আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

আঙিনা কৃষি

সাউথ লন্ডনে রুপি আমিনের আঙিনা কৃষি

সাউথ লন্ডনে রুপি আমিনের আঙিনা কৃষি

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

আমেরিকার নির্বাচন ২০০০: যে ইস্যুতে মঙ্গলবার ঘায়েল হতে পারেন ট্রাম্প

মিশিগানে এক প্রচারণা সভায় জো বাইডেনের সাথে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাকা ওবামা, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০

করোনাভাইরাস সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা- দুদিক থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের তালিকার এক নম্বরে।

এখন পর্যন্ত সেদেশে ৯০ লাখেরও বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছে। মারা গেছে দুই লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি।

প্যানডেমিকের ভয়াবহ এই চিত্র এখনও বিন্দুমাত্র মলিন হয়নি। বরঞ্চ নির্বাচনের ঠিক আগে সংক্রমণের সংখ্যা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বাড়ছে। প্রতিদিন এখন প্রায় ৮৯ হাজার আমেরিকান নতুন করে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছে।

মার্কিন বিশ্লেষকদের মধ্যে বড় কোনো দ্বিমত নেই যে আমেরিকায় এবারের নির্বাচনে এক নম্বর ইস্যু – করোনাভাইরাস। তাদের অনেকেই বলছেন, এবার রেকর্ড আগাম ভোটের অন্যতম কারণ কোভিড।

বিধিনিষেধের কারণে মঙ্গলবার কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে না পারার উদ্বেগ যেমন এই আগাম ভোটারদের মধ্যে কাজ করেছে তেমনি – অনেক পর্যবেক্ষকের মতে – কোভিড মোকাবেলায় সরকারের পারফরমেন্সে নিয়ে তাদের মনোভাব ব্যালটের মাধ্যমে দেখাতে অনেকেই উন্মুখ।

রেকর্ড ৯ কোটি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন যা ২০১৬ সালে দেওয়া মোট ভোটার উপস্থিতির ৬০ শতাংশ।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে গত সাত মাস ধরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্যানডেমিক সামাল দিতে যা করছেন বা বলছেন, ভোটের সিদ্ধান্তে তার প্রভাব কী হচ্ছে?

দুদিন আগেও ওয়াশিংটনের রাস্তায় বিবিসির একজন সংবাদদাতা ভোটারদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুনেছেন।

কৃষ্ণাঙ্গ এক তরুণীর কথা ছিল – “যেভাবে তিনি (প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প) পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন তা খুবই দুর্বল।“ অন্যদিকে মাঝবয়েসী শ্বেতাঙ্গ এক নারীর কথা ছিল এরকম -“প্রেসিডেন্ট চাইছেন সবাই যেন আতঙ্কিত না হয়ে পড়ুক। আমি সেটা পছন্দ করছি।“ আরেক শ্বেতাঙ্গ তরুণীর বক্তব্য – “অত্যন্ত ভালো কিছু তিনি করেননি, আবার যে খুব খারাপ কিছু করেছেন তাও আমি বলব না।“

ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং বিশ্লেষক জো গার্সটেনসন বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনাভাইরাসের মোকাবেলা যা করছেন অধিকাংশ আমেরিকান তাতে খুশী নন।

বিবিসিকে তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট যা করছেন তা হলো প্রতিদিনের পরিস্থিতি আঁচ করার চেষ্টা করে সেই মত তিনি সাড়া দিচ্ছেন।“

সর্বশেষ জনমত জরীপও বলছে যে প্রতি ১০ জন আমেরিকানের সাত জনই মনে করছেন কোভিড-১৯ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ‘ভুল বার্তা‘ দিচ্ছেন। তবে রিপাবলিকান সমর্থকদের সিংহভাগই এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের পেছনেই রয়েছেন।

পেনসিলভানিয়ায় এক প্রচারণা সভায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০

