লাভ করেন।


চট্টগ্রামের শঙ্খ নদের তীরে দোহাজারী ও সাতকানিয়ার নলুয়া, চাগাচর, মুন্সিজরসহ বেশ কিছু এলাকায় চাষ হয় নানা জাতের সবজি। এসব সবজি নৌকায় করে পাইকারি বিক্রির জন্য কৃষকেরা নিয়ে যান দোহাজারীর সবজিবাজারে। গত বৃহস্পতিবার সকালে। ছবি: সৌরভ দাশসবজির সরবরাহ ব্যবস্থায় লাভের ভাগ সবচেয়ে কম পান দেশের কৃষকেরা। সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিপণ্য কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তার কাছে যেতে অন্তত তিন দফা হাতবদল হয়। এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি লাভ করেন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ২০১৭–১৮ অর্থবছরে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে তিনটি সবজির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে লাভ ও মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ তুলে ধরেছে। এতে দেখা যায়, কৃষক যে আলুর দাম কেজিপ্রতি ৯ টাকারও কম পান, সেটি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে দাম হয় ২২ টাকা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ২০১৭–১৮ অর্থবছরে দেশে ৩৮ লাখ টনের কিছু বেশি সবজি উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৩ লাখ টন শীত ও ১৫ লাখ টন গ্রীষ্মকালীন সবজি। অবশ্য হিসাবের মধ্যে আলু নেই। বিবিএসের হিসাবে, গত অর্থবছরে প্রায় ৯৭ লাখ টন আলু উৎপাদন করেছেন দেশের কৃষকেরা।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৭–১৮ অর্থবছরে এক কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় হয় ৭ টাকা ৬০ পয়সা। গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা লাভে ওই আলু কৃষক বিক্রি করেন প্রতি কেজি ৮ টাকা ৮৫ পয়সা দরে। স্থানীয় ব্যবসায়ী একই আলু কিনে বিক্রি করেন ১২ টাকা ২০ পয়সা দরে। এতে তাঁর ব্যয় হয় ১ টাকা ১০ পয়সা, লাভ হয় সোয়া ২ টাকা। পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হয় ১৭ টাকা ১৫ পয়সা কেজিতে। পাইকার ১ টাকা ৬০ পয়সা খরচ করে লাভ করেন ৩ টাকা ৩৫ পয়সা। খুচরা বিক্রেতা কেজিতে ৯০ পয়সা ব্যয় ও ৩ টাকা ৯৫ পয়সা লাভ করে আলু বিক্রি করেন প্রতি কেজি ২২ টাকায়।

একইভাবে প্রতি কেজি বেগুনে কৃষকের ১ টাকা ৮৯ পয়সা, স্থানীয় ব্যবসায়ীর আড়াই টাকা, পাইকারের ৪ টাকা ১৩ পয়সা ও খুচরা বিক্রেতার ৯ টাকা ৩৬ পয়সা লাভ থাকে। প্রতি কেজি টমেটোতে কৃষকের লাভ ২ টাকা ১০ পয়সা, স্থানীয় ব্যবসায়ীর লাভ ৩ টাকা, পাইকারের লাভ ৬ টাকা ৬০ পয়সা ও খুচরা বিক্রেতার লাভ ৭ টাকা ২৮ পয়সা।

জানতে চাইলে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যখন ফুলকপি ৫ টাকা দরে বিক্রি করি, বগুড়া শহরে গিয়ে সেই ফুলকপিই ২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখি।’ তিনি বলেন, কৃষিতে যে পরিমাণ ঝুঁকি, বিনিয়োগ ও পরিশ্রম, তাতে লাভ বেশি নয়। পরিবারের কেউ চাকরি না করলে, অথবা বিদেশে না থাকলে কৃষিকাজ করে মোটামুটি সচ্ছল জীবনযাপন করা সম্ভব নয়।  

বেগুনে লাভ বেশি

অবশ্য সার্বিকভাবে সবজি চাষ কৃষকের জন্য লাভজনক। পরিসংখ্যান ব্যুরো ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সমীক্ষায় বিভিন্ন ফসলে কৃষকের মুনাফার চিত্র উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০১৫ সাল থেকে ফুলকপি, মিষ্টিকুমড়া, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন ও আদা চাষের ওপর সমীক্ষা করে দেখেছে, এসব ফসল আবাদে ১০০ টাকা বিনিয়োগ করলে তার বিপরীতে প্রায় শতভাগ লাভ হয়।

