আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

রোববার থেকে ৩০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করবে টিসিবি

ভারতে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির খবরে দেশের বাজারেও নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র কয়েক দিনে কেজিতে পেঁয়াজের দাম প্রায় ৩০ টাকা বেড়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় উঠেছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারত রফতানি বন্ধ করলে সেসময় দেশের বাজারে হু হু করে দাম বেড়েছিল পেঁয়াজের। রেকর্ড ৩০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে পেঁয়াজের কেজি। এই পরিস্থিতি চলমান ছিল কয়েকমাস।

সেই ভীতি থেকে এবারও ক্রেতারা বাড়তি পেঁয়াজ কিনে রাখছেন। তাই পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামীকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) থেকে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে প্রতিকেজি ৩০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করবে সরকার। টিসিবি থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চলমান করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি ও বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে সারাদেশে তিনটি পণ্য বিক্রি করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার থেকে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পেঁয়াজরে পাশাপাশি চিনি, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল বিক্রি করবে টিসিবি। শুক্র ও শনিবার ব্যতিত আগামী ১ অক্টোবার পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।

টিসিবির ট্রাক থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজ পাওয়া যাবে ৩০ টাকায়, যা একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই কেজি কিনতে পারবেন। এছাড়া প্রতি কেজি চিনি পাওয়া যাবে ৫০ টাকায়, যা একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই কেজি কিনতে পারবেন। মসুর ডাল ৫০ টাকা কেজিতে একজন ক্রেতা সার্বোচ্চ দুই কেজি নিতে পারবেন। এছাড়াও সয়াবিন তেল ৮০ টাকা লিটারে একজন ক্রেতা দুই থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ লিটার নিতে পারবেন।

দেশব্যাপী ২৭৫ জন ডিলারের ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে এ বিক্রয় কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৪০টি, চট্টগ্রামে ১০টি, রংপুরে সাতটি, ময়মনসিংহে পাঁচটি, রাজশাহীতে পাঁচটি, খুলনায় সাতটি, বরিশালে পাঁচটি, সিলেটে পাঁচটি, বগুড়ায় পাঁচটি, কুমিল্লায় পাঁচটি, ঝিনাইদহে তিনটি ও মাদারীপুরে তিনটি করে মোট ১০০টি ট্রাক থাকবে।

অন্যান্য জেলার প্রতিটিতে দুটি করে ১০৪টি এবং আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতাভুক্ত উপজেলার জন্য পর্যায়ক্রমে অতিরিক্ত পাঁচটি করে মোট ৬০টি ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। এছাড়া বন্যাকবলিত জেলা তথা ময়মনসিংহে চারটি, রংপুরে চারটি, বগুড়ায় তিনটি, মাদারীপুরে অতিরিক্ত দুটি করে ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হবে।

প্রতিদিনের পণ্য বিক্রির স্থান ও ডিলারদের ফোন নম্বর টিবিবি’র ওয়েব সাইটে (www.tcb.gov.bd) ঐদিনই সকাল ১১ থেকে ১২ টার মধ্যে আপলোড করা হবে।

