আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

রাজশাহীতে বেঁধে দেয়া হলো আম নামানোর সময়

বাজারে নিরাপদ ও পরিপক্ব আম নিশ্চিত করতে গাছ থেকে আম নামানোর সময় বেঁধে দিল রাজশাহী জেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (৬ মে) দুপুরে কৃষিবিদ, ফল গবেষক, চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সভা করে জেলা প্রশাসন এ তারিখ নির্ধারণ করে। পরবর্তীতে দুপুর সাড়ে ৩টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আম নামানোর বিষয়ে মতবিনিময় করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল।

এ সময় জানানো হয়, জাত অনুযায়ী গত বছরে যেভাবে গাছ থেকে আম নামানো শুরু হয়েছিল, এবারও সেই সময়সূচিই নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সব ধরনের গুটি জাতের আম নামানো যাবে আগামী ১৫ মে থেকে। আর উন্নতজাতের আমগুলোর মধ্যে গোপালভোগ ২০ মে, লক্ষণভোগ বা লখনা ও রাণীপছন্দ ২৫ মে এবং হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাত ২৮ মে থেকে নামিয়ে হাটে তুলতে পারবেন বাগানমালিক ও চাষিরা।

এছাড়া ৬ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে ফজলি ও আম্রপালি এবং ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা ও বারি আম-৪ নামানো যাবে। নির্ধারিত সময়ের আগে আম বাজারে পেলে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। তবে কারও বাগানে নির্ধারিত সময়ের আগেই আম পাকলে তা প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে আমের বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বিষয়টিও সভায় আলোচিত হয়েছে। হাটগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ থাকবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনাররাও বিষয়টি দেখভাল করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহীতে সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে। এছাড়া বাঘার আড়ানী, মনিগ্রাম, বাউসা ও পাকুড়িয়া এবং মোহনপুরের কামারপাড়ায় পাইকারি আমের হাট বসে। হাটগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে এর প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।’

আম নামানো ও আইন মানার বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল জলিল বলেন, ‘অধিক ফলন ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী গত বছর থেকে আম নামানোর বিষয়ে একটি সময়সীমা বেধে দেয়ার নির্দেশ দেন আমাদের। যে আম যে সময় পরিপক্ব হয় তখন সেটাই নামানো হবে। এতে কৃষি ও কৃষক উভয়ই লাভবান হবেন। তবে কেউ যদি অধিক লাভের আশায় পূর্বেই বাগান থেকে আম নামান সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

রাজশাহীর বাইরে থেকে আসা আম ব্যাপারিদের যাতায়াত ও হোটেলে রাত্রি যাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ বিষয়ে খুব শিগগিরই হোটেল ব্যবসায়ী ও আম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি মিটিং করা হবে। তবে রাজশাহীতে আম নিতে আসা ব্যাপারীদের নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, রাজশাহীতে এ বছর ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আমবাগান আছে। গত বছর ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে আমবাগান ছিল। এবার বাগান বেড়েছে ৩৭৩ হেক্টর জমিতে। এ বছর হেক্টর প্রতি ১১ দশমিক ৯ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে জেলায় এ বছর মোট দুই লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। তবে খরার কারণে এবার আমের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

ফসল

বোরো উৎপাদনে রেকর্ড

চলতি বছর বোরো উৎপাদনে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। এবার বোরো উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি ৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫০৮ টন, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এছাড়া বিগত বছরগুলোর তুলনায় ফলনের পরিমাণও বেড়েছে। গত বছর দেশে বোরো ধানের জাতীয় গড় ফলন ছিল প্রতি হেক্টরে ৩ দশমিক ৯৭ টন। এ বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২৯ টনে। অর্থাৎ হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বেড়েছে দশমিক ৩২ টন, যা গত বছরের তুলনায় ৮ দশমিক শূন্য শতাংশ বেশি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এ বছর বোরোর উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ১১ লাখ টনেরও বেশি হয়েছে। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ টন। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে। এবার বোরোতে ২ কোটি ৫ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সব মিলিয়ে এ উৎপাদন দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

এসব বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জাগো নিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চলতি বছরের শুরুতেই আমরা সর্বাত্মক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলাম। সব স্তরে যেকোনো মূল্যে বোরোতে উৎপাদন বাড়াতে কাজ হয়েছে। বীজ ও সারসহ প্রণোদনা পেয়েছেন কৃষকরা। আমাদের উদ্যোগের ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়।

তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমিতে হাইব্রিডের আবাদ বেড়েছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার বোরোতে বেশি উৎপাদন হয়েছে।

jagonews24

এবার অতিরিক্ত গরম হাওয়া হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পুড়িয়ে দিয়েছে

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন বছরে মোট উৎপাদিত চালের ৫৫ ভাগের বেশি আসে বোরো থেকে। যদিও সফলভাবে প্রতি বছর এ ধান ঘরে উঠানো খুবই চ্যালেঞ্জিং। কারণ আকস্মিক বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে হাওরের ধান ঠিকমতো ঘরে তোলা নিয়ে প্রতি বছরই আতঙ্কে থাকতে হয় কৃষকদের। এদিকে এ বছরও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিটশকে আক্রান্ত হয় বোরো ধান। পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতির জন্য ধান কাটার সময় চলাচলে বিধিনিষেধ কিছুটা প্রভাবিত করে। তার পরও এ বছর সফল উৎপাদন দেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বড় অর্জন।

কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম খান জাগো নিউজকে বলেন, এত কিছুর পরও বোরোর রেকর্ড উৎপাদন নিশ্চয় প্রশংসনীয়। বড় কোনো দুর্যোগ না থাকায় অত্যন্ত সফলভাবে এ বছর হাওর অঞ্চলসহ সারাদেশের বোরো ধান ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে।

তিনি আরও বলেন, জমি কমলেও নতুন নতুন জাতের বোরোতে আশা জাগিয়ে রেখেছে সব সময়। কৃষকও এ বছর ভালো দাম পাচ্ছে। তাতে তাদের আগ্রহ আরও বাড়বে।

এদিকে এ বছর ধান কাটার শ্রমিক সঙ্কট অনেকটা কমিয়েছে প্রযুক্তির ব্যবহার। তিন হাজার ২০ কোটি টাকার কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় অঞ্চলভেদে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে ধান কাটাসহ অন্যান্য কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকদের দেয়া হয়েছে।

তথ্য বলছে, গত বছর ধান কাটতে কম্বাইন হারভেস্টার মাঠে নামানো হয়েছে ১ হাজার ২৪০টি। এ বছর ১ হাজার ৬৬৬টিসহ মোট ২ হাজার ৯০৬টি কম্বাইন হারভেস্টার মাঠে ধান কেটেছে। রিপারও চলছে মোট ৮৩৯টি, যা গত বছরের প্রায় দ্বিগুণ।

jagonews24

তিন লাখ হেক্টরেরও বেশি জমিতে হাইব্রিডের আবাদ বেড়েছে

আবাদের পরিসংখ্যান

সারাদেশে এ বছর ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। গত বছর বোরো ধান আবাদ হয় ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৪৪৭ হেক্টরে। অর্থাৎ এ বছর ১ লাখ ২৯ হাজার হেক্টর বেশি আবাদ হয়েছে।

এদিকে এ বছর বেড়েছে উচ্চ ফলনশীল জাতের চাষাবাদ। যেখানে গত বছর হাইব্রিড ধান চাষের জমির পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টর, তা এ বছর বেড়ে হয়েছে ১২ লাখ ১৩ হাজার হেক্টর। অর্থাৎ ৩ লাখ ২৭ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে হাইব্রিড ধান আবাদ হয়েছে। হাইব্রিডের গড় ফলন এবার বেশি।

এছাড়া হাওরভুক্ত সাতটি জেলায় এ বছর বোরো আবাদ হয়েছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৪ হেক্টর জমিতে, যা দেশের মোট আবাদের প্রায় ২০ শতাংশ। শুধু হাওরে বোরো আবাদ হয়েছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে, যা মোট আবাদের প্রায় ৯.২৫ শতাংশ।

