আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

ভয়ংকর রাক্ষুসে মাছ স্নেকহেড: দেখামাত্রই হত্যার নির্দেশ, যুক্তরাষ্ট্রে সতর্কতা

স্নেকহেড কেবল রাক্ষুসে মাছ নয়, এটি ডাঙাতেও বেঁচে থাকতে পারে।
স্নেকহেড কেবল রাক্ষুসে মাছ নয়, এটি ডাঙাতেও বেঁচে থাকতে পারে।

“যদি দেখেন যে একটি উত্তরাঞ্চলীয় ‘স্নেকহেড’ মাছ আপনার জালে ধরা পড়েছে, এটিকে ছাড়বেন না। পাওয়ামাত্রই এটিকে হত্যা করুন। মনে রাখবেন, এটি ডাঙাতেও বেঁচে থাকতে পারে।”

ঠিক এরকম নির্দেশনাই দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ন্যাচারাল রিসোর্স ডিপার্টমেন্ট বা প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগ।

উত্তরাঞ্চলীয় ‘স্নেকহেড’ মাছ দেখতে লম্বাটে ও চিকন। এর মাথা দেখতে অদ্ভূত রকম চ্যাপ্টা।

এটি উচুঁ মানের শিকারী প্রাণী এবং এর ক্ষুধা অফুরন্ত।

প্রতি বছর দশ হাজার ডিম

এই মাছ অন্যান্য জাতের মাছ থেকে শুরু করে ব্যাঙ, কাঁকড়া সবই সাবাড় করে ফেলে।

স্নেকহেড ৮০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে
স্নেকহেড ৮০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে

এটি দেখতে ৮০ সেন্টিমিটারের মতন লম্বা হতে পারে। এমনকি পানি ছাড়াও এই মাছ নিশ্বাস নিতে পারে এবং চলাফেরা করতে পারে।

আর এ কারণেই এই প্রাণী এক জলাশয় থেকে আরেক জলাশয়ে চলে যেতে পারে।

এই মাছ যদি একবার অন্য আরেক জায়গায় পৌঁছাতে পারে তাহলে এর বিস্তার ঠেকানো মুশকিল। স্নেকহেড মাছের নারী সদস্যরা বছরে দশ হাজার পর্যন্ত ডিম দেয়।

দূর্ঘটনাবশত বিস্তার?

স্নেকহেড মূলত চীন, রাশিয়া ও কোরিয়া অঞ্চলের মাছ। কিন্তু প্রায় এক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত চার জাতের স্নেকহেডকে অ্যামেরিকায় সনাক্ত করা গেছে।

তবে, শুরুতে মূলত পালনের উদ্দেশ্যেই এই মাছকে যুক্তরাষ্ট্রের জলাশয়ে ছাড়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

অনেকে স্নেকহেড কিনেছিলেন সখ করে পোষার জন্য। কিন্তু এসব মাছ পানিতে ছেড়ে দেয়ার পর এর ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে।
অনেকে স্নেকহেড কিনেছিলেন সখ করে পোষার জন্য। কিন্তু এসব মাছ পানিতে ছেড়ে দেয়ার পর এর ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে।

জর্জিয়া ছাড়াও ফ্লোরিডা, নিউ ইয়র্ক, ভার্জিনিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, ম্যাসাচুসেট্স ও মেরিল্যান্ডে এই মাছ পাওয়া গেছে।

মেরিল্যান্ডেই ২০০২ সালে প্রথমে এই মাছকে সনাক্ত করা হয়।

জনগণের সহায়তা

জর্জিয়াতে স্নেকহেড মাছকে সনাক্ত করার পর অক্টোবরের ৮ তারিখেই সেখানে জনসচেতনতা মূলক একটি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পানি ছাড়াও যে এই মাছ বেঁচে থাকতে পারে সেই কথা উল্লেখ করে ডিপার্টমেন্ট অফ ন্যাচারাল রিসোর্স (ডিএনপি) জনগণের উদ্দেশে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। মৃত স্নেকহেড দেখলেও সেটির ছবি তুলতে এবং সেটিকে ঠিক কোথায় পাওয়া গিয়েছে সেই বিষয়ে নোট নিতে তাগিদ দেয়া হয়েছে সেই নির্দেশনায়।