ঢাকা নগরীতে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রয়ের সম্ভাব্য স্থানগুলো হলো- সচিবালয় গেট, যাত্রাবাড়ী বাজার, ইত্তেফাক মোড়, শান্তিনগর বাজার, শাহজাহানপুর বাজার, খামারবাড়ী ফার্মগেট, মিরপুর-১৪ কচুক্ষেত, মিরপুর-১ মাজার রোড, শ্যামলী মোড়/ন্যাম গার্ডেন, উত্তরা আব্দুল্লাহপুর, ভিকারুন্নেসা ১০নং গেট/ইস্টার্ন হাউজিং গেট, বেগুনবাড়ী, মতিঝিল সরকারি কলোনি, ভাষানটেক বাজার, মধ্য বাড্ডা, পলাশী/ছাপড়া মসজিদ, জিগাতলা/ধানমন্ডি সরকারি কলোনি, রামপুরা বাজার, মাদারটেক/নন্দীপাড়া/কৃষিব্যাংকের সামনে, আদাবর বা মনসুরাবাদ, বাংলা কলেজ, শাহ সাহেব মাঠ আজিমপুর বটতলা, আশকোনা হাজী ক্যাম্প, বাসাবো বাজার, আজমপুর, ডিসি অফিস, সাতারকুল, বাংলাদেশ ব্যাংক, মিরপুর-২/১২, মাতুয়াল/সিদ্ধিরগঞ্জ, ইসিবি/কালসি, গাবতলী/টেকনিক্যাল, কাপ্তানবাজার, সোয়ারীঘাট/নবাবগঞ্জ সেকশন, বনশ্রী বাজার, কলমিলতা বাজার, কারওয়ান বাজার, দিলকুশা, মেরাদিয়া বাজার, নিপ্পন বটতলা, খিলগাঁও তালতলা, মুগদা, নিউমার্কেট, টঙ্গী বাজার, শনির আখড়া, বছিলা, কামরাঙ্গীর চর লোহার পুল, সারুলিয়া বাজার, টঙ্গী বাজার, ৬০ ফিট ভাঙ্গা মসজিদ, গোপীবাগ খোকন কমিউনিটি সেন্টার, গুলশান ভাটারা বাজার, সাভার বাজার, আনন্দ সিনেমা হল, মগবাজার ফরচুন মার্কেট, হাতিরপুল বাজার, মালিবাগ বাজার, উত্তর বাড্ডা ও খিলক্ষেত বাজার।

এদিকে গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পেঁয়াজ আমদানি ও বিক্রয়ের জন্য এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে টিসিবি।

উল্লেখ্য, ভারত নিজেদের বাজার সামাল দিতে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রফতানিতে ন্যূনতম প্রতি টনের মূল্য ৮৫০ ডলার বেঁধে দেয়। ৩০ সেপ্টেম্বর রফতানিই নিষিদ্ধ করে। এরপর দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম সেঞ্চুরি ডাবল সেঞ্চুরিও অতিক্রম করে। নভেম্বরে ৩০০ টাকা ওঠে পেঁয়াজের কেজি। তখন মিয়ানমার, চীন, মিসর ও পাকিস্তান থেকে নানা রঙের পেঁয়াজ এনে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে সরকার। বিমানেও দেশে আসে পেঁয়াজ।

এগ্রোবিজ

সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে আলু বিক্রি করতে দোকানিদের কৌশল

সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে আলু বিক্রি করতে দোকানিদের কৌশল
সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে আলু বিক্রি করতে দোকানিদের কৌশল

বাংলাদেশে বেশ কয়েক দিন ধরেই দফায় দফায় আলুর দাম বাড়ার পর সেটি এখন দাঁড়িয়েছে কেজি প্রতি ৫০ টাকায়। তবে সরকার থেকে আলুর দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে আরো কম। যার কারণে খুচরা বাজারগুলোতে আলুর মতো সবজিও বিক্রি হচ্ছে নানা কৌশলে।

অনেক দোকানি বলছেন, দাম বাড়ায় আলু বিক্রি বন্ধ করেছেন তারা। তবে অনেকে আবার ঝুড়িতে আলু না রাখলেও ক্রেতা চাইলে বিক্রি করছেন বাড়তি দামে।

রাজধানী ঢাকার মহাখালী কাঁচাবাজারে গেলে সবজির দোকানগুলোতে থরে থরে কাচা সবজি সাজিয়ে রাখাটা চোখে পড়ে। শুরুর দিকের কয়েকটি দোকান ঘুরে অন্যসব সবজি চোখে পড়লেও দেখা যায় না আলুর কোন পসরা।

আলু দেখতে না পেয়ে এক দোকানিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম আলু আছে কিনা? তিনি কোন উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন কয় কেজি লাগবে? তিনি বললেন, আলু সাজানো না থাকলেও দেয়া যাবে। দাম কত জানতে চাইলে বললেন ৪৮-৫০ টাকা প্রতি কেজি।

খুচরা বাজারে আলুর দাম ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।
খুচরা বাজারে আলুর দাম ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।

সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি আবার তার বক্তব্য পাল্টে ফেলেন, এবং আলু বিক্রি করতে অসম্মতি জানান। বলেন, দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আলু বিক্রি করছেন না তিনি।