নতুন জাতের ফলন বিঘাপ্রতি ৩১ মণ

দীর্ঘকাল ধরে দেশে বোরো উৎপাদনের সিংহভাগই আসছে ‘ব্রি ধান ২৮’ এবং ‘ব্রি ধান ২৯’ থেকে। দুই যুগের বেশি পুরোনো এসব জাতের উৎপাদনশীলতা দিন দিন কমেই চলেছে। অন্যদিকে বাড়ছে নতুন নতুন রোগ-বালাইয়ের প্রকোপও। ফলে পুরোনো এসব জাতের বিকল্প হিসেবে নতুন নতুন উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষের চেষ্টা চলছে প্রতিনিয়ত।

jagonews24

হাওরে বোরো আবাদ হয়েছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে

এর মধ্যে এ বছর সবচেয়ে আশা জাগানো নতুন জাত হিসেবে উঠে এসেছে ‘ব্রি ধান ৮১’। এছাড়া ‘ব্রি ধান ৮৮’, ‘ব্রি ধান ৮৯’, ‘ব্রি ধান ৯২’ ও ‘ব্রি ধান ৯৬’ পুরোনো জাতগুলোর তুলনায় পরীক্ষামূলক প্রদর্শনীতে দারুণ ফলন দিয়েছে।

জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত বোরো মৌসুমে দেশে রেকর্ড পরিমাণ ফলন দিয়েছে ‘ব্রি ৮১’। চাষিরা বিঘাপ্রতি ৩১ মণ ফলন পেয়েছেন উচ্চ ফলনশীল এ জাত থেকে। যেখানে প্রতি হেক্টরে আগের জনপ্রিয় জাত ‘ব্রি ২৮’ উৎপাদন হতো ৬ টন, সেখানে একই জমিতে ‘ব্রি ৮১’ চাষ করে ফলন পাওয়া গেছে সাড়ে ৭ টন পর্যন্ত। ফলন বেশি হওয়ায় এ বছর হাইব্রিড ধানের উৎপাদন যেমন বেশি হয়েছে, উচ্চ ফলনশীল ধানের প্রচলন ও সম্প্রসারণও বেড়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, অধিক জনঘনত্বের দেশে নিত্য ক্রমহ্রাসমান জমি থেকে কৃষি উৎপাদনের ক্রমবৃদ্ধি বিশ্বের কাছে বিস্ময়ের ব্যাপার। প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথেই কৃষির এই উন্নয়ন। কৃষি উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর দর্শন ও ধারা অব্যাহত রেখেছেন তার সুযোগ্য কন্যা। তার সফল সরকারের শাসনামলে সার্বিক কৃষিতে এ বিপ্লব ঘটেছে, আগামীতে এর আরও উন্নয়ন হবে, আমরা এটা আশা করতেই পারি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের কৃষি অনুকূলনীতি ও প্রণোদনায় কৃষক এবং কৃষিবিদদের মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক এখন কৃষি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

প্রবাস জীবন ছেড়ে ‘রক মেলন’ চাষে সফল তিনি

ফেনীর পরশুরামে সৌদি আরবসহ মরু অঞ্চলের দেশগুলোর জনপ্রিয় ফল রক মেলন চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন প্রবাসী শেখ আহম্মদ। বিদেশি এই ফল বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন তিনি। এ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন প্রায় ২ লাখ টাকার রক মেলন। পাশাপাশি চাষ করেছেন বারোমাসি তরমুজ। সাধারণ তরমুজের চেয়ে বেশ মিষ্টি বারোমাসি তরমুজ।

উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের উত্তর কাউতলী গ্রামের প্রবাসী শেখ আহম্মদ। ২০০৭ সালে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে শুরু করেন কৃষিকাজ। চলতি বছর বাড়ির পাশে দুই বিঘা জমি লিজ নেন। চট্টগ্রামের লালদিঘীর পাড়ে বীজ দোকান থেকে বীজ এনে নিজস্ব প্রযুক্তিতে চাষাবাদ শুরু করেন তিন রকমের রক মেলন।

শেখ আহম্মদ বলেন, তার ২ বিঘা জমিতে প্রায় ৩ হাজার রক মেলন হয়েছে। প্রতিটি প্রায় দুই থেকে তিন কেজি ওজনের হয়েছে। মার্চ মাসের শেষের দিকে তিনি বীজতলায় এর চারা রোপণ করেছিলেন। ৭০ দিনের মাথায় ফল উঠতে শুরু করেছে। জমি লিজ নেয়া ও চাষসহ খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা।

jagonews24

তিনি বলেন, কোন সময়ে বীজবপন,সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে সঠিক জানা নেই। যার কারণে কয়েক লাখ টাকার ফল নষ্ট হয়ে গেছে।