অন্যদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০১৭–১৮ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি একর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে কৃষকের ব্যয় হয়েছে ৭৬ হাজার ৮৭৪ টাকা। বিপরীতে তাঁর মুনাফা হয়েছে ৪০ হাজার ৬৬৬ টাকা। এক একর জমিতে রসুন আবাদ করলে মুনাফা হয় ৫৪ হাজার ৪৯৮ টাকা। আলুতে লাভ কম, ৩৫ হাজার টাকার মতো। বেগুনে অবশ্য মুনাফা বেশি, একরে প্রায় ৯৯ হাজার টাকা। টমেটো চাষে লাভ একরপ্রতি ৬৮ হাজার টাকার কিছু বেশি।

এবার শীত খারাপ কাটল

এবার শীত মৌসুমে বাড়তি সবজি আবাদ করে মন্দ সময় কেটেছে চাষিদের। প্রতিবার শীতে কখনো দাম বেশ বেড়ে যায়, কখনো কম থাকে। এবার পুরো শীতেই সবজির দর তুলনামূলক কম ছিল। বিশেষ করে পেঁয়াজ ও আলুচাষিরা খরচের টাকা ঘরে তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

কৃষক, ফড়িয়া ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীত মৌসুমে আগাম ও স্বাভাবিক সময় মিলিয়ে এ বছর সবজির আবাদ আগের বছরের চেয়ে বেশি হয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। এ কারণে শীত মৌসুমের পুরোটা সময়ই বাড়তি সরবরাহ ছিল। ফলে দামের খুব একটা ওঠানামা হয়নি। পুরোটা সময় দাম বেশ কম ছিল।

রাজধানীর খুচরা বাজারে এখন বেশির ভাগ সবজির দর কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে। কারওয়ান বাজারের আড়তে এসব সবজি মিলছে আরও কম দামে। কৃষক পর্যায়ে দাম একেবারেই নগণ্য। বগুড়ার মহাস্থানহাটে গত রোববার পাইকারি দোকানে প্রতিটি ফুলকপি ৭–৯ টাকা, বাঁধাকপি ৫–৬ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১০ টাকা, শিম ১২–১৫ টাকা, মুলা ৫–৬ টাকা, আলু ৫–৬ টাকা ও ক্ষীরা ১৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

মহাস্থানহাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, কিছুদিন আগে দাম আরও অনেক কম ছিল। সে তুলনায় এখন কিছুটা বাড়তি। কারণ মৌসুম শেষ হয়ে আসছে। জানতে চাইলে মহাস্থানহাটের আড়ত মালিক মো. ফারুক মিয়া বলেন, হাটে যে দামে সবজি বিক্রি হয়, তার চেয়েও কিছুটা কম দাম পান কৃষক। কারণ, তাঁর পরিবহন ও তোলার খরচ দিতে হয়। সব মিলিয়ে এবার বাজার খারাপ গেছে। চাষিরা দাম পাননি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ভোক্তার জন্য নিরাপদ খাদ্য, কৃষকের চাই লাভ


• কৃষক যেন ফসলের ন্যূনতম লাভজনক দাম পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি
• একই সঙ্গে সুলভ দামে নিরাপদ খাদ্য দিতে হবে ভোক্তাকে


কৃষকের চাই ফসলের ন্যায্যমূল্য। ভোক্তার চাই সুলভ মূল্যে নিরাপদ খাদ্য। মোটা দাগে এ দুটি বিষয় নিশ্চিত করাই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। খাদ্যের উৎপাদন বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ দেশ অনেকটাই পেরিয়ে এসেছে।

উৎপাদন বাড়লে দাম কমে। ভোক্তা সস্তায় খাবার পান, কিন্তু কৃষক ফসলের ভালো দাম পান না। উৎসাহ হারিয়ে পরের মৌসুমে কৃষক আবাদ কমিয়ে দেন, খাবারের দাম যায় বেড়ে।