“আলু সরকার রেট দেয়ার আগে বিক্রি করছি ৪৫-৫০ টাকা কেজি। সরকার যে রেট দিছে তার পর থেকে আলু বিক্রি করতে হয় লস দিয়ে ৩০ টাকা কেজিতে। মার্কেটে কেনা পরে আরো বেশি, ৪০-৪২ টাকা। তাই আপাতত আলু বিক্রি বন্ধ রাখছি,” বলেন ওই দোকানি।

তিনি অভিযোগ করেন, আলুর দাম বাড়িয়েছে আড়ৎদার আর পাইকারি দোকানদাররা। তিনি বলেন, হিমাগারে আলুর পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও মজুদদারেরা সেগুলো বের করছে না। ফলে আলুর দাম বাড়ছে।

বাজারের একটু ভেতরের গেলে কয়েকটি দোকানে আলু সাজিয়ে রাখতে দেখা যায়। তবে পরিমাণে খুবই কম। দাম জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, ৪৫-৫০ টাকায় আলু বিক্রি করছেন তারা।

খুচরা সবজি ব্যবসায়ী মীর ফয়েজ জানান, আগে কয়েক ধরণের আলু বিক্রি করলেও এখন মাত্র এক ধরণের আলু বিক্রি করছেন আর সেটিও খুব কম পরিমাণে।

“আলুর দাম যদি ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫-৫০ টাকা হয়, তাহলে সেটা বেশি না? কাস্টোমাররা মন খারাপ করে বেশি দাম রাখলে। তাই আলু বেচা কমিয়ে দিছি,” বলেন মীর ফয়েজ।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ১ কোটি ৯ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ১ কোটি ৯ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে।

বাজারে ঘুরতে ঘুরতে কথা হয় সাইদুর রহমান নামে এক ক্রেতার সাথে। আলু কিনেছেন তিনি। তবে ৩০ কিংবা ৫০ টাকায় নয়। বরং প্রতি কেজি আলু ৬০ টাকা দরে কিনতে হয়েছে তাকে।

“৬০ টাকায় কিনেছি কারণ বাজারে তেমন যোগান নেই। আর কম দামে কেউ দেয় না।”

আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে এর আগে এক দফা দাম নির্ধারণ করেছিল কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। তখন হিমাগারে থাকা আলু ২৩ টাকা, পাইকারি ২৮ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৩০ টাকা দাম নির্ধারিত হয়েছিল।

কিন্তু সেটি নিয়ে ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে মঙ্গলবার আরেক দফা বৈঠক করে সংস্থাটি। যেখানে কৃষক, ব্যবসায়ী, আড়ৎদার এবং কৃষি অর্থনীতিবিদদের সাথে আলোচনার পর, দাম বাড়িয়ে নতুন করে আরেক দফা আলুর দাম নির্ধারণের ঘোষণা দেয়া হয়।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, আলু উৎপাদন ও ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট কারো যাতে ক্ষতি না হয় সেটি মাথায় রেখে খুচরা বাজারে আলুর দাম ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া হিমাগারের আলু ২৫ টাকা এবং পাইকারি বাজারে ৩০ টাকা দরে দাম নির্ধারণ করা হয়।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, আলু উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সাথে যারা জড়িত তাদের যাতে ক্ষতি না হয় সে বিষয়টি মাথায় রেখে এবার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর করা হবে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছে, দাম বাড়ানোর জন্য পাইকারি বিক্রেতারা দায়ী।
খুচরা বিক্রেতারা বলছে, দাম বাড়ানোর জন্য পাইকারি বিক্রেতারা দায়ী।

কেউ এই নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি না করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আলুর মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সাধারণ একটি সবজির দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া এবং সেটি বিক্রি নিয়ে নানা ধরণের কৌশল ব্যবহারের মতো পরিস্থিতি কেন সৃষ্টি হলো এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, একদিকে যেমন যোগানের একটি ঘাটতি তৈরি হয়েছে, ঠিক তেমনি অন্যদিকে, সরকার যে দাম নির্ধারণ করছে তা অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব সম্মত হয়নি।