অধ্যাপক গার্সটেনসন বলেন, “শুধু যে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে মতামতে ভিন্নতা রয়েছে তাই নয়, এলাকা ভিত্তিতেও জনমত ভিন্ন। যে এলাকার মানুষ এই প্যানডেমিকে মানুষ বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তারা ক্ষিপ্ত।“

সমর্থনের নিক্তিতে ওঠানামা

যেমন, বছরের শুরুর দিকে অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে জনমত জরীপে জো বাইডেন খুব সামান্য এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু গ্রীষ্মে ঐ রাজ্যে কোভিড-১৯ ভয়ঙ্কর রূপ নেওয়ার পর বাইডেনের পক্ষে সমর্থন অনেক বেড়েছে। অ্যারিজোনায় এই প্যানডেমিকে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৫৯২০ জন।

উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে ২০১৬ সালের ভোটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামান্য ব্যবধানে জিতেছিলেন। এবারও বছরের অধিকাংশ সময় জুড়ে ট্রাম্পের সমর্থনে তেমন কোনো ভাটা দেখা যায়নি। কিন্তু অক্টোবর মাসে হঠাৎ সংক্রমণ হুহু করে বাড়তে থাকায় জনমত ঘুরে গেছে। সর্বশেষ জনমত জরীপে উইসকনসিনে জো বাইডেন ট্রাম্পের চেয়ে সাত থেকে ১৭ পয়েন্ট এগিয়ে গেছেন।

এছাড়াও, যে রাজ্যটি ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিকানদের অন্যতম একটি ঘাঁটি সেই টেক্সাসেও ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পকে নিয়ে বিরূপ মনোভাবে স্পষ্ট হচ্ছে। কারণ, দুই দফা সংক্রমণে টেক্সাস বিপর্যস্ত। কোভিডে এই রাজ্যে এখন পর্যন্ত ১০,৪৪০ জন মারা গেছে।

টেক্সাসের চিত্রশিল্পী শেন রেইলি তার রাজ্যে কোভিডে এত লোকের মৃত্যুতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। বিবিসিকে তিনি বলেন, জীবনে প্রথমবারের মত এবার তিনি দল বদলেছেন।

“আমি সবসময় রক্ষণশীলদের ভোট দিয়েছি। কিন্তু এই প্যানডেমিক মোকাবেলায় ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানরা যা করছে তাতে জীবনে প্রথমবারের মত আমি ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট দেব।“

কোভিড নিয়ে তামাশা

পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্পের প্রচারণা সভায় অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই ফেস-মাস্কের তোয়াক্কা করেননি, ৩১ অক্টোবর, ২০২০

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব ক্রোধের তেমন তোয়াক্কা করছেন না।

দুদিন আগে শনিবার পেনসিলভানিয়ার নিউটন শহরে শনিবার এক সভায় তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিয়ে মশকরা করে বলেন, “জো বাইডেন কি বলছেন আমি গতকাল তা দেখলাম। তার মুখে সেই একই বুলি – কোভিড, কোভিড আর কোভিড। বলার মত তার কাছে আর কিছু নেই।“।

ট্রাম্পের ঐ প্রচারণা সভায় অনেকের মুখেই মাস্ক ছিলনা।

শনিবার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি একটি হিসাব প্রকাশ করেছে যে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ট্রাম্পের প্রচারণা সভার কারণে অতিরিক্ত ৩০ হাজারেরও বেশি লোক কোভিডে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে অতিরিক্ত ৭০০ জন।

অবশ্য সরেজমিনে তদন্ত নয়, বরঞ্চ প্রচলিত একটি গাণিতিক মডেলের ওপর ভিত্তি করে তারা এই রিপোর্ট দিয়েছে।

অবশ্য অধ্যাপক গার্সটেনসন মনে করেন, বহু মানুষের ভোটের সিদ্ধান্তের পেছনে করোনাভাইরাস প্যানডেমিক একমাত্র বিবেচ্য নয়।