স্নেকহেড দমনের জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষ জনগণের সহযোগিতা চাইছেন। ফ্লোরিডায় স্নেকহেড মারার চেষ্টা করছেন দুজন জেলে।
স্নেকহেড দমনের জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষ জনগণের সহযোগিতা চাইছেন। ফ্লোরিডায় স্নেকহেড মারার চেষ্টা করছেন দুজন জেলে।

জর্জিয়া ডিএনপির ফিশিং অপারেশন্স ম্যানেজার স্কট রবিনসন বলেছেন, “এটি একটি দুরূহ কাজ হলেও এদের সবগুলোকেই খুঁজে বের করা হবে। এখানে এরা প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাবে না।”

পানি ছাড়া এই মাছ বাঁচে কী করে?

ডাঙ্গাতেও কী করে এই মাছ বেঁচে থাকতে পারে সেই বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের এভলিউশনারি ইকোলজি এন্ড একোয়াটিক বাইয়োলোজি বিভাগের অধ্যাপক মার্টিন জেনার।

“এশিয়াতে, তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক পরিমণ্ডলে এই মাছটি সাধারণত কম অক্সিজেনপূর্ণ পরিবেশে যেমন ধানক্ষেতে বা পানিতে অর্ধেক ডুবে থাকা বনাঞ্চলে থাকে”, ব্যাখ্যা করছিলেন মি. জেনার।

স্নেকহেডের শরীরে অক্সিজেন জমিয়ে রাখার ব্যবস্থা আছে। এ কারণে এটি পানির বাইরেও তিনদিন পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
স্নেকহেডের শরীরে অক্সিজেন জমিয়ে রাখার ব্যবস্থা আছে। এ কারণে এটি পানির বাইরেও তিনদিন পর্যন্ত বাঁচতে পারে।

এরকম পরিবেশে থাকার কারণে এই মাছগুলোকে বিভিন্ন ধরনের অভিযোজন কৌশল আয়ত্বে আনতে হয়। মূলত এসব পরিবেশে এই মাছগুলো তাদের অক্সিজেন গ্রহণের পরিমাণকে সর্বোচ্চ বাড়িয়ে নেয়।

বাড়তি বায়ু

জেনার আরো বলছিলেন, এই জাতের মাছের গিল বা ফুলকার পেছনে বাতাসের একটি চেম্বার থাকে। এটিকে বলা হয় সুপ্রাব্রাঞ্চিয়াল চেম্বার।

সাধারণত, মাছেরা তাদের ফুলকার সাহায্যে দম নেয় এবং এর মাধ্যমেই অক্সিজেন আসা-যাওয়া করে।

মাছ পানির উপরিতলে উঠে আসতে এবং যে কোনো দিকে যেতে সক্ষম। তারপর তারা পানির গভীরে চলে যায় এবং অক্সিজেন ব্যবহার করে।

“কিন্তু এই স্নেকহেড মাছগুলো পানির উপরিভাগে উঠে এসে কিছু বায়ু বুকে ভরে নেয় এবং তারা একেবারে জলের গভীর তলানিতে নেমে যেতে পারে। সেখানে প্রয়োজন হলে তারা তাদের চেম্বারের অক্সিজেন ব্যবহার করে,” ব্যাখা করেন মি. জেনার।

ক্রলিং

স্নেকহেড মাছগুলো ডাঙ্গাতেও দম নিতে পারে। যার কারণে তারা আসলে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তর করতে সক্ষম।

যখন নদী শুকিয়ে যায় তখন স্নেকহেড মাটির ওপর দিয়ে অন্য জলাশয়ের দিকে যেতে পারে।
যখন নদী শুকিয়ে যায় তখন স্নেকহেড মাটির ওপর দিয়ে অন্য জলাশয়ের দিকে যেতে পারে।

