আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন

সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন
সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন

কৃষিযন্ত্রের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিতে মালিকানা অনুযায়ী খণ্ডিতভাবে নয়, সমন্বিতভাবে ফসল উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করতে চায় সরকার। এমন বিধান রেখে ‘জাতীয় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালা- ২০১৯’ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয় প্রণীত খসড়াটি শিগগিরই মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হচ্ছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালার উদ্যোগ নিয়েছি। কৃষিকে কীভাবে যান্ত্রিকীকরণ করা হবে, কোন ধরনের মেশিনারি অ্যাডপ্ট করা হবে, মেশিনারির মূল্য কী হওয়া উচিত- এসব বিষয়ই নীতিমালায় থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘ভিন্ন ভিন্নভাবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ হচ্ছে। আমরা মনে করছি, এটি একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার। এজন্য নীতিমালার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

কৃষি সচিব আরও বলেন, ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালা প্রণয়নে আমরা শেষ পর্যায়ে আছি। এটি শিগগিরই অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে পাঠানো হবে।’

অধিকতর দক্ষতা এবং শ্রম ও সময়সাশ্রয়ী উপায়ে কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে মানুষ ও প্রাণিশক্তির ব্যবহার কমিয়ে বেশি পরিমাণে যন্ত্রশক্তি ব্যবহারের প্রযুক্তি ও কলাকৌশল প্রয়োগের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাকে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বলা হয়।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে নীতিমালায় বলা হয়, বাংলাদেশে খামারের গড় আয়তন ছোট এবং খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত। ফলে খণ্ডিত জমিতে চাষ, বপন, রোপণ, কর্তন ইত্যাদিতে যন্ত্রের ব্যবহার বেশ কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। এমনকি ছোট ও মাঝারি আকারের কৃষিযন্ত্রের পূর্ণ ক্ষমতার ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।

সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন
সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন

এতে বলা হয়, দেশে চাষাবাদযোগ্য জমির আকার ছোট ও খণ্ড খণ্ড হওয়ায় কৃষি উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রের সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জন সম্ভব হয় না। ভাড়া ব্যবস্থায় কৃষিযন্ত্র সেবার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে কৃষকদের সংগঠিত করে সমন্বিত ফসল উৎপাদন ব্যবস্থা প্রণয়নে উৎসাহিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে জমি ইজারা ও চুক্তিভিত্তিতে ফসল উৎপাদন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত কর্মপদ্ধতি পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে।

বাংলাদেশ কৃষি যান্ত্রিকীকরণে চ্যালেঞ্জ হিসেবে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, কৃষিযন্ত্রের বিক্রয়োত্তর সেবার অপ্রতুলতা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকাণ্ডের সীমাবদ্ধতা, স্থানীয়ভাবে কৃষিযন্ত্র ও খুচরা যন্ত্রাংশ উৎপাদনে আধুনিক মূলধনী যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবলের অভাব, আমদানিকৃত ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষি যন্ত্রপাতির গুণগতমান ঘোষণা ও নির্ধারণ ব্যবস্থার অনুপস্থিতি, আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহার উপযোগী গ্রামীণ অবকাঠামোর অভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগের নেতিবাচক প্রভাবকে তুলে ধরা হয় নীতিমালায়।

এতে আরও বলা হয়, অঞ্চল ও ফসলভেদে আধুনিক ও লাগসই কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণাকে উৎসাহিত করা হবে। গবেষণার সক্ষমতা বাড়াতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।

কৃষক ও সেবা প্রদানকারী উদ্যোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা এবং খামারের আকৃতি বিবেচনায় নিয়ে মানসম্পন্ন ও টেকসই উপযুক্ত যন্ত্র সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হবে জানিয়ে নীতিমালায় বলা হয়, প্রতিকূল পরিস্থিতি (কাদা মাটি, জলমগ্নতা ও ফসলের নুয়ে পড়া অবস্থা ইত্যাদি) অনুযায়ী উপযুক্ত যন্ত্র সহজলভ্য করতে উৎসাহ দেয়া হবে।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সরকারি প্রণোদনা নীতি তুলে ধরে নীতিমালায় বলা হয়, বর্তমানে কৃষিযন্ত্র জনপ্রিয়করণ ও সম্প্রসারণে হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ হারে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ভর্তুকি) দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে শুধু কৃষক-পর্যায়ে পরিচিতি ও জনপ্রিয়করণে এ প্রণোদনা দেয়া হবে। প্রণোদনা অবশ্যই মানসম্পন্ন বা প্রত্যয়নকৃত কৃষিযন্ত্রের ওপর প্রযোজ্য হবে। বছরে স্বল্প সময়কালে ব্যবহার্য অথচ অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হবে। বেসরকারি উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে যন্ত্রের চাহিদা ও সরবরাহ সমন্বয়ের মাধ্যমে কৃষিযন্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পরবর্তীতে প্রণোদনার হার ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন করা হবে।