“খুব কম রিপাবলিকানই, বিশেষ করে যারা দলের ঘোরতর সমর্থক, তাদের দলীয় আনুগত্য ভঙ্গ করে জো বাইডেনকে ভোট দেবেন।“

তবে তেসরা নভেম্বরের নির্বাচনে যদি আমেরিকায় রাজনৈতিক পট বদলে যায়, কোভিড নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পারফরমেন্সকেই তার প্রধান কারণ হিসাবে দেখা হবে

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

আঙিনা কৃষি

লন্ডনে সাইফুর রহমান ইতাম ও জান্নাতুল আদনান রিংকি দম্পতির আঙিনা কৃষি

লন্ডনে সাইফুর রহমান ইতাম ও জান্নাতুল আদনান রিংকি দম্পতির আঙিনা কৃষ

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

করোনা ভাইরাস: আকাশ থেকে দেখা ব্রিটেনের লকডাউন

ব্রিটেনে লকডাউন চলার সময় ফটোগ্রাফার ক্রিস গরম্যান ড্রোন ব্যবহার করে বেশ কিছু আশ্চর্য সুন্দর ছবি তুলেছেন। তার কিছু ছবি ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যমেও ছাপা হয়েছে।

থর্প পার্ক, ব্রিটেনের সারে এলাকার একটি বিনোদন কেন্দ্র। গত ৩রা এপ্রিল থেকে এটি বন্ধ রয়েছে।
থর্প পার্ক, ব্রিটেনের সারে এলাকার একটি বিনোদন কেন্দ্র। গত ৩রা এপ্রিল থেকে এটি বন্ধ রয়েছে।

ক্রিস গরম্যানের ফটোগ্রাফির অভিজ্ঞতা ২৫ বছরের। করোনাভাইরাস মহামারিতে ব্রিটেনে লকডাউন শুরু হওয়ার পর নানা ক্ষেত্রে এর প্রভাব তিনি ছবিতে ধরে রাখেন।

তার বেশ কিছু ছবি ব্রিটেনের প্রধান সংবাদপত্র এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

সারে অঞ্চলের শহর ফার্নাম-এর এক গার্ডেন সেন্টারের কর্মী জো ডিকিনসন গাছে পানি দিচ্ছেন।
সারে অঞ্চলের শহর ফার্নাম-এর এক গার্ডেন সেন্টারের কর্মী জো ডিকিনসন গাছে পানি দিচ্ছেন।

তিনি বলছেন, “পূর্ণাঙ্গ লকডাউন শুরু হওয়ার আগে প্রতিদিন নতুন নতুন ছবি পাওয়া যেত — জনশূণ্য শপিং মল থেকে শুরু করে আতঙ্কিত মানুষের কেনাকাটার দীর্ঘ লাইন এবং বিমানবন্দরের রানওয়েতে পার্ক করে রাখা অবিক্রিত গাড়ি।”

“আমার প্রথম ছবিটি ছিল ব্লুওয়াটার শপিং মলের প্রায় খালি কার পার্ক। ছবিটি তোলা হয় ১৬ই মার্চ (নিচে)। সেদিনই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক ঘোষণা করেন যে সব ধরনের সামাজিক মেলামেশা বন্ধ রাখতে হবে।”

কেন্ট কাউন্টির সবচেয়ে বড় ব্লুওয়াটার শপিং সেন্টারের কার পার্ক।
কেন্ট কাউন্টির সবচেয়ে বড় ব্লুওয়াটার শপিং সেন্টারের কার পার্ক।

“আমি বুঝতে পেরেছিলাম ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় শপিং মলগুলোর একটির ছবি দিয়ে দেশের অর্থনীতির সার্বিক অবস্থাটা তুলে ধরা সম্ভব হবে।”