কিন্তু এই হিসাবটা এত সহজ না। চ্যালেঞ্জটিও তাই জটিল। দেশে ধারাবাহিকভাবে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়েছে, উৎপাদনের খরচও বেড়েছে। গবেষক ও পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, সরকারকে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। পাশাপাশি কৃষক যেন ফসলের ন্যূনতম লাভজনক দাম বা মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি থেকে কৃষককে রক্ষা, ক্ষেত্রবিশেষে বিদেশ থেকে অবাধ আমদানি না করা, কৃষক ও ভোক্তাবান্ধব আমদানি শুল্ক বসানো এবং ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা বাড়ানো জরুরি। সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে রাখাও দরকার।

কৃষিকাজ করে সিংহভাগ কৃষক পরিবার সচ্ছলতার মুখ দেখতে পারে না। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলছেন, শুধু কৃষিকাজ করে জীবিকা চালানো কঠিন। কৃষক পরিবারের সন্তানেরা বেশির ভাগই কৃষিকাজে থাকতে চায় না।

সেলিম রায়হান আরও বলেন, ‘ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডেও বাংলাদেশের মতো ছোট ছোট জমিতে কৃষিকাজ হতো। পরে সেটা বাণিজ্যিক রূপ পায়। কৃষকেরা একত্র হয়ে চাষ করেন। এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ বাড়ে, প্রযুক্তি আসে ও উৎপাদন খরচ কমে। পাশাপাশি সুরক্ষার জন্য বিমাও চালু হয়। বাংলাদেশকেও সেই পথেই যেতে হবে।’

দেশের সাধারণ কৃষকের জন্য সবচেয়ে বড় ফসল ধান। এখন বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন চাল উৎপাদিত হয়। এতে চাহিদা প্রায় মিটে যায়। তবে দুর্যোগে ফসলহানি হলে আমদানি করতে হয়।

আলু হয় চাহিদার অনেক বেশি। সবজি, মাছ, মাংস, ডিমও আমদানি করতে হয় না। দেশি পেঁয়াজেই চাহিদার বেশির ভাগ মেটে। তবে গম, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি আর আদা-রসুনের বড় অংশই আমদানিনির্ভর।

কৃষকেরা সবচেয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন ধানের দাম নিয়ে। গত আমন মৌসুমে তাঁরা ধানের দাম কম পেয়েছেন। কয়েক বছর ধরে পানির দরে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। দুই মৌসুম হলো পেঁয়াজের উৎপাদন খরচই উঠছে না।

সবজি আবাদ মোটের ওপর লাভজনক। তবে দাম না পেয়ে প্রায়ই সবজি গরুকে খাওয়াতে অথবা ফেলে দিতে বাধ্য হন চাষিরা। পাটের দাম নিয়ে হতাশা ফিরে ফিরে আসে।

মাছ চাষে লাভ আছে, বিনিয়োগও লাগে। পাঙাশ, তেলাপিয়ার মতো সাধারণ মাছে মুনাফা খুবই কম থাকে। দামের ওঠানামায় টিকতে না পেরে মুরগি ও ডিমের হাজার হাজার ছোট খামার বন্ধ হয়ে গেছে। গবাদিপশু আর দুধের চাহিদা আর দামও ওঠানামা করে, প্রায়ই খামারিরা দুধ ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানান।

ধান নিয়েই বেশি দুশ্চিন্তা
দেশের খুচরা বাজারে এখন প্রতিকেজি চাল ৩৪ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত আমন মৌসুমে চালের উৎপাদন খরচই পড়েছে কেজিতে ৩৪ টাকা।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোরো মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ছিল সাড়ে ২৪ টাকা। কৃষকেরা ধান বিক্রি করে ২৫ টাকা বা তার কিছুটা কম দাম পেয়েছিলেন।

কৃষক যেন ধানের ন্যায্যমূল্য পান, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব খাদ্য মন্ত্রণালয়ের। ফসল ওঠার মৌসুমে মন্ত্রণালয় উৎপাদন খরচ বের করে কৃষকের জন্য লাভজনক একটা দাম ঠিক করে দেয়। তারপর মন্ত্রণালয় সেই দামে সরকারি গুদামের জন্য ধান-চাল সংগ্রহ করে। আমদানি শুল্ক ধার্য করার সময় কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ দেখে পরামর্শ দেওয়ার কাজটিও তাদের।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক কাজী সাহাবউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় চালের দাম, মজুত ও আমদানির ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করতে পারেনি। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। নেতৃত্বে দক্ষতারও ঘাটতি ছিল। কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে ভূমিকা রাখতে হবে। নতুন সরকারের মন্ত্রীর সে পরিকল্পনা থাকা দরকার।