কৃষক ও যন্ত্রসেবা প্রদানকারী উদ্যোক্তাদের কৃষিযন্ত্র ক্রয়ে উৎসাহিত করতে প্রয়োজন মতো সরকারি বাণিজ্যিক, এনজিও ও অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান থেকে সহজে কৃষি ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে। বছরের স্বল্প সময়ে ব্যবহার্য বপন, রোপণ, কর্তন, শুকানো, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ বিষয়ক কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সহজে বিশেষায়িত দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন
সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন

আমদানিকৃত এবং স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত কৃষিযন্ত্র বিপণনে সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে। বর্তমানে কৃষিযন্ত্র আমদানিতে আরোপিত শুল্কহার ন্যূনতম রয়েছে। তবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের স্বার্থে পোর্ট অব এন্ট্রিতে আমদানিকৃত যন্ত্রের ওপর আবগারি, বিক্রয় এবং অন্যান্য শুল্ক যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা হবে। দেশে উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে এমন সব যন্ত্রের যুক্তিসঙ্গত প্রতিরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেয়া হবে।

এতে বলা হয়, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়নের জন্য কৃষক ও কৃষিযন্ত্রের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, তথ্য ও সেবাপ্রদান নিশ্চিত করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরসহ অন্যান্য সংস্থায় উপজেলা থেকে সব উচ্চতর স্তরে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকৌশল জ্ঞানসম্পন্ন আলাদা জনবল কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে।

স্থানীয়-পর্যায়ে কৃষিযন্ত্র ও যন্ত্রাংশের উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসার ও মান উন্নয়নে সরকার পদক্ষেপ নেবে জানিয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে, কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী শিল্পকে কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে গণ্য করার উদ্যোগ নেয়া হবে। কৃষিযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতির ওপর যুক্তিসঙ্গত হারে প্রণোদনামূলক আমদানি কর নির্ধারণ করা হবে। কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী ও সংযোজন শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক রেয়াতি সুবিধা অব্যাহত রাখা হবে। এ শিল্পের সুষ্ঠু বিকাশের স্বার্থে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনার ভিত্তিতে কর রেয়াত-সংশ্লিষ্ট তালিকার যন্ত্রাংশের সংখ্যা প্রয়োজনের নিরিখে সম্প্রসারণ করা হবে।

‘কৃষি যন্ত্রপাতি শিল্পের বিকাশের স্বার্থে প্রস্তুতকারী শিল্পোদ্যোক্তাদের অর্জিত লভ্যাংশের ওপর আরোপিত আয়কর প্রদানে প্রয়োজন অনুসারে রেয়াতি সুবিধা দেয়া হবে। কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী শিল্পে আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর বিধিবদ্ধ শুল্ক বিদ্যমান থাকায় কৃষিযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ বিক্রয় ও সরবরাহের ক্ষেত্রে ভ্যাট রেয়াতি সুবিধার বিষয় বিবেচনা করা হবে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষি যন্ত্রাংশের উৎপাদন খরচ ও কৃষক উদ্যোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমদানিকৃত কৃষি যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক যৌক্তিক-পর্যায়ে নির্ধারণ করা হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।’

দেশে কৃষি যন্ত্রপাতি সংযোজন শিল্পকে উৎসাহিত করা হবে। এক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে। সংযোজন শিল্পে দেশে উৎপাদিত যন্ত্রাংশের একটি অংশ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। উচ্চ মূল্যের নতুন কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন- কম্বাইন্ড হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ইত্যাদি আমদানির পাশাপাশি পুনঃসংযোজিত কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ থাকবে। কৃষিযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী শিল্পাঞ্চলসমূহে ‘কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী জোন (এএমপিজেড)’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ শিল্পের উন্নয়নে বিশেষায়িত উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ‘উচ্চতর সেবাকেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন
সরকারের লক্ষ্য সমন্বিত ফসল উৎপাদন

বিশেষ অঞ্চলভিত্তিক যান্ত্রিকীকরণের আওতায় হাওর অঞ্চল, উপকূলীয় ও চরাঞ্চল, পাহাড়ি ও বরেন্দ্র অঞ্চলে বিশেষ পদক্ষেপ নেবে সরকার।

