আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায় কী, কতটা মারাত্মক, কোন্ দেশে কত ব্যাপক ও দ্রুত ছড়াচ্ছে

করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায় কী, কতটা মারাত্মক, কোন্ দেশে কত ব্যাপক ও দ্রুত ছড়াচ্ছে
করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায় কী, কতটা মারাত্মক, কোন্ দেশে কত ব্যাপক ও দ্রুত ছড়াচ্ছে

করোনাভাইরাস, যার পোশাকি নাম কোভিড-১৯, সেই রোগটি বিশ্বের ১৮৮ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

এই ভাইরাস যা মানুষের ফুসফুসের মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে- যা পূর্বে বিজ্ঞানীদের অজানা ছিল- চীন থেকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভাইরাসটা কী?

করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস – যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি।

এই ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী প্রাণহানির সংখ্যা দশ লাখের দ্বারপ্রান্তে। আর বিশ্বব্যাপী শনাক্তের সংখ্যা ত্রিশ লাখের দ্বারপ্রান্তে। (তথ্য আপডেট করা হয়েছে ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০২০)

ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯ – এনসিওভি বা নভেল করোনাভাইরাস। এটি এক ধরণের করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ছয়টি প্রজাতি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। তবে নতুন ধরণের ভাইরাসের কারণে সেই সংখ্যা এখন থেকে হবে সাতটি।

২০০২ সাল থেকে চীনে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া সার্স (পুরো নাম সিভিয়ার এ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) নামে যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৭৭৪জনের মৃত্যু হয়েছিল আর ৮০৯৮ জন সংক্রমিত হয়েছিল। সেটিও ছিল এক ধরণের করোনাভাইরাস।

নতুন এই রোগটিকে প্রথমদিকে নানা নামে ডাকা হচ্ছিল, যেমন: ‘চায়না ভাইরাস’, ‘করোনাভাইরাস’, ‘২০১৯ এনকভ’, ‘নতুন ভাইরাস’, ‘রহস্য ভাইরাস’ ইত্যাদি।

এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগটির আনুষ্ঠানিক নাম দেয় কোভিড-১৯ যা ‘করোনাভাইরাস ডিজিজ ২০১৯’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।

করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায় কী, কতটা মারাত্মক, কোন্ দেশে কত ব্যাপক ও দ্রুত ছড়াচ্ছে
করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায় কী, কতটা মারাত্মক, কোন্ দেশে কত ব্যাপক ও দ্রুত ছড়াচ্ছে

রোগের লক্ষণ কী:

রেসপিরেটরি লক্ষণ ছাড়াও জ্বর, কাশি, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ।

এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে।

সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ, পরে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।

সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচ দিন সময় নেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভাইরাসটির ইনকিউবেশন পিরিয়ড ১৪দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। তবে কিছু কিছু গবেষকের মতে এর স্থায়িত্ব ২৪ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে।

মানুষের মধ্যে যখন ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেবে তখন বেশি মানুষকে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকবে তাদের। তবে এমন ধারণাও করা হচ্ছে যে নিজেরা অসুস্থ না থাকার সময়ও সুস্থ মানুষের দেহে ভাইরাস সংক্রমিত করতে পারে মানুষ।

শুরুর দিকের উপসর্গ সাধারণ সর্দিজ্বর এবং ফ্লু’য়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্থ হওয়া স্বাভাবিক।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অনেককে সার্স ভাইরাসের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে যা ২০০০ সালের শুরুতে প্রধানত এশিয়ার অনেক দেশে ৭৭৪ জনের মৃত্যুর কারণ হয়েছিলো ।

নতুন ভাইরাসটির জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এটি অনেকটাই সার্স ভাইরাসের মতো।

“আমরা যখন নতুন কোনো করোনাভাইরাস দেখি, তখন আমরা জানতে চাই এর লক্ষণগুলো কতটা মারাত্মক। এ ভাইরাসটি অনেকটা ফ্লুর মতো কিন্তু সার্স ভাইরাসের চেয়ে মারাত্মক নয়,” বলছিলেন এডিনবারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মার্ক উলহাউস।

চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসটি প্রথম সনাক্ত হয়
চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসটি প্রথম সনাক্ত হয়

কোথা থেকে এলো করোনাভাইরাস?