তার এই ছবি দ্যা ডেইলি ট্রেলিগ্রাফ এবং ডেইলি মেইল-এ ছাপা হয়।

একই দিনে তিনি কেন্ট-এর লিডস কাসলের ওপর সূর্যাস্তের এই ছবিটি তোলেন (নিচে)।

লিডস কাসলের ওপর সূর্যাস্তের দৃশ্য।
লিডস কাসলের ওপর সূর্যাস্তের দৃশ্য।

“এর পরের ছবির ধারণা আমার মাথায় আসে আতঙ্কিত লোকজনের কেনাকাটা দেখে।

“সুপার মার্কেটে ভোর থেকেই ক্রেতাদের লম্বা লাইনের ওপর সোশাল মিডিয়ায় নানা ধরনের ছবি শেয়ার হয়।

“ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড কাগজ আমাকে খবর দেয় যে নিউ মল্ডেন এলাকায় দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।

“আমি সেখানে হাজির হই ভোর ৫.৪৫-এ (দোকান খোলা হয় ভোর ছ’টায়)। কিন্তু অবাক হয়ে দেখি ক্রেতাদের লাইন তখনই কার পার্কের অর্ধেক ছড়িয়ে গেছে। এবং লোকজন লাইনে দাঁড়ানোর জন্য দৌড়াদৌড়ি করছে।”

দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের নিউ মল্ডেন এলাকায় ক্রেতাদের লম্বা লাইন। ছবিটি তোলা হয় ২০শে মার্চ।
দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের নিউ মল্ডেন এলাকায় ক্রেতাদের লম্বা লাইন। ছবিটি তোলা হয় ২০শে মার্চ।

“এই ছবিটি ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড, ডেইলি মেইল, দা সান, ডেইলি ট্রেলিগ্রাফ এবং ডেইলি মিরর-এ ছাপা হয়।

ব্রিটেনের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থানগুলোর একটি স্টোনহেঞ্জ-এর এই ছবিটি তোলা হয় ২৬শে মার্চ।

লকডাউনের সময় জনশূণ্য স্টোনহেঞ্জে সূর্যাস্তের দৃশ্য।
লকডাউনের সময় জনশূণ্য স্টোনহেঞ্জে সূর্যাস্তের দৃশ্য।

“অর্থনৈতিক সঙ্কট বাড়তে থাকায় আমি ভাবলাম এমন ছবি তুলতে হবে যার মধ্য দিয়ে অর্থনীতির ওপর মহামারির বিধ্বংসী প্রভাবকে তুলে ধরা যায়।

“আমি খবর পেয়েছিলাম, মিডল্যান্ডস অঞ্চলের অনেক বিমানবন্দরের অব্যবহৃত রানওয়েকে অবিক্রিত নতুন এবং পুরোনো গাড়ি রাখার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

“আমি অক্সফোর্ডশায়ার, নর্থহ্যাম্পটনশায়ার এবং বেডফোর্ডশায়ারের তিনটি বিমানবন্দরকে ছবি তোলার জন্য বেছে নিলাম।

অক্সফোর্ডশায়ারের বিস্টার শহরের কাছে আপার হেফোর্ড বিমানবন্দরের রানওয়েতে হাজার হাজার নতুন গাড়ি রাখা হয়েছে।
অক্সফোর্ডশায়ারের বিস্টার শহরের কাছে আপার হেফোর্ড বিমানবন্দরের রানওয়েতে হাজার হাজার নতুন গাড়ি রাখা হয়েছে।
বেডফোর্ডশায়ারের থারলে এয়ারফিল্ড।
বেডফোর্ডশায়ারের থারলে এয়ারফিল্ড।

“লকডাউন চলার সময় নানা বিষয়ের ওপর ছবি তোলার সুযোগ আসে।

“এক সময় লক্ষ্য করলাম লকডাউনের সুযোগে মানুষ তাদের বাড়িঘর থেকে জঞ্জাল বাইরে ফেলছে।

ছবিটি কীভাবে তোলা যায় তা নিয়ে ভাবছিলাম। হঠাৎ নজরে এলো উত্তর লন্ডনের ওয়েম্বলি এলাকার এক রিসাইক্লিং সেন্টার এতটাই পরিপূর্ণ হয়েছে যে জঞ্জাল বাইরে উপচে পড়ছে।