যার কারণে এমন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

আলুর মূল্য নির্ধারণের যে প্রক্রিয়া বা যেভাবে মূল্য নির্ধারিত হয়েছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাজারে মূল্যের সাথে সমন্বয় করা বা কোল্ড স্টোরেজে রাখার খরচ এবং কৃষকের কাছ থেকে কি মূল্যে কেনা হয়েছিল সে বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া দরকার ছিল বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহের ক্ষেত্রে যেহেতু সরকারের নিয়ন্ত্রণ কম, সুতরাং মূল্য নির্ধারণ করে দিলেই যে আসলে সেই মূল্যে পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা যাবে সেরকমটা নয়। যার কারণে এ ধরণের একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ভবিষ্যতে এ ধরণের পরিস্থিতি এড়াতে হলে জরুরি খাদ্য পণ্যের সাপ্লাই চেইনের সাথে যারা জড়িত অর্থাৎ উৎপাদক, ব্যবসায়ী, আড়ৎদার- এদের সবাইকে একটি রেজিস্টার ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। যাতে করে পণ্যের উৎপাদন ও মজুদ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য থাকে এবং সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

বাংলাদেশে ভাত ও রুটির বিকল্প হিসেবে অনেকে আলু খেয়ে থাকেন।
বাংলাদেশে ভাত ও রুটির বিকল্প হিসেবে অনেকে আলু খেয়ে থাকেন।

সিপিডি’র গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, চালের দামের ক্ষেত্রে সরকারের একটি কমিটি রয়েছে। সেরকম কমিটি জরুরি প্রয়োজনীয় আরো ১৭টি পণ্যের ক্ষেত্রেও থাকতে হবে। যারা বাজার বিশ্লেষণ করবে, উৎপাদন বিশ্লেষণ করবে, সেই সাথে ভোক্তাদের চাহিদা বিশ্লেষণ করবে, যেসব দেশ থেকে আমদানি করা হয় সেসব দেশে উৎপাদনের কি অবস্থা সে বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

“এই সিদ্ধান্ত হবে যে, আমদানি কমাতে হবে নাকি বাড়াতে হবে, শুল্ক কমাতে হবে নাকি বাড়াতে হবে- এ বিষয়গুলোতে আগাম তথ্য সংগ্রহ করে তারা সিদ্ধান্ত নেবে যে বাজারে পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত রাখতে হলে কি উদ্যোগ নিতে হবে।”

আলু ছাড়াও বাজারে অন্যান্য সবজির দামও বেশ চড়া। বাজার ঘুরে দেখা যায়, কোন সবজির দামই ৫০ টাকার নিচে নয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সবজি

নতুন করে দাম না বাড়লেও আগের মত চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। অবশ্য গত সপ্তাহে একশ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটি ও শসার দাম কমে এসেছে। বাজারে এখন ৫টি সবজির কেজি একশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পেঁপে বাদে বাকি সবজিগুলোর কেজি ৫০ টাকার উপরে।

এদিকে দুই দফায় আলুর দাম বেঁধে দেয়া হয়েছে। এরপরও দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সরকার খুচরায় আলুর কেজি ৩৫ টাকা নির্ধারণ করলেও ৪৫ টাকার নিচে মিলছে না কোথাও। এমনকি কোনো কোনো ব্যবসায়ী এখনও আলুর কেজি ৫০ টাকা বিক্রি করছেন। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

খিলগাঁওয়ে ৫০ টাকা কেজি আলু বিক্রি করা আশরাফ আলী বলেন, আমাদের আলু দুই দিন আগে কেনা। এই আলু গড়ে ৪২ টাকা কেজি কিনে আনা। সেই আলু বাছাই করে ৫০ টাকা বিক্রি করেছি। এতে কোনো রকমে আসল উঠে আসবে। এর নিচে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে। তবে পাইকারি থেকে নতুন করে কম দামে আলু কিনতে পারলে আমরাও কম দামে বিক্রি করবো।

হাজীপাড়ায় ৪৫ টাকা কেজি আলু বিক্রি করা ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর বলেন, আলুর দাম কমার তথ্য শুধু খবরে দেখি। বাজারে তো দাম কমতে দেখি না। আমি প্রতিদিন শ্যামবাজার যায়, পাইকারিতে আলুর দাম দুই দিন আগে যা ছিল আজও তাই। পাইকারিতে না কমলে আমরা কীভাবে কম দামে বিক্রি করবো?