অনেক সময়ই কোন একটি প্রাণী থেকে এসে নতুন নতুন ভাইরাস মানব শরীরে বাসা বাঁধতে শুরু করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ধারণা সাম্প্রতিক ভাইরাসটির উৎস কোনো প্রাণী।

যতটুকু জানা যায়, মানুষের আক্রান্ত হবার ঘটনাটি ঘটেছে চীনের উহান শহরে সামুদ্রিক মাছ পাইকারিভাবে বিক্রি হয় এমন একটি বাজারে।

করোনাভাইরাস ভাইরাস পরিবারে আছে, তবে এ ধরণের ছয়টি ভাইরাস আগে পরিচিত থাকলেও এখন যেটিতে সংক্রমিত হচ্ছে মানুষ সেটি নতুন।

কোন প্রাণী থেকে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস?

একবার যদি ভাইরাসের উৎস প্রাণীটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়, তাহলে রোগটি মোকাবেলা করা অনেক সহজ হয়।

করোনাভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্ক আছে চীনের উহানের দক্ষিণ সমুদ্রের খাবারের পাইকারি বাজারের সঙ্গে।

যদিও বেশ কিছু সামুদ্রিক প্রাণী করোনাভাইরাস বহন করতে পারে (যেমন বেলুগা তিমি), ওই বাজারটিতে অনেক জীবন্ত প্রাণীও পাওয়া যেত, যেমন মুরগি, বাদুড়, খরগোশ, সাপ- এসব প্রাণী করোনাভাইরাসের উৎস হতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, চীনের হর্সশু নামের একপ্রকার বাদুড়ের সঙ্গে এই ভাইরাসের ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে।

জ্বর মাপার মাধ্যমে ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে
জ্বর মাপার মাধ্যমে ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে

লক্ষণগুলো কতটা মারাত্মক?

জ্বর দিয়ে ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়, এরপরে শুকনো কাশি দেখা দিতে পারে। প্রায় এক সপ্তাহ পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। অনেক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়।

এখন পর্যন্ত বৈশ্বিকভাবে শনাক্তের তুলনায় মৃত্যুর হার শতকরা ৩ ভাগের কিছু বেশি।

ইউরোপের কোন কোন অঞ্চলে এখন অধিক মৃত্যুহারও দেখা যাচ্ছে।

৫৬ হাজার আক্রান্ত রোগীর উপর চালানো এক জরিপ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে:

  • এই রোগে ৬% কঠিনভাবে অসুস্থ হয় – তাদের ফুসফুস বিকল হওয়া, সেপটিক শক, অঙ্গ বৈকল্য এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা তৈরি হয়।
  • ১৪% এর মধ্যে তীব্রভাবে উপসর্গ দেখা যায়। তাদের মূলতঃ শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা তৈরি হয়।
  • ৮০% এর মধ্যে হালকা উপসর্গ দেখা যায় – জ্বর এবং কাশি ছাড়াও কারো কারো নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা যেতে পারে।

বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের কোনো ধরণের অসুস্থতা রয়েছে (অ্যাজমা, ডায়বেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ) তাদের মারাত্মক অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চীন থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে জানা যায় যে, এই রোগে নারীদের চেয়ে পুরুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা সামান্য বেশি।

আক্রান্ত ব্যক্তি যেন শ্বাস প্রশ্বাসে সহায়তা পায় এবং তার দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যেন ভাইরাসের মোকাবেলা করতে পারে তা নিশ্চিত করা থাকে চিকিৎসকদের উদ্দেশ্য।

করোনাভাইরাস
করোনাভাইরাস

ভাইরাসটি কীভাবে ঠেকানো যেতে পারে?

বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন এখন তাদের পরীক্ষা নীরিক্ষার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রাশিয়া একটি ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে উৎপাদন পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভ্যাকসিনও পরীক্ষার চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে।

এই টিকার উপাদান হলো, কোভিড-নাইনটিন ভাইরাসের একটি জেনেটিক কোড – যা আসল ভাইরাসটি থেকেই নকল করে তৈরি করা হয়েছে। এই কপিটি বিপজ্জনক নয়, এবং এটা মানবদেহে সংক্রমণ ঘটাতেও পারে না।

এই রোগ থেকে এখন পর্যন্ত রক্ষার একমাত্র উপায় হলো অন্যদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ হতে না দেয়া।

যার মানে হলো:

মানুষজনের চলাচল সীমিত করে দেয়া।

হাত ধুতে সবাইকে উৎসাহিত করা।

 মাস্ক বা মুখোশ ব্যবহার করা।

স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরে রোগীদের আলাদা আলাদা করে চিকিৎসা সেবা দেয়া

রোগীদের ভাইরাস রয়েছে কিনা তা জানতে এবং রোগীদের সংস্পর্শে আসা লোকদের শনাক্ত করার জন্যও গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড বা নজরদারি ব্যবস্থার প্রয়োজন।

বিদেশ থেকে আসা বহু মানুষকে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় নিয়েছে বাংলাদেশ
বিদেশ থেকে আসা বহু মানুষকে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় নিয়েছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?

অন্য অনেক দেশের মত বাংলাদেশও করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ২৬শে মার্চ থেকে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এসময় ওষুধের দোকান ও জরুরি প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের দোকান বাদে দেশের সকল বিপণিবিতান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দু মাসেরওে বেশি সময় সাধারণ ছুটি শেষ করে আবার সবাই কাজে গেছে। বিপণিবিতান খুলে গেছে। চালু হয়েছে গণপরিবহনও। বলা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এগুলো করা হয়েছে, যদিও কতটা স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনও বন্ধ রয়েছে।

বিমান চলাচল দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল শুরু হয়েছে।

করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায় কী, কতটা মারাত্মক, কোন্ দেশে কত ব্যাপক ও দ্রুত ছড়াচ্ছে
করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায় কী, কতটা মারাত্মক, কোন্ দেশে কত ব্যাপক ও দ্রুত ছড়াচ্ছে

প্রথম দিকে একটি করে আসন ফাঁকা রেখে গণপরিবহন চলাচল হলেও ধীরে ধীরে সেই বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ গত ১৩ই সেপ্টেম্বর অভ্যন্তরীন বিমানে আসন ফাঁকা রাখার বিধিনিষেধও উঠে গেছে।

এখন গণপরিবহনে কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করা হয় সেটা নিয়ে বিরাট প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে এখনো বিদেশ থেকে আগতদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকার বিধিনিষেধ আছে, তবে এটা কতটা কার্যকর সেটা নিয়েও প্রশ্ন আছে।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

ভাইরাসটির কি পরিবর্তন ঘটতে পারে?

ভাইরাসটি কোন একটা প্রাণী থেকে মানুষের দেহে ঢুকেছে এবং একজন থেকে আরেকজনের দেহে ছড়াতে ছড়াতে আবার নিজের জিনগত গঠনে সবসময় পরিবর্তন আনছে – যাকে বলে মিউটেশন।

এখন পর্যন্ত ভাইরাসটি শত শত বার নিজের জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়েছে বলে গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে।

অনেকেরই আশঙ্কা এই মিউটেশনের মাধ্যমে ভাইরাসটি দিনকে দিন আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

কিন্তু এ ভাইরাসটির প্রকৃতি এবং কীভাবেই বা তা রোধ করা যেতে পারে – এ সম্পর্কে এখনো বিজ্ঞানীরা বিশদভাবে জানার চেষ্টা করছেন।

সার্স বা ইবোলার মতো নানা ধরণের প্রাণঘাতী ভাইরাসের খবর মাঝে মাঝেই সংবাদ মাধ্যমে আসে। এই করোনাভাইরাস তার মধ্যে সর্বশেষ।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি হয়তো মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতিমধ্যেই ‘মিউটেট করছে’ অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে – যার ফলে এটি আরো বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

এই ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেক জনের দেহে ছড়ায়। সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডা লাগার মতো করেই এ ভাইরাস ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে।

মাস্ক পরে কি ঠেকানো যায়?

ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় যেকোনো খবরের জন্য একটি দারুণ প্রতীকী ছবি হচ্ছে মাস্ক বা মুখোশ পরা কোন মানুষের মুখচ্ছবি।

বিশ্বের বহু দেশেই সংক্রমণ ঠেকানোর একটি জনপ্রিয় ব্যবস্থা হচ্ছে মাস্ক ব্যবহার। বিশেষ করে চীনে, যেখান থেকে শুরু হয়েছে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা, সেখানেও মানুষ বায়ুর দূষণের হাত থেকে বাঁচতে হরহামেশা নাক আর মুখ ঢাকা মুখোশ পরে ঘুরে বেড়ায়।

আইইডিসিআর-এর এই হটলাইন নম্বর অথবা অন্য নম্বরগুলোতে ফোন করুন সাহায্যের জন্য।
আইইডিসিআর-এর এই হটলাইন নম্বর অথবা অন্য নম্বরগুলোতে ফোন করুন সাহায্যের জন্য।

অবশ্য বায়ুবাহিত ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এই মাস্ক কতটা কার্যকর সে ব্যাপারে যথেষ্টই সংশয়ে আছেন ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা, যাদেরকে বলা হয় ভাইরোলজিস্ট।

তবে হাত থেকে মুখে সংক্রমণ ঠেকাতে এই মাস্ক ব্যবহার করে সুফল পাওয়ার কিছু নজির আছে।

আঠারো শতকে প্রথম সার্জিক্যাল মাস্কের চল শুরু হয়। কিন্তু ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু মহামারির আগ পর্যন্ত এই মাস্ক আমজনতার হাতে এসে পৌঁছায়নি।

ওই মহামারিতে ৫ কোটির মত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে সেন্ট জর্জেসের ড. ডেভিড ক্যারিংটন বিবিসিকে বলেন, “সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক বায়ুবাহিত ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে যথেষ্ট নয়”।

“বেশিরভাগ ভাইরাসই” বায়ুবাহিত, তিনি বলেন, এবং এই মাস্কগুলো এতই ঢিলেঢালা থাকে যে এটা বায়ুকে ফিল্টার করতে পারেনা ঠিকঠাক। তাছাড়া যিনি এই মাস্ক ব্যবহার করছেন, তার চক্ষু থাকছে উন্মুক্ত।

তবে হাঁচি বা কাশি থেকে ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে এই মাস্ক। আর হাত থেকে মুখের সংক্রমণের বিরুদ্ধেও কিছু সুরক্ষা এটা দেয়।

২০১৬ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি সমীক্ষায় বলা হয়, মানুষ প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ২৩ বার হাত দিয়ে মুখ স্পর্শ করে।

ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যামের মলিক্যুলার ভাইরোলজির অধ্যাপক জোনাথন বল বলেন, হাসপাতালের মধ্যে একটি নিয়ন্ত্রিত সমীক্ষায় দেখা গেছে রেসপিরেটর হিসেবে তৈরি ফেস মাস্ক ইনফ্লুয়েঞ্জা ঠেকাতে পারে।

  • আইইডিসিআর-এর এই হটলাইন নম্বর অথবা অন্য নম্বরগুলোতে ফোন করুন সাহায্যের জন্য।

    আইইডিসিআর-এর এই হটলাইন নম্বর অথবা অন্য নম্বরগুলোতে ফোন করুন সাহায্যের জন্য।

  • করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায় কী, কতটা মারাত্মক, কোন্ দেশে কত ব্যাপক ও দ্রুত ছড়াচ্ছে

    করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায় কী, কতটা মারাত্মক, কোন্ দেশে কত ব্যাপক ও দ্রুত ছড়াচ্ছে

  • বিদেশ থেকে আসা বহু মানুষকে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় নিয়েছে বাংলাদেশ

    বিদেশ থেকে আসা বহু মানুষকে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় নিয়েছে বাংলাদেশ

  • করোনাভাইরাস

    করোনাভাইরাস

  • জ্বর মাপার মাধ্যমে ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে

    জ্বর মাপার মাধ্যমে ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে

  • চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসটি প্রথম সনাক্ত হয়

    চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসটি প্রথম সনাক্ত হয়

  • করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায় কী, কতটা মারাত্মক, কোন্ দেশে কত ব্যাপক ও দ্রুত ছড়াচ্ছে

    করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায় কী, কতটা মারাত্মক, কোন্ দেশে কত ব্যাপক ও দ্রুত ছড়াচ্ছে

  • করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায় কী, কতটা মারাত্মক, কোন্ দেশে কত ব্যাপক ও দ্রুত ছড়াচ্ছে

    করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায় কী, কতটা মারাত্মক, কোন্ দেশে কত ব্যাপক ও দ্রুত ছড়াচ্ছে

  • আইইডিসিআর-এর এই হটলাইন নম্বর অথবা অন্য নম্বরগুলোতে ফোন করুন সাহায্যের জন্য।
  • করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায় কী, কতটা মারাত্মক, কোন্ দেশে কত ব্যাপক ও দ্রুত ছড়াচ্ছে
  • বিদেশ থেকে আসা বহু মানুষকে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় নিয়েছে বাংলাদেশ
  • করোনাভাইরাস
  • জ্বর মাপার মাধ্যমে ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে
  • চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসটি প্রথম সনাক্ত হয়
  • করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায় কী, কতটা মারাত্মক, কোন্ দেশে কত ব্যাপক ও দ্রুত ছড়াচ্ছে
  • করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায় কী, কতটা মারাত্মক, কোন্ দেশে কত ব্যাপক ও দ্রুত ছড়াচ্ছে

দৈনন্দিন

কত রকম চা

>করোনার এ সময়টা লেবু চা, মসলা চাসহ নানা রকম চা পানের পরামর্শ আমরা পাচ্ছি। এক কাপ চা যে নিমেষেই সতেজ করে দিতে পারে, তা তো কমবেশি জানাই। কয়েক রকম সুস্বাদু চায়ের রেসিপি দিয়েছেন ফারাহ্ সুবর্ণা

তুলসী ও মধুর চা

উপকরণ: চা পাতা ১ চা-চামচ অথবা টি ব্যাগ প্রতি কাপে ১টা করে, তুলসী পাতা ১০–১২টা, লেবুর রস স্বাদমতো, মধু স্বাদমতো ও পানি ৫০০ মিলিলিটার।

প্রণালি: ফুটন্ত পানিতে তুলসী পাতা দিয়ে মিনিট পাঁচেক ফুটিয়ে নিন। চা পাতা দিয়ে আরও কয়েক মিনিট ফুটিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। স্বাদমতো লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে পান করতে হবে।

কালোজিরা ও গোলমরিচের চা

উপকরণ: চা পাতা ২ চা-চামচ, কালোজিরা আধা চা-চামচ, আস্ত গোলমরিচ আধা চা-চামচ, আদাকুচি এক চা-চামচের তিন ভাগের এক ভাগ, চিনি বা মধু স্বাদমতো ও পানি ৫০০ মিলিলিটার।

প্রণালি: পানি ফুটিয়ে চা, কালোজিরা, আস্ত গোলমরিচ আর আদাকুচি দিয়ে ৫/৭ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এবার চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে। কাপের ওপরে ছাঁকনি রেখে তাতে চা পাতা দিয়ে তার ওপরে ফুটন্ত কালোজিরা, গোলমরিচ ও আদা জ্বাল দেওয়া পানি ধীরে ধীরে ঢেলে ছেঁকে নিয়ে চিনি বা মধু মিশিয়ে নিয়ে গরম থাকা অবস্থাতেই পান করুন।

মাল্টা ও মরিচের চা

উপকরণ: চা পাতা আধা চা-চামচ, মাল্টা ১টি, কাঁচা মরিচ ১টি, চিনি বা চিনির বিকল্প স্বাদমতো ও পানি ৫০০ মিলিলিটার।

প্রণালি: পাত্রে পানি ফুটিয়ে তাতে চা পাতা ও কাঁচা মরিচকুচি দিয়ে ৫/৬ মিনিট ফুটিয়ে নিন। চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে তাতে স্বাদমতো চিনি (কিংবা চিনির বিকল্প), মাল্টার রস ও পাতলা গোল করে কাটা মাল্টা দিয়ে দিন। চামচ দিয়ে চিনি ও মাল্টার রস মিশিয়ে গরম গরম পরিবেশন করতে হবে। ঝাল খেতে না চাইলে কাঁচা মরিচ বাদ দিয়ে শুধু মাল্টা চা-ও তৈরি করা যেতে পারে।