আগামী বছর কৃষি বিভাগের সহায়তা পেলে ২ বিঘা থেকে অন্তত ৫ লাখ টাকার রক মেলন বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ আহম্মদ।

লতানো গাছের মতো বাঁশের কাঠিতে বেয়ে উঠে এ গাছ। তবে শেখ আহম্মদ তরমুজের মতো মাটিতেই ফলিয়েছেন এ ফল। রক মেলনের একটি হচ্ছে হলুদ মসৃণ খোসা,আর অন্যটির খোসার অংশ খসখসে। স্বাদও কিছুটা ভিন্ন। রক মেলনের পাশাপাশি ফলিয়েছেন ছোট্ট আকারের বারোমাসি মিষ্টি তরমুজ। এটির চাষও এ অঞ্চলে প্রথম।

পরশুরাম বাজারের ফল ব্যবসায়ী মো. মাসুদের কাছে কেজি ১৫০ টাকা করে পাইকারি দরে বিক্রি করেছেন রক মেলন। তরমুজ বিক্রি করছেন কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকার রক মেলন ও বারোমাসি তরমুজ বিক্রি করেছেন।

ফল ব্যবসায়ী মো. মাসুদ জানান, অচেনা ফল। ফলটির প্রতি মানুষের আকর্ষণ রয়েছে। দোকানে তোলার সাথেই বিক্রি হয়ে যায়।

jagonews24

ক্রেতা মো. ইব্রাহীম জানান,পাকা রক মেলনের স্বাদ অত্যন্ত মিষ্টি। ভেতরের রঙ পাকা পেঁপের মতো। অন্যটি হালকা সবুজ ও সাদা। ভিন্নরকম এ ফল খেতেও ভিন্ন স্বাদ।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, দোআঁশ মাটি এ ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। যেখানে ওয়াটার মেলন চাষ করা হয়েছে সেটি উঁচু অঞ্চল। দোআঁশ মাটি সমৃদ্ধ। ক্যালসিয়াম, আয়রণসমৃদ্ধ এ ফল মানবদেহ শীতল রাখতে সাহায্য করে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো কামরুজ্জামান জানান, সাধারণ তরমুজের চেয়ে এর স্বাদ অনেক ভালো, মিষ্টিও বেশি।এটি একটি লাভজনক ফসল। এই ফলের চাষাবাদ বৃদ্ধিতে কৃষককে সহযোগিতা করবে কৃষিবিভাগ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ফেলনের উৎপাদন প্রযুক্তি

পুষ্টি মূল্য
ফেলনে প্রচুর পরিমানে খাদ্য শক্তি ও প্রোটিন আছে।

উপযুক্ত জমি ও মাটি:\
বেলে দোআঁশ থেকে এটেল দোআঁশ মাটিতে ফেলন চাষ করা যায়। জমি উচুঁ ও মাঝারি উচুঁ ও মাঝারি উঁচু নিকাশ যুক্ত হওয়া দরকার।

জাত:\
বারি ফেলন-১ (বোস্তামী):\
বীজত্বকে ছাই রঙের সাথে কালচে দাগ থাকে। হাজার বীজের ওজন ৯০ থেকে ৯৫ গ্রাম। ফলন হেক্টর প্রতি ১.১ থেকে ১.৪ টন। ডাল রান্না হওয়ার সময়কাল ১৭ থেকে ২২ মিনিট। বীজে আমিষের পরিমাণ ২৫ থেকে ৩০%।
বারি ফেলন-২
এ জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো গাছের ডগা ও পাতা সবুজ রঙের হয়। গাছ সাধারণত খাড়া থাকে। জাতটির জীবনকাল ১২০-১৩০ দিন। গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ১.৫ কেজি।

বীজ বপন
বীজ প্রধানত ছিটিয়ে বপন করা হয়। লাইনে বপন করলে লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার এবং গাছ থেকে গাছ ১০ সেন্টিমিটার রাখতে হবে।
অগ্রাহায়ণ (মধ্য নভেম্বর থেকে মধ্য ডিসেম্বর) মাস বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। প্রতি হেক্টরে ৪০ থেকে ৫০ কেজি বীজের দরকার হয়।