২০১৩ সাল থেকে দেশের বাজারে চালের দাম মোটামুটি একই ছিল। ২০১৭ সালে হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ফসলহানি হয়। উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কার মুখে ব্যবসায়ীরা চালের দাম অনেক বাড়িয়ে দেন।

সে সময় দরিদ্র মানুষের জন্য ১০ টাকা দরে চাল দিয়ে আসছিল সরকার। সরকারি গুদামে মজুত ছিল কম। সরকার তখন নিজেরা চাল আমদানি করে। আর বেসরকারি খাতে আমদানি বাড়াতে শুল্ক একেবারেই কমিয়ে দেয়।

আমদানি বাড়ে, তবে চালের দাম তেমন কমে না। ২০১৮ সালে বোরো মৌসুমে ব্যাপক আবাদ ও ফলন হলে ধানের দাম পড়ে যায়। সরকার তখন চালের আমদানি শুল্ক আবার বাড়িয়ে দেয়। তখন আমদানি কমে গেলে দাম আবার বাড়ে। তবে লাভ করেন ব্যবসায়ীরা, কৃষকের জন্য ধানের দাম এখনো লাভজনক হয়নি।

২০১৯ সালের গোড়ায় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএ বলেছে, বিশ্বে এ বছর ধানের উৎপাদন সবচেয়ে বেড়েছে বাংলাদেশে।

সবজিতে লাভ বেশি, তবে…
সবজিসহ দেশের অন্যান্য প্রধান কৃষিপণ্যগুলোর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কাজটি বাজারের নিয়মে ঘটে। সেসব ক্ষেত্রে কৃষকের উৎপাদন খরচ ও ভোক্তার ক্রয়মূল্যের মধ্যে ফারাক কমানোর কোনো চেষ্টা সরকারকে করতে দেখা যায় না।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে (২০১৭-১৮) তিনটি সবজির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে লাভ ও দাম বাড়ার তথ্য দেওয়া আছে। এতে দেখা যায়, ওই অর্থবছরে এক কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ৭ টাকা ৬০ পয়সা। কৃষক সেটা স্থানীয় ব্যবসায়ীকে বিক্রি করেছেন গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা লাভে। আরও দুই হাত ঘুরে সেই আলু ভোক্তার কাছে যাচ্ছে। ভোক্তা কিনছেন ২২ টাকা কেজি দরে। প্রতি ধাপেই বিক্রেতার লাভের পরিমাণ কৃষকের চেয়ে বেশি। একই দশা বেগুন ও টমেটোতেও।

দেশে বছরে আলু উৎপাদিত হয় ৯৫ লাখ টনের বেশি। ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশে আলুর চাহিদা ৬০-৬৫ লাখ টন। বাড়তি উৎপাদনের কারণে বাজারে এখন আলুর দাম কেজিপ্রতি ১৫ টাকায় নেমেছে। কৃষক পর্যায়ে এ দর চার থেকে ছয় টাকা। অথচ এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ সাড়ে ৭ টাকার মতো।

পেঁয়াজেও একই চিত্র। ভরা মৌসুমে ভারত থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আসছে। ফলে খুচরা বাজারে দাম নেমেছে কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকায়। কৃষক পাচ্ছেন ১০-১২ টাকা।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক বছর আগের তুলনায় এখন বাজারে আলুর দর ৪০ শতাংশ ও পেঁয়াজের দর ৫২ শতাংশ কম। আলু-পেঁয়াজের দর এখন উৎপাদন খরচের চেয়ে কম। কৃষক লোকসান গুনে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

নিরাপদ খাদ্য
দেশে এখন খাদ্যের অভাব নেই, তবে নিরাপদ খাদ্যের অভাব আছে। কৃষিতে অতিমাত্রায় কীটনাশকের ব্যবহার বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। খামারের মাছ-মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক আর ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যচক্রে আরও দূষণের ঝুঁকি আছে।