ট্রপিক্যাল বা গ্রীষ্মপ্রধান দেশগুলোতে জলাভূমিগুলো প্রায়শই শুকিয়ে যায়। তাই, মাছগুলোকে তখন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হয়।

“স্নেকহেড ডাঙায় চলাফেরা করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। এই কাজটি স্নেকহেড খুব কৌশলে করে। মাছগুলো পাখনা ব্যাবহার করে বুকে ভর দিয়ে এগিয়ে চলে। কিন্তু পানির বাইরেও একটা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তারা বেঁচে থাকতে পারে কারণ তারা ঢোক গেলার মাধ্যমে বায়ু গ্রহণ করে সেটিকে শ্বাসের কাজে লাগাতে পারে।”

তবে, মি জেনার বলছেন, স্নেকহেডই ডাঙ্গাতে বেঁচে থাকা একমাত্র মাছ নয়। ক্যাটফিশের মতন অন্য এমন আরো কিছু প্রজাতির মাছ রয়েছে যারা স্থলেও অক্সিজেন ব্যবহারে সক্ষম।

ক্যাটফিশ হচ্ছে আরেকটি মাছ যেটি ডাঙ্গায় শ্বাস নিতে পারে
ক্যাটফিশ হচ্ছে আরেকটি মাছ যেটি ডাঙ্গায় শ্বাস নিতে পারে

এছাড়া লাংফিশ-ও ডাঙাতে দম নিতে পারে। লাংফিশেরও মানুষের মতন ফুসফুস রয়েছে।

তবে, লাংফিশের ফুসফুস মানুষের মতন দম নেয়া ও দম ছাড়ার কাজ করে না। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফুসফুসের ভেতর হাওয়া ভরে নেয় লাংফিশ এবং পরবর্তীতে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে তা ব্যাবহার করে।

গৌরামিস নামে আরেক জাতের মাছেরও ফুসফুসের মতন একটি অঙ্গ রয়েছে। সেটি ফুসফুসের মতই কাজ করে এবং দম নিতে সাহায্য করে। এই মাছগুলোও ডাঙায় স্বল্প দূরত্বে চলাফেরা করতে পারে।

কঠিন প্রতিযোগী

প্রতিকূলতা সহ্য করে টিকে থাকতে পারে স্নেকহেড। তাই, একে মোকাবেলায় তীব্র সতর্ক অবস্থানে জর্জিয়ার কর্তৃপক্ষ। যে সব ব্যক্তি জলাশয়ে ছিল এবং স্নেকহেডের সংস্পর্শে এসেছে তাদের সকল পোশাক-আশাক, যন্ত্রপাতি, নৌকা ও পোষা কুকুরকেও ভালো করে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নেবার তাগিদ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অন্য মাছের তুলনায় স্নেকহেডের অক্সিজেনের চাহিদা কম
অন্য মাছের তুলনায় স্নেকহেডের অক্সিজেনের চাহিদা কম

খাদক প্রকৃতির মাছ স্নেকহেড থাকলে অন্য প্রজাতির খাদ্য-শৃঙ্খলে ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অতি সামান্য অক্সিজেন হলেই স্নেকহেড জলাশয়ে টিকে থাকতে পারে বিধায় অন্যান্য প্রজাতির মাছ যেমন ট্রাউট ও ব্যাসের চেয়ে স্নেকহেড রয়েছে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে।

তাই, এই মাছের ভয়ংকর ‘খ্যাতি’ ছড়িয়ে পড়েছে। এটিকে নিয়ে এমকি ইতোমধ্যেই একটি প্রামাণ্যচিত্র বানিয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক। সেই তথ্যচিত্রের নাম দেয়া হয়েচে ‘ফিশজিলা’।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

মৎস্য

১৩৭ কেজি ওজনের ‘কৈভোল’ মাছ বিক্রি হলো লক্ষাধিক টাকায়

১৩৭ কেজি ওজনের ‘কৈভোল’ মাছ বিক্রি হলো লক্ষাধিক টাকায়
১৩৭ কেজি ওজনের ‘কৈভোল’ মাছ বিক্রি হলো লক্ষাধিক টাকায়