সারের পরিমাণ
সারের নাম                    পরিমান (হেক্টর/কেজি)
ইউরিয়া সার                  ২০-৩০
টিএসপি সার                 ৪০-৪৫
এমওপি সার                 ২০-৩০
অণুজীব সার                  ৪-৫
শেষ চাষের সময় সমুদয় সার ব্যবহার করতে হবে।

সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা
বপনের ২৫-৩০ দিনের মধ্যে একবার আগাছা দমন করা প্রয়োজন। সাধারণত ফেলনের জমিতে সেচের প্রয়োজন হয় না। তবে গাছে শিম আসার সময় একটি সেচ দিতে পারলে ভাল ফলন হয়।

গুদামজাত ডালের পোকা ব্যবস্থাপনা
ভূমিকা: পূর্ণবয়স্ক পোকা ও কীড়া উভয়ই গুদামজাত ডালের ক্ষতি করে থাকে।
ক্ষতির নমুনা: এ পোকা ডালের খোসা ছিদ্র করে ভিতরে ঢুকে শাঁস খেতে থাকে। ফলে দানা হাল্কা হয়ে যায়। এর ফলে বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং খাওয়ার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে।
ব্যবস্থাপনা: গুদামজাত করার আগে দানা ভালভাবে পরিষ্কার করতে হয়। ডালের দানা শুকিয়ে পানির পরিমান ১২% এর নিচে আনতে হবে। বীজের জন্য টন প্রতি ৩০০ গ্রাম ম্যালাথিয়ন বা সেভিন ১০% গুড়া মিশিয়ে পোকার আক্রমণ প্রতিরোদ করা যায়। ফসটক্সিন ট্যাবলেট ২টি বড়ি প্রতি ১০০ কেজি গুদামজাত ডালে ব্যবহার করতে হয়। এ বড়ি আবদ্ধ পরিবেশে ব্রবহার করতে হয়।

ফসল সংগ্রহ: মধ্য চৈত্র থেকে শেষ সপ্তাহ(মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের প্রথম)।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

মুগ উৎপাদন কৌশল

পুষ্টি মূল্য
মুগ ডালে প্রচুর পরিমানে খাদ্য শক্তি ও প্রোটিন আছে।

ব্যবহার
ডাল হিসেবে প্রধানত খাওয়া হয়।

উপযুক্ত জমি ও মাটি
বেলে দো-আঁশ ও পলি দো-আঁশ মাটি, মাঝারি উঁচু এবং সুনিষ্কাশিত জমি মুগ আবাদের জন্য উপযোগী।

জাত পরিচিতি

বারি মুগ-২ (কান্তি)
বারি মুগের কান্তি জাত দিবস নিরপেক্ষ হওয়ায় খরিফ-১, খরিফ-২ এবং রবি মৌসুমের শেষ দিকেও চাষ করা যায়। রান্নার সময়কাল ১৫-১৮ মিনিট। আমিষের পরিমাণ ২০-২৪%। জীবনকাল ৬০-৬৫ দিন। ফলন হেক্টরপ্রতি ০.৯-১.১ টন। জাতটি সারকোস্পোরা দাগ ও হলদে মোজাইক রোগ সহনশীল।
বারি মুগ-৩ (প্রগতি)
বীজ মসৃণ ও রং বাদামি সবুজ। রান্না হওয়ার সময়কাল ১৪-১৭ মিনিট। দিবস নিরপেক্ষ হওয়ায় খরিফ-১, খরিফ-২ এবং রবি মৌসুমে বিলম্বে আবাদ করা যায়। আমিষের পরিমাণ ১৯-২১%। জীবনকাল ৬০-৬৫ দিন। ফলন হেক্টরপ্রতি ১.০-১.১ টন। জাতটি সারকোস্পোরা দাগ ও হলদে মোজাইক ভাইরাস রোগ সহনশীল।
বারি মুগ-৪ (রুপসা)