পাশাপাশি গ্রামের শিক্ষিত যুবকদের যন্ত্রসেবা উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি এবং যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণে যুব সম্প্রদায়ের অধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতে নানা উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া কৃষি যন্ত্রপাতি পরিচালনায় নারীর অংশগ্রহণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই নারীদের আরও উৎসাহিত করতে সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

যান্ত্রিকীকরণের ক্ষেত্রে কৃষক, যন্ত্রসেবা প্রদানকারী ও স্থানীয় কৃষিযন্ত্র প্রস্তুতকারক-পর্যায়ে মূলধনের অপ্রতুলতা রয়েছে। এজন্য কৃষিযন্ত্র তৈরিতে মূলধনী যন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে সরকারি বিশেষায়িত ঋণ স্কিমের আওতায় ন্যূনতম হারে ঋণ চালু করা হবে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কর্মকাণ্ড কৃষি খাতের মোট ঋণের একটি নির্দিষ্ট অংশ কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে নির্ধারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

নীতিমালা অনুমোদন শেষে তা বাস্তবায়নে কৃষি মন্ত্রণালয় একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সমন্বয় ও মনিটরিং কাঠামো তৈরি এবং তা সুষ্ঠু বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জাতীয় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালায় বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফসল

চৌগাছায় বা‌ণি‌জ্যিকভা‌বে মে‌টে আলুর চাষে লাভবান হ‌চ্ছেন কৃষক

র‌হিদুল খান: [২] য‌শো‌রের চৌগাছায় বাজারে বেশি দাম পেয়ে কৃষকেরা ঝুঁকেছেন মেটে আলু চাষে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। লম্বা লতা আর পানের মত পাতা গাছটি হচ্ছে মেটে আলু। বপনের পর মাটির নিচে নিজে থেকেই বাড়তে থাকে এই আলু। এক সময় ঘরের কোনে বা পতিত জমিতে বিচ্ছন্ন ভাবে বপন করা হত মেটে আলু। সেখান থেকে যে আলু পাওয়া যেত নিজের সংসার ও আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে দিয়ে বাকি টুকু বিক্রি করতেন কৃষকেরা। বাজার মূল্য ভালো হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে মাঠের পর মাঠ মেটে আলুর চাষ শুরু করেছেন চাষীরা।

[৩] উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে ৮৫ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের মেটে আলুর চাষ করেছেন কৃষকেরা। উপজেলার জগদীশপুর, মির্জাপুর, কান্দি, স্বর্পরাজপুর, পুড়াহুদা, মাড়ুয়া, সৈয়দপুর, কোটালীপুর, চারাবড়ি, রায়নগর, তেঁতুলবাড়িয়া, মুক্তদাহ, তেঘরী, পাতিবিলা, দেবীপুর, হাজরাখানা, টেংগুরপুর, পেটভরাসহ বেশ কিছু গ্রাম এলাকার কৃষকেরা নিয়মিত ভাবে মেটে আলুর চাষ করছেন।

৪] শুক্রবার (১ অক্টোবর) উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাচায় উঠিয়ে দেয়া মেটে আলুর লতা আঁকাবাঁকা হয়ে এক মাচা থেকে অন্য মাচায় তার প্রভাব বিস্তার করছে। মাঠের পর মাঠ অন্য সব ফসলে সবুজের সমারোহ তার মাঝে মেটে আলুর পানের মতো পাতা যেন অন্য এক সৌন্দর্য বহন করে যাচ্ছে। অধিকাংশ জমিতে কৃষক আলু গাছ পরিচর্যায় বেশ ব্যস্ত।

[৫] কৃষক শাহাদৎ আলী, হেলাউদ্দিন, জামির হোসেন, ইউছুপ আলীর তারা জানান, বৈশাখ মাসে আলু বীজ বপন করা হয়। প্রায় ৬ মাস মাটির নিচে আপন মনেই বেড়ে উঠতে থাকে। একটি আলু গাছ হতে ৩ কেজি হতে ১০ কেজি পর্যন্ত আলু সংগ্রহ করা যায়। বাজার ভালো হলে ৪৫ হতে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যায়।

৬] কৃষকেরা বলেন, স্থানীয় গাড়ল লতা, মাছরাঙ্গা, মুন্সি, দুতসরসহ বেশ কিছু জাতের আলু চাষ হয়। এরমধ্যে মাছরাঙ্গা আলু খেতে বেশি সুস্বাদু। তাই বাজার দর অন্য আলুর থেকে কিছুটা বেশি পাওয়া যায়। মেটে আলু চাষে কোনো ধরনের সার বা কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। বেগুন, উচ্ছে বা পটলের চাষ শেষ হওয়ার আগেই ওই জমিতে মেটে আলু বপন করা হয়। জমিতে যে পরিমাণ সার প্রয়োগ করা থাকে তাতেই আলু চাষ সম্পন্ন হয়ে যায়। যার ফলে ব্যয় একেবারেই কম হয় বলে কৃষকরা জানান।