উত্তর লন্ডনের ওয়েম্বলি এলাকার রিসাইক্লিং সেন্টার।
উত্তর লন্ডনের ওয়েম্বলি এলাকার রিসাইক্লিং সেন্টার।

“করোনাভাইরাস পরীক্ষা কেন্দ্র সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ প্রবল।

“কিন্তু সমস্যা হলো সবগুলো ছবিতেই দেখা যাচ্ছিল সেগুলো খালি পড়ে আছে।

“পরে এনিয়ে সংবাদপত্রে নিউজ ছাপা হয়।

পোর্টসমাউথ এলাকার একটি করোনাভাইরাস পরীক্ষা কেন্দ্র। ছবিটি তোলা হয় ১৮ই এপ্রিল।
পোর্টসমাউথ এলাকার একটি করোনাভাইরাস পরীক্ষা কেন্দ্র। ছবিটি তোলা হয় ১৮ই এপ্রিল।

গুড ফ্রাইডের দিন মাথায় এলো আমি গত বছর বোর্নমাউথ সমুদ্র সৈকতের ছবি তুলেছিলাম।

“গরম পড়েছিল এমন একটা দিন ঠিক করে আমি সৈকতের ছবি তুললাম। সেটা ছিল প্রায় জনশূণ্য। এর মাধ্যমে পরিস্থিতির তফাৎটা তুলে ধরতে চাইছিলাম।

২০১৯ সালের ১৯শে এপ্রিল বোর্নমাউথ সৈকতের দৃশ্য।
২০১৯ সালের ১৯শে এপ্রিল বোর্নমাউথ সৈকতের দৃশ্য।
২০২০ সালের ১৯শে এপ্রিল জনশূণ্য বোর্নমাউথ সৈকতের দৃশ্য। ড্রোন থেকে একই অ্যাঙ্গেলে ছবিটি তোলা হয়েছে।
২০২০ সালের ১৯শে এপ্রিল জনশূণ্য বোর্নমাউথ সৈকতের দৃশ্য। ড্রোন থেকে একই অ্যাঙ্গেলে ছবিটি তোলা হয়েছে।
বার্মিংহাম শহরের কাছে যানবাহনশূণ্য মহাসড়কের এক জাংশন। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২,১০,০০০ গাড়ি চলাচল করে। ছবিটি তোলা হয় ২৪শে এপ্রিল।
বার্মিংহাম শহরের কাছে যানবাহনশূণ্য মহাসড়কের এক জাংশন। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২,১০,০০০ গাড়ি চলাচল করে। ছবিটি তোলা হয় ২৪শে এপ্রিল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

আমেরিকায় সম্মান পেল বাংলার পাতিহাঁস!

রেজিনা আখতার

রাতে খাবার টেবিলে গাইড ক্যারেন জানালো, আগামীকাল আমাদের জন্য রয়েছে এক বিশেষ সারপ্রাইজ। মুহূর্তেই সবাই আগ্রহী হয়ে উঠলাম, কী ধরনের সারপ্রাইজ! মেসিডোনিয়ার এলমেদিনাতো একের পর এক ক্লু দিতেই থাকলো। কিন্তু কোনটাই মিলছে না! নাছোড়বান্দা ক্যারেনও খোলাসা করে কিছু বলছে না। সবার চাপে পড়ে শুধু এটুকুই জানালো, আগামীকাল আমরা ‘রাজকীয় হাঁস’ বা ‘রয়্যাল ডাক’ দেখার সৌভাগ্য অর্জন করতে যাচ্ছি। রাজকীয় হাঁস দর্শনের জন্য হোয়াইট হাউস কনভেনশন্স হল থেকে নির্ধারিত সময়ের ত্রিশ মিনিট আগেই আমরা লিটলরক শহরের বিখ্যাত হোটেল পিবডিতে পৌঁছে যাই। ক্যারেন তো মহা পুলকিত! বারবারই বোঝাতে চাইছে, কী রাজকপাল নিয়ে যে আমরা এই পৃথিবীতে এসেছি। রয়্যাল ডাকদের ক্যাটওয়াক দেখার মত বিরল সৌভাগ্য অর্জন করতে যাচ্ছি!