বীজ মসৃণ ও রং সবুজ। এ জাত দিবস নিরপেক্ষ হওয়ায় খরিফ-১, খরিফ-২ এবং রবি মৌসুমে বিলম্বে বপন করা যায়। জাতটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। ডাল রান্নার সময়কাল ১৫-২০ মিনিট। আমিষের পরিমাণ ২১-২৪%। জীবনকাল ৬০-৬৫ দিন। ফলন হেক্টরপ্রতি ১.২-১.৪ টন। জাতটি সারকোস্পোরা দাগ ও হলদে মোজাইক ভাইরাস রোগ সহনশীল।
বারি মুগ-৫ (তাইওয়ানী)
গাছের পাতা, ফল ও বীজ আকারে বেশ বড়। বীজের রং গাঢ় সবুজ। হাজার বীজের ওজন ৪০-৪২ গ্রাম। জাতটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো যে ফল এক সাথে পাকে। ডাল রান্নার সময়কাল ১৭-২০ মিনিট। আমিষের পরিমাণ ২০-২২%। জাতটির জীবনকাল ৬০-৬৫ দিন। ফলন হেক্টরপ্রতি ১.২-১.৫টন। জাতটি সারকোস্পোরা দাগ ও হলদে মোজাইক ভাইরাস রোগ সহনশীল।
বারি মুগ-৬ (রুপসা)

একই সময়ে প্রায় সব শুটি পরিপক্ক হয়। পাতা ও বীজের রং গাঢ় সবুজ এবং পাতা চওড়া। ফুল আসার পরে দৈহিক বৃদ্ধি কম। দানার আকার বড়। প্রতি ১০০ বীজের ওজন ৫.১-৫.২ গ্রাম। গম কাটার পর এপ্রিলের ১ম সপ্তাহ পর্যন্ত বপন করা যায়। এ ছাড়া খরিফ-২ ও রবি মৌসুমের শেষেও বপন করা যায়। হলুদ মোজাইক ভাইরাস এবং পাতার দাগ রোগ সহনশীল। জীবনকাল ৫৫-৫৮ দিন। হেক্টরপ্রতি ফলন ১৫০০ কেজি।
এছাড়াও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট থেকে উদ্ভাবিত মুগের জাতগুলো হলো:
বিনামুগ-১ (সোনামুগ): বীজ হলদে রঙের এবং অমসৃন। দানার আকার মাঝারি। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ০.৯ টন।
বিনামুগ-২: বীজের রঙ ঘোলাটে সবুজ। বারিমুগ-২ (কান্তি) এর বীজ থেকে বড় আকারের বীজ। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১.৪ টন।
বিনামুগ-৩: বীজ সবুজ রঙের এবং অমসৃন। দানার আকার মাঝারি। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১.৪ টন।
বিনামুগ-৪: বীজ সবুজ রঙের এবং অমসৃন। দানার আকার মাঝারি। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১.১ টন।
বিনামুগ-৫: বীজের রঙ উজ্জ্বল সবুজ। বারিমুগ-২ (কান্তি) এর বীজ থেকে বড় আকারের বীজ। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১.৫ টন।
বিনামুগ-৬; বীজের রঙ উজ্জ্বল সবুজ। বারিমুগ-২ (কান্তি) এর বীজ থেকে বড় আকারের বীজ। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১.৫ টন।
বিনামুগ-৭: বীজের রঙ সবুজ। বারিমুগ-২ (কান্তি) এর বীজ থেকে বড় আকারের বীজ। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১.৮ টন।

বীজ বপন
ছিটিয়ে এবং সারি উভয় পদ্ধতিতেই বপন করা যায়। সারিতে বপনের ক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৩০ সেমি রাখতে হবে।
বারি মুগ-২, বারি মুগ-৩ ও বারি মুগ-৪ এর জন্য হেক্টরপ্রতি ২৫-৩০ কেজি। বারি মুগ-৫ এর জন্য ৪০-৪৫ কেজি বীজের প্রয়োজন। ছিটিয়ে বপনের ক্ষেত্রে বীজের পরিমাণ সামান্য বেশি দিতে হবে।
এলাকাভেদে মুগের বপন সময়ের তারতম্য দেখা যায়। খরিফ-১ মৌসুমে ফাল্গুন মাসের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত (ফেব্রুয়ারির শেষ ভাগ হতে মার্চের মধ্য ভাগ)। খরিফ-২ মৌসুমে শ্রাবণ-ভাদ্র মাস (আগস্টের প্রথম হতে সেপ্টেম্বরের শেষ ভাগ)। রবি মৌসুমে বরিশাল এলাকার জন্য বপনের উত্তম সময় পৌষ-মাঘ মাস (জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্য ভাগ)।