[৭] উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সমরেন বিশ্বাস বলেন, এ জনপদের কৃষকেরা কৃষিতে আমুল পরিবর্তন এনেছেন। নতুন নতুন ফসল উৎপাদন করে তারা হচ্ছেন লাভবান। উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের সব বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

লাক্ষা চাষ: অর্থকরী এই ফসলের বহুল ব্যবহার থাকলেও লাক্ষার চাষ বাংলাদেশে কমছে কেন

বাংলাদেশে লাক্ষা সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হলেও দাম না পাওয়াসহ নানা কারণে দিন দিন কমছে লাক্ষা চাষির সংখ্যা এবং সংকুচিত হয়ে আসছে চাষের আওতায় থাকা এলাকার সংখ্যা।

লাক্ষা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডঃ মোঃ মোখলেসুর রহমান বলছেন লাক্ষা চাষ কমতে কমতে এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জের দু একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

“লাক্ষা আসলে সেভাবে আর নাই। কিছু কৃষক ধরে রেখেছেন কিন্তু দাম ঠিক মত পান না বলে তারাও নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছেন। তবে সম্প্রতি দাম কিছুটা বাড়ায় কেউ কেউ আবার আগ্রহী হয়ে উঠছে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

মি. রহমান বলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনেকগুলো জায়গায় এক সময় অনেক লাক্ষা চাষ হতো কিন্তু এখন এটি নাচোল উপজেলার কয়েকটি গ্রামে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

নাচোলের একজন লাক্ষা চাষি সাদিকুল ইসলাম বলছেন তিনিসহ কিছু চাষি এখনো চেষ্টা করছেন এবং তিনি নিজে বগুড়ায় চাঁচ তৈরির কারখানা এবং বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানিতে লাক্ষা সরবরাহ করছেন।

“মাঝে একেবারেই দাম ছিল না কিন্তু এখন আবার একটু বেড়েছে। তাই সামনে চাষের আওতা বাড়ানোর চিন্তা করছি।”

তবে বাস্তবতা হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জসহ বিরাট এলাকা জুড়ে একসময় যে লাক্ষা চাষ দেখা যেত, সেটি এখন আর দেখা যায় না।

গাছের ডালে কয়েক সপ্তাহের লাক্ষা
ছবির ক্যাপশান,গাছের ডালে কয়েক সপ্তাহের লাক্ষা

লাক্ষা আসলে কী

লাক্ষা এক ধরণের ক্ষুদ্র পোকা। এ পোকার ত্বকের নিচে সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা এক প্রকার গ্রন্থি থেকে আঠালো রস নিঃসৃত হয়, যা ক্রমশ শক্ত ও পুরু হয়ে পোষক গাছের ডালকে আচ্ছাদিত করে ফেলে।

পোষক গাছের ডালের এই আবরণই লাক্ষা বা লাহা নামে পরিচিত। পরবর্তীতে ডালের ঐ শক্ত আবরণ ছাড়িয়ে ও শোধিত করে তা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।

দু ধরনের লাক্ষা পোকা থেকে লাক্ষা উৎপাদন করা যায়। মূলত বড়ই, পলাশ, বাবলা এ ধরনের পোষক গাছ থেকে লাক্ষা উৎপাদন করা হয়।

সাধারণত বছরে দু বার ফসল পরিপক্ব হয় বা কৃষকরা উৎপাদন করতে পারে।

কৃষক সাদিকুল ইসলাম বলছেন বৈশাখ ও কার্তিক মাসে তারা চাষের প্রক্রিয়া শুরু করেন।

ডঃ মোখলেসুর রহমান ও কৃষক সাদিকুল ইসলামের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পোকার জন্য নির্ধারিত সময়ে গাছ ছাঁটাই করেন কৃষকরা।

এর নির্ধারিত সময় পর গাছের ডালে লাক্ষা পোকাসহ খণ্ড খণ্ড পোষক গাছের ডাল, ছাঁটাই হওয়া গাছের সাথে আটকে দেয়া হয়।

রোদ পেলে কয়েকদিনের মধ্যেই পোকা ডালে বসে যেতে পারে এবং এর প্রায় চার সপ্তাহ পর ডালগুলো সাদা তুলার মতো আবরণে ঢেকে যায়।