এদিকে গত সপ্তাহের মতো এখনো শিম, পাকা টমেটো, গাজর, বেগুন ও উস্তার কেজি একশ টাকার ঘরে রয়েছে। এর মধ্যে পাকা টমেটো গত কয়েক মাসের মতো এখনো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

তবে শিমের দাম কিছুটা কমে ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। আর শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা।

বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা। বেগুন গত সপ্তাহের মতো ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে উস্তারও। এক কেজি উস্তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।

এই সবজিগুলোর পাশাপাশি বাজারে অন্য সবজিগুলোও স্বস্তি দিচ্ছে না। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, গত সপ্তাহের মতো ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ঝিঙা, কাঁকরোল, ধুন্দুল, কচুর লতি। ঝিঙার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, একই দামে বিক্রি হচ্ছে কচুর লতি।

লাউয়ের পিস গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এক হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বাজারে আসা শীতের আগাম সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা।

স্বস্তি মিলছে না কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দামেও। এক কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মিলন মিয়া বলেন, গত সপ্তাহে একশ টাকা কেজি বিক্রি করা শিম আজ ৬০ টাকায় বিক্রি করেছি। এভাবে গত সপ্তাহের তুলনায় বেশকিছু সবজির দাম কমেছে। তবে যেভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তাতে সবজির দাম আর বেড়ে যেতে পারে।

রামপুরার ব্যবসায়ী বলেন, সবজির দাম বেশি হলেও গত সপ্তাহের তুলনায় আজ বেশিরভাগ সবজি কম দামে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এক কেজি শসা একশ টাকা বিক্রি করেছি, আজ ৬০ টাকা বিক্রি করেছি। ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পটল ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ১০০ টাকার গাজর ৮০ টাকায় বিক্রি করেছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মিল্কভিটার খামারিদের স্বল্পসুদে ঋণ দেবে রূপালী ব্যাংক

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কৃষি প্রণোদনার সুফল প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেয়া, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুগ্ধ খামারিদের সহায়তায় সহজশর্তে চার শতাংশ হারে ঋণ দিতে মিল্কভিটার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে রূপালী ব্যাংক। বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।

রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন, এমপি এবং মিল্কভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপুর উপস্থিতিতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ এবং মিল্কভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও যুগ্ম সচিব অমর চান বণিক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে মিল্কভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু বলেন, করোনা পরিস্থিতি শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে কৃষকদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে গুঁড়াদুধ প্রস্তুত করেছে মিল্কভিটা। এসব গুঁড়াদুধ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রাণ মন্ত্রণালয় কিনে নিয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতেও বেঁচে গেছেন।

শেখ নাদির বলেন, করোনা মহামারি শুরু হলে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমাকে ফোন দিয়ে বলেন- আমরা আপনাদের পাশে থাকতে চাই। মিল্কভিটার মাধ্যমে রূপালী ব্যাংক খামারিদের টাকা দিতে চায় যাতে তারা দুধ ফেলে না দিয়ে তা দিয়ে ঘি বানাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সমবায় ছাড়া এই বিশাল জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব ছিল না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মিল্কভিটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশের অসহায় মানুষের জন্য। এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। কখনো ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়নি।

রূপালী ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি আসার পর দুগ্ধ খামারিরা সমস্যায় পড়েন। তাদের এই সমস্যা থেকে উত্তরণে রূপালী ব্যাংক এগিয়ে আসে। দেশকে দুগ্ধখাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে রূপালী ব্যাংক সবসময় পাশে থাকবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মিল্কভিটার ঢাকা দুগ্ধ কারখানা, বাঘাবাড়ী দুগ্ধ কারখানা ও টেকেরহাট দুগ্ধ কারখানার তালিকাভুক্ত সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে এক হাজার জনের মাঝে ১০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করছে রূপালী ব্যাংক।

মাত্র চার শতাংশ সুদে প্রত্যেক সদস্যকে এক লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে। এসব ঋণের করপোরেট গ্যারান্টার মিল্কভিটা। মিল্কভিটা খামারিদের কাছ থেকে কিস্তির অর্থ সংগ্রহ করে ব্যাংকে জমা দেবে।

অনুষ্ঠানে টুঙ্গীপাড়ার মুন্সি রফিকুল ইসলাম, খুলনার ইউনুস গাজী ও সিরাজগঞ্জের জিন্নাহ সরকারের মাঝে ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