সার ব্যবস্থাপনা
অনুর্বর জমিতে হেক্টরপ্রতি নিম্নরূপ সার ব্যবহার করতে হবে।
সারের নাম            সারের পরিমাণ কেজি/হেক্টর
ইউরিয়া                 ৪০-৫০
টিএসপি                 ৮০-৮৫
এমওপি                 ৩০-৩৫
অণুজীব সার           ৪-৫
শেষ চাষের সময় সমুদয় সার প্রয়োগ করতে হবে। অপ্রচলিত এলাকায় আবাদের জন্য সুনির্দিষ্ট অণুজীব সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে প্রতি কেজি বীজের জন্য ৮০ গ্রাম অণুজীব সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। সাধারণতঃ অণুজীব সার ব্যবহার করলে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হয় না।

সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা
বপনের ২৫-৩০ দিনের মধ্যে একবার আগাছা দমন করা প্রয়োজন। অতিবৃষ্টির ফলে যাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে না পারে সেজন্য অতিরিক্ত পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া খরিফ-১ মৌসুমে বৃষ্টি না হলে সঠিক সময়ে বপনের জন্য বপনের আগে বা পরে একটি সেচ প্রয়োজন। সেচ দিলে চারা গজানোর পর মালচিং করে দিতে হবে।

রোগ ব্যবস্থাপনা
রোগের নাম: মুগের পাতার দাগ রোগ
ক্ষতির নমুনা: পাতায় ছোট ছোট লালচে বাদামি বর্ণের গোলাকৃতি হতে ডিম্বাকৃতির দাগ পড়ে। আক্রান্ত পাতার উপর ছিদ্র হয়ে যায়। আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে সম্পূর্ণ পাতা ঝলসে যায়। পরিত্যক্ত ফসলের অংশ, বায়ু ও বৃষ্টির মাধ্যমে এ রোগ বিস্তার লাভ করে।
অনুকুল পরিবেশ: বেশি আর্দ্রতা (৮০%) এবং উচ্চ তাপে (২৮ ডিগ্রী সে.) এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
ব্যবস্থাপনা: বাভিস্টিন (০.২%) নামক ছত্রাকনাশক ১২-১৫ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার (বারি মুগ-২, ৩, ৪ এবং ৫) করতে হবে।

রোগের নাম: মুগের পাউডারি মিলডিউ
ক্ষতির নমুনা: এ রোগে পাতায় পাউডারের মত আবরণ পড়ে। সাধারণত: শুষ্ক মৌসুমে এ রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। বীজ, পরিত্যক্ত গাছের অংশ ও বায়ুর মাধ্যমে এ রোগ বিস্তার লাভ করে।
ব্যবস্থাপনা: বিকল্প পোষক ও গাছের পরিত্যক্ত অংশ পুড়ে ফেলতে হবে। টিল্ট-২৫০ বা থিওভিট (০.২%) ১০-১২ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

রোগের নাম: মুগের হলদে মোজাইক ভাইরাস রোগ
ক্ষতির নমুনা: মোজাইক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে। আক্রান্ত পাতার উপর হলদে সবুজ দাগ পড়ে। সাধারণত: কচি পাতা প্রথমে আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত বীজ ও বায়ুর মাধ্যমে এ রোগ বিস্তার লাভ করে। সাদা মাছি নামক পোকা এ রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে।
অনুকুল পরিবেশ: বিকল্প পোষক ও সাদা মাছির আধিক্য এ রোগ দ্রুত বিস্তারে সহায়ক।
ব্যবস্থাপনা: রোগ মুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে। সাদা মাছি দমনের জন্য অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়ে ফেলতে হবে।

গুদামজাত ডালের পোকা ব্যবস্থাপনা:
ভূমিকা: পূর্ণবয়স্ক পোকা ও কীড়া উভয়ই গুদামজাত ডালের ক্ষতি করে থাকে।
ক্ষতির নমুনা: এ পোকা ডালের খোসা ছিদ্র করে ভিতরে ঢুকে শাঁস খেতে থাকে। ফলে দানা হাল্কা হয়ে যায়। এর ফলে বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং খাওয়ার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে।
ব্যবস্থাপনা: গুদামজাত করার আগে দানা ভালভাবে পরিষ্কার করতে হয়। ডালের দানা শুকিয়ে পানির পরিমান ১২% এর নিচে আনতে হবে। বীজের জন্য টন প্রতি ৩০০ গ্রাম ম্যালাথিয়ন বা সেভিন ১০% গুড়া মিশিয়ে পোকার আক্রমণ প্রতিরোদ করা যায়। ফসটক্সিন ট্যাবলেট ২টি বড়ি প্রতি ১০০ কেজি গুদামজাত ডালে ব্যবহার করতে হয়। এ বড়ি আবদ্ধ পরিবেশে ব্যবহার করতে হয়।