পরে ঝাঁক বেধে পোকা বের হতে দেখা যায়।

মি. রহমান বলছেন পোকা ওখানেই থাকে। রস খায় আর শরীর থেকে রস বের করে। তার পুরো শরীর রসে আবৃত হয়। এরপর বাতাসের সংস্পর্শ পেলে শক্ত আবরণ তৈরি হয় এবং ওই প্রাকৃতিক আবরণের মধ্যেই পোকাটা থাকে।

তিনি বলেন পোকার আকৃতি অনেকটা উকুনের মতো এবং এগুলা খুব ঘন ঘন হয়ে বসে।

“এক বর্গ সেমিতে অন্তত একশ পোকা থাকে। আবার একটা পোকা গড়ে চারশো ডিম দেয়। এক ফুট দৈর্ঘ্যের ডালে লাখ লাখ পোকা বের হবে। এখান থেকেই লক্ষ পোকা বা লাক্ষা নামকরণ হয়েছে। পরে আবরণ শক্ত হলে ডাল কেটে বা বাকল উঠিয়ে প্রসেস করে চাঁচ ও গালা তৈরি করা হয়,” তিনি বলেন।

লাক্ষা চাষ
ছবির ক্যাপশান,লাক্ষা চাষ

কিভাবে প্রসেস করেন কৃষকরা, দাম কেমন?

নাচোলের লাক্ষা চাষি সাদিকুল ইসলাম বলছেন গাছের ডালে লাক্ষা নি:সৃত রস শক্ত হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় পর সেই বাকল অর্থাৎ কাঁচা লাক্ষা তুলে নেয়া হয়।

“পরে ভালো করে ধুয়ে এগুলো রোদে শুকাই। শুকিয়ে যাওয়ার পর এক ধরণের আঠা মিশিয়ে আগুনে তাপ দিতে হয় থান কাপড়ে মুড়িয়ে। তাপের কারণে ময়লা মাটিসহ অপ্রয়োজনীয় যা থাকে তা কাপড়ের সাথে থেকে যায় আর রয়ে যায় মূল ছাড়ানো লাক্ষা । কখনো দানা আকারে বা কখনো ছাড়ানো লাক্ষা টুকরো করে আমরা বাজারে বিক্রি করি।”

মোখলেসুর রহমান বলছেন এই ছাড়ানো লাক্ষা প্রক্রিয়াজাত করে চাঁচ, টিকিয়া ও গালা তৈরি করা হয় এবং প্রায় একশ কেজি ছাড়ানো লাক্ষা থেকে ৫০/৬০ কেজি চাঁচ বা গালা পাওয়া সম্ভব।

সাদিকুল ইসলাম বলছেন তিনি বগুড়ায় একটি চাঁচ কারখানায় লাক্ষা সরবরাহ করেন।

“প্রসেস করার আগে দিলে ৪/৫শ টাকা কেজি আর প্রসেস করে দিলে ১০০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত এখন কেজি দাম পাওয়া যাচ্ছে,” বলছিলেন তিনি।

চাহিদা বাড়ছে কিন্তু উৎপাদন কমছে- কারণ কী?

ডঃ মোখলেসুর রহমান বলেন গত কয়েক বছরে আম চাষ অনেক বেড়ে গেছে আর তাল মিলিয়ে কমছে লাক্ষা চাষ এবং এর জন্য দায়ী আম চাষিদের অবৈজ্ঞানিক আচরণ।

“এখন আমবাগান অনেক বেশি। তারা সকাল বিকাল কীটনাশক স্প্রে করে। অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ডোজ দেয়। এগুলো এভাবে স্প্রে করার কারণে আশে পাশের গাছেও লাক্ষা পোকা টিকতে পারে না।”

তিনি বলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে নাচোলে আম চাষ কম হওয়ায় সেখানে লাক্ষা চাষ করছেন অনেকে।

এই বিজ্ঞানীর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে এখন প্রতি বছর প্রায় দশ হাজার টন লাক্ষার দরকার হয় কিন্তু উৎপাদন হয় সর্বোচ্চ দুশো টন।

তিনি বলেন দেশে যে পরিমাণ বড়ই গাছ আছে তা পরিকল্পনা করে লাক্ষা চাষের আওতায় আনতে পারলে বাংলাদেশের পক্ষে স্বনির্ভর হয়ে বিদেশে রপ্তানিও করা সম্ভব।

কত কাজে ব্যবহার হয় লাক্ষা?