পাঁচতারকা হোটেল পিবডির বিশাল লবিতে প্রচুর লোকের সমাগম। সবার মধ্যেই অস্থিরতা, কখন আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! কখন দর্শন দেবেন রাজকীয় সেই হাঁসগণ! ভিডিও ক্যামেরা, স্টিল ক্যামেরা নিয়ে সবাই প্রস্তুত, যেন উনারা এলেই ক্লিক ক্লিক ক্লিক ক্লিক। রাজকীয় হাঁসগণের নেতৃত্বে যিনি থাকবেন, তিনিও রাজকীয় পোশাকে প্রস্তুত। তার পরনের টকটকে লাল রঙের লম্বা ওভারকোটের সোনালি বোতামগুলো চকচক করছে। কুচকুচে কালো গামবুটও এমনভাবে পালিশ করা, যেন চেহারা দেখা যাবে! সোনালি পাত দিয়ে মোড়ানো ব্যাটনটি বগলদাবা করে তিনিও অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান বিশেষ অতিথিবৃন্দের জন্য।

লবির একপাশে ছোটখাট একটি চৌবাচ্চা, যেখানে রাজকীয় হাঁসগণ জলকেলি করবে বলে নির্ধারিত। একটি লিফটও প্রস্তুত, যাতে করে তারা সপ্তম তলা থেকে নিচে নেমে আসবেন। সেই লিফট আবার সাধারণ জনগণের জন্য নিষিদ্ধ। যে পথে তারা ক্যাটওয়াক করে যাবেন, তা-ও লালগালিচা দিয়ে মোড়ানো, রাজকীয় হাঁস বলে কথা! লিফটের পাশেই দণ্ডায়মান বিশেষ ব্যাচ পরিহিত মধ্যবয়সী ছয় জন নারী-পুরুষ। যারা বেশ গর্বিত ভঙ্গিতে গদগদ ভাব নিয়ে অপেক্ষা করছেন বিশেষ অতিথিদের বরণ করে নেওয়ার জন্য। এই দায়িত্ব পেয়ে তাদের এমন একটা মনোভাব যেন- সার্থক জনম আমার, এ কাজের দায়িত্ব পেয়ে। হাঁস লালন-পালনের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আজকে তাদেরকেও পুরস্কৃত এবং সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

হোটেলের লোকজন, দর্শনার্থীরা সবাই খুব ব্যস্ত। কিছুক্ষণের মধ্যেই উনারা নেমে আসবেন। আমার সহকর্মীরাও দেখলাম মহা উৎসাহী। ডিজিটাল ক্যামেরা হাতে সবাই প্রস্তুত, এমন একটা ভাব যেন ক্ষণিক মুহূর্তও মিস করা যাবে না। পানির দেশের মানুষ আমি। নদী-নালা, খাল-বিল, হাটে-মাঠে-ঘাটে হাঁস দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু এতসব দক্ষযজ্ঞ দেখে আমার ভেতরেও এক ধরনের কৌতূহল কাজ করতে লাগল। রাজকীয় হাঁসদের নিয়ে নানা রকম কল্পনার ডানা মেলতে মেলতে আমিও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগলাম! না জানি কী দেখবো!

এ পর্যায়ে ক্যারেনকে দেখলাম হাঁপাতে হাঁপাতে এগিয়ে আসছে। আহা! বেচারি ভারি শরীর নিয়ে হাঁটতেই যার কষ্ট হয়, সে কি-না আসছে প্রায় দৌড়াতে দৌড়াতে! এসে আবারো জানালো, ভাগ্যদেবী আমাদের প্রতি আসলেই সহায়। কারণ মার্কিন সরকারের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আমরা রাজকীয় হাঁসদের প্রাতঃরাশ দেখার বিরল সুযোগ পেতে যাচ্ছি। যা কি-না আজ পর্যন্ত কোন দর্শনার্থী পাননি।কপাল বটে আমাদের!