আলু: লাগাম টানতে ব্যর্থ হয়ে ট্রাকে করে ২৫ টাকায় বেচবে সরকার

আলু: লাগাম টানতে ব্যর্থ হয়ে ট্রাকে করে ২৫ টাকায় বেচবে সরকার
আলু: লাগাম টানতে ব্যর্থ হয়ে ট্রাকে করে ২৫ টাকায় বেচবে সরকার

বাংলাদেশে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলুর দাম বেড়ে যাওয়ার পটভূমিতে এখন সরকার ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবির মাধ্যমে কম দামে আলু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এজন্য কেজি প্রতি আলুর দাম ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি রোবাবর একথা জানিয়েছেন।

এর আগে গত সপ্তাহে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কেজি প্রতি আলুর মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। কিন্তু এখনো বাজারে ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আলু।

কেন টিসিবির মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত?

বাংলাদেশে গত সপ্তাহ দুয়েক ধরেই আলুর দাম ক্রমাগত বাড়ছিল।

২০-২২ টাকা কেজি দরের আলুর দাম বাড়তে বাড়তে ৫০-৫৫ টাকায় গিয়ে ঠেকে।

যে কারণে সরকার প্রথমবারের মত আলুর মূল্য নির্ধারণ করে দেয় কেজিতে ৩০ টাকা।

বাংলাদেশে সাধারণত চাল, ডাল বা তেলের মূল্য সরকার নির্ধারণ করে দেয়, বিশেষত রমজানের সময় যখন বাজারে চাহিদা ব্যাপক থাকে।

কিন্তু এর আগে আলুর মূল্য নির্ধারণ করে দেয়ার কথা শোনা যায়নি।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি যখন আজ টিসিবির মাধ্যমে আলু বিক্রির ঘোষণা দেন, তখন তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন যে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ঠিক করে দেয়া দাম আসলে কার্যকর করা যায়নি।

যে কারণে এখন এই টিসিবির ট্রাক সেলের মাধ্যমে আলু বিক্রি করা হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর হচ্ছে কীনা সেটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং র‍্যাব মনিটর করবে।

কেন আলুর সংকট?

সরকার বলছে বাজারে আলুর কোন সংকট নেই, এবং চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে বলে সরকারের দাবি।

আলু: লাগাম টানতে ব্যর্থ হয়ে ট্রাকে করে ২৫ টাকায় বেচবে সরকার
আলু: লাগাম টানতে ব্যর্থ হয়ে ট্রাকে করে ২৫ টাকায় বেচবে সরকার

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ১ কোটি ৯ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বলছে দেশে বছরে আলুর চাহিদা ৭৭ লাখ টন, ফলে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি উৎপাদন হয়েছে বলে মনে করে সরকার।

কিন্তু তারপরেও দাম বেড়ে যাওয়ার পেছনে সরকার মনে করে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

কিন্তু ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকেরা বলছেন এ বছর মহামারি এবং বন্যার কারণে সরকারি ও অন্যান্য সংস্থার ত্রাণ হিসেবে দেয়া পণ্যের তালিকায় আলু ছিল, যে কারণে মজুদ আলুর একটি বড় অংশ খরচ হয়ে গেছে।

ফলে সরবারহে ঘাটতি হয়েছে। এছাড়া এবছর আলুর রপ্তানিও বেড়েছে, সেটিও বাজারে আলুর মজুদ কমে যাওয়ার আরেকটি কারণ বলে মনে করেন তারা।

কেন আলুর দাম এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো?

আলু বাংলাদেশে সব শ্রেণীর মানুষের খাদ্য তালিকায় সবচাইতে কমন ও জনপ্রিয় একটি সবজি।

বাংলাদেশে ভাত ও রুটির বিকল্প হিসেবে অনেকে আলু খেয়ে থাকেন।

বিশেষ করে বাজারে যখন অন্য সবজির দাম বেড়ে যায় নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে তখন এটি অনেক সময়ই অন্য সবজির বিকল্প হয়ে ওঠে।

ভাতের সঙ্গে একটু আলুভর্তা বা ভাজি তখন নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিকল্প খাবার হয়ে দাঁড়ায়।

এছাড়া আলুর পুষ্টিগুণের কারণে পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকেরা বলে থাকেন যে, শিশুদের জন্য আলু একটি অত্যাবশ্যক খাবার।