ডঃ মোখলেসুর রহমান বলছেন আসবাব পত্রের বার্নিশ ও স্বর্ণের ফাঁপা অংশ পূরণ সহ অন্তত একশ ধরনের কাজে লাক্ষা দরকার হয়।

কৃষি প্রযুক্তি বিষয় একাধিক বইয়ে দেয়া তথ্য অনুযায়ী যেসব কাজে লাক্ষার চাহিদা বেশি তার মধ্যে রয়েছে:

১. কাঠের আসবাবপত্র ও পিতল বার্নিশ করা

২. স্বর্ণালংকারের ফাঁপা অংশ পূরণ

৩. ঔষধের ক্যাপসুলের কোটিং

৪. চকলেট ও চুইংগামের কোটিং

৫. ডাকঘরের চিঠি বা পার্সেল সিলমোহরের কাজ

৬. লবণাক্ত পানি থেকে জাহাজের তলদেশ রক্ষা বা লবণাক্ততায় নষ্ট হওয়া লৌহ ঠিক করার কাজে

৭. অস্ত্র ও রেল কারখানার কাজে

৮. পুতুল, খেলনা ও টিস্যু পেপার তৈরির কাজে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

রাণীশংকৈলে আগাম জাতের ধান কাটায় ব্যস্ততা, ফলনও ভাল

আনোয়ার হোসেন: [২] চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় আগাম জাতের ধান চাষ করে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এবার ধানের ফলনও ভালো হয়েছে।

[৩] শনিবার (৯ অক্টোবর) উপজেলার হোসেনগাঁও ধর্মগড় কাশিপুর নেকমরদ এলাকার পথ দিয়ে যেতে চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ আমন খেত। কোনো কোনো খেতের ধান পাকতে শুরু করেছে। খেত থেকে সেসব ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকেরা। পথে থামলে এসব এলাকার কয়েকজন কৃষক জানান, এ বছর আমন ধানের উৎপাদন হচ্ছে একরপ্রতি (১০০ শতক) ৫৪ থেকে ৬০ মণ। খরচ হয়েছে ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা। বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়। সে হিসাবে প্রতি একরে উৎপাদিত ধান বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ৩৮ হাজার টাকার বেশি। এই ধান কাটার পর জমিতে আগাম আলু চাষের সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা।

[৪] কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বছরের এই সময়ে আশ্বিন-কার্তিক মাস এলেই আগে উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা বা আধা দুর্ভিক্ষ দেখা দিতো। বেশির ভাগ মানুষের ঘরে খাবার থাকতো না। আমন ধান ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত খাবার জুটতো না।

[৫] আমনের ফসল আসতে যেখানে ১-২ মাস সময় লাগবে, সেখানে এই মুহূর্তে আমন ধান পেকেছে। বিনার উদ্ভাবিত এ জাতগুলোর অপার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে উৎপাদন ভালো অন্যদিকে ১০০ দিনের মধ্যে পাকে। এ ধান কেটে আলু, সরিষাসহ অন্যান্য ফসল করা যাবে। আশ্বিন-কার্তিক মাসে এই অঞ্চলে একসময় কাজের সংকট ছিল। কৃষক-দিনমজুরসহ সবাই প্রায় বেকার হয়ে যেতেন। তা দূর করতে আগাম জাতের আমন ধান চাষ শুরু করা হয়।

[৬] উপজেলায় চলতি মৌসুমে এবার আমনের ২১ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে কৃষকেরা ৫ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমিতে আগাম হাইব্রিড জাতের আমনের চাষ করেছেন। হাইব্রিড ছাড়াও উচ্চ ফলনশীল বিনা-১৭, ব্রি-৭৫, ব্রি-৮৭ জাতের ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ২৫০ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।

[৭] উপজেলার ভাংবাড়ি এলাকার কৃষক আবুল হোসেন (৩৭) দুই একর জমিতে হাইব্রিড ধানের চাষ করেছিলেন। এখন জমির সেই ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। আবুল হোসেন বলেন, এবার ফলনের পাশাপাশি ধানের দামও ভালো। আর এতেই কৃষকেরা খুশি।

[৮] ধর্মগড় মন্ডলপাড়া গ্রামের আরেক কৃষক মুন্জর হোসেন (৫৫) দুই বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করেছেন। ফলনের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, খরচ আর ধানের দাম মিলিয়ে এবার মোটামুটি লাভ হবে। ধান উঠলে যে টাকা হাতে আসবে, তা আবার আলুর আবাদে খরচ করবেন।

[৯] কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, আগাম জাতের ধান কৃষকেরা ১১০ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে ঘরে তুলতে পারছেন। আমনের জাতগুলোর তুলনায় ৬০ থেকে ৭০ দিন আগে এ ধান পেকে যায়। ফলে বাকি সময়ে কৃষক অন্য ফসল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। এ জাতের ধানচাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এখন ধানি জমিতে কৃষকেরা বছরে তিনবার ফসল ঘরে তুলতে পারছেন। আগাম জাতের ধান চাষ, কাটা ও মাড়াইয়ের পরে বর্তমানে জমিতে আলু ও সরিষা চাষ করছেন। এতে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