সরকারের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দরকার গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (ভালো কৃষির চর্চা—গ্যাপ) নিশ্চিত করা, যেখানে পরিমিত মাত্রায় সঠিক কীটনাশক ও সার ব্যবহার করা হবে। কৃষি দপ্তর ‘বাংলা গ্যাপ’ পরিকল্পনা করেছে। এখন তার বাস্তবায়ন করতে হবে।’

পরিবেশদূষণের কারণে অনেক সময় মাটি ও পানি থেকে ভারী ধাতু ফসলে ঢুকছে। সেটা খাবারের মধ্য দিয়ে মানুষের শরীরেও ঢুকছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুধসহ বিভিন্ন খাদ্যে ধাতু বা অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য বিস্তারিত গবেষণা দরকার।

বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়ে যাওয়া নিয়ে সরকারের আত্মতৃপ্তি আছে বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ এম এম শওকত আলী। তিনি বলছেন, উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক এই সচিব আরও বলেন, কৃষক নিজের উদ্যোগে সবজি ও মাছ চাষে যে বিশাল বিপ্লবটি করে ফেললেন, তা যাতে টেকসই হয় সে জন্য তাঁদের সহায়তা দিতে হবে। তাঁদের উৎপাদিত খাদ্যকে নিরাপদ করার উদ্যোগ নিতে হবে। এটা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞ অভিমত
কৃষির নতুন প্রযুক্তিতে নজর দিতে হবে
কে এ এস মুরশিদ
মহাপরিচালক, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)

গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষি এখনো বড় ভূমিকা রাখে। কৃষির যে উন্নতি আমরা ১০-১২ বছর ধরে দেখছি, তার গতি এখন ধীরে ধীরে শ্লথ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে হলে কৃষির নতুন প্রযুক্তির দিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

চালের দাম নিয়ে নীতি নির্ধারকসহ দেশের বিভিন্ন মহলে প্রথাগত মানসিকতা রয়েছে। সবাই মনে করে, চালের দাম কম থাকলে ভালো। চালের দাম নিয়ে এত সংবেদনশীল হওয়ার কিছু নেই। যারা হতদরিদ্র, তাদের বিষয় আলাদা। তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাওয়া দরকার। সাধারণভাবে বাজারে চালের দাম দু-এক টাকা বেড়ে গেলেই উদ্বেগ–উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। এটি ঠিক নয়। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যে উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করাটা জরুরি।

গ্রামে কৃষির উন্নয়নে ক্ষুদ্রঋণ, মোবাইলের মাধ্যমে অর্থের লেনদেন থেকে শুরু করে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ বড় ভূমিকা রাখছে। এসব প্রযুক্তি কৃষকের জন্য সংযোগ ও নানা সুবিধা এনে দিচ্ছে। এমন কোনো নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া ঠিক হবে না, যাতে কৃষকের সুযোগগুলো সংকুচিত হয়। সরকারি পর্যায়ে কৃষি পণ্যের বিতরণব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী এবং কার্যকর করতে হবে।

আমাদের জাতীয় ও গৃহস্থ পর্যায়ে খাদ্যসংকট একসময় নিয়মিত ব্যাপার ছিল। এখন আমরা সেই স্তর অতিক্রম করেছি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের প্রধান খাদ্য চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এটি স্বস্তির পরিস্থিতি দিয়েছে, যার ওপর ভর করে আমরা এখন আরও সামনের দিকে এগোচ্ছি। এখন আমাদের নিরাপদ খাদ্যের কথা চিন্তা করতে হবে। খাদ্যে যাতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক কিছু না থাকে। অনিরাপদ খাদ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দুর্বল করে দেবে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকেও এখন সময় উপযোগী করতে হবে। আগের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যে কাজ করছে না তার বড় প্রমাণ হচ্ছে খোলা বাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কৃষকের ধান চাষে ভর্তুকি দেব, না অন্য কোথাও দেব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

‘বাঙ্গির গ্রামে’ ম-ম ঘ্রাণ

তখনো সূর্যের আলো ঠিকমতো ফোটেনি। কৃষকেরা ব্যস্ত জমি থেকে বাঙ্গি তুলতে। সকাল সাড়ে সাতটার আগে বাঙ্গিগুলো হাটে নিতে হবে। তা না হলে বাঙ্গিগুলো বিক্রি করার জন্য দিনভর অপেক্ষা করতে হবে।