ফসল তোলা:
মধ্য-কার্তিক থেকে শেষ ভাগ (অক্টোবর শেষ থেকে নভেম্বর প্রথম)।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

দিনাজপুরে বারোমাসি তরমুজ ও সবজি চাষে স্বাবলম্বী নারীরা

পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে বছরব্যাপী বিষমুক্ত ও নিরাপদ বারোমাসি তরমুজ ও সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের আদিবাসী অনেক নারী। তাদের এসব তরমুজ ও সবজি চাষে লাভবান হওয়ায় স্থানীয়দের অনেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। 

চলতি বছরে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৪টি ইউনিয়নে ১০০ জন আদিবাসী নারী কৃষক ১ হেক্টর জমিতে তৃপ্তি ও মধুমালা জাতের বারোমাসি তরমুজ এবং ৩ হেক্টর জমিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করছেন। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, ঘোড়াঘাট এপির বাস্তবায়নে ইনোভেশন প্রকল্পের আওতায় ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসের প্রযুক্তিগত কারিগরি সহযোগিতায় আদিবাসী নারীরা এসব ফসল ও তরমুজ চাষ করেন।ক্ষেতের প্রদর্শনীগুলোতে দেখা যায়, মাটিতে মালচিং পেপারের নিচে রোপণ করা বীজ থেকে চারা উঠে দু’পাশে দেওয়া বাঁশের তৈরি মাচার উপরে বড় হয়েছে গাছ। গাছে ঝুলছে তৃপ্তি ও মধুমালা জাতের তরমুজ। তরমুজগুলো যাতে ছিঁড়ে না পড়ে এজন্য ব্যবহার করা হয়েছে এক প্রকার নেটের ব্যাগ। মধুমালা জাতের তরমুজ হয় এক থেকে দেড় কেজি আর তৃপ্তি জাতের তরমুজ দুই থেকে তিন কেজি। বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ ৬০ টাকা দরে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে। এসব তরমুজ অসময়ে পাওয়ার ফলে দামও বেশি পাওয়া যায়।

পরিবেশ বান্ধব বিভিন্ন কৌশল যেমন-ফাঁদ পদ্ধতি ও জৈব বালাই নাশক ব্যবহার করে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই প্রদর্শনীগুলোতে উৎপাদন করছে বারোমাসি তরমুজ ও বিভিন্ন জাতের বেগুন, পটল, লাউ, ঝিঙা ও শসাসহ নানা রকমের সবজি। কৃষকরা নিরাপদ সবজি উৎপাদনে ব্যবহার করছেন ফেরোমন ফাঁদ, নিম পাতা ও বিষ কাটালের রস।

ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউপির শীধলগ্রামের কৃষাণী সুচিত্রা মাহাতো বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন এবং কৃষি অফিসের সহযোগিতায় সবজি ও তরমুজের চাষ করেছি। বিষমুক্ত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে চাহিদা থাকায় এই তরমুজ চাষ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছি। ওয়াল্ড ভিশন বীজ, কাগজ ও সার দিয়ে সহযোগিতা করেন। 

ঘোড়াঘাট ওয়ার্ল্ড ভিশনের ম্যানেজার রোলেন্ড গোমেজ বলেন, এই এলাকায় শিশুরা যাতে ভবিষ্যতে নিরাপদ খাদ্য পায় এবং কৃষকেরা যাতে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয় সেই লক্ষ্যে নারীদের নেতৃত্বে ইনোভেশন প্রকল্পের আওতায় তাদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার মো. এখলাছ হোসেন সরকার বলেন, প্রান্তিক আদিবাসী নারী কৃষকরা তাদের বসত ভিটার ছোট জায়গায় বিষমুক্ত নিরাপদ ফসল ও বারোমাসি তরমুজ চাষ করে আর্থিকভাবে বাড়তি আয় করতে পারে সেজন্য তাদের প্রশিক্ষণ ও সকল ধরনের কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com