নওগাঁয় আশার আলো জাগিয়েছে বিনা ১৭ ধান

আশরাফুল নয়ন: [২] স্বল্প মেয়াদি জীবনকাল, সার-পানি সাশ্রয়ী, আলোক সংবেদনশীল, উন্নত গুনাগুন সম্পন্ন ও খরাসহিষ্ণু হওয়ায় কৃষকের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে আমন মৌসুমে বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিনা) এর উপকেন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিচালিত গবেষণা ও সম্প্রসারণ অংশ হিসেবে মাঠ দিবস পালিত হয়। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার শালাবাড়ি মাঠে ধান কর্তণের পর বটতলী হাটে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

[৩] জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে বিনা-১৭ জাতের ধান ১ হাজার ৩০ হেক্টর। যেখানে রানীনগরে ৫২০ হেক্টর, ধামইরহাটে ১২৫ হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৫ হেক্টর ও মান্দা ২০ হেক্টরসহ অন্যান্য উপজেলা কমবেশি আবাদ হয়েছে

[৪] বিনা-১৭ জাতের ধানে পানি কম লাগার কারণে একে গ্রীণ সুপার রাইস নামেও অভিহিত করেছেন অনেকে। এ জাতের ধানে ইউরিয়া সার এক-তৃতীয়াংশ ও সেচ ৫০ শতাংশ কম লাগে। ধানের জীবনকাল ১১০-১১৫দিন। এর প্রতি শীষে ২০০-২৫০ টি দানা থাকে এবং ফলন আশাব্যঞ্জক হওয়ায় কৃষকের জন্য এ জাতের ধান চাষ খুবই লাভজনক। প্রতি বিঘায় প্রায় ২২-২৫ মণ ফলন হয়ে থাকে। অন্যান্য ধানের তুলনায় আবাদে ২-৩ হাজার টাকা খরচ কম হয়।

[৫] শালবাড়ি গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম খলিল বলেন, চারবিঘা জমিতে বিনা-১৭ জাতের ধান রোপন করেছেন। এ জাতের ধান চাষে সেচ, সার, ঔষধ ও পানির খরচ অনেকটাই কম। এক সাথে ধান রোপন করে আমার জমির ধান কাটা হচ্ছে। আর পাশের জমিতে এখনো প্রায় ২০-২৫ দিন পর্যন্ত ৩-৪ টি সেচ দিতে হবে। আগে স্বর্ণা-৫ জাতের আবাদ করতাম। সে তুলনায় বিঘাপ্রতি আমার ২-৩ হাজার টাকা খরচ কম পড়েছে। আমার কাছে মনে বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ লাভজনক এবং কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে। অনেকেই এখন এ ধান চাষে উদ্বৃদ্ধ হচ্ছে।

৬] ঘুলকুড়ি গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিন বলেন, আমরা নতুন ধানের গুনাবলি বিষয়ে জানতাম না। পাশের জমি একসাথে লাগিয়ে তার টা কাটা হচ্ছে। আবার ফলনও ভাল। আর আমার টা এখনো ২০-২৫ দিন সময় লাগবে। বাস্তবে দেখলাম বিনা-১৭ জাতের ধান স্বল্প সময়ে আবাদ হয়েছে। এ ধান কাটার পর রবিশষ্য রোপন করা হবে। যে জমিতে দুই ফসল হতো সেখানে এখন তিন ফসল করা সম্ভব। আগামীতে এ জাতের ধান চাষে নিজে লাগানো পাশাপাশি আশপাশের সবাইকে উদ্বৃদ্ধ করব।

৭] বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিনা) এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. হাসানুজ্জামান বলেন, বিনা-১৭ একটি স্বল্পমেয়াদী জাতের ধান। খরাসহিষ্ণু (৩০ শতাংশ পানি কম প্রয়োজন)। ১১০-১১৫ দিনের মধ্যে কাটা যাবে এবং গড় ফলন প্রতি হেক্টর ৬ দশমিক ৫ হেক্টর। যে জমিতে দুইটি ফসল হতো সেখানে এ জাতের ধান চাষে এখন তিনটি ফসল সম্ভব। বিনা ধান-১৭ স্বল্প জীবনকালীন হওয়ায় ধান কাটার পর ওই একই জমিতে কৃষক সরিষা/মসুর/আলু চাষ করতে পারবেন। পরে জমি তৈরি করে বোরো ধান লাগানো যাবে। কৃষকদের উদ্বৃদ্ধ করে প্রচার-প্রচারণা করা হচ্ছে।