লবঙ্গ চা

উপকরণ: চা পাতা আধা চা-চামচ, লবঙ্গ ১৫টি, চিনি বা মধু স্বাদমতো ও পানি ৭০০ মিলিলিটার।

প্রণালি: পাত্রে পানি দিয়ে চুলায় জ্বাল দিন। পানি ফুটে উঠলে তাতে লবঙ্গ দিয়ে মাঝারি আঁচে ১০ মিনিট ফোটাতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর চা পাতা দিয়ে আরও ৭–৮ মিনিট জ্বাল দিয়ে নামিয়ে নিন। ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে কাপে বা মগে নিয়ে স্বাদমতো চিনি বা মধু মিশিয়ে গরম গরম পান করতে হবে।

গুড়ের চা

উপকরণ: চা পাতা ৩ চা-চামচ, গুঁড়া দুধ ৩ টেবিল চামচ, খেজুরের গুড় স্বাদমতো, আস্ত এলাচি ৩টি ও পানি ৭৫০ মিলিলিটার।

প্রণালি: পাত্রে পানি হালকা গরম করে তাতে দুধ গুলিয়ে দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। সেই সঙ্গে এলাচিও দিয়ে দিন। দুধ ভালোমতো ফুটে উঠে একটু ঘন হলে চা পাতা দিয়ে আরও বেশ কিছুক্ষণ ফোটাতে হবে। চায়ের সুন্দর রং আর সুঘ্রাণ বের হলে তাতে স্বাদমতো পাতলা করে কোরানো গুড় বা বাসায় ঝোলা গুড় মিশিয়ে দিন। চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

মাথার ত্বকের নানা সমস্যা

মাথার ত্বক বিশেষ ধরনের। কারণ, এতে হেয়ার ফলিকল, স্বেদগ্রন্থিসহ নানা বাড়তি উপাদান থাকে। এই ত্বকে কিছু বিশেষ ধরনের সমস্যাও হতে পারে।

খুশকি: খুশকি বা ড্যানড্রাফ হলো মাথার ত্বকের একটি বিশেষ সমস্যা। এ সমস্যায় ত্বকের মৃত কোষগুলো সাদা সাদা গুঁড়া অথবা অনেক সময় টুকরার মতো উঠে আসে। ছত্রাকের সংক্রমণ থাকতে পারে এর সঙ্গে। চুলকানি হতে পারে অথবা ত্বক লাল হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শে কিটোকোনাজল শ্যাম্পু ও অন্যান্য চিকিৎসা নিলে ভালো থাকা যায়।

সেবোরিক ডার্মাটাইটিস: খুশকি আরও তীব্র আকার ধারণ করলে, মাথার ত্বক লাল ও ক্ষতের মতো হয়ে গেলে, ত্বক টুকরার মতো উঠে এলে, তাকে সেবোরিক ডার্মাটাইটিস বলে। ভ্রু ও মুখের ত্বকেও এ সমস্যা হতে পারে। এ সমস্যায় তৈলাক্ত ত্বক বা ব্রন বেশি দেখা যায়।

রিং ওয়ার্ম: শিশুদের মাথার ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ হয়ে ছোট জায়গায় গোল বা ছোপ আকারে চুল উঠে আসতে পারে। লাল রাশের মতো হয়। এটি সংক্রামক। আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে, টুপি, হ্যাট ইত্যাদি ব্যবহার করলে অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারে। অনেক শিশু পোষা প্রাণী থেকে সংক্রমিত হয়। এ সমস্যা কাটাতে ছত্রাকরোধী মলম ও মুখে খাবার ওষুধ লাগে।

ফলিকুলাইটিস: চুলের গোড়ায় বা হেয়ার ফলিকলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে তাকে ফলিকুলাইটিস বলে। এতে মাথার ত্বকের বিভিন্ন জায়গায় পুঁজভর্তি ছোট দানা হয়। শেভ বা ওয়াক্স করা থেকে এমনটা হতে পারে। এর চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের দরকার হয়।