এ অবস্থা ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের ভাঙ্গাভিটার। গত শনিবার ভোরে বাঙ্গির গ্রাম হিসেবে পরিচিত জায়গাটিতে গিয়ে দেখা যায়, সকালের হাট ধরতে কৃষকদের তোড়জোড়। খেত থেকে বাঙ্গি উঠিয়ে ভ্যানে রাখছেন। কৃষকেরা জানান, তাঁদের এলাকার বাঙ্গির সুনাম সারা দেশে রয়েছে। শুধু এই ফলকে কেন্দ্র করে এ মৌসুমে ভাঙ্গাভিটা ইছামতীর পাড়ে প্রতিদিন সকাল-বিকেল দুই বেলা বসে বাঙ্গির হাট।

গ্রামের ২০০ বিঘা জমিতে বাঙ্গি চাষ হয় বলে জানান কৃষকেরা। প্রায় ১৮০টি পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে এর ওপর। তাঁরা জানান, মূলত ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত বাঙ্গি চাষ হয়। বাকি সময় চলে আমন ধানের আবাদ।

সড়কপথে যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় ইছামতী নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হয় গ্রামটিতে। ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়কের পাশে মরিচা ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা নৌকা নিয়ে যাওয়া যায় ভাঙ্গাভিটার বাঙ্গির হাটে। নদীপথে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের পথ। সরেজমিনে দেখা যায়, বাঙ্গির ম-ম গন্ধ এলাকাজুড়ে। গাঁয়ের মেঠো পথ দিয়ে হেঁটে গেলে বাঙ্গির ঘ্রাণ নাকে আসে। কৃষক মধুসূদন মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের এই এলাকার বাঙ্গি চাষ হয় কোনো ধরনের সারের ব্যবহার ছাড়া। এটা বাঙ্গির গ্রাম হিসেবে পরিচিত। এই হাট থেকে বাঙ্গি রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় যায়।’

কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় ন্যায্যমূল্য পান না বলে জানান মধুসূদন। বলেন, ‘এক ঝাঁকা বাঙ্গি (৩০টি) পাইকারদের কাছে নিয়ে আমরা বিক্রি করি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। কিন্তু এগুলো বাজারে গিয়ে প্রতিটি বিক্রি হতো ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। রাস্তাঘাট ভালো হলে আমরা সদরে নিয়ে বিক্রি করতে পারতাম। ন্যায্যমূল্যও পেতাম।’

বাঙ্গিচাষি বিনন্দ বদ্দি জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই জমিতে রোপণ করা হয় বাঙ্গিবীজ। একটি বাঙ্গি গাছ বড় হতে সময় লাগে চার-পাঁচ মাস। নিয়মিত পরিচর্যা করার পর ফাল্গুন মাসের প্রথম দিকে গাছে ফুল আসে এবং ফল ধরা শুরু হয়। চাষিরা পুরো চৈত্র মাস বাঙ্গি তুলতে পারেন। স্থানীয় কৃষক চিত্তরঞ্জন মণ্ডল জানান, তাঁর জমিতে বাঙ্গির ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন আগে বৃষ্টি হওয়ায় বেশির ভাগ বাঙ্গি পচে গেছে। ফলে লোকসান নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে বাঙ্গি কিনতে আসা মো. শাহাজউদ্দিন বলেন, তিনি সাত-আট বছর ধরে ভাঙ্গাভিটা থেকে বাঙ্গি কিনে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন হাটে বিক্রি করেন। যোগাযোগব্যবস্থা খুবই খারাপ। তাই কোনো গাড়ি সেখানে যেতে পারে না। বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ ভাড়ায় গাড়ি আনতে হয়।

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল আমীন প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এ বছর বাঙ্গির ফলন ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, ভাঙ্গাভিটা এলাকায় বাঙ্গির ফলন বেশ ভালো হয়। ওই এলাকার প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে বাঙ্গির চাষ হয়। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থা তেমন ভালো না হওয়ায় কৃষকেরা মূল্যটা ভালো পাচ্ছেন না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com