আলুতে একদিকে যেমন ভাতের মতো শর্করা আছে, তেমনি সবজির মতো আঁশ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন আছে।

ফলে সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের মানুষের কাছে আলু নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষিঋণ বিতরণের সঙ্গে বেড়েছে আদায়

করোনাকালেও থেমে নেই কৃষকের উৎপাদন। ফলে মহামারির মধ্যে এ খাতে বেড়েছে ঋণ বিতরণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কৃষিখাতে ঋণ বিতরণ করেছে চার হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। এ অংক আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩২ শতাংশ বেশি। গতবছর একই সময়ে ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছিল তিন হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে মহামারির কারণে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করার সুবিধা থাকলেও উল্টো চিত্র কৃষিখাতে। করোনার সময়ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেছেন কৃষকরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তিন মাসে কৃষিঋণ আদায় হয়েছে ছয় হাজার ২৭৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। আগের বছরের স্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে আদায় হয়েছিল ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ। টাকার অংকে যার পরিমাণ ছিল চার কোটি ৩৭৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। করোনার মধ্যেও কৃষিখাতের উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়া সচল থাকায় কৃষক সময়মতো কিস্তি ফেরত দিতেছেন। আলোচিত সময়ে কৃষিখাতে ব্যাংকগুলোর পুঞ্জীভূত ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৪২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ চার হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ।

করোনার সময়েও কৃষিখাতের উৎপাদন সচল ছিল। তাই এ খাতে ঋণের প্রয়োজনও বেশি ছিল। কিন্তু ব্যাংকগুলো তাদের সঠিক সময় ঋণসহায়তা দেয়নি। ফলে প্রথমবারের মতো গেল অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয় ব্যাংকগুলো। গেল (২০১৯-২০) অর্থবছরে কৃষকদের জন্য ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দ রেখেছিল ব্যাংকগুলো। কিন্তু অর্থবছরে শেষে এ খাতের ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গেল অর্থবছরে লক্ষ্যের চেয়ে পাঁচ দশমিক ৬৯ শতাংশ বা এক হাজার ৩৭৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ কম হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কৃষিখাতে ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়।

চলতি (২০২০-২০২১) অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক কৃষি ও পল্লীঋণ বিতর‌ণের লক্ষ্য ঠিক ক‌রে‌ছে ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় আট দশ‌মিক ৯৯ শতাংশ বেশি। করোনা মহামারির আর্থিক সংকট মোকাবিলায় এবং সরকারের কৃষি ও কৃষকবান্ধব নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে টেকসই উন্নয়নের নির্ধারিত লক্ষ্যের প্রথম ও প্রধান তিনটি লক্ষ্য তথা দারিদ্র্যবিমোচন, ক্ষুধামুক্তি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের উদ্দেশে পল্লী অঞ্চলে ব্যাপকহারে কৃষিঋণ প্রবাহ বাড়া‌নোর ল‌ক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ক‌রে‌ছে।

কৃষি ও পল্লীঋণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় চলতি অর্থবছরে ঘো‌ষিত লক্ষ্যমাত্র‌ার ম‌ধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক ঋণ বিতরণ কর‌বে ১১ হাজার ৪৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগু‌লো ঋণ দেয়ার লক্ষ্য ঠিক ক‌রে‌ছে ১৫ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো ঋণ দিয়েছে এক হাজার ৭৮২ কোটি টাকা যা লক্ষ্যমাত্রার ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণ দিয়েছে দুই হাজার ৯০২ কোটি টাকা যা লক্ষ্যমাত্রার ১৯ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। সবমিলিয়ে তিন মাসে ঋণ বিতরণ করেছে চার হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা যা লক্ষ্যমাত্রার ১৭ দশমিক ৮২ শতাংশ।

এদিকে মহামারির সংকটে কৃষিখাতকে সর্বাত্মকভাবে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ প্রণোদনায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। কৃষিখাতে স্বল্পসুদে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির জন্য আগামী একবছর সুদভর্তুকি দেবে সরকার।

শস্য ও ফসলচাষে কৃষক পর্যায়ে গত এপ্রিল থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সুদহার চার শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি পাঁচ শতাংশ ভর্তুকি দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতসব প্রণোদনা ঘোষণার পরও এ খাতে আশানুরূপ বাড়ছে না কৃষিঋণ বিতরণ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com