সোরিয়াসিস: সোরিয়াসিস শরীরের অন্যান্য স্থানের মতো মাথার ত্বককেও আক্রান্ত করতে পারে। এটি একটি জটিল ও মাল্টিসিস্টেম রোগ। এ সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

উকুন: মাথার ত্বকে উকুন বা লাইস একটি পরিচিত সমস্যা। বিশেষ করে শিশুরা এতে ভোগে বেশি। বড় ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা না হলেও এটি বিরক্তিকর ও বিব্রতকর। পারমিথ্রিন ক্রিম বা শ্যাম্পু, আইভারমেকটিন ইত্যাদি ব্যবহার করে উকুন নিধন করা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনা শনাক্তে অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমোদন

স্বল্প সময়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ (কোভিড-১৯) শনাক্ত করার জন্য দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, সরকারি পিসিআর ল্যাব এবং সব স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে অ্যান্টিজেন টেস্ট চালুর অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়ে আজ সোমবার আদেশ জারি করেছে। তবে আদেশে তারিখ দেওয়া হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর। অবশ্য শর্ত হলো, যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রক্রিয়াধীন কোভিড-১৯ ল্যাব সম্প্রসারণ নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

অনুমতিপত্রে বলা হয়, সারা দেশে অ্যান্টিজেন টেস্টের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অতি স্বল্প সময়ে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রস্তাবনা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের প্রধান সুবিধা হলো ৩০/৪০ মিনিটের মধ্যে টেস্টের ফলাফল পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়ন্ত্রিত যাপন

পুষ্টিকর খাবার আর নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন বাড়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সঠিক থাকলে সহজে রোগ ও সংক্রমণ থেকে বাঁচা যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ভূমিকা কতখানি, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হলো এসকেএফ জিঙ্ক নিবেদিত ‘এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা’র দ্বিতীয় পর্বে। এবারের বিষয় ছিল ‘রোগ প্রতিরোধে পুষ্টিবিদের পরামর্শ’। ডা. ফাইজা রাহলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন বিআরবি হাসপাতাল লিমিটেডের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান। অনুষ্ঠানটি ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল এবং এসকেএফের ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

খাবার তো আমরা সব সময়ই খাচ্ছি। সব খাবারই যে শরীরের উপকারে আসছে, সে ধারণা ঠিক নয়। সুস্থ থাকতে যেসব পুষ্টি উপাদান দরকার, তা কেবল ‘সঠিক খাবার’ থেকেই আমরা পেয়ে থাকি। শুধু সঠিক খাবার নির্বাচনের মাধ্যমেই আমরা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারি। আর এটি বৃদ্ধি পেলে যেকোনো রোগ–জীবাণুর বিরুদ্ধের লড়াই করা সম্ভব হবে। তাই শরীরের ‘ফাইটিং মোড’ সচল রাখতে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই কিছু পুষ্টি উপাদান রাখতেই হবে

কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেলস—এই উপাদানগুলো শরীর সচল ও সুস্থ রেখে থাকে। কিন্তু আমাদের বেশির ভাগ মানুষের খাদ্যাভ্যাস এমন যে দেখা যায় এই পুষ্টি উপাদানগুলোর যেকোনো একটি বেশি গ্রহণ করা হয়ে যায়। তখন শরীরে অন্য পুষ্টি উপাদানের চাহিদা অপূর্ণ থেকে যায়। তাই শরীরে সব পুষ্টি উপাদানের চাহিদা মেটাতে সুষম বা ব্যালেন্স ডায়েট মেনে খাবার খেতে হবে।

খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জীবনযাপনের পদ্ধতিও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। কারণ, শুধু খাবার খেলেই চলবে না, খাবারটি যাতে শরীরে কাজে লাগে, সে জন্য আমাদের চলাফেরা ও বিশ্রামের দিকে নজর দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞের মতে, সন্ধ্যার পর কোনো ভারী খাবার খাওয়া উচিত নয়। কারণ, এ সময়ে শরীরে মেটাবলিজম ধীরগতিতে হয়। সূর্যাস্তের পর খেলে খাবার মেটাবোলাইজড না হয়ে ডিপোজিট হয়, অর্থাৎ জমে যায়। এতে ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের রোগ, টাইপ–টু ডায়বেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ জন্য রাতে হালকা খাবার খেতে হবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে বেশির ভাগ মানুষ ঘরে বন্দী। এ জন্য আমাদের রুটিন বদলে গেছে। অনেকে রাত জেগে কাজ করছেন বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন। আবার সকালে দেরি করে ঘুম থেকে উঠছেন। এ সময়ে লেট নাইট স্ন্যাক হিসেবে ‘স্টোরড ফুড’, যেমন: বিস্কুট, চিপস, ড্রিংকস—এ ধরনের খাবার খেতে মানুষ বেশি পছন্দ করে। এসব খাবারে আছে উচ্চ ক্যালরি ও কার্বোহাইড্রেট। এসব খাবার গ্রহণে শরীরে ফ্যাট ডিপোজিট হয় এবং নানা ধরনের রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

একটি মেশিন বিরামহীনভাবে চলতে থাকলে আস্তে আস্তে সেটার কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। মানুষের শরীরও মেশিনের মতো। শরীরে বিশ্রামের প্রয়োজন আছে এবং সেটি নিতে হবে সঠিক সময়ে অর্থাৎ রাতে ঘুমের মাধ্যমে। এ জন্য এ সময়ে রাত না জেগে সবারই উচিত অন্তত ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো।

এ ছাড়া রন্ধনপ্রক্রিয়ার দিকে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞ। কারণ, সঠিকভাবে খাবার রান্না না করলে অনেক পুষ্টি উপাদান পাতে আসার আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যেমন, বেশির ভাগ সময় আমরা শাকসবজি কেটে তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে থাকি। এতে পানির সঙ্গে মিশে অনেক পুষ্টি উপাদান বের হয়ে যায়। আবার রান্না করার সময়ও কিছু উপাদান নষ্ট হয়। তাই সবারই উচিত সঠিক রন্ধনপ্রক্রিয়া জেনে রান্না করা, যাতে খাবারের পুষ্টিমানের কোনো পরিবর্তন না ঘটে।

আমাদের দেশে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের জন্য দেখা যায়, শরীরে কোনো না কোনো পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থেকেই যায়। এ ঘাটতি পূরণের জন্য ভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। এখন এমন অনেক সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়, যাতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই বলে নিজের ইচ্ছেমতো দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যাবে না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো হয় চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা।

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান দর্শকদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা–সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

টিকা পেতে ৫ দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের পথে চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষায় থাকা বিশ্বের নয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটির সঙ্গে সরকারের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, ‘এই টিকাগুলো থেকে সঠিক টিকা, সঠিক সময়ে পেতে চাই আমরা।’

আজ বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা এবং শিক্ষা সম্প্রসারণমূলক কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিব বর্ষ’ উদ্‌যাপন উপলক্ষে ছিল এ আয়োজন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের যেকোনো দেশে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হলে আমরাও বসে থাকব না। এ বিষয়ে আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য সব কার্যক্রম সম্পন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব ধরনের নির্দেশনা রয়েছে।’

করোনার ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী মানুষ করোনাকে অবহেলা করছে। এর ফলে আমেরিকা, ইউরোপসহ অনেক দেশেই করোনায় সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়েছে। আমাদের দেশেও শীতকালে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ শুরুর আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হলে তার জন্য কী কী করণীয়, সে ব্যাপারে আমাদের সব প্রস্তুতি এখনই নেওয়া হচ্ছে।’

করোনা মোকাবিলায় দেশের স্বাস্থ্য খাত ইতিমধ্যে সক্ষমতা দেখিয়েছে দাবি করে জাহিদ মালেক বলেন, ‘আক্রান্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার বিশ্বের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হলেও দেশের স্বাস্থ্য খাত এভাবেই মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মুহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) মহিবর রহমান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবনিযুক্ত পরিচালক কর্নেল নাজমুল হক, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ইউছুফ ফকির প্রমুখ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com