সবাই মিলে ক্যারেনকে আবারো ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলাম। মার্কিন মুলুকে এসে এই ধন্যবাদ জ্ঞাপন করার রীতিটা বেশ ভালোই রপ্ত করেছি। আমার দলের সবাই তো উত্তেজনার চরমে আছেন। তাদের এমন একটা ভাব, যেন গিয়ে দেখবে রাজকীয় হাসঁগণ টেবিল-চেয়ারে বসে কাঁটা চামচ-ছুরি দিয়ে প্রাতঃরাশ পর্ব সারতে ব্যস্ত। আমি আছি মহা ফাঁপড়ে। চোখের সামনে শুধু ভেসে উঠছে চিরচেনা রাজহাঁস, পাতিহাঁস, বালিহাঁস ইত্যাদি।

যা হোক, ক্যারেনের সাথে আমরা নির্ধারিত স্থানে গিয়ে পৌঁছলাম। বেশ বড়সড় একটি রুমের অর্ধেক দেয়াল এবং বাকি অর্ধেক গ্রিল দিয়ে ঘেরা। দু’জন হোটেল কর্মী মহা যতনে হাঁসগণকে খাওয়াতে ব্যস্ত।আমার ভিনদেশি সতীর্থদের ক্রমাগত শাটারের আওয়াজ শুনে বুঝতে পারলাম, ওরা ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু রাজকীয় হাসঁ দর্শন করে তো আমার আক্কেলগুড়ুম অবস্থা। হায় হায়, এ কী দেখছি! এযে অতিচেনা পাতিহাঁস। দু’জন হোটেল কর্মী পরম যতনে পাঁচটি পাতিহাঁসকে খাওয়াতে ব্যস্ত। হাঁসগণ তাদের সহজাত ভঙ্গিতেই খেয়ে যাচ্ছে, রাজকীয় কোন ব্যাপার-স্যাপার আমি দেখতে পেলাম না।তারপরও আশায় আছি শেষমুহূর্তে হয়তো কোন ভেলকি আছে।

ক্যারেনের তাড়ায় আবার লবিতে এসে অপেক্ষা করতে লাগলাম। দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত লিফটে চড়ে উনারা নেমে এলেন নিচে। সেই ছয় জন বিশেষ ব্যক্তিত্ব সসম্মানে তাদের বরণ করে নিলেন। হাঁসগণ সেই বিশেষ সম্মান কতটুকু বুঝতে পারল কে জানে? তারা তাদের সহজাত ভঙ্গিতে ‘প্যাক প্যাক’ করতে করতে হেলেদুলে এগিয়ে চললো লালগালিচা মাড়িয়ে, নেতৃত্বে আছেন সেই লাল ওভারকোটওয়ালা। একপর্যায়ে হাঁসগণ সেই সুইমিং পুলের পানিতে ঝপাং ঝপাং করে লাফিয়ে যথারীতি সাঁতার কাটতে লাগল।

দর্শনার্থীদের মুহুর্মুহু হাততালিতে বুঝতে পারলাম, রাজকীয় হাঁসগণের ক্যাটওয়াক এবং সাঁতারে তারা মুগ্ধ। আর আমার কাছে শুধুই মনে হচ্ছিল, বাংলার চিরচেনা পাতিহাঁস আমেরিকায় পাচ্ছে ‘রয়্যাল ডাক’র সম্মান! শুধু এই ‘রয়্যাল ডাক ক্যাটওয়াক শো’র জন্য এই পিবডি হোটেল প্রচুর পর্যটক আকর্ষণ করার পাশাপাশি এর রয়েছে আলাদা মর্যাদা ও চাহিদা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com