গভীর সমুদ্রে সাতক্ষীরার এক মৎস্যজীবীর জালে ধরা পড়ে বিশাল আকারের এক ‘কৈভোল’ মাছ। পরে মেপে দেখা যায়, মাছটির ওজন ১৩৭ কেজি। এটি পরে খুলনার বাজারে নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে লক্ষাধিক টাকায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে খুলনার নগরীর রূপসা পাইকারি মাছ বাজারে নিয়ে আসা হয় বিশাল মাছটিকে। এরপর দরদাম শেষে তা ১ লাখ ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

সকালে এত বড় মাছ আসার কথা জানাজানি হলে মাছটিকে দেখতে বহু মানুষ ভিড় জমায়। মাছটিকে আনা হয় সোহান ফিস নামে একটি আড়তে।

মাছটির ক্রেতা মো. রমজান আলী হাওলাদার জানান, মাছটি তারা ৫০ জন মিলে কেনার পর বাজার থেকেই কেটে ভাগ করে নিয়েছেন।

বাজারে নেওয়ার পর প্রথমে মাছটির দাম উঠেছিল ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু ক্রেতাদের আগ্রহের কারণে এর দাম বাড়তে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ১ লাখ ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় মাছটি।

গভীর সমুদ্র থেকে বিশাল এই কৈভোল মাছটি ধরেছেন সাতক্ষীরার মৎস্যজীবী গোবিন্দ সরকার। তিনি এটি বেন্টি জাল দিয়ে ধরেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

লালবাজারে এত মাছ!

সিলেট নগরের লালবাজারে চলছে নানা প্রজাতির মাছের প্রদর্শনী ও বিক্রি
সিলেট নগরের লালবাজারে চলছে নানা প্রজাতির মাছের প্রদর্শনী ও বিক্রি

রুই, কাতলা, চিতল, বোয়াল, শোল তো আছেই; সঙ্গে মিলেছে সেই দূর সমুদ্রের টুনা মাছ, কোরাল, সেইল ফিশ। মাছ কিনতে এবং দেখতে আসা মানুষে ঠাসা লালবাজার। সিলেট নগরের লালবাজার। মাছের জন্য খ্যাত বাজারটিতে বসেছে তিন দিনব্যাপী মাছ বিক্রি ও প্রদর্শনী। পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষেই এ আয়োজন। পৌষ মাসের শেষ দিনে এ উৎসব উদ্‌যাপন করা হয়ে থাকে।

লালবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির আয়োজনে আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিন দিনব্যাপী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। মেলা উদ্বোধনের পর প্রথম দিন থেকেই দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট ছিল মাছের বাজার। বাজারে ৮০টি দোকানে বিক্রি ও প্রদর্শন করা হচ্ছে মাছগুলো।

আজ দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলা উপলক্ষে লালবাজার সেজেছে আলোকসজ্জায়। মেলা প্রাঙ্গণে ঢোকার তিনটি দ্বার ঝলমল করছে আলোর ছটায়। হাওরের মাছ, চাষের মাছ এবং চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছে সামুদ্রিক মাছ।

মেলায় বিক্রির জন্য উঠেছে রুই, কাতলা, চিতল, বোয়াল, শোল, বাগাড়, ইলিশ, ঘাসকার্প, সামুদ্রিক টুনা মাছ, কোরাল, সেইল ফিশ, ভোল মাছ, বাইন মাছ, শাপলাপাতা মাছসহ আরও নানা প্রজাতির মাছ। মেলায় দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের নজর কাড়ে ৩১ কেজি ওজনের বোয়াল, বড় বড় চিতল ও সামুদ্রিক সেইল ফিশ। বোয়ালটির দাম চাওয়া হচ্ছে ৪৫ হাজার টাকা। প্রায় ১২ কেজি ওজনের চিতল মাছের দাম চাওয়া হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। মেলায় আনা শাপলাপাতা মাছের কেজিপ্রতি দাম চাওয়া হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা, টুনা মাছের কেজি ৪০০ টাকা, ভইল মাছের কেজি ৪৫০ টাকা, সেইল ফিশের কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা, ইলিশ মাছের কেজি আকারভেদে ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা। মেলায় আসা দর্শনার্থী ও ক্রেতারা মাছের দরদাম জেনে নিচ্ছেন। সে সঙ্গে সমানতালে চলেছে বিক্রিও। আগামী বুধবার এ মেলা শেষ হবে।

পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্রদর্শনীতে এসেছে হরেক রকমের মাছ
পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্রদর্শনীতে এসেছে হরেক রকমের মাছ

মেলায় মাছ কিনতে আসা দ্বীপরাজ চক্রবর্তী বলেন, পৌষসংক্রান্তি বাঙালিদের জন্য একটি উৎসব। বড় মাছ দিয়ে স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে মেলায় এসেছি।’ রাজ আরও বললেন, ‘মেলা থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে চার কেজি ওজনের একটি চিতল মাছ কিনেছি।’

মেলায় আসা রাহুল নাথ বলেন, ‘মেলায় সামুদ্রিক দুটি মাছ দেখেছি, যা বাজারে আগে দেখিনি। একটি পঙ্খিরাজ এবং অন্যটি শাপলাপাতা মাছ। আজ দেখলাম, কাল মাছ কিনব।’

মাছ ব্যবসায়ী মো. শিপন বলেন, ‘মেলা উপলক্ষে চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে প্রায় ২৫ কেজি ওজনের পঙ্খিরাজ (সেইল ফিশ) এনেছি। এটির দাম ৩৫ হাজার টাকা চাইছি। আস্ত মাছ বিক্রি না হলে কেটে কেজিতে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে বিক্রি করব।’

আরেক মাছ বিক্রেতা ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ‘মেলায় অন্যান্য মাছের সঙ্গে শাপলাপাতা মাছ এনেছিলাম। এটি দেখতে দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন।’ প্রায় সাত কেজি ওজনের মাছটির দাম ১০ হাজার টাকা বলে জানান তিনি।

মেলায় বোয়ালের কদর বেশ
মেলায় বোয়ালের কদর বেশ

লালবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলজার আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশীয় কিছু মাছ বিলুপ্তির পথে। সেসব মাছ আমরা সংগ্রহ করে মেলায় বিক্রি ও প্রদর্শনীর জন্য নিয়ে আসা হয়। ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছরই লালবাজারে পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে মাছের মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ মেলা অব্যাহত রাখা হবে বলে আমরা আশা করছি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

মাছের বাজারে ‘পঙ্খিরাজ’

সামুদ্রিক এই মাছটির পিঠে থাকা পাখনার কারণেই ব্যবসায়ীরা এর নাম দিয়েছে পঙ্খিরাজ
সামুদ্রিক এই মাছটির পিঠে থাকা পাখনার কারণেই ব্যবসায়ীরা এর নাম দিয়েছে পঙ্খিরাজ

সিলেট নগরের বন্দরবাজারের মাছের বাজার লালবাজারে বিক্রির জন্য আনা হয়েছে সামুদ্রিক ‘সেইল ফিশ’। তবে লালবাজারের ব্যবসায়ীরা মাছটির নাম দিয়েছেন ‘পঙ্খিরাজ’। মূলত মাছের পিঠে থাকা পাখনার কারণেই ব্যবসায়ীরা এ নাম দিয়েছেন। প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের মাছটির দাম চাওয়া হচ্ছে ৩৫ হাজার টাকা।

আজ রোববার সকাল থেকে লালবাজারে বিক্রির জন্য মাছটি তোলা হয়।

বিকেলে বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, সামুদ্রিক মাছটি একনজর দেখতে অনেক ক্রেতা ও দর্শনার্থী ভিড় জমিয়েছেন। কেউ মাছের শরীরে হাত দিয়ে দেখছেন আবার কেউ মাছটির পাখনায় হাত বুলাচ্ছেন। মাছের লম্বা ঠোঁটও ও অনেকে ধরে দেখছেন।