[৮] আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন- বিনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন ও জুবায়ের আল ইসলাম, নওগাঁ জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম মঞ্জুরে মওলা, নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমির আবদুল্লাহ মো. ওয়াহিদুজ্জামান, কৃষক ইব্রাহিম খলিলসহ স্থানীয় কৃষক ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

আদমদীঘিতে বেড়েছে আমন ধান চাষ, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আমিনুল জুয়েল: [২] উত্তরাঞ্চলের শস্য ভান্ডার খ্যাত বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় চলতি মৌসুমে বেড়েছে আমন ধানচাষ। উৎপাদন খরচ কম ও রোগ-বালাই এবং পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম হওয়াই এ অঞ্চলের কৃষকরা ঝুঁকছেন আমন ধানচাষে। সময় মতো বৃষ্টি, রোগবালাই ও পোকা মাকড়েরর আক্রমণ কম এবং আবহাওয়া ধানচাষের উপযোগী হওয়ায় চলতি মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষক।

[৩] উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ১২ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মৌসুমের তুলনায় এবার প্রায় ৮’শ হেক্টর বেশি জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে-স্বর্ণা-৫, রনজিত, পাইজাম, হাইব্রিড, ব্রি-ধান ১১,৩৪, ৪৯ এবং ৬২সহ বেশ কিছু জাতের আমন ধান রোপণ করেছে কৃষক। ধানক্ষেতে এসময় তেমন বৃষ্টির পানি প্রয়োজন নেই। তবে এক নাগাড়ে এক সপ্তাহ ঝড়-বৃষ্টি হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অতি বৃষ্টি আমন ফসলের ক্ষতির কারন হতে পারে।

[৪] কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ফসল রক্ষায় মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়ে নিয়মিত আলোক ফাঁদ, দলীয় সভা ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এজন্য আমনক্ষেতে তেমন কোনো রোগ-বালাই ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ লক্ষ্য করা যায়নি। এছাড়াও আবহাওয়া ধানচাষের উপযোগী হওয়ায় কৃষকরা কাঙ্খিত ফসলের চেয়ে অধিক ফসল ঘরে তুলতে পারবে।

[৫] সদর ইউনিয়নের ছোট জিনইর গ্রামের কৃষক আজিজুর রহমান জানান, আমন ধানে খরচ কম। এছাড়াও দু-একবার সেচ দিতে হয়। বৃষ্টির পানিতেই আমন ধান হয়ে যায়। আর পোকা মাকড়ের উপদ্রুপ বাড়লে কীটনাশক স্প্রে করলেই ফসল ঘরে উঠানো যায় নিশ্চিন্তে।

[৬] গত বছরের তুলনায় এবার আরও ৫ বিঘা বেশি জমিতে ধান রোপণ করেছি উল্লেখ করে তিনি ‘দৈনিক আমাদের অর্থনীতি’কে আরও বলেন, আশা করছি ফসল ঘরে তুলতে পারলে লাভবান হব। এজন্য সবসময় কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়েছি। এখন পর্যন্ত ফসলের কোন ক্ষতি হয় নি। আগাম আলু চাষের জন্য এই জমিতে আমন ধান রোপণ করি। আগামী ২০-২৫ দিনের মধ্যে ফসল কাটতে পারবো।

৭] ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের কাশিমালকুড়ি গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, এবছর আমন ধান খুবই ভালো হয়েছে। আশা করছি, কাঙ্খিত ফলন পাব। পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হলেও এ পর্যন্ত তিনবার কীটনাশক ছিঁটানো হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় কিছু কিছু উঁচু জমিতে দু’বার সেচ দিতে হয়েছে। এবার আমনের বীজ ও সার পেতে কোনো ঝামেলা হয়নি। এবছর ফসলের চেহারা পোক্ত ও সুন্দর হয়েছে। সবল ও সতেজ ধানের আধা-পাকা শীষ দেখে মনে হয় এ বছর ধানের ব্যাপক ফলন হবে।

[৮] উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিঠু চন্দ্র অধিকারী জানান, এই উপজেলায় গত আমন মৌসুমেও ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমেও আমনের বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। এই উপজেলায় ধানচাষে প্রান্তিক পর্যায়ে সাধারণ লোকজনের আগ্রহ বাড়ছে। মূলত, উপজেলা কৃষি অফিসের মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ কৃষকদের সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ দেন। এজন্য আমন ক্ষেতে এবার রোগবালাই নেই বললেই চলে। আবহাওয়া অনুক’লে থাকার জন্য এবং ধানগাছে রোগবালাই না থাকায় এবারও বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com