মাছ দেখতে আসা ফাহিম আহমদ বলেন, ‘মাছের নাম “পঙ্খিরাজ” শুনে আগ্রহ নিয়ে দেখতে এসেছি। অনেক সুন্দর মাছ। তবে ইন্টারনেটে ঘেঁটে “পঙ্খিরাজ” নামের কোনো মাছ পাইনি।’

মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে, কক্সবাজারে জেলেদের জালে ধরা পড়া মাছটি লালবাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়েছে। আজ এটি বাজারে তোলা হয়।

লালবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলজার আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাছের বিশাল পাখনা থাকায় আমরা “পঙ্খিরাজ” নাম দিয়েছি। সামুদ্রিক এ মাছের অন্য নামও থাকতে পারে। চট্টগ্রামের মাছ ব্যবসায়ী খোরশেদ মিয়ার মাধ্যমে মাছটি আমাদের কাছে এসেছে। এর আগেও ২০১৭ সালে  ১৮ থেকে ২০ কেজি ওজনের এই মাছ বাজারে আনা হয়েছিল। সে সময় মাছটি ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সকাল থেকে মাছটি দেখতে অনেকেই ভিড় করেছেন। আমরা মাছটির দাম চেয়েছি ৩৫ হাজার টাকা। তবে এক ক্রেতা ২৫ হাজার পর্যন্ত দাম হাঁকিয়েছেন। কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া না গেলে কেটে কেজি হিসাবে বিক্রি করা হবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

কৃত্রিম প্রজননে কোরালের পোনা

কোরালের পোনা
কোরালের পোনা

সুস্বাদু কোরাল কিংবা ভেটকি মাছের কদর দেশব্যাপী। বঙ্গোপসাগরের গভীর জলের মাছ কোরাল সব সময় হাটবাজারে পাওয়া যায় না। চিংড়ির মতো চাষের মাধ্যমে কোরাল মাছ উৎপাদনের তেমন সুযোগও নেই। কিন্তু এখন যে কেউ চাইলে কোরাল মাছের চাষে হাত বাড়াতে পারেন। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে কক্সবাজারে উৎপাদিত হচ্ছে কোরাল মাছের পোনা।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে কোরাল মাছের পোনা উৎপাদনে সফল হয়েছেন দেশের মৎস্য বিজ্ঞানীরা। সেই সঙ্গে তাঁরা বঙ্গোপসাগরের ‘কক্সবাজার-সোনাদিয়া’ উপকূলের ২৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কোরাল মাছের প্রজননক্ষেত্র চিহ্নিত করেছেন। গত এক বছর বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের চালানো এক গবেষণায় এ সাফল্য এসেছে।

তবে এটি প্রাথমিক সাফল্য মনে করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ও দেশের বিশিষ্ট মৎস্য বিজ্ঞানী ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে শুরু হওয়া এক গবেষণায় প্রথমবারের মতো হ্যাচারিতে কৃত্রিম উপায়ে কোরাল মাছের পোনা উৎপাদনে সাফল্য এসেছে। তবে এ জন্য আরও গবেষণা দরকার। কোরালের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হলে দেশের অর্থনীতি তথা সামুদ্রিক মৎস্য ক্ষেত্রে এক বিপ্লবের সূচনা হবে।

মৎস্য বিজ্ঞানীরা বলেন, এর আগে গবেষণার মাধ্যমেই কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো কাঁকড়া পোনা উৎপাদনে সাফল্য পান মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। এখন আর দেশে কাঁকড়া পোনার সংকট নেই। এখন কোরালের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ও অর্থকরী মাছেরও কৃত্রিম পোনা উৎপাদনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

 মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সূত্রমতে, ‘সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা জোরদারকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে ‘ভেটকির মা মাছ তৈরি ও কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন গবেষণা’ শীর্ষক একটি প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের কক্সবাজারের সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হকের নেতৃত্বে এ গবেষণা কাজ পরিচালিত হচ্ছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে গবেষণা চালানোর পর গত মে মাসে সর্বপ্রথম ভেটকি মাছের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য পাওয়া যায়। আর গবেষণা চালাতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো বঙ্গোপসাগরে চিহ্নিত করতে সক্ষম হন কক্সবাজারের কলাতলী থেকে সোনাদিয়া পর্যন্ত ২৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কোরাল মাছের প্রজনন ক্ষেত্র।

মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, উপকূলীয় এলাকার অতিপরিচিত সুস্বাদু মাছ কোরাল। এ মাছ কম কাটাযুক্ত, দ্রুত বর্ধনশীল ও খেতে সুস্বাদু বলে এর বাজারমূল্য বেশি। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ মাছের ব্যাপক চাহিদা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ প্রতিবেশী দেশগুলো আগেই হ্যাচারিতে কৃত্রিম উপায়ে কোরাল পোনা উৎপাদনে সক্ষম হলেও বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা এত দিন ছিলেন পিছিয়ে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘেরের মধ্যে চিংড়ির সঙ্গে কোরাল মাছেরও কিছুটা চাষ হচ্ছে। কোরাল মাছ লবণাক্ত, আধা-লবণাক্ত, এমনকি স্বাদু পানিতেও চাষ করা যায়। এ মাছের রোগবালাই কম বলে সাম্প্রতিককালে অনেকেই চিংড়ি চাষ বাদ দিয়ে কোরাল চাষে নেমেছেন। তবে পোনার সংকটের কারণে অনেকে লাভজনক কোরাল চাষে নামতে পারছেন না। প্রজননের মাধ্যমে কোরাল মাছের পোনা বাজারে সরবরাহ হলে এই মাছ চাষে বিপ্লব শুরু হবে।

কক্সবাজারের সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, একটি পরিপক্ব স্ত্রী কোরাল মাছ ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি পর্যন্ত ডিম দিতে সক্ষম। ফলে হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদনের জন্য স্বল্পসংখ্যক মা কোরালই যথেষ্ট। তবে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মা কোরাল তৈরি হওয়ার জন্য যে ৪-৫ বছর সময়টুকু দরকার, তা রক্ষা করতে হবে।

মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, কোরাল মাছ প্রথমে পুরুষ হয়ে জন্মায় এবং ৪-৫ বছর পর কিছু স্ত্রীতে রূপান্তরিত হয়। রূপান্তরিত হওয়ার পরই প্রজননের জন্য উপকূলের নদী মোহনার কাছে চলে আসে। কোরাল মাছের প্রজননকাল এপ্রিল থেকে শুরু হলেও সবচেয়ে বেশি ডিম দেয় মে মাসে। গত ২৩ মে সোনাদিয়া উপকূলে গবেষণা চালানোর সময় বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক কোরাল মাছের ডিম পাড়ার দৃশ্য স্বচক্ষে দেখেন এবং ওখান থেকে সংগৃহীত মা মাছটি হ্যাচারিতে এনে কৃত্রিম উপায়ে তিনি পোনা উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

রপ্তানি হচ্ছে শিং কই বোয়াল

বোয়াল, কই,শিং মাছ রপ্তানি হচ্ছে
বোয়াল, কই,শিং মাছ রপ্তানি হচ্ছে

বিশ্বের ৫০টির বেশি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হচ্ছে চিংড়ি। তবে শিং, কই, বোয়াল, মলা, কাচকি, বাতাসি, রুপচাঁদা, ভেটকি, আইড়, পাবদা, টাকি ইত্যাদি মাছও রপ্তানি হচ্ছে। 

 তবে পাঁচ বছর আগের তুলনায় এ খাত থেকে রপ্তানি আয় কমছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, সদ্যবিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৪ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা ৩১ লাখ টাকা (৫০ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার) আয় করেছে। আগের অর্থবছরে আয় ছিল ৪ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরে আয় কমেছে ৫৬ কোটি টাকা। 

জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পাসের দিন গত ৩০ জুন সরকারি দলের কিশোরগঞ্জের সাংসদ মো. আফজাল হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান মৎস্য খাতের রপ্তানি আয়ের পাঁচ বছরের তথ্য দেন। 

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ৪ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। এরপর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪ হাজার ২৮২ কোটি টাকা এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা রপ্তানি আয় হয়।  প্রাকৃতিক উৎসের মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বে তৃতীয়
উৎপাদন বাড়লেও কমছে রপ্তানির পরিমাণ ও আয়

রপ্তানি কমার কারণ জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আশরাফ আলী খান সরাসরি কোনো জবাব দেননি। প্রতিমন্ত্রী ৪ জুলাই তাঁর কার্যালয়ে প্রথম আলোকে বলেন, রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন বাজার খোঁজা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই একটি দল যাবে রাশিয়া, যার নেতৃত্বে আছেন তিনি। 

সংসদকে মন্ত্রী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, রাশিয়া ইত্যাদি দেশ বাংলাদেশের মৎস্য ও মৎস্যপণ্যের প্রধান আমদানিকারক দেশ। এ ছাড়া কানাডা, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউক্রেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, মরক্কো, লেবানন, জর্ডান, ভিয়েতনাম ইত্যাদি দেশেও রপ্তানি করা হয়। আর প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে মৎস্য ও মৎস্যপণ্য রপ্তানি করা হয় ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ ও মিয়ানমারে। 

আয় কমছে মানে বছর বছর রপ্তানির পরিমাণও কমছে। সংসদে উপস্থাপিত প্রতিমন্ত্রীর তথ্যেই উঠে আসে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৮৩ হাজার ৫২৪ টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করেছিল। এরপর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭৫ হাজার ৩৩৭ টন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৮ হাজার ৩০৫ টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬৮ হাজার ৯৩৫ টন এবং সদ্যবিদায়ী ২০১৮–১৯ অর্থবছরের ১১ মাসে ৬৮ হাজার ৬৫৫ টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। 

মৎস্য খাতের মোট রপ্তানির মধ্যে চিংড়ির পরিমাণই বেশি। সংসদে প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সদ্যবিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাসে যে ৬৮ হাজার ৬৫৫ টন মৎস্য ও মৎস্যপণ্য রপ্তানি হয়েছে, তার মধ্যে ৩১ হাজার ১৫৮ টনই চিংড়ি। ১১ মাসের মোট রপ্তানি আয় ৩ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকার মধ্যে চিংড়ির মাধ্যমে আয় হয়েছে ২ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা। বাকি ৩৫ হাজার ১৪৮ টন রপ্তানির মাধ্যমে আয় হয়েছে ৮৯৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। 

রপ্তানির মাধ্যমে আয়
রপ্তানির মাধ্যমে আয়

মৎস্য প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৭–১৮ অর্থবছরে দেশে ৪২ লাখ ২০ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪২ লাখ ৭৭ হাজার টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। আর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মতে, মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) মৎস্য খাতের অবদান এখন ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আগেরবার ছিল ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) গত বছরের জুলাইয়ের তথ্য বলছে, প্রাকৃতিক উৎসের মাছে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন তৃতীয়। প্রথম চীন ও দ্বিতীয় ভারত। 

মৎস্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, এ খাতে কোনো বিদেশি বিনিয়োগ নেই, অথচ বিদেশি বিনিয়োগ আসার সুযোগ রয়েছে। বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার বা বেসরকারি খাতের কারও চেষ্টা নেই। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মচারীরাও তা স্বীকার করেন। 

জানতে চাইলে বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক সমিতির (বিএফএফইএ) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আশরাফ হোসেন বলেন, রপ্তানি কমার অন্যতম কারণ হচ্ছে মৎস্য খাত নিয়ে সরকারের সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব। 

উদাহরণ দিতে অনুরোধ জানালে আশরাফ হোসেন পাল্টা প্রশ্নে বলেন, ‘পোনাকে মাছ হতে না দিলে উৎপাদন বাড়বে কীভাবে? আর উৎপাদন না বাড়লে রপ্তানি হবে কীভাবে? অন্যদিকে মাছ ধরার ট্রলার (একধরনের নৌকা) ব্যবস্থাপনাও ঠিক নেই। যেমন গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে অনেক, কিন্তু লাইসেন্সধারীদের মাছ ধরতে দেওয়া হচ্ছে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০১৯
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com